২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:৩৪, শনিবার

আজও ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আজও ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা 

558

ঢাকা, ২৪ জুন : গতকালের মতো আজও কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর থেকে ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৯ টায়। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০ টা যখন বাজে তখনও ট্রেনটি এসে কমলাপুরে পৌঁছেনি। স্টেশন কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দুপুর ১ টার পর ট্রেনটি রংপুরের উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়ে যাবে।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি না ছাড়ায় চরম গোন্তিতে পড়েছে ট্রেনের যাত্রীরা। দুপুর ১ টায়ও ট্রেনটি ছাড়তে পারবে কিনা এনিয়ে শঙ্কায় তারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ 

93

ঢাকা, ২৪ জুন : প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এখানে প্রায় এক লাখ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাঁচ হাজার নারী মুসল্লির নামাজ পড়ার পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এখন শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ চলছে। রবিারের মধ্যে ময়দান নামাজ পড়ার জন্য পুরো প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া খুব বেশি প্রতিকূল না হলে সকাল সাড়ে ৮টায় এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্র্রপতি মো. আবদুল হামিদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই জামাতে অংশ নেবেন।

১৩ রমজান থেকে ঈদগাহ সাজানোর কাজ শুরু হয়। ২২০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। শুক্রবার ঈদগাহ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষ। ফ্যান লাগানো হয়েছে। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে শামিয়ানার ওপর পানি নিরোধক ত্রিপল লাগানো হয়েছে। মাঠের সীমানা ও আশপাশের গাছে রঙ করা হয়েছে। সামনের সড়ক বিভাজকও রঙ করা হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধক নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। মাঠের ঘাস কাটা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির কর্মকর্তা মিল্লাতুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে জানান, তাদের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। রোববারের মধ্যে ময়দান পুরো প্রস্তুত হয়ে যাবে। শেষ দিন সন্ধ্যায় জায়নামাজ বিছানো হবে। অজুর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঁচটি অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব। এ ছাড়া সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াড থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা পরিদর্শন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ সময় তিনি ঈদের জামাতে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে না আনার পরামর্শ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নিষেধ করা হচ্ছে না তবে পানির বোতলও না আনলে ভালো হয়। নিরাপত্তার জন্য অনেক ডিভাইস মোতায়েন করা হবে। ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো হুমকি নেই বলে জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সোমবার ঈদের সম্ভাবনা 

889

ঢাকা, ২৪ জুন : বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে আগামীকাল রবিবারই চাঁদ দেখা যেতে পারে। সেটি হলে এবার রোজা হবে ২৯টি।

আর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে আগামী ২৬ জুন সোমবার।

এদিকে আজ ২৪ জুন শনিবার সৌদি আরবের আকাশে ঈদের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা। এটি হলে আগামীকাল রবিবার সৌদিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আলজাজিরার খবরে বলা হচ্ছে যে পেরু, ইকুয়েডর ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে আজ ২৪ জুন ঈদের চাঁদ দেখা যাবে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে ঈদ উদ্‌যাপনের এক দিন পরই বাংলাদেশে ঈদ হয়। তবে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কেউ কেউ ওই দিনই ঈদ উদ্‌যাপন করে।

তবে দেশে ঈদ কবে হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখা ও ঈদ উদ্‌যাপনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রহমান অনেকটা নিশ্চিত করে জানান, ২৫ জুন রবিবার দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যাবে। ফলে নিশ্চিতভাবে ২৬ জুন সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ&যাপিত হবে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন না থাকলে নিশ্চিতভাবে চাঁদ দেখা যাবে।

মূলত তিনটি বিষয় পর্যালোচনা করে আবদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান। প্রথমত, দিগন্ত থেকে আলটিচিউড ১০ ডিগ্রি হলেই চাঁদ দেখা যায়। হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, ওই দিন আলটিচিউড ১৪ ডিগ্রির ওপরে থাকবে। এ হিসাবে চাঁদ দেখা যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। দ্বিতীয়ত, ২৪ জুন (শনিবার) সকাল ৮টায় নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সূর্যের আলোয় চাঁদ দেখা যায় না বলে ২৫ জুন সন্ধ্যায় চাঁদের বয়স হবে ৩৪ ঘণ্টা। ফলে চাঁদ দেখা না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তৃতীয়ত, গোধূলির পর আকাশে চাঁদ মাত্র ২০ মিনিট অপেক্ষা করলেই তা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, ওই দিন গোধূলির পর ৪৮ মিনিট অবস্থান করবে চাঁদ। দৈবাৎ কিছু না ঘটলে ২৫ জুন চাঁদ ওঠা ও ২৬ জুন সোমবার ঈদ উদ্‌যাপিত হওয়া শতভাগ নিশ্চিত বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক।

গতকাল বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৫ জুন রবিবার সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ&যাপিত হবে এবং ওই দিন থেকেই ১৪৩৮ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের গণনা শুরু হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আজ ২৪ জুন শনিবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে বর্তমান চাঁদের অমাবস্যা কলা পূর্ণ করে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। এটি ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে সূর্যাসে্তর সময় দিগন্ত রেখা থেকে ২ ডিগ্রি ওপরে ২৯০ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং ১৩ মিনিট আকাশে থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে অস্ত যাবে। এই সন্ধ্যায় চাঁদের কোনো অংশ আলোকিত থাকবে না এবং বাংলাদেশের আকাশেও চাঁদ দেখা যাবে না। এটি পরদিন ২৫ জুন রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা থেকে ১৫ ডিগ্রি ওপরে ২৮৪ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং প্রায় এক ঘণ্টা ১৩ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে রাত ৮টা ২ মিনিটে ২৯১ ডিগ্রি দিগংশে অস্ত যাবে। ওই সময় চাঁদের ৩ শতাংশ আলোকিত থাকবে এবং বাংলাদেশের আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে একে ভালোভাবে দেখা যাবে। ওই সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর আকাশে ওঠা চাঁদের বয়স হবে ৩৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট এবং সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মহাসড়কে গাড়ির গতি ধীর 

477

ঢাকা, ২৪ জুন : ঈদের ছুটি রবিবার থেকে শুরু হলেও আগের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কার্যত আজ থেকেই যেন ছুটি শুরু। তাই গতকাল নগরের বিভিন্ন বাসস্টেশনে ঈদযাত্রীদের ভিড় ছিল বেশ। তবে মহাসড়কগুলোর কোথাও ব্যাপক যানজটের খবর পাওয়া না গেলেও ছিল টুকরো টুকরো যানজট। গাড়ি চলেছে ধীরগতিতে।

গাবতলী : রাজধানী অন্যতম বাসস্ট্যান্ড গাবতলী। সকাল সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বাস টার্মিনালে থেকে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ শুক্রবার সকালে এখানকার দৃশ্যপট ভিন্ন। গতকাল বাস সময়মতো আসছিল। যাত্রীরাও ঠিকঠাক গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। আজ পরিস্থিতি আলাদা। সকালবেলা কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, বিরক্তমুখে বসে আছেন যাত্রীরা। বেশির ভাগ বাসই সময়মতো আসছে না। গাবতলী থেকে উত্তর ও দক্ষিণের রুটের বাসগুলো ছাড়ে। কাউন্টারে রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তর দিকের যাত্রীদের ভিড়ই বেশি। অবশ্য বরিশাল, খুলনা, যশোর, ফরিদপুরসহ দক্ষিণের দিকের যাত্রীও কম নয়।

আমিনবাজার : সকাল আটটার দিকে গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো প্রথমেই থমকে যায় এ জায়গাটিতে। তবে এরপর সেখানে যানজট হালকা হয়ে যায়। সারা দিন ধরতে গেলে ফাঁকাই ছিল।

নবীনগর : বেলা ১১টায় দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর পর্যন্ত যানবাহন চলেছে ধীরগতিতে। সাভার ট্রাফিকের পরিদর্শক আবুল হোসেন বলেন, সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিশমাইল, সাভার সেনানিবাস এলাকায় তিনটি যানবাহন বিকল হয়। এ কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নবীনগরের মোড়ে বেশ কটি বাসের টিকিট কাউন্টার। এখানে তাই এসব বাস থামে। সে কারণে এখানে যানজট সৃষ্টি হয়। গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের সব গাড়ি এবং আরিচা ও পাটুরিয়াগামী গাড়িগুলোকে এ পথ দিয়েই যেতে হয়। বড় এলাকায় তাই জট সৃষ্টি হয়।

বাইপাইল : মহাখালী থেকে আবদুল্লাহপুর হয়ে টাঙ্গাইল বা উত্তরবঙ্গগামী গাড়িগুলো জামগড়া, জিরাব পার হয়ে বাইপাইল আসে। আবার নবীনগর থেকে গাড়িগুলোও এ পথে যায়। আজ সকাল থেকে এখানে এসে অনেক গাড়িই শ্লথ হয়ে গেছে।

চন্দ্রা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রার চন্দ্রা ও আশপাশের বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ভোর থেকে শত শত যাত্রী যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে বাসগুলো ভর্তি হয়ে আসায় ছাদেও তিলধারণের জায়গা নেই। কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকারের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবারের মতো আজ সকালেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। কোনাবাড়ী, চন্দ্রার পর কিছু এলাকায় ধীরগতিতে যান চলছে। গাড়ির বেশি চাপের কারণে এমনটা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঘরমুখী মানুষ নির্বিঘ্নে যেতে পারবে। বিকেলের দিকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়বে।

রাজাগোড়াই : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের যেখানে যানজটের আশঙ্কা বেশি সেখানে আজ তেমন ছিল না। এর কারণ এই শিল্প এলাকায় তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানাগুলোর সব কটিতে এখনো ছুটি হয়নি। তবে যেগুলো ছুটি হয়েছে, সেসব কারখানার কর্মীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে বাসের অপেক্ষায়। তবে ধেরুয়াতে যখন ট্রেন চলে তখন মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। আর এর ফলে সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। দিনে ২৬ বার এমনটা হয়। আজ গাড়ির চাপ বাড়লে এটি হতে পারে যানজটের একটি বড় এলাকা।

টঙ্গী : ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়কে আবদুল্লাপুর পার হয়ে টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। তবে কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই।

সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এলাকার যাত্রীরা ভিড় জমান সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী টার্মিনালে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সায়েদাবাদে তেমন ভিড় ছিল না। বাসের জন্য গতকালের মতো খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি্। যাত্রবাড়ীতে ছিল মাওয়া ঘাটের যাত্রীদের ভিড়। এখানে বাসের যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পুরো টার্মিনালে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে্। যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। তাই সেখান থেকে যাত্রী ওঠানোর জন্য বাস থামানো এবং এর ফলে যানজটের চিরাচরিত চিত্রটি আজ নেই।

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে রাজারহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে আজ শুক্রবার সকাল থেকে। বেলা তিনটার পর কমতে থাকে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে যানজট শুরু হয়ে ধীরে ধীরে মহাসড়কের রাজারহাট এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ঘরমুখো শ্রমিকদের 

55

ঢাকা, ২৩ জুন : সাভার ও আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে শুক্রবার থেকে ছুটি ঘোষণার পর থেকে ঈদে ঘরমুখো শ্রমিকদের ট্রাক ও বাসের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে নিজ গন্তব্যে যাত্রা করতে দেখা গেছে।

এই যাত্রায়ও টিকিট না পেয়ে তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পাশাপাশি বাসের কাউন্টারগুলোতেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের।

কয়েকজন শ্রমকি জানান, টিকিট শেষ হয়ে গেছে এ কথা বলে তাদের থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোয় ছুটি ঘোষণার পর শুক্রবার সকাল থেকে থেকেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। এসময় দল বেঁধে ব্যাগ হাতে শ্রমিকদের ছুটতে দেখা যায় গাড়ির জন্য।

এদের অনেকেই বাসে আসন না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় বেছে নিয়েছে ট্রাক, কেউ বাসের ছাদ ও পিকআপের মতো পরিবহনকে।

কয়েকজন শ্রমিক জানান, আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় কোনো কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে তারা ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে উঠার চেষ্টা করছেন। এজন্য উত্তরাঞ্চরের দিকে গন্তব্যের জন্য ট্রাকের ভাড়া দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

নবীনগর থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছেন সাইদা বেগম, পারভীন আক্তারসহ কয়েকজন গার্মেন্ট শ্রমিক। তারা বলেন, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়তি ভাড়া পরিশোধে বাধ্য হচ্ছেন তারা। যত কষ্টই হোক বাড়িতো যেতে হবে।

নিরাপদে ও ঠিক মতো পৌঁছলে আর রাস্তার কষ্ট কিছুই মনে থাকবে না বলে জানান তারা।

অপরদিকে সাভারের হেমায়েতপুর, বাজার বাসস্ট্যান্ড, আশুলিয়ার নবীনগর, বাইপাইল, শ্রীপুর ও জিরানী এলাকার বাসের কাউন্টারগুলোতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ঢল 

989

ঢাকা, ২৩ জুন : পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিনেও ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় হাসিমুখেই ঢাকা ছাড়ছেন রেলপথের যাত্রীরা। যারা আগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারা নির্বিঘ্নে যাত্রা শুরু করছেন। আর যারা টিকিট কাটেনি তারা তাদের টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটছেন।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে নিরাপদেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ। যাত্রীরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, এ জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দল টার্মিনালগুলোতে রয়েছে।

বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সচেতনতার জন্য দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নাটিকা। এসব নাটিকায় যাত্রীদের নিরাপদে ভ্রমণ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হচ্ছে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কীভাবে অপরিচিত লোক ক্ষতি করতে পারে, এ ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জনসচেতনতার জন্য বিভিন্ন পোস্টারে অজ্ঞান ও মলম পার্টির বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভিড় কমছে রাজধানীতে 

882

ঢাকা, ২৩ জুন : ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ফলে জনবহুল এই শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা। এবার ঈদের সরকারি ছুটি ২৫ থেকে ২৭ জুন অর্থাৎ রবিবার থেকে মঙ্গলবার। তার আগে দুদিন শুক্র আর শনিবার থাকায় কার্যত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। ঘরে ফেরা চলছে শুক্রবারও। চলবে আরো কয়েক দিন।

অবশ্য কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কয়েক দিন আগেই ছুটি দিয়েছে। সাধারণত শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় সড়কে মানুষের চলাচল কম থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রধান প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। ঘরমুখী মানুষদের ভিড় বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে। তাই মূল সড়কে এখন আর চাপ নেই।

মতিঝিল মগবাজার, মিরপুর সড়ক, রামপুরা, গুলশান, ফার্মগেটে মানুষের তেমন ভিড় ছিল না। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ছিল অনেক কম। কিছু বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে।

এদিকে, ঈদের আগে বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় বিকালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে রাজধানীর বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে। শুক্রবার সকাল থেকেও রাজধানীর তিনটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট নেই। তবে যানবাহন চলছে ধীর গতিতে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঘরমুখী যাত্রীরা যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ওসি হোসেন সরকারের ভাষ্য, বৃহস্পতিবারের মতো আজ সকালেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। কোনাবাড়ি, চন্দ্রার পর কিছু এলাকায় ধীর গতিতে যান চলছে। গাড়ির বেশি চাপের কারণে এমনটা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঘরমুখী মানুষ নির্বিঘ্নে যেতে পারবে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়বে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট 

532

ঢাকা, ২৩ জুন : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজটের কারণে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ যানজটের কারণে পথে পথে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

যাত্রী ও চালকদের সূত্র জানায়, মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর মেঘনা-গোমতী সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনা সেতু পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট লাগছে। এদিকে দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় ওভারলোড গাড়ি নিয়ন্ত্রণে অনলাইন স্কেলে টাকা আদায়ে ধীরগতির কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হোমনা সুপার পরিবহনের যাত্রী রকিব উদ্দিন বলেন, সেহেরি খেয়ে ভোর সাড়ে ৪টার সময় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঁচপুর সেতুর ওপর থেকে যানজটে আটকা পড়ি। পথে পথে যানজট থাকায় সকাল ৮টায় দাউদকান্দি এসে পৌঁছি।

গজারিয়া হাইওয়ের ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট আবুল হাসেম বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ি চাপ রয়েছে। এদিকে দুই দিকে চার লেনের গাড়িরগুলো মেঘনা-গোমতী সেতু দিয়ে দুই লেন হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ে। সেতুর ওপর দিয়ে দুই লেনে ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করায় এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন সেতু না হওয়া পর্যন্ত এ যানজট নিরসন করা সম্ভব নয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তীব্র যানজটে দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ 

996

ঢাকা, ২২ জুন : ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ঢাকা-আরিচা ও আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যানজন যেন আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকা রেডিও কলোনী থেকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও থানা থেকে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার যানজট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ঢাকার বহিমুর্খি আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে মধুমতি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও খানা খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনগুলি ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে সকাল থেকেই বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ গাড়ির লাইন দেখা গেছে। এতে চরম বিপত্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

এ বিষয়ে সাভার ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা থেকে যানবাহন না টানলে কালিয়াকৈর সড়ক থেকে যানজট দূর করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

তবে পুলিশের একাধিক দল যানজট নিরসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এএসপি মিজানুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন 

363

ঢাকা, ২২ জুন : হাইওয়ে পুলিশের এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তার ময়নাতদন্ত শেষ হয়। ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ড. প্রদীপ বিশ্বাস।

প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা লাশের ভিসেরা সংরক্ষণ করেছি। নিহত মিজানের শরীরের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

মিজানুর রহমানের ছোটভাই মাসুম তালুকদার জানান, তার ভাইয়ের প্রথম জানাজা হবে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, দ্বিতীয় জানাজা হবে আশকোনায়। এরপর টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের ভুয়াপুরে তার তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার রাজধানীর রূপনগর থানাধীন মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকার বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশ থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা একটি ঝোপে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ডিএমপির রূপনগর ও সাভার থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিআইডব্লিউটিসি’র ১৫ দিনের ঈদ সার্ভিস শুরু হচ্ছে আজ 

55

ঢাকা, ২২ জুন : সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা-খুলনা রুটে ১৫ দিনের বিশেষ ঈদ উল ফিতর সার্ভিস ট্রিপ শুরু করতে যাচ্ছে।

মোট ৬টি জাহাজ দিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত এ ট্রিপ চলবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার উপ-মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্যিক/যাত্রী পরিবহন) শেখ মো: নাছিম। এ সময় নিয়মিত রুটের জাহাজও ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, হুলারহাট, মোড়েলগঞ্জ ও খুলনা রুটের যাত্রীদের চলাচলে সংযোগ-সুবিধা দেবে।

১৫ দিনের এ বিশেষ ঈদ উল ফিতর সার্ভিস ট্রিপের চলাচলকারী ৬টি স্টিমার হচ্ছে- পিএস (প্যাডেল স্টিমার ) অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস টার্ন, পিএস লেপচা এবং এমভি (মোটর ভেসেল) মধুমতি ও এমভি বাঙ্গালী। এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙ্গালী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে যাত্রার মাধ্যমে ১৫ দিনের বিশেষ ঈদ উল ফিতর সার্ভিস ট্রিপ শুরু করবে।

এছাড়া পিএস অস্ট্রিচ ২৩, ২৮ ও ৩০ জুন ঢাকা প্রান্ত থেকে, ২৫ জুন ও ২ জুলাই মোড়েলগঞ্জ এবং ২৯ জুন বরিশাল প্রান্ত থেকে যাত্রা করবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু 

6

ঢাকা, ২২ জুন : বিআরটিসির বাসের ঈদ স্পেশাল সার্ভিস আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার এক তথ্য বিবরণীতে একথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিগত বছরের মতো এ বছরও বিআরটিসি ঘরমুখো মানুষের সহজ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ২২ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ঈদ স্পেশাল সার্ভিস এর আয়োজন করেছে।

২০ জুন থেকে ঢাকাস্থ মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর দ্বিতল বাস ডিপো এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (ফুলবাড়িয়াস্থ সিবিএস-২) হতে বিআরটিসির অগ্রিম টিকিটের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যাত্রী সাধারণকে বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের সেবা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিরপুরের বেড়িবাঁধ থেকে এএসপির লাশ উদ্ধার 

88

ঢাকা, ২২ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিরপুর-আশুলিয়া রোডে রূপনগরের বিরুলিয়ায় বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া গলায় কাপড় বাঁধা ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

কে বা কারা এএসপি মিজানুর রহমানকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কিছু জানাতে পারেননি।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমান আজ ভোর পাঁচটার দিকে উত্তরার বাসা থেকে বের হন। এরপরই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

পরিবার জানায়, তিনি কর্মস্থল সাভারের উদ্দেশে তিনি বাসা বের হয়েছিলেন।

এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার এক বছর ধরে হাইওয়ে পুলিশের সাভার সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে পুলিশ আজ সন্ধ্যার পরে এএসপি মিজানুর রহমানের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়। আগামীকাল তার লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হবে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, এএসপি মিজানুর রহমান এক বছর ধরে সাভারে কর্মরত ছিলেন। তার হত্যার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম জানান, এএসপি মিজানুর রহমানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যার পর বেড়িবাঁধ এলাকায় তার লাশ ফেলে গেছে।

ওসি আরো জানান, নিহতের গলায় কাপড় দিয়ে পেঁচানো ছিল। তার শরীরে একটি চেক শার্ট ছিল। পরনে প্যান্টটি ছিল পুলিশের ইউনিফর্ম। সাথে ব্যাগে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চাবিও পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা এখানে কিভাবে এলেন বা কারা তাকে এখানে নিয়ে এসেছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, আজ সকালে বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তার লাশের সাথে থাকা দু’টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব, পিবিআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এএসপি মিজানুর রহমান ভোর পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। তার নামে অফিসিয়াল কোনো গাড়ি ইস্যু করা ছিল না। একারণে তিনি ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার নিয়ে অফিসে যেতেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটি তার বাড়ির গ্যারেজেই রয়েছে। তার সাথে থাকা ব্যাগের ভেতরে পুলিশের ইউনিফর্মের শার্ট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অফিসে গিয়ে ইউনিফর্মের শার্ট পরেন। কিন্তু গাড়ি ছাড়া তিনি কেন বের হলেন তার কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও তার স্ত্রী বা সন্তানের কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। এই বিষয়টি সন্দেহজনক। পরিবারের সদস্যদের সাথে তার কোনো ঝামেলা ছিল কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত মিজানুর রহমান তালুকদারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকার আলিভুখা গ্রামে। ঢাকার উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন তিনি।

১৯৮৯ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন মিজানুর রহমান। তিন বছর আগে এএসপি হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই সন্তানের জনক তিনি। তার বড় মেয়ে সুমাইয়া উত্তরার একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে। আর ছোট ছেলে মুশফিক প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্নে শামীম শেখ জানান, তারা বুঝতে পারছেন না কে বা কারা তার খালুকে হত্যা করেছে। তার খালুর সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল কি-না তা তারা বলতে পারছেন না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্রেনের সূচি এলোমেলো; মহাসড়কেও যানজট 

8822

ঢাকা, ২২ জুন : ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ট্রেনের সিডিউলে গড়বড় হয়েছে। বুধবার ভোরের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যয় শুরু হয়। যথাসময়ে যাত্রা করতে পারেনি পাঁচটি ট্রেন। এক থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে এসব ট্রেন। মহাসড়কেও ছিল যানজট। থেমে থেমে গাড়ি চলায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। গন্তব্যে পৌছতেও লাগে অতিরিক্ত সময়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার। ধারণা করা হচ্ছে, এদিন  থেকেই ঈদযাত্রার চিরচেনা ভিড় শুরু হবে। লাখো মানুষ নাড়ির টানে বাড়িতে ছুটবেন। মহাসড়কে থাকবে গাড়ির তীব্র চাপ। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ভাঙাচোরা মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা মনে ভয় জাগাচ্ছে।

প্রতিবারের মতো এবারও ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু হয় একদিন আগেই। যারা ২১ জুনের আগাম টিকিট নিয়েছিলেন, তারা বুধবার ঢাকা ছাড়েন। গত মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেশনে সংকেত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে ২৩টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা ছাড়ে। গন্তব্যে পৌছাতেও দেরি হয়। সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে বুধবার ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়। সকালটা ভালো কাটলেও বিপত্তি শুরু হয় বেলা ১২টার পর।

রেলের কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বগিতে সমস্যা হওয়ায় ও ঢাকায় ফিরতে দেরি করায় সময়সূচিতে গড়বড় হয়েছে।’

সিলেটের উদ্দেশে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ বেলা ১২টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। বগিতে সমস্যার কারণে ট্রেনটি ছেড়ে যায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ‘রাজশাহী এক্সপ্রেসের’ কমলাপুর ছাড়ার কথা ছিল বেলা ১২টা ২০ মিনিটে। ছেড়ে যায় দুপুর ২টায়। ময়মনসিংহের উদ্দেশে ‘ঈশা খাঁ এক্সপ্রেসের’ সকাল সাড়ে ১১টায় রওনা করার কথা ছিল। ট্রেনটি ৪৫ মিনিট বিলম্বে ছাড়ে। ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ বিলম্ব করে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা ছিল ‘রংপুর এক্সপ্রেসের’, ছেড়ে যায় ১০টায়। অন্যান্য ট্রেনগুলোও ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে।

রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ জানায়, গত মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেশন থেকে অধিকাংশ ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ায় বুধবার ঢাকায় ফিরতেও বিলম্ব হয়। তাই সময়সূচি রক্ষা করা যায়নি। বিশেষ করে লালমনি, নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ দূরবর্তী অঞ্চলের ট্রেনে প্রতি ঈদেই সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার কমলাপুরে ইন্টারলকিং বিকল হয়ে পড়েছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (হাতে সংকেত ঠিক করা) চালাতে গিয়ে ২৩টি ট্রেন সময়মতো পৌছাতে ও ছেড়ে যেতে পারেনি।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হয়েছিল। তবে বুধবার সংকেতে ত্রুটি ছিল না।

এদিকে, ঈদযাত্রার চাপ শুরুর আগেই বুধবার মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে এদিনও রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাস টার্মিনাল গাবতলীতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের তেমন চাপ দেখা যায়নি, টিকিটও সহজে পাওয়া যায়। এদিন ঢাকা থেকে যাত্রার শুরু নির্বিঘ্নে হলেও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে ও উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোথাও যানজটে পড়েন। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট পথেও ছিল যানজট। ঢাকা থেকে সিলেটের পথে যেতে কাঁচপুর পেরিয়ে যাওয়ার পর গাড়িগুলোকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায়, সেখানে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে। ওই স্থানে খানাখন্দ ভরা সড়কের কারণে যাত্রীদের ধকল পোহাতে হয়। একই অবস্থা নরসিংদীর ঘোড়াশালে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বুধবারও যানজট ছিল।

সকালে কুমিল্লার পদুয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে যানজট শুরু হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা ১২টার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু এর প্রভাবে সারাদিনই ওই মহাসড়কে থেমে থেমে গাড়ি চলে। মহাসড়কের পদুয়াবাজারে রেলওভার নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণকাজের কারণে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো ইট-বালি দিয়ে ভরাট করা হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশেও ছিল যানজট। আগের রাতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বুধবার ভোর থেকে দিনভর থেমে থেমে গাড়ি চলে।

মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে ঈদযাত্রায় বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিকল্প সড়কেও দুর্ভোগ কমছে না যাত্রীদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভুলতার দুর্ভোগ এড়াতে যারা পাঁচদোনা সড়ক ব্যবহার করছেন, তারা ভাঙা সড়কের ভোগান্তিতে পড়ছেন। সড়কটি সরু ও খানাখন্দে ভরা।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদের পর শুরু নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ 

52

ঢাকা, ২২ জুন : ঈদের পরপরই শুরু হচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাকর্মযজ্ঞ। আইন সংস্কার ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সংলাপ জুলাইয়ে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। পাশাপাশি ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এবারের নির্বাচনে ‘অটো সিল’ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইসি। এ ছাড়া নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণ হতে পারে। সে পরিকল্পনা নিয়েই ইসি কাজ করছে। প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। সাংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে চার নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে পৃথক চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজ এবং যুগোপযোগী করতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার, অভিজ্ঞ সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। এজন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সংলাপের সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এবারের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচনী আইন সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইন সংস্কারের বিষয়ে প্রস্তাব নিয়েছে ইসি সচিবালয়। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে এসব আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এজন্য সংলাপ বিষয়ে প্রযোজনীয় কাগজপত্র তৈরি করছে ইসি সচিবালয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণবিষয়ক সময়সীমা নির্ধারণ করেছে ইসি। এ বছরের আগস্টের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করবে ইসি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র প্রস্তুতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত। ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য নতুন করে ভোটার হালনাগাদ করা হবে নির্বাচনের আগেই। এজন্য ২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর ৩০০ আসনের জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ করা হবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে। ইসি সচিব মো. আবদুল্লাহ নির্বাচন ভবনে গতকাল এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে ২০ আগস্ট থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি। তিনি আরও জানান, যারা এরই মধ্যে ঠিকানা স্থানান্তর করেছেন, তাদের নতুন ঠিকানায় ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ফরম-১২ পূরণ করতে হবে এবং যে এলাকায় ভোটার হতে চান সে এলাকায় থানা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হবে। দেশে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১০ কেটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখানে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ হয় জনসংখ্যার ঘনত্বের ভিত্তিতে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় যদি ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণ করতে হয়, তাহলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর আসন বেড়ে যাবে। গ্রামাঞ্চলে কমে যাবে। এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা নয়, ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে কিছু আইনগত সমস্যা সমাধান করা হবে। ’

সংসদ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নির্বাচনী রোডম্যাপে। এজন্য চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন চাইবে ইসি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে নিবন্ধন প্রদান এবং এপ্রিলের মধ্যে রাজনৈতিক দলের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া আগামী বছরের জুলাই থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে ইভিএম বিষয়ে মতামত দিয়ে তা ব্যবহারের বিষয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা ব্যবহারের বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে প্রচার শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থাও করবে ইসি। অটো সিল ব্যবহার : আগামী সংসদ নির্বাচনে অটো সিল ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এতে কালি ব্যবহার করতে হবে না। এ ছাড়া স্মার্ট গোপন ভোটকক্ষ, স্মার্ট অমোচনীয় কালিও ব্যবহার করা হবে। এসব জিনিসপত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করবে ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমরা তাদের (ইউএনডিপি) কারিগরি সহযোগিতা চাই। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ভোটার, প্রার্থী ও ইসি কার কী দায়িত্ব তা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে তারা প্রচার উপকরণ প্রস্তুতের ব্যাপারে সহায়তা করবে।’-বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর