২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ৯:৪২, সোমবার

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২ ডিসেম্বর

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২ ডিসেম্বর 

55354

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের আকাশে রবিবার  সন্ধ্যায় রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামী মঙ্গলবার থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২ ডিসেম্বর ১২ রবিউল আউয়াল শনিবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)।

বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান।

সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৯ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামীকাল সোমবার সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২ ডিসেম্বর ১২ রবিউল আউয়াল দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) দিন সাধারণ ছুটি। যদিও এবার ঈদে মিলাদুন্নবী হবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তুরাগ তীরে জোড় ইজতেমা শুরু 

38

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : টঙ্গীর তুরাগ তীরে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার ফজর নামাজের পর মাওলানা রবিউল হকের বয়ানের মধ্য দিয়ে এ ইজতেমা শুরু হয়।
আগামী মঙ্গলবার মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমা সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমার ময়দানে পাঁচ দিনের জন্য জোড় ইজতেমার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় তিন লাখ মুসুল্লি এতে অংশ নিচ্ছেন। ফজরের নামাজের পর বয়ান করেন মাওলানা রবিউল হক।

তিনি আরো জানান, কালেমা, নামাজ, ঈমান-আমল, জান্নাত-জাহান্নাম ও তাবলিগের উদ্দেশ্যে মেহনত সম্পর্কে এ জোড় ইজতেমায় মুরুব্বিরা বয়ান করবেন। পরে তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে সেই বাণী শোনাবেন।

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও টঙ্গী সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন জানান, টঙ্গীর তুরাগ তীরে জোড় ইজতেমা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নজরদারি রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১২ জানুয়ারি থেকে বিশ্ব ইজতেমা শুরু 

55

গাজীপুর, ১৬ নভেম্বর : আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। চলবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার, শেষ হবে ২১ জানুয়ারি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ব ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ময়দানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ নানা বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং তাবলিগের মুরুব্বিরা অংশ নেন।

দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অজু-গোসল, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিদেশি মেহমানদের আশা-যাওয়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয় এ প্রস্তুতি সভায়।

এদিকে ইজতেমা ময়দানের উন্নয়নসহ অন্যান্য সব প্রস্তুতির জন্য আগামীকাল থেকে শুরু হবে পাঁচদিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক তাবলিগের মুসল্লি এ জোড় ইজতেমায় অংশ নেবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিশ্ব ইজতেমা ১২ জানুয়ারি শুরু 

44

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর : টঙ্গীর তুরাগ তীরে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একথা জানান।

তিনি বলেন, ইজতেমার এই পুরো সময় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদেশিদের জন্য আর্চওয়েসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা যেভাবে অংশ নেয় ইজতেমায় রোহিঙ্গারাও সেভাবে অংশ নিতে পারবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ পবিত্র আশুরা 

4478

ঢাকা, ১ অক্টোবর : আজ রবিবার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকে আশুরার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। মহররমের দশম তারিখ আশুরা নামে পরিচিত।

আরবি আশারা শব্দ থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। আশারা মানে দশ আর আশুরা অর্থ হলো দশম দিবস। এ মাসের সম্মানে আরবরা অন্যায়, যুদ্ধ বিগ্রহ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকত। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মুহররম। এটি আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস।

১০ মহররম আশুরার দিন মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আবার এদিন কেয়ামত ঘটাবেন। এদিন হযরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছেন-এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমণ্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের সাথে পালন করে থাকে।

এ ছাড়া এদিনে হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তার অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাদের পশ্চাদ্ধাবনকারী ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়। এমন আরও অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা রয়েছে এ দিনে।

তবে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কারবালার প্রান্তরে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাদের এ আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রেরণা জোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার।

মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ ছাড়া নগরের মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরানা পল্টনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা সকলের জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা যোগায়।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকের দিন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.), তার পরিবারের সম্মানিত সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ এদিনে বিশ্বাসঘাতক ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালায় শহিদ হন।

আবদুল হামিদ বলেন, ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ বা বিভেদের কোনো স্থান নেই।

পবিত্র আশুরার এই দিনে সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক রোববার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এ দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত 

033

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে শনিবার দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন শামছুদ্দিন ভূঁইয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি হিবজুর রহমান। এটি ছিল ময়দানটিতে ১৯০তম ঈদ জামাত।

নামাজ শেষে মিয়ানমারের মুসলমানদের রক্ষা ও তাদের হেফাজত করাসহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদুল আজহার এই জামাত অনুষ্ঠানের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিন প্লাটুন বিজিবিসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়। মুসুল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে ঢুকতে দেয়া হয়।
জামাতে অংশগ্রহণ করতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তেু নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহে। এ সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঈদ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার জন্য ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

জানা যায়, কোনো এক ঈদের জামাতে শোলাকিয়ার এই ময়দানে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পবিত্র ঈদুল আজহা আজ 

47

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর : পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে উদযাপন করবেন ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

হযরত ইব্রাহিম (আ.) –এর অসামান্য ত্যাগের কথা স্মরণ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এই আচার পালন করে থাকেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহ’র নির্দেশে নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) –কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলার অসীম মেহেরবানিতে ইসমাইল (আ.) –এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

জিলহজ মাসের পবিত্র এই দিনে মুসলিমরা জামাতে দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু করেন। নামাজ আদায়ের পর পশু কোরবানি দিতে সক্ষম মুসলিমরা কোরবানি দেন। পরের দুই দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১ ও ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে।

দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল যখন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন মলিন আবহে ঈদ কাটবে উত্তরাঞ্চলবাসীদের। টানা বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে সৃষ্ট কয়েক দফা বণ্যায় আক্রান্ত হয়েছে দিনাজপুর, রংপরু, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নিলফামারিসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য জেলা। এখনও বন্যার ভয়াল প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেন নি সেখানকার নিবাসীরা। ভিটে মাটি, গবাদি পশু, সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। ফসলহানি হয়েছে ব্যাপক পরিমান। বন্যার পানি সবখানে এখনও পুরোপুরি নামে নি। ফলে উন্মুক্ত অনেক ঈদগাহ ময়দান প্লাবিত অবস্থায়ই রয়েছে। কিছু ঈদগাহ ময়দানে পানি কমলেও ঈদের জামাত আদায় করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। এমন এলাকাগুলোতে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারা দেশ, জাতিসহ গোটা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদ মোবারক 

02

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর : শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদ মোবারক। ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র এ উৎসব পালনে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। এ ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। এ জন্য এখন চলছে কোরবানির পশু কেনার পর্ব। অনেকে ইতোমধ্যে পশু কিনেছেন, আজো কিনবেন অনেকে।
ঈদুল আজহা উপলে আজ থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। তবে এর আগেই রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লাখ লোক।

গত কয়েক দিনে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ফলে রাজধানী কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় ও তীব্র যানজটের কারণে পথে পথে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। তার পরও প্রিয়জনের সাথে আনন্দ উপভোগের আশায় সব কিছু তুচ্ছ মনে করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন তারা। ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় দৈনিকগুলোয় বিশেষ সংখ্যা বের হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সব ক’টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিও ঈদ উপলে কয়েক দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরবি ‘আজহা’ ও ‘কোরবান’ উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা, অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।

ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তারই নামে জবাই করা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর গোশত বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া।
সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহ পাকের নির্দেশ পালন করেন, তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে’ (মুসনাদে আহমদ)।

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিমের (আ:) সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানেরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ:) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দু’বার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন শেষ বয়সে জন্ম নেয়া পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তাঁর কেউ নেই। আল্লাহ পাক তাঁকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ:) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)- কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ:) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হজরত ইব্রাহিমের (আ:) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে নিয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালার অপার কুদরতে এ সময় হজরত ইসমাইলের (আ:) পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিমের (আ:) অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানেরা কোরবানি করে আসছেন। তাঁরই নিদর্শনস্বরূপ প্রতি বছর হজ পালনকারীরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। একই সাথে দেশে দেশে মুসলমানেরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ঈদের জামাতের আগে আলোচনায় ইমাম-খতিবেরা হজরত ইব্রাহিমের (আ:) আত্মত্যাগের এ কাহিনী তুলে ধরবেন। ঈদের জামাতে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ ও সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। কোরবানিকৃত পশুর তিন ভাগের এক ভাগ গরিব-মিসকিন, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়। এ দিকে ৯ জিলহজ ফরজ নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। তা হলো, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’

ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায় ঠিক আগের দিনে চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ১০ দিন আগেই ঠিক হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। ঈদুল আজহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। কোরবানির পশু কেনা, তার যত্ন-পরিচর্যায়ই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দ।

ইতোমধ্যে সারা দেশে জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট। রাজধানী ঢাকায় ট্রাকে করে কোরবানির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া আনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। কোরবানিদাতারা পছন্দের পশুটি কেনার জন্য গাবতলীর প্রধান হাটসহ সুবিধামতো বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত অনেকেই কোরবানির পশু কিনেছেন। তবে আজ শেষ দিনে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হবে। চলতি পথে প্রায়ই চোখে পড়ে গলায় রঙিন কাগজ ও জরির মালা জড়ানো হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়ের দড়ি ধরে ঘরমুখো চলছেন কোরবানিদাতারা, আর পাশ থেকে কেউ জিজ্ঞেস করছেন ‘ভাই দাম কত’ এটাই এখন রাজধানীর অন্যতম চিত্র হয়ে উঠেছে। কোরবানির পশু কিনে ভবনের কার পার্কিং ও সামনের ফুটপাথে রাখা হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে শুধু গরু আর গরু। সর্বত্রই এখন শোনা যাচ্ছে গবাদিপশুর ডাক। এ ছাড়া গরুর খাবার তাজা কাঁঠালপাতা, খড়-বিচালি-ভুসি প্রভৃতি বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ঈদুল আজহার ত্যাগের আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ কমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ঈদুল আজহার তাৎপর্য অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে জনকল্যাণকর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত 

203

ঢাকা, ৩১ আগস্ট : সৌদি আরবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র হজ বৃহস্পতিবার পালন করবেন। লাব্বাইক, আল্লাহুমা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক। অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এই ধ্বনিতে বৃহস্পতিবার মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। আরাফাতের ময়দানে জোহরের নামাজ শেষে খুতবায় অংশ নেন মুসল্লিরা। এরপর তাঁরা আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে খোলা মাঠে অবস্থান করবেন। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও হজ পালনে এবার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ২০ লাখের বেশি মুসল্লি সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজারের বেশি মুসলমান হজব্রত পালন করছেন।

পবিত্র হজ পালনে মুসল্লিরা মঙ্গলবার রাত থেকে মিনায় পৌঁছাতে শুরু করেন। বুধবার সারাদিন তারা মিনায় অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায় করে তারা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। আরাফাতের ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে সারাদিন হাজিরা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকবেন। সাদা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় লাখ লাখ হাজির পদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হবে এক শুভ্রতার সমুদ্রে। হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।

সন্ধ্যায় তারা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারও এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। সেখান থেকে জামারায় (প্রতীকী শয়তান) নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর (ছোট পাথর) সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য রওনা দেবেন মুসল্লিরা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার আগে জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তান) ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা হবে। জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তারা পশু কোরবানি করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন করে এহরাম খুলে অন্য পোশাক পরবেন। একে তাহালুলে আসগর বলা হয়। তারপর তাওয়াফে ইফাদা (কাবাঘর তাওয়াফ) এবং সায়ি (সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর) শেষ করে ফের মিনায় ফিরে যাবেন।

১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। যারা ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে পারবেন না, তারা ১৩ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করবেন এবং জামারায় ১১ ও ১২ তারিখের মতো পাথর নিক্ষেপ করবেন। হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। নিয়োগ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি মুসল্লি হজ পালন করতে গেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর মিনা 

344512

ঢাকা, ৩০ আগস্ট : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতেই হাজিরা মিনায় তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান নেন। লাখ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মিনা।

তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় আজকের রাত অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার ফজরসহ এখানে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শেষে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা ছুটে যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়।

পরদিন সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে, হজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দুই বছর আগে মিনায় পদদলিত হওয়ার যে অনাহুত ঘটনা ঘটেছিল এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২ সেপ্টেম্বর 

15

ঢাকা, ২৩ আগস্ট : বাংলাদেশে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঈদ-উল আযহা উদযাপিত হবে। আজ বুধবার বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের আকাশে গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামী ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সেখানে ঈদুল আজহা পালন করা হবে।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। আজ ২৩ আগস্ট বুধবার থেকে সৌদি আরবে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে।

সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান ও মালয়েশিয়ায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর আগে পাকিস্তান গত শনিবার ঘোষণা দেয়, ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা হতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদ 

5522

ঢাকা, ২৩ আগস্ট : পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। বাংলাদেশের আকাশে হিজরি সালের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে কমিটি ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে।

এদিকে, বাংলাদেশের আকাশে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর : ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ হবে ১ সেপ্টেম্বর। হজ হবে ৩১ আগস্ট।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদুল আজহায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় 

63

ঢাকা, ৯ আগস্ট : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর, ওয়াসা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ সেপ্টেম্বর দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আরও ৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল 

8825

ঢাকা, ৯ আগস্ট : পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রী না পাওয়ায় ঢাকা থেকে আজ বুধবারের দু’টি এবং চট্টগ্রাম থেকে আজ ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দু’টি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে বাতিল হওয়া বিজি-৫০৪৫ ফ্লাইটটির আজ বুধবার ভোর পাঁচটায় ও বিজি-৩০৫৩ ফ্লাইটটি বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রী না পাওয়ায় ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অনিশ্চয়তা বাড়ছেই হজ যাত্রীদের 

1502218040

ঢাকা : হজ যাত্রীদের ঊদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। ই-ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট বিপর্যয়, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা, মধ্যস্বত্বেভাগীর প্রতারণা এবং এক শ্রেণীর মুনাফালোভী হজ এজেন্টদের পাকচক্রে পড়ে হজ যাত্রীরা দু:সহ সময় পার করছেন। এই সংকট এবং ভোগান্তির জন্য হজ এজেন্সি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হজের মতো ধর্মীয় পবিত্রতা নিয়ে রাঘব-বোয়ালদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে বেপরোয়া। হজ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের অনুগত হজ এজেন্টদের কাছে নিবন্ধিত হজ যাত্রীরা আছেন কিছুটা স্বস্তিতে। অন্য হজ যাত্রীদের অবস্থা করুণ। এখনো ৪৮ হাজার হজ যাত্রীর ভিসা হয়নি। আর ৯ দিন পর সৌদি সরকার ভিসা দিবে না। গতকাল পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদনই জমা দেয়নি । হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ আগস্ট। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীর অভাবে বাতিল হচ্ছে শিডিঊল ফ্লাইট। ই-ভিসা জটিলতার কারণে টিকিট কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। ই-ভিসার প্রিন্ট নিতে গিয়ে সার্ভার ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা পড়ছেন যাত্রীরা। ইতোমধ্যে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত জটিলতা নিরসন না হলে কমপক্ষে ৪০ হাজার যাত্রীর হজ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। আর হজ এজেন্টদের সংগঠন হাব নেতারা কেউ কেউ বলছেন, ১০ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আগামী ১৭ দিনে ৮৪ হাজার হজযাত্রীকে পরিবহন করতে হবে বিমান ও সাউদিয়াকে। মাত্র ৯ দিনে এই সব যাত্রীর ই-ভিসা ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছে না। মাসের শেষে যদি সত্যিসত্যিই যাদের হজ করতে যাওয়ার কথা তারা সবাই না যেতে পারেন তাহলে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি আরব ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংকট তৈরি করছে। ছয় শতাধিক হজ এজেন্সির মধ্যে মাত্র শ’খানেক এজেন্সিকে বাংলাদেশ বিমান টিকিট দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩০টি এজেন্সির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি টিকিট পেয়েছে। যারা পরে অতিরিক্ত দামে ছোট এজেন্সিগুলোর কাছে সেগুলো বিক্রি করছে। টিকিট নিয়ে এজেন্সিগুলোর মধ্যে দরকষাকষির কারণেও অনেক যাত্রী বিমানের টিকিট পাচ্ছেন না। আশকোনা হজক্যাম্পে দিনের পর দিন বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। আর কোন কোন এজেন্সি অভিযোগ করছে, সিন্ডিকেট করেছে রাঘব বোয়ালরা।

গতকাল পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাতিল হওয়া হজ ফ্লাইটগুলোর বিপরীতে জেদ্দা বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া স্লট পাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ভিসা জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত বাতিল ২১টি ফ্লাইটের ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে ক্রমশ। দ্রুত অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ না পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিমানের স্লট বরাদ্দ পাওয়া গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজ নিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনা নেওয়ার পরও যাদের জন্য জটিলতা তৈরি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফি বাড়ানোর খবর রাখেনি সরকার

সৌদি সরকার নতুন ভিসা কাঠামো কার্যকর করে ২ অক্টোবর (১ মহররম)। নতুন নিয়মাবলিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পুনরায় হজে গেলে দুই হাজার রিয়াল ফি দিতে হবে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের জারি করা বিশাল হজ প্যাকেজের কোথাও এর উল্লেখ ছিল না। এরই পরিণতি ২৫ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে ৫ হাজারের বেশি হজ যাত্রীকে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনছে। হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের নেতারা বলছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণে আজ এই পরিস্থিতি। অতিরিক্ত ফির কথা হজ প্যাকেজে থাকলে ভোগান্তি হতো না।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানতাম না।

এদিকে সরকারি খরচে যাদের হজে পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেককে নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে। সরকারী খরচায় হজে যাচ্ছেন মন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা । তালিকায় ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের ৩৫ জন লোক হজ চিকিত্সকদের সহায়তা দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যারা চিকিত্সক নন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ১৭১ জনের হজ চিকিত্সকদের সহায়তাকারী তালিকায় আছেন গাড়িচালক, নিরাপত্তা প্রহরী, গানম্যান ও মসজিদের ইমাম প্রমুখ। তালিকায় থাকা কারো কারো নামের পাশে আবার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই। এই টিমে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ২৫ জন গাড়িচালককে। মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, এমনকি টাইপিস্টও আছেন এই মেডিক্যাল সহায়ক দলে। দলে এমন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নেওয়া হচ্ছে, যাদের অনেকেই এই কাজের উপযোগী নন। ওই দলে আরও আছেন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সহায়ক, পাম্প অপারেটর, টাইপিস্টসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কৃষিবিদ ও ফার্মাসিস্টরাও যাচ্ছেন এই দলের সদস্য হয়ে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে হজযাত্রীদের চিকিত্সা সহায়তা দিতে এই ১৭১ জন যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যাতায়াত ভাতা ও দৈনিক ভাতা ইত্যাদি মিলে জনপ্রতি  পদ অনুযায়ী পাবেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে। এই অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি সমালোচনা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি। ইতিমধ্যে এই কথিত সহায়ক টিমের অনেক সদস্য  সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন। এই প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ময়মনসিংহ থেকে যারা হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন তাদের নেয়া হয়েছে। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে যাদের সুপারিশ করা হয় তাদেরও নেয়া হয়েছে।

ভিসা জটিলতা : ২৮ হজ এজেন্সিকে মন্ত্রীর আল্টিমেটাম

চলতি বছর সময় মতো ভিসার আবেদন করতে পারেনি এমন ২৮টি হজ এজেন্সিকে ভিসার আবেদন করতে দুই দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আশকোনা হজক্যাম্পে হজের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। হজ ফ্লাইট বাতিলসহ ভিসা জটিলতার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেন মন্ত্রী। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত পরিসখ্যান অনুযায়ী মোট ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদন জমা দেয়নি। নাম ও হজযাত্রীর কোটা অনুযায়ী প্রাপ্ত তালিকার বিভিন্ন এজেন্সিগুলো হলো রিয়েল ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), বদরপুর ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস (২৪১ জন), আজমল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (১৫৯ জন), ফারুক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৮৭), গোল্ডেন ট্রাভেলস্ অ্যান্ড কার্গো সার্ভিসেস (২৫১ জন), এআরএস ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), ঢাকা হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৮২ জন), ঢাকা ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৩ জন), গ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি (১৬৪ জন), হাবিব এয়ার ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (২২০ জন), হা-মিম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫৪ জন), ইহরাম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৭ জন), কাশেম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (২০২ জন), এমএএম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫০ জন), এম/এস এম নুর ই মদিনা হাজি ট্রাভেলস্ (২০৮ জন), মাবরুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৪ জন), মাহির হজ সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৭২ জন), মক্কা বাবে জান্নাত ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (১৫৮ জন), মেছফালা ট্রাভেলস (২২৫ জন), এমএইচএম ওভারসিজ (১৮০ জন), মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন (১৬৬ জন), পেনাং ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫১ জন), সিনেটর এয়ার ট্রাভেলস (১৯৪ জন), এম/এস মক্কা অ্যান্ড মদিনা ট্রাভেলস্ (২৬৫ জন), সাকের হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), মিম ট্রাভেলস্ ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), তাওসিফ ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৫ জন) ও এম আলী ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস (২০৯ জন)। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর