২৪ এপ্রিল ২০১৭
ভোর ৫:৪৬, সোমবার

স্বপ্ন দেখে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

স্বপ্ন দেখে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন 

55

ইসলাম ডেস্ক : মানুষ কর্ম ব্যস্ত জীবনে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রামে যায়। অনেক সময় ঘুমের ঘোরে দিনের ব্যস্ত সময়ের ভালো-মন্দ বিষয়গুলোর একটা প্রভাব তার মাঝে রয়ে যায়। মানুষ স্বপ্নে তা দেখে। অনেকে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে থাকে।

আবার আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্কতামূলক অনেক বিষয় স্বপ্নের মাধ্যমে অবহিত করে থাকেন। এ স্বপ্নের মাঝে থাকে ভালো ও মন্দের অনেক ইঙ্গিত। ঘুমের মধ্যে মন্দ বা বিপদাপদের স্বপ্ন দেখে মানুষ অনেক সময় অস্থির হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর নিকট দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আমর ইবনে শোয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, তখন যেন সে বলে-

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজ্বাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুন। (আবু দাউদ, তিরিমজি, মিশকাত)

অর্থ : আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য সমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অপকারিতা হতে, শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে এবং তাদের উপস্থিতি হতে।

সুতরাং ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে উক্ত দোয়া পড়া এবং স্বপ্নের অনিষ্ট হতে রক্ষা পেতে আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুমে মধ্যে ভয় পেলে বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ত্বকী দ্বিতীয় 

158

ঢাকা, ২০ এপ্রিল : আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬৯টি দেশের ১২৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী।

কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কুয়েত সিটিতে আওকাফ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই ‘কুয়েত অ্যাওয়ার্ড’ এর।

বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ। তিনি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওকাফ মন্ত্রী মোহাম্মদ আল জাবরি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইসলামি স্কলাররা।

১২ এপ্রিল কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল মোবারক আল হামাদ আল সাবাহ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আওকাফ মন্ত্রী

মোহাম্মদ আল জাবরি এবং প্রতিযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদ এমাদিসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বব্যাপী কোরআনের শিক্ষা বিস্তারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার বিজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন তার শিক্ষক হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

হাফেজ ত্বকী ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শাহবাজপুর গ্রামের হাফেজ মো. বদরুল আলমের সন্তান। তিনি যাত্রাবাড়ীর হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র।

একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী এনটিভিতে প্রচারিত পিএইচপি কোরআনের আলো হিফজ প্রতিযোগিতায় ২০১৪ সালে ৩০ হাজার হাফেজদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কওমী ডিগ্রি নিয়ে ইসলামী দলগুলোতে মতপার্থক্য 

011

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল : বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যেই এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

আহলে সুন্নত নামের একটি সংগঠন বলছে, দেশের সব মাদ্রাসায় একই ধরনের পাঠ্যক্রম অনুসরণ না হলে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যার আশংকা থাকে।

মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়ে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিতর্ক নতুন কোন বিষয় নয়।

এদের মধ্যে নানা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীও বেশ স্পষ্ট। সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেয়ার পর মতপার্থক্য আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত নামের একটি সংগঠন মনে করে, দেশের সব মাদ্রাসায় একই ধরনের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা জরুরি।

দেশের আলিয়া মাদ্রাসায় যারা পড়াশুনা করেন তাদের একাংশ এই সংগঠনের সাথে জড়িত।

এসব মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম সরকার কর্তৃক স্বীকৃত এবং তাদের শিক্ষক নিয়োগে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু কওমী মাদ্রাসাগুলো তার বিপরীত।

দেশের সব মাদ্রাসায় অভিন্ন পাঠ্যক্রম চালু না হলে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন-ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে বলে আশংকা করেন আহলে সুন্নতের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন।

কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার গুনগত মান নিয়ে জোরালো আপত্তি আছে মি. মতিনের ।

তিনি বলেন, তাদেরকে (কওমী মাদ্রাসা) প্রশ্ন করেন তো আলিয়া মাদ্রাসায় যে কোরআন ও হাদিস পড়ানো হচ্ছে, সেটা পড়তে আপনাদের ভয় কোথায়? ওরা কেন এটা পড়বে না?

দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে যারা পড়াশুনা করে এবং যারা পরিচালনা করে তাদের বেশিরভাগ ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত।

আহলে সুন্নত এবং হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে বোঝা যায় যে তাদের মধ্যে পরিষ্কার মতপার্থক্য আছে।

উভয় পক্ষ নিজেদের ইসলামের পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে দাবি করে।
হেফাজতে ইসলামীর নেতারা আহলে সুন্নতকে স্বীকার করতেই রাজি নয়।

হেফাজতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মুফতি ফয়জুল্লাহ’র কথায় সে বিষয়টি স্পষ্ট।

মি. ফয়জুল্লাহ বলেন, কাদের কথা বলছেন, আমি আসলে ওদের চিনি না, জানি না।

হেফাজতে ইসলাম মনে করে তারা বাংলাদেশে ইসলামের পক্ষে সবচেয়ে ‘বড় শক্তি’।

প্রকৃত ইসলামী শক্তি যদি মান অর্জন করে, দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং দেশের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে – কিছু মানুষ সবসময় এটার বিরোধিতা করতেই থাকে, বলছিলেন মি. ফয়জুল্লাহ।

তিনি মনে করেন, সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মি. ফয়জুল্লাহ বলছেন, ইসলামের মূল শিক্ষা, দর্শন এবং জীবনাদর্শকে কেন্দ্র করেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালনা করা হয়।

সেজন্য বিষয়টি নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ দেখছেন না তিনি।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সরকার কওমী মাদ্রাসার ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

কিন্তু এ ধরনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে উভয়পক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ মনে করেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে।

কিন্তু যে প্রক্রিয়ার এই ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে সেটি যথেষ্ট প্রশ্ন আছে বলে মনে অধ্যাপক রশীদ।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবিতে মাস্টার্সের যে ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে ঠিক একই সমমানের হবে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি।

তিনি বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের মাস্টার্সের সমপর্যায়ের ডিগ্রি নিতে প্রায় ১৫ বছর সময় লাগে।

কিন্তু কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি নিতে ১০ বছরের মতো সময় লাগে।

এ বিষয়টি নিয়ে বিরোধিতা রয়েছে বলে অধ্যাপক রশীদ উল্লেখ করেন।

তবে কোরআন ও হাদিসের ভিন্ন-ভিন্ন ব্যাখ্যার যে আশংকা আহ্লে সুন্নত করছে সেটির সাথে একমত হতে পারছেন না অধ্যাপক রশীদ।

তিনি বলেন, ১৪০০ বছর আগে কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। অতীতে অনেক বিশেষজ্ঞ আলেমগন কোরআনের তাফসীর করেছেন। হাদিসগুলো সংকলিত হয়ে গেছে ৪০০ বছরের মধ্যে। সেজন্য এটার যে নতুন করে ব্যাখ্যা হবে তা নয়। অপব্যখ্যা হতে পারে।

অধ্যাপক রশীদ প্রশ্ন তোলেন, কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ডিগ্রি কোন্‌ বিশ্ববিদ্যালয় দেবে? কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোন কর্তৃপক্ষ হতে পারে না।

তিনি আশা করেন, যেহেতু কওমী মাদ্রাসাগুলো এখন সরকারি স্বীকৃতির আওতায় এসেছে সেজন্য ধীরে-ধীরে হয়তো সরকারি নীতিমালা হবে এবং তারা যথাযথ ডিগ্রি পাবে।

কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো যেভাবে একে অপরের বিরোধিতায় জড়িয়ে পড়ছে সেটি নিরসন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

দেখা যাচ্ছে কেউ কারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছেন বা কেউ তার নিজের পরিচয়টাকে জাতীয় বা ধর্মীয় স্বার্থের চাইতেও বড় করে দেখছেন। আর্থিক লাভ-অলাভ, রাজনৈতিক সুবিধা, পাওয়া কী না পাওয়া – এসব বিষয়গুলো তো বিরোধিতার কারণ হিসেবে রয়েছে। যতটা না ধর্ম তাত্ত্বিক তার চেয়ে বেশি বৈষয়িক, বলছিলেন অধ্যাপক রশিদ।

এদিকে, হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে সুন্নতের নেতারা বলছেন ইসলামের মূল বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মাঝে কোন মতপার্থক্য নেই । কিছু শাখা-প্রশাখা নিয়ে মতপার্থক্য আছে।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, এ জিনিসটাকে খুব বড় করে দেখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে কারি না। আপনি চিটাগাং থেকে ঢাকা আসবেন। আপনি ফ্লাইটে আসবেন নাকি বাই রোডে (সড়ক পথে) আসবেন অথবা ট্রেনে আসবেন – সেটা আপনার বিষয়। এ ধরনের কিছু বিষয় নিয়ে আমি মনে করি যে কিছু বিরোধ থাকতে পারে যে আপনি কোন পথে চলবেন।  -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঢাকায় নারীদের নামাজের ব্যবস্থা যেখানে 

0

ইসলাম ডেস্ক : ঢাকা শহরকে বলা হয় মসজিদের শহর। প্রায় প্রতিটি গলিতে রয়েছে এক বা একাধিক মসজিদ। যেখানে শুধুমাত্র পুরুষদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রায় মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেই।

আবার যে সব এলাকার মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে, তা আবার অধিকাংশেরই জানা নেই। নারীদের মসজিদের লোকেশন জানা না থাকার কারণে অনেকেই সময় মতো নামাজ আদায় করতে পারে না।

তাদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজন। ঢাকা শহরের যে সব মার্কেট, হসপিটাল ও মসজিদে নারীদের জন্য আলাদা নামাজ আদায়ে জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে, তা হলো-

মসজিদসমূহ
>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ
>> নায়েম ভবন মসজিদ (ঢাকা কলেজের পেছনে)
>> ঢাকা নিউ মার্কেট মসজিদ
>> সোবহানবাগ জামে মসজিদ (ধানমন্ডি ২৭)
>> বায়তুল আমান মসজিদ (ধানমন্ডি ৮)
>> তাকওয়া মসজিদ (ধানমন্ডি ১২/এ লেক সংলগ্ন)
>> বায়তুল মামুর মসজিদের ২য় তলা (সায়েন্সল্যাব)
>> আল-আমিন মসজিদ, স্যার সৈয়দ রোড, মোহাম্মদপুর
>> রমনা থানা জামে মসজিদ
>> আযাদ মসজিদ (গুলশান ২)
>> ফেরদৌসি মসজিদ, মিরপুর-১
>> উত্তরা ৪ নং, ৬ নং, ৭ নং সেক্টর মসজিদ

মার্কেটসমূহ
>> রাইফেলস স্কয়ার (জিগাতলা)
>> ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটের ছাদে
>> রাপা প্লাজার ৫ম তলায় জয়ীতার শো-রুম ও মার্কেটের ছাদ (ধানমন্ডি ২৭)
>> গাউছিয়া মার্কেটের নিচ তলায় (ধানমন্ডি হকারস মার্কেটের এর উল্টোদিকে)
>> চাঁদনি চকের ৩য় তলায় (নিউমার্কেটের উল্টোদিকে)
>> বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, পান্থপথ (৪র্থ তলায়)
>> জেনেটিক প্লাজা ১ম তলা (ধানমন্ডি ২৭)
>> টুইন টাওয়ার শপিং সেন্টার, শান্তিনগর (৪র্থ তলা)
>> মৌচাক মার্কেট (৪র্থ তলা)
>> ডিসিসি সুপার মার্কেট (গুলশান ১)
>> পিঙ্ক সিটি (বেইজমেন্ট)
>> নর্থ টাওয়ার (মার্কেট) ৮ম তলা, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং

হাসপাতাল
>> ইউনাইটেড হসপিটাল (৩য় তলা)
>> স্কয়ার হসপিটাল
>> অ্যাপোলো হসপিটাল (৫ম তলা)
>> ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক হসপিটাল (১.৫ তলা)
>> ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ধানমণ্ডি (বেইজমেন্ট)

উল্লেখিত স্থানগুলোতে নারীদের জন্য রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। যা নারীদের নামাজ আদায়ে সহায়ক হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে থাকছেন যারা 

2

ইসলাম ডেস্ক : ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় গণভবনে কওমি মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সরকারি সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা দেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনশতাধিক আলেম-উলামাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দিবেন বলে জানা গেছে।

গণভবনের ঘোষণা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলেমদের নেতৃত্বে থাকবেন বেফাকের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

আল্লামা আহমদ শফী ও বেফাকের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ ১৫০ জন আলেম এবং অন্যান্য বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করবে ১৫০ জন আলেম এ অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।

অন্যান্য বোর্ডের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী আলেমদের নেতৃত্বে থাকবেন গওহরডাঙ্গা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন।

অনুষ্ঠানে যেসব ওলামায়ে কেরামগণ থাকবেন বলে জানা গেছে তারা হলেন- আল্লামা আহমদ শফী, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা আবদুল বাসিত বরকতপুরী, আল্লামা আবদুল হালিম বোখারি, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমীন, আল্লামা সুলতান যওক নদভী, আল্লামা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি আরাশাদ রাহমানী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা আবদুল বছির, মাওলানা হুসাইনুল বান্না, মাওলানা আরিফ উদ্দীন মারুফ, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি আবুল কাসেম প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মেঘ দেখলে যে দোয়া পড়বেন 

00

ইসলাম ডেস্ক : রাত ও দিনের আবর্তন, শীত ও গরমের আগমন, মেঘ-বৃষ্টি, ঠান্ডা-তুষারপাতসহ দুনিয়ার সব কিছুই আল্লাহ তাআলা বান্দার কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে প্রত্যেক জিনিসের কল্যাণ-অকল্যাণ ইত্যাদি বিষয় বান্দাকে জানিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণের মাধ্যমে জমিনে বান্দার রিজিকের ফয়সালা করে থাকেন। কিন্তু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কল্যাণের পাশাপাশি মেঘের মধ্যেও অকল্যাণ রয়েছে। তাই আকাশে মেঘ দেখা গেলে তা যেন বান্দার কল্যাণে আসে এবং সব অকল্যাণ থেকে মানুষ মুক্তি পায়, সে দোয়া করা মানুষের জন্য জরুরি।

মেঘ দেখলে পড়ার বিশ্বনবির শিখানো দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সারির মা ফিহি (বুখারি)
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, এ মেঘের মধ্যে যে অনিষ্ট রয়েছে তার থেকে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মেঘের যাবতীয় অকল্যাণ থেকে মুক্তি দান করুন। মেঘের মাধ্যমে বান্দার রিজিকে বরকত দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বামী নির্বাচনে নারীরা যে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে 

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

ইসলাম ডেস্ক : ইসলামে বিবাহ একটি ধর্মীয় কাজ। মানুষের পুতঃপবিত্র জীবন যাপনে বিবাহ অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়। আদর্শ পরিবার গঠনে স্বামীর (পাত্রের) জন্য স্ত্রী (পাত্রী) নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নারীর (পাত্রীর) জন্য স্বামী (পাত্র) নির্বাচনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বতর্মান সমাজে এক তরফাভাবে পাত্রী নির্বাচন করা হয়। পাত্রীর গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। হোক তা ইসলামি পরিবার বা আধুনিক পরিবার। কিন্তু পাত্রীর পক্ষ থেকে পাত্রের গুণাগুণের বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণে তেমন প্রাধান্য পায় না।

অথচ আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বেই ইসলাম পাত্রের জন্য পাত্রী নির্বাচনে যেমন নির্দেশনা প্রদান করেছেন ঠিক তেমনি পাত্রীর জন্য পাত্র নির্বাচনেরও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বর নির্বাচনের নারী যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর জন্য গ্রহণযোগ্য স্বামী নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে বলেন, ‘যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়, যার চরিত্র ও দ্বীনদারিতে তোমরা (পাত্রী) সন্তুষ্ট হবে। তবে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও। যদি তোমরা তা না কর, তবে তা পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণ হবে। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)

বিশেষ করে যোগ্য স্বামীর মানদণ্ড তিনটি-
>> দ্বীনদারি;
>> চরিত্রবান ও
>> আকলসম্পন্ন;

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে এই তিনটি বিষয় দেখা/পাওয়া যাবে, তখন পাত্রী ওই ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে। দুনিয়ায় সৌভাগ্যময় পবিত্র ও উত্তম জীবন-যাপনে এবং পরকালের উত্তম পরিণতি উল্লেখিত মানদণ্ডের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির মাঝে যদি দ্বীনের বুঝ না থাকে, সৎ চরিত্রবান না হয়, বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্ন না হয় তবে ওই ব্যক্তি তার দ্বীনদার স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। যখনই স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তখন দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসাই স্বাভাবিক।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় সব নারীকে স্বামী নির্বাচনে হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সোহরাওয়ার্দীতে ওলামা সম্মেলন ৬ এপ্রিল 

00

ইসলাম ডেস্ক : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণে মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে ধর্মমন্ত্রণালয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম সচিব মো. আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ২ লাখ ৬০ হাজার মসজিদের ইমাম, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের ৬৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, ৯০ হাজার প্রশিক্ষিত ইমাম, ৬১ হাজার ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসহ কয়েক লাখ আলেম-ওলামা অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকবেন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তাও।

সভায় মহাসম্মেলন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান সচিব আব্দুল জলিল।

এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজরত আলীর অমীয় বাণী 

0000

ইসলাম ডেস্ক : হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের চতুর্থ খলিফা। নবি দুলালী হজরত ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্বামী। হজরত হাসান ও হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর পিতা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে ইলমের দরজা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মানুষকে গোমরাহ থেকে ফিরিয়ে রাখতে শুনিয়েছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণী। যার থেকে ৩টি বাণী তুলে ধরা হলো-

১. ঐ মানুষ বড়ই মুর্খ ও আশ্চর্যজনক যে, দুনিয়ার সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে (আল্লাহর দেয়া) সুস্বাস্থ্য হারায়। তারপর আবার সুস্বাস্থ্যবান হতে অর্জিত সম্পদ নষ্ট করে।

২. বর্তমানের চলমান সময়কে ধ্বংস করে ভবিষ্যতের চিন্তা করে; আর বর্তমান অতীত হয়ে ভবিষ্যতে পৌঁছলে আবার অতীতের কথা স্মরণ করে আফসোস করে আর অশ্রু বিসর্জন দেয়।

৩. সে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করে যে, সে কখনো মৃতু্য বরণ করবে না। কিন্তু সে এমনভাবে মৃতু্য বরণ করে যে, সে কখনো জন্মই নেয় নি।

পরিশেষে…
আমাদের উচিত, দুনিয়ায় সম্পদ অর্জন করার সময় হালাল-হারামের কথা স্মরণ করা; সম্পদ যদি হালাল হয় তবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। বর্তমান সময়ের কাজকে যথাযথ গুরুত্বসহকারে আদায় করা, যাতে সময় নষ্টের জন্য পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে শেষ মুহূর্ত মনে করে কাজ করা। যাতে ব্যক্তির মৃত্যুর পর সে কর্মের মাঝে বেঁচে থাকে।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি উপদেশ যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যে ৪ কাজ বর্জন করা মুমিনের জন্য জরুরি 

00

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা মুসলমান তাকওয়াবান বান্দার কল্যাণে পবিত্র কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ, ইতিবাচক-নেতিবাচক ইত্যাদি বিষয় কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

এত কিছুর পরেও মুমিন মুসলমান তাকওয়াবান ব্যক্তিদের মধ্যেও অনেক সময় আল্লাহর হুকুম পালনে অলসতা ও গাফলতি পরিলক্ষিত হয়। যে অবহেলা ও গাফলতিগুলো আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর ৪টি কাজকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। আর তা হলো-

>> নামাজে অবহেলা করা
নামাজের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ না পড়ে দেরি করা বা নামাজ পড়তে অবহেলা করাকে আল্লাহ তাআল অপছন্দ করেন।

আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে তা যথা সময়ে পড়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জমিন ও আসমানের সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবিহ কর (নামাজ পড়) সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশা) ও প্রত্যুষে (ফজর) এবং বিকেলে (আসর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)।’ (সুরায় রুম : আয়াত ১৭-১৮)

মুমিন বান্দা যাতে নামাজে অবহেলা প্রদর্শন না নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করে সে ব্যাপারেও সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর সময়ের ভিত্তিতে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০৩)

>> কুরআন পড়ার সময় অযথা কথা বলা
কুরআন তিলাওয়াতের সময় অযথা কথাবার্তা বলা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। কারণ কুরআন মুমিনের জন্য রহমতস্বরুপ। তবে কুরআনের পরিপূর্ণ রহমত লাভে কিছু আদব রয়েছে। আর তার অন্যতম হলো কুরআন তিলাওয়াত করার সময় মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করা।

কুরআন তিলাওয়াত করার সময় অযথা কথাবার্তা ও শোরগোল না করে মনোযোগের সঙ্গে কুরআনের তিলাওয়াত শ্রবণ করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ (মনোযোগ দিয়ে শোন) এবং চুপ থাক; যাতে তোমাদের রহমত বা দয়া প্রাপ্ত হও। (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

>> রোজা পালন কালে স্ত্রী সহবাস করা
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য রোজা পালন অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করাকে পছন্দ করেন না। কারণ রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। দিনের বেলায় পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নামই হলো রোজা পালন।

>> কবরস্থানে বসে হাসাহাসি করা
কবরস্থানে বসে হাসাহাসি করা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। কারণ মৃত্যু ও কবরস্থান মানুষকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে প্রেরণা যোগায়। সে কারণে কবরস্থানে হাসাহাসি করাও আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। সেখানে না মৃত্যুর কথা স্মরণ করাই মুমিন বান্দার জন্য শ্রেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথা সময়ে নামাজ আদায়, মনোযোগের সঙ্গে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ, রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা এবং কবরস্থানে হাসাহাসি না করে আল্লাহ স্মরণ করাসহ তার যাবতীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজ নিবন্ধনের সময় ১১ দিন বাড়ল 

33

ঢাকা, ৩০ মার্চ : চলতি বছরের হজ নিবন্ধনের সময় ১১ দিন বাড়ানো হয়েছে। আজ ছিল নিবন্ধনের শেষ দিন। প্রাক-নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিবন্ধন কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছে এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। ফলে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে এ পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৫২৫ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এক হাজার ৫৯৫ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ২ হাজার ৯৩০ জন। এ অবস্থায় নিবন্ধনের সময় ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়াল ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি সব হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। হজযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হল। এ সময়ের মধ্যে স্থানান্তর কার্যক্রমও চলবে। এ সময়ের মধ্যে কেউ নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হাব। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে তারা।

এ প্রসঙ্গে হাব মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ বলেন, প্রাক-নিবন্ধনে অনিয়ম হয়েছে। অথচ তারা তদন্ত কমিটি গঠন করেও খুঁজে পাচ্ছে না। অন্যদিকে আমাদের বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ মার্চের পর নিবন্ধনের সময় দেয়া যাবে না। তাহলে এখন কীভাবে সময় বাড়ানো হল। আমাদের সাফ কথা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে হজ ব্যবস্থাপনার বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে।

আমরা সংবাদ সম্মেলনে তার পদত্যাগ চাইব এবং এ আইনটির অধীনে কোনো নিবন্ধনে যাবে না হাব।

এ প্রসঙ্গে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল বলেন, অনেকের পাসপোর্ট নেই। হজযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সৌদি আরবের মোয়াচ্ছাসার সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের কাউন্সিলর। এরপর সময় বাড়ানো হয়েছে। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে হজযাত্রীরা তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। হাব বিজনেস অটোমেশনের অধীনে নিবন্ধন কার্যক্রম করবে না- এক্ষেত্রে সরকার কী করবে? এর জবাবে ধর্ম সচিব বলেন, বিজনেস অটোমেশনের সঙ্গে সরকারের চুক্তি রয়েছে। তারা সরকার কর্তৃক নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। হাবের কোনো যৌক্তিক দাবি থাকলে তারা ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করুক।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোগাগ্রস্ত ব্যক্তিদের নামাজ 

00

ইসলাম ডেস্ক : নামাজ মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যক পালনীয় ইবাদত। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণে অক্ষমও হয়ে যায়, নামাজের হুকুম তার নিকট থেকে রহিত হবে না। নামাজ আদায়ে অক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে অসুস্থ, মুসাফির ও ভয় ও আতংকগ্রস্ত ব্যক্তি।

কোনো ব্যক্তি যদি রোগী, মুসাফির ও ভীত হয় অর্থাৎ নামাজ আদায়ে যাদের কোনো ওজর আপত্তি নেই এমন ব্যক্তিদের মতো নামাজ আদায়ে অক্ষম। তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা নামাজ আদায়কে সহজ করে দিয়েছেন। যা আল্লাহ তাআলার রহমতের বহিঃপ্রকাশ।

দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মানুষের বসে বসে নামাজ আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে তবে তা সর্বোত্তম। আর যে ব্যক্তি বসে পড়বে তার সওয়াব দাঁড়িয়ে পড়া ব্যক্তির চেয়ে অর্ধেক। আর যে ব্যক্তি শুয়ে আদায় করবে তার সওয়াব বসে আদায়কারীর চেয়েও অর্ধেক।’ (বুখারি)

অসুস্থ ব্যক্তিদের নামাজ আদায়
>> রোগী বা অসুস্থ ব্যক্তির জন্যও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা জরুরি। যদি অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে না পারে তবে সে চতুষ্পদ (চারজানু) হয়ে বসে বা তাশাহহুদের বৈঠকের ন্যায় বসে নামাজ আদায় করবে।

>> অসুস্থ ব্যক্তি যদি বসে নামাজ আদায় করতে সক্ষম না হয় তবে ডান পার্শ্বের ওপর ভর দিয়ে নামাজ আদায় করবে। তাতেও যদি কষ্ট হয় তবে বাম পার্শ্বের ওপর ভর দিয়ে নামাজ আদায় করবে।

>>  অসুস্থ ব্যক্তি যদি ডান ও বাম পার্শ্বের ওপর ভর দিয়ে নামাজ আদায় করতে অক্ষম হয় তবে শুয়ে শুয়ে মাথার দ্বারা ইশারা করে রুকু ও সেজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করবে। অর্থাৎ মানুষের জ্ঞান বা বিবেক থাকা পর্যন্ত কারো জন্যই নামাজ থেকে অব্যহতি বা মাফ নেই।

হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার অশ্ব রোগ ছিল তাই এ অবস্থায় কিভাবে নামাজ আদায় করব তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় কর, যদি না পার তবে বসে কর, তাও যদি না পার তাহলে এক পার্শ্বের ওপর ভর করে আদায় কর। (বুখারি)

পরিশেষে…
যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের জ্ঞান বা বিবেক থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের জন্য নামাজের হুকুম বলবৎ থাকবে। দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় যেহেতু সর্বোত্তম। তাই ওজর না থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা সবার জন্য আবশ্যক কর্তব্য।

আর অসুস্থতার কারণে যদি কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে না পারে তবে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মা’জুর ব্যক্তির সুবিধা মতো অবশ্যই নামাজ আদায় করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ওজর না থাকলে কুরআন-হাদিস মোতাবেক দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আর অসুস্থতার কারণে বা কোনো ওজর থাকলে উল্লেখিত নিয়মে তার সুবিধা মোতাবেক পন্থায় নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শ্রেষ্ঠ ইবাদাত দোয়া; কিভাবে দোয়া করবেন 

00

ইসলাম ডেস্ক : পৃথিবীর সকল মানুষ আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী। এমন কোনো বিষয় নেই যা আমরা নিজে থেকে সম্পন্ন করতে পারি। আমাদের যাপিত জীবনে যা কিছু করি তার সবই হচ্ছে আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষীতার অংশ। আল্লাহ আমাদের যে বিষয়গুলো মিটিয়ে দেন বা দান করেন তা হচ্ছে একান্ত রহমত ও  মেহেরবানী। বান্দাহ যখনই আল্লাহ তাআলার কাছে কোনো কিছু চায়; আল্লাহ তখন তার অন্তরের আকুতি কি মনোভাব কি তা বুঝেন এবং দেখেন। আল্লাহর কাছে এই মুখাপেক্ষীতা, কোনো কিছু চাওয়া এবং কামনা করার নামই হচ্ছে দোয়া।

কী ভাবে দোয়া করব?
সর্বগুনের মাঝে সেরা গুণ; সব সৌন্দয্যের মাঝে সেরা সৌন্দর্য বলে কথা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হায়াতে জিন্দেগীতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম গুণই হলো আল্লাহর নিকট দোয়া করা। তিনি সারা জীবন আল্লাহর দরবারে এত দোয়া করেছেন যা দুনিয়াতে আর কেউ করেনি। এ যেন বহু চাঁদের মাঝে একটি পূর্ণিমার চাঁদ! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই দোয়ায় আকর্ষণ ছিল প্রচণ্ড হৃদয়ের উত্তাপও বিনয়কাতরতার; ছিল প্রচণ্ড আবেদন, নিবেদন ও মুখাপেক্ষিতার; ছিল কান্না!, অশ্রু প্লাবিত কান্নার; যা তিনি নিজে করেছেন এবং উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। অন্যান্য বিষয়ের মতো তিনি দোয়ার ক্ষেত্রেও যে ছিলেন মুআল্লিম।

তাইতো হাদিছের কিতাবে অগণিত অসংখ্য দোয়া বর্ণিত আছে। সে গুলো পূর্ণ ভক্তি ও মুহাব্বাত ও নিবিড় ভালোবাসার সাথে আল্লাহর কাছে তুলে ধরে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। দিল দিয়ে, মন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, জান দিয়ে আপনার প্রতিপালকের দরবারে দোয়া করুন।

আল্লাহর কাছে চাইবেন কাঙ্গাল ও ভিখারী হয়ে এবং এ বিশ্বাস থাকবে যে, আল্লাহ আমার দোয়া, আমার মোনাজাত, আমার চাওয়া, আমার ফরিয়াদ অবশ্যই কবুল করবেন। কবে, কীভাবে, কখন তা জানিন না; শুধু এটুকু জানি আল্লাহ আমার দোয়া ও মোনাজাত অবশ্যই কবুল করবেন। কারণ দোয়া যদি দিল থেকে মন থেকে না হয় তাহলে আল্লাহর দরবারে এই দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে।

কিছু হৃদয়গ্রাহী দোয়া-
-হে আল্লাহ আমাকে বানিয়ে দিন এমন, যেন আপনাকে (সর্বাপেক্ষা অধিক) ভয় করি, সর্বক্ষণ  আপনাকে দেখার মত, যতক্ষণ না আপনার দীদার লাভ হয়। হে আল্লাহ, আমাকে খোশনছীব করুন আপনার তাকওয়া (ভয়) দ্বারা, আমি যেন বদনছীব না হই আপনার নাফরমানির দ্বারা।

আবার বলেছেন-
হে আল্লাহ আমার দিলের কানগুলো খুলে দিন আপনার যিকির (শ্রবন ও অনুধাবন)-এর জন্য। আর আমাকে দান করুন আপনার আনুগত্য এবং আপনার রাসুলের আনুগত্য এবং আপনার কিতাবের উপর আমল।

আরেকটি দোয়া-
হে আল্লাহ আপনার কাছে চাই স্থায়ী ঈমান এবং অনুগত হৃদয়, সত্য ঈমান, সরল দ্বীন এবং আপনার কাছে চাই রোগ-শোক থেকে নিরাপত্তা এবং আপনার কাছে চাই স্থায়ী নিরাপত্তা এবং আপনার কাছে চাই নিরাপত্তার উপর শোকর করার যোগ্যতা এবং আপনার কাছে মানুষের প্রতি নির্মুখাপেক্ষিতা। আল্লাহ আপনার সহায়তা ছাড়া আমাদের কোনো শক্তি নাই।

আমাদের উপলব্দি :
আমাদের প্রত্যেকটা কাজে আল্লাহর উপস্থিতির উপলব্দি থাকে তবে আমাদের দ্বারা কোনো অন্যায় কাজই হবে। তখনই স্বার্থক হবে আমাদের  সকল প্রকার দোয়া এবং রোনাজারি। আল্লাহর কাছে যেন আমরা সব সময় এই রোনাজারির আশা করতে পারি।

রোনাজারিটি এই-
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুওউন; তুহিব্বুল আফ্ওয়া; ফা’ফু আন্নি; ইয়া গাফুরু
অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল; আপনি ক্ষমাকে ভালবাসেন; সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করুন হে ক্ষমাকরী।
সুতরাং আমরা আল্লাহর দরবারে সব-সময় দোয়া কবর। আল্লাহ আমাদের দোয়া করার; চাওয়ার; মিনতি করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সময় 

0000

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তাঁর নিকট দোয়া প্রার্থনা করার তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট কোনো কিছু চায় না, ওই ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হন।’ দৈনন্দিন জীবনে দোয়া কবুলের ৫টি সোনালি সময় রয়েছে। যে সময়গুলোতে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। হাদিসে বর্ণিত সময়গুলো তুলে ধরা হলো-

>> জোহরের আগ মুহূর্তে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চই আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, সূর্য যখন মধ্যাকাশ থেকে পশ্চিমাকাশের দিকে হেলে পড়ে। অতঃপর জোহরের নামাজ পর্যন্ত তা আর বন্ধ করা হয় না। (সহিহ জামে)

>> আজানের সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন আজান দেয়া হয়, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং ওই সময় দোয়অ কবুল করা হয়। (তারগিব)

>> নামাজের জন্য অপেক্ষা করার সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা এই মর্মে সুসংবাদ গ্রহণ কর যে, তোমাদের রব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলছেন- ‘আমার বান্দাগণ আমার নির্দেশিত ফরজ আদায়ের পর পরবর্তী ওয়াক্তের ফরজ নামাজের জন্য অপেক্ষা করছে`। (ইবনে মাজাহ)

>> রাতের শেষ সময়ে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রাতের শেষার্ধ শুরু হলে একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন- কোনো আবেদন পেশকারী আছে কি? তার আবেদন গ্রহণ করা হবে। কারো চাওয়া-পাওয়ার কিছু আছে কি? তার চাওয়া-পাওয়া কবুল করা হবে। আছে কোনো বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি? তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করা হবে। ওই সময় পেশাদার ব্যভিচারীনী ব্যতিত কোনো মুসলিমের দোয়াই বিফলে যায় না।’ (তারগিব)

>> তাসবিহ পাঠের সময়
‘আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা’ এই তাসবিহ পাঠের সময় আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়।

একদিন আমরা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ছিলাম। ওই সময় লোকদের মধ্য থেকে এক বলে ওঠলো- ‘আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।’

অর্থাৎ আল্লাহ মহান, অতি মহান; আল্লাহ তাআলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ করে বললেন, এই কথাগুলো (তাসবিহ) কে বলেছে? উপস্থিত লোকদের মধ্যে একজন বলল- হে আল্লাহর রাসুল! আমি।

প্রিয়নবি বললেন, ‘এ দোয়ায় আমি খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। এ বাক্যগুলোর জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ কথা শোনার পর থেকে এ তাসবিহ-এর পাঠ আমি কখনো পরিহার করিনি। (মুসলিম, তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া কবুলের জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সোনালি সময়ে হাদিসের নির্দেশিত পন্থায় দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিশ্বনবি যে ছোট্ট দোয়াটি বেশি পড়তেন 

00

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ ও আবেদনের অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। দোয়া প্রসঙ্গে হাদিসে পাকে অনেক আশাবাদী কথা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়াকে ইবাদত বলেছেন। আবার দোয়াকে ইবাদতের মূল বলেছেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান প্রভুর নিকট প্রতি কাজের বিষয়ে দোয়া করতেন। তিনি উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। বিশ্বনবির পঠিত দোয়াগুলো উম্মতের জন্য সুমহান শিক্ষা।

উম্মতে মুসলিমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ দ্বীন ও ঈমান। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকার জন্য সব সময় আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করতেন।

উম্মুল মুসলিমিন হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়েন। তখন তিনি এ দোয়াটির কথা উল্লেখ করেন। আর তা হলো-

উচ্চারণ : ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব; ছাব্বিত ক্বালবি আ’লা দ্বীনিক।’

অর্থ : হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর দৃঢ় ও মজবুত রাখো।’ (তিরমিজি ও মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরের একমাত্র পরিবর্তনকারী। সে কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য এবং তাঁর উম্মতের জন্য শিক্ষা স্বরূপ এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর দ্বীন ও ঈমান হেফাজতে একনিষ্ঠ থাকার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর