২৯ মে ২০১৭
সকাল ৮:০১, সোমবার

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত 

39

নিউইয়র্ক, ১৪ মে : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে নিউইয়র্ক সিটির নর্দার্ন স্টেট পার্কওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় টহল পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন, রায়হান ইসলাম (২৮), মো. ডি আলম (৬১) ও আতাউর রহমান দুলাল (৩৪)।

এছাড়া গুরুতর আহত এ. মোল্লা (৩৬) নামে একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার বাসিন্দা। তারা ওই গাড়িতে করে লং আইল্যান্ড এলাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত 

911

ঢাকা, ২২ এপ্রিল : সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্রিন সিটি আল আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় আবদুস ছামাদ (৫০) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত আবদুল  ছামাদ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল আইনে ঠিকাদারের কাজ করতেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আল আইনের আল জাহার সড়কে দ্রুতগামী একটি যানবাহনকে জায়গা দিতে গিয়ে নিজের সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গ্রিলের সঙ্গে ধাক্কা খান আব্দুস ছামাদ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। লাশ আল আইন হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে 

66

যুক্তরাষ্ট্র, ১২ এপ্রিল : যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং জিয়া পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (১০ই এপ্রিল) নিউইয়র্ক জামাইকাস্থ পানসি রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়৷

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. জাহিদ দেওয়ান শামীমের সঞ্চালনায় এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও গাইবান্ধা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। উক্ত আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল ইসলাম মজনু ও ড. গিয়াস মজুমদার এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ডা. তারেক জামান ইমন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে জনগণকে অন্ধকারে রেখে একের এক দেশবিরোধী চুক্তি করে চলেছে। সম্প্রতি দেশের জনগণের প্রতিবাদকে তাচ্ছিল্য করে ভারতে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারকসহ ২২টি চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছে। এটি দেশ ও জনগণের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এসব চুক্তি দেশ ও জনবিরোধী। তাই বিএনপিকে দেশের জনগনকে সাথে নিয়ে এইসব দেশবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গন-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

উক্ত আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  ডা. মজিব, ডা. জামান, ডা. সফিকুল আবেদীন, ডা. কবির, ডা. মাহাবুবুর রহমান লিপন. ডা জাকির হোসেনসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা কর্মীবৃন্দসহ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘মুক্তিপণ’ না দেওয়ায় ইরাকে বাংলাদেশিকে হত্যা! 

ঢাকা, ১০ এপ্রিল : ইরাকের বাগদাদে ফজলুল হক বুলবুল (৪০) নামে জামালপুরের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

নিহত ফজলুল হক বুলবুল জামালপুর সদরের রশীদপুর শেখপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক আকন্দের ছেলে।

রবিবার রাতে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম জানান, তার স্বামী (ফজলুল হক বুলবুল) ২০১৩ সালে স্থানীয় দালাল গিয়াস উদ্দীনের মাধ্যমে ইরাকে যান। ইরাকের বাগদাদে একটি দোকানে তিনি কাজ করতেন। গত ২৩ মার্চ দোকান থেকে বের হলে তাকে অপহরণ করা হয়।

অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে ভিডিও কলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

পরে পরিবারের লোকজন ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৭৬ হাজার এবং ইরাকে অবস্থানকারী বুলবুলের বন্ধুদের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয় অপহরণকারীদের।

জোসনা আরও অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনে বুলবুল মারা গেছেন মনে করে অপহরণকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে রাখে। ইরাকের স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গত ২৭ মার্চ বাগদাদ সাহারা ফিলিস্তিন এলাকার সরকারি কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে বুলবুল মারা যান।

বুলবুলের বড় ছেলে ইনছান জানান, ‘অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে জামালপুরের রশীদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের রনি মিয়া, বাবর আলী, শামীম মিয়া, রামনগর গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও আশেক আলী জড়িত রয়েছে। অপহরণের পর তারা বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নগদ টাকা এবং জমি লিখে দেওয়ার কথা বলেছেন। ‘

বুলবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বুলবুলের মরদেহ সরকারিভাবে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি করেছে বুলবুলের পরিবার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে প্রথম গণহত্যা দিবস পালন 

নিউ ইয়র্ক, ২৭ মার্চ : এই প্রথমরের মতো নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথ আয়োজনে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করেছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবসটি পালন করা হয়।

২৫ মার্চ কালোরাতের শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ২৫ মার্চের গণহত্যার উপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

‘গণহত্যা দিবস’ স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’এর নামে নিরস্ত্র, ঘুমন্ত, নিরপরাধ বাঙালির উপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হিংস্র আক্রমণ ও নির্মম গণহত্যার কথা তুলে ধরে বলেন, পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বের অন্যান্য গণহত্যার তালিকায় এই গণহত্যা একেবারে প্রথম দিকে অবস্থান করছে। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের গণহত্যার যথাযথ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি।

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতোমধ্যে আমরা জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টার সাথে দেখা করে সরকারের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং এটি জাতিসংঘে উত্থাপনে বাংলাদেশের উদ্যোগের বিষয়টি অবহিত করেছি। এছাড়াও জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতাকে পরাজিত করেছিল বলে উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসী অনেক বাংলাদেশিই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েছে।

যাঁরা নাগরিকত্ব নিয়েছেন তাদের এখনই সময় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক গণহত্যার কথা তুলে ধরার। প্রবাসে গণহত্যা দিবস পালনের মাধ্যমে সারা পৃথিবী ১৯৭১-এর প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আসুন, দলমত নির্বিশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি ২৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতির জন্য একযোগে কাজ করি।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মহসিন আলী ও আবুল মনসুর খান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেনোসাইড-৭১ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট প্রদীপ রঞ্জন কর, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বসারত আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুখ আহমেদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ প্রমুখ। -কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মালয়েশিয়ায় ৩৭ বাংলাদেশিসহ ৩৭৬ অবৈধ অভিবাসী আটক 

ঢাকা, ২১ মার্চ : মালয়েশিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩৭৬ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশি আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় জানা যায়নি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার ভোর ৫টা এবং সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন বিভাগের উপপ্রধান রোসলিয়া কাসিম। দেশটির সারাওয়াক প্রদেশে মুকা শহরের বালিনজিয়ানের একটি নির্মাণ সাইট থেকে ১৮৯ জন আটক করা হয়।

এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখপাত্র মাসপাউন বোলহাসান বলেন, বিভিন্ন অপরাধে ১৫৮ জন ইন্দোনেশিয়ান, ১২৭ জন চীনা, ৪৩ জন ভারতীয়, ৩৭ জন বাংলাদেশি, ৭ জন ফিলিপাইনো, ১ জন লঙ্কান এবং ৩ জন স্থানীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও অবস্থান করায় একই আইনের ১৫(১)(সি) অনুচ্ছেদ বলে ৪১ ইন্দেনেশিয়, ৩ ভারতীয় এবং ২ ফিলিপাইনো নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশি ওষুধ কিনে ব্রিটিশ নারীর রোগমুক্তি 

86

লন্ডন, ২ মার্চ : বিশ্বের অনেক দেশে অনলাইনে ওষুধ কেনা অনেকটা জনপ্রিয় হয়েছে। প্রেসকিপশন না পাওয়া, ডাক্তার দেখাতে না পারা, বিশেষ করে ওষুধের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনলাইনে ওষুধ কিনছেন অনেকে।

ব্রিটিশ এক নারীও কম দামে ওষুধ কিনতে অনলাইনের ওপর নির্ভর করেছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ‘হেপাটাইটিস সি’ নিরাময়ের ওষুধ কিনেছিলেন জো শারাম নামে এক ব্রিটিশ নারী।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের তৈরি ওষুধ সেখানে সহজে পাওয়া গেলেও অনেক উচ্চমূল্যের ওষুধ হবার কারণে এগুলো শুধুমাত্র বেশি অসুস্থ রোগীদের দেয়া হয়ে থাকে।

যুক্তরাজ্যে হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত প্রায় দুই লাখ পনের হাজারের মতো রোগী রয়েছে, যাদের একজন জো শারাম।

মিস শারামের বয়স যখন ২০ বছর তখন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। ভাইরাসটি শনাক্ত না হওয়ায় অন্য অনেকের মতো এই ভাইরাস বহন করেই বছরের পর বছর চলছিলেন তিনি।

‘আমি অফিসের চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়তাম, স্মৃতিজনিত অনেক সমস্যাও হচ্ছিল আমার। এছাড়াও হজমে সমস্যা হচ্ছিল, ঘৃণা মনোভাব জাগছিল। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের হলো আমার দেহে হেপাটাইসিস সি ভাইরাস রয়েছে। তখন বুঝলাম এ কারণেই আমি বহু বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছি’-বলছিলেন জো শারাম।

হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নিরাময়ে যে ওষুধ পাওয়া যায় ইংল্যান্ডে তার খরচ জোগাতে মোটামুটি হিমশিম খেতে হয় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে।

প্রতি রোগীর জন্য প্রায় দশ হাজার পাউন্ড খরচ হয় সংস্থাটির, আর এ কারণে শুধুমাত্র বেশি অসুস্থ রোগীদেরই এ ওষুধ দেয়া হয়।

জো শারাম যেহেতু খুব বেশি অসুস্থ ছিলেন না তাই তিনিও ওই ওষুধ কিনতে পারেননি।

সে কারণে তিনি নির্ভর করলেন অনলাইনের ওপর এবং অনলাইনেই সস্তা দামের ওষুধ কিনলেন বাংলাদেশ থেকে। এতে তার খরচ পড়েছিল প্রায় এক হাজার পাউন্ড।

‘আপনিতো দামের জন্য আপনার জীবনকে হুমকির মধ্যে রাখতে পারেন না, তাই না?’

কিন্তু ওই ওষুধ কাজ করবে কিনা সেটা না জেনে কিভাবে সেটা কিনলেন তিনি?

‘আসলে আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। শারিরীক সমস্যাগুলো নিয়ে চলতে আর ভালো লাগছিলো না। আসলে এটা আমার পছন্দ ছিল, এটা অনেকটা বাতাসে কয়েন ছুঁড়ে দেবার মতো’-বলছিলেন জো।

গত নভেম্বর মাসে তিনি তার ওষুধের কোর্স শেষ করেন।

এরপর তিনি আবার কিছু রোগ নির্ণয় পরীক্ষা করান। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই ডায়াগনসিস রিপোর্ট হাতে পেয়ে জো দেখেন তার রক্তে হেপাটিাইসিস সি ভাইরাসের কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি।

‘এখানে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যে দামে ওষুধ বিক্রি করছে তার তুলনায় অনেক কম দামে আমি ওষুধ কিনলাম। অথচ সেটা কাজও করলো। আর প্রত্যেকেরই সুস্থ হবার অধিকার আছে, যদি সেটা সম্ভব হয়’-বলছিলেন জো। সূত্র: বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হোয়াইট হাউসে এক বাংলাদেশী সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা 

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি : হোয়াইট হাউসে বসে প্রতিদিন যে সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের খবরাখবর সংগ্রহ করেন, তাদের সাথে প্রেসিডেন্টের পেশাগত সম্পর্কটা কেমন থাকে?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন যেভাবে মূলধারার গণমাধ্যমের সাথে রীতিমত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং হোয়াইট হাউসের প্রেস কনফারেন্সে কিছু সাংবাদিককে পর্যন্ত নিষিদ্ধ করছে, তখন অনেকের এনিয়ে কৌতূহল জাগা স্বাভাবিক।

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের তো বটেই, সারা দুনিয়ার বড় বড় সংবাদ-মাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়োজিত থাকেন খবরাখবর সংগ্রহের জন্য। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই ব্রিফিং এর ব্যবস্থা থাকে সাংবাদিকদের খবরাখবর জানানোর জন্য। নিয়মিতভাবে প্রেসিডেন্টরাও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। শুরু থেকেই তিনি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন।

আগের প্রেসিডেন্টদের আমলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা কিভাবে কাজ করেছেন? তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক কেমন ছিল?
ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি’র ফটো সাংবাদিক হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে হোয়াইট হাউসে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশি সাংবাদিক জুয়েল সামাদের।

প্রেসিডেন্টে ওবামার সাথে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফটো সাংবাদিক জুয়েল সামাদ

তিনি বলছিলেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

“হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে প্রায় প্রতিদিনই প্রেস ব্রিফিং হয় এবং সাধারণত প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি সেখানে কথা বলেন। এটি ‘অন ক্যামেরা’ এবং ‘অন রেকর্ড’ প্রেস ব্রিফিং। অর্থাৎ এখানে ছবি তোলা যাবে, কথা রেকর্ড করা যাবে। হোয়াইট হাউসে ঢোকার পাস বা প্রেস কার্ড আছে এমন যে কোন সাংবাদিক এই সংবাদ সম্মেলন কভার করতে পারেন।”

তিনি জানান, ব্রিফিং রুমে সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন থাকে। সামনের সারিতে বসেন নিউইয়র্ক টাইমস বা সিএনএনের মতো মূলধারার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা।

“প্রেসিডেন্টের কোন অনুষ্ঠানে কোন সাংবাদিকরা যাবেন বা যোগ দেবেন, কে আগে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন, এসব সাধারণত নির্ধারিত হয় হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিসের মধ্যে আলোচনা-সহযোগিতার মাধ্যমে। বলতে পারেন এটা বহুদিনে গড়ে উঠা একটা অলিখিত রীতি বা ব্যবস্থা।”

“যদি ফটোগ্রাফারদের কথা বলি, তাদের জন্য একটা ‘ট্রাভেল পুল’ আছে। আমি যে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করি, সেই এএফপি সহ রয়টার্স, এপি এবং নিউইয়র্ক টাইমস এই ট্রাভেল পুলের অংশ। এর মানে হলো, হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের যে কোন অনুষ্ঠান কভার করার ক্ষেত্রে এই চারটি প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে। যে কোন লাইনে এই চারটি প্রতিষ্ঠানের পর অন্য সাংবাদিকরা সুযোগ পাবেন।”

হোয়াইট হাউসের কোন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মধ্যে কারা কি প্রশ্ন করতে পারবেন, সেটা কিভাবে নির্ধারিত হয়?

জুয়েল সামাদ জানান, নিত্যদিনের ব্রিফিং এ প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি তার পছন্দমত যে কোন সাংবাদিকের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে পারেন। তখন সেই সাংবাদিক তার যেমন খুশি প্রশ্ন তাকে করতে পারেন।

জুয়েল বলেন, এখন হোয়াইট হাউসে যে ঘটনাটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে, সেটি ঠিক প্রেস কনফারেন্স নয়, এটাকে বলা হয় ‘প্রেস গ্যাগল’। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি বাছাই করা কিছু সাংবাদিককে ডেকে এই ব্রিফিং এর আয়োজন করেন। সেটি ‘অন ক্যামেরা’ হতে পারে, আবার ‘অফ ক্যামেরা’ও হতে পারে।

২০১৩ সালে জার্মানিতে প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে এক সফরে কাজে ব্যস্ত জুয়েল সামাদ

“আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, প্রেস গ্যাগল সাধারণত অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিং এর মতো। অনেক সময় প্রেসিডেন্ট নিজেও হাজির হন এরকম ব্রিফিং-এ। তিনি শুরুতেই বলে দেন, আমি এমনিতেই কথা বলতে এসেছি। এটা অফ দ্য রেকর্ড।”

কিন্তু এবার হোয়াইট হাউসে যা ঘটলো, মূলধারার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের যেভাবে একটি ব্রিফিং এ নিষিদ্ধ করা হলো, সেটা কি আগে কখনো হয়েছে?

“না আমার অভিজ্ঞতায় আমি এটা দেখিনি। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এটা কখনো হয়নি। হোয়াইট হাউসের বাইরে আমরা যখন ভ্রমণ করছি, তখন অনেক সময় কেবল ট্রাভেল পুলের সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডাকা হয়। তখন কিন্তু বলে দেয়া হয় যে এটা একটা গ্যাগল।”

যেভাবে এখন হোয়াইট হাউসে কিছু সাংবাদিককে কোন কোন ব্রিফিং-এ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, সেটার কি প্রভাব পড়তে পারে এসব সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ওপর?

জুয়েল সামাদ বলেন, “এটা যত না এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকারক হবে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ ভালো গণতন্ত্রের জন্য মিডিয়াকে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে দেয়া দরকার।”

তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাজ করা নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেই সঙ্কট থাকবে না বলেই মনে করেন তিনি। কারণ হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস এসোসিয়েশন একটি শক্তিশালী সংগঠন। এবং তারা একটা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

সূত্র : বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মালেয়শিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত 

মালেয়শিয়া, ৬ ফেব্রুয়ারি : মালেয়শিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী (৪৬) নামে এক বাংলাদেশি ও হেলপার ইসমাইল ফাদলিজাহ (৪৬) নামে অপর একজন মালেয়শিয়ান নিহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় সায়াবান মো. আমিন (২৯) নামে আর একজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জালান বাহাউ কেমায়ান এলাকায় হিমায়িত মুরগির মাংস বহন করছিলেন লরিতে। হঠাৎ রাস্তার একটি মোড়ে টার্ন নেওয়ার সময় লরিটি উল্টে যায়, এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাংলাদেশি ওই চালক ও তার হেলপার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতদের লাশ স্থানীয় জেমপল হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ব্রেক্সিট ভোট: ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে টিউলিপের পদত্যাগ 

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি : বেক্সিটের সমর্থনে একটি বিলের পক্ষে ভোট দিতে বলায় যুক্তরাজ্যের ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ওই বিলটি আনা হয়।

সেই বিলটিকে সমর্থন করার জন্য এমপিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। কিন্তু বিলের পক্ষে সমর্থন দিতে পারছেন না টিউলিপ সিদ্দিক, আর তাই তিনি ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলছেন, (তিনি) সামনের সারির পদের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করতে পারছেন না।

জেরেমি করবিনের কাছে লেখা পদত্যাগ পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ”ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের বিষয়টি আমার নির্বাচনীয় এলাকায় বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে,যেখানে বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, ইউনিয়ন ছেড়ে আসার বিষয়টি সম্ভাব্য সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি তৈরি করবে।”

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (নোটিফিকেশন অফ উইথড্রয়াল) বিল বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিলটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা আর্টিকেল ফিফটি (৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ) নামেও ডাকা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছিল যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সরে যেতে এরকম একটি বিধি থাকতে হবে।

বিলের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম শুরু করার অনুমোদন দেয়া হবে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সামনের সপ্তাহে এর উপর ভোট হবে।

এই আইনটিকে সমর্থন করার জন্য লেবার পার্টির এমপিদের অনুরোধ করেছেন পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য এমপিদের কাছে তিনি থ্রি-লাইন হুইপ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

তিনি বলছেন, সদস্যরা যে চাপ এবং সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তিনি বুঝতে পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার একাত্ম হওয়া দরকার এবং ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ফিফটি) যাতে আটকে না যায়, সেটি সবার নিশ্চিত করা দরকার।

ব্রিটেনে পার্টির অতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার সাথে একমত না হতে পারলে পার্লামেন্টে দলের সামনের সারির নেতারা তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর রীতি রয়েছে।

লিসবন চুক্তির ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল ফিফটি) অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সরে দাঁড়াতে আসছে মার্চের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদালত বলেছে, প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অবশ্যই আগে পার্লামেন্টের অনুমোদন থাকতে হবে।-বিবিসি

==

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা-ছেলে নিহত 

363

যুক্তরাষ্ট্র, ৫ জানুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে কানাডা যাবার পথে জ্যাকসন ভিলে সিটির সেন্ট জোন্স কাউন্টিতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নাজিয়া হোসেন (৩২) এবং তার চার বছর বয়েসী পুত্র আয়ান হক মারা গেছে। দুঘর্টনাকবলিত গাড়ির অপর ৩ যাত্রীও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩ জানুয়ারি সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী একটি গাছের সাথে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা খায় দুর্ঘটনা কবলিত ইনফিনিটি এফএক্স-৩৫ গাড়িটি। সেটি চালাচ্ছিলেন নাজিয়া হোসেন নিজেই।

হাইওয়ে পুলিশ এবং আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় গাড়িটি সড়কের পাশে উঠে গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়ে যাওয়ায় দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের গাড়ির ভেতরে আটকা অপর ৩ জনকে বের করতে হয় গাড়ি কেটে। আহত এমদাদুল হক(৪২) এবং তার মামা শহীদ খান চৌধুরী (৩৭) ও  ৩৫ বছর বয়েসী মামীকে গুরুতর অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ ইউএফ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা পরও তাদের অবস্থা শংকামুক্ত নয় বলে হতাহতদের স্বজনেরা জানান। হতাহতদের বাড়ি টাঙ্গাাইল জেলার মীর্জাপুর উপজেলায়।

ভাজিনিয়ায় সপরিবারে বসবাসরত এমদাদুল হক স্ত্রী-সন্তানসহ মামা-মামীকে নিয়ে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পামবীচে ইংরেজি নতুন বছরবরণের ছুটি কাটাতে যান। ২ জানুয়ারি তারা কানাডার অন্টারিয়োর উদ্দেশ্যে যাবার সময়েই এমন দুর্ঘটনায় পতিত হন। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় ৪ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ায় এমদাদ হকের কর্মস্থল ডাটা গ্রুপর কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ডাটা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইন এ সংবাদদাতাকে বলেন, এমদাদুল হক তার প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।

এ দুর্ঘটনার সংবাদে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসাইন  জানান, নিহতদের লাশ কোথায় দাফন করা হবে, তা এখন পর্যন্ত স্থির করা সম্ভব হয়নি। তবে সকলেই ভিকটিমদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গিকার করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক শাখার মহান বিজয় দিবস উৎযাপন 

6coi9cq6-copy

প্রবাস ডেস্ক : বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা, নিউইয়র্ক শাখার উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ম্যারিনার পার্টি সেন্টারে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ এদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হয়। তাই ১৬ ডিসেম্বর আমদের গর্বিত এবং মহিমান্বিত বিজয় দিবস। এদেশের দামাল ছেলেরা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিলো স্বাধীনতার সূর্য।

আজকের এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেসব বীর শহীদদের কথা, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন স্বদেশভূমি পেয়েছি। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। স্বাধীনতার জন্য যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- তাদেরকে সশ্রদ্ধ সালাম জানানোর পাশপাশি অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে মহান বিজয় দিবসে সবাইকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার আহবান করা হয়।

অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক, পেন্সিল্ভ্যানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী ও তাদের পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবরা অংশগ্রহণ করেন। যোগদানের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো ৮৬ বাংলাদেশিকে বহিষ্কার 

1578

নিউ ইয়র্ক, ১৮ অক্টোবর : দালালকে মাথাপিছু ২৫ লক্ষাধিক টাকা প্রদানের পর বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো হয়ে দুর্গম পথে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পদার্পণ করেও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না আরো ৮৬ বাংলাদেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় মাকিন সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে দু’বছরের অধিক সময় অভিবাসন দফতরের ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর এদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে। ‘ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ তথা আইসের পক্ষ থেকে ১৭ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, এসব বাংলাদেশির সকলেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু সে আবেদনের সমর্থনে কোন প্রমাণাদি প্রদর্শনে সক্ষম হননি কেউই। বাংলাদেশে তারা বিরোধী দল তথা বিএনপির কর্মী/সমর্থক হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক অকথ্য নির্যাতনের শিকার, জেল-জুলুমের আশঙ্কা এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল বলেই তারা সকলে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এমন বক্তব্যের সমর্থনে কোন ডকুমেন্ট প্রদর্শনে সক্ষম হননি তারা। বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্যে বেশ কয়েক দফা সময় চেয়েও তারা তা আনতে সক্ষম হননি। অর্থাৎ তারা কেউই বিএনপির কর্মী/সমর্থক হিসেবে ক্ষমতানীর সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার বলে অভিবাসন দফতরকে কনভিন্স করতে সক্ষম হননি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৩/৪ বছরে দুই হাজারের অধিক বাংলাদেশি মেক্সিকো হয়ে বেআইনী পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেফতার হন। এদেরকে টেক্সাস, আরিজোনা, আলাবামা, লুইঝিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন রাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন টেক্সাসের এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারে। বছরাধিককাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মুক্তি না পাওয়ায় গত বছরের শেষার্ধে এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারের অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। তাদের সঙ্গে ভারতীয় এবং পাকিস্তানিরাও অংশ নেন সে ধর্মঘটে। টানা ৭দিনের অনশনে বিচলিত বোধ করেন মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সে ধর্মঘটের অবসান ঘটানো সম্ভব হলেও অধিকাংশকেই জামিনে মুক্তি দেয়া হয়নি। যারা বিভিন্ন শর্তে মুক্তি লাভ করেছেন তারাও কোর্টের নিয়ন্ত্রণে দিনাতিপাত করছেন। যারা মুক্তি পাননি তাদের মধ্যে দেড় শতাধিককে এ বছরের শুরুতে দু’দফায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে মার্কিন বিমানে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ জনের মধ্যে ৪৬ জনের একটি তালিকা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরা বাংলাদেশি কিনা তা নিশ্চিত হতে চায় মার্কিন প্রশাসন। কারণ, এরা বাংলাদেশি নাগরীক হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলেও নাগরিকত্ব সম্পর্কিত সঠিক কোন ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে পারেননি। তারা অভিবাসন আদালতকে জানিয়েছেন যে, দুর্গম পথ পাড়ি দেয়ার সময় পাসপোর্ট খোয়া গেছে অথবা মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেয়ার সময়েই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছে দালালেরা।

আইসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, রাজনীতির নামে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের অসহনীয় ঘটনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে তাদের কাছে। বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অনেকেই বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সংগঠক হিসেবেও প্রমাণপত্র মেলেনি। এজন্যে অভিবাসন দফতরের পক্ষ থেকে ওদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার স্থীর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তারা যে বাংলাদেশেরই নাগরীক সেটি নিশ্চিত হলেই মার্কিন বিমানে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হবে।

বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা তালিকাটি এখানে দেয়া হলো— হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ উদ্দিন, মো. আলম, সোহরাব হোসেন, মো. মোহসিন, বাচ্চু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাম্মেল হোসেন, গাজী কবির, আহম্মদ রুমন, আবুল কাশেম, মো. রহমান, এনামুল ইসলাম, মো. শিপন আহম্মেদ চৌধুরী, আবু বক্কর, মো. আজিজুর রহমান, রিপেন নজরুল, জাহিদুর রহমান, সাবুল হাসাইন, সৌরভ দেব, বিবেক কান্তি দাস, আব্দুল মাসুদ, সাব্বির আহমেদ, জয়নাল আবেদীন, মামুন আলম, মোহাম্মদ শাহাদত, হেলাল উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মনিরুল মুন্না, বি. হুসাইন, মো. আরাফাত, তাজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, সামসুদ্দিন, আব্দুর রহীম, মোহাম্মদ ইসলাম, আকতার হুসেইন, শাহীন আহম্মেদ, নাসির উদ্দিন, ফারুক আহমদ, মোহাম্মদ রহিম, মোহাম্মদ সোহেল, আহমদ শেখ সিব্বিন, শিব্বির আহমদ, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মোহাম্মদ ইসলাম, মো. ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, জাহেদ আহমদ, আবু সাঈদ, মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাসান মোহাম্মদ, শরিফুল হাসান, মো. ওহিদুর রহমান, মোহাম্মদ উদ্দিন, এনায়েত করিম, রিপন সর্দার, ফয়েজ মোল্লাহ, আব্দুস সামাদ, বশির বাবু, মোহাম্মদ হুদা, মোহাম্মদ রহমান, মাইনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, সুলতানুল আরফিন, মিনহাজুর রহমান, হুমায়ুন কবির, নাসের এম. ডাবু, আব্দুল রহমান, মোহাম্মদ ইসলাম, মামুনুর রশীদ, রুহুল আমিন, কালু চৌধুরী, নূরল আলম, শরীফ উল্লাহ, মালিক খসরু, আকরাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আল আমিন, অসীম চন্দ্র দাস, আসাদুল সিদ্দিকী, মিল্টন রোজারিও, ইকবাল হোসেন ও মো. শফিকুল আলম। মার্কিন প্রশাসনের কাছে এদের ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ-শঙ্কায় থাকলেও অধিকাংশই সিলেট ও নোয়াখালী অঞ্চলের বলে জানা গেছে। সকলেরই বয়স ২৮ বছরের নীচে। সকলেই উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাশ বলেও শোনা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করছেন কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক 

808

ঢাকা, ১১ অক্টোবর : কাতারে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের নির্মাণকাজে জড়িত ছিলেন এমন একজন বাংলাদেশী শ্রমিক নির্মম শোষণের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত পরিশ্রম, পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের অভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে এই আইনী লড়াইয়ে যিনি নামছেন, তিনি ২১-বছর বয়সী শ্রমিক নাদিম শরিফুল আলম।

তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে ফিফার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে দায় স্বীকার করে মি. আলমকে ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জুরিখে দায়ের করা অভিযোগের খসড়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফা বিদেশী শ্রমিকদের সাথে ন্যায্য আচরণ করতে কাতারকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঐ প্রতিবেদনে ফিফা কিংবা কাতার সরকারের কোন মন্তব্য জানাতে পারেনি রয়টার্স। তবে অনেকগুলো মানবাধিকার সংগঠন অনেকদিন ধরেই অনেকটা একই রকমের অভিযোগ করছে।

এটি হতে যাচ্ছে ফিফার ইতিহাসে প্রথম মামলার ঘটনা। স্থানীয় সময় সোমবার মামলার পরিকল্পনার কথা ঘোষনা করা হয়।

ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিফার কাছে ১১,৫০০ মার্কিন ডলার দাবী করেছেন মি. আলম। একজন নিয়োগকর্তাকে ৪,০০০ ডলার পরিশোধ করে তিনি কাতারে কাজ করতে আসেন।

নেদারল্যান্ডসের সবচে বড় ট্রেড ইউনিয়ন এফএনভি এ মামলা পরিচালনায় মি. আলমকে সহায়তা দিচ্ছে।

মামলার আর্জিতে কাতারকে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য ‘ন্যূনতম শ্রমমান’ নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে একজন শ্রমিকের অন্তত নিজের ইচ্ছামত চাকরি ছেড়ে দেবার এবং চাইলে কাতার ছেড়ে চলে যাবার অধিকার থাকবে।

কী হয়েছিল নাদিমের?

জুরিখের বাণিজ্য বিষয়ক আদালতে পাঠানো মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, কাতারে পৌছনোর পরই নাদিম শরিফুল আলমের পাসপোর্ট নিয়ে নেয়া হয়।

আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী ১৮ মাস তাকে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জাহাজ থেকে নির্মাণ সামগ্রী খালাসের কাজ করতেন মি. আলম।

শ্রমিকদের থাকার জন্য বানানো বড় একটি ক্যাম্পে তিনি কার্যত বন্দী ছিলেন, সেখানেই ছিল খাবারের ব্যবস্থা।

আবেদনে মি. আলম জানিয়েছেন, যখন তাকে চাকরীচ্যুত করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়, তার হাতে এত অল্প পয়সা ছিল যে নিয়োগকারী সংস্থার ফি মেটানোর অর্থ তার কাছে ছিল না।
কাতারের শ্রমবাজার

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটিতে এই মূহুর্তে প্রতি কুড়িজন শ্রমিকের মধ্যে মাত্র একজন দেশী শ্রমিক।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য গ্যাস সমৃদ্ধ কাতার ২০ হাজার কোটি ডলারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করবে, যার মধ্যে কয়েকটি ফুটবল স্টেডিয়ামও নির্মাণের কথা রয়েছে। এ কাজে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে কয়েক লক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করেছে কাতার।

বিদেশী শ্রমিকেরা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যদেশগুলোর মতই ‘কাফালা’ পদ্ধতিতে কাজ করেন, যেখানে চাকরি বদলাতে হলে কিংবা দেশ ছাড়তে নিয়োগকারীর অনুমতি নিতে হয়।

বিক্ষোভ করা বা শ্রমিকদের জোট করলে বিদেশী শ্রমিকদের কারাদণ্ড এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার বিধান রয়েছে।

এর আগে কাতার বিদেশী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে না, এমন অভিযোগ শোনা গেছে।

ইতিমধ্যেই তার সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ভবনশ্রমিক ও কাঠ মিস্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সমিতি।

তবে, সম্প্রতি দেশটি বর্তমান শ্রম আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ বছরের ডিসেম্বর থেকে এই নিয়ম চালু করা হবে যে নিয়োগকারী দেশ ছাড়তে অনুমতি না দিলে একজন বিদেশী শ্রমিক সরকারের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমিরাতে হান্নান শাহ’র রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

sherz25w

দুবাই, ৩ অক্টোবর : সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ’র রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (০২ অক্টোবর) দুবাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে জাগি রেস্টুরেন্টের হল রুমে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরান হোসেনের পরিচালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন দুবাই বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ রফিক।

মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিসের পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন দুবাই বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইমুন রানা ফারুক ভুঁইয়া।

এসময় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- আনোয়ারুল আলম মুনছুর, হুমায়ন কবির সুমন, মাওলানা মুহাম্মদ সোয়েব, জায়নাল আবেদিন জিল্লু, ফজুলুল রহমান খান পাপ্পু, শাহাদাৎ হোসেন তালুকদার, মুহাম্মদ জলিল, নাসির শিকদার, মুহাম্মদ ইলিয়াস, সেলিম আজাদ মুন্না, মুহাম্মদ শহিদ চুট্টু, আকরামুল হক সুমন, ইসমত আলী ও জাকির হোসেন।

দোয়া-মাহফিলে উপস্থিত সবাই মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশ, জাতি, বিশ্ব উম্মাহ শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর