১৭ অক্টোবর ২০১৭
দুপুর ১২:০৮, মঙ্গলবার

তালায় সড়ক দূর্ঘটনায় এক শিশু নিহত

তালায় সড়ক দূর্ঘটনায় এক শিশু নিহত 

0000

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা (সাতক্ষীরা ), ৩০ সেপ্টেম্বর : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় অনুপ সরদার (৩) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার পাটকেলাঘাটা থানার বাইগুনি নামকস্থলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত অনুপ সরদার সাতক্ষীরা শহরের মিলবাজার এলাকার মিজান সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলযোগে মিজান তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে শশুর বাড়ি তালায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাইগুনি নামক স্থানে পৌছলে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা দ্র্রুত গতি সম্পন্ন একটি পিকআপকে সাইড দিতে যেয়ে শিশুটি তার মায়ের কোল থেকে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। এতে সে পিকআপের তলায় পড়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতলে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে মারা যায়।

পাটকেলাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় এক গৃহবধুর আত্মহত্যা 

full_697075617_1441212335

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা , ২৩ সেপ্টেম্বর : সাতক্ষীরার তালায় গলায় রশি দিয়ে গৃহবধুর আত্মত্যার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টায়  থানার সরুলিয়া গ্রামের মৃত মইজুদ্দিন এর পুত্র শিমুলের স্ত্রী ফাহিমা বেগম (২৫) অভিমানে ঘরের আড়ায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মত্যা করে। বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।  পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্যা জাকির হোসেন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাতক্ষীরায় মাদকসহ নারী আটক 

atok_woman

সাতক্ষীরা, ২২ সেপ্টেম্বর : সাতক্ষীরায় মনিরা খাতুন (৫৪) নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার চালতেতলা বাগানবাড়ি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে ১০০ পিস ইয়াবা ও এক গ্রাম হেরোইনসহ তাকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

আটক মনিরা খাতুন ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সাতক্ষীরা সার্কেলের পরিদর্শক লাফিয়া খানম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে অভিযান চালিয়ে মনিরা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ও এক গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৭৫ 

arrest-2

সাতক্ষীরা, ২৮ আগস্ট : সাতক্ষীরায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের তিন নেতাকর্মীসহ ৭৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ৫০ জন, কলারোয়ায় ৭, কালিগঞ্জে ৪, শ্যামনগরে ২ এবং তালা, আশাশুনি, দেবহাটা ও পাটকেলঘাটায় তিনজন করে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে আরো ১৫টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ৫৭ পিস ইয়াবা ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটকদের মধ্যে রয়েছেন- কালিগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ এবং পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা ইউনিয়নের জামায়াতের রোকন আজিজুল ইসলাম ও বোরহান উদ্দীন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় বিএনপি নেতা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত 

nihoto3

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ৯ জুন : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ:মজিদ মোড়ল(৬৭) সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সে তালা উপজেলার সাহাজাতপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রমজান মোড়লের ছেলে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে ইঞ্জিনচালিত আলম সাধুতে মসজিদের কাঠের মেহরাব বহন করে নিয়ে আসার সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খর্নিয়া কাঠালতলা নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা দিলে সে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। এসময় গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে আটটার সময় মারা যান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে স্কুল ছাত্র সুমন গাজী 

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ১৮ মে : প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তালা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে স্কুল ছাত্র সুমন গাজী (১০)। সে তালা উপজেলার রায়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র এবং পাশ্ববর্তী পাইকগাছার রামনগর গ্রামের মোঃ ইবাদুল গাজীর পুত্র। এ ঘটনায় মামলা হলেও বহাল তবিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসামী মহিদুল। তবে থানা পুলিশ বলছে, মফিদুল গাজীকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী ও আহত স্কুল ছাত্র সুমন গাজীর পিতা ইবাদুল গাজী জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শুক্রবার (১২ মে) সকালে রামনগর গ্রামের মৃত: মাজেদ আলী গাজীর পুত্র মোঃ মফিদুল গাজী (৪৫) স্কুল ছাত্র সুমন গাজীকে বেধড়ক মারপিট করে এবং এক পর্যায়ে তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সুমনের মা মনোয়ারা বেগম ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করে মফিদুল গাজী। এ সময় মনোয়ারা বেগমকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টাসহ তাঁর কানের দুল ছিড়ে নিয়ে তাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় মফিদুল। এদিকে গুরুতর আহত সুমন গাজীকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সুমনের পিতা ইবাদুল গাজী বাদী হয়ে অনধিকার প্রবেশ করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, জখম, চুরি, শ্লীলতাহানীর অভিযোগে ৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ পেনাল কোড ধারা মোতাবেক পাইকগাছা থানায় একটি মামলা করে। যার মামলা নং ২৭, তারিখ ১২/০৫/১৭ইং। মামলার  প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বহাল তবিয়াতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসামী মহিদুল গাজী। বর্তমানে তিনি বাদীকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তারা মফিদুল গাজীকে অবিলম্বে প্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবীতে পাইকগাছা থানার ওসিসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির সাথে তালা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় 

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ১৮ মে : সাতক্ষীরার তালা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যরা খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ দিদার আহম্মদের সাথে ফুলের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন। বুধবার (১৭ মে) সকালে তালা প্রেসক্লাবের আহবায়ক প্রণব ঘোষ বাবলুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় ডিআইজি দিদার আহম্মদকে তালা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে সংবর্ধণা দেওয়া হয়। তিনি তালা প্রেসক্লাবের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ দমনে সাংবাদিকে সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি তালা প্রেসক্লাবের পরিদর্শন করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তালা প্রেস ক্লাবের আহবায়ক প্রণব ঘোষ বাবলু, সদস্য সচিব মোঃ আব্দুল জব্বার, যগ্ম-আহবায়ক গাজী জাহিদুর রহমান, এম,এ ফয়সাল, সরদার মশিয়ার রহমান, তালা প্রেস ক্লাবের সদস্য নজরুল ইসলাম, তপন চক্রবর্তী, মোঃ সেলিম হায়দার, সব্যসাচী মজুমদার বাপ্পী, প্রভাষক ইয়াছিন আলী, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কাজী আরিফুল হক ভুলু, ফিরোজা রহমান শিমু, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, অর্জুন বিশ্বাস, কামরুজ্জামান মিঠু, মিজানুর রহমান, মোঃ খলিলুর রহমান মোঃ নূর ইসলাম, প্রভাষক নজরুল ইসলাম, জিএম খলিলুর রহমান লিথ, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ রোকনুজ্জামান টিপু, সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, মোঃ আকবর আলী, আছাদুজ্জামান রাজু, কাজী লিয়াকত হোসেন, মোঃ তাজমুল ইসলাম, সুমন রায় গনেশ, রবিউল ইসলাম, আজমল হোসেন জুয়েল, গোলাম রসুল, শাহিনুর ইসলাম, সৌমিত্র চক্রবর্তী, মনঞ্জুরুল হাসান প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত 

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ১৫ মে : সাতক্ষীরার তালায় মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর একটার সময় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ভৈরবনগর মোড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যাক্তি  হলেন তালা উপজেলার আ: গফুর ফকিরের ছেলে নাজিমুদ্দিন ফকির(৫২)। তিনি তালা উপজেলার স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তালার নগরঘাটা এলাকায় চাকুরির দায়িত্ব পালন কালে মটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে ভৈরব নগর মোড়ে পৌছালে অপর একটি মটর সাইকেলে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সহাসড়কে পড়ে যায়। এসময় দ্রুতগামী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় টিআরএম প্রকল্প পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার 

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ১২ মে : সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বালিয়া এলাকায় শুক্রবার সকাল ১০টায় টিআরএম এলাকা পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফরিদ হোসেন, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ লিটন আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, তালা প্রেস ক্লাবের আহবায়ক প্রণব ঘোষ বাবলু, সদস্য সচীব আব্দুল জব্বার, জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান রাজীব হোসেন রাজু,তালা থানার সেকেন্ড অফিসার শেখ ওহিদুজ্জামান, জেএসডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমানসহ তালা প্রেস ক্লাবের নব-গঠিত আহব্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ ।

পরিদর্শনকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব টিআরএম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহজ শর্তে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্যে তিনি স্থানীয় কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান। এছাড়া তিনি টিআরএম এলাকার বিল থেকে নেট পাটা অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন।

এ সময় তালা উপজেলা পানি কমিটির পক্ষ থেকে কপোতাক্ষ নদ পুনঃখননের বর্তমান অবস্থা এবং পাখিমারা বিলের টিআরএম কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয় ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাতক্ষীরায় জামায়াত কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৫৩ 

11

সাতক্ষীরা, ৫ মে : সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে জামায়াতের এক কর্মীসহ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৯ জন, কলারোয়া থানায় ৭ জন, তালা থানায় ৮ জন, কালিগঞ্জ থানায় ৭ জন, শ্যামনগর থানায় তিনজন, আশাশুনি থানায় চারজন, দেবহাটা থানায় একজন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নাশকতা, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুন্দরবনে ৫১ কেজি হরিণের মাংস জব্দ 

478

সাতক্ষীরা, ৩ মে : সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ৫১ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। তবে এ সময় কোন হরিণ শিকারী আটক হয়নি।

বুধবার ভোরে সুন্দরবনের কালিরখাল নামকস্থান থেকে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়।

আংটিহার কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার হামিদুর রহমান জানান, সুন্দরবনে শিকারীরা হরিণ শিকার করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে কালিরখাল নামকস্থানে অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় সেখান থেকে ৫১ কেজি হরিণের মাংশ উদ্ধার করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় সাংবাদিক কন্যা সাবিহার বৃত্তি লাভ 

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ১৭ এপ্রিল : সাতক্ষীরার তালায় ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সাংবাদিক কন্যা সাবিহা মাহজাবীন বৃত্তি পেয়েছে। সে পাটকেলঘাটা আল-আমীন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালের  ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিলাভ করেছে। ইতোপূর্বেও সে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেনএর পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেছিল। সে তালা সদর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি দৈনিক নয়াদিগন্তের তালা উপজেলা সংবাদদাতা কপিলমুনি কলেজের প্রভাষক ইয়াছীন আলী সরদার ও সালমা পারভীন এর কন্যা। তার এ কৃতিত্বের জন্য পিতা-মাতা, শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সাবিহা  ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানব সেবা করতে আগ্রহী। সে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভ্রাম্যমান আদলতে ৪ যুবকের জেল জরিমানা 

%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%95

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ৮ এপ্রিল : সাতক্ষীরার তালায় ভ্রাম্যমান আদলত ৪ যুবকের জেল জরিমানা করেছে। শুক্রুবার  বেলা ৩ টায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সূত্রে জানায়ায়, তালা উপজেলার মাগুরা বাজারে সরকারী সার বিক্রয়ের অপরাধে একই এলাকার মৃত মিনাজ উদ্দিনের পুত্র আশরাফুল আলম(৪০) কে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও মাদকদ্রব্য সেবনের কারনে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের পুত্র শেখ আব্দুল কাদের(৩৫) কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, আলাদীপুর গ্রামের নওয়াব আলী সরদারের পুত্র খায়রুল সরদার(৩২) কে দুইশত টাকা জরিমানা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলাধীন আরশনগর গ্রামের রবিউল শেখ এর পুত্র রেজাউল শেখ(২৫)কে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফরিদহোসেন এ আদেশদেন। তালা থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালায় ১৫৯ পরিবার বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত 

0000

ইয়াছীন আলী সরদার, তালা(সাতক্ষীরা), ৩ এপ্রিল : বহু প্রতিক্ষার পর সাতক্ষীরার তালায় ১৫৯ পরিবার বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উদ্যোগে তালা উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচীর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে রোববার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেয়ালা নলতা গ্রামের ১১৬ এবং খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী গ্রামের ৪৩ পরিবারের মাঝে পল্লী বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের ১.৪৮৯ কিলোমিটার বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমানের পরিচালনায় এক আলোচনা সভায় বিশেষ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নেছা খানম, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রবীন্দ্র নাথ দাশ, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাহফুজুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক প্রণব ঘোষ বাবলু, নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কান্ত, বিশিষ্ট ঘের ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহেল রানা, ইউপি সদস্য রেহানা খাতুন, মোহাম্মদ আলী নিকারী, অরুন কুমার ঘোষ, ওকেল খাঁ, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী গাজী এবং সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। পরে উপজেলার মহান্দী গ্রামের ৪৩ পরিবারের মাঝে পল্লী বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ক্যামেরা ট্রাপিংয়ে বাঘ গণনা শেষ, ফলাফল আগষ্টে 

0000

ইয়াছীন আলী সরদার, সাতক্ষীরা, ২ এপ্রিল : প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবনের অতন্দ্র প্রহরী রয়েল বেঙ্গল টাইগার আজ নানা সংকটে বিলুপ্ত হতে চলেছে।

চোরা শিকারীদের অপতৎপরতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, লবনাক্ততা বৃদ্ধি, আবাসস্থল নষ্ট, খাদ্য সংকটসহ আন্তর্জাতিক ষঢ়যন্ত্রে মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিকূলতায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সুন্দরবন থেকে আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে বাঘের সংখ্যা।

শুমারী অনুযায়ী গত মাত্র ১ দশকের ব্যবধানে বাঘ কমেছে ৩৩৪ টি। ২০০৪ সালের শুমারিতে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০ টি ২০১৫ সালের শুমারিতে তার সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০৬ টিতে।

তবে বনবিভাগ টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি প্রকল্পের আওতায় বাঘের সংখ্যা ও তার জীবন যাপন জানতে সম্প্রতি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয়বারের মত ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বাঘের সঠিক সংখ্যা পেতে তারা এবার দেশী-বিদেশী গবেষকদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। যার ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছে বনবিভাগ।

বাঘ রক্ষায় সরকার বিভিন্ন সময় নানামুখি ব্যাপক পদক্ষেপ নিলেও বহুবিধ সংকটে কার্যত তা বাঘ বিলুপ্তিতে বিশেষ কোন প্রভাব পড়েনি। তবে কেন বাঘের এই কমে যাওয়া ? কারা মারছে, কেন মারছে আর যাচ্ছেই বা কোথায়? এমন প্রশ্ন থেকে সরকারি বা আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সংস্থা বিভিন্ন সময় ব্যাপক অনুসন্ধানও চালিয়েছে। এনিয়ে সর্বশেষ পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের এক প্রতিবেদনও পাঠিয়েছিল।

যাতে উঠে এসেছে বাঘ নিধনে জানা অজানা চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বিশ্লেষকদের আশংকা, এমনটি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে ম্যনগ্রোভ সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তবে সর্বশেষ আশার কথা, সুন্দরবনের নীলকমল, কটকা, কচিখালি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের বাচ্চা দেখা যাচ্ছে।

২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সেজন্য প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সুন্দরবনে নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে আরো ১৮ টি অভয়ারণ্য। আর ঠিক এমন অবস্থায় বিশ্ববাসীকে জানান দিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে বনবিভাগ সুন্দরবনে দ্বিতীয়বারের মত ক্যামেরা ট্রাফিংয়ের মাধ্যমে বাঘ মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করে। যা ইতেমধ্যে শেষ হয়েছে।

ইন্টাপোলের তথ্য সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানাযায়, চোরা শিকারি ও ডাকাত দলের সমন্বয়ে পরিচালিত নিধন অভিযানে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও বিষ-ফাঁদ দিয়ে বাঘ হত্যা করে থাকে। এর পর বাঘের চামড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দরবন সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট চক্ররা বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ইন্টারপোল ঐ ৩ চক্রের মোট ৩২ জন সদস্যকে চিহ্নিত করে ঐপ্রতিবেদনে। যার তথ্যানুযায়ী, বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির মূলত তিনটি বাজার রয়েছে, ভারত, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। এসব এলাকা থেকে আবার কখনো কখনো তা চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পাচার হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরেও নাকি বাঘের এসব অংগ-প্রত্যঙ্গ ও মাংসের বাজার রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘ হত্যার পর সুন্দরবন থেকে ছোট্ট নৌকা বা স্পিড বোট সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তে সেদেশের চোরা চালানীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। কখনো বাংলাদেশ থেকে চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কাঁকড়া ও মাছের চালানের সাথেও লুকিয়ে বাঘের চামড়া ও অংগ-প্রত্যঙ্গ পাচার হয় বলেও ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত,বন ও জলদস্যুদের হাতে পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের নিয়ন্ত্রন চলে যাওয়ায় এ পর্যন্ত তাদের হাতে শতাধিক বাঘ শিকার হয়েছে। খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটে বহু বাঘ পাড়ি জমিয়েছে সুন্দরবনের ভারতের অংশে। স্থানীয়রা অবশ্য বাঘের সংখ্যা আশঙকাজনকহারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে ৮টি কারণ চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঝড়,বন্যা,জলোচ্ছ্বাস), লবনাক্ততা বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, আবাসস্থল ধ্বংস ও বিশেষ করে চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে যে, ৮ কারণে বাঘের মৃত্যু হতে পারে তা হল, বয়স্ক বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু,পুরুষ বাঘ কতৃক বাচ্চা খেয়ে ফেলা, পর্যাপ্ত খাদ্যাভাব, লোনা পানি গ্রহনে লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত,প্রাকৃতিক দূর্যোগ,ব্যাবস্থপনাজনিত সমস্যা বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনবিভাগের দায়িত্বহীনতা, বাঘের প্রতি উদাসহীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিকারীদের অপতৎপরতার কারনে সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঘ।

বন বিভাগ ও এলাকাবাসী জানায়, ১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ শ্যামনগরের দাতনিখালি গ্রামে একটি বাঘ ঢুকে পড়লে এলাকাবাসী বাঘটিকে গুলি করে হত্যা করে। এর মাত্র এক দিন পরে একই এলাকায় আরো একটি বাঘ গণ পিটুনিতে মারা যায়। ২০০৮ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে একটি বাঘ প্রবেশ করে। ঐ সময় বাঘটির আক্রমনে ১ গৃহবধূ সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো ২ জন। এঘটনায় এলাকাবাসী পরের দিন বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। ২০০৯ সালের ২জুন সুন্দরবনের চুনা নদী পার হয়ে শ্যামনগরের খলিশাবুনিয়া গ্রামের কালীবাড়ি এলাকায় একটি বাঘ ঢুকে পড়ে। এসময় তার আক্রমনে ৩ জন আহত হয়। ঘটনার প্রায় ১০ ঘন্টা পর এলাকাবাসী গলায় ফাঁস দিয়ে বাঘটিকে হত্যা করে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে লোকালয়ে প্রবেশ করে চন্ডিপুরের খোরশেদ আলীর রান্না ঘরের চালের উপর অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী বাঘটিকে ঘেরাও করে বনবিভাগ ও পুলিশে খবর দেয়। যার ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও বনবিভাগ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গ্রামবাসী এক প্রকার বাধ্য হয়ে বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

২০১১ সালের ২৫ মার্চ শ্যামনগরের ভোলা খালী গ্রামে জনতার গণপিটুনিতে মারা যায় আরো একটি বাঘ। ২০১৩ সালের ২১ জুলাই কৈখালি এলাকায় এলাকাবাসী আরো একটি বাঘকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এভাবে প্রতি বছর শীত মওসুম এলে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী লোকালয়ে বাঘের আনাগোনা দেখা গেলেও গত কয়েক বছরে লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বা আক্রমণ দেখা যায়নি। সেখানকার মানুষের ধারণা, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে সে জন্য বর্তমানে আর বাঘের দেখা মিলছেনা। যার প্রমাণ, ১৫’ সালের ক্যামেরা ট্রাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত শুমারিতে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখা ১০৬ টিতে নেমে এসেছে।

সূত্র জানায়, সুন্দরবন থেকে পাচার হওয়া ৩ টি বাঘের শাবক ২০১২ সালের ১১ জুন ঢাকার শ্যমলী থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাব। পরে শাবকগুলোকে ডুলহাজরা সাপারী পার্কে অবমুক্ত করা হয়। সুন্দরবন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালের আগষ্ট মাসে শিকারী দলের মংলা এলাকার সদস্য জামাল উদ্দীন সাতক্ষীরা এলাকায় বাঘের চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। শিকারী দল ২০১০ ও ২০১১ সালে বেশ তৎপর ছিল।

বন বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৭১ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার বাঘ শুমারী হয়েছে। তার মধ্যে ১৯৭১ সালের শুমারীতে বাঘের সংখ্যা ছিল ৩২০ টি,১৯৭৫ সালে ৩৫০ টি, ১৯৮০ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৩০ থেকে ৪৫০ টি,১৯৯২ সালে ৩৫৯ টি,১৯৯৩ সালে ৩৬২ টি,২০০৪ সালে ৪৪০টি ও সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১০৬ টি বাঘ রয়েছে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে।

শুমারীগুলোতে দেখা যায়, কখনো বাঘের সংখ্যা কমেছে আবার কখনো বেড়েছে। তবে সর্বশেষ ১৫’ সালের শুমারীর তথ্যানুযায়ী বাঘের সংখ্যা আশংকাজনকহারে হ্্রাস পেয়েছে। তাহলে কি সেখানে বাঘের বংশ বিস্তার ঘটেনি? নাকি বংশবৃদ্ধি হলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে ? নাকি নানা প্রতিকূলতায় তারা চলে গেছে সুন্দরবনের ভারতের অংশে? অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের সুন্দরবনের পরিবেশ অনুযায়ী সেখানে বাঘ বৃদ্ধির উত্তম কেন্দ্র। এরই মধ্যে সুন্দরবনের নীলকমল,কটকা,কচিখালী ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নাকি বাঘের বাচ্চার দেখা মিলছে। তবে কি নতুন করে বাঘের বংশবিস্তার হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সর্বশেষ বনবিভাগের টাইগার কনজারভেশন এ্যাক্টিভিটি প্রকল্পের আওতায় শেষ হল গণনা প্রকল্প।

সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী জানান, প্রকল্পে ৪৫ জন বন কর্মী ৯টি দলে বিভক্ত হয়ে সুন্দরবনের দু’টি অভয়ারণ্য অঞ্চল সহ প্রায় ২ হাজার বর্গফুট এলাকায় ৩৪০টি পয়েন্টের গাছের সাথে সাড়ে ৪শ’ ক্যামেরা স্থাপন করে ১০৩ দিনের তথ্য সংগ্রহ ও মনিটরিং করে। বাঘদের আকৃষ্ট করতে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় পাহাড়ি শুটকির গুড়া। মনিটরিংয়ে বিশেষজ্ঞরা বাঘের খাদ্য শৃঙ্খল,প্রজনন,শিকারীদের তৎপরতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে মনিটরিং করেন। এজন্য ওয়াশিংটন ডিসির কনজার্ভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউশনের ২ জন বিশেষজ্ঞ গ্যারি এফ কলিন্স ও ক্যাথি ওয়াচয়ালা প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন বনবিভাগের সুন্দরবন সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দীন আহম্মেদ।

সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। বাঘের প্রজনন বাড়াতে আরো ১৮ টি নতুন অভয়ারণ্য করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়,একটি পুরুষ বাঘের দৈর্ঘ্য মাথা থেকে লেজ সহ প্রায় সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। যার লেজের দৈর্ঘ্য ৮৫ থেকে ৯৫ সেঃমিঃ। গড় ওজন ২০০ থেকে ২৩৬ কেজি পর্যন্ত। এযাবৎ সবচেয়ে বড় বাঘের ওজন ৩৮৮.৭ কেজি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। স্ত্রী বাঘ আকারে ছোট হয়। দৈর্ঘ্য ৩ মিটার থেকে তার কিছু বেশী হতে পারে। বাঘের পায়ের ছাপ গোলাকৃতির আর বাঘিনীর ছাপ লম্বাটে হয়। বাঘের সারা শরীর হলুদ-কমলা-বাদামি এবং সাদা-কালো লম্বাটে ডোরাকাটা ঢেউ খেলানো দাগ থাকে। প্রচন্ড শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হিংস্র এই প্রাণী গভীর অরণ্যে নির্জনে থাকতে ভাল বাসে। প্রতিটি বাঘ একেক লাফে ৭/৮ মিটার অতিক্রম ও ৩ মিটার উচুতে উঠতে পারে। এছাড়া এরা ভাল সাঁতার কাটতে পারে। প্রণীটির খাদ্য তালিকায় রয়েছে, হলিণ,শূকর,বনগরু,গয়াল,নীল গাই,হাতি বা গন্ডারের বাচ্চা,মহিষ,কুমির,অজগর এমনকি তারা মাছও খেয়ে থাকে। বাঘ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার শিকার করে থাকে। তবে শিকারের ওজন ৩০/৪০ কেজির কম হলে আবারো বের হতে হয় তাদের। প্রতিদিন এদের গড় ৭ কেজি খাদ্যের প্রয়োজন হয়। সে জন্য প্রতিটি বাঘের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে বছরে ৩ হাজার ৬৫০ কেজি মাংসের প্রয়োজন। যার ওজন ৭৩ টি চিত্রা হরিণের সমান।

প্রায় সব প্রজাতির বাঘ প্রজননক্ষম হয় আড়াই থেকে ৩ বছর বয়সে। বাঘিণীর বাচ্চা ধারণের সময়সীমা ১০৮ দিন। একটি বাঘিণী এক সাথে ২ থেকে ৬ টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে থাকে। বাঘের জীবনকাল ১৪ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ সীমানায় অবস্থিত ১০ হাজার বর্গ কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের উপর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সুন্দরবন ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৫ হাজার ৬শ’৭৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি সহায়তা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার ১ হাজার ২শ’ ৬৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা জিওবি এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ৪ হাজার ৪ শ’১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন হবে। যা বাস্তবায়ন হবে ২০১৫ সালের মে থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে বলে টিটিপিতে উলে¬খ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় থাকছে, বেজ লাইন সার্ভে ও মনিটরিং,অফিস ভবন/প্যাট্রোল পোষ্ট সংষ্কার,পন্টুন ও গ্যাংওয়ে মেরামোত,কমিউনিটিভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা,৬০ হাজার কিঃমিঃ বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ,আন্তর্জাতিক সেবা,দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ ও ষ্টাডি ট্যুর,যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়,প্রশিক্ষণ,ওয়ার্কশপ,সেমিনার ও মিটিং আয়োজন করা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় দু’বছর অতিবাহিত হতে চলেছে।

সর্বশেষ ১৫’সালের জরীপে গত ১ দশকে সুন্দর বনের বাঘ কমেছে ৩৪০টি। এর মাত্র ১ বছরের ব্যাবধানে বনবিভাগের দ্বিতীয় দফার ক্যামেরা ট্রাফিংয়ে বাঘের সংখ্যা বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত, এমনটাই জানিয়েছেন বন বিভাগ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর