২৩ মে ২০১৭
রাত ১:২০, মঙ্গলবার

ভুয়া চিকিৎসকের ভিজিট ৫০০ টাকা!

ভুয়া চিকিৎসকের ভিজিট ৫০০ টাকা! 

5b6lpp5f-copy

মাগুরা, ১৯ এপ্রিল : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দিতেন। নামে পাশে বড় বড় ডিগ্রি এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (নিউরোলজি) ও এফআরসিপি (লন্ডন) ডিগ্রি লেখা।

মুহাম্মদ খোরশেদ আলম নামের এই ব্যক্তি মাগুরা সদর হাসপাতালের পাশে গ্রামীণ ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস নামের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিউরো মেডিসিন এবং মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দুই মাস ধরে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। ভিজিট নিতেন ৫০০ টাকা। সপ্তাহে প্রতি বুধবার তিনি ঢাকা থেকে মাগুরায় এসে রোগী দেখেন।

তবে আজ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শনাক্ত হলো, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হওয়া তো দূরের কথা, তিনি আসলে অষ্টম শ্রেণি পাস এক ব্যক্তি। আর এই প্রতারণার জন্য আদালত আজই তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আজ সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল খান বলেছেন, ‘মুহাম্মদ খোরশেদ আলম নামে নিউরো মেডিসিনে কোনো শিক্ষক নেই। এ ব্যক্তি ভুয়া চিকিৎসক।’

মাগুরার সিভিল সার্জন মুন্সী মো. সাদুল্লাহ জানান, কিছুদিন আগে তাঁরা জানতে পারেন, খোরশেদ আলম নামের ওই ব্যক্তি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন। অষ্টম শ্রেণি পাস ওই ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেলের একজন ওয়ার্ড বয়। মিথ্যা পরিচয়ে চিকিৎসাসেবার নামে তিনি প্রতারণা করছেন।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘খোরশেদ আলম নামের ভুয়া ওই চিকিৎসক আজ সকালে রোগী দেখছিলেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন। আমি সকালে সদর হাসপাতালের তিনজন কর্মচারীসহ দুজন মেডিকেল কর্মকর্তাকে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাই। ভুয়া ওই চিকিৎসককে নানাভাবে ব্যস্ত রাখি। যেন তিনি বিপদ বুঝতে পেরে পালিয়ে যেতে না পারেন। ওই সময় বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাই। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।’

ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামীণ ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেসে গিয়ে খোরশেদ আলমকে (৩৮) চিকিৎসাসেবা দিতে দেখি। পরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দাবি করেন। তবে এর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।

দীপক কুমার দেব বলেন, ‘বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা বলে দাবি করলেও ওই ব্যক্তি সরকারি চাকরির আইডি নম্বর দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বরও তাঁর ছিল না। তাঁর ব্যবহার করা একটি প্যাডে সহকারী অধ্যাপক ও অন্যটিতে সহযোগী অধ্যাপক লেখা ছিল।’

আজকের অভিযানের একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় মুহাম্মদ খোরশেদ আলম ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছেন। এ সময় সদর হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক, পুলিশ ও সেখানে জড়ো হওয়া লোকজনের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে মাগুরা কারাগারে পাঠায়। খোরশেদ আলমের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের আবদুর রহিমের ছেলে।

যোগাযোগ করা হলে গ্রামীণ ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেসের অন্যতম মালিক ও ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ তুষার হোসেন বলেন, ‘দুই মাস ধরে খোরশেদ আলম নিউরো মেডিসিন, মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাঁর চিকিৎসার মান খুব ভালো। রোগীপ্রতি তিনি ৫০০ টাকা করে ফি নেন।’ তুষার হোসেন বলেন, ‘ফোনের মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁর সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। শুধু জানি, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক। এখন বুঝছি তিনি ভুয়া চিকিৎসক।’

তুষার হোসেন আরও জানান, তাঁদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন হয়নি। তবে আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে মাগুরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফরহাদ আহম্মদ বলেন, ‘গ্রামীণ ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস আমাদের সমিতির তালিকাভুক্ত নয়। তাদের এখনো নিবন্ধন হয়নি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সময় সেখানে উপস্থিত মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খোরশেদ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ওয়ার্ড বয়। এর আগে কুমিল্লায় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেন। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত কুমিল্লার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে খোরশেদ আলমকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

সুব্রত কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, চিকিৎসাসেবার নামে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অমার্জনীয় অপরাধ। ভুয়া ওই চিকিৎসক ধরা পড়ার পর সব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বহিরাগত চিকিৎসকদের নাম-পরিচয়ের কাগজপত্র সিভিল সার্জন অফিসে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।-প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২ 

95

মাগুরা, ২৩ মার্চ : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা বেলনগর এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। সড়কে কুয়াশা থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মাসুদ রানা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা বেলনগর এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংষর্ষে পিকআপচালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অবস্থায় হেলপার আব্দুল হামিদকে (৩০) মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি মারা যান। নিহত হামিদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মধ্য সত্যপুর গ্রামে বলে জানা গেছে। তবে চালকের পরিচয় জানা যায়নি।

সড়কে অত্যাধিক কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। ট্রাকচালক ট্রাকটি রেখে পালিয়ে গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার 

xtsvdqlv-copy

মাগুরা, ৩ জানুয়ারি : মাগুরার চাঞ্চল্যকর ৪র্থ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী সাবুর আলীকে  গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে মাগুরা সদর থানার পুলিশ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাকে আটক করে।

মঙ্গলবার বিকালে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, গত বছর ২ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে মেয়েটি নিজ বাড়ির একটি কক্ষে একই গ্রামের সাবুর আলী, মহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান নামের ৩ যুবক মেয়েটির হাত-পা বেধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সময় মেয়েটির মা’সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পার্শ্ববর্তী বেঙ্গাবেরইল গ্রামে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। পরে তারা বাড়ি ফিরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে মেয়েটির মা (মনোয়রা বেগম) বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন।

ঘটনার পর থেকে এ মামলার প্রধান আসামী সাবুর আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল। গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা সদর থানার এস আই তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ পুলিশের সহযোগিতায় কালীগঞ্জ নলডাঙ্গা নদীপাড়ার এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে গিয়ে সাতজন গুলিবিদ্ধ 

357

মাগুরা, ১৬ ডিসেম্বর : শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় মাগুরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিক্ষক-ছাত্রসহ সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশসহ আরো আটজন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পলিটেকনিক কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কয়েকজন হলেন শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার সিংহ, রাকিবুল হাসান, বাবুল কুমার, বিদ্যুত আলী ও ছাত্র সজল মণ্ডল, ইদ্রিস আলী, সাগর ও ইব্রাহিম। তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমুল হুদা জানান, পলিটেকনিক শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় যুবক মোস্তাক হোসেনকে আটকের দাবিতে আজ সকালে পলিটেকনিক কলেজের সামনে মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্ররা। পুলিশ তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করতে বলে। কিন্তু ছাত্ররা তা না করে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৭টি রাবার বুলেট ছোড়া হয়।

পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ মুনির হোসেন জানান, বিজয় দিবসের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষক মোকলেছুর রহমানকে ক্যাম্পাসের বাইরে লাঞ্ছিত করে স্থানীয় মোস্তাক নামের এক যুবক। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্ররা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ অতর্কিতে লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র আহত হন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১ 

236

মাগুরা, ৭ নভেম্বর : মাগুরা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার নাম শওকত মণ্ডল (৩৮)। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায়।

পুলিশের দাবি, নিহত শওকত আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য।

রোববার দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার আলমখালী বাজার এলাকায় মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।

মাগুরার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন রায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আলমখালী বাজার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে শওকত মণ্ডল নিহত হন। এসময় অন্যরা পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, নিহত শওকত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মধুখালী ও বোয়ালমারী থানায় ডাকাতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মায়ের পরকীয়ায় পিতা খুন; কন্যাদের সংবাদ সম্মেলন 

35222

মাগুরা, ১ অক্টোবর : মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে পিতা খুনের ঘটনায় সঠিক বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত আরোজ আলীর কন্যা তাসলিমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাসলিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার মা রোজিনা খাতুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার  রায়নগর গ্রামের সাইফুল, মন্টু এবং সদর উপজেলার বেঙ্গা বেরইল গ্রামের বেল্লালের সাথে দীর্ঘদিন যাবত পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। এমনকি নাবালিকা তাসলিমা ও নূপুর নামের দু’কন্যাকে পিতা আরোজ আলীর কাছে ফেলে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেয়ে মা রোজিনা ইতিপূর্বে বেল্লালের সাথে বিয়ে করে প্রায় দেড় বছর ধরে ঘর সংসার করে।

দু’নাবালিকা কন্যার ভবিষ্যত চিন্তা করে পিতা আরোজ আলী অনেক চেষ্টা করে রোজিনা খাতুনকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তারপরও মা রোজিনা খাতুন বেল্লাল, মন্টু ও সাইফুল নামের তিন জনের সাথে সুকৌশলে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যান। এ সব নিয়ে মা রোজিনার সাথে পিতা আরোজ আলীর প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ চলছিল।

এতে খুব্ধ হয়ে মা রোজিনা পরকীয়া প্রেমিকদের সাথে নিয়ে গত ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই দিনগত গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আরোজ আলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশের নদীতে ফেলে দেয়। কন্যা তাসলিমা খাতুন ঘটনার রাতে পিতার পাশের কক্ষে থাকার সুযোগে এ খুনের ঘটনা দেখে ফেলে।

পরদিন ২৪ জুলাই সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও রোজিনাকে গ্রেফতার করে। পরে আসামি সাইফুল ও বেল্লালকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রোজিনা, সাইফুল ও বেল্লাল এ খুনের ঘটনা সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে এসব আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।

ইতিমধ্যে জামিনে বের হয়ে আসামি বেল্লাল, লিটন ও তাদের সহযোগী টিক্কা এ মামলার অন্যতম স্বাক্ষী কন্যা তাসলিমা ও আরোজ আলীর বোন মেরিনা খাতুনকে অপহরণ ও খুন-গুমের হুমকি দিয়ে নানা চক্তান্ত করছে। এমনকি মোটরসাইকেলে জোরপূর্বক তাসলিমাকে তুলে নেওয়ার জন্য টানা হেচড়াও করেছে। ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

নিহত আরোজ আলীর মা আশুরা বেগম, বোন মেরিনা খাতুন ও অপর কন্যা নূপুর খাতুন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় পৃথক দুর্ঘটনায় ২ জনের প্রাণহানি 

69888

মাগুরা, ১৫ আগস্ট : মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কালাম মোল্যা (৪৫) ও আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে ২ জন নিহত হয়েছেন।

রবিবার দিবাগত রাতে মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের রামনগর ও মাগুরা-যশোর সড়কের শতখালীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের এসআই আব্দুর রউফ।

নিহত কালাম মোল্যা মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর দুর্গাপুর আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা ছয়বার মোল্যার ছেলে এবং আনোয়ার চুয়াডাঙ্গা জেলার পাতিলা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

এসআই আব্দুর রউফ বলেন, মাগুরা সদর উপজেলার রামনগরে রবিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ঢাকা থেকে যশোরমুখী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পথচারী কালাম আহত হন। গুরুতর জখম অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

এর আগে, মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেটকার চালক আনোয়ার ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানান এসআই রউফ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় শিবির নেতা আটক 

06

মাগুরা, ২৮ জুলাই : মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকা থেকে আল-আমিন (২২) নামে শিবিরের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৮টার দিকে ‘আল-আমিন ট্রাস্ট’র সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক আল-আমিন জেলা শিবিরের সদস্য ও মহম্মদপুর উপজেলার রায়পুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি  মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মহম্মদপুর থানার ওসি প্রত্যাহার 

মহম্মদপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

ঢাকা, ১৯ জুলাই : মাগুরার মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে মঙ্গলবার পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, মহম্মদপুর থানার ওসি রিয়াজুল ইসলামের ক্লোজডের সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানেন না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এক পত্রে প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে তাকে মহম্মদপুর থানা থেকে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে না পারায় কারণে রিয়াজুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, সাবেক এক সেনা সদস্যসহ সম্প্রতি মহম্মদপুরে দুটি খুন ও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ সুপার বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়নি। আগে থেকে তৎপর থাকলে এ সব ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু 

222

মাগুরা, ১৬ জুলাই : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধী অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত খলিলুর শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি একই উপজেলার মদনপুর গ্রামে।

এদিকে ওই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু খবরে পেয়ে তার সমর্থকরা শ্রীপুর উপজেলায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শ্রীপুর থানা ওসি রেজাউল ইসলাম জানান, গত ২৩ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরদিন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মদনপুর গ্রামে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এতে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক খলিলুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রায় আড়াই মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে খলিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার সমর্থকরা সকালে মদনপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের পাঁচটি বাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় তারা লুটপাটও চালায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান ওসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মন্দিরে ঢুকে পুরোহিতের সন্ধানকারী ৩ যুবক আটক 

36

মাগুরা, ১৩ জুলাই : মাগুরা শহরে কালী মন্দিরে ঢুকে পুরোহিতের সন্ধানকারী সন্দেহভাজন ৪ যুবককে সনাক্ত করে এদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন- মাগুরা সদরের কাশিনাথপুর গ্রামের কেরামত মোল্লার ছেলে সুমন আহম্মেদ (২৫), সদর উপজেলার রায়গ্রামের ওহাব মোল্লার ছেলে শাহাবউদ্দিন (২০) ও শহরের পারলা বেলতলা এলাকার আকাশ (২২)।

সনাক্ত হওয়া আরেক যুবক হলেন- সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাবুল লস্করের ছেলে শাহাব উদ্দিন লস্কর (২০)। পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করছে।

আটক যুবকদের মধ্যে সুমন মাগুরা সদরের আবালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে চাকরি করেন, আকাশ বেকারি ব্যসায়ী। শাহাবুদ্দিন ও সনাক্ত হওয়া অপর যুবক সাহাব উদ্দিন লস্কর মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে একাদশের ছাত্র।

মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কালি মন্দিরে প্রবেশকারী সুমন আহম্মেদকে সনাক্ত করে রাত ৮ টার দিকে গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপর তিন যুবককে সনাক্ত করে শহরের জামরুলতলা এলাকা থেকে অন্য দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছে, সে তার অসুস্থ মায়ের জন্য কালি মন্দিরের পুরোহিতের কাছে তদবির আনতে গিয়েছিল। অটকদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আটকদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে সন্দেভাজন এক যুবক মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় কালিবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তার সাথে আসা তিনজন মন্দিরের বাইরে অবস্থান করে। মন্দিরের ভেতরে ঢুরে সন্দেহভাজন ওই যুবক তাবিজ ও তদবির নেওয়ার কথা বলে মন্দিরের সামনে থাকা সমর কুমার নামে এক দর্শনার্থীর কাছে পুরোহিত পরেশ মজুমদারের খোঁজ-খবর নিতে থাকেন। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি পুলিশ জানালে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই যুবককে সনাক্ত করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুরোহিতের খোঁজে মন্দিরে ৪ যুবক, এলাকায় আতঙ্ক 

8955

মাগুরা, ১২ জুলাই : মাগুরা শহরের নতুন বাজারে জেলা কেন্দ্রীয় কালিমন্দিরে সোমবার রাতে জঙ্গিগোষ্ঠীর চার সদস্য নাশকতার উদ্দেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ সন্দেহে জেলা পুলিশ প্রশাসন শহরের বিভিন্ন স্থানে রাতভর অভিযান চালিয়েও ওই যু্বকদের আটক করতে পারেনি। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, সোমবার রাতে সন্দেহভাজন চার যুবক একটি রিকশায় করে মাগুরা কালিমন্দিরের সামনে নামে। এ সময় তিনজন বাইরে অবস্থান নেয়। মুখে ছোট দাড়ি পাঞ্জাবি পরিহিত অপর যুবক মন্দিরের চত্বরে প্রবেশ করে পুরোহিত পরেশ মুখার্জীকেকে খুঁজতে থাকেন।

এ সময় মন্দিরে উপস্থিত পূজারীরা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাবিজ নেয়ার জন্য এখানে এসেছেন জানিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।

ঘটনা জানার পর সারারাত শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত 

34

মাগুরা, ২৬ জুন :  তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে দু-দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রিয়াদুল ইসলাম ঢালু (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় ৩ টি বাড়ি ভাঙচুর এবং ৪ জন আহত হয়েছে।

মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন রায় জানান, ঘরের চালায় ঢিল ছুঁড়াকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ৬টার দিকে প্রতিপক্ষ হাসান মোল্যার বাড়ি ভাঙচুরের সময় সড়কির আঘাতে ঘটনাস্থলে ঢালু নামের এক যুবক নিহত হয়। সে ঐ গ্রামের ভ্যান চালক জামাল শেখের পুত্র।

দীর্ঘদিন ধরে চাদ আলী বিশ্বাস এবং শফি মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৩/১৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। তবে নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১ 

77

মাগুরা, ১৮ জুন : মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কামাল হোসেন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে সদর উপজেলার মাগুরা-যশোর সড়কের মঘিরঢাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, কামাল একজন ডাকাত​ ছিলেন।

কামালের বাড়ি মঘিরঢালের কাছে শ্যাওলাডাঙ্গা গ্রামে। বাবার নাম আফসার হোসেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদার ভাষ্য, দিবাগত রাত ৩টার দিকে কামাল ও তার সহযোগীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতির চেষ্টা করছিলেন। টহল পুলিশ সেখানে গেলে ডাকাতেরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলি থেমে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কামালের লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয় লোকজন তাকে শনাক্ত করেন।

ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় একটি শটগান, দুটি গুলি, একটি রামদা, গাছ কাটার একটি করাত ও এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। কামালের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে মামলা আছে। লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, শাশুড়ি গ্রেফতার 

পায়ে শিকল বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, শাশুড়ি গ্রেফতার

মাগুরা, ১ জুন : ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে ভাসুরের মেয়ের প্রেমের অপরাধে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছে মাহফুজা খাতুন নামে এক গৃহবধূর উপর।

বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার বরই গ্রামে শাশুড়ি, স্বামী, ভাসুর, দেবরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

দিনভর নির্যাতনের পর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ শাশুড়ি কমলা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।

মাহফুজা খাতুন জানান, তার ভাইয়ের ছেলে হিরণ (১৮) এর সাথে ভাসুর মন্টু মিয়ার মেয়ে সোনিয়ার প্রেমের সম্পর্কের বিষয় জানাজানি হলে স্বামী, ভাসুরসহ পরিবারের লোকেরা পায়ে শিকল বেঁধে ঘরের খুটির সঙ্গে তালা মেরে বেদম মারপিট করে।

মাহফুজার অভিযোগ বাবা-মা মরা ভাতিজাকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেওয়াই মূলত তার অপরাধ।

মাহফুজার ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মুস্তাফিজ জানায়, মায়ের উপর নির্যাতন ঠেকাতে গেলে তার নিষ্ঠুর বাবা তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।

সদর থানার ওসি আজমল হুদা জানান, পুলিশ মাহফুজাকে উদ্ধার করেছে। শাশুড়ি কমলা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর