২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সকাল ৭:১৩, রবিবার

ইসলামবাগের আগুনে তিনজনের মৃত্যু

ইসলামবাগের আগুনে তিনজনের মৃত্যু 

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি : রাজধানীর বুড়িগঙ্গার পারে ইসলামবাগ এলাকার প্লাস্টিক কারখানা ও বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, ওই আগুনের ঘটনায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের মধ্যে শামীম নামের একজন রয়েছে। অন্য দুজনের নাম জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি প্লাস্টিক কারখানায় শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন আগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীমুর রশীদ তালুকদার বলেন, ইসলামবাগের টিনশেডের বসতবাড়িতে আগুন লাগে। সেখানে প্লাস্টিকের কারখানা ছিল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বন্ধু যখন এক নম্বর শত্রু! 

অনলাইন ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারি : অ্যান্থনি লেভানডস্কি। ছবি: এএফপি।অ্যান্থনি লেভানডস্কি। ছবি: এএফপি।চার বছরের কম সময়ে হয়েছিলেন গুগলের ‘তারকা’ প্রকৌশলী। এরপরই তিনি হয়ে গেলেন ১ নম্বর শত্রু! গুগলের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রকল্পে ২০১৩ সালে যোগ দেন অ্যান্থনি লেভানডস্কি। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এক প্রকৌশলী হিসেবে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউ ইয়র্কার। সার্চইঞ্জিনের এক অসম্ভব প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি।

কিন্তু চার বছর না যেতেই তিনি গুগলের ১ নম্বর শত্রু এখন। কিন্তু কেন?

গত বৃহস্পতিবার গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশনের স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বিভাগ ওয়েমোর পক্ষ থেকে লেভানডস্কির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, লেভানডস্কি অ্যালফাবেটে কাজ ছেড়ে দেওয়ার সময় সেখান থেকে মূল্যবান মেধাস্বত্ব চুরি করে তাঁর বর্তমান প্রতিষ্ঠান উবার টেকনোলজিস ইনকরপোরেশনকে দিয়েছেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে অ্যালফাবেট ছেড়ে আসার আগে তাঁর কার্যক্রম পর্যালোচনার করে ওয়েমো ওই অভিযোগ করেছে। ওয়েমোর দাবি, লেভানডস্কির ওয়েব সার্চ, ডাউনলোড ও এক্সটার্নাল ড্রাইভ যুক্ত করার বিষয়টির ডিজিটাল প্রমাণ রয়ে গেছে।

অ্যালফাবেটের ওয়েমো ও উবারের মধ্যে ম্যাপিং, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বিষয়গুলো নিয়ে শত্রুতা বাড়ছে। এর কেন্দ্রে চলে এসেছেন লেভানডস্কি।

লেভানডস্কি তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পেছনে ছুটেছেন। তাঁর স্বপ্ন হচ্ছে, রোবটচালিত গাড়ি রাস্তায় চালানো। বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ২০০৪ ডারপা গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ নামের একটি স্বয়ংক্রিয় মোটরসাইকেল তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে ব্যবহৃত লেজার প্রযুক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠান ৫১০ সিস্টেম শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে গুগলে ঢুকে স্ট্রিট ভিউ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। গাড়িতে ব্যবহৃত ম্যাপিং হার্ডওয়্যার তৈরির কাজ করেন তিনি। পরে গুগলের গোপন গাড়ি প্রকল্পে যুক্ত হন। তবে লেভানডস্কির পরিচিতজনেরা বলেন, গুগলে কাজ করার পাশাপাশি গোপনে নিজের ৫১০ সিস্টেমস নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে গুগল তাঁর ওই স্টার্টআপ অধিগ্রহণ করে।

এর কয়েক বছর পর গুগলে কাজ করতে করতে আবারও গোপনে নিজের আরেকটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন লেভানডস্কি। অটো নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের আগস্টে ৬৮ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নেয় উবার।

ওয়েমোর করা মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, লেভানডস্কি তাঁর করপোরেট ল্যাপটপে ২০১৫ সালে বিশেষ সফটওয়্যার ইনস্টল করে লিডার প্রযুক্তির ১৪ হাজার স্পর্শকাতর ফাইল ডাউনলোড করেছেন। এ ফাইলগুলো স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েমোর ডিজাইন সার্ভারে ঢোকার প্রাণপণ চেষ্টা করে তাঁর কার্যক্রম লুকানোর চেষ্টা করেছেন লেভানডস্কি।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি উবারের অফিসে যান এবং পরের দিন অটো নামের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। দুই সপ্তাহ পর কোনো নোটিশ ছাড়াই তিনি অ্যালফাবেটে চাকরি ছেড়ে দেন।

অ্যালফাবেটের গাড়ির ইউনিট থেকে বেশ কয়েকজন কর্মী চাকরি ছাড়ার পর এই মামলা করা হলো। বেশ কয়েক বছর ধরে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করলেও এখনো বাণিজ্যিকভাবে কোনো গাড়ি বাজারে ছাড়েনি প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালফাবেট থেকে চাকরি ছাড়ার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে আছে চাকরির শর্ত। যাঁরা প্রথম দিককার কর্মী তাঁরা চাকরি ছাড়লে বড় অঙ্কের বোনাস পান। ওয়েমোর মামলার এজাহারে বলা হয়, গুগল থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার অর্থ গ্রহণ শেষ করার পরে অটোকে অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় উবার।

উবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অটো ও উবারের কর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যত্নসহকারে পর্যালোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে ইকোনমিক টাইমস–এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে লেভানডস্কি ফোন কলের উত্তর দেননি। তবে গত বছর ফোর্বসকে বলেছিলেন, ‘আমরা গুগলের কোনো আইপি চুরি করিনি। আমরা নিশ্চিত করে বলতে চাই, আমরা বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার। আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছি। পরিষ্কার থাকতে আমাদের সব লগ রাখা হয়।’

জুলাই মাসে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির প্রচেষ্টায় লেভানডস্কিকে শীর্ষ পর্যায়ে রাখে উবার। পরের মাসেই এ ক্ষেত্রে তাঁদের যাত্রার ঘোষণা দেয়।

উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টারভিস কালানিক অটোকে অধিগ্রহণের সময় লেভানডস্কি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় লেভানডস্কি আমার আরেক মায়ের পেটের ভাই।’ তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঠেঙ্গারচরে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ চান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান 

কক্সবাজার, ২৫ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর করার আগে সেখানে বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ অন্যত্র সরানোর আগে সেখানে সব ধরনের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় আজ শনিবার পৃথক তিনটি রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন শেষে এ দাবি করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

আজ শিবিরগুলো পরিদর্শনের সময় কাজী রিয়াজুল হক অন্তত ৪৫ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও দমনপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে হতবাক হন তিনি।

রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরিতে জনমত গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গারা কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে।

আজ সকাল ১০টার দিকে কমিশন চেয়ারম্যান উখিয়ার কুতুপালংয়ে অবস্থিত অনিবন্ধিত ও নিবন্ধিত দুটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে যান উখিয়ার বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাশিবিরে।

মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে কমিশন চেয়ারম্যানের এই পরিদর্শন।

কুতুপালং অনিবন্ধিত শিবির পরিদর্শনের সময় নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী মমতাজ বেগম (২৭) কমিশন চেয়ারম্যানকে বলেন, তিনি দেড় মাস আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার থেকে পালিয়ে এই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমারের পুলিশ চোখের সামনে তাঁর বাবাকে বাড়িতে পুড়িয়ে হত্যা করে। স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁর ছোট মেয়েকেও আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে।

১৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোরী বলে, টানা এক মাস রাখাইন রাজ্যের সেনাসদস্যরা বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণ করেছে। একপর্যায়ে তার চোখের সামনে তার মাকেও ধর্ষণ করে হত্যা করে সেনারা। তাঁর দুই ভাই ও বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

রাখাইন রাজ্যের মংডুর উত্তরে রাহাইম্মু ঘোনা থেকে পালিয়ে এসেছে সেতেরা বেগম (৯) নামে এক শিশু। সে কমিশন চেয়ারম্যানকে বলে, চোখের সামনে তাঁর চার ভাই ও বাবাকে মেরে ফেলেছে। পালিয়ে আসার সময় মাকেও ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের পুলিশ। পরে অন্যদের সঙ্গে সে বাংলাদেশে চলে আসে। এখানে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে।

রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বর্ণনা শোনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের মিলিটারি ও পুলিশ দ্বারা রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে, এটি অত্যন্ত লজ্জার ও দুঃখজনক। বাঙালি হিসেবে আখ্যায়িত করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতন করছে মিয়ানমার সরকার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের সে দেশে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা।

রিয়াজুল হক বলেন, বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখেও না দেখার ভান করে রোহিঙ্গাদের দেশে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। রোহিঙ্গা চাপ শুধু আজকে নয়; দীর্ঘদিন ধরে বহন করছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত জনবহুল দেশের পক্ষে এটা অসম্ভব হয়ে উঠছে। তারপরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রাথমিকভাবে বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন, তা সহায়তা করছে। কিন্তু এই সহায়তা যথেষ্ট নয়।

কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে দেনদরবার করে যেসব দেশের আয়তন বড় সেসব দেশে রোহিঙ্গাদের ‘থার্ট কান্ট্রি রিসেটেলমেন্ট’ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ইউরোপ অন্যতম।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মেঘনা গুহ ঠাকুর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন অবশ্যই গণহত্যার শামিল। সবার উচিত এটার কড়া প্রতিবাদ করা।’
পরিদর্শনের সময় আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।

আজ সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের হিলটপ সার্কিট হাউসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা কমিশন চেয়ারম্যানের।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাদিয়ার তিন বন্ধুর চোখে জল 

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি : তাঁর বন্ধুরা ঘুমিয়ে যেতেন কিন্তু তিনি রাত জেগে পড়তেন। তাই তাঁর ফল ভালো ছিল। আর বাকি ছিল মাত্র আট মাস। এরপর তিনি হয়ে যেতেন একজন চিকিৎসক, যা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই শৈশবে। কিন্তু তাঁর সব স্বপ্ন-সাধনা আজ শনিবার খুন করেছেন একজন বাসচালক। বাসের ধাক্কায় এই মেডিকেল শিক্ষার্থী সকালে নিহত হন। নাম তাঁর সাদিয়া হাসান (২২)। তিনি পুরান ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

সাদিয়ার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা, নাদরাতুল নাইন ও সাবিহা শিকদার প্রথম আলোকে বললেন, আর মাত্র আট মাস পর তাঁরা চিকিৎসক হবেন। কিন্তু সাদিয়া আর কোনো দিন চিকিৎসক হতে পারবেন না। চিকিৎসক হয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলেন তিনি। নিহত সাদিয়ার বাড়ি রাজশাহী শহরে। তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থেকেই লেখাপড়া করতেন।

সাদিয়ার রুমমেট ছিলেন তাঁর বন্ধু নাদরাতুল নাইন। গত বৃহস্পতিবার সাদিয়া পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে। পড়াশোনার চাপে এক বছর তিনি বাড়িতেই যাননি-বলছিলেন নাদরাতুল। আজ শনিবারও সাদিয়াদের গাইনোকলজির ওপর পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রাজশাহী থেকে মা শাহীনা সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল কলেজে ফিরছিলেন। বংশাল থেকে ন্যাশনাল মেডিকেলের দূরত্ব বড় জোর এক কিলোমিটার। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল নয়টায়। বংশালে মা-মেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিলেন, তখন সময় ৭টা ৪০ মিনিট। ঠিক তখনই সদরঘাটগামী একটি বাস পেছন থেকে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কায় দেয়।

সাদিয়ার বন্ধু ফাতেমা বললেন, ‘আর হয়তো পাঁচ মিনিট পরই সাদিয়া কলেজের হোস্টেলে পৌঁছে যেতে পারত। আমাদের সঙ্গে বসে পরীক্ষাও দিতে পারত। কিন্তু এত কাছে এসেও সাদিয়া আসতে পারল না।’ সাদিয়ার বন্ধু ফাতেমা যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তাঁর পাশে থাকা নাইন ও সাবিহা কেঁদে উঠছিলেন। সমস্বরে চিৎকার দিয়ে এই তিনজনই বলছিলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করে সাদিয়া যখন চিকিৎসক হওয়ার পথে, ঠিক তখন তাঁর এই মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’

সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর এই তিন বন্ধুর শেষ দেখা ও কথা হয় গত বৃহস্পতিবার কলেজের ক্লাসরুমে। এক বছর বাড়িতে না যাওয়ায় সাদিয়া রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর একজন শিক্ষককে সাদিয়া সেদিন বলেছিলেন, শনিবারের (আজ) পরীক্ষাটি বৃহস্পতিবার নিয়ে নেওয়ার জন্য। নিয়ম না থাকায় সেদিন আর তিনি সেই পরীক্ষাটি দিতে পারেননি।

ফাতেমা তুজ জোহরা বললেন, ‘সাদিয়া ছিল হাসিখুশি একটা মেয়ে। ও অনেক ভালো মেয়ে ছিল। যেকোনো বিষয়ে ওর জ্ঞান ছিল। যেকোনো বিষয় সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে পারত।’ সাদিয়া প্রায় তাঁর বন্ধুদের বলতেন, চিকিৎসক হয়ে তিনি বিনা মূল্যে গরিব রোগীদের সেবা করবেন।

সাদিয়া ঢাকায় থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকত বাড়িতে। বিশেষ করে তাঁর মাকে তিনি খুব ভালো বাসতেন। সাদিয়ার বন্ধু নাদরাতুল নাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাদিয়ার জগৎ ছিল মা-কেন্দ্রিক। বড্ড বেশি মাকে ভালোবাসত। মোবাইল ফোনে একনাগাড়ে এক ঘণ্টা, আধা ঘণ্টা ধরে কথা বলত। মায়ের কথা খুব মনে পড়ত। তাই আজ শনিবার পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও শুধু তাঁর মাকে দেখার জন্য ও (সাদিয়া) রাজশাহী গিয়েছিল।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রতিযোগিতায় পেছনে হাঁটবে বাংলাদেশ! 

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি : গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে দেশের শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিল্প খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই দাম বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তেমন যৌক্তিক হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকলে তা সব জ্বালানির ক্ষেত্রে হওয়া দরকার ছিল। তাহলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ত।

গত বৃহস্পতিবার সব ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দুই দফায় মার্চ ও জুনে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে। নতুন দাম অনুযায়ী জুনে শিল্প ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে হচ্ছে ৭ টাকা ৭৬ পয়সা, যা আগে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল। অর্থাৎ শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে স্পষ্টভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

পারভেজ বলেন, ‘চলতি বছর বিশ্বে এমনিতেই রাজনৈতিক পট বদল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাজ্যের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে। এমন অবস্থায় আমাদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে। এসব দেশের ক্রেতারা প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকবেন, যার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। এখন বিশ্ববাজার ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক, আমাদের সামান্য দুর্বলতার কারণে বাজার চলে যেতে পারে অন্য দেশের কাছে। এমনিতেই রপ্তানিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেশ কম। ভিয়েতনাম, ভারত আমাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, তা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

দীর্ঘদিন ধরেই মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশের বেশি পোশাক খাত থেকে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পোশাকের রপ্তানি আয় ৫ শতাংশ কম। মূলত পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি না করার কারণেই সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ভালো করতে পারছে না বাংলাদেশ।

আনোয়ার উল আলম চৌধুরী জানান, শুধু তৈরি পোশাক নয়, এই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঋণ নিয়ে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে দেখতে গেলে ব্যাংকেও ঋণ খেলাপি বেড়ে যাবে। এবং একটা সময় ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক চাইলেও সুদের হার কমাতে পারবে না।

এ ছাড়া গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে সরকার জোর দিলেও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমবে বলে মনে করেন তিনি।

২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বাদে সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। সব গ্রাহক শ্রেণির গ্যাসের দাম সবশেষ বাড়ানো হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। এত দ্রুত আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে এই ব্যয় পূরণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছে বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে স্পিনিং বা সুতা তৈরির মিলগুলো অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। সুতা উৎপাদনের খরচ বাড়লে বেশি দামে সুতা নিতে হবে বস্ত্রকলগুলোকে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (বিটিএমএ) খোরশেদ আলম বলেন, ‘দেড় বছর আগে ১০০ ভাগ দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই ক্ষতিই এখনো পূরণ করতে পারিনি। আবার বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্তত তিন বছরের ব্যবধান থাকা উচিত ছিল। আমরা যারা গার্মেন্টসে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ সাপ্লাই করি, তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব। গার্মেন্টস চাইলেও আমাদের দাম বেশি দিতে পারবে না। তাদের দাম বাড়ানোর জন্য অনেক বিষয় থাকে।’

খোরশেদ আলম বলেন, আগে বস্ত্রশিল্পে সরকার প্রণোদনা দিত। এখন দেওয়া হয় না। এ অবস্থায় এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে কারখানা চালু রাখাই দায় হয়ে পড়বে ব্যবসায়ীদের।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাঁরা মনে করছেন এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ায় শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বাড়বে। উৎপাদনকারীরা বাজারেও দাম বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে পরিবহন খরচও যোগ হয়। অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচ বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বাড়বে। গ্যাসের সংযোগ নিতে হয় স্বল্প-মধ্য-ধনী সব শ্রেণির মানুষের। ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ গৃহস্থালি গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে জীবনযাত্রার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নতুন দাম অনুয়ায়ী, গৃহস্থালি খাতে আগামী ১ জুন থেকে মাসিক বিল এক চুলার ক্ষেত্রে ৯০০ ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া সিএনজির দাম ১ জুন থেকে হবে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫ টাকা। বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম দাম বাড়ানোর আদেশ দেওয়ার সময় বলেন, যে দামে গ্যাস কেনা হয়, বিক্রি করা হয় তার চেয়ে কম দামে। কেনা ও বেচার দামের মধ্যকার ব্যবধান দূর করা এবং দেশের সব মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দাম বাড়ানোর লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের দায়ভার যেন বেশি না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে।

তবে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা এখন ছিল না। তিনি বলেন, প্রথম কথা গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী? দাম কম বা বেশি তো মাপকাঠিতে বিচার করতে হবে। গ্যাসের ক্ষেত্রে তো সরকার ভর্তুকি দেয় না।

এ দিকে সব ধরনের জ্বালানির দাম সমন্বয় হলে এই প্রভাব কম হতো বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম কমানো বা বাড়ানো উচিত।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সমন্বয় করলে প্রভাব নিম্ন মাত্রায় হতো। তাহলে এই বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আসত না। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন গ্যাসের পর বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হবে। তবে এসব ক্ষেত্রে যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের দাম কমানো হতো, তাহলে জ্বালানি ক্ষেত্রে দামের সমন্বয় হতো। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে ও বাজারভিত্তিক কাঠামো অনুযায়ী দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন।

গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি আমলে নিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানির সংকটের কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে, এটিকে একটি যৌক্তিক কারণ বলা যেতে পারে। তবে সব জ্বালানির ক্ষেত্রেই দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ে ঢুকছে অস্ত্রের চালান 

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দিয়ে অস্ত্র পাচার হয়ে আসার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি ছোট অস্ত্রের চালানও আসছে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে। সম্প্রতি অবৈধ অস্ত্রের বেশকিছু চালান এসেছে ৩ পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কাছে। এই অস্ত্র হাতবদল হয়ে সমতলের জেলাগুলোয় যাচ্ছে। আবার ৩ পার্বত্য জেলায় তৎপর বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর হাতেও পৌঁছাচ্ছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ গড়ে তারা নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করছে। চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধে ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড় অশান্ত করতে এ ধরনের অপতৎপরতা চলছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র। তারা মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোকে নানাভাবে সংগঠিত হতে সহায়তাও করছে। আবার ৩ পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গ্রুপগুলোকেও ইন্ধন দিচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও মিয়ানমারের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী/সন্ত্রাসী সংগঠনের সহায়তায় বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে প্রায়শই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে তৎপর বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব অস্ত্র আমদানি করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে। যা পার্বত্যাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য খুবই উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এএলপির সহায়তায় জেএসএস-সন্তু গ্রুপের কাছে রাইফেলের একটি চালান ঢুকেছে। গত ৯ ডিসেম্বর মিয়ানমারের কারেন্ট প্রদেশে এএলপির অর্থ সম্পাদক ১৬টি একে-৪৭ রাইফেলসহ ধরা পড়ে। যে অস্ত্রগুলোর গন্তব্য ছিল ৩ পার্বত্য জেলায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার জেএসএস সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান চ সা থোয়াই মার্মা ওরফে পক্সের ছোট ভাই মাং ব্রা এবং রুমা উপজেলার জেএসএস সভাপতি লু প্রুর মাধ্যমে অস্ত্রের একটি চালান আসার কথা রয়েছে ভারতের মিজোরাম থেকে। এ জন্য ৮ জনকে ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে চ সা থোয়াই মার্মা গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, একটি চক্র আগেও একবার আমাদের বিপদে ফেলেছিল। হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য চক্রটি ফের এ ধরনের অভিযোগ তুলছে; যা মিথ্যা, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক।

অভিন্ন মন্তব্য করে লু প্রু এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি টুকটাক ব্যবসা করে খাই। রুমা থেকে কোনো দুর্গম এলাকায়ও আমার যাতায়াত নেই। আমি একটি রাজনৈতিক দল করি। আমাদের কর্মকা- কোণঠাসা করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু) তথ্য ও সহ-প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা এ প্রতিবেদককে বলেন, পার্বত্য ৩ জেলায় অবৈধ অস্ত্রের চালান আসছে তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। তবে এর সঙ্গে জনসংহতি সমিতির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এ ধরনের যে খবর আসছে তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রের চালান এলে পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া অস্ত্রের চালান জেএসএসের আড়ালে অন্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী বা সংগঠন ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও আমদানি করে থাকতে পারে। এসব অস্ত্র পার্বত্যাঞ্চলের গ-ি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নাশকতার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রের চালান যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সব গোয়েন্দা সংস্থাসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিবিড় এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিসহ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে যৌথবাহিনীর সদস্যরা খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও আমেরিকার তৈরি ১টি ফাইভ স্টার পিস্তলসহ আটক করে। সুপার জ্যোতি চাকমা স্থানীয় সংগঠন ইউপিডিএফের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যে তিনি জামিনে এসেছেন। অনুরূপভাবে ইউপিডিএফ এবং জেএসএস নেতাকর্মীদের কাছে অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মজিদ জানান, তার জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা দুর্গম হওয়ায় ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এখনো অরক্ষিত। বিভিন্ন নামে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে সেখানে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সবচেয়ে বেশি অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই ৩ সংগঠনের লোকবল এবং অস্ত্রশস্ত্রও বেশি। এ ছাড়া ছোট-বড় আরও অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি গ্রুপ পাহাড়ে সক্রিয় রয়েছে। তাদের নানাভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল। এসব সংগঠন ছাড়া দেশীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপও পাহাড়ে অশান্তির আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৩৬৯ কিলোমিটার অরক্ষিত পাহাড়ি এলাকা ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।-আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পিলখানায় নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা 

47

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি : পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।

এরপর একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, সাবেক সেনা প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিজিবি মহাপরিচালক। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ স্বজনের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা জানান, কলঙ্কময় এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের যেন দ্রুত বিচার করা হয়। এছাড়া যারা পলাতক আছেন তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৯ সালে এই দিনে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ওই বাহিনীর ৭৪ সদস্য নিহত হন।

সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে দরবার হলে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে বাহিনীটির মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবেলার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আসে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন এমপিদের চিঠি 

5544

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার বিষয়ে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের আইনসম্মত কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিযুক্ত করার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ১১ জন আইনপ্রণেতা। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কারাবন্দি শ্রমিকদের নেতাদের মুক্তি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। স্বাক্ষরকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন কংগ্রেসম্যান জ্যান স্কাভোস্কি, স্যান্ডার লেভিন, বিল পাসক্রেল ও ববি স্কট। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অপর কংগ্রেসম্যানরা হলেন জেমস পি. ম্যাকগভার্ন, মার্ক পোকান, উইলিয়াম কিয়াটিং, জ্যাকি স্পেইয়ার, জোসেফ ক্রাউলি ও স্টিভ কোহেন।

চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেছেন, আমরা উন্নতির (শ্রম অধিকার) পিছিয়ে পড়া এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কারাবন্দি শ্রমিক নেতাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, সব আটক শ্রমিক নেতাদের বিষয়ে দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও আনীত অভিযোগ পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। ভুল কারণে আটকদের দ্রুত মুক্তি ও সব ধরনের ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত অভিযোগ প্রত্যাহারে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কংগ্রেসম্যান স্কাভোস্কির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৩২ সেন্ট (প্রায় ২৫ টাকা) করার দাবিতে আন্দোলন করায় ১ হাজার ৬০ গার্মেন্ট শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১০০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভুল পথে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার পরিচালিত হওয়ার কারণে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের নীতি ও অনুশীলনে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণের বিষয় সঠিক পথে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের উল্টোপথে পতিপথের প্রত্যক্ষ করায় আমরা উদ্বীগ্ন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা কারখানা ধসে হাজার শ্রমিক নিহতের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, রানা প্লাজা ধসে পর বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল, শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধনের অনুমতি এবং জাতীয় শ্রম নীতি ও কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি সংস্কার করা।

বিবৃতিতে মার্কিন এমপিরা বলেছেন, গত কয়েক বছরে জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় থাকা শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি প্রদান ৬৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কংগ্রেসের পাওয়া তথ্য অনুসারে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন বিবেচনার জন্যই উপযুক্ত মনে করা হয়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ওয়াল-মার্ট, ভিএফ কর্পোরেশন, টার্গেট, বার্কশায়ার হাথাওয়ে, কার্টারস, সিয়ার্স হোল্ডিং কর্পোরেশন, পিভিএইচ, গ্যাপ, আইএনসি, জেসি পেনেই কোম্পানি ও কোহল-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয়। -বাংলা ট্রিবিউন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে 

44

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি : গ্যাস ঘাটতির সমাধান হয়নি। বাসাবাড়ি, কলকারখানা কোথাও চাহিদা মতো গ্যাস মিলছে না। এর মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণায় জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিএনপি এই বর্ধিত দাম অযৌক্তিক বলে প্রত্যাহারের দাবি করেছে। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি দৈনন্দিন ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেকেই মাসের খরচ কাটছাঁট করতে বাধ্য হবেন। শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তারা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। কারখানা চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে তাদের টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়বে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, পরিবহন ভাড়া বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি। মধ্য ও নিম্নবিত্তের জীবন ধারণের ব্যয় বেড়ে যাবে। গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গতকাল ফেসবুকেও অনেকে দাম বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পেট্রোবাংলা ও এর অধীন কোম্পানিগুলো প্রায় প্রতিটিই লাভজনক। তাদের তহবিলে ২৫ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণাকে তারা অযৌক্তিক দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকের মতে, এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হলে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা থাকত। কিন্তু এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো কারণ নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ালে গ্যাসচালিত শিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে পরিবহন ভাড়া। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। অর্থনীতি চাপে পড়বে।

মাসিক খরচে কাটছাঁট করতে হবে :গ্যাসের দাম বাড়ানোয় বেশি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে। রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা লীনা পারভীন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি অবশ্যই চাইব নিত্যব্যবহার্য পণ্য সহজলভ্য হবে। কারণ এমনিতেই আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন করে চলতে হয়। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাসিক খরচ করতে হয়। এভাবে প্রতি বছর গ্যাসের দাম বাড়ানো মেনে নেওয়া যায় না।’

শিল্প সক্ষমতা হারাবে :শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গতবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। রফতানি পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, বিদেশি ক্রেতারা বেশি দাম দিচ্ছে না। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে। ফলে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আরেক দফা দাম বাড়ানোর ফলে অনেক শিল্পকারখানাই বন্ধ হয়ে যাবে।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বস্ত্র খাত। বড় আকারের স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং ও প্রিন্টিং-ফিনিশিং কারখানাগুলোর একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্যাস। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাসের ইউনিট প্রতি দর ছিল ৪ দশমিক ১৮ টাকা, একই বছর সেপ্টেম্বরে দ্বিগুণ বাড়িয়ে করা হয় ৮ দশমিক ৩৬ টাকা। এখন আবার নতুন করে দর বাড়ানোর কারণে বড় ধরনের চাপে পড়বে বস্ত্র খাত। ফলে ভারত এবং চীনের কাছে বাজার হারাবে তৈরি পোশাকের পশ্চাদসংযোগ শিল্পটি। কয়েক মাস আগে ভারত নতুন বস্ত্রনীতিতে সাড়ে ছয় হাজার কোটি রুপির প্রণোদনা অনুমোদন করেছে। আগামী তিন বছরে পোশাক শিল্পে বাংলাদেশকে টপকে যেতে বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে ভারত। তুলা, সুতাসহ সব ধরনের কাঁচামাল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি ভারতের নিজস্ব। এ কারণে এ ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে এবার আর টিকতে পারবে না আমাদের বস্ত্র খাত। একই কথা জানিয়ে বিটিএমএ সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, বারবার দাম বাড়ার কারণে ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক রফতানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সংকটে পড়বে।

তৈরি পোশাকের নিট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে থেকে না জানিয়ে দর বাড়ানোর কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিট খাত। গ্যাস ছাড়া বিকল্প কোনো কিছু দিয়ে নিট কারখানা চালানো যায় না। দর বাড়ানোর আগে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন ছিল। এ নিয়ে সংসদেও আলোচনা করা যেত। কোথাও আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশি ক্রেতারা পোশাকের দাম কমাচ্ছে। রফতানি কমছে। এর মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে। ফলে শিল্প মালিকরা সক্ষমতা হারাবেন। কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

পরিবহন ভাড়া বাড়বে :সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, মাত্র ১৫ মাস আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন সিএনজির যে দাম রয়েছে তা এ খাতের জন্য সর্বোচ্চ। তাই দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তারপরও দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে। ফলে প্রকৃতপক্ষে সাধারণ জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দাম বাড়িয়ে পরোক্ষভাবে সিএনজি ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

মামলার হুমকি :ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, যেখানে বাসাবাড়িতে গ্যাসই থাকে না, সেখানে গ্রাহকরা বাড়তি অর্থ গুনতে যাবে কেন? তিনি দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে তারা আদালতে যাবেন।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কামরাঙ্গীরচরে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে 

378

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি : ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের নূরবাগ বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনায় আটটি কাঁচাপাকা বাড়ি পুড়ে গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নূরবাগ নদীর পাড়ের বস্তিতে আগুন লাগে।

আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এমপি লিটন হত্যা মামলায় রানা গ্রেফতার 

ygh8kv7i-copy

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি : গাইবান্ধ-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় আনোয়ারুল ইসলাম রানাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

রানা সুন্দরগঞ্জের ভেলারাকাজির ভিটা গ্রামের মৃত তমসের আলীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টে কর্মরত ছিলেন।

এসপির দাবি, এমপি লিটন কিলিং মিশনে রানা সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, জাপার নেতা কাদের খান গ্রেফতারের পর তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে এবং আগমনী পরিবহন নামে যে কোচের টিকেট কেটে তিনি কিলারদের বগুড়া থেকে ঢাকায় পাঠান সেটির টিকিটের কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৭টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাড়ল গ্যাসের দাম : এক চুলা ৭৫০, দুই চুলা ৮০০ টাকা 

clhq3lak

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি : গ্যাসের দাম দুই ধাপে গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিইআরসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ১ মার্চ থেকে গৃহস্থালিতে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক চুলায় ৭৫০ টাকা ও দুই চুলায় ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আগামী ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে এক চুলায় ৯০০ টাকা ও দুই চুলায় ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে গৃহস্থালিতে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক চুলায় ৬০০ টাকা ও দুই চুলায় ৬৫০ টাকা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

গৃহস্থালির পাশাপাশি সিএনজির দামও দুই ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিইআরসি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি ৩৮ টাকায় এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি ৪০ টাকায় বিক্রি হবে। বিদ্যুৎ, সার শিল্প ও সব শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মধ্যরাতে ঢাকায় হঠাৎ বৃষ্টি 

47

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি : মধ্যরাতে হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। চলতি বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজল রাজধানী। বুধবার দিবাগত রাত ২টার পর বৃষ্টি শুরু হয়। থেমে থেকে আধা ঘণ্টার মতো বৃষ্টি হয়।

বুধবার সারা দিন ঢাকার আকাশে মেঘ ও সূর্যের লুকোচুরি চললেও দিনের বেলায় কোথাও বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় এবং ঢাকা, কুমিল্লা এবং নোয়াখালীর কোনো কোনো অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাক: ক্যাথরিন মাসুদ 

skrzkke6-copy

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি : তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদতারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদমানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বাসচালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ।

আজ বুধবার ই-মেইলে প্রতিবেদককে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাক, যেন সড়কগুলো নিরাপদ হয়, ভবিষ্যতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পায়।

ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘ওই ভয়ংকর দিনে তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ আরও যাঁদের আমরা হারিয়েছিলাম, পৃথিবীর কোনো আদালত আর তাঁদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। তবু তাঁদের অনুপস্থিতিতে এতগুলো বছর যে দুর্বিষহ যন্ত্রণা আমরা সয়েছি, এই রায় কিছুটা হলেও তার দায় মেটাল। বিচারের এই প্রক্রিয়ায় যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে আইনজীবী খান খালিদ আদনানকে আমার অবশ্যই বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে হবে।

তিনি যে নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, যে পরিশ্রম করেছেন, তার তুলনা হয় না। মানিকগঞ্জের সহকারী কৌঁসুলি মণি এবং ড. কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের চমৎকার আইনজীবী দলকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তাঁরা কঠিন পরিশ্রম করেছেন, হাজারো বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছেন।’
প্রতিক্রিয়ায় ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘আমার আশা ও বিশ্বাস, আপিল হলেও রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

আমাদেরই স্বার্থে ন্যায়বিচার হতে হবে। কারণ, এই অপরাধের বিচার বার্তা দেবে যে আমাদের সড়ক-মহাসড়কে যারা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, তারা আর পার পাবে না। এ ধরনের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাক, যেন সড়কগুলো নিরাপদ হয়, ভবিষ্যতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পায়।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট শিবালয় উপজেলায় নতুন চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়নের নির্ধারিত স্থান দেখে মাইক্রোবাসে ঢাকায় ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোকা এলাকায় তাঁদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই দিন ঘিওর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান বাদী হয়ে বাসচালক জামির হোসেনকে আসামি করে মামলা করেন।

আজ বুধবার মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর রায় ঘোষণা করেন।-প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২ 

l99o5137-copy

নারায়ণগঞ্জ, ২২ ফেব্রুয়ারি : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে ডিবি পুলিশ বলছে, তারা দু’জনই সন্ত্রাসী। এদের একজনের নাম মোক্তার হোসেন ওরফে কিলার মোক্তার এবং অপরজন তার সহযোগী মানিক।

নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা ডিবি পুলিশের দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তারাও পাল্টা গুলি চালান।

তিনি জানান, বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোক্তার ও মানিক নিহত হন।

এ ঘটনায় আব্দুল আজিজ নামে ডিবি পুলিশের এক এএসআই আহত হয়েছেন বলেও জানান এসআই মাজহারুল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর