২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৪, মঙ্গলবার

সপ্তগঙ্গার তীরে সুনামগঞ্জে লাখো ভক্তদের মিলনমেলা শনিবার শুরু

সপ্তগঙ্গার তীরে সুনামগঞ্জে লাখো ভক্তদের মিলনমেলা শনিবার শুরু 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২৪ মার্চ : ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্তঘেষা জাদুকাঁটা নদীর সপ্তগঙ্গার তীরে সুনামগঞ্জে দু’আধ্যাত্বিক মহা সাধকের লাখো লাখো ভক্তের তিনদিন ব্যাপী মিলনমেলা শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে।

জানা গেছে, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)এর ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)এর তাহিরপুরের লাউড়েরগড় সীমান্তের আস্থানায় প্রতি বছরের ন্যায় ১১ চৈত্র ১৪২৩ বাংলা, ২৫ মার্চ ২০১৭ বাদ আছর ওলি আউলিয়াদের জীবন দর্শনের উপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বার্ষিক তিন দিনব্যাপী ওরস মোবারক আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে। ওরস চলবে ১১,১২ ও ১৩ চৈত্র -২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ সোমবার ফজর পর্য্যন্ত।

অপরদিকে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের হাবেলীর দেওয়ান রাজা ওরফে বিজয় সিংহের রাজদরবারের পুরোহিত শ্রী অদ্বৈত্য আচার্য মহাপ্রভুর নবগ্রাম খ্যাত রাজাগাঁওস্থ আঁখড়া  বাড়ির সংলগ্ন সীমান্তনদী ২৩ কি.মি দৈর্ঘের জাদুকাঁটা পণতীর্থের দু’তীরে ১১ চৈত্র -২৫ মার্চ শনিবার থেকে তিন দিন ব্যাপী মহাবারুণী মেলাও শুরু হচ্ছে। বারুণী মেলা চলবে ১১,১২ ও ১৩ চৈত্র- ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ এবং ২৭ মার্চ ভোর বেলা মঙ্গল আরতির মাধ্যমে বারুণী মেলার সমাপ্ত হবে।

এদিকে দু’ধর্মের দু’আধ্যাত্বিক মহাসাধকের ভক্তবৃন্ধের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ সহ ৪ জেলা এবং উপজেলা গুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বৃহক্তর সিলেট বিভাগের মধ্যে সুদুর ৭৫০ বছর পুর্ব কাল থেকে সপ্তগঙ্গার মিলনকেন্দ্র সব তীর্থের এক তীর্থ ২৩ কি.মি দৈর্ঘ্যরে পণতীর্থ ও হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানায় সবচেয়ে বড় উৎসব ও ওরস মোবারক হয়ে আসছে।’ এ ওরস মোবারক ও স্বানযাত্রায় যোগ দিতে শুধু সিলেট নয় রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ থেকে এমনকি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্ত ও আশেকানগণ এসে থাকেন।

শ্রী অদ্বৈত্য মহাপ্রভুর আখড়াবাড়ী ও জন্মধাম সংরক্ষন সংস্কার কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও গড়কাটি ইসকন মন্দিদের পরিচালক  ভক্তপ্রিয়  শুক্রবার জানান,  এ বছর স্নানযাত্রার মুখ্য সময় নিধারিত হয়েছে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী শতবিশা নক্ষত্রে ১১ চৈত্র – ২৫শে মার্চ শনিবার  রাত ১২টা ৮মিনিট ২৬ সেকেন্ড গতে ও স্বানযাত্রা সমাপ্ত হবে পরদিন রবিবার বেলা  ১১টা ১৩মিনিট ৫১ সেকেন্ড’র মধ্যে। গঙ্গাস্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ গড়কাটি ইসকন মন্দিরে তিন দিনের বারুণী মেলায় কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের  আয়োজন করা হয়েছে।’

সিলেট চাতল পুর্বপাড়ার হযরত শাহ্ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানার মোতওয়াল্লী আনোয়ার শাহ্ মাইভান্ডারী ও খাদেম শাহ্ মো. আজাদ শুক্রবার  জানান,  প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও হযরত শাহ্জালাল (রহ.)’র মাজার শরীফ প্রাঙ্গন থেকে শনিবার  সকাল  ১০টার দিকে হযরত শাহ্ আরেফিন (রহ.)’র লাউড়েরগড় আস্থানা অভিমুখে কয়েক হাজার ভক্তের সমন্বয়ে একটি কাফেলা যাত্রা করবে।’

ওরস উদযাপন কমিটির সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম, সহ সভাপতি বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও কোষাধক্ষ নুরুল আমিন চিশতী জানিয়েছেন,হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)’র আস্থানায় মুসলিম ও সনাতন, বৈদ্য খ্রীষ্টান  সহ সব ধর্মের ভক্ত সহ এ বছর কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। তারা আরো বলেন ১১ চৈত্র, ২৫শে মার্চ শনিবার বাদ আছর ওরস শুরু হয়ে শুরু হয়ে ১৩ চৈত্র ২৭ মার্চ  রবিবার বাদ ফজর দেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে  বার্ষিক ওরস সমাপ্ত হবে।

ইতিামধ্যে দেশের সমগ্র অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কাফেলাধারী পাগল ফকির, ভক্ত, সাধক ও দর্শনার্থীরা ওরস এবং স্বানযাত্রা মহোৎসবে যোগ দিতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ও আখড়াবাড়ীর আশে পাশের গ্রামে এসে পৌছেছেন।  এদিকে সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য বিশ্ষ্টি আইনজীবী আবুল আজাদ রুমান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ আবুল আবুল হোসেন ও গণদাবী পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব হাবিব সরোয়ার আজাদ শুক্রবার যৌথ বিবৃতিতে, ওরস ও মেলা উপলক্ষে মদ, গাঁজা, ইয়াবা বিক্রয় ও সেবন কারীদের উপদ্রব দমন,  ওরস ও বারুণী মেলায় জুয়ার আসর বসানোর অপচেষ্টা, চোর, পকেটমার , ছিনতাই রোধ ও মেলায় বসা দোকানপাঠ থেকে ইজারা ও অনুদান আদায়ের নামে দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি রোধ অহেতুক গণহয়রানী প্রতিরোধে আইশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ সহায়হাতা কামনা করেছেন।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রসাশক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ,  ২৮ -বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাসির উদ্দিন আহমেদ পিএসসি শুক্রবার পৃথক পৃথক ভাবে বলেন, ওরস ও স্বানযাত্রা মহোৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা দিতে এ বছর অন্যান্য বছরের ন্যায় আখড়াবাড়ী, পণতীর্থ ধামে গঙ্গাস্নান, গড়কাটি ইসকন মন্দির, বারুণী মেলা ও ওরশ মোবারক আস্থানায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে, এছাড়াও ২জন নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ২টি ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি, এনএসআই, ডিএসবি, ডিবি ,সাদা পোশাকধারী পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েক শতাধিক সদস্য বিশেষ নজরধারী করা ছাড়াও ঝুঁকিপুর্ণ সড়কগুলোতে দিবারাত্রী যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত টহল দেবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অশ্রু ও ফুলেল শ্রদ্ধায় সুরঞ্জিতের শেষকৃত্যানুষ্টান 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৭ ফেব্রুয়ারি : লাখো জনতার অশ্রু আর ফুলেল শ্রদ্ধায় গণমানুষের নেতা সংসদ কবি আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সোমবার সন্ধায় শেষ হল। সুরঞ্জিতের একমাত্র সন্তান সৌমেন সেন গুপ্ত সন্ধা ৬টা ৫০ মিনেট সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারপুরের পিতামহের ভিটায় শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী পিতার মুখাগ্নি করেন।

এর আগে বেলা ৪টা ৫ মিনিটে জাতীয় এ নেতার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার দিরাই হেলিপ্যাড মাঠে নামলে বাঁভাঙ্গা জোয়াওে মত লাখো মানুষ প্রিয় নেতার মরদেহের নিকট ছুটে যান। হেলিপ্যাড থেকে মরদেহ নামান সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমন এবং দিরাইয়ের সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহপাঠিরা। এরপর মরদেহ এ্যাম্বুলেন্স যোগে নিয়ে যাওয়া হয় দিরাইর জগন্নাথ জিউর মন্দিরে। সেখানে ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন শেষে লাশ ৪টা ৩০ মিটে নিয়ে যাওয়া হয় জন্মভিটে আনোয়ারপুরের বাসায়। নেতার মরদেহ বাহী গাড়ি বাসায় পৌছলে ভক্ত, রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও দিরাই- শাল্লার মুসলিম হিন্দু জনতার আহাজারিতে এক হ্নদয় বিধারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মুহুর্তেই লাখো মানুষের কান্নায় জানান দিতে থাকে দিরাই- শাল্লার জনপদ যেন এ মহান নেতার প্রয়ানে অবিভাবক শুণ্যতায় আহাজারিতে মেতে উছেঠে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মুক্তিযদ্ধের অন্যতম সংগঠক ৫নং সেক্টরের ৪ নং ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টর কমান্ডার দিরাই শাল্লা থেকে সাত সাত বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপিকে রাষ্ট্রীয় সম্মানো জানানো হয়। এরপরই মরদেহ সর্বস্থরের জনতার শ্রদ্ধাঞ্জলীর নিবেদনের জন্য বিকেল ৫ টায় বালুর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরন্ত বিকেলে ভাটির জনপদের গণ মানুষের মনের রাজা সুরঞ্জিত সেনের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন, উপজেলা আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠন,  পৌর পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, দিরাই প্রেসক্লাব, ভাটি বাংলা বাউল গবেষণা কেন্দ্র, স্বরবর্ণ সাংস্কৃতিক একাডেমি, দিরাই উপজেলা প্রশাসন, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বিবিয়ানা কলেজ, দিরাই ডিগ্রী কলেজ, দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ, ইসকন,, রামকৃঞ্জ মিশন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইন্সিটিউট, ভাটিবাংলা বাউল একাডেমি ও গবেষনা কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জোট,মনিমেলা খেলাঘর, বাজার মহাজন সমিতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা ও দিরাই উপজেলা বিএনপির, যুগান্তরের তাহিরপুরের ষ্টাফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ টুডের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হাবিব সরোয়ার আজাদ ও দিরাই প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান লিটনের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, ভাটি বাংলা যুব সংগঠন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন.ৎকেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সুনামগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য  শফিকুর রহমান চৌধুরী, বানিায়াচং আজমিরীগঞ্জের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ এমপি, প্রয়াত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক উপ- সম্পাদক মইনুল ইসলাম ফয়সাল, সিলেট সিটি কর্পেরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাস, অ্যাডভোকেট অবনি মোহন দাস, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক দিপক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার, সাধারন সম্পাদক প্রদীপ রায়, আ’লীগ নেতা শুভ দাস, প্রশান্ত সাগর দাস, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় প্রমুখ।

এদিকে পিতা-মাতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পাশেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষ ইচ্ছানুযায়ী যে ভিটাতে জন্ম, সে ভিটাতেই তাকে দাহ করা হল। পারিবারিক সূত্র জানায়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাইয়ের পৈতৃক ভিটা আনোয়ারপুরে বাসায় নীজ হাতে দুটি লাল চন্দন গাছ লাগিয়েছিলেন। স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ও পরিবারের লোকজনকে নিজের শেষ ইচ্ছের কথা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুও পর দিরাইয়ের আনোয়পুরের বাসায় আমার পিতা- ও মাতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পাশেই যেন আমাকে দাহ করা হয়।’এছাড়াও তিনি বলে গিয়েছিলেন নীজ হাতে লাগানো দুটি লাল চন্দন কাঠের লাকড়ি দিয়েই যেন তাকে দাহ করা হয়। প্রায় ১৫ বছর পুর্বে নিজ হাতেই আনোয়ারপুরের বাসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পরিবারের লোকজন, সহপাঠি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়েই গাছ দুটি রোপন করেছিলেন। সুরঞ্জিতের মহাপ্রয়ানে পরিবারের লোকজন উনার ইচ্ছেই পুরণ করলেন।

সন্ধা ৬ টা ৫০ মিনিটে একমাত্র পুত্র সৌমেন সেনগুপ্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে পিতার মুখাগ্নি করেন। নিজ হাতে লাগানো চন্দন কাঠের লাকড়ি ছাড়াও রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মুল্যের চন্দন কাঠ ও ঘি দিয়ে গণমানুষের নেতার শেষকৃতানুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এদিকে সুরঞ্জিতের নির্বাচনী এলাকা শাল্লা শাহেদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও হেলিকপ্টার যোগে সুনামগঞ্জ থেকে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বণিতা তাদের প্রিয় নেতা ও অবিভাবকে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অপহৃত কৃষক র‌্যাবের হাতে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ 

2

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২ ফেব্রুয়ারি : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন -৯ সিলেটের একটি আভিযানিক দল দুলাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত এক কৃষককে ১২ দিন সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধুষ্যিত জগন্নাথপুর থেকে উদ্ধার করেছে। একই সাথে দুই অপহরণকারীকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর সহকারি পরিচালক সুজন চন্দ্র হালদার বুধবার রাতে জানান, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের দাভাঙ্গার হাওরে জমিতে পানি সেচ দেওয়ার সময় উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের সৈদেরগাঁওর শহিদ উল্লাহর ছেলে আমির হোসেন (৪০) কে একদল অপহরণকারী চক্র অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা আমিরের মুক্তিপণ বাবত তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই লাখ টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করে আসছিলো।

অপহৃতের পরিবার সহায়তা চেয়ে র‌্যাব -৯ কে বিষয়টি অবগত করলে গত কয়েকদিন ধরে অপহরণচক্রকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। এদিকে টাকা পরিশোধের কথা বলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলে র‌্যাবের একটি টহল দল জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারের দিঘারকুল গ্রাম থেকে হাত-পা- বাঁধা অবস্থায় থেকে বুধবার বিকেলে অপহৃত আমিরকে উদ্ধার করেন।

এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্য জগন্নাথপুর উপঝেরার দিঘারকুল গ্রামের হাবিবুর রহমান (২৭) ও একই গ্রামের আবু তাহেরকেও র‌্যাব গ্রেফতার করে। দিরাই থানার ওসি মো. আবদুল জলিল বলেন, ভিকমিক আমির ও গ্রেফতারকৃত দুই অপহরকারীকে বুধবার রাতে দিরাই থানা পুলিশের হেফাজতে দিয়েছেন র‌্যাবের টহল দল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বজনদের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সুধী সমাবেশ 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি : দেশের বহুল প্রচারিত ও পাঠক প্রিয় দৈনিক যুগান্তরের ১৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান কামরুলের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও সাংবাদিকদের অংশ গ্রহনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের হল রুমে এসে এক সুধী সমাবেশে মিলিত হয়।

দৈনিক যুগান্তরের তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)এর ষ্টাফ রিপোর্টার, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটর উপ-পরিচালক হাবিব সরোয়ার আজাদের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা আক্তার, ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্জ আবদুস ছোবাহান আখঞ্জি, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোজাহিদ উদ্দিন আহমদ, তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম রাব্বী জাহান, সহকারি শিক্ষা অফিসার বিপ্লব সরকার, এসআই মুহিত মিয়া, এসআই চম্পক দাম, উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহকারি মেডিক্যাল অফিসার (অব:) ডা. আবদুস ছালাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন পলাশ, উপজেলা সমন্বয়কারী মনোলাল রায় প্রমুখ।

শোভাযাত্রা ও র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে, সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার লিটন, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহেল, সাধারন সম্পাদক শফিকুল মল্লিক, সাংবাদিক ও স্বজন সাজ্জাদ হোসেন শাহ, এম এ রাজ্জাক, রাহাদ হাসান মুন্না, নজরুল ইসলাম, মো. আলম শেখ, জহুরুল ইসলাম জনিক, আবুল কাসেম, রাজন চন্দ, স্বজন শিহাব সরোয়ার শিপু, রাজু মীর, সাকিব আল -হাসান সুমন, স্বপন আহমেদ, ইমরান হোসাঈন, সংবাদ কেন্দ্র এজেন্ট শ্যামল বর্মণ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্ত:ইউনিয়ন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগীতা 

1

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুমগঞ্জ, ২৮ জানুয়ারি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বড়দল উওর ইউনিয়নের ১৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে আন্ত:ইউনিয়ন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে পরিষদ চত্বরে শনিবার ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেন।

ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সুষমা জাম্বিলের সভাপতিত্বে বিকেলে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সুনামগঞ্জের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ, প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দীক, শাহ আলম, কামাল হোসেন, খাদিজা নার্গিস, আবদুর রউফ, সহকারি শিক্ষক আবদুল মান্নান, আবদুস ছালাম, ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী, মোহাম্দ আলী, আবু তাহের প্রমুখ।

পরে খেলা ধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ও অতিথিগণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জলমহালের দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩ 

0034

সুনামগঞ্জ, ১৭ জানুয়ারি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহালের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের পাশের জারুলিয়া জলমহালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি হলেন হাতিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৩৩), আকিলপুর গ্রামের সাহারুল ইসলাম (২৮) ও উজ্জ্বল মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় আহত আল আমিন (২৫), সোনা মিয়াকে (২২) দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর অন্তত ২০ জন ভর্তি আছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জারুলিয়া জলমহালটি দিরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। ওই জলমহালের দখল নিয়ে স্থানীয় দক্ষিণ নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস ও হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা একরার হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলছে। ধনঞ্জয় পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়ার অনুসারী। নিহত তিনজনই একরার হোসেনের লোক। জারুলিয়া জলমহালটি প্রশাসনের কাছ থেকে নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল ১০টার দিকে একরার হোসেনের লোকজন জলমহালের দখল নিতে গেলে সেখানে থাকা নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লোকজন বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত তাজুল ইসলামকে বেলা দেড়টার দিকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত সাহারুল ইসলাম ও উজ্জ্বল মিয়াকে বেলা তিনটার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

নাগেরগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস জানান, আজ সকালে একরার হোসেনের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহালের দখল নিতে যায় এবং তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, তাঁরা কাউকে গুলি করেননি। একরার হোসেনের লোকজন নিজেরাই নিজেদের লোকদের মেরে এখন তাঁদের ফাঁসাতে চাইছে।

একরার হোসেন বলেছেন, তিনি সমিতির কাছ থেকে ছয় বছরের চুক্তিতে জলমহালে মাছ ধরার জন্য নিয়েছেন। জলমহালটি তাঁর দখলে আছে। সকালে দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়ার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ওসমানী মেডিকেলে আহত লেবু মিয়া বলেন, পৌর মেয়রই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পৌর মেয়রের লোকজন হামলা চালায়।

পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, দিরাইয়ে যারা আওয়ামী লীগ করে, সবাই আমার লোক। আমি দিরাই পৌর শহরে থাকি, আমার কোনো বিলের ব্যবসা নেই। এসবের কোনো কিছুই আমি জানি না।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বন্দুকের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় ছররা গুলিতে আহত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি আছেন ২০ জন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, নিহত তাজুল ইসলামের শরীরে বন্দুকের গুলির চিহ্ন আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জানুয়ারিতেই সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন 

index-27

নাবিল চৌধুরী, সুনামগঞ্জ, ৮ জানুয়ারি : দীর্ঘ তিন বছর আহব্বায়ক কমিটি থাকার পর অবশেষে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন এই মাসেই। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

গত পৌনে ৩ বছরে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১৩ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৩ টি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা এখনো রয়েছে। দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দিয়ে প্রথম সদস্য অ্যাড. আব্দুল হককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়। জেলা বিএনপি অবশ্য বিশ্বম্ভপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

তবে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, বর্তমানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থকরা জেলা বিএনপির গঠিত ১৩ ইউনিটই এক তরফা হয়েছে এবং ত্যাগিরা বাদ পড়েছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে। এই অবস্থায় দুই বলয়কে সমন্বয় করতে একাধিকবার কেন্দ্রীয় বিএনপি উদ্যোগ নিলেও জেলাজুড়ে বিএনপির গ্রুপিং দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।

গত ৬ নভেম্বর সিলেটে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমের বাসভবনে সুনামগঞ্জের দুই পক্ষকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। এই বৈঠকে তেমন কোন ফল হয়নি। গত ৫ জানুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ সুনামগঞ্জে পৃথক পৃথকভাবে পালন করেছে দলটির নেতা কর্মীরা।

জেলা সম্মেলন ও কমিটি গঠন সম্পর্কে ফজলুল হক আছপিয়ার সমর্থক হিসাবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, গত ৬ নভেম্বর এবং এর আগেও কয়েক দফায় আমরা কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের জানিয়েছি সুনামগঞ্জের ইউনিট কমিটিগুলো একতরফা হয়েছে। কমিটি পুনর্গঠন না করে সম্মেলন করা হলে আমরা সম্মেলন বর্জন করার কথাও জানিয়ে দিয়েছি। আমরা শুনেছি একতরফা করা ইউনিট কমিটি ও জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক সঙ্গেই ঠিক করে দেবেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা বিএনপির সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা কোন তারিখ দেননি। এই মুহূর্তে কোন উদ্যোগও আমরা নেইনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান বলেন, সুনামগঞ্জের নেতাদের উপর সম্মেলন করার চাপ রয়েছে। জেলা বিএনপির প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন উমরা হজ্ব পালন করতে সৌদি আরবে রয়েছেন। এজন্য কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। তবে এই মাসেই (জানুয়ারি মাসের মধ্যেই) সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন করা হবে। সম্মেলন না হলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুপারী পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল ১০ বছরের শিশুর 

2

সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২৮ ডিসেম্বর : সুনামগঞ্জের ছাতকে মাত্র ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে গাছ থেকে সুপারী পাড়ার জন্য গাছে তুলে দিলে সেই শিশুটি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে  অকালে মৃত্যুবরণ করেছে। নিহতের নাম আলমাছ আলী (১০)। আলমাছ আলী সিংচাপইড় ইউনিয়নের সিংচাপইড় গ্রামের দিনমজুর নুরুল ইসলামের শিশু পুত্র।

নিহত শিশুর পারিবারীক সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের মহদী গ্রামের ধনু নাথের ছেলে নিকলেশ নাথের গাছ থেকে পরিবারের লোকজন মাত্র ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সোমবার সুপারী পাড়তে আলমাছকে গাছে তুলে দেন। এক পর্যায়ে সুপারী পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গেলে গুরুতর আহত হয় আলমাছ।

আহত অবস্থায় স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে নেয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিশুটির জানাজা শেষে বুধবার তাকে গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের নিহত শিশু আলমাছের মামা ও প্রতিবেশী বলেন, হত দরিদ্র দিনমজুড় নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী একমাত্র শিশুপুত্রকে হারিয়ে হতবিহভহল হয়ে পড়েছেন । তাদের কারো সাথে কথা বলার মত অবস্থা নেই, তবে যতদুর জানতে পেরিছি প্রতিবেশী মহদী গ্রামের ধনু নাথ ও তার ছেলে নিকলেশ নাথ শিশু আলমাছকে নগদ ১০ টাকা ও পরিবারের জন্য কয়েকটি সুপারীর ভাগ দেবার প্রলোভন দেখিয়ে সুপারী পাড়তে গাছে উঠেয়েছিলো, দরিদ্র মানুষ থানা পুলিশে অভিযোগ কে কোন লাভ হবেনা ভেবেই পুলিশকে জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলার মহদী গ্রামের ধনু নাথের ছেলে নিকলেশের বক্তব্য জানতে বুধবার রাতে তার মুঠোফোনে কল হলে সে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শাহেল আহমদ, আমাকে মঙ্গলবার রাতেই নিহতের পরিবার ও যাদের বাড়িতে  সুপারী পাড়ার জন্য ওই শিশুকে গাছে উঠানো হয়েছিলো তারাও আমাকে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করেছিলেন কিন্তু থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে কী ভাবে ওই শিশুর লাশ দাফন করা হয়েছে আমি সে বিষয়ে অবহিত নই কিংবা কেউ আমাকে অবহিত করেননি।

ছাতক থানার ওসি মো.  আশেক সুজা মামুন বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশী শ্রমিককে পিঠিয়ে হত্যা 

50

সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৫ ডিসেম্বর : সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশী এক যুবককে রাতের আঁধারে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম বশির আহমেদ (৩৫)। সে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের পাহাড়তলী রজনীলাইন গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে।

নিহতের পারিবারীক সুত্র ও সীমান্ত এলাকার লোকজনের সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়তলী গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে ৩ সন্তানের জনক বশির আহমদ কাজের সন্ধানে সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় ষ্টেইটের বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনে রবিবার রাতে অনুপ্রবেশ করলে ভারতীয় নাগরিকরা চোর সন্দেহে রাতের কোন এক সময় বশিরকে বেধরক ভাবে পিঠিয়ে হত্যা করে। পরবতীতে বশিরের মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভারতীয় বড়ছড়া থানার সামনে লাশ এনে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও উৎসুক জনতা সোমবার ভোর থেকেই বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনের এপারে ভীড় জমায়। লাশ শনাক্ত করার জন্য নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওপারের বড়ছড়া থানার সামনে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে এপারে ফিরে আসেন। এদিকে নিহতের পরিবারের লোকজন সুনামগঞ্জ-২৮বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ট্যাকেরঘাট কোম্পানী হেডকোয়ার্টারে সকালে গিয়ে লাশ ফেরত আনতে বিজিবির শরাপনাপন্ন হন।

উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক মিয়ার সাথে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বশির চোর নয়, হয়ত কাজের সন্ধানে ওপারে গিয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, বশির অপরাধী হলে ভারতের আদালতেও বিচার হতে পারত কিংবা বিজিবির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত দিলেও এদেশের আদালতেও তার অপরাধের বিচার হত কিন্তু তাকে পিঠিয়ে মারার অধিকার তো কারো নেই, আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

নিহতের পরিবারের লোকজনের দাবি পেঠের দায়ে চুনপাথর সংগ্রহ করতে গেলে ভারতীয় থানা পুলিশের সহযোগীতায় ভারতীয় নাগরিকরা বশিরকে আটক করে হাতে কোমড়ে শেখল দিয়ে বেধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে বর্বরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বশিরের লাশ বড়ছড়া থানার সামনে ফেলে রাখে।

অভিযোগ রয়েছে বিজিবির টেকেরঘাট কোম্পানীর সুবেদার নিজাম উদ্দিন, বিজিবির কিছু অসৎ সদস্য ও বিজিবির কথিত সোর্স স্থানীয় ইউপি সদস্য জম্মত আলীর যোগসাজসে রবিবার রাতভর অবৈধ ভাবে বিনা শুল্কে ওপার থেকে চুনাপাথর আনতে গোপন সম্মতি দিলে টেকেরঘাট কোয়রীর উওর তীর, ও বড়ছড়ার ভাঙ্গারঘাট কোয়ারী এলাকা ও বুরুঙ্গাছড়া গ্রামের পেছনে দিক দিয়ে বশিরের মত কয়েকশ শ্রমিক ওপাওে চুনপাথর ভাঙ্গতে যায়। অভিযোগ প্রসঙ্গে সুবেদার নিজাম বলেন, যেদিক দিয়ে শ্রমিকরা চুনাপাথর আনতে গেচিল বলে শুনেছি বশির কিন্তু সেদিক দিয়ে যায়নি, সে ভারতের বড়ছড়া বাজার এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।

সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. মাহবুব হাসান সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় এ প্রতিবেদকে ওপারে এক যুবককে পিঠিয়ে হত্যা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করেছি, ওখানে বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার রয়েছে, পতাকা বৈঠক আহবান করা হয়েছে, লাশ ফেরত আনার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন শুনেছি ভারতীয় নাগরিকরা চোর সন্দেহে বশির নামক ওই যুবককে রবিবার রাতে গণপিটুনি দেয়ার এক পর্যায়ে সে মৃত্যু বরণ করলে তার লাশ ভারতের বড়ছড়া থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তাহিরপুরে বিষপানে ২ জনের আত্মহত্যা 

371

সুনামগঞ্জ, ৪ নভেম্বর : তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ২ ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাদাঘাট ইউনিয়নের শিমূলতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে শাহানুর (১৩) মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। অপরদিকে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারোহাল গ্রামের আব্দুস সাত্তর এর ছেলে মানিক মিয়া (১৮) বাদাঘাট বাজারে চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে।

তাহিরপুর অফিসার ইনচার্জ নন্দন ধর এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাহিরপুর থানায় পৃথক ২টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীমান্ত নদী জাদুকাঁটায় বালি পাথর লুটের মহোৎসব 

111

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর : সুনামগঞ্জের সীমান্তনদী জাদুকাঁটা ও মাহারাম নদীর তীর কেঁটে বালি -পাথর লুট বন্ধে থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন গত এক মাস ধরে ঢাক ঢোল পিঠিয়ে কয়েক দফা মতবিনিময় সভা করার পরও নদীর তীর কেঁটে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব থামানো যাচ্ছেনা। নদীর তীর কাঁটা প্রতিরোধে ফাঁড়ির পুলিশ টহলে গেলৈ সাময়িক বন্ধ থাকে বালি পাথর লুটের উৎসব, ফাঁড়িতে পুলিশ ফিরে আসার পর ফের শুরু হয় সেইভ, ড্রেজার আর বোমা মেশিন দিয়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ্য ভোক্তভোগীদের দাবি পুলিশ লোক দেখানো দায়িত্ব পালন করছে, নৌকা, সেইভ ড্রেজার, বোমা মেশিন ধরে আর তদবীর করলেই ছেড়ে দেয়।

পুলিশ দিনে একবার নদীর তীরে টহলের নামে ঘুরাফেরা করে ফাঁড়িতে ফিরে আসার পর ফের শুরু হয় সেইভ, ড্রেজার ও বোমা মেশিন লাগিয়ে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব। সরেজমিনে সোমবার দু’নদীর  তীরেঘুরে ফিরে এমন টিত্রই দেখা গেছে। দেখা গেছে পুলিশের দায়সাড়া দায়িত্বপালনের চিত্র।

উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের ঘাগটিয়ার আদর্শগ্রাম, বড়টেক এলাকা ও বড়দল উওর ইউনিয়নের মাহারাম নদীর উৎসমুখ ও টিলা বাজারের নীচে সেইভ, ড্রেজার ও বোমা মেশিন লাগিয়ে নদীর তীর কেঁটে , নদীতে পুকুর খাল  তৈরী করে অপরিকল্পিত ভাবে বালি পাথর লুটের উৎসব বন্ধে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাস, থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কয়েকদফা মতবিনিময় সভা করে। নদী থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সেইভ ,ড্রেজার ও বোমা মেশিনের সরঞ্জামী ভ্রাম্যমাণ আদালত পুড়িয়ে ফেলা হয়। এরপরও কেন থামছে না বালি পাথর লুটের মহোৎসব? এমন প্রশ্নের উওর খুঁজতে গিয়ে সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্য্যন্ত নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রায় অর্ধ শতাধিক পঞ্চবটী ট্রলার ও ২৫ থেকে ৩০টি সেইভ মেশিন লাগিয়ে জাদুকাঁটার আদর্শগ্রামের সামনে, বড়টেকের সামনে, মাহারাম নদীর টিলা বাজার ও উৎস মুখে চলছে বালি-পাথর লুটের মহোৎসব। এসব পঞ্চবটি ট্রলার ও সেইভ মেশিন লাগিয়ে যেসবস শ্রমিকেরা বালি পাথর লুটে ব্যস্ত তাদের নিকট থেকে জায়গার মালিকানা ও থানা পুশিলের নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজন চাঁদাবাজকেও প্রতিট্রিপে চাঁদা আদায়ের সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে নদীতে।

নদীতে থাকা বালি পাথর শ্রমিকরা নিজেদের স্বার্থের কথা ও মামলা, হামলার কথা চিন্তা করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, সেইভ, ড্রেজার ও নদীর তীর কেঁটে বালি পাথর উক্তোলন করার পর প্রতি ট্রলার অথবা ফুট হিসেবে নদীর তীর ও চরের মালিকানা দাবি করে আসা কয়েকটি চক্রকে টাকা দিতে হয়। এরপর বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ও থানা পুলিশেকে ম্যানেজ করার কথা বলে আরো দুটি চক্রের চক্রের  সদস্যদের ট্রলার প্রতি প্রতি ট্রিপে ২’শ থেকে ৩ শ টাকা হাওে চাঁদা দিতে হয়। অন্যদিকে দৈনিক চুক্তিত্বে গেলে সেইভ প্রতিটি দেড় থেকে দু’হাজার ও বোমা মেশিনের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

কারা চাঁদা তুলছেন? এমন প্রশ্নের উওরে জানা গেল মাহরাম নদীর চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী ও বিতর্কিত এসআই একেএম জালাল উদ্দিনের (অলিখিত নিয়োগ প্রাপ্ত) নোয়াজ আলীর ভাই পুলিশের সোর্স তাজু এবং তার সহযোগী অপর ১৮ সদস্য। অপরদিকে জাদুকাঁটা নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্র করছে ঘাগটিয়ার আলীম উদ্দিন ও তার অপর ৬ সহযোগী।

বড়দল উওর ইউপি সদস্য নোয়াজ আলীর নিকট সোমবার বেলা দেড়টার দিকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাই নদীর ধার ধারিনা’ কোন চাঁদাবাজির সাথে আমরা জড়ি না’ এইত্যা কেলায়  (কে?) বলে, আমরা কী এই ধরণের মানুষ, নদীর দিকে ফিরেও থাকাইনা, যারা চাঁদাবাজি করে তাদের পুলিশ ধরুক।’

বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের আলীম উদ্দিন সোমবার বলেন, আমি গত কোরবানীর ঈদের পর নদীতে যাইনা।’বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই একেএম জালাল উদ্দিন স্যার নিজেই দিন রাত নদীর তীরে থ্ইাক্যা লোক দেখানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করে উনির নিজের সোর্স দিয়ে দিয়ে চাঁদা আদায় করাতেন। সে আরো বলে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে এএসআই বিপুল কুমার সিনহা নদীতে ছিলেন উনি থাকা কালীন সেইভ ড্রেজার চলেনি তিনি চলে যাবার পর আবার আদর্শগ্রাম ও বড়টেকের মাথায় এগুলো চালু হইছে , যতদুর জানি ঘাগটিয়া কাইকর পাড়ার শামু, ঘাগটিয়ার ছাক্তার, আমিরুল এখন নদীতে পুলিশের নামে চাঁদা তোলে।’

এসআই একেএম জালাল উদ্দিনের (ওরফে “টাকা জালাল” খ্যাত) নিকট নদীর চাঁদাবাজি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, আমি এখন  বাদাঘাট ফাঁড়ি থাইক্যা থানায় চলে আইছি, আমি কোন চাঁদাবাজির সাথে পুর্বেও জড়িত ছিলাম না, এখনও না।’ পরবর্তীতে তিনি বলেন, দাদা আমি গাড়িতে আছি, ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর সোমবার বেলা দু’টায় এ প্রতিবেদকে বলেন, আমি নবাগত হিসাবে সম্প্রতি এ থানায় যোগদান করেছি, চাঁদাবাজদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব। ’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা 

111

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর : অনেক বিধি-বিধান ব্রিটিশ ও পাকিস্থানীরা তৈরি করেছিল, সেসব বিধি বিধান  জনগণের বিরুদ্ধেও রয়েছে।’ আমরা এগুলো সংস্কার করে বোধগম্য এবং জনগণের পক্ষে নতুন করে করে বিধিবিধান তৈরি করছি এবং করবো।’ দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবনখ্যাত রামসার প্রকল্পভুক্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সমম্মেলন কক্ষে রবিবার উপরোক্ত কথা গুলো বলেছেন। তিনি আরো বলেন,‘‘টাঙ্গুয়ার হাওর ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষীয় চিন্তা এড়াতে হবে।’ কর্তৃপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় থাকলে আনুষ্ঠানিকতা বাড়লেও কাজ হয় কম।’ হাওরের জীব-বৈচিত্র যেটুকু সম্ভব রক্ষা করেই পরিবর্তনের দিকে যেতে হবে। তবে খৈয়া, পুটি ও শোল’ মাছের  দিন শেষ। আমরা চেষ্টা করলেও এসব প্রায় বিলুপ্ত মাছ ধরে রাখতে পারবো না। তবে ওখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে বিকল্প কর্মসংস্থান হবে। কৈ মাছের বিক্রেতা হয়ত চা-বিস্কুট বিক্রি করেই তার পরিবারের জীবন- জীবিকা চালিয়ে যেতে পারবে।’

প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু তহবিলে দাতা সংস্থার অর্থ প্রদান বা এডিবি’র অর্থকে সহায়তা বলাও ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘এটি সহায়তা নয়, ঋণ গ্রহণ। ৪০ বছর মেয়াদি ঋণ। এটি খরচ করার সময়ও সকলকে ঋণের টাকা বুঝতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় টাঙ্গুয়ার হাওর বিষয়ক পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষাকল্পে মুল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও যুগ্ন-সচিব মো. জাফর সিদ্দিক।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, সুনামগঞ্জ-৫(ছাতক-দোয়ারাবাজার)আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষা করতে হবে। এজন্য দীর্ঘ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একটি বৈঠক দেখিয়েই এই আলোচনা শেষ করা যাবে না’।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর -বিশ্বম্ভরপুর ) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এমপি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর যারা রক্ষণাবেক্ষণ করেছে, তারাই মূলত লুট হতে সহায়তা করেছে।‘এখন আলোচনার বিষয় হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওর কী ইজারা প্রথায় যাবে? না কী অন্য কোন পদ্ধতিতে আরো গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে’।

সুনামগঞ্জ- মৌলভীবাজার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী এমপিও সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. জাফর সিদ্দিক ধারণা পত্র উপস্থাপন করে তার বক্তব্যে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও আইইউসিএন যৌথভাবে টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষণাবেক্ষণে যে ব্যবস্থাপনা করেছিল, এতে অনেকটা ভালও হয়েছে আবার খারাপও হয়েছে।’ ২০০৪ সালে কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই বিপুল পরিমাণে মাছের উৎপাদন ছিল টাঙ্গুয়ায়। পরে টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির চিন্তা থেকে আরও ভাল ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করায় সর্বোচ্চ ৫’শ কোটি টাকার মাছের উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল। তখন  হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পাহাড়াদার, আনসার ও পুলিশের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ছিল জন প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা। এতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনেকটাই ভাল ছিল।’ তিনি বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরকে পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলার চিন্তা দূর করতে হবে। টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পতিত ভুমি, সীমান্তনদী জাদুকাঁটার তীর ও বারেকের টিলা পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। টাঙ্গুয়ার হাওরকে পর্যটনের আওতায় আনলে পর্যটকদের খাবারের ময়লা-আবর্জনা ও যানবাহনের বিকট শব্দ পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। পাখি, মাছ ও অন্যান্য প্রাণী ভয়ে পালিয়ে যাবে টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।’

জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ১৯৩০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইজারা পদ্ধতি ছিল। এই বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরের পাড়ে রয়েছে ৪টি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়ন গুলোর জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জীবন জীবিকা টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে। জেলা প্রশাসন ও আইইউসিএন’র যৌথ ব্যবস্থাপনায় হাওরকে তদারকি করতে ২৪ জন আনসার, ১০ জন পুলিশ, ১ জন ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকার লোকজন রাতের অন্ধকারে চুরি করে মাছ শিকার করেন। কেউ কেউ গাছ কাঁটেন। ‘দীর্ঘদিন যাবত আইইউসিএন এই টাঙ্গুয়ার হাওরকে দেখভাল করেছে। তবে হাওরের কতটা উন্নয়ন হয়েছে, এমন প্রশ্ন সবার মনে?।’

চারদলীয় জোঠ সরকারের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন,‘‘এখন মাছ শূন্য টাঙ্গুয়ার হাওর। টাঙ্গুয়ার হাওরের আলম ডাঙায় একবার জাল দিয়ে টান দিয়ে আমরা ৮০ লাখ টাকার চিতল মাছ ধরেছিলাম। করচ বাগও ছিল। লাখ লাখ পাখি ছিল।’ তিনি আরো বলেন,‘বর্তমান পাহাড়া ব্যবস্থাপনায় সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। বর্তমান পাহাড়া ছিল, ‘সরকার-কা- মাল দরিয়ামে ঢাল’এর মতো। হাওরে এক সময় ৮ হাজার মে.টন মাছ উৎপাদন হয়েছিল। এখন ২৫ মে.টনও হয় না। পুনরুদ্ধার, উৎপাদন ও শাসন এই তিনটি’র সমন্বয় ঘটাতে হবে। তিনি টাঙ্গুয়ার হাওরকে ইনভেষ্টর কোম্পানী বা ইজারাদারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করে বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এলাকা করা যেতে পারে। টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে রানীগড় এবং রানীগড় থেকে সুরমা নদী পর্যন্ত মাইগ্রেটরী রোড করতে হবে।’
আলোচনার এক পর্যায়ে সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. জাফর সিদ্দিক নজির হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘আপনারা বিগত সময়ে ইজারা নিলেও ইজারার পুরো টাকা তো পরিশোধ করেননি।’
নজির হোসেন উত্তরে বলেন, ‘নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত শাসন করতে না দেওয়ায় আমরা ইজারামূল্য পরিশোধ করিনি’।

প্রসঙ্গত. রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর গত প্রায় ১২ বছর সরকার ও আইইউসিএন’র যৌথ ব্যবস্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। আইইউসিএন’র প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ায় ‘ ছয় কুড়ি বিল, নয় কুড়ি কান্দা’ নিয়ে গঠিত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের এই হাওরের দেখভাল কর্তৃপক্ষ কারা থাকবে এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা পর্যায়ে আলোচনা চলছে। রোববার পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা নামক বেসরকারী সংগঠন এই মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নিয়েছিল।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুর রহমান ও কামরুজ্জামান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান , অ্যাডভোকেট হোসেন তওফিক চৌধুরী, নারীনেত্রী শীলা রায়,  পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির উপ-পরিচালক হাবিব সরোয়ার আজাদ, টাঙ্গুয়ার হাওর ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান সহ জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন নিউজপোর্ঠালের গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এদিকে দ্বীর্ঘ এক যুগ পর যখন এনজিওর কবলে গাছ, মাছ,ও অতিথি পাখি শুন্য হয়ে পড়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর ঠিক তখনই  পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে মতবিনিময় সভায় ইজারা মুল্য পরিশোধ না করেই চার দলীয় জোঠ সরকারের বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য নজির হোসেনের উপস্থিতি নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি কী আবারো টাঙ্গুয়ার হাওর লীজ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কী না?

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পায়ে ধরে ইজ্জত ভিক্ষা চাইলেও টলেনি নরপশুর বিবেক 

13012793_1686405498287160_6907890553503317124_n

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ, ২৬ অক্টোবর : বসতবাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পিতৃহীন ১৪ বছরের কিশোরীকে গ্রামের প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ পরিবারের এক যুবক কতৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতব্বর ও দাঙ্গাবাজ খ্যাত কাঁচা মিয়া ওরফে কাঁচুর বখাটে ছেলে আবদুল জলিল (২৩) মঙ্গলবার এশার নামাজের পর পরই ওই গ্রামের পিতৃহীন দরিদ্র পরিবারে কিশোরীকে বাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন।

ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজন এবং সালিসে থাকা গ্রামবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার  সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের  কাঁচুর বখাটে ছেলে আবদুল জলিল মঙ্গলবার এশার নামাজের পর গ্রামের পিতৃহীন ১৪ বছরের কিশোরীকে বাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে গ্রামের পেছনে জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ। ওই কিশোরী জলিলের পায়ে ধরে বার বার ইজ্জত ভিক্ষা চাইলেও টলেনি নরপশুর বিবেক!। ধর্ষণের পর ফেলে রেখে জলিল চলে আসলে ধর্ষিতা জলিলের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষকারীর মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বললে রাতেই গ্রামের রেজ্জাকের বাড়িতে সালিস বৈঠক বসে। সালিসে টাকা পয়সা খরচ করে বিয়ের বয়স হলে কিশোরীকে অনত্র বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সালিসীগণ উঠে যান।

এ বিষয়ে থানা পুলিশ কিংবা অন্য কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি সরুপ গ্রামছাড়া করার আল্টিমেটাম দিয়ে যান স্বয়ং ধর্ষণকারীর পিতা। এদিকে গ্রাম্য সালিসের নামে ধর্ষিতা কিশোরীকে  অনত্র বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যর্থ হবার পর চিকিৎসা ও আইনি সহযোগীতা নিতে বাঁধা দেয়ার জন্য গ্রামের সড়কে ও কিশোরীর বাড়ির চারপাশে কাঁচুর লোকজন রাত থেকে বুধবার দিনব্যাপী পাহাড়া বসায়। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু লোকের সহযোগীতায় বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে ওই কিশোরী অন্যের মুঠোফোনে বেলা ১টার দিকে এ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ধর্ষণের ঘটনাটি জানিয়ে গণমাধ্যমের সহযোগীতায় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পেতে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, ভাই আমারে কাঁচু মিয়া ও তার পুলা (ছেলে) পাইলে মাইরা ফালাইব’ আমারে বাঁচান, আমি পলাইয়া আইছি জানলে বাড়িত বিধবা মা ও  ভাইদের মারধর করতে পারে তারা।’

রাতে সালিসে রেজ্জাকের বাড়িতে কাঁচু, তার সহোদর জয়নাল, মোস্তাক, তাদের আরো কয়েক সহযোগীরাই উপস্থিত ছিলেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্ত’র পিতা কাঁচুর সাথে  বুধবার বেলা দু’টার দিকে মুটোফোনে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, ঘটনা ষড়যন্ত্র, আমার ছেলে মেয়েটার ডেনাত (হাতে ) ধরে টান দিছিল’ রাইত (রাতে) আমরা বইছিলাম (বসছিলাম) ঘটনা সত্য না। এছাড়াও তিনি অন্যান্য সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার এক ছেলে রহিম ফাসির দন্ডপ্রাপ্ত হিসাবে কারাগারে আটক’  “আমার মাথা ঠিক নাই, এইডাত যদি পারইন তাইলে আমরারে বাছাইন”।

থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্দি ধরের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বুধবার বলেন- ভিকটিম থানায় এসে বেলা আড়াইটায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, পুলিশী তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তরা যতবড় প্রভাবশালী হোক না কেন ভিকটিমের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দু’টোই থানা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’

থানার তন্তকারী অফিসার এসআই (উপ-পরিদর্শক) একেএম জালাল উদ্দিন  বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে বিকেলে ভিকটিম আসলে তােেক গালি -গলাজ ও উল্টো শাসাতে থাকেন। সন্ধার পর সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে ঘটনা তদন্তের নামে অভিযুক্তদের পিতা কাঁচুর সাথে যোগসাজস করে ভিকটিমের মা- ও ভাইদের মামলা করলে হয়রানী বাড়বে বলে বিষয়টি আপোসের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন। এসআই জালাল গত এক বছর ধরে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান করে মাহারাম ও জাদুকাটা নদীতে বালি পাথর লুঠকারী, সেইভ , ড্রেজার , বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উক্তোলনকারীদের সাথে আতাত করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এসব কারনে তাকে তিরস্কার না করে উল্টো পুলিশের দায়িত্বশীলরা তার প্রতি সুনজর রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৬ মাসের ট্রেনিং এ যাবার কথা থাকলের তদবীর করে কামাজ -রুজীর ধান্দায় ছাতক থানার অন্য এক এসআইকে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে দেন।  এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী সহ সব ধরণের অপরাধী এমনকি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের ইশারায় ইঙ্গিতে আইনের তোয়াক্কা না করেই টাকার পাহাড় গড়ে তোলার জন্য সব সময়  ব্যস্ত থাকেন।

এ ব্যাপারে এসআই জালালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সন্ধায় ৭টায় বলেন, না এটা আমার কিছু না, মেয়ের বয়স ১৪, মামলা নেয়ার কোন সুযোগ নাই, তাছাড়া মেয়ের মা-ভাইদের আমি  ভয়-ভীতি দেখাইনি , তারাই তো মামলা করতে ইছ্ছুক না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

প্রয়োজনে পুন:রায় বক্তব্য নেয়া যেতে পারে ( এসআই জালাল-০১৭১৮-১০৮৯২৩) (ওসি ০১৭১৩-৩৭৪৪২১)

নোট: ভিকটিমের বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ ও ভয়েজ রেকর্ড ধারণ করা আছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছেলের বিচার চান বদরুলের মা 

7e758r36

সুনামগঞ্জ, ৬ অক্টোবর : ‘আমার অউ পোয়াটাই (ছেলে) সংসারের বাত্তি আছিল। এখন আমরারে সাগরে ভাসাইয়া গেল। কিলা অত বড় খামটা করল! হে (বদরুল) দোষী অইলে তার বিচার আমিও চাই। মেয়েটার (খাদিজা) লাগি দিন-রাইত দোয়া খররাম। আল্লায় যেন তারে বাঁচাইন।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন দিলারা বেগম (৫০)। তিনি সিলেটের এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগমকে আহত করা ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের মা। গত সোমবার কুপিয়ে আহত করা খাদিজা বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎ​সাধীন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের মনিরগাতি গ্রামে বদরুল আলমের বাড়ি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বদরুল দ্বিতীয়।

দিলারা বেগম বলেন, সোমবার সকাল সাতটার দিকে বদরুল বাড়ি থেকে বর হন। মাকে বলে যান স্কুল বন্ধ, টিউশনি করতে যাচ্ছেন। রাতে বাড়ি ফেরেননি। মঙ্গলবার সকালে তাঁরা খবর পান, বদরুল সিলেটে এক মেয়েকে কুপিয়েছেন। বদরুল বাড়িতে থাকলেও নিয়মিত সিলেটে যাওয়া-আসা করতেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে বাস খাদে, নিহত ৩ 

সড়ক দুর্ঘটনা

সুনামগঞ্জ, ৫ অক্টোবর : সুনামগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে দুই নারীসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

বুধবার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাতুয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মৌসুমী পাল (২৪) ও রাধা রানী দাস (৪৭)।

আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাস ছাতক উপজেলার জাতুয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে যায়। এতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের হাইওয়ে থানার এস আই সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জের এএসপি (সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন,’দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।;

Share This:

এই পেইজের আরও খবর