১৮ আগস্ট ২০১৭
বিকাল ৪:৪৩, শুক্রবার

রাঙামাটিতে বৃষ্টি, ফের পাহাড় ধসের আশঙ্কা

রাঙামাটিতে বৃষ্টি, ফের পাহাড় ধসের আশঙ্কা 

মোঃ ইরফান উল হক আবির, রাঙ্গামাটি, ৩ জুলাই : রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পর থেকে বৃষ্টি আসলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। রোববার সন্ধ্যা থেকে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি হলেও সোমবার ভোর থেকে টানা বর্ষণ চলছে। ফলে ভয় বিরাজ করছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে রোববার রাত থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মানজারুল মান্নান জানান, গতরাত থেকে ফের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলা শহরের ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গত ১২ জুন রাত থেকে ১৩ জুন দুপুর ১টা পর্যন্ত নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টির ফলে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই সময় ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে ৫ সেনা সদস্যসহ নিহত হন ১৫১ জন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্তরা নিজ বাড়ীতে ফিরছেন 

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি, ২ জুলাই : রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ছেন দুর্গতরা। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন বাড়িঘরে। কেউ কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি। আর আশ্রয় কেন্দ্র স্থানান্তর করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে অন্যদের যারা থাকছেন তাদেরকে। প্রশাসন সূত্রে এসব বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শনিবার আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন ভেদভেদি দক্ষিণ মুসলিম পাড়ার শাহানা বেগম ও তার মেয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজ আশ্রয় কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির আহমদ বলেন, সেখানে আশ্রয় নেয়া ৮০ পরিবারের মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৫০ পরিবারের লোকজন চলে গেছেন। এসব লোকজনের বেশিরভাগই শহরের রূপনগর ও শিমুলতলীর বাসিন্দা। এ ছাড়াও বাউবি কেন্দ্রের ৭৫ পরিবারের মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৪৫ পরিবারের লোকজন চলে গেছেন বলে জানান, ওই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায় মো. সাইফুল আলম। এভাবে দুর্বিষহ জীবনযাপন সইতে না পেরে সোমবার থেকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের কেউ ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন নিজেদের বসতভিটার বাড়ি আর কেউ গিয়ে উঠছেন আত্ময়-স্বজনের বাড়ি।

বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, অনেকে স্বেচ্ছায় গোপনে চলে যাচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে। পাহাড় ধসের পর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে তাদেরকে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত ওইসব বিধ্বস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় যেতে নিষেধও করা হয়েছে। এরপরও কেউ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ ফের দুর্যোগে আরও ক্ষয়ক্ষতি হলে সেই দায়ভার কে নেবে ?

শনিবার সরেজমিন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, লোকজন চলে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে পড়ছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। দুর্গত অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এভাবে আর কতদিন ? ক্ষতি যা হবার হয়েছে, বাঁচতে তো লড়তেই হবে। মানবেতর পরিস্থিতিতে সরকার বা কারও আশায় হাত গুটিয়ে কীভাবে আর কতদিন বসে থাকা যায় ? তাই নিজেরার উদ্যোগে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ঠিকঠাক করে সেখানে ঝুঁকিতে হলেও ফিরছেন তারা।

শনিবার দুপুরের দিকে পরিবার পরিজন নিয়ে রাঙামাটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ছিলেন জয়নাল আবেদীন সর্দার (৬০)। ফিরছেন শহরের রূপনগরের নিজ ভিটায়। সঙ্গে আছেন স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৫০), পুত্রবধূ পাখি বেগম (১৯) ও তার নবজাত কন্যাশিশু মারিয়া। জয়নাল আবেদীনের ছেলে (পাখির স্বামী) জসিম সর্দার (২৫) টিউবওয়েল নির্মাণ কাজে বাইরে গেছে বলে জানান তারা। ওই আশ্রয় কেন্দ্রেই কথা হয় এ পরিবারটির সঙ্গে।

পাখির শ্বাশুড়ি রিজিয়া বলেন, সদ্য প্রসূতি পুত্রবধূ ও নবজাত নাতনিকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা খুব সমস্যা হচ্ছে। সেখানে প্রসূতি মায়ের ও নবজাতকের সেবাযতœ সম্ভব নয়। তা ছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে শুধু দু’বেলা ভাত খেয়ে তো স্বাভাবিক জীবন চলে না। জীবন-সংসারে কতকিছুর প্রয়োজন। বাড়িঘর ছেড়ে এভাবে আর কতদিন থাকব ? তাই আমরা ভিটাবাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

গৃহকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের ভিটাবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু একেবারে ঝুঁকিতে পড়েছে। জান রক্ষায় ভিটাবাড়ি ছেড়ে ওঠেছি আশ্রয় কেন্দ্রে। এখানে দু’বেলা খাবার দেয়া হয়। অন্য খাবারও পাচ্ছিলাম। কিন্তু একেকটা পরিবারের সমস্যা ও প্রয়োজন অনেক। তার ওপর একটা জায়গায় এত পরিবারের লোকজনের গাদাগাদিতে পরিবেশ ও জীবনযাপন একেবারেই দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। সবচেয়ে কষ্ট নারীশিশুদের নিয়ে। তারা ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের পীড়া লেগেই থাকে। তাই নিজের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ঠিকঠাক করে ঝুঁকিতে হলেও বসতভিটায় ফিরে যাচ্ছি।

একই এলাকার মো. নুরুল ইসলাম (৭০) বলেন, পাহাড় ধসে মাটির চাপায় বাড়িঘরসহ বসতভিটা বিলীন হয়ে এখন আর নিশানাটুকুই নেই। এজন্য বসতভিটায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই তাদের। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা খুবই কষ্ট। তাই স্ত্রী-সন্তান সবাইকে পাঠিয়েছেন শ্বশুড়বাড়ি। এখন একা পড়ে আছেন আশ্রয় কেন্দ্রে।

এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা পাহাড় ধসে গৃহহীন লোকজনকে স্থানান্তর করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত। বর্তমানে ১৯ আশ্রয় কেন্দ্র গুটিয়ে ৪টিতে স্থানান্তর করে আশ্রিতদের সরিয়ে নেয়া হবে। এসব কেন্দ্র খোলা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়ে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই ৬ জুলাইয়ের মধ্যে আশ্রিত পরিবারগুলোকে ৪টি কেন্দ্রে সরিয়ে স্থানান্তর করতে সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, যে চার স্থানে নেয়া হবে সেগুলো হল- রাঙামাটি স্টেডিয়ামের ড্রেসিং হল ও গ্যালারি কক্ষ, রাজবাড়ির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম হলরুম, রাঙামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম এবং রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙ্গামাটিতে অপ্পো মোবাইল ব্যান্ড এর ত্রাণ সহায়তা 

0000

মোঃ ইরফান উল হক (আবির), রাঙ্গামাটি, ২৪ জুন : রাঙ্গামাটিতে ১৩ই জুন পাহাড় ধ্বসের ঘটনার ঘটে যাওয়ায় অন্তত ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি সহ ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ তাদের পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে দাড়িয়েছে অপ্পো মোবাইল ব্যান্ড। রাঙ্গামাটিতে দুপুর ৩টায় অপ্পো মোবাইল ব্যান্ড এর সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক এর নিজ কার্যালয়ে মোঃ মানজারুল মান্নানকে অপো মোবাইল ব্যান্ডের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ তুলে দেন এবং জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল বলেন বলেন অপো মোবাইল ব্যান্ডকে অনেক ধন্যবাদ জানান এবং তিনি বলেন আপনাদের ত্রান সামগ্রী আমি অসহায় মানুষের কাছে পৌছে দেবো। এখানে উপস্থিত ছিলেন অপ্পো মোবাইল ব্যান্ডের মনিটর: নূর হোসাইন, মো: সুমন, মুখতার হোসেন, আব্দুর রহমান, অনির্বান চাকমা সহ রাঙামাটির সকল অপ্পো মোবাইল ব্যান্ডের সদস্য এখানে উপস্থিত এবং রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান স্যারকে ধন্যবাদ জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ধসে চাপা পড়েছে ঈদের খুশিও 

88525

রাঙামাটি , ২২ জুন : সাত বছরের মীম আর ১৭ মাস বয়সী তার ছোট বোন সুমাইয়া মা-বাবাকে খুঁজে ফিরছে সারাক্ষণ। কান্নাকাটি করছে। কিন্তু ওদের এখনো বোঝার বয়স হয়নি যে পাহাড়ধস ওদের মা-বাবাকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে। তাঁরা আর কোনো দিন ফিরবেন না। আর কোনো ঈদে তাদের জন্য বাজার থেকে নতুন জামাকাপড় কিনে আনবেন না।

মীম আর সুমাইয়ার মা রহিমা বেগম ও বাবা সালাউদ্দিন গত ১৩ জুন রাঙামাটি শহরের রূপনগর এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন। এরপর এতিম দুই বোনের ঠাঁই হয়েছে স্বজনদের কোলে।

শুধু মীম বা সুমাইয়া নয়, পাহাড়ধসে স্বজন হারানো এমন অসংখ্য মানুষের এবারের ঈদ কাটবে আশ্রয়কেন্দ্রেই। প্রিয়জনের সঙ্গে ধস তাদের অনেকের বাড়িঘরও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। বাকিদের বাড়িঘর করে তুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ। রাঙামাটি শহরের ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে স্বজন ও ঘর হারানো এসব মানুষ।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায়ও মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের বাড়িঘরের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি তারা অনেকেই দিনের বেলায় বাড়িতে ফিরে গিয়ে বসতঘর মেরামতের কাজ গুছিয়ে আনছে। রাতে আবার ফিরছে আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে যারা বসতবাড়ি ও স্বজন হারিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না সহজেই। কবে ফিরবে বাড়ি কিংবা আদৌ পুরনো ঠিকানায় ফেরা হবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে তারা।

রাঙামাটি সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া কাউসার ও সুফিয়া দম্পতি বলেন, ‘ভাই ও ভাবি মারা গেছেন। তাঁদের দুই এতিম সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রেই ঈদ করব। ঈদের নামাজটাই পড়া হবে হয়তো, আর কিছু করা হয়তো সম্ভব হবে না। ’

তবে আশার কথা শোনালেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ থেকে এরা কেউই বঞ্চিত হবে না। আমরা সবাই এবার ঈদ করব আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সঙ্গে। এটা তো ঠিক, নিজ বাড়িতে থেকে ঈদের যে আনন্দ তারা উপভোগ করত, তা আশ্রয়কেন্দ্রে সম্ভব না। তবে আমরা চেষ্টা করব তাদের পাশে থেকে ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করতে। ঈদের দিন প্রতিটি কেন্দ্রেই সেমাইসহ অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ’

জেলা প্রশাসন ছাড়াও রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্টের তরুণ সদস্যরাও এবার তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা চারটি আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুদের সঙ্গে ঈদ কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুব রেড ক্রিসেন্টের দলনেতা সাইফুলউদ্দীন বলেন, ‘এবার আমরা ঈদ করব আমাদের দায়িত্বে থাকা চারটি আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষগুলোর সঙ্গে। পাশে থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও তাদের আনন্দে রাখতে চেষ্টা করব। ’

পাহাড়ধসের ঘটনায় রাঙামাটির ঈদ বাজারও জমেনি। শোকেবিহ্বল পুরো শহরের কোথাও নেই ঈদের কেনাকাটার ন্যূনতম উচ্ছ্বাস। শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিন বাজার তবলছড়ি, বনরূপা ও রিজার্ভবাজারে গিয়েও দেখা মিলল না কোনো ক্রেতা।

বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, একদিকে পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যু, অন্যদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়াসহ নানা সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। আগামী তিন মাসেও ব্যবসার এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না সন্দেহ। ঈদের বাজার তো মাটি হয়ে গেছে। শেষ দু-চার দিন হয়তো কিছু কেনাকাটা হতে পারে।

৯ দিন পর খুলল রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক : ৯ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল বুধবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক। হালকা যান চলাচলের জন্য দুপুরে সড়কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এন সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ওমর ফারুক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান।

গত ১৩ জুন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের শালবাগান এলাকায় ১৫০ মিটার সড়ক ধসে পড়ে। এর পর থেকে রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। পরে বিকল্প সড়ক তৈরির কাজ শুরু করে সওজ ও সেনাবাহিনী। অবশেষে গতকাল দুপুরে সড়কটি হালকা যান চলাচলের উপযোগী করে খুলে দেওয়া হয়।

এক মাসের মধ্যে সড়কটি সব ধরনের যান চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং সেনাবাহিনীর জিওসি।-কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙ্গামাটি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিদ্যানন্দ 

66

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি সদর (উপজেলা), ২১ জুন : রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যানন্দের সদস্যরা রাঙ্গামাটি জেলা সদরের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে এ ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করে। এর মধ্যে তবলছড়ি ওমদা মিয়া স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩৮ জন, ওয়াবদা কলোনী আশ্রয় কেন্দ্রে  ২২ জন, মানিকছড়ি প্রিয় মোহন দেওয়ান পাড়া স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে ৬০ জন,  মনোঘর উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ৬০ জন, সাপছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ৬০জনের এবং মোনঘর ভাবনা কেন্দ্র ৬০ জনের মিলিয়ে প্রায় মোট ছয় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করে সংগঠনটি। ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, বিস্কুট,চিনি, স্যালাইন, লবণ, পরিষ্কারক সামগ্রী, শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

বিদ্যানন্দ চট্টগ্রাম শাখা প্রধান নাফিজ চৌধুরী জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন মূলত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে। এক টাকার আহার, এক টাকার চিকিৎসা, নিয়মিত ফ্রি একাডেমিক কোচিং  কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যানন্দের রয়েছে দুটি এতিমখানা।  সারা দেশে  ৮ টি শাখার মাধ্যমে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তাদের সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজগুলো পরিচালনা করছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন দূর্যোগে তারা সহায়তা করে দূর্গত এলাকার মানুষজনকে। কুড়িগ্রামে বন্যা, সুনামগঞ্জে বন্যা, সাজেকে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষকে সহায়তা করার ধারাবাহিকতায় এখন রাঙ্গামাটির দূর্গত এলাকায় তারা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাঙ্গামাটিতে বিদ্যানন্দের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করে স্থানীয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রিয় রাঙ্গামাটি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙামাটিতে আরও ২ জনের লাশ উদ্ধার 

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি, ১৮ জুন : রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় উদ্ধারকাজ আনুষ্ঠানিক সমাপ্ত ঘোষণা করার পর আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলার জোড়াছুড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইকবাল চৌধুরী। শনিবার সকালে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়দের দাবিতে পরিপ্রেক্ষিতে আবার রাঙামাটিতে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (১৭ জুন) সকাল থেকে শহরের মুসলিমপাড়া ও লোকনাথ মন্দির এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ পানিতে ভাসছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে শহরের এ দুটি এলাকায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তারা কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে পাহাড়ধসের বিপর্যয়ের ঘটনায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক, রাঙামাটি-বড়ইছড়ি ও রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বিছিন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা রাস্তার যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাঙামাটির ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানি ও খাবার সরবরাহ করছে। শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেলেও রাঙামাটি কাপ্তাই পানি পথে সীমিত পণ্য পরিবহন শুরু করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রতিপক্ষের হামলায় মির্জা ফখরুল আহত : ব্যাপক ভাংচুর 

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি, ১৮ জুন : রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এই হামলা হয় বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে এবং তার হাতে আঘাত পেয়েছেন।

এ ছাড়া ওই ঘটনায় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাহবুবের রহমান শামীমও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।

গাড়িবহরে থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা কাপ্তাই হয়ে রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় তাদের গাড়িবহরে হামলা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং 

55

রাঙামাটি, ১৮ জুন : রাঙামাটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ রবিবার ভোররাত থেকে রাঙামাটিতে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ কারণে ফের পাহাড় ধসের আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার নিউটন দাস জানান, সকালে জেলার ভেদভেদী টিঅ্যান্ডটি, মুসলিমপাড়া বেতারকেন্দ্র এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় মাইকিং করা হয়।

গত মঙ্গলবার ভোররাত থেকে রাঙামাটির সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাড়িঘর, গাছপালা, ফসল ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাহাড় ধসের পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আবারো পাহাড় ধসের আশঙ্কা 

588

রাঙামাটি, ১৮ জুন : আবারো পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙ্গামাটি। বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আরো বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব ফাটল থেকে ধস নামতে পারে। এসব পাহাড়ের বেশকিছু স্থানে ঘর-বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এদিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির তিন দিনের মধ্যে চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে—জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের প্রধান।

এদিকে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন পাড়া-গ্রামে ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের একটি আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি মানিকছড়ি উপজেলায়ও খোলা হয়েছে একটি আশ্রয় কেন্দ্র। ইতোমধ্যে সেখানে  ঝুঁকিতে বসবাসকারী বেশ কিছু পরিবারকে জেলার একাধিক  আশ্রয় কেন্দ্র্রে নিয়ে আসা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে খাবারসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিসি বাংলো, পুলিশ সুপারের বাংলো, বিএফডিসি রেস্ট হাউস, রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউস, বাংলাদেশ বেতার ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বাংলাদেশ টেলিভিশন রাঙ্গামাটি উপকেন্দ্রের স্থাপনাসমূহের জায়গায় বিশাল অংশজুড়ে ব্যাপক পাহাড় ধস হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আরো বৃষ্টি হলে এসব এলাকায় আরো পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ের বেশকিছু স্থানে আরো অসংখ্য বাড়ি-ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটন সড়ক, আনন্দ বিহার, পুরাতন হাসপাতাল, রিজার্ভ বাজার উন্নয়ন বোর্ড, সমাজ সেবা অফিস, রাজবাড়ি শিল্পকলা একাডেমি, কল্যাণপুর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, ভেদভেদী আনসার ক্যাম্প, বেতার কেন্দ্র, শিমুলতলী, ভেদভদী যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মনোঘর এলাকায় সড়কের বিশাল অংশ জুড়ে রাস্তার পার ধসে গিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু কিছু অংশে রাস্তা থেকে মাটির স্তূপ পড়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এদিকে রাঙ্গামাটির ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পানি ও খাবার সরবরাহ করছে। শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

গত পাঁচ দিনে পুরো জেলায় পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১১৩। শুক্রবার রাতে জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম দুমদুমিয়া ইউনিয়নে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৬ জন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন এবং কাউখালী উপজেলায় ২১ জন মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৩৩, মহিলা ৩২, পুরুষ ৪৮ জনের মরদেহ রয়েছে।

এদিকে পাহাড় ধসের পর রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক, রাঙ্গামাটি-বড়ইছড়ি ও রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা রাস্তার যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও রাঙ্গামাটি কাপ্তাই পানিপথে সীমিত আকারে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান শনিবার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও রাস্তা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত সংস্কার করে তিন দিনের মধ্যে হালকা যানবাহন ও এক মাসের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।

এ সময় সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার ও রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর শনিবার দুপুরে রাঙ্গামাটির পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও রাস্তা পরিদর্শন করেন। তিনি দুর্গতদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে সমন্বয় সভায়, পাহাড়ের এই বিপর্যয়ে সমালোচনা না করে দলমত নির্বিশেষে সকলকে রাঙ্গামাটির দুর্গত মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দ্রুত খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি পরামর্শ দেন।

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি তরুণ ভট্টাচার্য জানান, এক সপ্তাহেরও বেশি টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। এ জেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে অন্তত ২ সহস্রাধিক পরিবার। প্রাণহানির আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এর পরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীরা সরে যেতে রাজি না হওয়ায় গত শুক্রবার খাগড়াছড়ি পৌর শহরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিশ শারমিনের নেতৃত্বে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কলাবাগান, ন্যান্সিবাজার, শালবন, হরিনাথ পাড়া গ্যাপ, আঠার পরিবার এলাকা থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ৩০টি পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে মানিকছড়ি সদরে মুসলিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার সকালে একটি আশ্রয় কেন্দ্র্র খোলা হয়েছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিয়ে আসা হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ বেলা খাবার ও নগদ অর্থ সাহায্য প্রদানসহ আশ্রয় কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুত্, চিকিংসা সহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।

আশ্রয় কেন্দ্র্র স্থায়ী সমাধান নয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদস্থানে আপাতত সরিয়ে নেওয়া হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।-ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের রেলী 

00

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি, ১৭ জুন : রাঙ্গামাটিতে আজ দুপুর ২টার সময় প্রিয় রাঙ্গামাটি সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক বর্ণাঢ্য রেলীর বের হয় রেলীটি কাঠালতলী থেকে বনরুপা এবং কলেজগেট থেকে  বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে কাঠালতলী এসে রেলীটি  সমাপ্তি ঘটে।  রেলীতে প্রিয় রাঙ্গামাটির সাংগঠনিক সকল সদস্য সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই রেলীতে অংশগ্রহন করে। তাদের দাবী হলো দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহবান।

প্রিয় রাঙ্গামাটির এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তারা আজ এই রাজপথে গবীর ও অসহায় এর মানুষের পাশে দাড়ানো। এবং ১৩ তারিখ ঘটে যাওয়া পাহাড় ধ্বসে ১৫১ জন তাদের জন্য শোক প্রকাশ করেন এবং যারা এই পাহাড় ধ্বসে আহত হয়েছেন  মৃত্যুর সাথে পান্জা নিচ্ছেন প্রিয় রাঙ্গামাটি সংগঠনটি এখন তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। এবং তাদেরকে সুস্থ করে তুলতে কঠোর পরীক্ষায় নেমেছেন। আমরা আশারাখী এই সংগঠনটি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং অসহায় ও গবীরদের পাশে দাড়াবে এই প্রত্যাশা সকলের।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙামাটিতে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা 

0

মোঃ ইরফান উল হক, রাঙ্গামাটি, ১৭ জুন : রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান। জেলা প্রসাশকের কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কেউ যদি নির্দিষ্ট করে কোনও স্থানে মৃতদেহ থাকার কথা জানাতে পারে, তবে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড় ধসে কোনও কোনও জায়গায় ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত মাটির স্তূপ জমে থাকার কারণে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

মানজুরুল মান্নান বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে আসা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ৬০ জনের দলটিকে আরও কিছুদিন রাঙামাটিতেই রাখা হচ্ছে। এখনও বৃষ্টিপাত থামেনি। আবারও পাহাড় ধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ৬০ জনের দলটিকে রাঙামাটিতে রাখা।’

সোমবার রাত থেকে টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ১৫১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙামাটিতে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার 

44

রাঙামাটি, ১৭ জুন : রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কাপ্তাই লেক থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে রাঙামাটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১৩।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটিতে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সোমবার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট বিপর্যয়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সরকারি হিসাবে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৫২ 

69900_lead

রাঙামাটি, ১৬ জুন : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে নিখোঁজ আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে চতুর্থ দিনের মতো উদ্ধার অভিযানে রাঙামটি শহর থেকে একজন ও শহরের বাইরে থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পার্বত্য অঞ্চলসহ পাঁচ জেলায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসের ঘটনায় এ নিয়ে ১৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে; যার মধ্যে শুধু রাঙামাটিতেই উদ্ধার হয় ১১০টি মরদেহ।

এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৫০ জনে দাঁড়ায়।

স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এখনও ভারি পাহাড়ের বাতাস। আপনজন হারানো মানুষের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে আরও। ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে গঠন করা হয়েছে দুটি কমিটিও।

এদিকে বৃহস্পতিবার রোদের দেখা মিললেও দুপুরে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। এরপর একটু থেমে রাত থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এতে লোকজন ফের পাহাড় ধসের আতঙ্কে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা ২৩ জন থেকে বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। বুধবার নতুন করে রাঙ্গুনিয়ায় চার জনের লাশ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দিতে তালিকা করা হচ্ছে।’

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘ সর্বশেষ বুধবার নতুন করে দুজনের লাশ পেয়েছি আমরা। এরা দুজন মা-মেয়ে।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৫০ ফুট গভীর খাদে মিলল আরেক সেনা সদস্যের লাশ 

55

রাঙ্গামাটি, ১৫ জুন : রাঙ্গামাটিতে পাহাড় চাপা থেকে আরেক সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম আজিজুর রহমান। তিনি মাদারীপুরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকর্মীরা তার লাশ উদ্ধার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একজন সেনা কর্মকর্তা। নিহত সৈনিক আজিজের লাশ প্রায় ৫০ ফুট গভীর খাদ থেকে ৩ দিন পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ নিয়ে পাঁচ সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হলো।

নিহত সৈনিক আজিজসহ সেনাবাহিনী একটি দল পাহাড় চাপায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়েন। এ ঘটনায় মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীরসহ আরো চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে গুরুতর আহত ৫ সেনা সদস্যকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক হেলিকপ্টার গেলেও তা নামতে না পারায় আহত সেনা সদস্যদের তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার ভোরে রাঙামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে বেলা ১১টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়লে তারা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফুট নিচে পড়ে যান।

পরবর্তীতে একই ক্যাম্প থেকে আরো একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্যকে নিহত এবং ১০ সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

সেনা সদস্যের লাশ উদ্ধারের ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে।  প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে ও গাছচাপায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রাঙামাটিতে ১০৭ জন, চট্টগ্রামে ৩০ জন, বান্দরবানে ছয়জন, খাগড়াছড়িতে দুজন এবং কক্সবাজারে দুজনের মৃত্যু হয়।

রাঙামাটিতে নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ সেনা সদস্য রয়েছেন। পাহাড় ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করতে গিয়ে তারা প্রাণ হারান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাঙামাটিতে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু 

356

রাঙামাটি, ১৫ জুন : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রুপনগর, মানিকছড়ি, বেদবেদিসহ পাঁচটি এলাকায় অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র মণ্ডল।

এর আগে বুধবার রাত পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলসহ পাঁচ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবানে মঙ্গলবার ১৩০ জনের লাশ পাওয়া গেলেও বুধবার নতুন করে যোগ হয়েছে আরও ১৩ লাশ। আবার নতুন করে পাহাড় ধসে চারজন মারা গেছে কক্সবাজার ও খাগড়াছড়িতে।

স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এখনও ভারি পাহাড়ের বাতাস। আপনজন হারানো মানুষের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে আরও। ত্রাণ কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে গঠন করা হয়েছে দুটি কমিটিও।

মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা ২৩ জন থেকে বেড়ে ২৭ জনে পৌঁছেছে। বুধবার নতুন করে রাঙ্গুনিয়ায় চার জনের লাশ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দিতে তালিকা করা হচ্ছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য দেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা করে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, ‘সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা রাঙামাটিতে ১০৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। মঙ্গলবার ৯৮ জনের লাশ পেলেও বুধবার যোগ হয়েছে আরও সাতজন।’

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘বুধবার নতুন করে দুজনের লাশ পেয়েছি আমরা। এরা দুজন মা-মেয়ে।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর