২৪ অক্টোবর ২০১৭
রাত ২:৫২, মঙ্গলবার

ফের রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, ৫ লাশ উদ্ধার

ফের রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, ৫ লাশ উদ্ধার 

22222

কক্সবাজার, ১৬ অক্টোবর : কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার সাগরে রোহিঙ্গাবাহী আরও একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও চার শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার ভোররাত চারটার দিকে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির পর ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আমিন মাধ্যমে তাঁরা রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর জানতে পেরেছেন।

স্থানীয় সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ৬৫ জন রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ভোররাত চারটার দিকে সাগরে ডুবে যায়। নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিরা নিখোঁজ রয়েছে।

নুরুল আমিন বলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, নৌকার আরোহীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল শিশু।

উদ্ধার হওয়া লাশ পাঁচটি শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া সৈকতে রাখা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী ও সগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৬টি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নৌকাডুবিতে ১৭৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬ জন রোহিঙ্গা। অন্য জন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি। রোহিঙ্গাদের লাশের মধ্যে ৯০ জন শিশু, ৫৭ জন নারী ও ২৯ জন পুরুষ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বন্যহাতির আক্রমণে ৪ রোহিঙ্গার মৃত্যু 

3654218

কক্সবাজার, ১৪ অক্টোবর : কক্সবাজারের উখিয়ায় বন্যহাতির আক্রমণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া চার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা আহত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উখিয়ার বালুখালী শরণার্থী শিবিরের ডি-ব্লকের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফজুরুল হক টুটুল জানান, মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে পালিয়ে এসে উখিয়ার বালুখালী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। তারা হাতির আশ্রয়স্থল নষ্ট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে।

শনিবার দুপুরে একদল হাতি পাহাড়ি এলাকায় আক্রমণ চালায়। হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলে তিন শিশুসহ চার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয় দুই রোহিঙ্গা। তাদের উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাড়ে তিন ঘণ্টা সাঁতরে টেকনাফে ১১ রোহিঙ্গা 

33

কক্সবাজার, ১২ অক্টোবর : মোহাম্মদ রিয়াজের (১৩) বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং শহরের পুইমালি গ্রামে। পুইমালিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম গত ঈদুল আজহার পর থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখে সেনাবাহিনী। এক সপ্তাহ আগে সেনাসদস্যরা গ্রামে ঢুকে রিয়াজের বাবাসহ অনেককে আটক করে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যায়। সেখানে বিনা খাবারে চার দিন বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালানোর শর্ত দিয়ে পাঁচ দিনের মাথায় তাঁদের ছেড়ে দেয়।

রিয়াজের পরিবার রাতের আঁধারে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে কোনোক্রমে মংডুর ফাতংজা গ্রামে পৌঁছায়। এসে দেখতে পায়, আগে থেকেই সেখানে জড়ো হয়েছে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গা। খাবারের অভাবে হাহাকার চলছে। আবার নৌকা না পেয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দিতে পারছে না। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাঁতরে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াজ।

কিশোর রিয়াজ বলে, ‘আমি গতকাল বুধবার সকাল ৭টার সময় শরীরের সঙ্গে তেলের জারিকেন বেঁধে সাঁতার কাটা শুরু করি। বহু কষ্টে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটির কাছাকাছি চলে আসি। তখন কোস্টগার্ড সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে।’

প্রায় ২ কিলোমিটার সাঁতরে মিয়ানমার থেকে রিয়াজসহ ১১ জন রোহিঙ্গা কিশোর ও তরুণ গতকাল একই সঙ্গে টেকনাফে পৌঁছায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিসংলগ্ন নাফ নদী থেকে তাদের উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

অন্য ১০ জন হলেন বুচিডংয়ের পেরাংপুরুর কামাল হোসেন (২৭), আনছার উল্লাহ (১৫), সিং ডংয়ের ফয়েজ উল্লাহ (১৭), ইসমাইলপাড়ার হামিদ হোসেন (১৭), হামজ্জাপাড়ার সৈয়দ হোসেন (৩০), তেরংপাড়ার আবদুল মতলব (৩০), হাইরমোরা পাড়ার মোহাম্মদ উল্লাহ (২৬), হাজুরীপাড়ার মোহাম্মদ আলম (১৮), পুইমালির ইমাম হোসেন (১৮) ও রমজান আলী (৩০)।

উদ্ধার হওয়া কামাল হোসেনের গ্রামে সেনাবাহিনী হানা দেয় ঈদুল আজহার ১৩ দিন পর। এ সময় কামালের পঙ্গু বাবাসহ অনেকে বাড়িতে ছিলেন। সেনাসদস্যরা সবাইকে ঘরের ভেতরে রেখে তালা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে সবাই মারা যান। কামাল কর্মসূত্রে মংডু শহরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

কোস্টগার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লে জাফর ইমাম সজীব এ প্রতিবেদককে বলেন, উদ্ধার হওয়া ১১ রোহিঙ্গাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গতকাল দুপুরে তাদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অস্থায়ী ক্যাম্পে পাঠিয়েছে। -প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নাফ নদীতে নৌকাডুবি, শিশুসহ ১১ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার 

555

কক্সবাজার, ৯ অক্টোবর : কক্সবাজারে টেকনাফের নাফ নদীতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় রোহিঙ্গা বোঝাই আরও একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় শিশুসহ ১১ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২০-২৫ জন।

রবিবার রাতে শাহপরীর দ্বীপ চ্যানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে প্রায় ৪০ জন নৌকায় করে টেকনাফে আসছিলেন। নাফ নদীর ঘোটার চলে তাদের নৌকাটি হঠাৎ ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে বিজিবির টহল দল বিষয়টি জানতে পেরে উদ্ধার অভিযানে নামে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীর ঘোলার চর পয়েন্টে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গাকে বিজিবির টহল দল জীবিত উদ্ধার করেছে।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও অনেক নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফের পাশের উপজেলা উখিয়ার ইনানী সৈকতের কাছে সাগরে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় ২০ জন মারা যান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি, উদ্ধার ৮ 

88

কক্সবাজার, ৯ অক্টোবর : কক্সবাজারের টেকনাফসংলগ্ন সাগরে রবিবার রাতে রোহিঙ্গাবাহী আরও একটি নৌকা ডুবেছে। এ ঘটনায় রাত ১১টা পর্যন্ত আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন বিজিবির সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজ রয়েছেন ৩২ জন।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফের পাশের উপজেলা উখিয়ার ইনানী সৈকতের কাছে সাগরে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় ২০ জন মারা যান।

টেকনাফ উপজেলায় সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর এলাকায় উত্তাল সাগরে প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায় বলে জানান সাঁতরে তীরে উঠে আসা রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জাফর আলম। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে তাঁরা প্রায় ৪০ জন নৌকায় করে টেকনাফে আসছিলেন। তাঁর মা আয়েশা খাতুন, স্ত্রী মাজেদা বেগম ও তিনি তীরে উঠে আসতে পারলেও তাঁর দুই শিশুসন্তান এবং দুই বোন নিখোঁজ রয়েছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় শিশু, নারী, পুরুষসহ আটজনকে বিজিবির টহল দল উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা ৩০-৩২ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক ওঠায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৯ আগস্ট থেকে গতকাল (৮ অক্টোবর) রাত নয়টা পর্যন্ত নাফ নদী এবং সাগরে রোহিঙ্গাবাহী মোট ২৫টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৩৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩২ জনই রোহিঙ্গা। বাকি একজন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি। সূত্র: প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফের রোহিঙ্গাদের ৩ শতাধিক ঘর-বাড়িতে সেনাদের অগ্নিসংযোগ 

37

কক্সবাজার, ৭ অক্টোবর : মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু শহরের ৫টি মুসলিম মহল্লায় অগ্নিসংযোগ করেছে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা। এতে পুড়ে গেছে অন্তত ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি । তবে কোনও প্রাণহানীর মত ঘটনার খবর জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার সকালে এ সব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

মোবাইলে মংডুর স্থানীয় রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, মংডু শহরের ৩নং ওয়ার্ডের সিনেমা হলের পূর্ব পাশের মুসলিম মহল্লায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অগ্নিসংযোগ করে। এর পর নয়াপাড়া, পূর্ব পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও সুন্দরী পাড়ায় আগুন দেয় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার সময় মংডু শহরের উত্তরে দিকে মাঙ্গালা পাড়ায় আগুন দেয় সেনা সদস্যরা। এ সময় শতাধিক রাখাইনরা মুসলিম বিরোধী স্নোগান দিয়ে রোহিঙ্গাদের ধাওয়া করে।

শহরের অভ্যন্তরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন, মিয়ানমার বাহিনীর নৃশংসতা শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম আগেভাগে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ পালিয়ে গেছে। সাহস করে যারা থেকে গিয়েছিল, এবার তাদের উপর শুরু হয়েছে নির্যাতন। যাতে তারাও পৈত্রিক ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডু অঞ্চলের ৯০ ভাগ গ্রাম রোহিঙ্গা শূন্য হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ৭০ ভাগ বসতি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ও দেশটির সেনারা । রোহিঙ্গাদের ছেড়ে যাওয়া কিছু কিছু উন্নতমানের দ্বিতল কাঠের বাড়িঘর অক্ষত রাখা হয়েছে। সেসব দখলে নিচ্ছে স্থানীয় বৌদ্ধ রাখাইনরা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদের উপকূলে এখনো হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষয় রয়েছেন। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রশাসন নজরদারী বৃদ্ধি ও স্থানীয় মানব পাচারকারী দালালদের উপর অভিযান পরিচালিত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে রোহিঙ্গা  অনুপ্রবেশ থমকে রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো: মাইন উদ্দিন খান জানিয়েছেন, গত দুদিনে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকা দিয়ে পুলিশ বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শতাধিক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি দালালকে আটক করেছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ দালালকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে নাফ নদী দিয়ে ট্রলার যোগে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থমকে দাঁড়িয়েছে।

অপর দিকে, মিয়ানমার সীমান্তের লোকজন ফেইসবুক বার্তায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে তাদের উদ্ধার করে বাংলাদেশে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন অব্যাহত রেখেছে।

টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্টের খারিয়াখালী পয়েন্টে নিয়োজিত পুলিশ পোস্টের এএসআই মো: ইয়াকুব এ প্রতিবেদককে জানান, সকাল থেকে মিয়ানমারের নতুন কোনও রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করেছে এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে আগে থেকে আসা ৭০/৮০ জন রোহিঙ্গাকে ওই স্থানে জড়ো হতে দেখা গেছে।

মংডুতে দোকানপাট এখনো বন্ধ

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা নিধন শুরুর পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। ঘটনার পর পরই সেখন থেকে সরিয়ে নেয়া হয় আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর সকল কর্মকর্তা ও কর্মী বাহিনীকে। বন্ধ করে দেয়া হয় সব এনজিও কার্যক্রম।

একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু রেড ক্রসের কর্মীরা ওখানে রয়েছে। অন্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে জেলা শহর সিটুয়েতে (আকিয়াব)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারে কর্মরত এক এনজিও কর্মকর্তা জানিয়েছেন. অক্টোবরের ৯/১০ তারিখের দিকে আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করছে স্থানীয় মিয়ানমার প্রশাসন।

তিনি আরো জানান, সিটওয়ে’তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মংডু শহরের এখনো দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। তবে রাখাইন অধ্যুষিত এলাকায় বৌদ্ধরা দোকানপাট চালু করেছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা প্রায় জনমানব শূন্য রয়েছে। তবে যে সব গ্রামে রোহিঙ্গা মুসলিমরা রয়েছে সেখানেও মুসলিমরা কিছু কিছু দোকান খুলছে বলেও জানান ওই এনজিও কর্মকর্তা।

সীমান্তে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী
আন্তর্জাতিক রীতি লঙ্ঘন করে বংলাদেশের সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে তারা বাংকার স্থাপন করে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেকরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে দেশের বর্ডার গার্ড বাহিনী। সেনাবাহিনী মোতায়েন আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন। এ অবস্থায় সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার তমব্রু সীমান্ত ঘেঁষে গত কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি দল। সকাল-দুপুর এবং সন্ধ্যায় দিনের তিনভাগে তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন হচ্ছে।  ট্রাকে করে ওই পয়েন্টে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) পাশাপাশি আসা-যাওয়া করছে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা। বিজিপি সদস্যরা কাঁটাতার মেরামত ও স্থাপন করছে। আর সেনাসদস্যরা দূরে অবস্থান নিয়ে থাকছে। তমব্রু সীমান্ত ছাড়াও বাংলাদেশের চাকমা পাড়া এবং বাইশারী সীমান্ত এলাকায়ও অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনা সদস্যরা। তমব্রু, চাকমা পাড়া এবং বাইশারী এলাকার জিরো পয়েন্ট বা নো ম্যান্স ল্যান্ডে অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান রয়েছে।

তবে সীমান্ত পরিদর্শনে আসা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের উস্কানিমূলক কাজে বাংলাদেশ জবাব দেবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন। সীমান্তে নো ম্যান্স ল্যান্ডে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা আন্তর্জাতিক রীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

এদিকে সীমান্তে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, আমরা একে হুমকি মনে করছি না। আমাদের যা যা করা প্রয়োজন তা করছি।

এর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন বাংলাদেশের আকাশ সীমায় ওড়ানো, সীমান্তে স্থল মাইন স্থাপন এবং কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মধ্য দিয়ে একাধিকবার সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে। -শীর্ষনিউজকে

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা 

533

কক্সবাজার : পর্যটন জেলা কক্সবাজারে খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পর্যাপ্ত খাবারের চাহিদা মেটানো স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়েপড়া ঠেকাতে বাস, ট্রেনসহ সব যানবাহনের টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার কথাও জানানো হয়েছে।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম ও কামরুন নাহার চৌধুরী।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সী এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে মনে করছে সংসদীয় কমিটি। মানবিক কারণে তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিটি মনে করছে, পৃথক জনগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে যতদিন প্রয়োজন আশ্রয় দেওয়াটাই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে রোহিঙ্গারা যাতে দেশের বিভিম্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য চট্টগ্রামসহ সংশ্নিষ্ট এলাকায় যানবাহনের টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের কার্যপত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. আবদুল মালেকের সই করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান ও আগে অবস্থানকারী মিলে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয়ের কারণে কক্সবাজারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যে কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় তাদের ওপর পুলিশ, বিজিবিসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিভিম্ন দালালচক্র উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের আরও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সার্বিক আইন-শৃগ্ধখলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক হলেও সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের কারণে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সার্বিক আইন-শৃগ্ধখলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ১৯৯১-৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিম্ন এলাকার স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে সখ্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিয়েসহ নানাভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় আত্মীয় ও দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিভিম্ন পন্থায় দেশের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজার, বান্দরবান জেলা ছাড়াও ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, সিএমপি, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৫১৫ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে সূত্রে জানা যায়। যাদের পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজার-বান্দরবানসহ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণে সবাইকে বাধ্যতামূলক জাতীয় পরিচয়পত্র বা তার ফটোকপি বহন করতে হবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিম্ন বাহিনীপ্রধানকে নিয়ে বিশেষ সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য কোনো শহরে প্রবেশ ঠেকাতে যানবাহন বা নৌ রুটের টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সেনা অভিযানকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে বর্ণনা করলেও জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় শিবির করেছে সরকার। সেখানে তাদের নিবন্ধনও করা হচ্ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতিদিন ১০ হাজার নিবন্ধনের টার্গেট হলেও তা পূরণ করা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত সাত হাজারের মতো নিবন্ধন সম্ভব হচ্ছে। কারণ এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের অনীহা কাজ করছে। কমিটির পক্ষ থেকে নিবন্ধনের জন্য রোহিঙ্গাদের মোটিভেশেনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

টিপু মুন্সী আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দ্রুতই হয়ে যাবে বলে মনে করছে না কমিটি। যদিও মিয়ানমারের মন্ত্রী এসে বলেছেন, তারা এর সমাধান করবেন। কিন্তু এর মধ্যে অনেক বাহানা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এই ইস্যুটা শুধু দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারে। তখন বিশ্ব মতামতও অন্যরকম হবে। এ জন্য কমিটি বলেছে, এই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্য দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ‘বিশেষ’ নজরদারি চালানোর জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রচারিত বিভিম্ন সচিত্র প্রতিবেদন, নির্যাতনের চিত্র, ভিডিও ক্লিপস, পেপার ক্লিপসসহ তাদের বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম সংরক্ষণ করতে একটি বিশেষ আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপে টেকনাফ ও উখিয়ার হাজার হাজার একর বনভূমি সাফ 

01

কক্সবাজার, ৩ অক্টোবর : মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য সাময়িক আশ্রয় তৈরি করতে উখিয়া এবং টেকনাফের বনভূমির উপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও এক টুইট বার্তায় সমস্যাটি তুলে ধরেছেন।

বন বিভাগ বলছে, গত একমাসে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আবাস নির্মাণের জন্য বনভূমির ২০০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব জায়গায় প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা বনের পাশাপাশি রোপণ করা গাছও ছিল, যেগুলোর বয়স দুই থেকে পাঁচ বছর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড: দানেশ মিয়া কক্সবাজার অঞ্চলের বনভূমি নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি বলছেন, নতুন আসা রোহিঙ্গারা ২৮টি পাহাড়ে তাদের বসতি তৈরি করেছে। পাহাড় কেটে বনভূমিতে বসতি তৈরি করায় প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

“বাংলাদেশে এখন টেকনাফ এরিয়াতে কিছু হাতি রয়ে গেছে। এ হাতিগুলোকে রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা সেখানে হয়েছে। এখন রোহিঙ্গারা আসার পরে সে চেষ্টা কাজে লাগছে বলে আমার মনে হয়না,” বলছিলেন অধ্যাপক দানেশ মিয়া।

রোহিঙ্গা বসতি নিয়ে বনভূমির উপর চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের মনেও নানা চিন্তা রয়েছে।

সরকার বলছে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে থাকতে হলে বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি চরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

বনভূমির উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে সেটিকে ‘সাময়িক ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বন বিভাগের কক্সবাজার দক্ষিণের কর্মকর্তা আলী কবির বলছেন, এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের বন বিভাগের বরাদ্দ করা ২০০০ একর জমিতে একত্রে রাখা হবে।

লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ সরকারসহ অনেকেই মানবিক দৃষ্টিতে দেখছে। বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবকিতার পাশাপাশি বনভূমির কথা ভুলে গেলে চলবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দানেশ মিয়া মনে করেন, পরিবেশ এবং বনভূমির কথা চিন্তা করলে রোহিঙ্গাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে পারলে বনভূমির উপর চাপ কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক মিয়া বলেন, “সবাইকে রান্না করে খেতে হচ্ছে। এক লক্ষ চুলা যদি থাকে, সেই এক লক্ষ চুলার জন্য প্রতিদিন যদি নূন্যতম পাঁচ কেজি জ্বালানি ধরি, তাহলে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষ কেজি কাঠ পুড়ছে। এগুলো কোন না কোনভাবে আমাদের উখিয়া টেকনাফের জঙ্গল থেকে যাচ্ছে।”

বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা গেলে রোহিঙ্গারা জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বনে-জঙ্গলে আসতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হলে উখিয়া ও টেকনাফের জায়গাগুলোতে আবারো বনায়ন করা হবে। -বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যহাতির হামলা : নিহত ২ 

8874

কক্সবাজার, ১৮ সেপ্টেম্বর : কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্য হাতির আক্রমণে দুজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শামসুল আলম (৫৫) ও সৈয়দুল আমিন (২)।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েক জানান, ভোরে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল বন্যহাতি হামলা করে। এসময় দুজন রোহিঙ্গা হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। এছাড়া পালাতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট সেনা-পুলিশের ৩০টি চৌকিতে হামলার পর দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর প্রাণভয়ে স্রোতের মতো বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

এরইমধ্যে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার শিশু বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গাদের মালামাল লুটপাট, টেকনাফের সাবেক মেম্বার গ্রেপ্তার 

88

কক্সবাজার, ১৬ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমার আসা রোহিঙ্গাদের মালামাল লুটপাটের অভিযোগে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের সাবেক মেম্বার ইসমাইল প্রকাশ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড।

শনিবার সকাল তাকে গ্রেপ্তার কর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপ স্টেশনের পেটি অফিসার মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন জানান, আটক ইসমাইলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ইসমাইল একদিকে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে এদেশে ঢুকিয়ে দেয়। অন্যদিকে, প্রত্যেক রোহিঙ্গার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করে। আর যারা দেয় না তাদেরকে নৌকায় নির্যাতন করা হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় তাদের টাকা-মালামাল। নৌকায় রোহিঙ্গাদের সাথে ধস্তাধস্তি করার কারণে নৌকাডু্বিতে অনেকে রোহিঙ্গার মৃত্যু হয় বলেও তিনি জানান।

ওসি আরও বলেন, ইসামইল রোহিঙ্গাদের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এমনকি ইসমাইলের ছত্রছায়ায় তার ভাই জিয়াবুল ও সৈয়দ প্রতি রাতে শাহপরীর দ্বীপ জেটি এলাকা থেকে মোটা অংকের বিনিময়ে রাখাইনে গিয়ে রোহিঙ্গাদের এপারে নিয়ে আসছে। মালামাল লুট করে এবং অমানবিক আচরণ করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিয়ানমারে মুসলিম অধ্যুষিত নতুন এলাকায় সেনা অভিযান 

88514

কক্সবাজার, ১৪ সেপ্টেম্বর : কক্সবাজারের নাইক্ষ্যাংছড়ি তুমুর‌্যু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত মুসলিম রোহিঙ্গাদের নতুন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

বুধবার থেকে মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম তুম্রু গামে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় বৌদ্ধরাও। তুম্রু গ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ির মধ্যে গতকাল ৯৫ বাড়িতে সেনাবাহীনি আগুন ধরিয়ে দেয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও আবার অভিযান শুরু হয়েছে। বাড়ির নারী-পুরুষ সহ সবার উপর আক্রমন ও তাদের উপর গুলি চালানো হয়েছে। লুটপাট করা হচ্ছে বাড়ি ঘরে।

গ্রামের অসংখ্য ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। আগুনের কুন্ডুলী ওপারে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যাংছড়ি তুমর‌্যু সীমান্ত থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। গুলির শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে সীমান্ত। আতঙ্কিত মানুষ সীমান্তের কাটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সীমান্তের ওপার থেকে মিয়ানমারে চলা সেনা অভিয়ানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়াই একমাত্র সমাধান’ 

9878

কক্সবাজার, ১৩ সেপ্টেম্বর : প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

বুধবার কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এই সংকট সৃষ্টি করেছে। তাই সংকট সমাধান করতে হবে তাদেরকেই। বাংলাদেশ চায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের এই আচরণে মানবতার যে ক্ষতি হচ্ছে, তারা (কূটনীতিকরা) সেটা স্বচক্ষে দেখছেন। এর পাশাপাশি তারা আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন, তারা তাদের সদর দপ্তরে বার্তাগুলো আশা করি পৌঁছাবেন যে, তাদেরকে (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে নিতেই হবে। এটাই একমাত্র সমাধান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও দেখেছি অনেককে কথা বলতে এবং গতকালকে আসতে গিয়ে এবং গত সপ্তাহে আসতে গিয়ে কী কষ্ট তাদের (রোহিঙ্গা) করতে হয়েছে, পরিবারে কতজনকে ফেলে এসেছেন, পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন, এই তথ্যগুলো তারা (কূটনীতিক) পেয়েছেন। সিইং ইজ বিলিভিং (দেখাই হলো বিশ্বাস করা)। বিলিভ সকলেই করতেন। কিন্তু আজকে দেখার পরে এটা আরো জোরালো হবে এবং সামনের দিনে আমাদের কাজ এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় এটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এর আগে সকালে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দেশের দূতরা কক্সবাজারে যান। বাংলাদেশের পক্ষে ক্যাম্পগুলোতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নাফ নদে নৌকাডুবি, ৬ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার 

3

কক্সবাজার, ১৩ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে নাফ নদে ফের নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার সকালে টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ থেকে চার শিশু ও নাজিরপাড়া থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাহপরী দ্বীপের ইউপি সদস্য আব্দুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। বুধবার সকালে চার শিশু ও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আরেফা বেগম জানান, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রায় ২৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে মঙ্গলবার রাতে নাফ নদে নৌকা ডুবে যায়। এতে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে।

বেঁচে যাওয়া আরেক নারী ইয়াসমিন জানান, নৌকাডুবিতে তার দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যজন নিখোঁজ রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খান জানান, বুধবার সকালে নাফ নদ থেকে চার শিশুসহ দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মিয়ানমারে নতুন করে সংহিস পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকে এ পর্যন্ত নৌকাডুবি ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শতাধিক রোহিঙ্গার মরদেহ পাওয়া গেল।

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়।

জাতিসংঘের ভাষ্যমতে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কেননা আরো অনেক রোহিঙ্গা এখনো চলন্তপথে রাস্তার পাশে অবস্থান করছে, যাদের এই মুহূর্তে হিসেবে আনা কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা সোমবার ৩ লাখ ১৩ হাজার বলার পর, রাতের মধ্যেই এই সংখ্যা বাড়লো।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কক্সবাজারে নৈশকোচ থেকে ৭২ রোহিঙ্গা আটক 

966

কক্সবাজার, ১১ সেপ্টেম্বর : কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী নৈশকোচ থেকে ৭২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব। রবিবার রাতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ কয়েকটি নৈশকোচে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানান, আটক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে কৌশলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যাচ্ছিল। কক্সবাজারের লিংক রোড এলাকায় নৈশকোচে তল্লাশি করে ৭২ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।

আটক রোহিঙ্গাদের কুতুপালংয়ে নির্ধারিত শরণার্থী শিবিরে পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট দেশটির পুলিশের ওপর রোহিঙ্গাদের চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হয়েছে। যার কারণে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশে শরণার্থীর স্রোত এখনো অব্যাহত রয়েছে। বহু রোহিঙ্গা নিহত হচ্ছেন এবং সীমান্তের দুপাশেই তৈরি হয়েছে এক মানবিক পরিস্থিতি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গাড়ি দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে তারা 

86

কক্সবাজার : কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে উখিয়ার কাস্টমস ঘাট এলাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার উপকেন্দ্র রয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। এই কেন্দ্রের বিপরীতে রাবার বাগানে আশ্রয় নিয়েছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনেও দাঁড়িয়ে ছিল শত শত রোহিঙ্গা। গাড়ি দেখলেই তারা ছুটে যাচ্ছিল ত্রাণের আশায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় পায়নি, তাদের একটি অংশ রাবার বাগানে আশ্রয় নিয়েছে। অনিবন্ধিত শিবির থেকে কেন্দ্রটি তিন কিলোমিটার দূরে।

ত্রাণের আশায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাগলিরবিল গ্রাম থেকে আসা দিলশাদ বেগম  বলেন, সকাল সাতটা থেকে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। খিদার জ্বালায় তাঁর দুই শিশুসন্তান কান্নাকাটি করছে। রাতে বৃষ্টিতে ভিজে এক ছেলের জ্বর হয়েছে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

দিলশাদের একটু দূরে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছেন রাখাইনের ফকিরাবাজার থেকে আসা রোহিঙ্গা নারী সখিনা খাতুন। পাশে তাঁর শিশুসন্তান। তিনি বলেন, এক লোকের দেওয়া ২০ টাকায় কলা আর বিস্কুট খাইয়েছেন শিশুকে। তিনি বলেন, চার দিন ধরে কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না। সেখানে কোনো ঘর খালি নেই। এই চার দিন তিনি কাটিয়েছেন গাছের নিচে। ছয় দিন আগে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে উখিয়ায় এসেছেন।

বেলা দুইটার দিকে টেলিভিশন উপকেন্দ্র থেকে সাত কিলোমিটার দূরে বালুখালী অনিবন্ধিত শিবির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে সহায়তা চাইছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রোহিঙ্গা যুবক সাদেক আহমদ। বললেন, দুই দিন ধরে না খেয়ে আছেন।

বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, তিনটি অনিবন্ধিত শিবিরে নতুন করে ঢুকেছে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা। শিবিরে থাকার জায়গা না পেয়ে প্রধান সড়ক ও পাশের পাহাড়-জঙ্গলে অবস্থান করছেন আরও ৭০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা চলে গেছে কক্সবাজার শহরের দিকে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের চাপ থেকে উখিয়া উপজেলার পাঁচ লাখ বাসিন্দাকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফ্যাক্স ও ই-মেইলে গত বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি পাঠান তাঁরা। স্মারকলিপিতে সই করেন উখিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

স্মারকলিপিতে জনপ্রতিনিধিরা চার দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় একসঙ্গে রাখা; সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানো; রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং রাখাইন রাজ্যে চলমান গণহত্যা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের একসঙ্গে এক জায়গায় রাখা, তালিকা তৈরি, গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাসহ সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করে সীমান্ত আরও সুরক্ষার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।-প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর