১৮ আগস্ট ২০১৭
বিকাল ৪:৫৫, শুক্রবার

হাতীবান্ধায় বঙ্গবন্ধুর ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

হাতীবান্ধায় বঙ্গবন্ধুর ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১৫ আগস্ট : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে হাতীবান্ধা অডিটরিয়াম হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান ভেলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ, অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল, অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান, সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু, টংভাঙ্গা ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা এ সময়, গভীর শ্রদ্ধা জানায় শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের অম্লান স্মৃতির প্রতি। জাতীয় শোক দিবসে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সে দিনের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে পিতা হত্যার অভিযোগে পুত্র গ্রেফতার 

1483799379_33

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১৫ আগস্ট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বাউরা এলাকা থেকে পিতা হত্যার অভিযোগে লাভলু হোসেন নামে এক পুত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাকে কৌশল করে থানায় ডেকে এনে গ্রেফতার করা হয়।

পাটগ্রাম থানার ও সি অবনী শংকর কর জানান, প্রায় ৩ মাস আগে ওই উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জমগ্রাম-নাওহাটা এলাকার আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির গলায় ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় অনেকেই দাবী করেন, আমিনুর রহমান আত্মহত্যা করেনি, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই এ হত্যাকান্ডের জন্য তার পুত্র লাভুল হোসেনকেই দায়ী করেন। ৩ মাস পর ময়না তদন্তে আমিনুর রহমানকে শ্বাস রোধ করে হত্যার আলমত মেলে। ফলে মঙ্গলবার বিকালে আমিনুর রহমানের ছোট ছেলে লাভলু হোসেনকে কৌশল অবলম্বন করে থানায় ডেকে এনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিস্তার পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপরে 

966

লালমনিরহাট, ১৩ আগস্ট : লালমনিরহাটে  তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফ্লাড বাইপাস তলিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা বাধের সব গেট খুলে দেয়ার কারণে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় নীলফামারীর ডিমলায় স্থানীয় প্রশাসন রেড অ্যালার্ট জারি করে। এর আগে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তিস্তার উজানে ভারতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। রাত ৯টা নাগাদ তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর ভোরে  ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়।

সব ইউপি চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোনে নদীতে অবস্থানরতদের সরিয়ে আনার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে রাতেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।

সন্ধ্যায় পানি বৃদ্ধির কারণে মাইকিং করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় বলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন উজানের পূর্ব ছাতনাই ও খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রতিটি  বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকায় করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তায় দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তার উজানে ভারতের অংশে ভারতীয় সেচ মন্ত্রণালয় সন্ধ্যা ৬টায় হলুদ সতর্কতা জারি করার ফলে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়।

তিস্তায় অবস্থানরতদের বাধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ প্রদান করা হয় বলে জানান ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা বাধের সব গেট খুলে দেয়ার শনিবার বিকাল থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে তিস্তার পানি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় কিসামত চরের আবুল কালাম জানান, দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি।

ছোটখাতা গ্রামের তফেল উদ্দিন বলেন, বিকাল থেকে  তিস্তার পানি বৃদ্ধি দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরণের বন্যা দেখা দেবে।

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.৪০) ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর শোঁ শোঁ শব্দ আর গর্জন তিস্তা অববাহিকা কাঁপিয়ে তুলেছে।

অপরদিকে বুড়ি তিস্তা নদীটি ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে।

এছাড়া তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের জলঢাকার দুন্দিবাড়ির দিনাজপুর প্রধান সেচ ক্যানেলের ডান তীরের বাঁধ দুইটি স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে।

ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহম্মদ খালেদ রহীম জানান, প্রশাসনের সব স্তরের সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কোথায় কী ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে তা নিয়ে রিপোর্ট তৈরির কাজ করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাঁচা মরিচের ঝাঁলে কৃষকের হাসি 

0000

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১১ আগস্ট : ১০-১২ দিন আগে প্রতি মন কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। গত দুই দিন ধরে তা বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা প্রতি মণ। কাঁচা মরিচের দামের ঝাল বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটের কৃষকরা বেশ খুশি। এবার তুলনা মুলক ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারেও প্রচুর চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে মরিচ চাষ করে। গত দুই বছরের ক্ষতি তারা এবার পুষিয়ে নিয়েছে।

লালমনিরহাটের মরিচ ও সবজি এলাকা বলে খ্যাত আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রাম। এ গ্রামে মাঠের পর মাঠ মরিচ আর সবজি ক্ষেত। গত দুই বছর টানা বৃষ্টির কারনে অকালে গাছ মরে যাওয়ায় মরিচে কিছুটা লোকসান গুনতে হলেও এ বছর লোকসান পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

বড় কমলাবাড়ি গ্রামের মরিচ চাষি হেকমত আলী জানান, গত বছর ৭০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। কিন্ত ঘন বৃষ্টিতে গাছ মরে যাওয়ায় তেমনটা লাভবান হন নি। এ বছর ১০ হাজার টাকা খরচে মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। ১০ দিন পর পর ৪/৫ মণ মরিচ তুলতে পারেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আরও এক মাস মরিচ তুলতে পারবেন তিনি। ওই জমি থেকে আরও ৫০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রির আশা তার।

বড় কমলাবাড়ি পশ্চিম পাড়ার চাষি আব্দুর রহিম জানান, চৈত্রি মাসের মাঝা মাঝি সময়ে পানি জমে না এমন জমিতে মরিচের চারা রোপন করতে হয়। এরপর সার কীটনাশক ও পরিচর্যা করলে মরিচে লাভবান হওয়া যায়। জৈষ্ঠ্যি মাসের মাঝা মাঝি থেকে শ্রাবন মাস পর্যন্ত ১০/১২ দিন পর পর মরিচ সংগ্রহ করা যায়। বৃষ্টি কম হলে ভাদ্র মাসেও মরিচ সংগ্রহ করা সম্ভব। এ বছর চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিতে যেন ঝামেলা নেই। অনুরুপ ভাবে মুনাফাও অনেক বেশি। এলাকার ব্যাপারীরা ক্ষেত থেকে মরিচ কিনে সারা দেশে বিক্র করেন। এমন দাম থাকলে তার ৪০ শতাংশ জমি থেকে লক্ষাধিক টাকার মরিচ সংগ্রহ করার আশা করছেন তিনি।

এ মরিচ চাষকে কেন্দ্র করে দিনমজুর কৃষি শ্রমিকরাও পড়েছেন কাজের ব্যস্থতায়। গাছ থেকে এক মণ মরিচ তুলে দিলে মজুরী মিলছে ২শত টাকা। এ কাজে বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছেন বেকার নারীরা। তারা সংসারের কাজ শেষে বাড়তি আয়ের জন্য ছুটছেন মরিচ ক্ষেত। এমন মৌসুমি শ্রমিক জরিনা ও সাহারা বেগম জানান, সংসারের কাজ শেষ করেও প্রতিদিন এক থেকে দেড় মণ মরিচ তোলা যায়। এ ভাবে সংসারে বাড়তি আয় করছেন তারা। স্থানীয় ব্যাপারীরা সারা দিন গ্রামে গ্রামে মরিচ কিনে ট্রাকে ভরিয়ে রাতে পাঠিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। পরদিন সকালে সেই মরিচ বিক্রি করে ট্রাকেই টাকা পাঠাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মরিচের বেপারী রফিকুল ইসলাম জানান, সারা দিন ক্ষেত থেকে মরিচ কিনে ট্রাকে রাতে কুমিল্লা শহরে পাঠান। পারদিন সকালে মরিচ বিক্রি হলে ট্রাক চালকের মাধ্যমেই চলে আসে টাকা। কোন ঝামেলা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে চলছে তার এ ব্যবসা।

মুলত এ মরিচ চাষের মাধ্যেমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশা পাশি আয় বেড়েছে এ জনপদের। মরিচ আর সবজি চাষে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন অনেকেই। কিছুদিন আগেও যাদের পেটের ভাত নিয়ে চিন্তা ছিল তারাও এখন বাড়ি গাড়ির মালিক। পাল্টে গেছে জীবন যাত্রার মান। কাঁচা মরিচের ঝাঁল বাড়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার জানান, এ বছর এ উপজেলায় ১২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। মরিচের বাজার ভাল থাকায় বেশ মুনাফা পাচ্ছে চাষিরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কালীগঞ্জে পন্যগ্রাফি আইনে যুবক গ্রেফতার 

00

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১১ আগস্ট : প্রেমসহ বিভিন্ন অভিনয় করে স্কুল-কলেজ ছাত্রীদের নগ্ন ছবি তুলে তাদের পরিবারে কাছে টাকা দাবি করার অভিযোগে শামছুজ্জামান চৌধুরী (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে রংপুর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃর্ত শামছুজ্জামান চৌধুরী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের গোপাল রায় গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, গ্রেফতার শামছুজ্জামান প্রেমসহ বিভিন্ন কৌশলে মেয়েদের নগ্ন ছবি ধারন করত। ছবি গুলো ওই মেয়েদের পরিবারের লোকজনের কাছে পাঠিয়ে টাকা দাবি করত। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী প্রদান করত। এমন এক ভুক্তভুগি ছাত্রীর বাবা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানায় শামছুজ্জামানের বিরুদ্ধে পন্যগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুক্রবার বিকালে রংপুর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মহিষখোচা কলেজে বহিরাগতদের উৎপাতে অতিষ্ট ছাত্রীরা 

16

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ২৯ জুলাই : বহিরাগত বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ট লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে বহিরাগত বখাটেদের অত্যচার।

শনিবার দুপুরে আপত্তিকর অবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন কলেজের ছাত্রী ও বহিরাগত এক বখাটে। রহস্যজনক কারনে কোন দন্ড ছাড়াই ওই বখাটেকে ছেড়ে দেয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে সাধারন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা , শনিবার দুপুরে বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীরা পাশের একটি নির্জন শ্রেনী কক্ষে কলেজের একাদশ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে আদিতমারী উপজেলার ভাদাই সজিব বাজার এলাকার হযরত আলীর ছেলে বখাটে মোরশেদুলকে (১৯) অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকতে দেখতে পান। খবর পেয়ে অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থা হাতে নাতে ধরে ফেলেন।

এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বখাটের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে দৃষ্ঠান্ত মুলক শাস্তির দাবি তুলেন অভিভাবকরাও। কিন্তু রহস্যজনক কারনে অধ্যক্ষ কোনরুপ বিচার না করেই বখাটে মোরশেদুলকে ছেড়ে দেন এবং অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করার দায়ে ওই ছাত্রীকে বহিস্কার করার ঘোষনা দেন। তবে তারা আর এমন কাজ করবে না মর্মে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া দায়িত্ব নিয়ে ওই ছাত্রীকে জিম্মায় নিলে বহিস্কারাদেশ থেকে মুক্তি পায় ওই ছাত্রী।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান ফটক থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। ফলে বহিরাগত বখাটেরা খুব সহজেই কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ছাত্রীদের উৎপাত করে চলে যায়। প্রায় প্রতিদিন এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলেছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ থেকে পরিত্রানের আবেদন করেও কোন সুফল মেলে নি বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি। এমন অপ্রীতিকর ঘটনার কারনে উদ্বিগ্ন সাধারন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ইতিপুর্বে ঘটে যাওয়া এরকম ঘটনার দৃষ্ঠান্ত মুলক বিচার হলে এমন ঘটনা ঘটত না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রী উৎপাতকারী বখাটেরা অধ্যক্ষের দলীয় বা পরিচিতজন হওয়ায় কেউ তাদের বাঁধা দিতে সাহস করেন না। ইতিপুর্বে রাতে বনভোজনের নামেও কলেজের ভিতরে নর্তকী দিয়ে রাতভর ফুর্তি করেছেন ওই বখাটেরা। এ নিয়ে অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয় নি। কলেজের পরিবেশ ফিরে পেতে তারা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কলেজের একজন শিক্ষক জানান, কলেজের প্রধান ফটক নিয়ন্ত্রণ করে ক্যাম্পাসকে বখাটে মুক্ত করা জরুরী। বিগত দিনে যা হয়েছে তা লজ্বাজনক। আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

ছাত্রীকে জিম্মা নেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক মিয়া জানান, চরিত্র গঠনের কারখানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কাজ কখনই মেনে নেয়া যায় না। বখাটে যুবককে বিনা বিচারের ছেড়ে দিয়ে লাঞ্চিত ছাত্রীকে উল্টো বহিস্কারের হুমকী দেয়াটা অযৌক্তিক। তিনিও এর সুষ্ট বিচার দাবি করেন।

মহিষখোচা বহু মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম জানান, নির্জন কক্ষে বসে গল্প করার কারনে তাদেরকে শাসন গর্জন করে উভয়ের অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হন নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাতীবান্ধায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু 

konna-inner-120170206120705

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ২৯ জুলাই : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় জাবেদ আলী (৪৫) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার বড়খাতা রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত জাবেদ আলী উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পুর্ব সারডুবি গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে।

বড়খাতা হাইওয়ে থানার ওসি প্রসূন্ন কান্তি রায় জানান, বাজার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জাবেদ আলী। ওই সময় হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতা গামী একটি মোটর সাইকেল রেলগেট এলাকায় তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই জাবেদ আলীর মৃত্যু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মোটর সাইকেলের সিটে ৬২ বোতল ফেন্সিডিল 

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৯ জুলাই : মোটর সাইকেলের সিট খুলতেই বেড়িয়ে পড়ল ৬২ বোতল ফেন্সিডিল। এ ঘটনায় রবিউল ইসলাম (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী রবিউলকে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে শনিবার মধ্য রাতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আমিনগঞ্জ বাজার থেকে এ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটক মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রংপুর কোতয়ালী থানার ফকিরগঞ্জ এলাকার শাহ আলমের ছেলে।

কালীগঞ্জ থানার এসআই রাজু আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের আমিনগঞ্জ বাজারে অভিযান চালায় একদল পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসাীয় রবিউল ইসলাম মোটর সাইকেল যোগে রংপুর যাচ্ছিল। সন্দেহ জনক অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার মোটর সাইকেলটি তল্লাশী করলে সিট কভারের নিচে লুকিয়ে রাখা বিশেষ টাংকি থেকে ৬২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী রবিউলের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানা ওসি মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাতিবান্ধা সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলছে যুবকের লাশ 

5588

লালমনিরহাট, ৬ জুলাই : লালমনিহাটের হাতিবান্ধায় বাংলাদেশ-ভারতের দইখাওয়া সীমান্তে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ কাঁটাতারে ঝুলছে। বুধবার ভোর থেকে  লাশটি ঝুলতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া এলাকার আমঝোলা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় লাশ ঝুলতে দেখা যায়।

বেড়ায়গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সাবু মিয়া জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের লাশ ঝুলতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাশটি বাংলাদেশি কৃষকের। তবে ঘটনাস্থলে কেউ যেতে না পারায় তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বিজিবির দইখাওয়া ক্যাম্পের সুবেদার আবদুল কাদের জানান, বুধবার ভোর থেকে আমঝোলা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় লাশটি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। লাশটি বাংলাদেশি না ভারতীয় যুবকের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া আসেনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ত্রাণ নেই 

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৫ জুলাই : লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বুধবার দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তার অভ্যন্তরে চর ও নি¤œাঞ্চলের এখনো বেশ কিছু বসত বাড়ী পানিবদ্ধি রয়েছে। গত শনিবার ও রোববার তিস্তা নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড’র ডালিয়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সুত্র মতে, গত শনিবার ও রোববার উজানের নেমে আসা পানিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্ন ও চরাঞ্চলের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে হাতীবান্ধা উপজলায় সচচেয়ে বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে ও ধুবনী গ্রামে একটি বাধেঁর দুই স্থানে ভেঙ্গে যায়।

হাতীবান্ধা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ত্রাণ বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ বরাদ্দ আসবে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির জানান, ধুবনী গ্রামে তিস্তা নদীর তীরবর্তী যে স্থানে বন্যার পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে গেছে তা মেরামত চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন লালমনিরহাটের কৃষক 

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ৪ জুলাই : তামাক নয়, বর্তমানে ভুট্টা আবাদে ঝুঁকছেন লালমনিরহাটের কৃষক। কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলের যেসব জমিতে তামাক চাষ হতো, সেখানে এখন লাভজনক ফসল হিসেবে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে। মিলছে কাঙ্গিক্ষত ফলনও। এতে ভুট্টা আবাদের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাগ্য ফিরেছে এ জেলার শত শত কৃষকের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় এবার ভুট্টার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। যদিও বিভিন্ন কোম্পানির প্রলোভনে এখনো আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় তামাক চাষের প্রভাব কিছুটা রয়ে গেছে। তবে সরকারিভাবে মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া হলে এ দুই উপজেলাও তামাকের পরিবর্তে ভুট্টা বা অন্য ফসল আবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৪ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। যার মধ্যে ২২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমির আবাদ থেকে ২ লাখ ৩ হাজার ৮৯৯ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৮ দশমিক ৯০ টন ফলন পাওয়া যায়। আর প্রতি মণ ভুট্টা ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হলে কৃষকরাও বেশ লাভবান হন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয় ২৪ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে। এ থেকে ভুট্টা উৎপাদন হয় ২ লাখ ১৮ হাজার ২২৮ টন। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৮ দশমিক ৮৮ টন করে ফলন পান কৃষক। বর্তমান বাজারে এসব ভুট্টা প্রতি মণ ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকদের লাভ হচ্ছে উৎপাদন খরচের প্রায় দ্বিগুণ।

তাছাড়া তিস্তা বিধৌত হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জেগে ওঠা চরেও ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব চরের পতিত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে।

লালমনিরহাটের একসময়ের তামাকচাষী মজিবর রহমান জানান, তামাক চাষ ছেড়ে তিনি বর্তমানে ভুট্টা ছাড়াও সরিষা, গম ও বোরো ধান চাষ করেছেন। বিশেষ করে ভুট্টা চাষে তিনি তামাকের থেকে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করছেন। শুধু মজিবর রহমানই নন, এ অঞ্চলে তার মতো শত শত তামাকচাষী এখন ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। তুলনামূলকভাবে কম পরিশ্রমে ভুট্টায় তামাকের থেকে বেশি লাভই তাদের এ আগ্রহের মূল কারণ।

মজিবর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে এনসিসি ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ শুরু করি। ওই টাকা পরিশোধ করে আবারো ঋণ নিয়ে প্রায় ১২ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। তামাকের তুলনায় ভুট্টায় খরচ কম, লাভও বেশি। তাছাড়া তামাক চাষ ক্ষতিকর হওয়ার ভুট্টা চাষই শ্রেয়।

একই কথা জানান সদর উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার ভুট্টাচাষী ইয়াকুব আলী, মনছুর মিয়া ও আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদান করা হলে এ অঞ্চলে তামাক চাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব বলেন, এ উপজেলায় একসময় ব্যাপক তামাক চাষ করা হতো। বর্তমানে তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) বিধু ভূষণ রায় বলেন, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সফল, তা এখনো বলা যাবে না। কারণ লালমনিরহাট সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে আশাব্যঞ্জকভাবে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেও কালীগঞ্জের একটি অংশ ও আদিতমারীতে এখনো তামাক চাষ পুরোপুরি থামানো যায়নি। তবে আগের তুলনায় তা অনেকাংশেই কমেছে। সামনের বছরগুলোয় আশা করি তামাক চাষ আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত 

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ২ জুলাই : ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদী গুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা গুলোতে দুই দিন ধরে বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার পানিতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। রোববার সকাল থেকে আবারও নদী গুলোর পানি বাড়তে শুরু করে। হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে শনিবার দুইটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে রোববার দুপুরে বিপদ সীমার ৮ সেঃ মি ঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় দুই দিন ধরে বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুর্হুত্বে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি।

তিস্তা পাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। ওই উপজেলার দক্ষিন ধুবনী গ্রামে বাধেঁর ২ টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। বাঁধটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কারণেই বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে ফলে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি লোকজনের মাঝে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এখনো পানি বন্দি পরিবার গুলোর মাঝে কোন খাবার বা ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। প্রচন্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশি ভাগ গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা- দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর এলাকার ১০ গ্রামের ৫ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ধুবনীর শামসুল হক, শরীফ মোল্লা, আব্দুস ছালাম, আবুল কাশেম, নুরল হকসহ অনেক পানিবন্দি পরিবার অভিযোগ করেন, আমরা ২ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। এাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিস্তায় নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের লাশ উদ্ধার 

225

লালমনিরহাট, ২৮ জুন : লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় গরু পাচার প্রতিরোধ করতে গিয়ে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক সুমন হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

বুধবার সকাল ১০টায় তিস্তা নদীর ভারতীয় অংশ থেকে বিএসএফ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে।

বিজিবি’র ১৩ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে সুমন মিয়ার লাশ বিএসএফের তিস্তা সংলঘ্ন অরুণ ক্যাম্পে রয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজিবি।

ঈদের দিন রাতে সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে সুমন হাওলাদার নিখোঁজ হয়। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার সন্ধানে অভিযান অব্যহত রাখে উদ্ধারে বিজিবি ও বিএসএফয়ের সদস্যরা। রংপুর ও লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের আট সদস্যের ডুবুরী দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে তার নিখোঁজের খবর বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন স্ত্রী জেসমিন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। ১০ ভাই ৪ বোনের মধ্যে নিখোঁজ সুমন ১২তম।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ি লালমনিরহাটে 

xe877tm379qn93304

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ২৪ জুন : রংপুরের পীরগঞ্জে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বলে জানা গেছে। শনিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের বেশির ভাগের বাড়ি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বত্রিশ হাজারি গ্রামে। বেশির ভাগই ত্রিশোর্ধ্ব তরুণ-তরুণী। তাঁরা গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাদের অধিকাংশ গার্মেন্টস শ্রমিক। ঈদের ছুটিতে তারা বাড়ি যাচ্ছিলেন।

নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-রবিউল ইসলাম, নাসিদা আক্তার, আজিজুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দিন, আনিছুজ্জামান, সুর্পণা, কোহিনুর ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, মুনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও খলিল মিয়া। তারা বাসের টিকিটি না পেয়ে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিহতদের পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। আতœীয় স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকা গুলোর বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি ৫০ জনের মত যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে যাচ্ছিল। পীরগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। আহতদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক ৭ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৩০ এতিমের ভরসা প্রতিবন্ধী মাসুম 

00

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট, ১৯ জুন : ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট ভাইকে অকালে হারিয়ে বড়ই একা হয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে ও চাচ্চু ডাক শুনতেই প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ খুলেন একটি এতিমখানা। মাত্র ২ জন এতিম নিয়ে ২০১৩ সালে শুরু করা এ এতিমখানায় এখন এতিমের সংখ্যা ৩০ জন। এতিমদের লেখাপড়া, থাকা, খাওয়া, পোশাক পরিচ্ছেদ, চিকিৎসাসহ পুরো ভরন পোষনে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে মাসুম পারভেজ। অথচ তিনি নিজেও প্রতিবন্ধী, ক্রেসে ভর করে তার চলাচল। তবুও এতিমদের প্রতি তার ভালবাসার কোনো কমতি নেই। শত সমস্যার মাঝেও প্রতিদিন ওই সব শিশুদের সাথে ইফতার ও সেহরী খান তিনি। প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাট এলাকার সাবেক কমিশনার মোক্তার আলীর ছেলে।

মাসুম পারভেজ জানান, জন্মের ৬ মাস পরে পলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী জীবন শুরু হয় তার। ৪ ভাই বোনের মধ্যে তিনি মেঝ। একমাত্র ছোট ভাই মাসুদ রানা ব্লাড ক্যান্সরে আক্রান্ত হয়ে অকালে পরপারে পাড়ি জমান। ফলে একা হয়ে পড়েন তিনি। বিয়ে করে তিন সন্তানের জনক হলেও চাচা হওয়ার সৌভগ্য হয় নি তার। চাচ্চু ডাক শুনতে ২০১৩ সালে ডিসেম্বরে এতিম শিশুদের জন্য এতিমখানা তৈরী করেন তিনি। শিশুদের লেখা পড়ার জন্য রয়েছে মোক্তারটারী মাসুদ রানা হাফেজিয়া মাদরাসা। সকল শিশু তাকে চাচ্চু বলেই ডাকে। এ মাদরাসার শিক্ষক ও কেয়ারটেকারের বেতনসহ শিশুদের যাবতীয় খরচ মিটাতে তার প্রতি মাসে ৩০ হাজারেরও অধিক টাকা খরচ হয়।

খরচ মেটানোর বিষয়ে মাসুম পারভেজ জানান, পৈত্রিক বাসাবাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া ও সার ডিলারী ব্যাবসা আয়ে চলে তার সংসার। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে উত্তরা ব্যাংকের কাছে ঋনের জন্য ঘুরেও নিস্ফল হয়েছেন। তবুও অল্প পুজি দিয়েও চালিয়ে নিচ্ছেন সব কিছু। প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত হলেও এতিমখানা তৈরীর বিষয়ে  তিনি বলেন, ছোট ভাই বেঁচে থাকলে সংসারের অর্ধেকের মালিকানা পেত। আমি চাচ্চু ডাক শুনতাম। কিন্তু ভাই নেই তাই চাচ্চু ডাক শুনতে ও ভাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এতিমখানা তৈরী করি। এসব শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। কাজে ফাঁকে তাদের নিয়ে মাঝে মধ্যে গাড়ি করে বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে যাই। এতে তাদেরও যেন ভাল লাগে। আমারও ভাল লাগে। এসব শিশুকে প্রতিষ্ঠিত করে আজিবন চাচ্চু ডাক শুনাই তার লক্ষ্য বলে জানান তিনি। প্রতিবন্ধিরাই জানে সমাজে তাদের কতখানি কষ্ট। এটা অনুধাবন করে এখন প্রতিবন্ধি শিশুদের চিকিৎসা ও পুনবাসনের জন্য পৃথক ফান্ড তৈরী করেছেন। সেখান থেকে প্রতিবন্ধিদেরও সহায়তা করা হচ্ছে, যোগ করেন মাসুম।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিদের বোঝা না ভেবে তাদের সহায়তা করলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ ভাবে এতিম ও প্রতিবন্ধীদের ভরসা স্থলে পরিনত হয়েছেন প্রতিবন্ধী মাসুম পারভেজ। এতিম ও প্রতিবন্ধিদের সহায়তা করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর