২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৮, সোমবার

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

খোশ আমদেদ মাহে রমজান 

18

ঢাকা, ২৮ মে : আজ পহেলা রমজান। গতকাল সূর্য অস্ত যাবার পর পরই নতুন চাঁদ উদিত হয়ে রমজান মাসের সূচনা করেছে। আরবী রমাদান শব্দের ফারসী উচ্চারণ রমজান। রমাদানের শব্দমূল রমদ যার অর্থ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ।

৬২২ খৃস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় ২৯৬ মাইল উত্তরে অবস্থিত মদীনা মনওয়ারায় হিজরত করে আসেন।

এখানে এসে তিনি জানতে পারেন, এখানকার ইয়াহুদীরা মুহররমের দশ তারিখ আশুরার দিনে সিয়াম পালন করে। তারা জানায়, তাদের নবী হযরত মূসা (আ.) বনী ইসরাঈলের হাজার হাজার মানুষকে জালিম রাজা ফেরাউনের কারাগার থেকে উদ্ধার করে লোহিত সাগরের ওপারে যেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন সেদিন ছিল আশুরা। তাই তিনি এদিন কৃতজ্ঞতা ও মুক্তির নিদর্শনস্বরূপ সিয়াম পালন করতেন।

তাঁকে অনুসরণ করে ইয়াহুদীরা আশুরায় সিয়াম পালন করে আসছে। প্রিয়নবী সাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মূসার উপর আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি।

সেই বছর আশুরা এলে তিনি এবং তাঁর সাহাবিগণ আশারায় সিয়াম পালন করলেন এর প্রায় সাড়ে সাত মাস পরে ৬২৪ খৃস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুতাবিক দ্বিতীয় হিজরীর ১৫ শাবান তারিখে রমাদান মাসে সিয়াম পালনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেন: রমাদান মাস, যাতে নাজিল হয়েছে মানুষের দিশারী, সত্পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী পবিত্র আল-কুরআন।

সুতরাং তোমরা যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তারা এতে সিয়াম পালন করবে। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ১৮৫)।

সিয়াম শব্দের শব্দমূল সওম যার অর্থ বিরত থাকা। দৃঢ়সংকল্প করে যাবতীয় কামাচার, পানাহার ও পাপাচার থেকে সুবিহ্ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকাটাই হচ্ছে সিয়াম। এই সিয়ামকে ফারসীতে বলা হয় রোজা।

আত্মশুদ্ধি, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি গুণ অর্জনের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয় রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আমরা এই মুবারক মাসকে জানাই খোশ আমদেদ।

রমজান মাস অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে রয়েছে। অধিকাংশ আসমানী কিতাব ও সহীফা নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে। পহেলা রমজান হযরত ইব্রাহীমের নিকট নাজিল হয়েছিল সহীফা। হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম মুসলিম জাতির জনক। তিনিই মক্কা নগরীর পত্তন করেন। তিনি আল্লাহ্র নির্দেশে কাবা শরীফ পুনঃনির্মাণ করেন এবং হজের ঘোষণা করেন।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: রমাদানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক দোযখের আগুন থেকে নাজাতের।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সন্ধ্যায় 

298

ঢাকা, ২৬ মে : পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও রমজান মাস শুরুর তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আজ শুক্রবার বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা জানানোর কথা জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শনিবার থেকে সৌদি আরবে রোজা শুরু 

05

ঢাকা, ২৬ মে : সৌদি আরবের সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকে দেশটিতে পবিত্র রোজা শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। খবর আল-আরাবিয়্যা ও গালফ নিউজের।

সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরে বাংলাদেশে পবিত্র রমজান পালিত হয়। সে হিসাবে বাংলাদেশে রোববার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুসলিমরা চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসরণের মাধ্যমে ১২ মাসে বছর গণনা করে থাকে। ফলে চন্দ্রপঞ্জিকায় ৩৫৪ অথবা ৩৫৫ দিনে বছর হয়। হিজরি সনের নবম মাস রমজান, যেটির শুরু ও শেষ হয় চাঁদ দেখে।

এ হিসাবে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে আগামী শনিবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে।

বিশ্বের মুসলিমরা রমজানকে পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য করে থাকে। এবারও বিশ্বের দেড় বিলিয়ন মুসলিম সূর্যোদয়ের পূর্ব থেকে সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার বর্জন করে রোজা পালন করবেন।

এ সময়ে তারা খাবার, পানীয়, ধুমপান এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকেন।

একই সঙ্গে রোজাকালীন সব ধরনের খারাপ কাজ ও চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন মুসলিমরা।

ইসলামের পাঁচ ভিত্তির অন্যতম রমজান। মুসলিমরা এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন।

এই মাসেই আল্লাহ তার প্রিয় নবী ও রাসুল (সা.)- এর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল করেন।

গোটা মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকেন মুসলিমরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বাগতম জানাই মাহে রমজানকে 

khnn

ইসলাম ডেস্ক, ২১ মে : শাবানের চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আর ক’দিন পরই রমজানের বাঁকা চাঁদের উদয় ঘটবে। রহমত, বরকত ও মুক্তির বারতা নিয়ে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবে মাহে রমাদান। আমাদের উচিত বছরের এই সেরা মাসকে স্বাগত সম্ভাষণ জানানো। পরিবারের সদস্যদের রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে এবং সৎ আমলের প্রতি উৎসাহিত করা। ঋতুরাজ বসন্তকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য যেমন শীত ঋতু প্রকৃতির মাঝে পুরনো পাতা ঝরিয়ে একটা সাজ সাজ আবহাওয়া সৃষ্টি করে, তেমন এই রজব ও শাবান মাসদ্বয় রমজানে প্রস্তুতির মাস হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।

রাসূল (সা.) শাবানের বেশিরভাগ সময় রমজানের মতো রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, সাদকা, দাওয়াত-তাবলিগ এবং ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ করার সময় ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত করে গেছেন। মহামহিম মালিকে মাওলার ভালোবাসা প্রত্যাশায় ইবাদত ও আনুগত্যে ডুবে রমজানুল মোবারককে সম্ভাষণ জানানো যায়। আমাদের আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলামের প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে সিয়াম সাধনা অন্যতম। এর মাধ্যমে আমরা পাশবিক শক্তির শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি। এতে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ করার একটা বড় সুযোগ থাকে। এ মাসেই নাজিল হয় মানবতার কল্যাণে শাশ্বত বিধান পবিত্র কোরআনুল কারিম।

পরিবারের সদস্যদের রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে এবং আমলের প্রতি উৎসাহিত করাতে রমজানের আগেই সংসারের ভারী কাজ আগেই সমাপ্ত করে ফেলা দরকার। যাতে ইবাদত-বন্দেগিতে কোনো শারীরিক দুর্বলতাহেতু কোনো রকমের বাধা না আসে। যেমন বাড়িতে কোনো বিশেষ মেহমানের আগমনের আগেই আমরা সব রকমের কর্ম সম্পাদন করে তার সঙ্গে পুরো সময়টা অতিবাহিত করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। তেমনি রমজান নামের এ পবিত্র অতিথির আগমনের আগেই পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতাই শুধু নয়, আত্মিক পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন বেশি দরকার। অপকর্ম না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া অর্থাৎ তওবা করার মাধ্যমে আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করা।

এটিকে সংযমের মাস নামেও আখ্যায়িত করা হয়। এটি শুধু মুখের কথায় ধরে না রেখে অন্তরের একাত্মতা হওয়া। বছরের ১১টি মাসের চেয়ে এ মাসেই মুসলিমরা (আমাদের দেশের) আহার গ্রহণে অতিরিক্ত ব্যয় করে থাকেন। এটি কখনই কাম্য হতে পারে না। উদয় পূর্ণ হলে নফ্স হয় পুষ্ট। আর নফ্সের তাঁবেদারিতে আত্মার উন্নতি রহিত হয়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে শরীর বিভিন্ন রকমের লালসায় মত্ত হয়ে যায়। সব রকমের পাপ কর্মে লিপ্ত হতে সহায়তা করে। তাই স্বল্প আহার আধ্যাত্মিক উন্নতির একমাত্র সোপান। এ মাসে ইফতার পার্টি নামক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বিগত যুগ থেকে শুরু হয়েছে বিত্তবানদের মধ্যে। এতে করে একত্রে ইফতার করার সওয়াবের চেয়ে একটা প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ একটা উদ্দেশ্য পূরণের আশা কাজ করে। অথচ হওয়া উচিত ছিল অসহায়দের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করা। পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত ইফতার করার ফলে রমজানের অন্যান্য ইবাদত যেমন তারাবির নামাজ, কিয়ামুল লাইল, তেলাওয়াতে কালামে পাক, জিকির আসকার, আসতাগফির, দোয়া ও দরূদ পাঠে অলসতা জন্মে, ফলে হৃদয় কলুষিত হয়ে যায়।

পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের দিকে তাকালে দেখতে পাই তারা রমজানের আগে তার প্রস্তুতি নিতে থাকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। যেমন সব জিনিসের দাম কমানো, গরিব পথিকদের মাঝে ইফতার বিলানো। মসজিদে ইফতারের আয়োজনসহ একটা সাজসাজ রব শুরু হয়ে যায় সেসব দেশে। অথচ আমাদের দেশে তার উল্টোটা দেখতে পাই। ফলে নিরন্ন ব্যক্তিদের নাভিশ্বাস উঠে যায় রমজানে। এটি একটি মুসলিম দেশের কাম্য হতে পারে না। এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার এবং জনগণকে একত্রে কাজ করে যেতে হবে। আসুন আমরা এসব অপকর্ম বর্জন করি। রমজানের জন্য শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে মাহে রমজানকে অভ্যর্থনা জানাই।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইবাদত-বন্দেগিতে পবিত্র শবেবরাত পালিত 

784

ঢাকা, ১২ মে : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পালিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সৌভাগ্যের রজনী পবিত্র শবেবরাত।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ায় শামিল হন।

সৌভাগ্যের এ রজনীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমান কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন। ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা আজ নফল রোজাও পালন করেছেন।

বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে রাতভর চলেছে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি ও মোনাজাত।

মুসলমানদের বিশ্বাস, মহিমান্বিত এ রাতেই মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের ভাগ্য, অর্থাৎ তার নতুন বছরের ‘রিজিক’ নির্ধারণ করে থাকেন। রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ছাড়াও পবিত্র এ রাতে মুসলমানরা মৃত বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেন। রাতে কবরস্থানগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ, নাত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত। পবিত্র এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগির জন্য জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদ সারা রাত খোলা ছিল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ পবিত্র শবেবরাত 

254

ঢাকা, ১১ মে : আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পবিত্র শবেবরাত। ফারসিতে শব অর্থ রাত। বরাত অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলা হয় ‘লাইলাতুল মোবারাকা’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’। মোবারাকা অর্থ বরকতময়। হিজরি সনের শাবান মাসের দিবাগত ১৪ তারিখ রাতটিই সেই সৌভাগ্য রজনী।

মহান আল্লাহ তায়ালা এ পুণ্যরজনীতে বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। এ রাতে বান্দাদের গুনাহ মাফসহ আল্লাহর হুকুমে নতুনভাবে ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এ রাতটি অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

এ রাতে তারা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও কবর জিয়ারত করে মরহুম পিতা-মাতা ও আত্মীয়-পরিজনের রুহের মাগফিরাত কামনার মধ্য দিয়ে বিনিদ্র রাত কাটাবেন। জীবনের সব ভুল-ভ্রান্তি, পাপ-তাপের জন্য গভীর অনুশোচনায় মহান আল্লাহর দরবারে রোনাজারি ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাতের পাশাপাশি অনেকে রোজা রাখবেন। সামাজিক প্রথা অনুযায়ী অনেকেই আত্মীয়-পরিজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িতে রুটি ও হালুয়াসহ নানা মিষ্টান্ন পাঠিয়ে থাকেন।

এ উপলক্ষে কাল শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকবে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা পৃথক বাণীতে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দেশ, জাতি ও মুসলিম বিশ্বের অব্যাহত সুখ, শান্তি, কল্যাণ, উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন এবং মানব জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রাতে মসজিদে মসজিদ বিশেষ মোনাজাত হবে।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সন্ধ্যা থেকে রাতব্যাপী বয়ান, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করেছে। ফজরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১১ মে পবিত্র শবে বরাত 

86

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল : আগামী ১১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ১৪ শাবান ১১ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

সভায় পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় আগামীকাল ২৮ এপ্রিল শুক্রবার থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৪ শাবান, ১১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

সভায় ওয়াক্‌ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রেস) মো. মিজান-উল-আলম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার ফজলে রাব্বী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াত হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব শাফায়াত মাহবুব, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমাদ, ধর্মসচিবের একান্ত সচিব মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও মো. শাহ আলম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ পবিত্র শবে মেরাজ 

37

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল : আজ সোমবার দিবাগত রাত পবিত্র শবে মেরাজ। পবিত্র এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজ গমন করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হিজরি ২৬ রজব দিবাগত রাত শবে মেরাজ উদযাপন করেন। ফার্সি ভাষায় শব-এর অর্থ হচ্ছে রাত আর আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ হচ্ছে সিঁড়ি বা ঊর্ধ্বারোহণ। অর্থাৎ রাতে ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। ইসলামে এই রাতকে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া কবুলের পবিত্র রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি কাটাবেন।

অনেকে নফল রোজাও রাখেন। দান-সদকাও করেন। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত সফরকে ‘ইসরা’ এবং মসজিদুল আকসা হতে সাত আসমান পেরিয়ে আরশে আজিম সফরকে ‘মেরাজ’ বলা হয়। ইতিহাসের নিরিখে নবুওয়াতের দশম বছর ও ৬২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী (সা.) আল্লাহর সান্নিধ্যে মেরাজ গমন করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ঈসরাইল ও সূরা নজমের আয়াতে, তাফসিরে এবং সব হাদিস গ্রন্থে মেরাজের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। পবিত্র এই রাতে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে নবীজী প্রথমে বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বোরাকে চড়ে বায়তুল মুকাদ্দাস গমন করেন। সেখানে হজরত আদম (আ.)সহ নবীদের (আ.) নিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি এই রাতেই সপ্তম আকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে আল্লাহর প্রিয় হাবিব মহান প্রভুর অনুগ্রহে আরশে আজিমে পৌঁছেন। আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ ও সরাসরি কথোপকথন শেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

শবে মেরাজ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতারা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ বাদ আসর আলোচনা সভা, বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিল, এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে বিশেষ বয়ান, দোয়া ও মোনাজাত। শবে মেরাজ উপলক্ষে আজ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। দেশের সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ নিবন্ধ। রেডিও-টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বপ্ন দেখে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন 

55

ইসলাম ডেস্ক : মানুষ কর্ম ব্যস্ত জীবনে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রামে যায়। অনেক সময় ঘুমের ঘোরে দিনের ব্যস্ত সময়ের ভালো-মন্দ বিষয়গুলোর একটা প্রভাব তার মাঝে রয়ে যায়। মানুষ স্বপ্নে তা দেখে। অনেকে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে থাকে।

আবার আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্কতামূলক অনেক বিষয় স্বপ্নের মাধ্যমে অবহিত করে থাকেন। এ স্বপ্নের মাঝে থাকে ভালো ও মন্দের অনেক ইঙ্গিত। ঘুমের মধ্যে মন্দ বা বিপদাপদের স্বপ্ন দেখে মানুষ অনেক সময় অস্থির হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর নিকট দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আমর ইবনে শোয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, তখন যেন সে বলে-

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজ্বাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুন। (আবু দাউদ, তিরিমজি, মিশকাত)

অর্থ : আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য সমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অপকারিতা হতে, শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে এবং তাদের উপস্থিতি হতে।

সুতরাং ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে উক্ত দোয়া পড়া এবং স্বপ্নের অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমে মধ্যে ভয় পেলে বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ত্বকী দ্বিতীয় 

158

ঢাকা, ২০ এপ্রিল : আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬৯টি দেশের ১২৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী।

কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কুয়েত সিটিতে আওকাফ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই ‘কুয়েত অ্যাওয়ার্ড’ এর।

বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ। তিনি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওকাফ মন্ত্রী মোহাম্মদ আল জাবরি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইসলামি স্কলাররা।

১২ এপ্রিল কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল মোবারক আল হামাদ আল সাবাহ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আওকাফ মন্ত্রী

মোহাম্মদ আল জাবরি এবং প্রতিযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদ এমাদিসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বব্যাপী কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার বিজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন তার শিক্ষক হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

হাফেজ ত্বকী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শাহবাজপুর গ্রামের হাফেজ মো. বদরুল আলমের সন্তান। তিনি যাত্রাবাড়ীর হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র।

একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী এনটিভিতে প্রচারিত পিএইচপি কোরআনের আলো হিফজ প্রতিযোগিতায় ২০১৪ সালে ৩০ হাজার হাফেজদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কওমী ডিগ্রি নিয়ে ইসলামী দলগুলোতে মতপার্থক্য 

011

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল : বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যেই এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

আহলে সুন্নত নামের একটি সংগঠন বলছে, দেশের সব মাদ্রাসায় একই ধরনের পাঠ্যক্রম অনুসরণ না হলে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যার আশংকা থাকে।

মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়ে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিতর্ক নতুন কোন বিষয় নয়।

এদের মধ্যে নানা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীও বেশ স্পষ্ট। সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেয়ার পর মতপার্থক্য আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত নামের একটি সংগঠন মনে করে, দেশের সব মাদ্রাসায় একই ধরনের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা জরুরি।

দেশের আলিয়া মাদ্রাসায় যারা পড়াশুনা করেন তাদের একাংশ এই সংগঠনের সাথে জড়িত।

এসব মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম সরকার কর্তৃক স্বীকৃত এবং তাদের শিক্ষক নিয়োগে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু কওমী মাদ্রাসাগুলো তার বিপরীত।

দেশের সব মাদ্রাসায় অভিন্ন পাঠ্যক্রম চালু না হলে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন-ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে বলে আশংকা করেন আহলে সুন্নতের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন।

কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার গুনগত মান নিয়ে জোরালো আপত্তি আছে মি. মতিনের ।

তিনি বলেন, তাদেরকে (কওমী মাদ্রাসা) প্রশ্ন করেন তো আলিয়া মাদ্রাসায় যে কোরআন ও হাদিস পড়ানো হচ্ছে, সেটা পড়তে আপনাদের ভয় কোথায়? ওরা কেন এটা পড়বে না?

দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে যারা পড়াশুনা করে এবং যারা পরিচালনা করে তাদের বেশিরভাগ ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত।

আহলে সুন্নত এবং হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে বোঝা যায় যে তাদের মধ্যে পরিষ্কার মতপার্থক্য আছে।

উভয় পক্ষ নিজেদের ইসলামের পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে দাবি করে।
হেফাজতে ইসলামীর নেতারা আহলে সুন্নতকে স্বীকার করতেই রাজি নয়।

হেফাজতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মুফতি ফয়জুল্লাহ’র কথায় সে বিষয়টি স্পষ্ট।

মি. ফয়জুল্লাহ বলেন, কাদের কথা বলছেন, আমি আসলে ওদের চিনি না, জানি না।

হেফাজতে ইসলাম মনে করে তারা বাংলাদেশে ইসলামের পক্ষে সবচেয়ে ‘বড় শক্তি’।

প্রকৃত ইসলামী শক্তি যদি মান অর্জন করে, দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং দেশের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে – কিছু মানুষ সবসময় এটার বিরোধিতা করতেই থাকে, বলছিলেন মি. ফয়জুল্লাহ।

তিনি মনে করেন, সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মি. ফয়জুল্লাহ বলছেন, ইসলামের মূল শিক্ষা, দর্শন এবং জীবনাদর্শকে কেন্দ্র করেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালনা করা হয়।

সেজন্য বিষয়টি নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ দেখছেন না তিনি।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সরকার কওমী মাদ্রাসার ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

কিন্তু এ ধরনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে উভয়পক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ মনে করেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে।

কিন্তু যে প্রক্রিয়ার এই ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে সেটি যথেষ্ট প্রশ্ন আছে বলে মনে অধ্যাপক রশীদ।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবিতে মাস্টার্সের যে ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে ঠিক একই সমমানের হবে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি।

তিনি বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি নিতে প্রায় ১৫ বছর সময় লাগে।

কিন্তু কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি নিতে ১০ বছরের মতো সময় লাগে।

এ বিষয়টি নিয়ে বিরোধিতা রয়েছে বলে অধ্যাপক রশীদ উল্লেখ করেন।

তবে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন-ভিন্ন ব্যাখ্যার যে আশংকা আহ্লে সুন্নত করছে সেটির সাথে একমত হতে পারছেন না অধ্যাপক রশীদ।

তিনি বলেন, ১৪০০ বছর আগে কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। অতীতে অনেক বিশেষজ্ঞ আলেমগন কোরআনের তাফসীর করেছেন। হাদিসগুলো সংকলিত হয়ে গেছে ৪০০ বছরের মধ্যে। সেজন্য এটার যে নতুন করে ব্যাখ্যা হবে তা নয়। অপব্যখ্যা হতে পারে।

অধ্যাপক রশীদ প্রশ্ন তোলেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ডিগ্রি কোন্‌ বিশ্ববিদ্যালয় দেবে? কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোন কর্তৃপক্ষ হতে পারে না।

তিনি আশা করেন, যেহেতু কওমী মাদ্রাসাগুলো এখন সরকারি স্বীকৃতির আওতায় এসেছে সেজন্য ধীরে-ধীরে হয়তো সরকারি নীতিমালা হবে এবং তারা যথাযথ ডিগ্রি পাবে।

কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো যেভাবে একে অপরের বিরোধিতায় জড়িয়ে পড়ছে সেটি নিরসন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

দেখা যাচ্ছে কেউ কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছেন বা কেউ তার নিজের পরিচয়টাকে জাতীয় বা ধর্মীয় স্বার্থের চাইতেও বড় করে দেখছেন। আর্থিক লাভ-অলাভ, রাজনৈতিক সুবিধা, পাওয়া কী না পাওয়া – এসব বিষয়গুলো তো বিরোধিতার কারণ হিসেবে রয়েছে। যতটা না ধর্ম তাত্ত্বিক তার চেয়ে বেশি বৈষয়িক, বলছিলেন অধ্যাপক রশিদ।

এদিকে, হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে সুন্নতের নেতারা বলছেন ইসলামের মূল বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মাঝে কোন মতপার্থক্য নেই । কিছু শাখা-প্রশাখা নিয়ে মতপার্থক্য আছে।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, এ জিনিসটাকে খুব বড় করে দেখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে কারি না। আপনি চিটাগাং থেকে ঢাকা আসবেন। আপনি ফ্লাইটে আসবেন নাকি বাই রোডে (সড়ক পথে) আসবেন অথবা ট্রেনে আসবেন – সেটা আপনার বিষয়। এ ধরনের কিছু বিষয় নিয়ে আমি মনে করি যে কিছু বিরোধ থাকতে পারে যে আপনি কোন পথে চলবেন।  -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঢাকায় নারীদের নামাজের ব্যবস্থা যেখানে 

0

ইসলাম ডেস্ক : ঢাকা শহরকে বলা হয় মসজিদের শহর। প্রায় প্রতিটি গলিতে রয়েছে এক বা একাধিক মসজিদ। যেখানে শুধুমাত্র পুরুষদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রায় মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেই।

আবার যে সব এলাকার মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে, তা আবার অধিকাংশেরই জানা নেই। নারীদের মসজিদের লোকেশন জানা না থাকার কারণে অনেকেই সময় মতো নামাজ আদায় করতে পারে না।

তাদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজন। ঢাকা শহরের যে সব মার্কেট, হসপিটাল ও মসজিদে নারীদের জন্য আলাদা নামাজ আদায়ে জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে, তা হলো-

মসজিদসমূহ
>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ
>> নায়েম ভবন মসজিদ (ঢাকা কলেজের পেছনে)
>> ঢাকা নিউ মার্কেট মসজিদ
>> সোবহানবাগ জামে মসজিদ (ধানমন্ডি ২৭)
>> বায়তুল আমান মসজিদ (ধানমন্ডি ৮)
>> তাকওয়া মসজিদ (ধানমন্ডি ১২/এ লেক সংলগ্ন)
>> বায়তুল মামুর মসজিদের ২য় তলা (সায়েন্সল্যাব)
>> আল-আমিন মসজিদ, স্যার সৈয়দ রোড, মোহাম্মদপুর
>> রমনা থানা জামে মসজিদ
>> আযাদ মসজিদ (গুলশান ২)
>> ফেরদৌসি মসজিদ, মিরপুর-১
>> উত্তরা ৪ নং, ৬ নং, ৭ নং সেক্টর মসজিদ

মার্কেটসমূহ
>> রাইফেলস স্কয়ার (জিগাতলা)
>> ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটের ছাদে
>> রাপা প্লাজার ৫ম তলায় জয়ীতার শো-রুম ও মার্কেটের ছাদ (ধানমন্ডি ২৭)
>> গাউছিয়া মার্কেটের নিচ তলায় (ধানমন্ডি হকারস মার্কেটের এর উল্টোদিকে)
>> চাঁদনি চকের ৩য় তলায় (নিউমার্কেটের উল্টোদিকে)
>> বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, পান্থপথ (৪র্থ তলায়)
>> জেনেটিক প্লাজা ১ম তলা (ধানমন্ডি ২৭)
>> টুইন টাওয়ার শপিং সেন্টার, শান্তিনগর (৪র্থ তলা)
>> মৌচাক মার্কেট (৪র্থ তলা)
>> ডিসিসি সুপার মার্কেট (গুলশান ১)
>> পিঙ্ক সিটি (বেইজমেন্ট)
>> নর্থ টাওয়ার (মার্কেট) ৮ম তলা, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং

হাসপাতাল
>> ইউনাইটেড হসপিটাল (৩য় তলা)
>> স্কয়ার হসপিটাল
>> অ্যাপোলো হসপিটাল (৫ম তলা)
>> ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক হসপিটাল (১.৫ তলা)
>> ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ধানমণ্ডি (বেইজমেন্ট)

উল্লেখিত স্থানগুলোতে নারীদের জন্য রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। যা নারীদের নামাজ আদায়ে সহায়ক হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে থাকছেন যারা 

2

ইসলাম ডেস্ক : ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় গণভবনে কওমি মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সরকারি সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা দেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনশতাধিক আলেম-উলামাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিবেন বলে জানা গেছে।

গণভবনের ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলেমদের নেতৃত্বে থাকবেন বেফাকের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

আল্লামা আহমদ শফী ও বেফাকের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ ১৫০ জন আলেম এবং অন্যান্য বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করবে ১৫০ জন আলেম এ অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।

অন্যান্য বোর্ডের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী আলেমদের নেতৃত্বে থাকবেন গওহরডাঙ্গা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন।

অনুষ্ঠানে যেসব ওলামায়ে কেরামগণ থাকবেন বলে জানা গেছে তারা হলেন- আল্লামা আহমদ শফী, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা আবদুল বাসিত বরকতপুরী, আল্লামা আবদুল হালিম বোখারি, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমীন, আল্লামা সুলতান যওক নদভী, আল্লামা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি আরাশাদ রাহমানী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আবদুল বছির, মাওলানা হুসাইনুল বান্না, মাওলানা আরিফ উদ্দীন মারুফ, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি আবুল কাসেম প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মেঘ দেখলে যে দোয়া পড়বেন 

00

ইসলাম ডেস্ক : রাত ও দিনের আবর্তন, শীত ও গরমের আগমন, মেঘ-বৃষ্টি, ঠান্ডা-তুষারপাতসহ দুনিয়ার সব কিছুই আল্লাহ তাআলা বান্দার কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে প্রত্যেক জিনিসের কল্যাণ-অকল্যাণ ইত্যাদি বিষয় বান্দাকে জানিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণের মাধ্যমে জমিনে বান্দার রিজিকের ফয়সালা করে থাকেন। কিন্তু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কল্যাণের পাশাপাশি মেঘের মধ্যেও অকল্যাণ রয়েছে। তাই আকাশে মেঘ দেখা গেলে তা যেন বান্দার কল্যাণে আসে এবং সব অকল্যাণ থেকে মানুষ মুক্তি পায়, সে দোয়া করা মানুষের জন্য জরুরি।

মেঘ দেখলে পড়ার বিশ্বনবির শিখানো দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সারির মা ফিহি (বুখারি)
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, এ মেঘের মধ্যে যে অনিষ্ট রয়েছে তার থেকে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মেঘের যাবতীয় অকল্যাণ থেকে মুক্তি দান করুন। মেঘের মাধ্যমে বান্দার রিজিকে বরকত দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বামী নির্বাচনে নারীরা যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে 

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

ইসলাম ডেস্ক : ইসলামে বিবাহ একটি ধর্মীয় কাজ। মানুষের পুতঃপবিত্র জীবন যাপনে বিবাহ অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়। আদর্শ পরিবার গঠনে স্বামীর (পাত্রের) জন্য স্ত্রী (পাত্রী) নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নারীর (পাত্রীর) জন্য স্বামী (পাত্র) নির্বাচনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বতর্মান সমাজে এক তরফাভাবে পাত্রী নির্বাচন করা হয়। পাত্রীর গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। হোক তা ইসলামি পরিবার বা আধুনিক পরিবার। কিন্তু পাত্রীর পক্ষ থেকে পাত্রের গুণাগুণের বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণে তেমন প্রাধান্য পায় না।

অথচ আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বেই ইসলাম পাত্রের জন্য পাত্রী নির্বাচনে যেমন নির্দেশনা প্রদান করেছেন ঠিক তেমনি পাত্রীর জন্য পাত্র নির্বাচনেরও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বর নির্বাচনের নারী যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর জন্য গ্রহণযোগ্য স্বামী নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে বলেন, ‘যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়, যার চরিত্র ও দ্বীনদারিতে তোমরা (পাত্রী) সন্তুষ্ট হবে। তবে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও। যদি তোমরা তা না কর, তবে তা পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণ হবে। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)

বিশেষ করে যোগ্য স্বামীর মানদণ্ড তিনটি-
>> দ্বীনদারি;
>> চরিত্রবান ও
>> আকলসম্পন্ন;

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে এই তিনটি বিষয় দেখা/পাওয়া যাবে, তখন পাত্রী ওই ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে। দুনিয়ায় সৌভাগ্যময় পবিত্র ও উত্তম জীবন-যাপনে এবং পরকালের উত্তম পরিণতি উল্লেখিত মানদণ্ডের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির মাঝে যদি দ্বীনের বুঝ না থাকে, সৎ চরিত্রবান না হয়, বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্ন না হয় তবে ওই ব্যক্তি তার দ্বীনদার স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। যখনই স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তখন দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসাই স্বাভাবিক।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় সব নারীকে স্বামী নির্বাচনে হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর