২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:৩৭, শনিবার

আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরক, অভিযানে সময় লাগবে: মনিরুল

আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরক, অভিযানে সময় লাগবে: মনিরুল 

মৌলভীবাজার, ৩১ মার্চ : পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, বড়হাটের আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে। আর এর আশপাশে অনেক উঁচু ভবন রয়েছে। ফলে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হতে সময় লাগবে।’

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মৌলভীবাজার সদরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বড়হাট এলাকায় অভিযানস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় পরিচালিত অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। সোয়াত ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আজ শুক্রবার সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান শুরু করে সোয়াত। এরপর থেকে ওই এলাকায় থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে ভোর থেকে আবু শাহ (রহ.) দাখিল মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, জঙ্গি আস্তানার পার্শ্ববর্তী সিলেট-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার একটি দোতলা বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুরের একতলা একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকালে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় সোয়াতের`অপরাশেন হিটব্যাক’ শেষ হয়। এখানে ৭-৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নাসিরপুরে সোয়াটের চূড়ান্ত হানা, গুলি-বোমার শব্দ 

মৌলভীবাজার, ৩০ মার্চ : মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের বাগানবাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন হিট ব্য‍াকর শেষাংশে চূড়ান্ত হানা দিয়েছে সোয়াট। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে গুলি শুরু হয় বাড়িটিকে লক্ষ্য করে। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণ শোনা যায়। এর আগে, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের একটি গাড়ি।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, সোয়াট চূড়ান্ত অভিযান চালিয়ে আরও নিশ্চিত হবে যে ভেতরে কেউ নেই। প্রথম পর্বের অভিযানে বুধবার রাতে বাড়িটিকে ঝাঁজরা করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযানে প্রথম আক্রমণের পর কয়েকঘণ্টা অপেক্ষা করা হয়। ভেতরে কেউ বেঁচে রয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য। তবে ওই পর্বের অভিযানের পর বাগানবাড়িটি থেকে কারও সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টির কারণে সোয়াট টিম ফের অভিযান শুরু করতে পারছিল না। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি কমে এলে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়। ১১টা ৫৫ মিনিটে বাগানবাড়ি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

তার আগে বেলা পোনে ১২টায় বাগানবাড়িতে উপস্থিত হয় ক্রাইম সিন ইউনিটের গাড়ি। এরপর ১২টা ৫ মিনিটে এখানে আসেন সিআইডির কর্মকর্তারা। প্রায় ঘণ্টাখানেকের মাথায় বিকট শব্দে শোনা যায় বোমা বিস্ফোরণ। র‌্যাব ও বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল টিমও রয়েছে এলাকায়। সোয়াট টিমের চূড়ান্ত অভিযান শেষে পুলিশের কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বৃষ্টি : ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ স্থগিত 

36

মৌলভীবাজার, ৩০ মার্চ : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় পরিচালিত অভিযান ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ বৃষ্টির কারণে স্থগিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে সোয়াত টিমের সদস্যরা আবার অভিযান শুরু করবে।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোয়াত টিমের সদস্যরা  মৌলভীবাজার পৌঁছান। পরে তারা নাসিরপুরে অভিযান শুরু করেন। অভিযান চালানোর সময় গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। তবে রাত সাড়ে ৭টার পর থেকে আর কোনো গুলির শব্দ শোনা যায়নি। রাত ১০টার পর অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) রওশনুজ্জামান সিদ্দিক জানান, নাসিরপুরের অভিযান শেষ হলে বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু হবে।

এদিকে বুধবার বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট ও সংলগ্ন কুসুমবাগ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। একই সময়ে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভবন থেকে পূর্ব দিকে নাসিরপুর গ্রামসহ দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দুটি এলাকার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নাসিরপুরের পর বড়হাটে অভিযান, জঙ্গিরা ঘেরাও 

5

মৌলভীবাজার, ৩০ মার্চ : সদর উপজেলার ফতেহপুরের নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অপরেশন হিটব্যাক নামে অভিযান শেষ হলেই বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু হবে। অভিযান শুরুর আগে পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রেখেছেন পুলিশের বিশেষ ক্রাইম রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরা।

নাসিরপুর ও বড়হাটের জঙ্গি আস্তানা দুটির মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। উপজেলার ফতেপুরের নাসিরপুরের বাগানবাড়ির জঙ্গি আস্তানায় বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সোয়াট (স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিস) টিমের সদস্যদের অভিযান শুরু হয়। রাতে আলোকস্বল্পতার কারণে আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে।

সকাল থেকে আবার আস্তানাটিতে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) মো. রওশনুজ্জামান। অন্যদিকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই বড়হাটের জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করে রাখেন সিআরটির সদস্যরা।

আস্তানার ভেতরে থাকা জঙ্গিদের ব্যস্ত রাখতে তাদের লক্ষ্য করে অ্যাঙ্গেজ ফায়ার চালান সিআরটির সদস্যরা। সন্ধ্যার আগেই শক্তিশালী সার্চ লাইটের মাধ্যমে বড়হাটের জঙ্গি আস্তানার বাড়িটির চারপাশ আলোকিত করে রাখা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানায় গ্রেনেড বিস্ফোরণ, গোলাগুলি 

887

মৌলভীবাজার, ২৯ মার্চ : মৌলভীবাজারের পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় দুই আস্তানা থেকেই জঙ্গিরা পর পর কয়েকটি গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পৌরসভার বড়হাট এলাকার দ্বিতল বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার একতলার বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা বাহিনী।

সূত্র জানায়, এই দুই বাড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। বাড়ি দুটি লন্ডন প্রবাসী সাইফুল ইসলামের। দুটো বাড়িই ভাড়া দেয়া। কোনোটিতে মালিকপক্ষের কেউ থাকেন না।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল জানান, ওই দুই জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার চার ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টায় বাহাদুরপুর গ্রামের একতলা বাড়ি থেকে জঙ্গিরা র‌্যাব-পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশ ও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

এদিকে পৌরসভার বড়হাটে দ্বিতল বাড়ি থেকেও জঙ্গিরা তিনটা গ্রেনেড ছোঁড়ে। এরমধ্যে দুইটির বিস্ফোরণ হয়। জবাবে পুলিশও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, দুটি আস্তানা কড়া নিরাপত্তায় ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। ভোর রাত থেকে কৌশলে এলাকাবাসীকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মৌলভীবাজারে ২টি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ 

397

মৌলভীবাজার, ২৯ মার্চ : মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুইটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বাড়ি দুইটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ভোররাতের দিকে অভিযান শুরু করলে জঙ্গিরা গুলি করতে থাকে। তারা একের পর এক গ্রেনেড ছুড়ছে বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজারে বড়হাট ও  সরকারবাজার ফতেহপুর এলাকায় দুইটি বাড়ি ঘিরে রখেছে র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাজালাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিজিবির সাথে সংঘর্ষ : শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকে ধর্মঘট চলছে 

মৌলভীবাজার, ৭ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবি সদস্যদের নির্বিচারে গুলি, হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকে পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলায় আজ শনিবার নজিরবিহীন ধর্মঘট চলছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ জনসাধারণসহ বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ী নেতাদের ডাকে অনিদিষ্টকালের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা গতকাল শুক্রবার রাতে স্থগিত করা হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তারা সেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের ক্ষতিপূরণ দেয়ার এবং দোষী বিজিবি সদস্যদের শ্রীমঙ্গল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আগামী শনিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয় তাদের ধর্মঘট।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ মো: লুৎফুর রহমান জানান, দিনব্যাপী স্থানীয় এমপিসহ জনপ্রতিনিধিদের ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মিটিং করেছেন। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও একজন কর্নেলের নেতৃত্বে দফায় দফায় মিটিং করেন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) রেস্ট হাউজে। এসময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, বিজিবি কর্মকর্তারা সেই অনাকাক্সিক্ষ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের ক্ষতিপূরণ দেয়ার এবং দোষী বিজিবি সদস্যদের শ্রীমঙ্গল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা শুক্রবার রাতে সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরী সভার ডাক দেই। সেই সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী শনিবার পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। যদি ব্যবসায়ীদের ইজ্জত ফিরিয়ে দেওয়া না হয় তাহলে আমরা আবার আমাদের ধর্মঘটে চলে যাব।

অপরদিকে শহরের চৌমুহনা চত্বরে ট্রাক মালিক সমিতির ডাকে প্রতিবাদ সভা করছেন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা। তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ট বিচার দাবী করছেন। পাশাপাশি ভাংচুর করা গাড়ির ক্ষতিপূরণও দাবি করছেন।

অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ গতকাল শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ করে বলেছেন, আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে ক্ষমিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে ৮ জানুয়ারির পর থেকে পুরো সিলেট বিভাগে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।

শহর ও শহরের আশপাশ সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরিবহন শ্রমিকরা বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান করে ধর্মঘট পালন করছেন এবং ধর্মঘটের পক্ষে খন্ড খন্ড মিছিল করছেন। ধর্মঘট পালন করায় শহরে ছোট-বড় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু সড়কে রিকশা চলাচলও বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শহরের অর্ধেক দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতা না থাকায় অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ সড়কে ছকিনা সিএনজি স্টেশনের সামনে শ্রীমঙ্গল স্ট্যান্ডের একটি হাই-লাক্স গাড়িকে ওভারটেক করা নিয়ে ড্রাইভারের সাথে বাকবিতন্ডা হয় বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যের। শ্রীমঙ্গল স্ট্যান্ডের গাড়িটি শহরের ভানুগাছ সড়কের পানসি রেস্টুরেন্টের সামনে এসে দাঁড় করিয়ে রাখলে ড্রাইভারকে মারধর করেন বিজিবির সদস্যরা। পাশেই ট্রাক ও কার-লাইটেস স্ট্যান্ড থাকায় ড্রাইভাররা জড়ো হয়ে বিজিবির সদস্যদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিজিবির উপর হামলা চালালে আহত হন দুই বিজিবি সদস্য। পরে বিজিবির সদস্যরা ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনাটি বললে এক সাথে শতাধিক বিজিবি সদস্য অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে স্ট্যান্ডে এসে এলোপাতাড়িভাবে শতাধিক কার-লাইটেস ও ট্রাক ভাংচুর করে ড্রাইভারদের উপর আক্রমন করে। এসময় যে যেভাবে পারে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা গুলি করলে শিশুসহ অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন অর্ধশত লোক। পরে তারা ভানুগাছ রোডের পানসি রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন রেস্টুরেন্টের আসবাবপত্র ও ডেকোরেশন। সেখান থেকে স্টেশন রোড হয়ে হবিগঞ্জ রোড ও পরে কলেজ রোডে পথচারীদের লাঠিচার্জ করে ভাংচুর করে থানা জামে মসজিদ মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানপাট। বিজিবি জোয়ানদের লাটিচার্জ থেকে রেহাই পাননি দোকানে বসে থাকা ব্যবসায়ী ও মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বের হওয়া মুসল্লিরাও।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শ্রীমঙ্গলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে 

মৌলভীবাজার, ৬ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সমিতির ডাকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা শতশত পর্যটক।

আজ শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

এদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সঞ্জিত কুমার দেব ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান ধর্মঘট পালনের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, পরিবহন শ্রমিকদের উপর হামলার বিচার এবং বেপোরোয়াভাবে গাড়ী ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরে ক্ষতি পূরনের দাবীতে শ্রীমঙ্গল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সমিতি এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

আজ সকাল থেকে শ্রীমঙ্গলে স্থানীয় পরিবহন বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। এছাড়া শহরের প্রায় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যদিও ছুটির দিন এবং ঘন কুয়াশার জন্য রাস্তায় সাধারন মানুষ কম রয়েছেন। তবে শ্রীমঙ্গল পর্যটন এলাকা হওয়ায় পর্যটক ও সাধারন মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদ জানান, এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক আহমদকে প্রধান করে ৪ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের বিষয়টি বিবেচনা করে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ৫ টার দিকে পানসী রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিজিবি কর্মকর্তা ও এক গাড়ি চালকের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে মারধর হয়। এ খবর বিজিবি ৯ সেক্টরের সদরদপ্তরে পৌছালে বর্ডার গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক,সাধারণ মানুষদের মারধর ও গুলিবর্ষন এবং দোকানপাট ও গাড়ি ভাংচুর করে। পরে শ্রমিকরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বড়লেখায় ট্রাক উল্টে খাদে, নিহত ২ 

মৌলভীবাজার, ৩ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন তিন শ্রমিক।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়লেখা-কুলাউড়া সিঅ্যান্ডবি সড়কের ভুয়াইবাজার নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নিহত ট্রাক চালক সাজিদ (৩১) জুড়ী উপজেলার মনতৈল গ্রামের মৃত বারিক মিয়ার ছেলে ও শ্রমিক হারুন মিয়া (৩৩) একই গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুলাউড়া-বড়লেখা সিঅ্যান্ডবি সড়কের ভুয়াইবাজার নামক স্থানে ওই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালকসহ দুইজন নিহত হন ও আহত হয়েছেন তিন শ্রমিক। জুড়ী থানা পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, আহতদের একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বড়লেখার এনসিএম স্কুলের প্রধান শিক্ষকের যোগদান 

gaibandha_map_5611

সালিকুর রহমান, বড়লেখা(মৌলভীবাজার), ১৯ অক্টোবর : অবশেষে দীর্গ প্রায় ৭ বছর পর দক্ষিনভাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ মঙ্গলবার বিকেলে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ঝুলে থাকা শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হওয়ায় অভিভাবক মহল, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর পুর্বে উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম মামুনুর রশীদের আমেরিকা গমনে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। নিজে প্রধান শিক্ষক হতে না পারায় স্কুলকে মামলা মোকদ্দমাসহ নানা জটিলতায় জড়িয়ে প্রায় ৭ বছর প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকটি সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখেন। এতে স্কুলের পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষক পদে অংশ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলাম নির্বাচিত হননি। নিয়োগ বোর্ড এ পদে জুড়ী উপজেলার হাজী ইনজাদ আলী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদকে নির্বাচিত করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আশুক আহমদের নিয়োগ টেকাতে নানা জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠে। এর জেরে ২৮ সেপ্টেম্বর শাহীদুল হামলার শিকার হন। গত ৬ ও ১৬ অক্টোবর তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক আশুক আহমদসহ নিয়োগবোর্ড ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট ও মৌলভীবাজার জেলা জজ (বড়লেখা) আদালতে পৃথক মামলা করেন। নব নিয়োগপ্রাপ্ত আশুক আহমদের পুর্ববর্তী কর্মস্থল হাজী ইনজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে অব্যাহতি প্রদান না করতেও অপচেষ্টা চালানো হয়। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আশুক আহমদ মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণভাগ এনসিএম স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মুকিত লুলু বুধবার বিকেলে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামের মামলা মোকদ্দমা নিয়োগের প্রতিবন্ধকতার কারন হয়নি। বিধিমোতাবেক নব নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদের যোগদানপত্র গ্রহন করে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

শাহীদুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৫ ঘন্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু 

train

মৌলভীবাজার, ২৬ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেটের রেল চলাচল শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার হাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৯টার দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন লাইনচ্যুত ইঞ্জিন উদ্ধার করার পর রেল যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়।

তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি মালবাহী ট্রেনকে পেছন থেকে একটি ইঞ্জিন ধাক্কা দিয়ে উপরে তুলে দিতে গিয়ে ওই ইঞ্জিনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। ফলে ভোররাত ৪টার পর ওই পথে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনারর পর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং শমসেরনগর স্টেশনে কালনি এক্সপ্রেস আটকা পড়েছিল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘আইন ও সংবিধান পরিপন্থী কোন কাজ করতে দেব না‘ 

6333

মৌলভীবাজার, ২২ জানুয়ারি : অবসরের পর বিচারকদের রায় লেখাকে আবারও আইন ও সংবিধান পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।

বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতি আয়োজিত নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন বিচারক যখন অবসর নেন তখন আপনি (সাধারণ নাগরিক) আর আমি (বিচারক) সমান হয়ে যাই। কিন্তু আইন রক্ষা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কারো নেই।

সিভিল প্রশাসনের কেউ অবসরে যাওয়ার পর আর বাকি কোন কাজ করার সুযোগ থাকে না। তারাতো কোন শপথ নেন না। আর বিচারপতিরা আরো উপরে। আইন সংবিধান রক্ষা করার জন্য শপথ নেন। তাই রিটায়ার করার পর বিচারকের রায় লেখার কোন অধিকার নেই ? আমরা অনেক কিছু জানিনা। আমাদের সংশোধিত হতে হবে। এখানে গণতন্ত্র চলছে। সংবিধান সচল আছে। আমি প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় আইন এবং সংবিধান পরিপন্থী কোন কাজ করতে দিব না।

গত মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পুর্তি উপলক্ষে দেয়া বাণীতে অবসরের পর রায় লেখাকে আইন ও সংবিধান পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তার এ বক্তব্যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনপেশা একটি মহান পেশা। কিন্তু এখন প্রত্যেকটি বার পলিটিক্যাল প্লাটফরম হয়ে গেছে। এখন অনেকেই আমার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে নানা ফন্দি ফিকির বের করছে।

কোন কোন বিচারক বলছেন রিটায়ার্ডের পর আমাকে রায় লিখতে না দেয়া হলে আগের অনুরুপ লিখা রায়গুলো বাতিল করতে হবে। বিচারপতি এস কে সিনহা এসময় আরও বলেন, রিটায়ার্ডের পর কোন বিচারপতিকে পাবলিক ডকুমেন্টে হাত দিতে দেয়া হবে না। আমাদের এখানে একটি ভুল নীতি চলে আসছে। বিচারকরা রিটায়ার করার পর রায় লিখেন। পৃথিবীর কোনো দেশে এই নিয়ম নেই। আমাদের দেশ একটি আজব দেশ রিটায়ার্ডের পর বিচারক রায় লিখেন ব্যাক্তিগত তার কি ইন্টারেস্টে ?

মৌলভীবাজার পৌর জনমিলন কেন্দ্রে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির এর সভাপতিত্বে এই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ মো: শফিকুল ইসলাম, নারি ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মোতাহির আলী, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, চিফ জ্যুাডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কিউ এম নাসির উদ্দিন,পুলিশ সুপার মো: শাহজালাল, আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান,এডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, এডভোকেট বিশ্বজিত ঘোষ প্রমূখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভারতের কাছ থেকে ১৯৪ একর জমি পেল বাংলাদেশ 

20151029031428

মৌলভীবাজার, ১৩ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী ও পাল্লাতল সীমান্তে বিরোধপূর্ণ ও অপদখলীয় ১৯৪ একর জমির মালিকানা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে। এখন সেখানে নতুন করে সীমান্ত খুঁটি স্থাপন হবে। আর পাল্লাতলে সীমন্ত খুঁটি স্থাপনের স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে। সেখানে অপদখলে থাকা অংশ থেকে প্রায় ৭৪ একর জমি বাংলাদেশ পেয়েছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপ দল সম্প্রতি লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী সীমান্তে সীমানা চিহ্নিতকরণ ও সীমান্তখুঁটি স্থাপনের স্থান নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করে।

ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী সীমান্তের ১৩৯৭ নম্বর প্রধান খুঁটি থেকে ১৪০০ নম্বর প্রধান খুঁটির ১ নম্বর আর আই (ভারত অংশের খুঁটি) ও ২ নম্বর আর বি (বাংলাদেশ অংশের খুঁটি) খুঁটির মধ্যবর্তী এলাকায় কোনো সীমান্তখুঁটি নেই। সেখানকার প্রায় ১২০ একর জায়গার মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জায়গাটি বাংলাদেশের দখলে রয়েছে। লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী গ্রামে ৭০টি পরিবার বসবাস করে। ওই সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপ দল বিরোধপূর্ণ জায়গাটি জরিপ করে। জরিপকাজ শেষে যৌথ জরিপ দল নির্দেশক মানচিত্রে (ইনডেক্স ম্যাপ) স্বাক্ষর করে। এরপর সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়, সীমান্তখুঁটি না থাকায় লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী (আসাম), পশ্চিমবঙ্গের দইখাটা ৫৬ ও ত্রিপুরার মুহুরি নদী-বিলোনিয়া সীমান্তে সীমানা চিহ্নিত করার কথা বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ীতে সীমানা চিহ্নিত করে সীমান্তখুঁটি স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল সীমান্তখুঁটি স্থাপনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি দেন ।

সীমানা চিহ্নিত করার দায়িত্বে থাকা চার্জ অফিসার ও ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তরের কানুনগো আবদুল হক গতকাল বিকালে মোবাইলফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী সীমান্তে সীমানা চিহ্নিত করার পর বাংলাদেশ ১২০ একর জমি পেয়েছে। লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী গ্রামটি ওই জমির ভেতরেই পড়েছে। নতুন সীমানায় সীমান্তখুঁটি স্থাপনে স্থান নির্ধারণের কাজও সম্পন্ন হয়ে গেছে। সেখানে বাংলাদেশ অংশে ১৪টি সীমান্তখুঁটি স্থাপন করা হবে। এখন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব খুঁটি স্থাপন করা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পাশের বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল সীমান্তে ৩৬০ একর জায়গা বাংলাদেশের অপদখলে ছিল। যৌথ জরিপে ওই সীমান্তের ১৩৭০ নম্বর প্রধান সীমান্তখুঁটির ৩ নম্বর উপখুঁটি থেকে ১৩৭১ নম্বর প্রধান সীমান্তখুঁটির ৬ নম্বর উপখুঁটির ভেতরে ৫৮ দশমিক ৪৪ একর এবং ১৩৭২ নম্বর প্রধান সীমান্তখুঁটি থেকে ১৩৭৩ নম্বর প্রধান সীমান্তখুঁটির ২ নম্বর উপখুঁটির ভেতরে ১৫ দশমিক ৬৫ একর জমি বাংলাদেশ পেয়েছে। সেখানে নতুন সীমান্তখুঁটি স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপ দল কাজ করছে।

গতকাল বিকেলে এই প্রতিবেদক লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী গ্রামে গেলে সেখানকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘৪০-৫০ বছর ধরে এ গ্রামে থাকি। জায়গাটা নিয়া দুই দেশর মধ্যে কয়েকবার যুদ্ধ হইছে। এর মধ্যেও জায়গা ছেড়ে আমরা অন্য কোনো জায়গায় যাইনি। জায়গাটার মালিকানা বাংলাদেশ না ইন্ডিয়া পাইব—এই চিন্তাতেই এত বছর কাটছে। দীর্ঘদিনের বড় একটা সমস্যার ফয়সালা হয়ে গেল। জায়গাটা পাওয়ায় গ্রামের সবাই খুশি। তার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, লাঠিটিলা-ডোমাবাড়ী সীমান্তে সীমান্তখুঁটি স্থাপনে বাজেট বরাদ্দের চিঠিটি তাঁর নজরে পড়েনি। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। -প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ 

1451890788

মৌলভীবাজার, ৪ জানুয়ারি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শরীফপুর সীমান্ত থেকে হিরা মিয়া (৬০) নামে এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া কাটার অভিযোগে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়।

আটক হিরা মিয়া মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসেরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরজান মিয়ার ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাসির উদ্দিন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের বরাত দিয়ে তিনি জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শরীফপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটছিল হিরা মিয়া। এ সময় তাকে বিএসএফ সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়।

আজ সোমবার সকালে তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উনকুটির কৈলাশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হিরাকে ফেরত আনতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে মৌলভীবাজার বিএনপি 

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে মৌলভীবাজার বিএনপি

সিলেট, ২৯ ডিসেম্বর : মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মী সমথর্কদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানীর প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেছেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

আজ দুপুরে পেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ বিএনপির বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে মারমুখি অবস্থান নিয়েছে। দুই দিনে ছাত্রদল ও যুবদলের মারুফ আহমদ, নুরুল আমীন নোমান সৈয়দ ফয়ছল আহমদ, কয়েছ আহমদ, সাহেদ মিয়া, রেজু মিয়া, আব্দুস সালাম, ময়নুল বকস, সিপার আহমদ ও রেজাউলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। ভোট কারচুপির আশংকা ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দ বলেন, পৌর এলাকার ১৪টি ভোট কেন্দ্রই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। নিরীহ ভোটারদের ভোট শান্তিপূর্ন ভাবে প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে প্রশাসনকে। নইলে এ নির্বাচন সুষ্টু হবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান। উপস্থিত ছিলেন মেয়র পদ প্রার্থী অলিউর রহমানসহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদা রাব্বানী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম এ মুকিত, উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, এড: মুজিবুর রহমান মুজিব, কানাডা বিএনপির সভাপতি ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর