২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সকাল ৭:০৮, রবিবার

যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব

যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব 

0

27ইসলাম ডেস্ক : মানুষের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানুষের হেদায়াত এবং তাঁর জীবন ব্যবস্থা প্রচার ও প্রসারে দুনিয়াতে অনেক নবি ও রাসুল পাঠিয়েছেন। আর নবি-রাসুলগণও আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাঁর বাণী মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে নবি-রাসুলগণের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবন-যাপনে দিয়েছেন সঠিক দিকনির্দেশনা। মানুষের কল্যাণে তিনি নাজিল করেছেন আসমানি গ্রন্থ কুরআন এবং আরো রয়েছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান নিসৃত হাদিস।

মানুষের দুনিয়ার জীবন সুন্দর এবং পরকালকে স্বার্থক করে তুলতে রয়েছে কুরআন হাদিসে অনেক সুস্পষ্ট নির্দেশনা। হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা তুলে ধরা হলো-

Hadith
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য।

>> আযাদী চুক্তিবদ্ধ গোলাম- যে তার রক্তমূল্য আদায় করতে চায়;
>> পবিত্রতার মানসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি;
>> আল্লাহর পথের মুজাহিদ। (তিরমিজি, মিশকাত)

উল্লেখিত হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি কল্যাণমূলক কাজে বান্দাকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য বলে মনে করছেন।
>> যে ব্যক্তি রক্তমূল্য আদায় করে মুক্তি লাভ করতে চায়, ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলার নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করেন।
>> দুনিয়ার জীবনে পাশবিকতার উচ্ছৃঙ্খলপনা থেকে নিজেকে হেফাজত করতে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিবাহ বন্ধে আবদ্ধ হতে চায়, তাদেরকে সাহায্য করাও আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। এবং
>> ওই ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করাও আল্লাহ তাআলার দায়িত্ব, যারা আল্লাহর বিধানগুলোকে পৃথিবীতে বাস্তবায়ন করতে বাতিলের সঙ্গে প্রাণন্তকর প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এ সব লোকদেরকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলা কর্তব্য হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে আল্লাহর সাহায্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভাষা শহীদদের প্রতি মুসলিম উম্মাহর করণীয় 

0

ইসলাম ডেস্ক : ৮ ফাল্গুন ১৩৫৯ বাংলা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিন। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী যারা সাবলীলভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলে, তাদের কাছে ভাষা শহীদদের মর্যাদা যেমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করাও সমান গুরুত্বের দাবিদার।

বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে পাওয়ার দাবিতে একদল অকুতোভয় বীর সন্তান নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আমাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ভাষার অধিকার। তাদের স্মরণে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম উম্মাহর অনেক করণীয় রয়েছে।

৬৫ বছর আগে সালাম জব্বার রফিক বরকতসহ নাম না জানা অসংখ্য বীর সেনানি সেদিন নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন মাতৃভাষার জন্য। তাদের জন্য দোয়া করা সব বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কারণ মাতৃভাষা ব্যবহার করার অধিকার সৃষ্টিগতভাবে মানুষের জন্মগত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘দয়াময় আল্লাহ। তিনিই শিক্ষা দিয়াছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাহাকে ভাব (ভাষা) প্রকাশ করার শিক্ষা দিয়েছেন। (সুরা আর-রহমান : আয়াত ১-৪)

আলোচ্য আয়াতে মানুষের সৃষ্টির সঙ্গে ভাষার ব্যবহারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাই মাতৃভাষা মানুষের একটি সৃষ্টিগত অধিকারও বটে। সুতরাং মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে যারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শহীদি মর্যাদা দান করুন।

বাংলাদেশের মাতৃভাষা বাংলা। আবার বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আমরা যারা মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। তাদের উচিত ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রত্যেকের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, তাঁরা যদি ইসলামি শহাদাতের শর্তগুলো পূরণ করে থাকে, তবে  কুরআন-হাদিসের আলোকে তারা জান্নাতি। তাদের নাজাতের ব্যাপারে আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।

আর ভাষার জন্য নিহত ব্যক্তিদের মাঝে যদি ইসলামি শাহাদাতের শর্তাবলী অনুপস্থিত থেকেও থাকে, তবুও তারা যেহেতু আমাদের ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেদের তাজা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন সেহেতু একজন মুসলমান হিসেবে তাদের জন্য আমাদের কর্তব্য হলো- আল্লাহ তাআলার কাছে তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা, ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া।

হাদিসের বর্ণনা মতে ভাষা শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সদকায়ে জারিয়ার মতো কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কেউ কোনো সদকায়ে জারিয়ার মত সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাহলে যত প্রাণী তা থেকে উপকৃত হবে, সে ঐ সব মানুষের নেকির একটি অংশ পেয়ে যাবে। (মুসলিম)

হাদিসের বর্ণনা মতে, আজ যারা বাংলা ভাষায় স্বাধীনভাবে কুরআন-হাদিসের খেদমত করছেন, ওয়াজ-মাহফিল ও ইসলামি আলোচনাসহ যত ভালো কাজ করছেন এর একটি অংশ ভাষা শহীদদের নিকট অবশ্যই পৌছে যাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করার তাওফিক দান করুন। ভাষা শহীদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মানব জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য 

0

ইসলাম ডেস্ক : ‘মাতৃভাষা বাংলা ভাষা আল্লাহর সেরা দান।’ মানুষের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। তাইতো ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি ও ভাষা।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা রূমের ২২ নং আয়াতে উল্লেখ করেন, ‘আর মহান আল্লাহর নিদর্শসমূহ হতে (একটি নিদর্শন হলো) আসমান ও জমিন সৃষ্টি এবং মানুষের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা। এর মধ্যে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ রয়েছে।’

আবার মানুষকে দুনিয়ার গোমরাহী থেকে সত্যের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অনেক নবি রাসুল প্রেরণ করেছেন। যাদের প্রত্যেককেই তিনি স্বজাতির ভাষায় সত্য বিধানসহ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁরা মানুষের মাঝে তাওহিদের প্রচার-প্রসারের কাজ সহজে করতে পারে।

তাইতো আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবি-রাসুলকেই তার গোত্রের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেন, ‘আর আমি প্রত্যেক পয়গম্বরকেই (নবি-রাসুলগণকে) স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে করে তাদের পরিষ্কার (আল্লাহর বিধান) বুঝাতে পারে। (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪)

বাঙালি ও বাংলাদেশীদের মুখের ভাষা, প্রাণের ভাষা, আত্মার বন্ধনের ভাষা তথা রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো বাংলা ভাষা। মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অস্ত্রের মুখে গর্জে উঠেছিল এদেশের সূর্য সন্তান সালাম, রফিক ও জাব্বার-বরকতদের মতো একদল দেশপ্রেমী মর্দে মুজাহিদ।

আজকে আমাদের মুখের ভাষা বাংলা ভাষা তাদের আত্মত্যাগেরই অবদান। যার ফলশ্রুতিতে আজ বাংলা ভাষায় ইসলাম ও মুসলিমদের তাহজিব তমদ্দুনের দাওয়াত, প্রচার-প্রসারে আমরা দ্বীনের দাওয়াত ও কুরআনের বাণী পৌঁছে দিতে সক্ষম। এটা মাতৃভাষা বাংলার এক মহা সফলতা।

ভাষার গুরুত্বের প্রয়োজনীয়তা আমরা কুরআনেই দেখতে পাই। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় কথাবার্তা বলার জন্য তার ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামকে নিজের সঙ্গী করার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।

কারণ তিনি উপলব্দি করেছিলেন যে, সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় আল্লাহর একত্মবাদ ও দ্বীনের বক্তব্যকে উত্তম বচন ভঙ্গিতে তৎকালীন সম্রাট ফেরাউন ও তাঁর সঙ্গীদের নিকট তুলে ধরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের এ বিষয়টিকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে এভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমার ভাই হারুন, তিনি আমার থেকে অনেক বেশি প্রাঞ্জল ভাষী। তাই আপনি তাকে আমার সহযোগী করে প্রেরণ করুন; যাতে সে আমাকে (দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার প্রাঞ্জল ভাষার দ্বারা) সত্যায়িত করে। কেননা আমি আশঙ্কা করছি (আমার বক্তব্য সত্য হওয়া সত্বেও) তারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ৩৪)

ভাষার গুরুত্ব অত্যধিক হওয়ায় আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন হিব্রু ভাষায়, ইউনানি ভাষায় যাবুর অবতীর্ণ করেছেন পয়গাম্বর হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর, আর হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন সুরিয়ানি ভাষায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মায়ের ভাষায় কথা বলতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুন্দর। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে উন্নত ও মার্জিত ভাষায় কথা বলতেন। কারণ তিনি আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে (শিশুকাল ভাষা রপ্ত করার সময়) লালিত পালিত হয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি বলতেন, ‘আমি সর্বাধিক সুফলিত ভাষায় আমার ভাব বিনিময় করছি।’

সুতরাং মাতৃভাষা মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার সেরা দান বা অনুগ্রহ। তাইতো ভাষা নিয়ে গর্ব করা যায়। মাতৃভাষার চর্চা ও একে উন্নত করার অধিকার সবার একান্ত কর্তব্য। মাতৃভাষা চর্চা ও রক্ষাও প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।

বিশ্বনবির হাদিস মতে, ভাষা শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সদকায়ে জারিয়ার মতো কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কেউ কোনো সদকায়ে জারিয়ার মত সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাহলে যত প্রাণী তা থেকে উপকৃত হবে, সে ওইসব মানুষের নেকির একটি অংশ পেয়ে যাবে। (মুসলিম)

হাদিসের বর্ণনা মতে, আজ যারা বাংলা ভাষায় স্বাধীনভাবে কুরআন-হাদিসের খেদমত করছেন, ওয়াজ-মাহফিল ও ইসলামি আলোচনাসহ যত ভালো কাজ করছেন এর একটি অংশ ভাষা শহীদদের নিকট অবশ্যই পৌঁছে যাচ্ছে।

আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা সমগ্র জাতির হেদায়েতের জন্য আলোর দিশারী হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ করেন তাঁর স্বজাতি ভাষা ‘আরবি ভাষায়’।

বাংলা ভাষার জন্য আত্মদানকারী সালাম, রফিক, জাব্বার বরকতসহ নাম না জানা অসংখ্য আত্মদানকারী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনতার আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। যে ভাষা আমাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার ও দান।

কেননা এ বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে কুরআনের হাদিসের অগণিত অসংখ্য কপি। রয়েছে দেশ ও বিশ্বব্যাপী ভরপুর ইসলামি সাহিত্যের ভাণ্ডার। রচিত হয়েছে কুরআনে হাদিসে ব্যাখ্যা গ্রন্থসহ অসংখ্য ইসলামি সংকলন, যা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আল্লাহ অশেষ রহমত।

সুতরাং যারা ভাষার জন্য বুকের তাঁজা রক্তকে এ জমিন ঢেলে দিয়েছেন, আজকের এই দিনে ওই সব ভাষা শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করাও ঈমানের দাবি।

পরিশেষে…
কুরআন হাদিসের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, ঠিক মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকাও ঈমানের অপরিহার্য বিষয়।

তাই দেশের সব নাগরিকের উচিত, ব্যক্তি, জাতি ও দেশ মাতৃকার জন্য, ভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনে সবাইকে এক ও অভিন্ন থাকা।

আল্লাহ তাআলা বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে মাতৃভাষার প্রশ্নের এক কাতারে শামিল থাকার তাওফিক দান করুন। বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলা সব ভাষা শহীদদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্দার গুরুত্ব 

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed

ইসলাম ডেস্ক : পর্দা মুসলিম নারীর সৌন্দর্য, নারীর মানসম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচ। ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’ নারীকে মর্যাদাবান করেছে যে ইসলাম, নারীর মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখতে পর্দার গুরুত্বকে অনিবার্যও করেছে সেই ইসলাম। তাইতো নারীদের জন্য পর্দা পালন করা ফরজ ইবাদাত।

আবার পর্দা মুসলিম নারীদের সৌন্দর্য হলেও তা পালন করা পুরুষদের জন্যও ফরজ করা হয়েছে। এ কথা ভাবা ঠিক নয় যে, তা শুধু নারীদের জন্যই; বরং পুরুষের জন্যও পর্দা ফরজ। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পর্দার সম্পর্কে কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন। পর্দার গুরুত্ব ও উপকারিতা তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘(হে নবি! আপনি) মুমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত এবং ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা নূর : আয়াত ৩১)

কুরআনুল কারিমের এ আয়াতে থেকে বোঝা যায়, পর্দা প্রথমত পুরুষদের জন্য ফরজ। অতপর নারীদের পর্দা পালনের কথা বলেছেন। কারণ পর্দা করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা।

কেনন আল্লাহ তাআলা নারীকে পুরুষের চোখে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন। আবার পুরুষের আকর্ষণও নারীর মধ্যে তৈরি করে দিয়েছেন। সে কারণেই ইসলামি শরিয়তের হুকুম অমান্য করে বেপর্দা হওয়া নারী এবং পুরুষের জন্য কোনোভাবেই বৈধ নয়।

বিশেষ করে আল্লাহ তাআলা নারীদের নিরাপত্তায় পর্দার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সুষ্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে নারীগণ! তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান কর। পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগের মতো সাজসজ্জা করে পরপুরুষের সম্মুখে বাহির হবে না। নামাজ আদায় কর, জাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য কর।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৩৩)

নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দা পালনের উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে হাদিসে নারীদের জন্য পর্দা পালনে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। পর্দা পালনকারী নারীরা আল্লাহর রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নারী গোপনীয় সত্তা, তারা যদি প্রকাশ্যে (বেপর্দা হয়ে লোকালয়ে) বের হয় তবে শয়তান তাদের দিকে উঁকি দিয়ে তাকায়। আর যে নারী তার ঘরের মধ্যে অবস্থান করে (পর্দা পালন করে) সে আল্লাহর রহমতের অধিক নিকটবর্তী থাকে।’(তিরমিজি)

পুরুষ যেমন নারীর দিকে তাকাবে না, তেমনি নারীও আড়ালে থেকে পুরুষদের দিকে দৃষ্টিপাত করবে না। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়টি হাদিসে সুন্দর ও সুস্পষ্ট সমাধান পেশ করেছেন।

হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ও মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ছিলাম। এমতাবস্থায় (দৃষ্টিহীন সাহাবী) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমন করলেন।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা পর্দার অন্তরালে চলে যাও।’ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! ইনি কি দৃষ্টিহীন নন? ইনি তো আমাদেরকে দেখছেন না। জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা কি তাকে দেখছো না? (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত)

অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নারী গোপনযোগ্য। যখন সে ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে তাকাতে থাকে। (মিশকাত)

বতর্মান স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি পর্যায়ে নারীদেরই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইন্টারনেটের এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এমনকি বয়স্ক ব্যক্তি নারী-পুরুষরাও, যা সমাজের জন্য এক ভয়ংকর মহামারি আকার ধারণ করছে।

এ কারণেই আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে পর্দার যে জ্ঞান লাভ করেছিলেন, তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই কুরআন ও হাদিসের আলোকে যাদের সঙ্গে পর্দা করা ফরজ, তাদের সামনে বেপর্দা হয়ে খোলামেলা পোশাকে যাতায়াত করা বা অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম এবং কবিরা গোনাহ।

কেউ কেউ পর্দার বিধানকে ধর্মীয় মনগড়া মতবাদ বলে আখ্যায়িত করা, মনে পর্দা বড় পর্দা; তাছাড়া পর্দা নিজের কাছে এমন কথা বলে পর্দার গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে অস্বীকার করে। এমনটি ভাবা কুরআন ও হাদিসকে অস্বীকার করা ছাড়া বৈ আর কিছুই নয়। এ সব কথা শুধু পর্দার খেলাপ নয় বরং ইসলামে এ সব কথা-বার্তা বলাও মারাত্মক অপরাধ।

বেপর্দার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো প্রতিটি পদে পদে নারীদের হয়রানির স্বীকার হওয়া। ইভটিজিংয়ের স্বীকার হওয়া। পথে-ঘাটে, স্কুল-কলেজে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব জায়গায় ঘৃণ্য ও নোংরা আচরণের স্বীকার হওয়া এবং অশ্লীল বাক্যবানে জর্জরিত হওয়া।

বর্তমান সময়ে ফ্যাশনের নামে নারী ও পুরুষকে বেপর্দা করার যে হিড়িক শুরু হয়েছে, তা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশান্তির এক মরণ ব্যাধি। মুসলিম উম্মাহর উচিত অশালীন পোশাক পরিহার করে, শালিন পোশাক পরিধান করা। সমাজের প্রত্যেক নারী ও পুরুষের উচিত তাদের নিজ নিজ আত্ম-সম্মানবোধ এবং সৌন্দর্যের হিফাজত করা।

পর্দার বিধান পালনের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের সংযত জীবন-যাপন ব্যক্তি-পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাইতো আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সমগ্র মানবজাতিকে হুশিয়ার করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা এ শান্ত পৃথিবীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি কর না।’ সুতরাং পর্দার লংঘন করে চলাফেরা করা, দুনিয়ার কর্ম সম্পাদন করা নারী-পুরুষ কারো জন্যই শোভনীয় নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং নারী ও পুরুষদের আত্ম-সম্মানবোধ ও মর্যাদা রক্ষায় পর্দার পরিপূর্ণ বিধান পালন করে তাকওয়া অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ায় সুন্দর জীবন এবং পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা লাভে পর্দার বিধান সমাজের সর্বস্তরে বাস্তবায়নে প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষদের কাজ করে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমেরিকার ফ্লোরিডা ভার্সিটিতে হিজাবের পক্ষে কর্মসূচি 

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed

ইসলাম ডেস্ক : ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আমেরিকার অন্যতম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একঝাঁক মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী হিজাব পরিধানের পক্ষে সচেতনা বৃদ্ধিতে এক কর্মসূচি পালন করেছে।

ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মুসলিম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সদস্যরা ইসলামের প্রতি সচেতনা বৃদ্ধি লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী অনেকগুলো ইভেন্টের আয়োজন করেছে। হিজাব কর্মসূচি এগুলো মধ্যে একটি। এ ইভেন্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘হিজাব-১০১’ হিজাবের বাস্তব ও প্রকৃত সুবিধা অমুসলিমদের অবহিত করাই এ ইভেন্ট আয়োজনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

হিজাব ইভেন্ট প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বায়োমেডিকেল সায়েন্সের প্রধান মুনাজাহ বাগদাদির ভাষায়, ‘আমাদের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- মানুষকে এ কথা বোঝানো যে, মুসলিম মেয়েরা মাথায় যে স্কার্ফ বা হিজাব পরিধান করে তা কখনোই নিপীড়নের প্রতীক নয়। বরং এটি নারীবাদের একটি প্রতীক।

কিছু কিছু মুসলিম হিজাব পরিধান করাকে নারীদের জন্য একটি ঐচ্ছিক বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু তা সঠিক নয়, বরং এ চিন্তা চেতনা ইসলামের মূল বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে তিনি অভিহিত করেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর থেকে ইসলামের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসোসিয়েশন হিজাব ইভেন্ট শুরু করে। সপ্তাহব্যাপী চলবে এ ইভেন্ট। প্রতিদিনই হিজাব পরিহিত শিক্ষার্থীরা অন্যসব মুসলিমদেরকে হিজাব পরিধানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।

হিজাব ইভেন্ট আয়োজন প্রসঙ্গে মুনাজাহ বাগদাদি বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই আমরা এ রকম কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকি। এর লক্ষ্যই হলো, হিজাব পরিধানে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মৃত ব্যক্তির যে ডাক মানুষ শুনতে পায় না 

0

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, ‘পৃথিবীর প্রতিটি জীবনকেই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে।’ সে হিসেবে মানুষও একদিন মারা যাবে। মানুষ মৃত্যুর পর জীবত মানুষদেরকে লক্ষ্য করে কথা বলে এবং বলবে; কিন্তু মানুষ মৃতব্যক্তির সে কথা শুনতে পায় না।

মৃতব্যক্তিকে দাফন করতে নেয়ার পথে বা কবরের পাশে মানুষ ছাড়া যে সব জীব-জন্তু থাকে, তারা মৃত ব্যক্তির সে সব কথা শুনতে পায়। হাদিসে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া বলেন-

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে পুরুষেরা তাদের কাঁধে করে নিয়ে যায়, তখন যদি সে (মৃত ব্যক্তি) নেককার হয়, তাহলে সে বলে, আমাকে পৌছে (জান্নাতে) দাও।

আর যদি বদকার (গোনাহগার) হয়, তাহলে বলতে থাকে, হায় আফসোস! একে (মৃত ব্যক্তিকে) কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওরা। মানুষ ব্যতিত সবাই তার আর্তনাদ শুনতে পাবে। আর মানুষ যদি তা (মৃত ব্যক্তির এ সব আহ্বান) শুনতো তবে তারা বেহুশ হয়ে পড়েতো। (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রাণপ্রিয় উম্মতের জন্য এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এ কারণে যে, তারা যেন দুনিয়ার চাকচিক্য, লোভ-লালসায় নিজেদের আচ্ছন্ন করে না রাখে। মৃত্যু স্মরণ যেন তাদের পরকালের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহ জোগায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত্যুর স্মরণের মাধ্যমে পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মসজিদে নববির হৃদয় জুড়ানো একটি দৃশ্য 

0

ইসলাম ডেস্ক : মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন মদিনাতুল মুনাওয়ারা। যারা মদিনার প্রেমে আত্মহারা, তাঁদের জন্য মদিনার প্রতিটি স্থানের জন্যই রয়েছে হৃদয়ের সীমাহীন ভালোবাসা। আর যদি সে স্থানটি যদি হয় মসজিদে নববির ভেতরের দৃশ্য। তাহলে তো কথাই নেই।

মসজিদে নববির ভেতরের হৃদয় জুড়ানো একটি দৃশ্য-

222
প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই জীবনে একবার হলেও মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এ স্বপ্ন পূলণে নীরবে নিভৃতে কাঁদেন মহান প্রভুর দরবারে।

মদিনা এমন জায়গা যেখানে একবার গেলে মন চায় সারাজীবন সেখানে পড়ে থাকার জন্য। ফিরে আসলেও মন চায় বারবার যাওয়ার জন্য।

মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা মদিনা ও মদিনাওয়ালার প্রেমিক তাদের একান্ত কামনা থাকে একটাই, জীবনের শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন মদিনাওয়ালার আদর্শ ধরে রাখতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মদিনার প্রেম ও ভালবাসার পাশাপাশি মদিনাওয়ালার আদর্শ ধারণ করার তাওফিক দান করুন। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের শান্তি লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফেরাউনের অগ্নি পরীক্ষা ও আল্লাহর রহমত 

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। যারা মানুষের মাঝে তার কালেমার দাওয়াত ও সঠিক জীবন দর্শন তুলে ধরেছেন।

রেসালাতের ধারাবাহিতকায় এ পৃথিবীতে আগমন করেন হজরত মুসা আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সবচেয়ে বেশি নেয়ামত দান করেছেন। কুরআনুল কারিমে হজরত মুসা আলাইহিস সালালামের নবুয়তি যুগের ব্যাপক আলোচনা ওঠে এসেছে।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের মুখে জড়তা থাকার কারণে তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন, তাঁর সাহায্যে তাঁরই বড় ভাই হজরত হারুনকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োগ করার জন্য। আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করে তাঁর ভাইকে নবি হিসেবে কবুল করেন।

ফেরাউনের অগ্নি পরীক্ষায় মুসা আলাইহিস সালাম
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দুগ্ধ পান করার সময় তাঁর মায়ের কাছেই ছিলেন এবং তাঁর মা ফেরাউনের দরবার থেকে দুধ পান করানোর বিনিময়ে ভাতা পেতেন। শিশু মুসা দুধ পান বন্ধ করে দিলে ফেরাউন ও তার স্ত্রী আছিয়া তাঁকে পালক পুত্র হিসেবে তাদের নিজেদের কাছে নিয়ে যায়।

ওই সময়ে একদিন শিশু মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের দাড়ি টেনে ধরে তার গালে একটি চপেটাঘাত করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, ‘তিনি একটি ছড়ি হাতে নিয়ে খেলা করছিলেন। এক সময় ছড়ি দ্বারা তিনি ফেরাউনের মাথায় আঘাত করে বসেন।’

ফেরাউন রাগান্বিত হয়ে তাঁকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তখন ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া বললেন, ‘রাজাধিরাজ! আপনি অবুঝ শিশুর অপরাধ ধরবেন না। সে তো এখনও ভাল-মন্দের পার্থক্যও বোঝে না।

আপনি ইচ্ছা করলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ফেরাউনকে পরীহ্মা করানোর জন্যে আছিয়া একটি পাত্রে জলন্ত অঙ্গার ও অপর পাত্রে মণিমুক্তা এনে মুসা আলাইহিস সালাম -এর সামনে রেখে দিলেন।

উদ্দেশ্য এই যে-
হজরত মুসা আলাইহিস সালাম অবুঝ শিশু। শিশুসুলভ অভ্যাস অনুযায়ী সে আগুনের জলন্ত অঙ্গারটির উজ্জ্বল ও সুন্দর মনে করে তা ধারার জন্যে হাত বাড়াবে। মণিমুক্তার চাকচিক্য তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে না।

ফলে ফেরাউন বুঝতে পারবে যে, সে যা করেছে, তা শিশুসুলভ আচরণেই (অজ্ঞতাবশতঃ) করেছে। কিন্তু শিশু মুসা আলাইহিস সালাম কোনো সাধারণ শিশু ছিল না; তিনি ছিলেন আল্লাহ তাআলার ভবিষ্যৎ নবি ও রাসুল।

যাঁর স্বভাব-প্রকৃতি জন্মলগ্ন থেকেই অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল। মুসা আলাইহিস সালাম আগুনের পরিবর্তে মণিমুক্তাকে ধরার জন্য হাত বাড়াতে চাইলেন; কিন্তু জিবরিল আলাইহিস সালাম তাঁর হাত অগ্নিস্ফুলিঙ্গের পাত্রে রেখে দিলেন।

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ওই সময় আগুনের স্ফুলিঙ্গ তুলে মুখে দিলেন। ফলে তাঁর জিহ্বা পুড়ে যায়। এতে ফেরাউন বিশ্বাস করল যে, মুসা আলাইহিস সালামের এ চড় বা ছড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করার কাজটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল না।

এটা ছিল নিতান্তই বালকসুলভ অজ্ঞতাবশতঃ। ওই ঘটনা থেকেই হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জিহ্বায় কথা বলার সময় জড়তার সৃষ্টি হয়।

যে ফেরাউন তাঁর ক্ষমতা হারানোর আশংকায় হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আগমনের ভয়ে অসংখ্য শিশুকে হত্যা করেছিল। আল্লাহ তাআলা সেই পয়গাম্বর হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে তাঁরই তত্ত্বাবধানে রাজ-প্রসাদে লালিত-পালিত করে বড় করলেন। এ হলো আল্লাহ তাআলার রহমতের বিশেষ নমুনা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর রহম ও করমের ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে দ্বীন ও ইসলামের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করার এবং কুরআন সুন্নাহর বিধান যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জীবন-যাপনে মুসলমানের জন্য যা আবশ্যক 

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed

ইসলাম ডেস্ক : কুরআন-সুন্নাহর বিধান পুরোপুরি মেনে চলা মুসলিম উম্মাহর নারী-পুরুষ সবার জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষের অর্পিত এ দায়িত্ব হলো প্রথমে নিজেই কুরআন সুন্নাহর আনুগত্য মেনে নেয়া এবং পরবর্তীতে কুরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নে অন্যকে দাওয়াত দেয়া। এ বিষয় দুটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

প্রথমত : কুরআন সুন্নাহর নির্দেশের আনুগত্য
কোনো শরিক ছাড়া একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগি করা এবং আল্লাহ ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করা। এ ছাড়া আল্লাহর নির্দেশিত বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর এবং (এ বিধান) শোনার পর কখনো তা থেকে বিমখু হয়ো না।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২০)

দ্বিতীয় : কুরআন সুন্নাহর নির্দেশ মেনে চলার দাওয়াত প্রদান
আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করা, সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার দাওয়াত দেয়া। সমাজে প্রচলিত অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সত্য ও ন্যায়ের আদেশ দিবে আর অসত্য ও অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে; অতঃপর যারা এ দলে শামিল হবে, সত্যিকারার্থে তারাই সাফলতা লাভ করবে।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০৪)

কুরআন এবং সুন্নাহর আনুগত্যের পাশাপাশি এ নির্দেশ পালনের দাওয়াত প্রসঙ্গে বিশ্বনবির ঘোষণা-
274

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ যদি কোনো ঘৃণ্য/নিন্দনীয়/অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখ;
তবে ওই ব্যক্তির কর্তব্য হলো- সম্ভব হলে (ওই মন্দ কাজ) হাত দ্বারা প্রতিহত বা মোকাবেলা করা;
আর যদি তা (হাত দ্বারা মোকাবেলা করা) অসম্ভব হয়, তবে মখু দ্বারা প্রতিবাদ করা;
আর যদি তাও (মুখে প্রতিবাদ করাও) অসম্ভব হয়, তবে মনে মনে ঘৃণা (নিরবে প্রতিবাদ) করা। আর এটাই ঈমানের দুর্বলতম অংশ। (মুসলিম)

নিরব প্রতিবাদ
সমাজে অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখলে হাত এবং মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করার সাহস ও সামর্থ্য না থাকলে মনে মনে ঘৃণা করলে অন্যায় ও অত্যাচার বন্ধ হবে না। কিন্তু এ অন্যায় এবং অত্যাচার বন্ধ করার দায়িত্ব রয়েছে প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর।

এ দায়িত্ব পালনে প্রত্যেকেকেই নিরবে কাজ করে যেতে হবে। আর তা হলো- অন্যায় ও অত্যাচার বন্ধে যেভাবে কাজ করলে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হবে না; সেভাবে কৌশল ব্যবহার করে অন্যায় ও অত্যাচার বন্ধ করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই হলো নিরব প্রতিবাদ।

অন্যায় ও অত্যাচারকে মনে মনে ঘৃণা মানে শুধু ঘৃণা নয়, বরং নিরবে নিরবে এ ঘৃণ্য কাজ সমাজ থেকে স্বমূলে উৎপাটন করতে কাজ করে যাওয়াই ঈমানের দুর্বলতম অংশ।

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারী ও পুরুষকে উল্লেখিত ওয়াজিব কাজ সম্পাদনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার তাওফিক দান করুন।

কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ ও অনুকরণের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে কুরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নে কাজ করার তাওফিক দান করুন।

সর্বোপরি কুরআন-সুন্নাহর বিধান সমাজের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের জন্য নিরবে নিরবে ধীরে ধীরে দাওয়াতে দ্বীনের কাজ করে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যেভাবে দোয়া করতে শিখিয়েছেন বিশ্বনবি 

2

ইসলাম ডেস্ক : দোয়া হলো প্রার্থনা করা। হাদিসে এসেছে, দোয়াই হলো ইবাদত। তাই দোয়া করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট। অন্য কারো কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করা যাবে না। বিশেষ করে আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো- রাত জেগে তাঁর হামদ, ছানা ও তাসবিহ পাঠ করার পর প্রত্যেকের মনের একান্ত প্রয়োজনীয় চাওয়া-পাওয়ার আবেদন করা।

যখন কোনো মানুষ লজ্জিত হয়ে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে খালি হাতে ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন। আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে সাহায্য লাভে দোয়া করতে হবে গভীর রজনীতে। যখন সমগ্র দুনিয়া নিরব নিস্তব্দ হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা রাতের দ্বিপ্রহরের পর প্রথম আকাশে এসে বান্দাকে ডাকতে থাকেন; তাদের প্রয়োজন পূরণে তাঁর নিকট প্রার্থনা করতে ডাকতে থাকনে।

গভীর রজনীতে যারা কিছু সময় রাত জেগে আল্লাহ তাআলার হামদ, ছানা ও তাসবিহ পড়ে দোয়া করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের দোয়া কবুল করেন। হাদিসে বিশ্বনবি তাঁর উম্মতের জন্য হামদ, ছানা ও তাসবিহ পাঠের পর দোয়ার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। যা উল্লেখ করা হলো-

হজরত উবাইদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি রাত জেগে পাঠ করে-

274
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়্যিন ক্বাদির; আল হামদু লিল্লাহি, ওয়া সুবহানাল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার; ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তারই, যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই, তিনিই সবকিছুর উপর শক্তিমান; সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান; কোনো ভরসা নেই, কোনো শক্তি নেই (গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার) আল্লাহর তাআলার তাওফিক ছাড়া।

অতঃপর (এ দোয়া) বলে- اَللهُمَّ اغْفِرْلِيْ (আল্লাহুম্মাগফিরলি) ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’ অথবা অন্য কোনো দোয়া করে; ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হয়।

অতঃপর অজু করে এবং নামাজ পড়ে; তার (ওই বান্দার) নামাজ কবুল করা হয়। (বুখারি, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

বিশ্বনিবর উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, গভীর রাতে আল্লাহর প্রশংসা পূর্বক তাঁর নিকট দোয়া করলে, অজুর পর নামাজ আদায় করলে, আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির দোয়া এবং নামাজ কবুল করেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো পদ্ধতিতে হামদ, ছানা, তাসবিহ, অজু, নামাজ এবং দোয়া যথাযথভাবে সম্পাদনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কন্যা সন্তানের প্রতি সুবিচার 

274

ইসলাম ডেস্ক : হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে ঘরের (পরিবারের) প্রথম সন্তান কন্যা হয়; সে ঘর হয় বরকতময়। বর্তমান সমাজে দেখা যায়, কন্যা সন্তান হওয়ার কারণে অনেক নারীকে স্বামী পরিত্যাক্তা হতে হয়। কন্যা সন্তান জন্মের পরই শুরু হয় মা ও শিশুর প্রতি চরম অবহেলা।

কন্যা শিশু ও নারীর প্রতি চরম অবহেলা ও অবিচার হলো জাহেলী যুগের চরিত্র। যে সমাজে নারী কোনো মর্যাদা ছিল না। নারী ও কন্যাদেরকে ভোগ ও আনন্দ বিনোদনের সামগ্রী হিসেবে মনে করা হতো। আজকের আধুনিক দুনিয়ায়ও জাহেলী যুগের প্রেতাত্মারা সজাগ। তাদের প্রতি কুরআন ও হাদিসে রয়েছে সতর্ক বাণী।

কন্যা সন্তান জন্ম হলে জাহেলী যুগের সমাজপতিরাও নাখোশ হতো। তাদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। কতই না নিকৃষ্ট ছিল তারা। আল্লাহ তাআলা তাদের বাস্তব অবস্থার কথা কুরআনে এভাবে তুলে ধরেছেন-

356

অর্থাৎ ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তাদের চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে (কন্যা সন্তানকে) রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!।’ (সুরা নহল : আয়াত ৫৮-৫৯)

কন্যা সন্তানের প্রতি সুবিচার ও যথাযথ দায়িত্ব পালন করা বিশ্বনবির নির্দেশ। তিনি কন্যাদের প্রতি সুবিচার করতে বলেছেন। তাছাড়া কন্যা সন্তান মানুষের জান্নাত লাভেরও উপায়। হাদিসে এসেছে-

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমার কাছে এক মহিলা এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়ে ছিল। সে আমার কাছে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করল। আমার কাছ থেকে সে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই পেল না। আমার কাছে থাকা খেজুরটি আমি তাকে দিয়ে দিলাম।

সে তা-ই গ্রহণ করল এবং তা (খেজুরটি) দুই টুকরো করে তার (ওই মহিলার) দুই মেয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। সে (মহিলা) তা থেকে কিছুই খেল না। তারপর সে (মহিলা) ও তার দুই মেয়ে উঠে পড়ল এবং চলে গেল।

এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর কাছে ওই মহিলার কথা বললাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যাকে কন্যা সন্তান দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়; আর ওই ব্যক্তি তাদের (কন্যা সন্তানের) প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

পরিশেষে…
কন্যা সন্তানদের প্রতি অবিচারকারী বা অবহেলাকারীদের প্রতি কুরআনের এ আয়াতটিই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন-

konna-inner-120170206120705

অর্থাৎ ‘নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’আলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। (সুরা আশ-শুরা : আয়াত ৪৯-৫০)

সুতরাং সাবধান! কন্যা সন্তান জন্ম নিলেই কোনো নারীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়; বরং কন্যা সন্তানের প্রতি সুবিচার করুন। ছেলে সন্তানের মতোই তাকে আদর-যত্নে, মায়া-মমতায় বেড়ে ওঠার সব দায়িত্ব পালন করুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কন্যা সন্তান ও নারীদের প্রতি জাহেলী যুগের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। তাদের প্রতি সদ্বয় হওয়ার এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অশ্লীল কথাবার্তা বর্জন করা বিশ্বনবির নির্দেশ 

2

ইসলাম ডেস্ক : ইসলামি শরিয়াতে গালিগালাজ, মন্দ ও অশ্লীল কথাবার্তা বিনিময় সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ গালিগালজ, মন্দ কথা ও অশ্লীল কথা বলার সময় সীমা লংঘন হয়। কুরআন হাদিস বিরোধী বাক্য-বিনিময় হয়।

এক জন অন্য জনের দোষ বর্ণনা করে, বাবা-মা তুলে খারাপ কথা বলে। এমনকি পরস্পরে মারাত্মক কলহে জড়িয়ে পড়ে। অশালীন কথাবার্তার ফলে মানুষের মনে জেদ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফলশ্রতিতে রক্তপাত হহয়।

মন্দ ও খারাপ কথার দ্বারা সমাজের পারস্পরিক সম্প্রীতির সুন্দর ও মধুর বন্ধন তিক্ত হয়, অহংবোধের সৃষ্টি হয়, নম্রতা-ভদ্রতার সীমা লংঘিত হয়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে মানুষকে সুন্দর ও উত্তম কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ও সুন্দর কথা বলো। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ৮৩) অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে কথা-বার্তায় খারাপ বা মন্দ কথা বল না। সুন্দর ও উত্তম কথার দ্বারা বাক্য বিনিময় কর।

এ কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুমিনকে গালি দেয়া ফাসেকি এবং তার সঙ্গে ঝগড়া বা লড়াই করা কুফরি। (বুখারি)

মন্দ ও খারাপ কথার দ্বারা মানুষের চারিত্রিক অবক্ষয় হয়। বন্ধু-বান্ধব একত্রে বসে আড্ডায়, দোকান-পাটের আড্ডায়, হাসি ও ঠাট্টার ছলে অশ্লীল কথা-বার্তায় মেতে ওঠে। অথচ অশ্লীল কথা-বার্তায় মানুষ মারাত্মক অন্যায় ও গোনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে।

অশ্লীল কথা-বার্তা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। আর কোনো ঈমানদারের পক্ষে অন্যায় কাজ করাতো দূরের কথা অশ্লীল কথা বলা বা কারো প্রতি গালিগালাজ করা, বিদ্রুপ বা হাসি ঠাট্টা করা সম্ভব নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তি কারো প্রতি অভিশাপ ও লানত করে না এবং সে কোনো অশালীন এবং অশ্লীল কথাও বলে না। (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। বিশ্বনবির জীবনে কখনো এ সব খারাপ গুণের সমাবেশ ঘটেনি। তিনি ছিলেন উদার ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী। উম্মতের মুহাম্মাদির চরিত্র হবে তাঁর আদর্শ ও চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী।

বিশ্বনবির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শত জুলুম-নির্যাতনের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও কাউকে কখনো মন্দ কথা বলেননি, অভিশাপ দেননি।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গালিগালাজকারী, অশালীনভাষী এবং অভিশাপকারী ছিলেন না। আমাদের কারো প্রতি নারাজ হলে তিনি কেবল এটুকু বলতেন যে, ‘তার কি হলো! তার কপাল ধূলিময় হোক।’ (বুখারি)

শুধু তাই নয়, তিনি আরো বলেছেন, ‘তুমি রূঢ় (কঠিন ও কর্কশ) ব্যবহার এবং অশালীন আচরণ বা কথাবার্তা ছেড়ে দিবে। (বুখারি)

পরিশেষে…
মুসলিম উম্মাহর উচিত হলো- ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়, জেদের বশবতী হয়ে, হাসি-ঠাট্টার ছলে বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক অশ্লীল ও মন্দ কথা না বলা। এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবির ছোট্ট একটি হাদিসই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তা হলো ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার কথা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি) আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁদের জবান দ্বারা কোনো মানুষকে অন্যায়, মন্দ ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলা থেকে বিরত রাখুন। কথাবার্তায় সংযমী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শত্রুতা থেকে মুক্ত থাকতে যে দোয়া পড়বেন 

1

ইসলাম ডেস্ক : সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যারা অটল ও অবিচল, আল্লাহ তাআলা তাদের ভালোবাসেন। দুনিয়াতে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে মানুষের ওপর অশুভ শক্তির পক্ষ থেকে বিপদ-মুসিবত আসে। বিপদ-মুসিবত মোকাবেলার পাশাপাশি সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনা করা আবশ্যক কর্তব্য। কারণ আল্লাহর সাহায্যই বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় সাহায্য।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুশমনের দুশমনি থেকে আত্মরক্ষায় ন্যায় ও সত্যের পক্ষে কাজ করা নির্দোষ মানুষের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করার জন্য হাদিসে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন।

হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো দল সম্পর্কে (শত্রুতার) ভয় করতেন, তখন বলতেন-

274
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাঝ্‌আ’লুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউ’জুবিকা মিং শুরূরিহিম।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে শত্রুর মোকাবেলায় পেশ করছি, তুমিই তাদের দমন কর। আর তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

উল্লেখ্য যে, হাদিসে নির্দেশিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর হুকুম-আহকাম পালনের পাশাপাশি সর্বদা বিপদাপদে, শত্রুর মোকাবেলায় তারই সাহায্য কামনা করার তাওফিক দান করুন। দ্বীন ও ইসলামের আশ্রয়ে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জুমআর দিন মুসলমানদের জন্য অনেক মর্যাদাবান 

2

ইসলাম ডেস্ক : ইয়াওমুল জুমআ বলতে জুমআর দিন বা শুক্রবারকে বোঝায়। এ দিনের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। হাদিসের বর্ণনা মতে, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে জুমআর দিন অনেক মর্যাদাবান একটি দিন।

এ দিনের রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। যার বর্ণনায় রয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক উপদেশ। জুমআর দিনের মর্যাদা ও প্রাপ্তি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরা হলো-

عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُول الله ﷺ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْن الجُمُعَةِ وَزِيادَةُ ثَلاثَةِ أيَّامٍ، وَمَنْ مَسَّ الحَصَا فَقَدْ لَغَا». رواه مسلم

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (জুমআ’র দিন) গোসল করে জুমআ’র নামাজ পড়ার জন্য আসে।

অতঃপর তার ভাগ্যে যত রাকাআত নামাজ ছিল; তা সে আদায় করে। (যত রাকাআত সম্ভব পড়ল)

অতঃপর ইমাম সাহেবের খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকে (মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনে)

এবং তাঁর (ইমামের) সঙ্গে জুমআর নামাজ (যথাযথ) আদায় করে;

তার (নামাজ আদায়কারীর) জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী (ছয়) দিনের এবং অতিরিক্ত আরো তিনদিনের গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (মুসলিম)

পরিশেষে…
হাদিসের তথ্যমতে বোঝা যায় যে, জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিন পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জুমআর নামাজের বয়ান শুরু হওয়ার পূর্বেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া একান্ত আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন ইয়ামুল জুমআয় নিয়মিত অধিক পরিমাণে নামাজ পড়ার এবং খুৎবা শোনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মৃত্যুর সময় মানুষের অনুভূতি যেমন হবে 

2

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীর সব প্রাণীকেই মৃত্যু স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ জীবন যার আছে মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে মানুষের মৃত্যু। কারো আপন জনের মৃত্যুতে স্বজনের বিয়োগ ব্যাথাই নয় বরং মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিও প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ের এ কষ্টের বিবরণ তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন। আবার মৃত্যুর এ ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের সুস্পষ্ট আমলও শিখিয়ে গেছেন। তাম্বীহুল গাফেলিনে মৃত্যুকালীন কষ্টের ওপর একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যে,

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজরত কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হজরত কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘মৃত্যু হলো কাঁটাদার গাছের মতো। কাঁটাযুক্ত সে গাছটি যখন মানুষের পেটে ঢোকানোর পর তার প্রতিটি কাঁটা শিরায় শিরায় লেগে যায়।

তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছিটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে। ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বিদ্ধ হওয়া কাঁটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ে মৃত্যুপথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন, তার শরীরের গোশতগুলো যেন একটি  কাঁটার সঙ্গে বেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যুযন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে।

এ হলো মৃত্যুকালীন সময়ে মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার নমুনা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর; যেভাবে ভয় করা উচিত। এবং অবশ্যই (সবধান!) মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০২)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাও। তবেই মৃত্যুকালীন কষ্টসহ পরকালের প্রথম মনজিল কবর, ফুলসিরাত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের দিন নাজাত লাভ করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত্যুকালীন সময়ের কষ্ট থেকে হেফাজত করুন। পরকালের নাজাত দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর