২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৯, সোমবার

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়াসফিয়ার ‘সেভেন সামিট’ জয়

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়াসফিয়ার ‘সেভেন সামিট’ জয় 

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়াসফিয়ার 'সেভেন সামিট' জয়

অনলাইন ডেস্ক, ২৫ নভেম্বর : বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন এবার ইন্দোনেশিয়ার কার্সটেনস পিরামিড পর্বত শৃঙ্গ জয় করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সাতটি অঞ্চলের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়ের অভিযান পূর্ণ করেছেন। ওয়াসফিয়া নাজরিনের ফেসবুক পেজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট কার্সটেনস নামের পর্বতের শৃঙ্গটি পুঞ্জাক জায়া নামেও পরিচিত, যার উচ্চতা ৪ হাজার ৮৮৪ মিটার। ওসেনিয়ার সব্বোর্চ্চ এই পর্বতে উঠা প্রথম বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া।

বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র করভি রাকসান্ড জানান, স্যাটেলাইট ফোনে ওয়াসফিয়া জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর উদযাপনের জন্য আমরা এই ক্যাম্পেইন শুরু করি যা ‘৭১ এর চেতনাকে আরো পরিপূর্ণ করার একটি প্রয়াস এবং তাদের জন্য উৎসর্গ করছি যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।” নিজ ভূমিতে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে বলে জানান ওয়াসফিয়া নাজরীন।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট’নামে একটি অভিযান চালাচ্ছিলেন মিস নাজরীন। চার বছর আগে তিনি তার এই কর্মসূচি শুরু করেন।

উল্লেখ্য, ওয়াসফিয়া নাজরীন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালে ২৬ মে শনিবার সকাল পৌনে ৭টায় বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেষ্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রাসুল (সা.) এর কান্না 

27

ইসলাম ডেস্ক : মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে, একদিন মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রাসুলের (সা.) কান্না দেখে নির্বাক হয়ে পড়েছিলেন সাহাবায়ে কেরাম, রাসুলের কান্নায় তারাও কেঁদেছিলেন সেদিন। আর কোনোদিন কোথাও তাকে এভাবে কেউ কাঁদতে দেখেনি, মায়ের জন্য আপ্লুত হয়ে তিনি যেভাবে কেঁদেছিলেন।(মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

মায়ের প্রতি রাসুলের ভালোবাসা ও সদাচারের জন্য রাসুল (সা.) এর তাগিদ দেখে সাহাবায়ে কেরামও নিজেদের মায়ের প্রতি ছিলেন পরম বিনয়ী ও সদাচারী। রাসুল (সা.) বলেছেন, মা বাবার প্রতি ভালো ব্যবহারের শেষ সীমানা হল, তাদের যারা বন্ধুবান্ধব ছিলেন, তাদেরও সম্মান করা, ভালোবাসা ও দয়া করা। (মুসলিম)

অন্যত্র আবু হুরাইরা (রা.) এর সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়, বাবার সম্মানের চেয়ে মায়ের সম্মান ও শ্রদ্ধা তিনগুণ বেশি।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) যখনই কোথাও যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হতেন, ডাক দিয়ে বলতেন, মা আমার! তোমরা জন্য সালাম! আল্লাহ পাক তোমাকে রহমত দিয়ে ঘিরে রাখুন যেভাবে তুমি আমাকে ছোটবেলায় লালন পালন করেছিলে। তার মা তখন সাড়া দিয়ে বলতেন, ছেলে আমার! আল্লাহ তোমাকেও রহমত দান করুন যেভাবে তুমি আমাকে এই বুড়ো বয়সে সেবাযত্ন করছো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৭৩ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার 

29

ঢাকা, ১১ নভেম্বর : বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ৭৩ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়। তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের হার মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘গেটিং দি এভিডেন্স: এশিয়া চাইল্ড ম্যারেজ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে অন্য দুই দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা সব চেয়ে ভয়াবহ। অন্য দিকে পাকিস্তানে ছেলেদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের হার ১৩ শতাংশ, যা অন্য দুইটি দেশের তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের বাল্যবিয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি একেকটি দেশের জাতীয় চিত্র নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।

এশিয়া চাইল্ড ম্যারেজ ইনিশিয়েটিভ একটি বহুজাতিক উদ্যোগ। ২০১০ সাল থেকে এ কার্যক্রম চলছে। এটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘আই অ্যাম এ গার্ল’ ক্যাম্পেইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। বাল্যবিয়ের অন্তর্নিহিত কারণ ও প্রভাবক বিষয়ক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৭ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সে।

ইন্দোনেশিয়ায় এ বয়সীদের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে ৩৮ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়।

ছেলেদের বেলায় এ হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পাকিস্তানে ১৮ বছর বয়সের আগে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার ১৩ শতাংশ যা উদ্বেগ জনক।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘মেয়েরাও অনেক সময় বিয়ের জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তাই তখন আর তাকে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে বলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আগামী বছর মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে একটি কাজ হবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ। তিনি বাল্যবিয়ে বন্ধে পিয়ার গ্রুপ বা বন্ধুদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সব ধরনের বাল্যবিয়েকে ‘জোর পূর্বক’ বিয়ে বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের করা গবেষণায় বিয়েতে মেয়ের সম্মতি ছিল কি না—এ ধরনের প্রশ্ন রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিমা দেশ যেভাবে চাপিয়ে দেবে আমাদের সেভাবে কথা বললে হবে না। আমাদের সমাধান আমাদেরই করতে হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, যারা বিবাহিত নয়, তাদের মধ্যে কনট্রাসেপটিভ ব্যবহার করা হয় না বলার মানে কি? তার মানে কি আপনারা স্কুলের বাচ্চাদের কনট্রাসেপটিভ দিতে বলছেন? গবেষণা সমাজ উপযোগী হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মিজানুর রহমানের মতে, রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারছে না বলেই অভিভাবকেরা মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেননা অভিভাবকেরা অবুঝ নন। বাল্যবিয়ে নিরোধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

গবেষণায় জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার, উপার্জন, অর্থনৈতিক সুযোগ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ, সামাজিকভাবে বাল্যবিয়ের সমর্থন দেওয়ার প্রবণতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষণায় বাল্যবিয়ে বন্ধে ৪০টি সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক সিনেট গেব্রেটজিয়াভার সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ. আ. ম. স আরেফিন সিদ্দিক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম , বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডীয় হাইকমিশনার বেনয়েট-পাইরি লারামি এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা পিন্টো মাটাভেল পিচ্চিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশে নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার 

0f

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশে নারীরা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। অফিসিয়াল কিংবা অন্য যে কোনো পেশাতেই প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন তারা। দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জাননো হয়েছে। প্রতি দুবছর অন্তর এ প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার বিশ্বের ১৭৩টি দেশে নারী ব্যবসা ও আইন-২০১৬ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় নারী কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যের কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় নারীকে চাকরি বা উদ্যোক্তা হতে সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন (নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা) হতে হয়। অথচ এ অঞ্চলে সংস্কার কার্যক্রমও পিছিয়ে রয়েছে। এতে বলা হয়, এ অঞ্চলে নারীর প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গত দুবছরে মাত্র তিনটি সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের নারীরা সবচেয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক বা বাধার সম্মুখীন হন। যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে ২০টির বেশি আইনি বাধা রয়েছে এবং নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারেন না।
বাংলাদেশে নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬১ কোটি ২০ লাখ নারীর বিরাট অর্থনৈতিক দেশটির ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান। দেশটিতে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে নারীর কাজের প্রতিবন্ধকতা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গত দুবছরে ভারতে নারীদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্যদে একজন নারী রাখা বাধ্যতামূলক করা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টানা ৪৮ ঘণ্টা গবেষণার পর তরুণীর আত্মহত্যা! 

002 copy

নিউজ ডেস্ক : একটানা দু’দিন গবেষণা এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৩ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা- এ রকম ঘটনা এর আগে ঘটেছে কি-না তা অনেকেরই জানা নেই।

প্রতিটা ঘণ্টা, প্রতিটা সেকেন্ড হয়তো ঘোরে ঘোরেই কেটেছে, যে ঘোর কাটেনি শেষ শ্বাস পড়া ইস্তক! যে উদ্দেশে বিনিদ্র ‘গবেষণা’, শেষপর্যন্ত তা সম্পন্ন করেই মৃত্যুর পরের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক তরুণী। রোটাই সন্তর্পণে। এতটাই গোপনে খুঁজেছেন ‘মৃত্যুর সিঁড়ি’, কেউ টেরটিও পায়নি। স্বজন না, বন্ধু না।

গত রোববার ভারতের বেঙ্গালুরুর ২৬ বছর বয়সী ফ্যাশন ডিজাইনার কাম ওয়েলনেস কনসালট্যান্ট ইশা হান্ডা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় সোভা ক্লাসিক এ্যাপার্টমেন্টের ১৩ তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও ধারণা করা হচ্ছে নিছক ব্যক্তিগত কিংবা প্রেমঘটিত অথবা পরিবার থেকে বিয়ের চাপ দেওয়ার কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন তিনি।

ইশার লাশ দেখে পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যার ব্যাপারে কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে ফরেনসিক বিভাগের লোকজন তার স্মার্ট ফোন খুঁজে পায়। আর এই ফোন থেকেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ওই আত্মহত্যার কাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ব্যাঙ্গালুরু মিররে ও এই সময় এর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়

টানা ৪৮ ঘণ্টা গবেষণার পর তরুণীর আত্মহত্যা!
স্মার্ট ফোনের সূত্র ধরে জানা যায়, গত শনিবার সকালে ইশা তার মোবাইল ফোনে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে গুগলে সার্চ শুরু করেন। কীভাবে আত্মহত্যা করা যায়, কীভাবে সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে আত্মহত্যা করা যায়- এ রকম অসংখ্য শিরোনামে তিনি সার্চ দিয়েছেন।

৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি ৮৯টি ওয়েবসাইটে আত্মহত্যার বিষয় সার্চ করেছেন এবং সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। বিষপান, রশি দিয়ে ফাঁস, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, ডুবে, বৈদুত্যিক শকে, চলন্ত ট্রেনের সামনে লাফ দিয়ে, দম বন্ধ করে কিংবা ভবন থেকে লাফ দিয়ে- এ রকম নানা প্রকার আত্মহত্যার ধরন নিয়ে গবেষণা করেছেন ইশা। ভেবেছেন কোন প্রকারে তার মৃত্যু নিশ্চিত হবে। সেই সঙ্গে ভেবে দেখেছেন নিজের শরীরের ওজনের কথাও। অর্থাৎ তার যে ওজন তাতে কোন পন্থা অবলম্বন করলে মৃত্যু নিশ্চিত হবে।

অবশেষে ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যাই তার কাছে অধিক পছন্দ হয়েছে। যেই ভাবনা সেই কাজ। রোববার বিকেলে বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা ট্যাক্সি নিয়ে ভবন খুঁজতে বের হন তিনি। বেরোনোর সময় দুই সঙ্গী পুনম ও সুথীকে বলে যান ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যাচ্ছেন। ফিরতে অনেক দেরি হবে।

কিন্তু ফেরা আর হয়নি। ট্যাক্সি নিয়ে চলে যান সার্জাপুর ও হারালুর রোডে ভবন খোঁজার জন্য। অবশেষে সোভা ক্লাসিক এ্যাপার্টমেন্ট এলাকায়। পাশাপাশি দুটি ভবন দেখেন। একটি পুরনো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া। পাশে আরেকটি ভবন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলক শিথিল। সিদ্ধান্ত দ্বিতীয় ভবনটি থেকেই দু’দিনের গবেষণার বাস্তবায়ন ঘটাবেন।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আশপাশে ঘোরাফেরা আর সুযোগ খোঁজা কীভাবে ভবনে প্রবেশ করা যায়। অবশেষে সেই সুযোগ পেয়ে যান ইশা। ভবনে প্রবেশ করে অন্ধকার নামার অপেক্ষাও করেন তিনি।

তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ২৫০ গ্রাম মারিজুয়ানা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, আত্মহত্যার আগেই সে নেশা করে। কারণ কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এভাবে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া ব্যাগের মধ্যে পাওয়া গেছে একটি রশি। মনে করা হচ্ছে, কোনো কারণে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ফাঁস দিয়েই আত্মহত্যা করবেন। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে সাদা রংয়ের কিছু বড়ি।

একজন সক্রিয় থিয়েটারকর্মী ছিলেন ইশা। এ ছাড়া স্টেইগ্লাড নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও (নারীদের সেলুন) সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।

তা ছাড়া ইশা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অসংখ্যা বন্ধু ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: এই সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নেদারল্যান্ডে নেকাব পরিধানে ‘আংশিক নিষেধাজ্ঞা’ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৩ মে : বিশেষ পরিস্থিতিতে বা ক্ষেত্রে নেকাব পরিধানের আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে উত্থাপিত বিলটি অনুমোদন করেছে নেদারল্যান্ডের মন্ত্রিসভা। স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

শুক্রবার নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তাঘাটে নারীদের নেকাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞাটি আরোপ করা হচ্ছে না। শুধু ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ বা ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ যখন কোন নারীর জন্য মুখ দেখানো অপরিহার্য হবে, তখনই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। কোন ‘ধর্মীয় পটভূমিতে’ বিলটি ডাচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড প্ল্যাস্টার্ক কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা।

এদিকে বিশেষ ওই ক্ষেত্রগুলোতে বা পরিস্থিতিতে যারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করবেন, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ সর্বোচ্চ ৪০৫ ইউরো বা ৪৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র এওএস এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, দেশটিতে ১০০ থেকে ৫০০ নারী মুখমন্ডল ঢাকতে নেকাব পরিধান করেন। তাদের অধিকাংশই মাঝেমধ্যে তা পরে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে বলেন, তার সরকার পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছার স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক ও চেনা যায় এমন যোগাযোগের গুরুত্বের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার প্রয়াস হিসেবে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

এদিকে এর আগে নেদারল্যান্ডের সড়কে নেকাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত যে বিলটি ছিল, তা প্রত্যাহার করবে সরকার। এক ঘোষণায় বলা হয়, সব পাবলিক প্লেসে নেকাব পরিধানে গণনিষেধাজ্ঞা আরোপের কোন কারণ দেখছে না সরকার। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে নেকাব পরার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশ দুটির আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে কোন নারী নেকাব পরিধান করতে পারবেন না। মহাদেশটিতে কয়েকটি উগ্র-ডানপন্থী আন্দোলনকারী সংগঠন নেকাবকে নিষিদ্ধ করাকে একটি ‘রাজনৈতিক লক্ষ্যে’ পরিণত করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রথম আফগান নারী পাইলট 

কাবুল, ৬ মে : হত্যার হুমকি আর পুরনো দিনের জেন্ডার ধ্যানধারণাকে পেছলে ফেলে সদম্ভে এগিয়ে চলছেন আফগানিস্তানে তালেবানের পতনের পর দেশটির প্রথম নারী পাইলট।

প্রায় পুরোটা পুরুষ নিয়ন্ত্রিত এ জগতে তিনি বলতে গেলে এক অনুপ্রবেশকারী।

তার নাম নিলুফার রহমানী।  বয়স ২৩ বছর। খাকী পোশাকের ওপর বৈমানিকের শেড আর মাথায় কালোকাপড় পরে তিনি যখন কাবুল বিমান বাহিনীর ঘাঁটির টারমাকে হেঁটে চলেন তখন সেখানে অন্য কোনো নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ে না বললেই চলে।

‘যখন আমি শিশু ছিলাম দেখতাম যে পাখিরা আকাশে উড়ে বেড়ায়, আমি তখন বিমান চালাতে চেয়েছিলাম’, এএফপিকে বলছিলেন নিলুফার।

‘অনেক আফগান মেয়েরই স্বপ্ন আছে, তবে তাদের এগিয়ে চলার পথে আছে সমস্যা এবং হুমকি।’

নিলুফার কাবুলে বেড়ে উঠেছেন। ২০১০ সালে যখন তিনি বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণে ভর্তি হন তখন  তার স্বজনদের কাছে একথা গোপন রাখা হয়। কারণ, এদেশে এখানে নারীদের বাড়ির বাইরে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখা হয় না।

দুবছর পর তিনি আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নারী বৈমানিক ( স্থির-পাখার বিমানের) হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

তালেবানের পতনের পর তিনিই প্রথম নারী পাইলট।

তার এই অসাধারণ অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড (সাহসী নারীর পদক) প্রদান করেছে। দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ‘আফগান টপ গান’ খেতাব দেয়া হয়েছে।

তালেবানের আগে কমিউনিস্ট শাসিত আফগানিস্তানেও নারী পাইলট ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।

১৪ বছর আগে মার্কিন আগ্রাসনে তালেবানদের পতন হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন। এখন নারী সংসদ সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনীতে তাদের উপস্থিতি সাধারণ ঘটনা।

তবে নারীরা এখন ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেলেও পুরষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারী-পুরুষে বৈষম্য রয়েই গেছে।

নিলুফারকে চাকুরি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টেলিফোন এবং চিঠি দিয়েছে তালেবানরা।

২০১৩ সালের দিকে হুককি এতোটাই বেড়ে যায় যে তিনি দুমাস দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।

সামরিক বিমানের গর্জনের মধ্যেই তিনি বলছিলেন, ‘তারা আমাকে এবং আমার পরিবারকে আঘাত করতে চেয়েছিল।’

‘আমি আরো দৃঢ় হই এবং তাদের উপেক্ষা করি।’

নিজের আত্মরক্ষার জন্য সবসময় একটি পিস্তল সাথে রাখেন নিলুফার। সামরিক ঘাঁটি থেকে ইউনিফরম পরেও কখনো বের হন না তিনি, যাতে তাকে টার্গেট করা সহজ না হয়।

‘তবে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করা, কেনাকাটা করার মত সাধারণ জিনিসগুলো আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার সব স্বাধীনতাই চলে গেছে’, আক্ষেপ করে বলছিলেন নিলুফার।

বৈরি স্রোতের যাত্রী হিসেবে সামাজিক ও ধর্মীয় আচারকে সম্মান দেখিয়ে চলেন তিনি। এ কারণে কোনো পুরুষের সাথেও হ্যান্ডশেক করেন না নিলুফার।

তার কথায়, তিনি কোনো ভুল সঙ্কেত পাঠাতে চান না।

২০০১ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে নিলুফারসহ মাত্র তিন নারী বৈমানিক হয়েছেন। তবে তাদের একজন  ইতোমধ্যেই চাকুরি ছেড়ে চলে গেছেন।

বিমান বাহিনীতে নারী ও পুরুষ পাইলট সমান সমান হতে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে নিলুফার বলেন, ‘সহসাই সেটি হচ্ছে না। সম্ভবত ২০-৩০ বছর লেগে যাবে।’

‘কিন্তু আমি আশাবাদী।’

সূত্র: এএফপি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিচ্ছে ইরান 

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল : ইরান সরকার নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশে এই রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কোন দেশে নিয়োগ দেওয়া হবে সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। দেশটিতে ১৯৭৯ সালে ইসলামি অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম নারী মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম হবেন ইরানের দ্বিতীয় নারী রাষ্ট্রদূত। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আধুনিক সরকারের আমলে তিনি নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৭৬ সালে তিনবারের সংসদ সদস্য মেহেরাঙ্গিজ দলাতশাহিকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ইরানে নারীদের বিদেশ ভ্রমণের সময় একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সেটা স্বামী কিংবা বাবা হতে পারে।

চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, সরকার দেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি হিজাব না পরা নারীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধেও কথা বলেন। দেশটিতে কোনো নারীর চুল দেখা গেলে ধর্মীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরানের উপ-পরিচালক গিসাউ নিয়া সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ নারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কেবল এই কাজের মাধ্যমেই নারীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না। তাদের জনসম্মুখে আসার সুযোগ দিতে হবে। -সূত্র দ্য গার্ডিয়ান

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কঙ্গো শান্তিরক্ষা মিশনে গেলেন ১২৫ নারী পুলিশ 

ঢাকা, ১০ এপ্রিল : বাংলাদেশ পুলিশের ১২৫ নারী সদস্যের একটি এফপিইউ (Formed Police Unit) জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর কঙ্গো মিশনে যোগ দিচ্ছে। তারা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতিসংঘের ভাড়া করা বিমানযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করবেন। দলটির কমান্ডারের দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিয়া হোসনা।

পুলিশ সদর দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জাতিসংঘ মিশনে গমনকারী দলটিকে বিমানবন্দরে বিদায় জানাবেন।

বাংলাদেশ পুলিশের অন্য একটি নারী এফপিইউ হাইতিতে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, দারফুর, আইভরি কোস্ট, হাইতি, মালি, লাইবেরিয়া ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৩৬৯ সদস্য পালন করছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ওমেন ইন পার্লামেন্ট পদক পেল বাংলাদেশ 

ঢাকা, ৩০ মার্চ : রাজনীতিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য ওমেন ইন পার্লামেন্ট আর্ন্তজাতিক পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ পদক হস্তান্তর করেন।

এর আগে, গত ২৫ মার্চ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ পদক নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নাদিয়ার সাহসকে সম্মান দিল যুক্তরাষ্ট্র 

ঢাকা, ২৮ মার্চ : হাত পেতে ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু নিতে হয়নি বাংলাদেশের সাহসী সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনকে, বরং তারাই নাদিয়াকে খুঁজে বের করে সম্মান জানিয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের সাহসী এই সাংবাদিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। বিশ্বকে সগর্বে জানিয়েছেন এ দেশের নারীদের সাহসের কথা। জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নারীরা পিছিয়ে নেই। তারা কারও চেয়ে কম নন। সেই সাহসকে সম্মান না দিয়ে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক নারী সাহসিকতার (ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড-আইডব্লিউওসি) পুরস্কার অর্জন করেন নাদিয়া শারমিন। যে নারীরা তাদের সাহসিকতা দিয়ে সমাজ বদলাতে অবদান রাখেন, তাদেরই এই সম্মান জানায় আইডব্লিউওসি। ২০০৭ সাল থেকে এ পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর বিভিন্ন দেশের ১০ জন নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন। গ্লোবাল উইমেন ইস্যুজের অ্যাম্বাসেডর ক্যাথরিন এম রাসেল তাদের মধ্যে নাদিয়াকেই ‘প্রাণশক্তি’ হিসেবে মিশেল ওবামার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ নারীর পক্ষে কথা বলেন নাদিয়া। এমন এক সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গর্বিত হয়েছেন ক্ষমতাধর নারী মার্কিন ফাস্টলেডি মিশেল ওবামা। এ কথা অকপটেই নাদিয়াকে বলেছেন তিনি। আর নাদিয়ার ভালো লাগা তখন আকাশ ছুঁয়েছে।

কথা ছিল ৬ মার্চ মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা পুরস্কার দেবেন। প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে অনুষ্ঠান এক দিন পিছিয়ে দিতে হয়। তারপর হোয়াইট হাউসেই পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে মিশেল ওবামা দেখা করেন। সবার কথা শোনেন। টুইট বার্তায় তিনি এই নারীদের কথা লেখেন। লেখেন নাদিয়ার কথাও।

নাদিয়ার কাছে এটি কেবল পুরস্কার নয়, এটি তার দেশের সম্মান। নিজের দেশকেই সগর্বে তিনি তুলে ধরেছেন বিশ্বের কাছে। গত রবিবার প্রতিবেদকের কার্যালয়ে বসে নাদিয়া বলেন, ‘বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ নাম মানেই বন্যা-দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা। এটা কি ভারত? পাকিস্তানের অংশ? এ ধরনের প্রশ্নও শুনতে হয়েছে। কিন্তু এবার যারা এই প্রশ্নগুলো করেছেন, তাদের সামনে উত্তর দেওয়া সহজ হয়েছে। বাংলাদেশের একজন নারী প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠিত করতে জানেন। আমার পরে যে নারীরা সংগ্রাম করবেন, তারাও জানবেন যে সংগ্রাম চালিয়ে গেলে তার প্রতিদান হিসেবে ভালো কিছু পাওয়া যায়। তাই লড়াই থামালে চলবে না। প্রথমে একা লড়াই শুরু করলেও পরে পাশে পাওয়া যায় অনেককে।

নাদিয়া বলেন, ‘একা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এখন আমি যোদ্ধা নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছি। পুরস্কারটা পাওয়ার পর দায়িত্ববোধ বেড়ে গেছে। স্বপ্নের বিস্তৃতিটা বেড়ে গেছে। এখন আর একা পথ চললে হবে না। সম্মিলিতভাবে সামনে এগোতে হবে।’

২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল দেশে আলোড়ন তুলেছিলেন নাদিয়া। সেদিন নাদিয়া অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে। অফিস থেকে কিছু ফুটেজ নিতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া সার্বিক দিক খেয়াল রাখতে হবে। কাজ করার একপর্যায়ে হেফাজতে ইসলামের একজন প্রশ্ন তোলেন, নারী হয়ে তিনি সমাবেশে কী করছেন। তারপর আস্তে আস্তে জড়ো হন অনেকে। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তিনি নারী হিসেবে সমাবেশে যাননি, গেছেন সাংবাদিক হিসেবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। কিছু বোঝার আগেই ৫০-৬০ জনের দলটি একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিনের ওপর হামলা করে। মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে তাকে। কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধু, গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের সহায়তায় নাদিয়া প্রাণে বেঁচে যান।

ওই ঘটনার জের টানতে হয়েছে অনেক দিন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় থাকতে হয়েছে নাদিয়াকে। দুটো অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আর্থিক সংগতি না থাকায় দেশের বাইরে গিয়ে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। এই দুঃসময়ে একুশে টেলিভিশন থেকে তার চাকরিটাও চলে যায়। কিন্তু নাদিয়া থেমে যাননি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যোগ দেন একাত্তর টেলিভিশনে অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে।

দুঃসময়ের কথা মনে করে নাদিয়া বলেন, যারা একসময় কাজে বাধা দিয়েছেন, ভেবেছেন আমি কাজ করতে পারি না তারাই এখন আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তারা দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

নাদিয়া বলেন, হেফাজতের ঘটনার পর অনেকবার মনে হয়েছে আমার ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড সাপোর্ট আমাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টার ফলাফল হচ্ছে, আমি আবার মিডিয়ায় ফিরে এসেছি। হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জিং অ্যাসাইনমেন্ট করছি।

আসলে সাংবাদিকতা ছিল নাদিয়ার নেশা। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হবেন। স্বপ্নের বীজ ছিল পরিবারেই। নাদিয়ার নানি সৈয়দা সুফিয়া খাতুন চল্লিশের দশকে সাহিত্যরত্ন পুরস্কার পান। নানির ছোট বোন হাসিনা আশরাফ দৈনিক বাংলার সাংবাদিক ছিলেন। তার মুখ থেকে সাংবাদিকতার গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন নাদিয়া। নাদিয়ার নানা মারা যান অনেক আগে। নানি সংগ্রাম করে পাঁচ ছেলেমেয়েকে বড় করেছেন। নাদিয়ার মা সৈয়দা তৈয়বা বেগম ছিলেন বড় মেয়ে। বাস্তবতার চাপে অনেক স্বপ্নই পূরণ হয়নি তার। মায়ের সেসব স্বপ্নকেই সফল করে তুলছেন নাদিয়া ও তার বোন।

নাদিয়ার এই অর্জন বাবা আবু তৈয়ব আজিজুর রহমান দেখে যেতে পারেননি। গত বছর মারা গেছেন। ছোট নানিও দেখে যেতে পারেননি।

নাদিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। তবে রাজধানীতেই কেটেছে পুরো সময়।

পুরস্কার পাওয়ার পর কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে নাদিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ নারী সে দেশের নারী ও মানবাধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং করতে পারবেন। নাদিয়া বলেন, এ সুযোগটি কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গার্ডিয়ান-এ প্রথম নারী সম্পাদক 

লন্ডন, ২৫ মার্চ : সম্পাদক হিসেবে প্রথমবারের মত একজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। শুক্রবার সাংবাদিক ক্যাথারিন ভাইনারকে সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয় সংবাদপত্রটি। আসন্ন গ্রীষ্মে অ্যালান রুজব্রিজারের পদত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৪৪ বছর বয়সী ক্যাথারিন। বর্তমানে গার্ডিয়ানের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন ক্যাথারিন।

গার্ডিয়ানের স্বত্তাধিকারী স্কট ট্রাস্ট শুক্রবার এ নিয়োগ দেন। সংবাদ প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভোটে ক্যাথারিন নির্বাচিত হওয়ার পর এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। চূড়ান্ত তালিকায় ক্যাথারিনের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন গার্ডিয়ানের সাবেক উপ সম্পাদক এবং বর্তমানে বিবিসির নিউজ নাইট প্রোগ্রামের সম্পাদক আয়ান কাটজ।

গেল ২০ বছর ধরে গার্ডিয়ানের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছেন রুজব্রিজার। তার সময়ে সংবাদপত্রটিকে প্রিন্ট থেকে ডিজিটালে রূপান্তরকরণ, যুক্তরাষ্ট্রে শাখা বিস্তার করা হয়। একইসময়ে সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি পুলিৎজার পুরস্কারও লাভ করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ 

ঢাকা, ৮ মার্চ : আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত ২০১৫ সালে এই দিবসটির প্রতিপাদ্য নারীর ক্ষমতায়নেই মানবজাতির ক্ষমতায়ন। এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে সারা বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৫।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের নারীরা আজ শুধু গার্মেন্ট শিল্পেই নন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা, উদ্যোক্তা, সাংবাদিকতা, এভারেস্ট জয়, খেলা, সৃষ্টিশীল এমনকি যুদ্ধ বিমান চালনাতেও একে একে নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা আর গ্রহণযোগতার প্রমাণ রেখে চলেছেন।

বাংলাদেশে প্রথমবার এ দিবস পালন করা হয় ১৯৯১ সালে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।

সদ্য বাংলাদেশ সফরে আসা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, মানবসূচক উন্নয়নে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব আনবে।

তাছাড়া দেশের শীর্ষ কর্মপদে বাংলাদেশ নারীদের ক্ষমতায়নে অনেক দূর এগিয়েছে। এটিরও একটি শুভ প্রভাব অনিবার্য। আমর্ত্য সেনের কথার রেশ ধরে বাংলাদেশের নারীদের এমন অগ্রযাত্রার উদাহরণ বিশ্ব সমাজকে চমকে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পেছনের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। ১৮৫৭ সালের এই দিনে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে একটি সূচ কারখানার মহিলা শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

ওই সময় ১২ ঘণ্টা কর্মদিবসের বিরুদ্ধে নারীরা আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ফলে তাদের ওপর নেমে আসে পুলিশি নির্যাতন। ১৮৬০ সালের একই দিনে ওই কারাখানার নারী শ্রমিকরা ‘মহিলা শ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠন করেন। আর সাংগঠনিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেন।

এ আন্দোলনের ফলে ১৯০৮ সালের ৮ই মার্চ প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ভাল বেতন এবং ভোটের অধিকার দাবি নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে মিছিল বের করেন। অতঃপর ১৯১০ সালের ৮ই মার্চ কোপেনহেগেন শহরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মানির নারী নেত্রী কারা জেটকিন এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯১১ সালে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৫ সালে ৮ই মার্চকে জাতিসংঘও আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

দিবসটি উপলক্ষে নারী সংগঠনগুলোর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ‘নাগরিক উদ্যোগ’ এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০ টায় মানববন্ধন ও সমাবেশ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর উদ্যোগে সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কালো পতাকা মানববন্ধন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উদ্যোগে খিলাগাঁও থানার ১ নং ওয়ার্ড জোড়পুকুর মাঠে সকাল সাড়ে নয় টায় সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মেলা, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে সকাল ১০ টায় মানববন্ধন, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের উদ্যোগে সকাল সাড়ে নয় টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গৃহশ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের পক্ষ থেকে দিনের প্রথম প্রহরে ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ উদযাপন, নারী পক্ষের উদ্যোগে বিকাল সাড়ে চার টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঘোষণা পাঠ, নাটক মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় মহিলাধারা সকাল ১০ টায় তোপখানা রোডে সংগঠনটির কার্যালয়ে ‘নারীদের অধিকার রক্ষার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা, বিপ্লবী নারী সংহতি’র উদ্যোগে বিকাল পাঁচ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ ও মশাল মিছিল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ধনীদের শীর্ষ দশে দুই নারী 

ঢাকা, ৫ মার্চ : ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টি ওয়ালটন অষ্টম (বাঁয়ে) ও ফ্রান্সের লিলিয়ান বেতেনক্যুয়ো (ডানে) দশম স্থানে আছেনবিশ্বব্যাপী নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত ফোর্বস  সাময়িকীর প্রকাশ করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী বা কোটিপতি ব্যক্তিদের প্রথম ১০ জনের মধ্যে দুজন নারী স্থান করে নিয়েছেন। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টি ওয়ালটন ও ফ্রান্সের লিলিয়ান বেতেনক্যুয়ো।

ফোর্বস-এর এবারের তালিকায় নারী কোটিপতির সংখ্যা ২৯ থেকে বেড়ে ১৯৭ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭ জনই যুক্তরাষ্ট্রের। এ ছাড়া জার্মানির ১৯ ও ব্রাজিলের ১৩ জন। গত বছর নারী কোটিপতি ছিলেন ১৭২ জন।

ক্রিস্টি ওয়ালটন: ফোর্বস ম্যাগাজিনের তৈরি করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের তালিকার অষ্টম স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টি ওয়ালটন। তার সম্পদের মোট মূল্য ৪ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী তিনি। গত ছয় বছরের মধ্যে এ নিয়ে পাঁচবার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের মধ্যে ক্রিস্টির অবস্থান ষষ্ঠ।

৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টি বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন ওয়াল-মার্ট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের ছেলে প্রয়াত জন ওয়ালটনের স্ত্রী। জন ওয়ালটন ২০০৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হলে বিশাল সম্পত্তির মালিক হন ক্রিস্টি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই সম্পদকে দ্বিগুণেরও বেশি করেছেন এই নারী।

লিলিয়ান বেতেনক্যুয়ো: ফোর্বস ম্যাগাজিনের তৈরি করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিদের তালিকার দশম স্থানে আছেন ফ্রান্সের লিলিয়ান বেতেনক্যুয়ো। তার সম্পদের মোট মূল্য ৪ হাজার ১০ কোটি ডলার। এই মুহূর্তে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী নারী। ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি তিনি।

৯২ বছর বয়সী ফরাসি এই বিধবা নারীর আয়ের উৎস এল’ওরিয়েল নামের প্রসাধন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তাঁর বাবা ইউজেন শুয়েলার ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনিও বিপুল সম্পদের মালিক হন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাসায় সুন্দরী গৃহকর্মী চায় না সৌদি নারীরা 

ঢাকা, ৫ মার্চ : সৌদি আরবের নারীরা তাদের সংসারে গৃহপরিচারিকা হিসেবে সুন্দর নারীদের দেখতে চান না।
সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে সৌদি গৃহবধূরা এখন আগে থেকেই সম্ভাব্য গৃহপরিচারিকার ছবি দেখতে চাইছেন। বিশেষ করে যেসব গৃহপরিচারিকা মরক্কো ও চিলি থেকে আসছেন।

সুন্দরী গৃহপরিচারিকা চান না এমন কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে সৌদি আরবের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে গৃহবধূর জানান, এসব দেশের সুন্দরী নারীদের তারা গৃহপরিচারিকা হিসেবে চাননা, কারণ তাদের ধারণা সুন্দরী কর্মচারী পরিবারের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেন।

জেদ্দার একটি রিক্রুটিং কোম্পানির পরিচালক ইদ আবু ফাহাদ ওই সংবাদপত্রটিকে বলেন, কিছু গৃহবধূ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে বলেছেন যদি তাদের স্বামীরা মরক্কো বা চিলি থেকে গৃহপরিচারিকা চায় তাহলে ওইসব গৃহকর্মীদের পরিবারে গ্রহণের আগে তারা অবশ্যই দেখে নেবেন। এ ক্ষেত্রে তাদর প্রধান শর্ত হলো ওই গৃহকর্মীদের সুন্দরী হওয়া যাবে না।

সৌদি আরবে বিদেশি কর্মী নেয়া অনেক সময় ও অর্থের বিষয়। ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ছয় মাস লেগে যায়। চিলি থেকে কর্মী আনার ক্ষেত্রে ২২ হাজার রিয়ালের মতো খরচ করতে হয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদেশি গৃহকর্মীর অধিকারের বিষয়টি একটি বড় ইস্যু।

তবে আরব নিউজ বলেছে, সেখানে অন্য দেশ থেকে যাওয়া গৃহপরিচারিকা ও গাড়ির চালকদের মূল নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

কয়েকটি দেশ সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সাথে আচরণের বিষয়ে নানা অভিযোগ তুলছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি তার দেশ থেকে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর