২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:৩৩, শনিবার

কুতুবদিয়ায় ১৯টি অস্ত্র ও ৬০০ রাউন্ড গুলিসহ আটক ১

কুতুবদিয়ায় ১৯টি অস্ত্র ও ৬০০ রাউন্ড গুলিসহ আটক ১ 

6999

কক্সবাজার, ২২ জুন : কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে ১৯টি অস্ত্র ও ৬০০ রাউন্ড গুলিসহ মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার সকালে কুতুবদিয়া উপজেলার পুরান সিকদারপাড়া থেকে এ সব অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। মুকুল ওই এলাকার ডাক্তার জাবের আহমদের ছেলে।

কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, কুতুবদিয়া উপজেলার পুরান সিকাদারপাড়া থেকে মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুলকে আটক করে র‌্যাব। তার স্বীকারোক্তি মতে, ৬টি এসবিবিএল, ১৩টি ওয়ান শুটারগান ও ৬০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে মুকুলকে কুতুবদিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, র‌্যাবের অভিযানে আটক ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে হাতির মৃত্যু 

78

কক্সবাজার, ২০ জুন : এবার পাহাড় ধসের শিকার হয়ে কক্সবাজারে একটি বন্য হাতির প্রাণহানি ঘটেছে। আজ সোমবার ভোররাতে কক্সবাজার শহরতলির কলাতলি দরিয়ানগরের পাহাড়ে ঘটেছে এ ঘটনা।

জেলা ভেটেরিনারি বিভাগের চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করে আজ বিকালেই হাতিটি মাটি চাপা দিয়েছে। পুরুষ হাতিটির দাঁত থাকলেও তবে এখনো ছোট আকারের।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আলী কবির জানিয়েছেন, হাতিটি ১২০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে মারা গেছে। খাবারের সন্ধানে হাতিটি অবস্থান করছিল পাহাড়ের বুকে। কলাতলি ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এসব পাহাড়ে এখন আর তেমন গাছগাছালিও নেই। সেখানে বন বিভাগ বাগান করলেও বনায়ন রয়ে গেছে এখনো ছোট।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মতে বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। এ কারনে হাতিটি পাহাড়ের কিনারায় পা দেয়ার সাথে সাথেই ধস নেমে ১২০ ফুট নিচে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারি কক্সবাজার পরিবেশ বিভাগের উপ পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান-‘হাতিটি পাহাড়ের মাটি সহ একটি ছড়ায় পড়ে মারা গেছে। ছড়াটিও এমন অপ্রশস্ত যে-দুই পাহাড়ের মাঝখানে  পড়ে এটি নড়াচড়াও করতে পারছিল না। ’

পরিবেশ বিভাগের উপ পরিচালক আরো জানান, বর্ষণের কারনে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে ওই এলাকায়। পাহাড়ের চুড়ার কিনারে হাতিটি পা দেওয়া মাত্রই মাটি সহ ধসে পড়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে স্ষ্পুষ্ট। তিনি মনে করেন, পাহাড় ধসের মুখে বন্য-প্রাণীও এখন এক প্রকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারের ২০ গ্রাম প্লাবিত 

722

কক্সবাজার, ১৩ জুন : সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার বিশটির বেশি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সাগরে মাছ ধরতে একটি বিধ্বস্ত ট্রলারের বার জন জেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার রাত থেকে বিদ্যুতের এ বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে সোমবার বিকেল থেকে কক্সবাজার শহরসহ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলেও এখনো বেশির ভাগ এলাকায় বন্ধ রয়েছে।

সাগরে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার বিকেল থেকে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রোববার সন্ধ্যা থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত থেমে থেমে চলে সোমবার বিকেল পর্যন্ত।

এতে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে জোয়ারের সময় পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার ২০ টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়। অন্যদিকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি বিধ্বস্ত ট্রলারের ১২ জন জেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন।

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল, চৌফলদন্ডী, পোকখালী, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, উজানটিয়া, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, উত্তর ধুরুং ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের সহ ২০টির বেশি গ্রাম জোয়ারের সময় পানির বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে।

খুরুশকূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, “সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের কারণে বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় জোয়ারে সময় ২/৩ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে ভাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি নেমে যাওয়ায় তেমনটি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এছাড়া ধমকা হাওয়ার কারণে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় বেশকিছু গাছ-পালা ভেঙ্গে গেছে। একই কথা জানালেন পেকুয়া উপজেলার চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ চৌধুরী রাজুও।

তিনি বলেন, “বেড়ীবাঁধের দীর্ঘদিনের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের সময় পানি বেড়ে যাওয়ায় উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের ৮ টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়েছেন।

কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, “সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের কারণে বেশ কিছু গাছ-পালা ভেঙ্গে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ট্রলার। পরে ট্রলারটির আহত ১২ জেলেকে উদ্ধার করা হলেও এখনো ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত জেলেরা কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- চকরিয়ার কুঁচাখালীর রবি জলদাশ (৬০), কিরোধ জলদাশ (৫০), চরণ জলদাশ (২৮), মাখন লাল জলদাশ (৫২), চকরিয়ার পঁহরচাঁদার বিশ্বজিৎ জলদাশ (২৫), জগদানন্দ জলদাশ (৫৩), তুফান জলদাশ (৫৫), অভি জলদাশ (৪০), চকরিয়ার সাহারবিলের লক্ষ্মীপদ জলদাশ (৬০), অশোক জলদাশ (৩৬), কুতুবদিয়ার জালিযাপাড়ার নেপাল জলদাশ (২৬) ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বহদ্দার হাট এলাকার সুধীর জলদাশ (৩০)।

এতে নিখোঁজ রয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়া ট্রলারটির মাঝি চকরিয়ার কুঁচাখালী এলাকার মোহাম্মদ বেলাল (৫০) এবং মহেশখালীর ঠাকুরতলা এলাকার রাম্মু রাখাইন (৫৩)।

উদ্ধার হওয়া জেলে রবি জলদাশ ও জগদানন্দ জলদাশ বলেন, “৪ দিন আগে আমরা সাগরে মাছ ধরতে রওনা দিই। রোববার দুপুরের দিকে আবহাওয়ার ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলার পর আমরা উপকূলের দিকে ফিরে আসতে থাকি। পথিমধ্যে রাত দেড়টার দিকে ট্রলারটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টের পশ্চিমে সাগরের ২ কিলোমিটার দূরে পৌঁছলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে। এতে ট্রলারটি বিধ্বস্ত হলে জেলেরা আহত অবস্থায় সাগরের ভাসতে থাকে। পরে ট্রলার মালিক খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে অন্য ট্রলারে করে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে। এখনো ট্রলারের মাঝিসহ ২ জন নিখোঁজ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারি আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজারে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা ১ থেকে ২ ফুট বেড়ে যায়। এছাড়া রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ৬৮ সেন্টিমিটার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টেকনাফে ৯৯ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ২ নাগরিক আটক 

5658

কক্সবাজার, ৭ জুন : কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৯৯ হাজার ৪৫১টি ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার ভোরে টেকনাফের দমদমিয়াস্থ নাফনদীর মোহনায় এ অভিযান চালানো হয়।

আটকরা হলেন মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু শহরের আছিক্কা পাড়ার মৃত সৈয়দ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ জাকির (৩১), মৃত আবুল মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৫২)।

বিজিবির টেকনাফস্থ ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটকদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ চরমে 

35

কক্সবাজার, ৩০ মে : ঘূর্ণিঝড় মোরা আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিক থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এসব জায়গায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ চরমে মানুষ।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে সরেজমিনে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা মানুষের চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ। শিশু-কিশোরেরা ভয়ে কান্নাকাটি করছে। আশ্রয় নেওয়া অনেকের কাছেই খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানিরও যথেষ্ট সংকট রয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বীপের ১০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানেও খাবার ও বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থাই নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এখানে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ।

গতকাল সোমবার গভীর রাতে সেন্টমার্টিন বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ ওয়াসিম জানান, দ্বীপের একমাত্র সাইক্লোন সেন্টারটি জরাজীর্ণ। তাই ১০ শয্যার হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া দ্বীপের সেনচুর, অবকাশ, ব্লু মেরিন হোটেল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও আবহাওয়া অফিসে ৪-৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালটিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, দ্বীপের চারদিকে কোনো ধরনের বেড়িবাঁধ না থাকায় মানুষ বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকেই টেকনাফের সঙ্গে সেন্টমার্টিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দ্বীপে বসবাসরত লোকজনের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানি টেকনাফ থেকে আনতে হয়। হঠাৎ করে সিগন্যাল (বিপৎসংকেত) হওয়ায় তা অনেকে মজুত করতে পারেননি। তাই এখানে খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় মোরা 

37

কক্সবাজার, ৩০ মে : ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার উপকুলে প্রবল ঝড়ো হাওয়া বইছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, কক্সবাজার অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তরে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হবে।

সেন্ট মার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, বাতাসের গতিবেগ এর চেয়ে বাড়বে না বলে তারা আশা করছেন। বরং উপকুলের দিকে এগুনোর সাথে সাথে বাতাসের গতিবেগ আরো কমতে পারে।

তবে তারা বলছে. ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল এখনো কক্সবাজার অতিক্রম করেনি।

ঘূর্ণিঝড়ে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সংবাদদাতা। অনেক কাঁচা বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে এবং অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং টেকনাফে গভীর রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়া বইছিল।

বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী এবং কক্সবাজারের কিছু নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ। এসব বেড়িবাঁধের অনেকগুলোই গতবছর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা জেলার ৫৩৮ টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বলবত রেখেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় মোরার কেন্দ্র থেকে ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে এখনো বাতাসের গতিবেগ ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার রয়েছে।
উপকূলে আঘাত হানার সময় এই গতিবেগ বাড়তে বা কমতে পারে। সূত্র : বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে বাঁধ ভেঙে ৪০ গ্রাম প্লাবিত 

39

কক্সবাজার, ৩০ মে : ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই সাগর উপকূল উত্তাল হতে শুরু করে। দুপুরে সমুদ্রে পানির প্রবাহ বেড়ে ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙতে শুরু করে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়ারি ও ঝাউবিধি। তলিয়ে যায় ‘ওয়াকওয়ে’। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের ফলে ইতিমধ্যে কক্সবাজারে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিকালে জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়সহ বসতবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের প্লাবনে ৪০ গ্রামের কয়েকশ’ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

পাউবো সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাউবোর ৫৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরই মধ্যে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আড়াই কিলোমিটার, মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নে দেড় কিলোমিটার, মাতারবাড়ি ইউনিয়নে ১০০ মিটার ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীতে ৮০ মিটারসহ পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিক মিয়া বলেন, মোরার প্রভাবে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম অংশের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়েছে আটটির বেশি গ্রাম। আড়াই বছর ধরে এখানে কোনো প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নেই। এই এলাকার ভাঙা বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার গত বছর ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও এ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। অন্যদিকে জোয়ারের ধাক্কায় উপজেলার খুরেরমুখ, সাবরাং, আছারবনিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দুপুরে জোয়ারের ধাক্কায় দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়ার শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ভাঙা বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলের লাখো মানুষ আতঙ্কে আছেন। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় মোরা এ আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় স্থলে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড় মোরা, ৭ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত 

25

কক্সবাজার, ২৯ মে : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের আজ সোমবার বিশেষ বুলেটিনে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে চট্টগ্রাম বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলে ৭ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৫ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ঝড়টির গতিবেগ ৮৮ কিলোমিটার বা তারও বেশি থাকতে পারে। এছাড়া এর প্রভাবে ১৫০ মিলি মিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, উপকূল অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য-বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন 

04

কক্সবাজার, ৬ মে : বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দীর্ঘতম ৮০ কিলোমিটার কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ছিলেন।

এর আগেসকাল ১০টায় বোয়িংয়ে চড়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে সুপরিসর উড়োজাহাজ চলাচলেরও সূচনা হল।

প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরে বোয়িং বিমান চলাচলসহ মোট ১৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পঞ্চম সফর এটি।

বিকেলে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন ও পরীক্ষা হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস এবং মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উদ্বোধন করবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী 

52

কক্সবাজার, ৬ মে: সমাপ্ত হওয়া প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ মেঘদূত এ চেপে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় কক্সবাজারের সম্প্রসারিত রানওয়ে ব্যবহার করে নামার পর বিমানবন্দরে বড় আকারের উজোজাহাজ চলাচল উদ্বোধনের পর মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের নির্মাণ করা এ বিমানবন্দরটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এতদিন কেবল ড্যাস কিউ ৪০০ মডেলের ৭৪ আসনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে এবং এর চেয়ে ছোট যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজই এ বিমানবন্দরে ওঠানামা করত।

কিন্তু কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী এবং মহেশখালীকে বিনিয়োগের ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরুর প্রোক্ষপটে সরকার এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় আনুষ্ঠানিক উন্মুক্তকরণ ফলক উন্মোচন করবেন তিনি।

এ সড়কে ১৭টি ব্রিজ, ১০৮টি কালর্ভাট রয়েছে। যেখানে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সেখান থেকে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়ে বেলা আড়াইটায় মঞ্চ থেকে উদ্বোধন করবেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী হোস্টেল, একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষার হল, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী হোস্টেল, উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন, মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন।

এছাড়াও ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করা হবে, বিমান বন্দর প্রকল্পের বাঁকখালী খালে ৫৯৫ মিটার খুরুশকুল ব্রিজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, এলএনজি টার্মিনাল, ইনস্টেলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) অফিস ভবন।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, আড়াই বছর পর কক্সবাজার গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটা কক্সবাজারে তার পঞ্চম সফর।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চকরিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত 

18

কক্সবাজার, ২৪ এপ্রিল : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নোয়াপাড়ায় এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

ফরহাদ হোসেন (৩২) চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য। বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিতে ডাকাতদের পিকআপ ভ্যানে থাকা সাতটি গরুর মধ্যে একটির মৃত্যু হয়।

ঈদগাহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খালেকুজ্জামান জানান, ভোরে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা এলাকা থেকে একটি পিকআপে সাতটি গরু নিয়ে ডাকাতেরা চট্টগ্রামে যাচ্ছে- এমন খবরে টহল পুলিশ তাদের পিছু নেয়।

উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ফরহাদ নিহত হন। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ঈদগাও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খালেকুজ্জামান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশি ৮ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমার নৌ-বাহিনী 

487

কক্সবাজার, ১০ মার্চ : বাংলাদেশর আট জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের নৌ-বাহিনী। এ সময় জেলেদের ফিশিং ট্রলারটি সাগরে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অপহৃত জেলেদের পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমার সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার মাছ শিকার করছিল। হঠাৎ করে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ এসে তাদের ধাওয়া করে। এসময় ট্রলারগুলো পালিয়ে গেলেও একটি ট্রলারকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয় বার্মা বাহিনী। পরে ট্রলারে থাকা আট জেলেকে তুলে নিয়ে যায় তারা।

অপহৃত জেলেরা হলেন- টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দু রশিদ মাঝি (৪০), জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত হাসানের ছেলে সৈয়দ করিম (৪০), কোনারপাড়া এলাকার নূরুল আমিনের ছেলে নূর হাসান (২৮), ক্যাম্পপাড়া এলাকার আব্বাসের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৫৫), মাঝেরপাড়া এলাকার ফজলুলের ছেলে জামাল হোসেন (৩৭), মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মো. কালুর ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৬) ও ডাঙ্গরপাড়া এলাকার জাফরের ছেলে সাদেক (৩৫), একই এলাকার ফজল আহাম্মদের ছেলে জাকের (৫৫)।

ট্রলারটির মালিক আবুল হোসেন মাঝি টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আরেকটি ট্রলার নিয়ে সাগরে তল্লাশি চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি খুঁজে বের করা হয়েছে। এখন ওই ট্রলারটি টেনে তীরে আনা হচ্ছে।

টেকনাফস্থ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, সাগর থেকে জেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শোনার পর দোভাষী দিয়ে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আট জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষযটি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মহেশখালীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অস্ত্র ব্যবসায়ী নিহত 

q6raarcd-copy

ঢাকা, ৩ মার্চ : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালের এ ঘটনায় নিহত খুলু মিয়া ওরফে খুইল্যা মিয়া (৫০) একটি অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের পলাতক আসামি।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী গহীন পাহাড়ে কুদাল্যা বাহিনীর আস্তায় একদল সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগর মিলে বিপলু সংখ্যাক অস্ত্র মেরামত ও অস্ত্র পরীক্ষা নিরাক্ষা করছিল।

তিনি জানান, গোপন সংবাদে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবালের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে জেলা ও মহেশখালী থাানর বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ওই পাহাড়ি আস্তানা ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে সাড়ে ১১ টার দিকে পাহাড়ের চারদিক থেকে যৌথভাবে অভিযান চালায়।

ওসি জানান, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা অভিযান টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুক যদ্ধের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক গুলি করা হলে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ী পথ দিয়ে গহীন পাহাড়ে চলে গেলেও গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র মামলার ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী বড় মহেশখালীর মাঝের পাড়াএলাকার আজম উল্লাহর ছেলে খুলু মিয়া ওরফ খুইল্যা মিয়াকে (৫০) করা হয়।

তিনি জানান, আহত অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসীদের পাহাড়ি আস্তানা থেকে ১৩টি বন্দুক, ৩২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২০০ রাউন্ড ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আহত খুইল্যা মিয়াকে মহেশখালী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হন।

আহতরা হচ্ছেন এসআই হারুনর রশিদ, এএসআই সঞ্জীব দত্ত, এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই সহিদুল ইসলাম কং-রুবেল শর্মা, কং মিঠুন ভৌমিক ও সবিনয় চাকমা। আহতদের মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিহত খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় অস্ত্র ও হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং একটি মামলায় ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বলে জানান ওসি প্রদীপ কুমার জানান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টুটুল বলেন, নিহত অস্ত্রের কারিগরের ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মহেশখালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল অভিযান শেষে মহেশখালী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার নেতৃত্বে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ ও মহেশখালী থানা পুলিশ যৌথ ভাবে পাহাড়ে অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অস্ত্রের কারিগর খুইল্যা মিয়া নিহত হয়। তার আস্তানা থেকে বিপুল সংখ্যাক অস্ত্র ও কার্তুজ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ 

কক্সবাজার, ২৫ ফেব্রুয়ারি : পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে পাঁচজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে কক্সবাজার সদর ও চকরিয়া উপজেলায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চকরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবুল হাশেম জানান, চকরিয়ার হারবাং দয়াল এলাকায় সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। অপরদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলায় মারা যান আরও একজন।

চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার রশিদনগরে এলাকায় পিকআপ দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপে গোলাগুলি, নিহত ১ 

কক্সবাজার, ১৭ ফেব্রুয়ারি : কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ী দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজার শহরের কলাতলী কাটাপাহাড় এলাকায় শুক্রবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মুসতাক আহম্মদ ওরফে হাজী মফিজ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুই সহস্রাধিক পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর