১৯ অক্টোবর ২০১৭
সকাল ১১:৩৭, বৃহস্পতিবার

থেমে নেই তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন

থেমে নেই তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট,  ৮ অক্টোবর : সফিয়ার মুন্সি, বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চর হলদি বাড়ী গ্রামে। তার ২২ বিঘা জমি ছিলো । তার বাড়িতে ওই এলাকার ২-৩ জন প্রতিদিন দিনমজুরীর কাজ করতো । তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে গত ৪ বছরে তার ২২ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে । এখন পারুলিয়া বাঁধে আশ্রয় নিয়ে ভাড়ায় অটো রিক্সা চালিয়ে ৩ ছেলে মেয়েকে নিয়ে ৫ সদস্যের সংসার চলছে। তার বড় ছেলে সাদেকুল ইসলাম পারুলিয়া বাজারে চায়ের দোকানে কাজ করেন। এ অবস্থা শুধু সফিয়ার মুন্সির নয়। তার মত হাজার হাজার মানুষ বাপ-দাদার বসত বাড়ি হারিয়ে এখনে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের বেশি ভাগ একটি অংশ ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবন ও জীবিকার জন্য চলে গেছে।

লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে নদ-নদী গুলোর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের ভাঙ্গনসহ ৩ জেলার অন্তত ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার বসত বাড়ি, স্কুল কলেজ, মসজিদ মন্দির ও আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপেজলার গোবর্দ্ধন স্প্যার বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ার পাশাপাশি ওই জেলার হাতীবান্ধা উপেজলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ধবুনী গ্রামে শহর রক্ষা বাধেঁর ৮ টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ধরলা নদীর তীরবর্তী সদর উপজেলার কুলাঘাটে শহর রক্ষা বাঁধ ও হাতীবান্ধা উপজেলা তিস্তা নদীর তীরর্বতী গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকার বাঁধ। লালমনিরহাট সদর উপজেলার শীবের কুঠি ও চর শীবের কুঠি এলাকাতেও ধরলা নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ দাবী প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে পুর্ণবাসন করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামেও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে জেলার সদর উপজেলা রৌমারী, রাজিবপুর ও তিস্তার ভাঙ্গনে রাজারহাট উপজেলার হাজার হাজার বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীরের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে বসত-বাড়ি, সড়ক, মসজিদ, মন্দির, স্কুল কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হতে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙ্গনে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ফারাজীপাড়া, বলদিয়াপাড়া, গারুহারাসহ পাশ্ববর্তী গ্রামের বেশ কিছু বসত বাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বেশ কিছু বসত বাড়ি তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে।

তবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সুত্রে মতে, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার ব্যাপী স্থায়ীভাবে ব্রহ্মপুত্রের বামতীর সংরক্ষনের কাজ এবং ২৫ কিলোমিটার ড্রেজিংসহ সাড়ে ৭শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

নীলফামারীতেও তিস্তা নদীর গর্ভে বিলিন হচ্ছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। কেড়ে নিয়েছে শত শত পরিবারের বসত বাড়ি। তিস্তা নদীর এই ভাঙ্গন চলছে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখরিবাড়ি, ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ভেন্ডাবাড়ি। তিস্তা নদীর দফা দফায় বন্যার ধকল সইতে না সইতেই আবারো ভাঙনের কবলে পড়েছে ওই সব এলাকার লোকজন। অপর দিকে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়িতে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের শিকার অসহায় মানুষজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলছে। ওই এলাকার নদী ভাঙ্গণের শিকার লোকজন তাদের পুর্নবাসনের দাবী জানিয়েছেন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ জানান, তার ইউনিয়নে পূর্ব ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া গত ১ মাসে ৩ শতাধিক বসত বাড়ীসহ অসংখ্য আবাদী জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবার গুলো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর সাথে জীবন যাপন করছে। ওই উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিউল আলম রোকন জানান, তার ইউনিয়নে পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া তার ইউনিয়নে ৪ শতাধিক বসত বাড়ীসহ অনেক আবাদী জমি নদী গর্ভে চলে গেছে।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা গুলো হলো, ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, চরঘুঘুমারী, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, পূর্বখেরুয়ারচর, পূর্ব খেদাইমারী, উত্তর খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া, পশ্চিম বাগুয়ারচর, বাগুয়ারচর, বাইসপাড়া, বলদমারা, পূর্ব বলদমারা, ধনারচর, ধনারচর নতুন গ্রাম, দিগলাপাড়া, তিনতেলী। রাজিবপুর উপজেলার শঙ্করমাদবপুর, সাজাই, চরসাজাই, বল্লাপাড়া, উত্তর কোদালকাটি, নয়ারচর, নয়ারচর বাজার, মাঠের ভিটা, লাউশালা, টাঙ্গইলাপাড়। নদের ভাঙ্গনের ফলে গ্রামের পর গ্রামের বসত বাড়ি আবাদি জমি স্কুল কলেজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিনত হচ্ছে ভূমিহীনে। এ সব পরিবার সব কিছু হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন উচুঁ বাঁধ, অন্যের জমি ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন রোধে জরুরী কোন পদক্ষেপ না নিলে অদুর ভবিষৎতে রৌমারী উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

লালমনিরহাট জেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা গুলো হলো, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নসহ কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার ৩০ টি গ্রাম।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার তিস্তাপাড়ের চরখড়িবাড়ি গ্রামের সাদেকুল ইসলাম জানান, ২ বার বসত বাড়ি সরিয়ে নদী থেকে বেশ দুরে টিনের বাড়ি ঘর নির্মান করে ছিলো। সেটি এখন ভাঙ্গনের মুখে তাকে পুনরায় অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ওই এলাকার শতাধিক পরিবারের বসত বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। যেভাবে তিস্তা ভাঙ্গছে তাতে পুরো এলাকা শেষ করে দিবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার জানান, তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৪টি, আদিতমারী উপজেলায় ৪টি ও হাতীবান্ধা উপজেলায় ১১টিসহ মোট ১৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয় গুলো হলো, হাতীবান্ধা উপজেলার কিসামত নোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হলদীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব হলদীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার শেখ মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিন্দুর্ণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর হলদিবাড়ী শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবুদারু কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধুরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন ইসমাইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কুড়িগ্রাম জেলার নদী ভাঙ্গরে শিকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে। ওই সব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। ওই পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলীন হয়ে যাবে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপেজলার মহিষখোচা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে গোবর্দ্ধন স্প্যার বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু পরিবার ইতোমধ্যে নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙ্গন রক্ষায় জরুরী ভাবে ব্যবস্থা নিতে তিনি ইতোমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঈদ্রিস আলী জানান, ধরলা নদীর তীরবর্তী শহর রক্ষা বাধঁটি হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া শীবের কুঠি ও চর শীবের কুঠি এলাকায় আবাদী জমিসহ বসত বাড়ি ধরলা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতি নিয়ত।

হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিলুল ইসলাম জানান, মুহুর্ত্বের মধ্যে নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের ঘর গুলো খুলে ফেলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জেলার ডালিয়া-দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প তৈরী করে উচ্চ পর্য়ায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ এলে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাটের সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলোতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক ও  উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাদের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সাথে সমন্বয় করে নদী ভাঙ্গনে তালিকা তৈরী করা হয়েছে। প্রতিটি নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারকে পুর্ণবাসন করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে মহিলা দলের কমিটি গঠন 

16

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৮ অক্টোবর : লালমনিরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজিকে সভাপতি, শামস-ই-রহমান সাধারণ সম্পাদক ও মাকছুদা বেগম সাংগঠনিক সম্পাদক করে মহিলা দলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।  রোববার সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে সিনিয়র সভানেত্রী এ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা, সহ-সভানেত্রী মোছা. শায়লা শারমিন লাকি, লতিফা আক্তার, সেলি বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা উম্মে কুলসুম, দেলোয়ারা রহমান দিপুনী, রোজিনা বেগম শম্পা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মবতুফা ওয়াসিম বেলি, রেনু বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলারা পারভিন, নীলিমা রাণী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রুমা বেগম, দপ্তর সম্পাদক মল্লিকা খাতুন, প্রচার সম্পাদক ইকবাল বানু আলো, কোষাধ্যক্ষ নারগিস আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জেসমীন আরা, আইন বিষয়ক সম্পাদক রেশমা বেগম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক বেবি বেগম, বন ও পরিবেশ সম্পাদক নাসরিন বেগম, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্পাদক বানু, নারী অধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাহেলা বিনতে সায়ফুল্লাহ আঁখি, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোছা. দিলিফা বেগম হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে গুলি ভর্তি বাক্স উদ্ধার 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৫ অক্টোবর : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে লোহার বাক্স ভর্তি বিপুল পরিমান গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ওই উপজেলার ধরলা নদী পাশে তাবলীগুল ইসলাম কওমি হাফিজি মাদ্রাসা মাঠ থেকে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ৫২ টি প্যাকেটে ৫৬৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশের একটি দল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধরলা নদীর পাশে তাবলীগুল ইসলাম কওমি হাফিজি মাদ্রাসা দুই ছাত্র গোসল করতে নদীতে নামলে ভারি একটি বাক্স পায়। পরে মাদ্রাসার মাঠে বাক্সটিতে খুলে গুলি ভর্তি প্যাকেট দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী ও  সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে পুলিশ বাক্সটি খুলেন। এতে ৫২ টি প্যাকেটে ৫৬৮ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।

পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী জানান, উদ্ধারকৃত গুলি সমূহ স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত গুলি। এর আগেও একই নদী এলাকা থেকে রাইফেল ও গুলি পাওয়া গিয়ে ছিল।

পাটগ্রাম থানা ওসি অবিন শংকর কর গুলি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নদী এলাকায় স্থানীয় লোকজন নামিয়ে দিয়ে আরও কোনো গুলি বা অস্ত্র আছে কী না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। ডুবুরীকে খবর দেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাতীবান্ধায় নিজ উদ্যেগে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল জান্নাতি 

14652

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৩ অক্টোবর :  লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় নিজ উদ্যেগে ইউএনও’র মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল জান্নাতি আক্তার নূরী (১৪)। সোমবার রাতে উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের মেয়ে  ও গড্ডিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী নূরীর বিয়ে ঠিক হয় উপজেলার দোয়ানীর সাধুর বাজার এলাকায়। সোমবার রাতে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। শুধু বর এলেই শুরু হতো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এ অবস্থায় নূরী উপায় না দেখে নাম, পরিচয় ও ঠিকানাসহ “বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষার জন্য আবেদন” কথাটি লিখে মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে  হাতীবান্ধার ইউএনও’র সৈয়দ এনামুল কবিরকে মেসেজ পাঠায়। ইউএনও এ ধরনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে পিআইও ফেরদৌস আহম্মেদ ও সমাজ সেবা অফিসার মাহবুবুল আলমকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছান। তিনি সেখানে গিয়ে মোবাইল নম্বর মিলিয়ে নেন এবং মেয়ের মুখের কথা শুনে এসএমএস’র সত্যতা মিলিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন। নূরীদের মতো অনেক মেয়েই নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে তাদের বিয়ে বন্ধ করে দিয়ে লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হাতীবান্ধার ইউএনও সৈয়দ এনামুল কবির এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এসএমএস’র মাধ্যমে নিজ উদ্যোগী হয়ে বাল্যবিয়ের প্রতিরোধ করায় নূরীর প্রশংসাও করেন তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে শতাধিক পরিবার ১৫ দিন ধরে পানি বন্দি 

00

আসাদুজ্জামান সাজু,  লালমনিরহাট, ২ অক্টোবর : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকায় তিস্তা নদীর পানিতে শতাধিক পরিবার প্রায় ১৫ দিন ধরে পানি বন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের মাঝে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ওই এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২য় দফা বন্যায় তিস্তা নদীর পানির চাপে গড্ডিমারী ইউনিয়নের অধিকাংশ বাঁধ ও রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। ফলে তিস্তা নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পেলে ওই পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। গত ১৫ দিন আগে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই পানি গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় ৬ নং ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। এতে শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি বন্দি জসিম উদ্দিন, ইয়াদ আলী, সালাম হোসেন ও আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৫ দিন ধরে পানি বন্দি অবস্থায় পড়ে আছি । কেউ আমাদের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

হাতীবান্ধা উপজেলা গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আতিয়ার রহমান জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার কিছু দিন ধরে পানি বন্দি অবস্থায় আছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের সাথে কথা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা ফেরদৌস আহেম্মদ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তাল গাছ বীজ রোপন করলেন এম পি মোতাহার 

00

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৩০ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বজ্রপাত নিরোধকল্পে তাল গাছ বীজ রোপন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এম পি। শনিবার বিকালে ওই উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদে তাল গাছের বীজ রোপন করে এ কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন জনের মাঝে তাল গাছের বীজ বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, ও সি শামীম হাসান সরদার, কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন,  পিআইও ফেরদৌস আহেম্মদ ও অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আদিতমারীতে নববধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার 

17

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ২৯ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শুক্রবার দুপুরে মিলা রানী(২০) নামের এক নববধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গলায় শাড়ি পেচিয়ে ওই নববধু আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত নববধু মিলা রানী ওই উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের সংকরটারী গ্রামের নিরঞ্জন রায়ের স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দক্ষিন বত্রিশ হাজারী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্রের মেয়ে বলে জানা গেছে।

পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনজিৎ কুমার জানান, সনাতন ধর্মীয় মতে বেশ কিছু দিন আগে মিলার সাথে বিয়ে হয় নিরঞ্জন রায়ের। শারদীয় দুর্গা উৎসবে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিবাদ হয়। বৃহস্পতিবার রাতে পুজা অর্চনা শেষে স্বামী স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে নিরঞ্জন রায় নিজ ঘরে তার স্ত্রীর ঝলন্ত মরদেহ দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে। প্রতিবেশীরা এসে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশী ঝামেলা এড়াতে নববধু মিলার স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।

আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি শুনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাতীবান্ধায় এসসিএমএইচসি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু,  লালমনিরহাট, ২৪ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, ইএসডিও ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে স্ট্রেনদেনিং কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট হেলথ কেয়ার (এসসিএসএইচসি) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ডা: রমজান আলীর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু। বক্তব্য রাখেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: কাশেম আলী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা: হারুনর রশিদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সেলিম ও মাকতুফা ওয়াসিম বেলী, সিংগীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেযারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু, নওদাবাস ইউপি চেয়ারম্যান অশ্বিণী কুমার বসুনিয়া, প্ল্যানের  রংপুর বিভাগীয় প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা:হৃষিকেশ সরকার, ইএসডিও’র এ্যাডভাইজার আবু আযম নূর ও প্রজেক্ট কো -অডিনেটর আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের মূল হলো সহায়ক পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য সেবা প্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।

 

 

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আদিতমারীতে অটোর ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত 

nihoto3

আসাদুজ্জামান সাজু,  লালমনিরহাট, ২১ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অটো রিকশার ধাক্কায় আহম্মদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওই উপজেলার নামুড়ী বাজার নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহম্মদ হোসেন তালুক পলাশী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পায়ে হেঁটে নামড়ী বাজারে আসতে থাকে আহম্মদ হোসেন। ওই সময় একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষনা করেন।

আদিতমারী থানার ওসি হরেশ্বর রায় এ দূর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে বিএনপি’র ঢেউ টিন বিতরণ 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১৬ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গৃহহীন পরিবার গুলোর মাঝে গৃহ নির্মাণের জন্য ২ বান্ডিল করে ঢেউ টিন বিতরণ করেছেন জেলা বিএনপি। শনিবার সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে এ কর্মসুচীর উদ্ধোধন করেন, বিএনপি’র জাতীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপ-মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাব্বি দুলু। এর আগে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে হাস, মুরগী ও আমন ধানের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় বড়বাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্পাদক হাবিবর রহমান হবিসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিএসএফের পাথরে প্রাণ গেল বাংলাদেশির 

86

লালমনিরহাট, ১৫ সেপ্টেম্বর : জেলার পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া পাথরের আঘাতে আজাহার আলী নামে এক বাংলাদেশি রাখালের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিএসএফের ককটেল হামলায় লোকমান হোসেন নামে আরো এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত আজাহার আলী পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর গাটিয়ারভিটা এলাকার ময়নুল হকের ছেলে।

স্থানীয় বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে বাংলাদেশি আজাহার আলীসহ একদল গরু পারাপারকারী রাখাল জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে বৃহস্পতিবার ভোরে গরু নিয়ে একই পথ দিয়ে দেশে ফেরার পথে ভারতীয় কুচবিহার ৬১-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ী ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ককটেল ও পাথর নিক্ষেপ করে। এতে গুরুতর অবস্থায় লোকমান হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আজাহার আলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ সানিয়াজান নদীর উপর থাকা বেইলী ব্রিজের ভাটিতে কুচরিপানার ভেতর থেকে বিএসএফ উদ্ধার করে বিজিবিকে খবর দেয়।

পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রধান জানান, ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বাংলাদেশি আজাহার আলীর। আজাহার আলীর ভায়রা লোকমান হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে এসে রংপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুলতঃ তিনিই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আজাহারের পরিবারকে।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ 

500x350_78c530c553b34472f0174c3be3ee08fd_obhijuhg_131015

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৯ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সোহেল নামে এক বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার ভোরে ওই উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মাষ্টারেরবাড়ী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সোহেল মিয়া (২২) পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বুড়িমারী এলাকার মহসিন আলীর ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মাষ্টারেরবাড়ী সীমান্তে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পানিশালা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা সোহেলকে আটক করে বেদম মারপিট করে ও আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে সোহেলের খালাতো ভাই রশিদুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম শাহ নেওয়াজ নিশাত বলেন, সোহেলকে তার খালাতো ভাই রশিদুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। গরু আনতে সীমান্তে গেলে তাকে বিএসএফ পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সোহেল মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মূমুর্ষ অবস্থায় তাকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা শুরু করতে না করতেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল গোলাম মোর্শেদ বলেন, সোহেল মিয়া নামে একজন ব্যক্তি পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে মারা গেছে। বিএসএফের পিটুনিতে মারা গেছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দোকান কর্মচারীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার 

0000

মোঃ আল-আমিন, ঝালকাঠি, ৯ সেপ্টেম্বর : ঝালকাঠিতে সুমন (২১) নামের এক দোকান কর্মচারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল ৩ টায় নতুন কলেজ রোডস্থ গোরস্থানের বিপরীতে ভাড়াটিয়া বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সুমন সদর উপজেলার দেউলকাঠি এলাকার আনোয়ার হোসেনের পুত্র এবং শহরের শাকিল বিজনেস পয়েন্টের কর্মচারী।

সদর থানার এসআই মজিবর রহমান জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে পৌর গোরস্থানের বিপরীতে ভাড়াটিয়া বাসা থেকে লুঙ্গিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহটি খাটের উপরে হাটু ভাজ করা এবং মুখ মন্ডল স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিস্তা নদীর বাম তীরে বাধেঁর দাবীতে গণ-স্বাক্ষর কর্মসূচী 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৮ সেপ্টেম্বর : তিস্তা নদীর বাম তীরে বাঁধ নিমার্ণের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর গণ-স্বাক্ষর কর্মসূচী শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী তিস্তা মোড়ে এ কর্মসূচী শুরু করেন তিস্তা নদীর বাম তীর বাঁধ নিমার্ণ আন্দোলন গণ-কমিটি। ওই কমিটি’র আহবায়ক সোহেল রানার সভাপতিত্বে কর্মসূচীর উদ্ধোধন করেন ওই এলাকার তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে নিঃস্ব প্রবীন ব্যক্তি আকবর আলী। কর্মসুচীতে তিস্তা নদীর বাম তীরের হাজার হাজার মানুষ অংশ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর তাদের কষ্টের কথা লিখে স্বাক্ষর করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাতীবান্ধা ফেসবুক গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ 

55-2

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৭ সেপ্টেম্বর : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন ‘হাতীবান্ধা ফেসবুক গ্রুপ’ নামে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তালেব মোড় ও ভেন্সি মোড় এলাকায় তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মাঝে এ ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’র লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সম্পাদক আসাদুজ্জামান সাজু, গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য শাহনাজ পারভীন, গড্ডিমারী ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনুস আলী, হাতীবান্ধা ফেসবুক গ্রুপ’র সদস্য মুন্না, জহরুল, সোহেল রানা বাবু, সুমন, আল নোমান প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর