১৯ অক্টোবর ২০১৭
সকাল ১১:৩২, বৃহস্পতিবার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে মিয়ানমার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে মিয়ানমার 

666

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘মাই ওয়ার্ল্ড ইজ ফিনিশড: রোহিঙ্গা টার্গেটেড ইন ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি ইন মিয়ানমার’। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জের ধরে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর কীভাবে পদ্ধতিগত, সংগঠিত, নিষ্ঠুর অভিযান চালিয়েছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাখাইনে সেনাবাহিনীর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহে রাজ্যটি থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্সবিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে। দৃশ্যত এটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে দেশছাড়া করার চেষ্টা। সেনাবাহিনীর এ নিষ্ঠুরতা গত কয়েক দশকের মধ্যে নিকৃষ্টতম শরণার্থী সংকট তৈরিতে অব্যাহত ভূমিকা রেখেছে। এসব জঘন্য অপরাধ প্রকাশ করাটা ন্যায়বিচারের দীর্ঘ পথযাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত চিত্র ও উপাত্ত, অন্যান্য ছবি ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে অ্যামনেস্টি এই উপসংহারে এসেছে। এতে দেখা গেছে, রাখাইনে লাখো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ব্যাপক এবং পরিকল্পিত সহিংসতার শিকার হয়েছে; যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিতে ১১ ধরনের কর্মকাণ্ড যখন এ রকম হামলার ক্ষেত্রে জেনেবুঝে করা হয়, তখন তা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে বিবেচিত। এগুলোর মধ্যে অন্তত ছয় ধরনের অপরাধ রাখাইনে সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে নথিভুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি। এই ছয় ধরনের অপরাধ হলো হত্যা, নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতা, নিপীড়ন ও অন্য অমানবিক কর্মকাণ্ড যেমন: খাবার ও অন্যান্য জীবন রক্ষার উপকরণ সরবরাহে বাধাদান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর। ঘরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে অক্ষম বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ। স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামে বাড়িঘর পুড়ছে। কিন্তু মাত্র ১০০-২০০ গজ দূরে রোহিঙ্গাদের বসবাস নেই এমন এলাকা সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

সহিংসতা থামানোর আহ্বান
ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) পররাষ্ট্রবিষয়ক হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেডেরিকা মোঘারিনি গতকাল মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় মোঘারিনি তাঁকে বলেন, ১৬ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করা, রাজ্যটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু এবং সহিংসতার মূল কারণ উদ্ঘাটনে আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী 

3777

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর : প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার স্ত্রী সুষমা সিনহাও অষ্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে এর আগে ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অষ্ট্রেলিয়া যান।

মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সুষমা সিনহা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ নম্বর ফ্লাইটে করে অষ্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ৫ অক্টোবর অষ্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি। সেদিন বাসা থেকে বেরিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ও তার স্ত্রী সুষমা সিনহা গুলশান-২ এ দেশটির ভিসা সেন্টারে যান। সেখানে বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যে তাদের বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর তারা দুজনই অষ্ট্রেলিয়ার ভিসা পান। হাতে ভিসা পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত ১৩ অক্টোবর রাতে অষ্ট্রেলিয়া যান। কিন্তু তার স্ত্রী সুষমা সিনহা দেশেই ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যেদিন রাতে দেশ ত্যাগ করেন সেদিন রাতে বিমান বন্দরে গিয়েছিলেন সুষমা সিনহা।
প্রধান বিচারপতিকে বিদায় দিয়ে সুষমা সিনহা বাসায় ফেরেন। এরপর গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সুষমা সিনহাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তিনিও দেশ ত্যাগ করলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার পেলেন ২ হাজার ৩২৩ জন 

159

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর : ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। মঙ্গলবার বিকালে প্রকাশিত এ ফলাফলে ২ হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ৫ হাজার ৫৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৬৩১জন। ক্যাডারের বাইরে উত্তীর্ণ ৩ হাজার ৩০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নন-ক্যাডার হিসাবে পরবর্তীতে মেধার সুপারিশপ্রাপ্ত হবেন।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এ প্রতিবেদককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ২ হাজার ৩২৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ২৯২ জন, পুলিশে ১১৭ জন, ট্যাক্সে ৪২জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২০ জন, স্বাস্থ্যে ১৮৭জন, কৃষিতে ৩২২জন, বিভিন্ন শিক্ষা ক্যাডারে ৯৯৬জনসহ অন্যান্য ক্যাডারে বাকীরা নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে পিএসসির সভায় এ ফলাফল অনুমোদন করা হয়। ৩৬তম বিসিএস এর প্রার্থী সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৩২৬ জন। প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩ হাজার ৮৩০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন ৫৫৯০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা গত ১২ মার্চ থেকে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হয়ে গত ৭ জুন শেষ হয়। বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ১৮০ জনকে নিয়োগ দিতে ২০১৫ সালের ৩১ মে ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

আগামী সপ্তাহে ৩৭তমের ফল

আগামী সপ্তাহে ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে পিএসসি। ৩৭তম বিসিএস এর প্রার্থী সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন। ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫২৩ জন উত্তার্ণ হন। গত ২৩ এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ শেষ হয়েছে। ১ হাজার ২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

নভেম্বরের প্রথমে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলি

পিএসসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ২ হাজার ২৪টি শূণ্য পদে নিয়োগ দিতে ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি গত ২০ জুন প্রকাশ করা হয়। গত ১০ জুলাই থেকে ১০ আগষ্ট পর্যন্ত চাকুরি প্রার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। মোট রেজিস্ট্রেশনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন। এ যাবত বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আবেদন এই ৩৮তম বিসিএসে পড়েছে। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জিয়া ও বিএনপির প্রশংসায় ইসি 

25

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর : ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিএনপি জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম নুরুল হুদা।

রবিবার বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি। এসময় জিয়াউর রহমানসহ বিএনপি সরকারের নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তিনি তুলে ধরেন।

সকাল ১১টায় সিইসির সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ সংলাপে অংশ নেন।

শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বিএনপিতে যুক্ত হন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট ও দলনেতা হিসেবে ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।’

সংলাপে অংশ নেয়া বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘আজকের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অনেকেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছেন। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার ভূমিকা রেখেছেন।’

বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, ‘দেশ পরিচালনাকালে বিএনপি সরকার দেশে বহুবিদ নতুন ধারার প্রবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলককরণ, পৃথক প্রাথমিক গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, আইন কমিশন গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছরে উন্নীতকরণসহ অনেক উন্নয়ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিএনপি সরকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। সফল রাষ্ট্র পরিচালনার তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বড় রাজনৈতিক দল পরিচালনায়ও তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আজকের সংলাপের দিকে জাতি তাকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অধীর আগ্রহ, গভীর আন্তরিকতা ও খুব ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে বলে জানান তিনি।

কমিশন বিএনপির সঙ্গে সফল সংলাপ প্রত্যাশা করে বলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, আব্দুর রশিদ সরকার, আব্দুল হালিম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ। তবে অসুস্থতার কারণে অংশ নিতে পারেননি এমকে আনোয়ার।

বিএনপির পক্ষ থেকে ২০টি প্রস্তাবনা লিখিত আকারে ইসিকে প্রদান করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের হামলায় হত্যা মামলার আসামি নিহত 

1542

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর : রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সেই যুবকের নাম পাইটু রানা (২২)।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর লালবাগ এলাকার খান মসজিদ সংলগ্ন চৌরাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাইটু রানা ওই এলাকার সাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়াও তার নামে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু 

558

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর : রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট শরিফ মার্কেট এলাকায় রাকিব নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একটি মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে আছে এমন সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তবে ওই এলাকায় কোন ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে তা সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ধারণা, ওই এলাকার কোনো এক ভবন থেকে রাকিব লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করেছে। সে শরিফ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চাকুরি করতো। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মিডফোট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কলকাতায় বিজেপি কার্যালয় থেকে বাংলাদেশি নাগরিক আটক 

55

কলকাতা, ১৪ অক্টোবর : কলকাতায় বিজেপি সদর দফতরে শুক্রবার আচমকাই ঢুকে পড়ে মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি। উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকে সে।
তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের।

এরপর তাকে জেরা করতেই জানা যায় সদর দফতরে ঢুকে পড়েছে এক বাংলাদেশি। খবরটি জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় বিজেপি নেতাদের মধ্যে। ততক্ষণে তাকে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মামুন রসিদ (৪৩)। বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলার বেঠিয়াঘাটাতে। ঠিক কি উদ্দেশ্য সে বিজেপি সদর দফতরে গিয়েছিল তা এখনও পরিস্কার নয়। তার কাছ থেকে কোনও বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

এদিকে ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিদেশী আইন ধারায় মামলা দায়ের করেছে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। তাকে আগামীকাল ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তেলের কনটেইনারে নাফ নদী পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা 

888

ঢাকা, ১২ অক্টোবর : মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে বর্মি সেনাদের বর্বরতা থেকে বাঁচতে এবার তেলের খালি কনটেইনারে করে নাফ নদী পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা।

বুধবার দুপুরে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন জেটি ঘাটের অদূরে নাফ নদী সাঁতারে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশকালে ১১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

গত বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশি ট্রলারে করে রোহিঙ্গাদের পরিবহনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে কয়েকজন মাঝিকে এ জন্য আটক করে শাস্তি দেয়া হয়। ফলে অনেক রোহিঙ্গা নিজেদের বাঁচাতে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়, কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে নানা উপায়ে নদী ও সাগর পাড়ি দেয়। এখন মিয়ানমার ছেড়ে আসা বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নিজেদের ট্রলারে করে বাংলাদেশে আসছে।

বুধবার নাফ নদী থেকে ১১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজীব। তিনি বলেন, জেটি ঘাটের দুই কিলোমিটার পূর্বে নাফ নদী সাঁতরে কিছু লোক বাংলাদেশের জলসীমানায় অনুপ্রবেশ করতে দেখে কোস্টগার্ডের টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় তেলের খালি কনটেইনারসহ ১১ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য পাঁচজন নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছলেও অপর ছয়জন দূরে তেলের কনটেইনার ধরে ভাসছি। তাদের উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

উদ্ধার হওয়া ফয়েজ উল্লাহ ও ইমাম হোসেন  জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের গ্রাম এক মাসের বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রেখেছে। গ্রামের লোকজনকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ফলে গ্রামের লোকজনকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি না খেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাই তারা প্রাণে বাঁচতে নাদী পাড়ি দেন।

নদী থেকে উদ্ধার ১১ জন মিয়ানমারের বুশিদং (বুথিদং) এলাকার বলিপাড়া, পুমালি, টাইম্ম্যাখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান তারা।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো দলে দলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রধান বিচারপতির বিদেশে যাওয়ার অনুমতিপত্রে রাষ্ট্রপতির সই 

4425

ঢাকা, ১২ অক্টোবর : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সরকারি আদেশের (জিও) অনুমতিপত্রে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বুধবার রাত সারে ৮ টার দিকে অনুমতিপত্রে সই করেন তিনি। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক জানান, প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনের সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি সই করেছেন।

এর আগে দুপুরে নথিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সই করেন বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এদিকে দুপুর ১ টার দিকে রাজধানীর হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. একেএম সালেক।

তিন মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দুপুর দেড়টায় তিনি বেরিয়ে যান। তারও আগে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান তার বন্ধু ধানমণ্ডির ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তিনি বেরিয়ে যান। পরে বেঞ্চ রিডার মাহবুব হোসেন বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ভেতরে প্রবেশ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৪৫ দিনে দেড়শ’ কোটি টাকার বন উজার 

882

ঢাকা : বাংলাদেশে নতুন করে আসা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে এরইমধ্যে বনের দেড়শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সার্বিকভাবে পরিবেশেরও অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এই ক্ষতির জন্য মন্ত্রণালয়কেই দায়ী করতে চান পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে নতুন করে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপে কক্সবাজার এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ‘‘এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের কারণে ১৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।’’

কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে মানবিক কারণে। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে। কিন্তু তাঁদের জ্বালানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা প্রাকৃতিক বন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টেকনাফ রোডের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শুধু বনের ক্ষতি দেড়শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিবেশের ক্ষতির হিসাব অনেক বেশি।’’

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করে আগামী বৈঠকে জানানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।’’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে পাহাড়, জলাশয়, সমুদ্রসৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে কোন খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি ওই ব্রিফিংয়ে। কমিটি বনের ক্ষতি কমাতে রোহিঙ্গাদের জ্বালানিসাশ্রয়ী চুলা সরবরাহের সুপারিশ ও প্রয়োজনে তাঁদের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানোর পরামর্শ দিয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য টিপু সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এটা সম্ভব হলে বনের ক্ষতি ৫০ শতাংশ কমে আসবে। রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার পর যেসব এলাকা ফাঁকা হচ্ছে, সেখানে নতুন করে বনায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।’’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র মুখপাত্র ইকবাল হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এর জন্য দায়ী সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সুনির্দষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতেই যদি পরিকল্পনা করা হতো তাহলে ক্ষতি অনেক কম হতো।’’ কী ধরণের পরিকল্পনা নেয়া যেতো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তাঁদের আশ্রয়ের জন্য যতটা সম্ভব পাহাড় ও বন বাদ দিয়ে সমতল ভূমি বেছে নেয়া যেতো। আবার পাহাড় ও বনভূমি সব জায়গায় নাই। সেইসব জায়গা বেছে নেয়া যেতো। আর জ্বালানীর বিকল্প ব্যবস্থা করা যেতো। শুধু গাছপালা বা পাহাড় কাটা নয়, পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণেও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’’

তবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের কারণে বন ও পরিবেশের কী পরিমান ক্ষতি হয়েছে সে হিসাব সরকারের কাছে এখনো নাই। ক্ষতি অবশ্যই হয়েছে। সংসদীয় কমিটি যদি কোনো ক্ষতির হিসাব পাঠায়, আমরা তা দেখবো।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে পদক্ষেপ নেয়ার কী আছে? তবে তাঁদের আশ্রয়ের বিষয়টি সাময়িক। তাঁরা এখানে স্থায়ীভাবে থাকবে না। তাঁরা আসছে, আরো আসবে। ফেরত নেয়ার কথা চলছে। দেখা যাক কী হয়।’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘যারা সরকারে থাকে না, তাঁরা তো সব জাদুর মতো করে ফেলে। আগাম পরিকল্পনা করা অসম্ভব, কারণ, রোহিঙ্গারা তো আর বলেকয়ে আসেনি। তাঁরা যে যার মতো নদী পাহাড় স্থলপথ দিয়ে এসেছে। এসে যে যার মতো থাকা শুরু করেছে।’’

কক্সাজারের বন বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার প্রায় ৪ হাজার একর বনাঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে উখিয়া রেঞ্জের কুতুপালং, থাইংখালী ও আশাপাশের ৩ হাজার, টেকনাফ রেঞ্জের ৪৫০ একর, শিলখালী রেঞ্জের ৩৭৫ একর ও পুটিবুনিয়া রেঞ্জের ৫০ একর পাহাড়ি জায়গা রোহিঙ্গাদের দখলে রয়েছে। এর বাইরেও কিছু এলাকায় তাঁদের বসতি রয়েছে।’’

সরকার কুতুপালংয়ের বালুখালি এলাকায় দুই হাজার একর বন এবং পাহাড় অধিগ্রহণ করেছে সব রোহিঙ্গাকে এক জায়গায় রাখার জন্য। জানা গেছে, আরো এক হাজার একর অধিগ্রহণ করা হবে। এটা করা হয়েছে ২৫ আগস্টের পর থেকে। তবে এর আগে ১৯৭৮ সাল থেকে কয়েক দফায় আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য  চার হাজার একর বন ও পাহাড় অধিগ্রহণ করা হয়। এসবই বনবিভাগের সংরক্ষিত বন ও পাহাড়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. এএইচএম রায়হান সরকার দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গাদের বসবাস এবং পরিবেশের ওপর এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন। তিনি গত শনিবার ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘পুরনো এবং নতুন রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্র গড়েই উঠেছে সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কেটে। এখানে পরিবেশকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এরই মধ্যে কক্সবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানে হাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গাছপালা উজাড় হচ্ছে। বন না থাকায় নানা ধরণের প্রাণি ও পাখি বিলুপ্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো পাহাড় ধস আরো বেড়ে যাবে।’’-ডয়চে ভেলে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাখাইনে গিয়ে কী দেখলেন বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত? 

88

ঢাকা, ১২ অক্টোবর : মঙ্গলবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানও।

সেই সফর সেরে ফেরার পর বিবিসি বাংলাকে এদিন দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত মি রহমান জানান, রাখাইনে গিয়ে তিনি বাস্তুচ্যুত বহু রোহিঙ্গার মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখেছেন এবং তারা নিজেদের গ্রামে আর ফিরে যেতে চায় না বলেও তাদের জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন সেখানে যেভাবে ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে তা ‘হঠাৎ করে ঘটেনি’ বলেই তার মনে হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী আরও চারটি দেশ, অর্থাৎ চীন, ভারত, থাইল্যান্ড এবং লাওসের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইনের পরিস্থিতি দেখাতে গতকাল সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

সরকারি সহযোগিতায় সম্পাদিত সেই সফর সেরে ফেরার পর সুফিউর রহমান বলছিলেন, গোটা অঞ্চল জুড়ে আমি মাইলের পর মাইল ধরে যে পোড়া বাড়িঘর দেখেছি, তা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এ জিনিস হঠাৎ করে হয়নি বলেই আমার মনে হয়েছে।

সফরে তার সঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও একই রকম ‘কাছাকাছি ভাবনা’র শরিক বলেও তিনি জানান।

পাঁচ বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বৌদ্ধপ্রধান রাথিডং এলাকার একটি গ্রামে, যেখানে একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামে কিছু মুসলিম রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

তারপর রাখাইনের সাগরপাড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামও তারা আকাশপথে হেলিকপ্টারে চেপে ঘুরে দেখেন। পরে তিন-চারটি জায়গায় তাদের গাড়িতে চাপিয়েও নিয়ে যাওয়া হয়।

সব জায়গাতেই স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা হয়েছে সরকারি দোভাষীদের মাধ্যমেই। কথোপকথনের সময় সরকারি কর্মকর্তারাও সেখানে হাজির ছিলেন।

সুফিউর রহমান বলছিলেন, এই মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিল চরম নিরাপত্তাহীনতার ছাপ। তারা বলছিলেন তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা। নিজের গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এই মানুষেরা, তবে তার পরেও তারা যে সেখানে আর ফিরতে চান না সে কথা আমাদের খোলাখুলিই বললেন।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা একটু আড়াল হতেই তাদের কথাবার্তা থেকে একটু অন্যরকম আভাসও পাওয়া যায়, বোঝা যায় সে কথাগুলো তারা সরকারের প্রতিনিধিদের সামনে বলতে সাহস পান না।

সেই আভাসটা কী ধরনের, এই প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মি রহমান জবাব দেন, তারা যে কথাটা মুখ ফুটে বলতে পারেন না বলে মনে হয় সেটা হল তাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা শুধু একটা প্রতিবেশী ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে না।

এর পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক হাত রয়েছে বলেও তাদের কথা থেকে ইঙ্গিত মেলে, কিন্তু সাহসে ভর করে তারা কারও নাম উচ্চারণ করতে পারেন না।

তার সফরসঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও এই বিশাল মানবিক সঙ্কটের ব্যাপকতা দেখে বিচলিত বলে সুফিউর রহমানের মনে হয়েছে। তারা সবাই এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে যত দ্রুত সম্ভব এই সঙ্কট মোকাবিলা করা দরকার।

তবে তারা এটাও বিশ্বাস করেন, এ কাজ একা মিয়ানমারের পক্ষে সম্ভব নয় – এ জন্য তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক সহায়তা লাগবে।  সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশ-মিয়ানমার উভয়কেই হাতে রাখতে চায় চীন 

45858

ঢাকা, ১০ অক্টোবর : বাংলাদেশ-মিয়ানমার কাউকেই হাতছাড়া করতে চায় না চীন। বাংলাদেশকে দূরে না সরিয়েই মিয়ানমারকে সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। শরণার্থী সংকট সমাধানে দু’দেশের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছে বেইজিং। কূটনীতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলছে চীন। এরই মধ্যে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের প্রতি নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ মিলেছে।

তবে বাংলাদেশকেও রুষ্ট করতে চায় না বেইজিং। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২ হাজার তাঁবু ও ৩ হাজার কম্বলসহ ১৫০ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে বেইজিং। পুরোপুরি মানবিক দিক বিবেচনায় এ সাহায্য করেছে বলে দাবি চীনের। বেইজিং মনে করে, বাংলাদেশের এ বোঝায় ভাগ নেয়া উচিত তাদেরও।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেছেন, ‘বাংলাদেশ যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সে ব্যাপারে চীন উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ত্রাণ দিয়ে পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটের বিতর্কেও চীন মিয়ানমারকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনার তোপে পড়া মিয়ানমার যেন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় না পড়ে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বেইজিং।

চীনের জন্য রাখাইন রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সাবেক গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের সংবাদমাধ্যম ইরাবতির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কিয়াকফিউ সমুদ্রবন্দর করতে চায় চীন। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিতে এই চেষ্টা তাদের। কিয়াকফিউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।

এছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে একটি রেলপথও তৈরি করতে চায় তারা, যার মাধ্যমে মিয়ানমার হয়ে ইউনান প্রদেশ যুক্ত হবে। নতুন সিল্ক রোড প্রকল্পের জন্য তাদের এটা প্রয়োজন। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, চীন তাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মিয়ানমার-বাংলাদেশ শান্তি আলোচনা চায়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘চীন নিজেদের মতো করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায়। বেইজিং আশা করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ পরিস্থিতি উত্তরণে এগিয়ে আসবে এবং সংলাপের পথ সহজ করবে।’

এর আগেও এপ্রিলে চীনের এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সুন গুয়াশিং বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ঢাকা ও নেপিদোকে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হল পাকিস্তানের সমর্থন। চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এ দেশটি পর্দার আড়ালে সমর্থন না দিলে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ সাফল্যের মুখ দেখবে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ 

658

ঢাকা, ১০ অক্টোবর : আজ মঙ্গলবার (১০.১০.২০১৭) বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ মেছের আলি ও মাতা মোছাঃ মাজু বিবি। কালজয়ী এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।

তিনি ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আশা ইইউর 

66

ঢাকা, ১০ অক্টোবর : সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা বিলোপ হবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ ১০ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডবিরোধী ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক দিবসকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার গণমাধ্যম সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে ঢাকায় ইইউ মিশন প্রধানরা এ আশার কথা জানান।

চিঠির লেখকরা হলেন বাংলাদেশে ইইউর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মারিয়ো রনকোনি, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিয়ো পালমা, জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস হেনরিক প্রিঞ্জ, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিয়োনি কুয়েলেনায়েরে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মাইকেল হেমনিতি উইন্থার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো ডি সালাস জিমেনেজ ডি আজকারাতে, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত র্শালটা শ্লিটার ও ফ্রান্সের সিডিএ জ্যাঁ-পিয়েরে পনসেট।

চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসের প্রাক্কালে ইইউ মৃত্যুদণ্ডের বিরূদ্ধে নীতি পূণর্ব্যক্ত করছে। ইইউ মনে করে, মৃত্যুদণ্ড অমানবিক ও অপ্রয়োজনীয়। কোনো বিচার ব্যবস্থাই নির্ভুল নয়। বিচার ব্যবস্থার যে কোনো ভুল নিরাপরাধ প্রাণের মর্মান্তিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সব ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই কোনো ব্যক্তির বেঁচে থাকার অধিকার রাষ্ট্রের কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।

ইইউ আশা করে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সব সনদ কার্যকরে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং মৌলিক মানবাধিকার ও মানুষের সম্মান জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নিম্নচাপে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা 

55

ঢাকা, ১০ অক্টোবর : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল সোমবারের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উপকূলীয় বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি গতকাল সকালে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে স্থলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরসহ পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর