২৪ এপ্রিল ২০১৭
ভোর ৫:৪১, সোমবার

হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা নেই

হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা নেই 

33

সুনামগঞ্জ, ২৩ এপ্রিল : সুনামগঞ্জের হাওরের পানিতে প্রাথমিকভাবে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং স্বাভাবিকভাবে যে ধরনের তেজস্ক্রিয়া পরিবেশে থাকে তার চেয়েও অনেক কম রয়েছে।

রবিবার সকালে সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের পানি পরীক্ষা শেষে এ তথ্য দিয়েছেন আনবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. দীলিপ কুমার সাহা।

সুনামগঞ্জের হাওরে মাছ এবং জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে শনিবার রাতে সুনামগঞ্জে পৌঁছায় আনবিক শক্তি কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনবিক শক্তি কমিশনের সদস্য ড. দীলিপ কুমার সাহা। অন্যান্য দুই সদস্য হলেন- ড. বিলকিস আরা বেগম এবং কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীস পাল।

প্রতিনিধি দলটি সকালে কাজ শুরু করেন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে। পানিতে নেমে দীর্ঘক্ষণ তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করেন তারা।

পরে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দিলীপ কুমার সাহা এ প্রতিবেদককে জানান, দেখার হাওরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পাননি তারা।

তিনি বলেন, পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে ০.২০ মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা থাকে। সেক্ষেত্রে হাওরে রয়েছে ০.১০,  যা প্রায় অর্ধেক।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, শনিবার ৭ সদস্যের একটি দল ৫টি হাওর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পৌঁছেছে। এই নমুনা রোববার পরীক্ষাগারে বিষদভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে মাছ এবং জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার কারণটা কি এবং এতে তেজষ্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব আছে কি না?

তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রানী মারা যায় না। এ ছাড়া মানুষের মধ্যেও যে প্রভাব দেখা দেবে বিশেষ করে মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব এরকম কোনো তথ্যই তারা হাওর অঞ্চল থেকে এখনও পাননি। পরে প্রতিনিধিদল আরও কয়েকটি হাওর পরিদর্শন করেন বলে জানান ড. দিলীপ কুমার সাহা। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুরে পৌছি : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ 

00

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২১ এপ্রিল : ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ ৫নং সেক্টরের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী ৪নং সাব-সেক্টরের-মুক্তিযুদ্ধেও অন্যতম সংগঠক ও বীরমুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহনের জন্য  কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা হাওর জনপদ মিঠামইন থেকে কখনো পায়ে হেঁটে, আবার কখানো নদী -হাওর পাড়ি দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রতিবেশী হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জ ছুঁটে এসেছিলেন।

সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার অধিকাংশ একফসলী বোরো আবাদকৃত ফসলী জমির ৯০ ভাগ ফসল বিনষ্ট হওয়ায়  তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এসে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ১৭ এপ্রিল সোমবার রাতে সুধী সমাবেশে তৎকালীন এক কৃষকের দেশ প্রেমিক বীর সন্তান বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বক্তব্যে বার বার উঠে আসে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সময়কার সহযোদ্ধাগণের স্মরণ ও স্মৃতিকথা ।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জে এসেছি কারো কথায় নয়, আমি নিজে থেকেই এসেছি, হৃদয়ের টানে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি এ জেলায় থেকে যুদ্ধ করেছি। সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছি। সে জন্য এখানে আজ এসেছি। তবে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সময় এসেছি। আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি। ’৭১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে আমি সুনামগঞ্জে আসি। সেই থেকে সুনামগঞ্জের মানুষের সাথে আমার আত্বার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । ‘আমি যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জে এসে একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুর উপজেলায় পৌঁছি।, তখন দেখা হয় আব্দুজ জহুর সাহেবের সাথে। সেদিন তিনি শুঁটকি ভর্তা দিয়ে আমার ভাত খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমিও ক্ষুধার্ত থাকায় সেদিন প্রায় দেড় সের চালের ভাত খেয়েছিলাম।’

রাষ্ট্রপতি উনার আমার সাথের যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন ও সংগঠকের ভুমিকা পালন করেছিলেন আজ তাঁরা কেউ নেই!। ক’দিন আগে বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এর আগে দেওয়ান ওবায়দুর রাজা, আব্দুজ জহুর, আব্দুস সামাদ আজাদ, হোসেন বখত, জগৎজ্যোতি সহ আরও অনেকেই চলে গেছেন।’ যাঁরা চলে গেছেন, তাঁরা সবাই বার বার চেষ্টা করেছেন আমাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসতে। কিন্তু ওই সময় আমি আসতে পারিনি। কারন সারা জীবন আমি রাজনীতি করলেও আমার স্থান হলো অরাজনৈতিক জায়গায়। আমার স্থান নিরপেক্ষ স্থানে। এখন আমি মহানিরপেক্ষ স্থানে আছি। যার কারনে আমি যখন যেখানে যেতে চাই, যেতে পারবো না।  কিন্তু আজ আমি একজন কৃষককের সন্তান হিসাবে কৃষি প্রধান এলাকায় যেখানে আমার শৈশব কিশোর কেটেছে যে হাওরাঞ্চলের থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই হাওর বাসীর পাশে সাহস ও সমবেদনা জানাতে নিজেকে চার দেয়ালের ভেতর আটকে রাখতে না পেরে আমি আত্বার টানে নিজ থেকেই সুনামগঞ্জ ছুঁটে এসেছি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জয়া সেনগুপ্তের শপথ গ্রহণ 

e3uoyoz1-copy

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল : সুনামগঞ্জ -২ আসনে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়া সেনগুপ্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

এসময় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক প্রমুখ। এছাড়া শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব আবদুর রব হাওলাদার।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনটি শূন্য হয়। ওই আসনে গত ৩০ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই উপ-নির্বাচনে জয়ী হন তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাওরে ফসলহানি: সুনামগঞ্জে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রত্যাহার 

dkwl0fea-copy

সুনামগঞ্জ, ১৫ এপ্রিল : পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে প্রত্যাহার করে পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যাহারের বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মো. আফসার উদ্দিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কাগজপত্র পাইনি।’

আফসার উদ্দিন ও স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে হাওরের ফসলরক্ষায় ২৮টি বাঁধ নির্মাণের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের কমিটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৪০টি হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার দুই লাখ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল হারিয়ে আহাজারি করছে তারা। জেলায় এবার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৯ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। কৃষকদের দাবি, জেলা ৯০ শতাংশ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষি অফিস বলছে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ একর।

সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পাউবো হাওরের এই ফসলরক্ষায় ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করছে। এর মধ্যে ৪৮ কোটি টাকায় ৭৬টি বাঁধের কাজ করছেন ঠিকাদারেরা। বাকি ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ হচ্ছে স্থানীয়ভাবে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে না হওয়া এবং কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই হাওরে অসময়ে এই ফসলহানি ঘটেছে।

হাওরে ফসলহানির ঘটনায় গত ১৫ দিন থেকে সুনামগঞ্জে কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকজন আন্দোলন করছেন। ফসলহারা কৃষকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবার সুনামগঞ্জে কোনো উৎসব হয়নি। তার বদলে হয়েছে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাঁদের দাবি, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিময়-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির পাশাপাশি ফসলহারা কৃষকদের বাঁচাতে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক। এই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও ও কৃষক-জনতার সমাবেশ হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৭ এপ্রিল : টাঙ্গুয়ার হাওরে ট্রলার ডুবির পাঁচ দিন পর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের নিখোঁজ ব্যবসায়ী হযরত আলীর লাশ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মরম আলীর ছেলে। এ নিয়ে ওই ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার জনের লাশই উদ্ধার করা হল।

হাওরেরর উদ্ধার স্থলে থাকা তাহিরপুর থানা পুলিশের এসআই (উপ-পরিদর্শক) তপন কুমার দাস বলেন, উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের হাতিরঘাটা নামক জলমহাল থেকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ভাসমান অবস্থায় হযরত আলীর লাশ ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার করেন। অপরদিকে হাতিরঘাটা থেকেই উপজেলার লাকমা গ্রামের নুরুল ইসলামের ব্যবসায়ী ছেলে জাকির হোসেনের লাশ ও বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার শিববাড়ির মেলায় মিষ্টির দোকান নিয়ে যাবার পথে টাঙ্গুয়ার হাওর ট্রলারে পাড়ি দেয়ার সময় সোমবার রাতে ট্রালারে থাকা ব্যববসায়ী, নারী শিশুসহ ৮ জন নিয়ে পানিতে ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা অন্যারা সাতরিয়ে তীরে উঠলেও এক শিশু সহ অপর তিন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। ঘটনার তিন দিনের মাথায় বুধবার উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের বীরেন্দ্রনগর বাগলী গ্রামের মৃত আবদুর রশীদের ছেলে ফজল মিয়া ও তার আড়াই বছরের শিশু সন্তান জুবায়ের লাশ হাওর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খাঁন জানান, হাওরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ব্যবসায়ী হযরত আলীর লাশ উদ্ধার করার মধ্য দিয়ে একে একে নিখোঁজ চার জনের লাশই উদ্ধার করা হয়েছে, ইতিপুর্বে উদ্ধারকৃত লাশ গুলো শনাক্ত করণের পর তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে, হযরত আলীর লাশও তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের ট্রলার ডুবিতে নিহতের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদেও সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল আহাদ রুমান, সদস্য সচিব সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ, আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য সঞ্জিব তালুকদার টিটু, সদস্য ও বিশিষ্ট কয়লা আমদানিকারক মুজিবুর রহমান তালুকদার ও খালেক মোশারফ, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, গোলাম সারোয়ার লিটন, আকবর হোসেন, এমএ রাজ্জাক, সাজ্জাদ হোসেন শাহ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ধরমপাশায় সরকারি ১৯০ বস্তা চাল জব্দ 

সুনামগঞ্জ, ৬ এপ্রিল : সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলা সদরের মধ্যবাজারে এক ব্যবসায়ীর দুটি দোকান ও একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৯ হাজার কেজি সরকারি চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার রাতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, ধরমপাশা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার সময় মধ্যবাজারের আনোয়ার হোসেনের চালের দোকান ও গুদামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খন্দকার পুলিশ নিয়ে অভিযান চালান। তিনি সেখানে থাকা ৫০ কেজি ওজনের ১৯০টি বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য লেখা ও বারহাট্টা খাদ্যগুদামের সিল দেখতে যান। পরে তা যাচাই করার জন্য তিনি ধরমপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) গোলাম কিবরিয়াকে সেখানে ডাকেন।

একপর্যায়ে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ঘটনাস্থলে এসে চালের বস্তাগুলো সরকারি বলে নিশ্চিত করলে ইউএনও তা জব্দ করেন আনোয়ার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়মিত মামলা করার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে গতকাল ধরমপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বৃষ্টির পানিতেই তলিয়ে গেল মাটিয়াইন হাওরের ৪০ কোটি টাকার ধান 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৫ এপ্রিল : প্রাণ পণ চেষ্টাতেও শেষ রক্ষা হয়নি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মাটিয়াইন হাওরের বোরো ফসলী ৩২’শ হেক্টর আয়তনের সবুজ ধানী হাওরটির। রাতেও হাওরের শতাধিক গ্রামের দশ হাজার কৃষকের আশা ছিল মঙ্গলবার আকাশে রোদ দেখা দিলে হয়ত আবাদকৃত ধান গোলায় তুলা যাবে কিন্তু সব আশষাই যেন গুড়ে বালি হয়ে গেল । উপজেলার মাটিয়াইন হাওরের ৩২’শ হেক্টর আবাদকৃত সবুজ কাঁচা ধান মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুঁটার সাথে সাথেই ডুবতে থাকল। আশে পাশের কান্দায় লাগানো বোরো ধান সহ প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে গেল মঙ্গলবার সকালে।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাটিয়াইন হাওরের কাউকান্দি ও বড়দল গ্রামের মধ্যবর্তী আলমখালী ও বড়দল গ্রামের পাঁচ নাইল্ল্রা এ দুটি বেরীবাঁধ উপচে কেন্দ্রয়ার নদীর পানি প্রবেশ করতে থাকে হাওরেন সকাল থেকেই। দুপুর ২ টা নাগাদ পুরো ৩২’শ হেক্টর আয়তনের বিশাল হাওরে কাঁচা সবুজ ধানের ওপর দিয়ে হাওরের অথৈ পানি ঢেউ খেলছে আর এসব ঢেউয়ের আঘাত লাগছে দরিদ্র কৃষকদের বুকে।

মাটিয়াইন হাওর পাড়ের কৃষক কাউকান্দি গ্রামের কৃষক শামসুল হক মঙ্গলবার  তার প্রতিকিয়া জানাতে গিয়ে বললেন, শতাধিক গ্রামের কৃষক গত ৬ থেকে ৭দিন ধরে নিজের যা সম্বল ছিল তা দিয়ে হাওরের বাঁধ রক্ষা করতে দিনরাত মাটি, বস্তা খটি দিয়ে গেছি। তিনি আরো বলেন মাটিয়াইন হাওরকে ঘিওে এই এক ফসলী বোরো ধানের উপর আমার মত উপজেলার ৫ ইউনিযনের ১০ হাজার কৃষকদের একমাত্র  অবলম্বন কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেই অবলম্বন টুকু কেড়ে নিল অনাকানিভত বৃষ্টির পানি।

উপজেলার বড়দল গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, ভাই এই হাওরের ফসল দিয়া আমাদের সারা বছরের( এক বছর) খোরাকি (খাওয়ান) চলে এরপর বাড়তি ধান বেইচ্ছা (বিক্রি) করে  বাড়ির ছেলে মেয়ের বিয়া সাদি, দুইড্যা ঈদ করি , বাড়ির ঘর ঠিক করি , কাপড় ছোপড় কিনি কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার আর পিআইসির লোকদেও কারনে আজ ঘওে ঘওে আহাজারি ও কান্নার রোল পড়ছে আল্লাহ এদের বিচার করবাইন আইন তো করবে না জানি।

উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের ৯০ বছর বয়সী হাজেরা বেগম বলেন ,ও বাবা কিতা কইতাম রে চোখের সামনে সকালে নু পানিতে সাদা হইল  মাটিয়াইন হাওর ,সোমবারেও নো সারা দিন দেখছি আস্থা (পুরো) হাওর জুইড়া কওচ্চ্যা (সবজু) ধানের গোছা, হায়রে আল্লাহ! তুমি আমরারে বাচাঁও ,যারা বান্দের টেখা (টাকা) মাইরা খাইছে ( বেরীবাঁধের) তারার বিচার কর ! এ কথা বলে  মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামের কৃষকদের বাড়ি বাড়ি হেঁটে বিলাপ করছিলেন ওই বয়োবৃদ্ধা মহিলা।

উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজহার আলী বলেন মাটিয়াইন হাওরের নির্ধারিত বেষ্টনি ছাড়াও হাওরের আশে পাশের কান্দায় আরো প্রায় ৮ থেকে ৯’শ হেক্টর জমিতে এ মৌসুমে অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা বোরো আবাদ করেছিলেন কিন্তু সব কিছুই তো মঙ্গলবার সকালে শেষ হয়ে গেলে এখন শুধু হাওরপাড়ের দশ হাজার কৃষককের ঘরে ঘরে আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছেনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক মঙ্গলবার  মাটিয়াইন হাওর ডুবির ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, মাঠিয়াইন হাওরে প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয় চলতি মৌসুমে, এ হাওর তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের প্রায় ৩২ কোটি টাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরকারি হিাবে ৩২ কোটি ফসল হানি হলেও এর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাএব বলে স্থানীয় কৃষকরা নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুনামগঞ্জে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে 

88

সুনামগঞ্জ, ৩০ মার্চ : সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সুনামগঞ্জে রাত থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম। এজন্য উপস্থিতি বাড়াতে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

এদিকে, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর ২ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী ড. জয়া সেনগুপ্ত। আর সিংহ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ছাহেদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু।

দিরাই-শাল্লা আসনের মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১৩ জন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সপ্তগঙ্গার তীরে সুনামগঞ্জে লাখো ভক্তদের মিলনমেলা শনিবার শুরু 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২৪ মার্চ : ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্তঘেষা জাদুকাঁটা নদীর সপ্তগঙ্গার তীরে সুনামগঞ্জে দু’আধ্যাত্বিক মহা সাধকের লাখো লাখো ভক্তের তিনদিন ব্যাপী মিলনমেলা শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে।

জানা গেছে, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)এর ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)এর তাহিরপুরের লাউড়েরগড় সীমান্তের আস্থানায় প্রতি বছরের ন্যায় ১১ চৈত্র ১৪২৩ বাংলা, ২৫ মার্চ ২০১৭ বাদ আছর ওলি আউলিয়াদের জীবন দর্শনের উপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বার্ষিক তিন দিনব্যাপী ওরস মোবারক আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে। ওরস চলবে ১১,১২ ও ১৩ চৈত্র -২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ সোমবার ফজর পর্য্যন্ত।

অপরদিকে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের হাবেলীর দেওয়ান রাজা ওরফে বিজয় সিংহের রাজদরবারের পুরোহিত শ্রী অদ্বৈত্য আচার্য মহাপ্রভুর নবগ্রাম খ্যাত রাজাগাঁওস্থ আঁখড়া  বাড়ির সংলগ্ন সীমান্তনদী ২৩ কি.মি দৈর্ঘের জাদুকাঁটা পণতীর্থের দু’তীরে ১১ চৈত্র -২৫ মার্চ শনিবার থেকে তিন দিন ব্যাপী মহাবারুণী মেলাও শুরু হচ্ছে। বারুণী মেলা চলবে ১১,১২ ও ১৩ চৈত্র- ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ এবং ২৭ মার্চ ভোর বেলা মঙ্গল আরতির মাধ্যমে বারুণী মেলার সমাপ্ত হবে।

এদিকে দু’ধর্মের দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধকের ভক্তবৃন্ধের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ সহ ৪ জেলা এবং উপজেলা গুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বৃহক্তর সিলেট বিভাগের মধ্যে সুদুর ৭৫০ বছর পুর্ব কাল থেকে সপ্তগঙ্গার মিলনকেন্দ্র সব তীর্থের এক তীর্থ ২৩ কি.মি দৈর্ঘ্যরে পণতীর্থ ও হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানায় সবচেয়ে বড় উৎসব ও ওরস মোবারক হয়ে আসছে।’ এ ওরস মোবারক ও স্বানযাত্রায় যোগ দিতে শুধু সিলেট নয় রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ থেকে এমনকি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্ত ও আশেকানগণ এসে থাকেন।

শ্রী অদ্বৈত্য মহাপ্রভুর আখড়াবাড়ী ও জন্মধাম সংরক্ষন সংস্কার কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও গড়কাটি ইসকন মন্দিদের পরিচালক  ভক্তপ্রিয়  শুক্রবার জানান,  এ বছর স্নানযাত্রার মুখ্য সময় নিধারিত হয়েছে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী শতবিশা নক্ষত্রে ১১ চৈত্র – ২৫শে মার্চ শনিবার  রাত ১২টা ৮মিনিট ২৬ সেকেন্ড গতে ও স্বানযাত্রা সমাপ্ত হবে পরদিন রবিবার বেলা  ১১টা ১৩মিনিট ৫১ সেকেন্ড’র মধ্যে। গঙ্গাস্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ গড়কাটি ইসকন মন্দিরে তিন দিনের বারুণী মেলায় কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের  আয়োজন করা হয়েছে।’

সিলেট চাতল পুর্বপাড়ার হযরত শাহ্ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানার মোতওয়াল্লী আনোয়ার শাহ্ মাইভান্ডারী ও খাদেম শাহ্ মো. আজাদ শুক্রবার  জানান,  প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও হযরত শাহ্জালাল (রহ.)’র মাজার শরীফ প্রাঙ্গন থেকে শনিবার  সকাল  ১০টার দিকে হযরত শাহ্ আরেফিন (রহ.)’র লাউড়েরগড় আস্থানা অভিমুখে কয়েক হাজার ভক্তের সমন্বয়ে একটি কাফেলা যাত্রা করবে।’

ওরস উদযাপন কমিটির সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম, সহ সভাপতি বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও কোষাধক্ষ নুরুল আমিন চিশতী জানিয়েছেন,হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানায় মুসলিম ও সনাতন, বৈদ্য খ্রীষ্টান  সহ সব ধর্মের ভক্ত সহ এ বছর কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। তারা আরো বলেন ১১ চৈত্র, ২৫শে মার্চ শনিবার বাদ আছর ওরস শুরু হয়ে শুরু হয়ে ১৩ চৈত্র ২৭ মার্চ  রবিবার বাদ ফজর দেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে  বার্ষিক ওরস সমাপ্ত হবে।

ইতিামধ্যে দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কাফেলাধারী পাগল ফকির, ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরস এবং স্বানযাত্রা মহোৎসবে যোগ দিতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ও আখড়াবাড়ীর আশে পাশের গ্রামে এসে পৌছেছেন।  এদিকে সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য বিশ্ষ্টি আইনজীবী আবুল আজাদ রুমান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ আবুল আবুল হোসেন ও গণদাবী পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব হাবিব সরোয়ার আজাদ শুক্রবার যৌথ বিবৃতিতে, ওরস ও মেলা উপলক্ষে মদ, গাঁজা, ইয়াবা বিক্রয় ও সেবন কারীদের উপদ্রব দমন,  ওরস ও বারুণী মেলায় জুয়ার আসর বসানোর অপচেষ্টা, চোর, পকেটমার , ছিনতাই রোধ ও মেলায় বসা দোকানপাঠ থেকে ইজারা ও অনুদান আদায়ের নামে দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি রোধ অহেতুক গণহয়রানী প্রতিরোধে আইশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ সহায়হাতা কামনা করেছেন।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রসাশক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ,  ২৮ -বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাসির উদ্দিন আহমেদ পিএসসি শুক্রবার পৃথক পৃথক ভাবে বলেন, ওরস ও স্বানযাত্রা মহোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা দিতে এ বছর অন্যান্য বছরের ন্যায় আখড়াবাড়ী, পণতীর্থ ধামে গঙ্গাস্নান, গড়কাটি ইসকন মন্দির, বারুণী মেলা ও ওরশ মোবারক আস্থানায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে, এছাড়াও ২জন নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ২টি ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি, এনএসআই, ডিএসবি, ডিবি ,সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েক শতাধিক সদস্য বিশেষ নজরধারী করা ছাড়াও ঝুঁকিপুর্ণ সড়কগুলোতে দিবারাত্রী যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত টহল দেবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অশ্রু ও ফুলেল শ্রদ্ধায় সুরঞ্জিতের শেষকৃত্যানুষ্টান 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৭ ফেব্রুয়ারি : লাখো জনতার অশ্রু আর ফুলেল শ্রদ্ধায় গণমানুষের নেতা সংসদ কবি আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সোমবার সন্ধায় শেষ হল। সুরঞ্জিতের একমাত্র সন্তান সৌমেন সেন গুপ্ত সন্ধা ৬টা ৫০ মিনেট সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারপুরের পিতামহের ভিটায় শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী পিতার মুখাগ্নি করেন।

এর আগে বেলা ৪টা ৫ মিনিটে জাতীয় এ নেতার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার দিরাই হেলিপ্যাড মাঠে নামলে বাঁভাঙ্গা জোয়াওে মত লাখো মানুষ প্রিয় নেতার মরদেহের নিকট ছুটে যান। হেলিপ্যাড থেকে মরদেহ নামান সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমন এবং দিরাইয়ের সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহপাঠিরা। এরপর মরদেহ এ্যাম্বুলেন্স যোগে নিয়ে যাওয়া হয় দিরাইর জগন্নাথ জিউর মন্দিরে। সেখানে ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন শেষে লাশ ৪টা ৩০ মিটে নিয়ে যাওয়া হয় জন্মভিটে আনোয়ারপুরের বাসায়। নেতার মরদেহ বাহী গাড়ি বাসায় পৌছলে ভক্ত, রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও দিরাই- শাল্লার মুসলিম হিন্দু জনতার আহাজারিতে এক হ্নদয় বিধারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মুহুর্তেই লাখো মানুষের কান্নায় জানান দিতে থাকে দিরাই- শাল্লার জনপদ যেন এ মহান নেতার প্রয়ানে অবিভাবক শুণ্যতায় আহাজারিতে মেতে উছেঠে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মুক্তিযদ্ধের অন্যতম সংগঠক ৫নং সেক্টরের ৪ নং ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টর কমান্ডার দিরাই শাল্লা থেকে সাত সাত বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপিকে রাষ্ট্রীয় সম্মানো জানানো হয়। এরপরই মরদেহ সর্বস্থরের জনতার শ্রদ্ধাঞ্জলীর নিবেদনের জন্য বিকেল ৫ টায় বালুর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরন্ত বিকেলে ভাটির জনপদের গণ মানুষের মনের রাজা সুরঞ্জিত সেনের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন, উপজেলা আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠন,  পৌর পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, দিরাই প্রেসক্লাব, ভাটি বাংলা বাউল গবেষণা কেন্দ্র, স্বরবর্ণ সাংস্কৃতিক একাডেমি, দিরাই উপজেলা প্রশাসন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বিবিয়ানা কলেজ, দিরাই ডিগ্রী কলেজ, দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ, ইসকন,, রামকৃঞ্জ মিশন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইন্সিটিউট, ভাটিবাংলা বাউল একাডেমি ও গবেষনা কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জোট,মনিমেলা খেলাঘর, বাজার মহাজন সমিতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা ও দিরাই উপজেলা বিএনপির, যুগান্তরের তাহিরপুরের ষ্টাফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ টুডের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হাবিব সরোয়ার আজাদ ও দিরাই প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান লিটনের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, ভাটি বাংলা যুব সংগঠন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন.ৎকেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সুনামগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য  শফিকুর রহমান চৌধুরী, বানিায়াচং আজমিরীগঞ্জের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ এমপি, প্রয়াত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক উপ- সম্পাদক মইনুল ইসলাম ফয়সাল, সিলেট সিটি কর্পেরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাস, অ্যাডভোকেট অবনি মোহন দাস, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক দিপক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার, সাধারন সম্পাদক প্রদীপ রায়, আ’লীগ নেতা শুভ দাস, প্রশান্ত সাগর দাস, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় প্রমুখ।

এদিকে পিতা-মাতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পাশেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষ ইচ্ছানুযায়ী যে ভিটাতে জন্ম, সে ভিটাতেই তাকে দাহ করা হল। পারিবারিক সূত্র জানায়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাইয়ের পৈতৃক ভিটা আনোয়ারপুরে বাসায় নীজ হাতে দুটি লাল চন্দন গাছ লাগিয়েছিলেন। স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ও পরিবারের লোকজনকে নিজের শেষ ইচ্ছের কথা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুও পর দিরাইয়ের আনোয়পুরের বাসায় আমার পিতা- ও মাতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পাশেই যেন আমাকে দাহ করা হয়।’এছাড়াও তিনি বলে গিয়েছিলেন নীজ হাতে লাগানো দুটি লাল চন্দন কাঠের লাকড়ি দিয়েই যেন তাকে দাহ করা হয়। প্রায় ১৫ বছর পুর্বে নিজ হাতেই আনোয়ারপুরের বাসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পরিবারের লোকজন, সহপাঠি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়েই গাছ দুটি রোপন করেছিলেন। সুরঞ্জিতের মহাপ্রয়ানে পরিবারের লোকজন উনার ইচ্ছেই পুরণ করলেন।

সন্ধা ৬ টা ৫০ মিনিটে একমাত্র পুত্র সৌমেন সেনগুপ্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে পিতার মুখাগ্নি করেন। নিজ হাতে লাগানো চন্দন কাঠের লাকড়ি ছাড়াও রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মুল্যের চন্দন কাঠ ও ঘি দিয়ে গণমানুষের নেতার শেষকৃতানুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এদিকে সুরঞ্জিতের নির্বাচনী এলাকা শাল্লা শাহেদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও হেলিকপ্টার যোগে সুনামগঞ্জ থেকে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বণিতা তাদের প্রিয় নেতা ও অবিভাবকে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অপহৃত কৃষক র‌্যাবের হাতে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ 

2

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২ ফেব্রুয়ারি : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন -৯ সিলেটের একটি আভিযানিক দল দুলাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত এক কৃষককে ১২ দিন সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধুষ্যিত জগন্নাথপুর থেকে উদ্ধার করেছে। একই সাথে দুই অপহরণকারীকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর সহকারি পরিচালক সুজন চন্দ্র হালদার বুধবার রাতে জানান, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের দাভাঙ্গার হাওরে জমিতে পানি সেচ দেওয়ার সময় উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের সৈদেরগাঁওর শহিদ উল্লাহর ছেলে আমির হোসেন (৪০) কে একদল অপহরণকারী চক্র অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা আমিরের মুক্তিপণ বাবত তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই লাখ টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করে আসছিলো।

অপহৃতের পরিবার সহায়তা চেয়ে র‌্যাব -৯ কে বিষয়টি অবগত করলে গত কয়েকদিন ধরে অপহরণচক্রকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। এদিকে টাকা পরিশোধের কথা বলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলে র‌্যাবের একটি টহল দল জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারের দিঘারকুল গ্রাম থেকে হাত-পা- বাঁধা অবস্থায় থেকে বুধবার বিকেলে অপহৃত আমিরকে উদ্ধার করেন।

এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্য জগন্নাথপুর উপঝেরার দিঘারকুল গ্রামের হাবিবুর রহমান (২৭) ও একই গ্রামের আবু তাহেরকেও র‌্যাব গ্রেফতার করে। দিরাই থানার ওসি মো. আবদুল জলিল বলেন, ভিকমিক আমির ও গ্রেফতারকৃত দুই অপহরকারীকে বুধবার রাতে দিরাই থানা পুলিশের হেফাজতে দিয়েছেন র‌্যাবের টহল দল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বজনদের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সুধী সমাবেশ 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি : দেশের বহুল প্রচারিত ও পাঠক প্রিয় দৈনিক যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান কামরুলের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও সাংবাদিকদের অংশ গ্রহনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের হল রুমে এসে এক সুধী সমাবেশে মিলিত হয়।

দৈনিক যুগান্তরের তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)এর ষ্টাফ রিপোর্টার, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটর উপ-পরিচালক হাবিব সরোয়ার আজাদের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ আবদুস ছোবাহান আখঞ্জি, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোজাহিদ উদ্দিন আহমদ, তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম রাব্বী জাহান, সহকারি শিক্ষা অফিসার বিপ্লব সরকার, এসআই মুহিত মিয়া, এসআই চম্পক দাম, উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহকারি মেডিক্যাল অফিসার (অব:) ডা. আবদুস ছালাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন পলাশ, উপজেলা সমন্বয়কারী মনোলাল রায় প্রমুখ।

শোভাযাত্রা ও র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে, সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার লিটন, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহেল, সাধারন সম্পাদক শফিকুল মল্লিক, সাংবাদিক ও স্বজন সাজ্জাদ হোসেন শাহ, এম এ রাজ্জাক, রাহাদ হাসান মুন্না, নজরুল ইসলাম, মো. আলম শেখ, জহুরুল ইসলাম জনিক, আবুল কাসেম, রাজন চন্দ, স্বজন শিহাব সরোয়ার শিপু, রাজু মীর, সাকিব আল -হাসান সুমন, স্বপন আহমেদ, ইমরান হোসাঈন, সংবাদ কেন্দ্র এজেন্ট শ্যামল বর্মণ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্ত:ইউনিয়ন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগীতা 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুমগঞ্জ, ২৮ জানুয়ারি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বড়দল উওর ইউনিয়নের ১৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে আন্ত:ইউনিয়ন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে পরিষদ চত্বরে শনিবার ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেন।

ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সুষমা জাম্বিলের সভাপতিত্বে বিকেলে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সুনামগঞ্জের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ, প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দীক, শাহ আলম, কামাল হোসেন, খাদিজা নার্গিস, আবদুর রউফ, সহকারি শিক্ষক আবদুল মান্নান, আবদুস ছালাম, ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী, মোহাম্দ আলী, আবু তাহের প্রমুখ।

পরে খেলা ধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ও অতিথিগণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জলমহালের দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩ 

0034

সুনামগঞ্জ, ১৭ জানুয়ারি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের পাশের জারুলিয়া জলমহালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি হলেন হাতিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৩৩), আকিলপুর গ্রামের সাহারুল ইসলাম (২৮) ও উজ্জ্বল মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় আহত আল আমিন (২৫), সোনা মিয়াকে (২২) দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর অন্তত ২০ জন ভর্তি আছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জারুলিয়া জলমহালটি দিরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। ওই জলমহালের দখল নিয়ে স্থানীয় দক্ষিণ নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস ও হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা একরার হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলছে। ধনঞ্জয় পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়ার অনুসারী। নিহত তিনজনই একরার হোসেনের লোক। জারুলিয়া জলমহালটি প্রশাসনের কাছ থেকে নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল ১০টার দিকে একরার হোসেনের লোকজন জলমহালের দখল নিতে গেলে সেখানে থাকা নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লোকজন বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত তাজুল ইসলামকে বেলা দেড়টার দিকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত সাহারুল ইসলাম ও উজ্জ্বল মিয়াকে বেলা তিনটার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস জানান, আজ সকালে একরার হোসেনের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহালের দখল নিতে যায় এবং তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, তাঁরা কাউকে গুলি করেননি। একরার হোসেনের লোকজন নিজেরাই নিজেদের লোকদের মেরে এখন তাঁদের ফাঁসাতে চাইছে।

একরার হোসেন বলেছেন, তিনি সমিতির কাছ থেকে ছয় বছরের চুক্তিতে জলমহালে মাছ ধরার জন্য নিয়েছেন। জলমহালটি তাঁর দখলে আছে। সকালে দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়ার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ওসমানী মেডিকেলে আহত লেবু মিয়া বলেন, পৌর মেয়রই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পৌর মেয়রের লোকজন হামলা চালায়।

পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, দিরাইয়ে যারা আওয়ামী লীগ করে, সবাই আমার লোক। আমি দিরাই পৌর শহরে থাকি, আমার কোনো বিলের ব্যবসা নেই। এসবের কোনো কিছুই আমি জানি না।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বন্দুকের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় ছররা গুলিতে আহত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি আছেন ২০ জন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, নিহত তাজুল ইসলামের শরীরে বন্দুকের গুলির চিহ্ন আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জানুয়ারিতেই সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন 

index-27

নাবিল চৌধুরী, সুনামগঞ্জ, ৮ জানুয়ারি : দীর্ঘ তিন বছর আহব্বায়ক কমিটি থাকার পর অবশেষে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন এই মাসেই। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

গত পৌনে ৩ বছরে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১৩ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৩ টি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা এখনো রয়েছে। দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দিয়ে প্রথম সদস্য অ্যাড. আব্দুল হককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়। জেলা বিএনপি অবশ্য বিশ্বম্ভপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

তবে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, বর্তমানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থকরা জেলা বিএনপির গঠিত ১৩ ইউনিটই এক তরফা হয়েছে এবং ত্যাগিরা বাদ পড়েছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে। এই অবস্থায় দুই বলয়কে সমন্বয় করতে একাধিকবার কেন্দ্রীয় বিএনপি উদ্যোগ নিলেও জেলাজুড়ে বিএনপির গ্রুপিং দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।

গত ৬ নভেম্বর সিলেটে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমের বাসভবনে সুনামগঞ্জের দুই পক্ষকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। এই বৈঠকে তেমন কোন ফল হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ সুনামগঞ্জে পৃথক পৃথকভাবে পালন করেছে দলটির নেতা কর্মীরা।

জেলা সম্মেলন ও কমিটি গঠন সম্পর্কে ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থক হিসাবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, গত ৬ নভেম্বর এবং এর আগেও কয়েক দফায় আমরা কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের জানিয়েছি সুনামগঞ্জের ইউনিট কমিটিগুলো একতরফা হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠন না করে সম্মেলন করা হলে আমরা সম্মেলন বর্জন করার কথাও জানিয়ে দিয়েছি। আমরা শুনেছি একতরফা করা ইউনিট কমিটি ও জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক সঙ্গেই ঠিক করে দেবেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা বিএনপির সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা কোন তারিখ দেননি। এই মুহূর্তে কোন উদ্যোগও আমরা নেইনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান বলেন, সুনামগঞ্জের নেতাদের উপর সম্মেলন করার চাপ রয়েছে। জেলা বিএনপির প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন উমরা হজ্ব পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন। এজন্য কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। তবে এই মাসেই (জানুয়ারি মাসের মধ্যেই) সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন করা হবে। সম্মেলন না হলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর