২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:১১, শুক্রবার

শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত 

033

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে শনিবার দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন শামছুদ্দিন ভূঁইয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি হিবজুর রহমান। এটি ছিল ময়দানটিতে ১৯০তম ঈদ জামাত।

নামাজ শেষে মিয়ানমারের মুসলমানদের রক্ষা ও তাদের হেফাজত করাসহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদুল আজহার এই জামাত অনুষ্ঠানের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিন প্লাটুন বিজিবিসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়। মুসুল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে ঢুকতে দেয়া হয়।
জামাতে অংশগ্রহণ করতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তেু নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহে। এ সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঈদ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার জন্য ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

জানা যায়, কোনো এক ঈদের জামাতে শোলাকিয়ার এই ময়দানে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পবিত্র ঈদুল আজহা আজ 

47

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর : পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে উদযাপন করবেন ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

হযরত ইব্রাহিম (আ.) –এর অসামান্য ত্যাগের কথা স্মরণ করে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এই আচার পালন করে থাকেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহ’র নির্দেশে নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) –কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলার অসীম মেহেরবানিতে ইসমাইল (আ.) –এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

জিলহজ মাসের পবিত্র এই দিনে মুসলিমরা জামাতে দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু করেন। নামাজ আদায়ের পর পশু কোরবানি দিতে সক্ষম মুসলিমরা কোরবানি দেন। পরের দুই দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১ ও ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে।

দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল যখন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন মলিন আবহে ঈদ কাটবে উত্তরাঞ্চলবাসীদের। টানা বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে সৃষ্ট কয়েক দফা বণ্যায় আক্রান্ত হয়েছে দিনাজপুর, রংপরু, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নিলফামারিসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য জেলা। এখনও বন্যার ভয়াল প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেন নি সেখানকার নিবাসীরা। ভিটে মাটি, গবাদি পশু, সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। ফসলহানি হয়েছে ব্যাপক পরিমান। বন্যার পানি সবখানে এখনও পুরোপুরি নামে নি। ফলে উন্মুক্ত অনেক ঈদগাহ ময়দান প্লাবিত অবস্থায়ই রয়েছে। কিছু ঈদগাহ ময়দানে পানি কমলেও ঈদের জামাত আদায় করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। এমন এলাকাগুলোতে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারা দেশ, জাতিসহ গোটা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদ মোবারক 

02

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর : শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদ মোবারক। ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র এ উৎসব পালনে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। এ ঈদে পশু কোরবানিই প্রধান ইবাদত। এ জন্য এখন চলছে কোরবানির পশু কেনার পর্ব। অনেকে ইতোমধ্যে পশু কিনেছেন, আজো কিনবেন অনেকে।
ঈদুল আজহা উপলে আজ থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। তবে এর আগেই রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লাখ লোক।

গত কয়েক দিনে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ফলে রাজধানী কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় ও তীব্র যানজটের কারণে পথে পথে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। তার পরও প্রিয়জনের সাথে আনন্দ উপভোগের আশায় সব কিছু তুচ্ছ মনে করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন তারা। ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় দৈনিকগুলোয় বিশেষ সংখ্যা বের হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সব ক’টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিও ঈদ উপলে কয়েক দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরবি ‘আজহা’ ও ‘কোরবান’ উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা, অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।

ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তারই নামে জবাই করা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর গোশত বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া।
সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহ পাকের নির্দেশ পালন করেন, তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে’ (মুসনাদে আহমদ)।

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন। হজরত ইব্রাহিমের (আ:) সুন্নত অনুসরণ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানেরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন। হজরত ইব্রাহিম (আ:) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দু’বার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন শেষ বয়সে জন্ম নেয়া পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তাঁর কেউ নেই। আল্লাহ পাক তাঁকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ:) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)- কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ:) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হজরত ইব্রাহিমের (আ:) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে নিয়ে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালার অপার কুদরতে এ সময় হজরত ইসমাইলের (আ:) পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিমের (আ:) অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানেরা কোরবানি করে আসছেন। তাঁরই নিদর্শনস্বরূপ প্রতি বছর হজ পালনকারীরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। একই সাথে দেশে দেশে মুসলমানেরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ঈদের জামাতের আগে আলোচনায় ইমাম-খতিবেরা হজরত ইব্রাহিমের (আ:) আত্মত্যাগের এ কাহিনী তুলে ধরবেন। ঈদের জামাতে ব্যক্তি, সমাজ, দেশ, মুসলিম উম্মাহ ও সারা বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে। ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হলেও পরের দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। কোরবানিকৃত পশুর তিন ভাগের এক ভাগ গরিব-মিসকিন, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়। এ দিকে ৯ জিলহজ ফরজ নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। তা হলো, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’

ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায় ঠিক আগের দিনে চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ১০ দিন আগেই ঠিক হয়ে যায় ঈদের দিনক্ষণ। ঈদুল আজহা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ নামেই পরিচিত। কোরবানির পশু কেনা, তার যত্ন-পরিচর্যায়ই ঈদের মূল প্রস্তুতি ও আনন্দ।

ইতোমধ্যে সারা দেশে জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট। রাজধানী ঢাকায় ট্রাকে করে কোরবানির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া আনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। কোরবানিদাতারা পছন্দের পশুটি কেনার জন্য গাবতলীর প্রধান হাটসহ সুবিধামতো বিভিন্ন হাটে যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত অনেকেই কোরবানির পশু কিনেছেন। তবে আজ শেষ দিনে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হবে। চলতি পথে প্রায়ই চোখে পড়ে গলায় রঙিন কাগজ ও জরির মালা জড়ানো হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়ের দড়ি ধরে ঘরমুখো চলছেন কোরবানিদাতারা, আর পাশ থেকে কেউ জিজ্ঞেস করছেন ‘ভাই দাম কত’ এটাই এখন রাজধানীর অন্যতম চিত্র হয়ে উঠেছে। কোরবানির পশু কিনে ভবনের কার পার্কিং ও সামনের ফুটপাথে রাখা হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে শুধু গরু আর গরু। সর্বত্রই এখন শোনা যাচ্ছে গবাদিপশুর ডাক। এ ছাড়া গরুর খাবার তাজা কাঁঠালপাতা, খড়-বিচালি-ভুসি প্রভৃতি বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ঈদুল আজহার ত্যাগের আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ কমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ঈদুল আজহার তাৎপর্য অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে জনকল্যাণকর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত 

203

ঢাকা, ৩১ আগস্ট : সৌদি আরবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র হজ বৃহস্পতিবার পালন করবেন। লাব্বাইক, আল্লাহুমা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক। অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এই ধ্বনিতে বৃহস্পতিবার মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। আরাফাতের ময়দানে জোহরের নামাজ শেষে খুতবায় অংশ নেন মুসল্লিরা। এরপর তাঁরা আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে খোলা মাঠে অবস্থান করবেন। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও হজ পালনে এবার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ২০ লাখের বেশি মুসল্লি সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজারের বেশি মুসলমান হজব্রত পালন করছেন।

পবিত্র হজ পালনে মুসল্লিরা মঙ্গলবার রাত থেকে মিনায় পৌঁছাতে শুরু করেন। বুধবার সারাদিন তারা মিনায় অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায় করে তারা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। আরাফাতের ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে সারাদিন হাজিরা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকবেন। সাদা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় লাখ লাখ হাজির পদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হবে এক শুভ্রতার সমুদ্রে। হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।

সন্ধ্যায় তারা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারও এক আজানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। সেখান থেকে জামারায় (প্রতীকী শয়তান) নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর (ছোট পাথর) সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য রওনা দেবেন মুসল্লিরা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার আগে জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তান) ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা হবে। জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তারা পশু কোরবানি করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন করে এহরাম খুলে অন্য পোশাক পরবেন। একে তাহালুলে আসগর বলা হয়। তারপর তাওয়াফে ইফাদা (কাবাঘর তাওয়াফ) এবং সায়ি (সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর) শেষ করে ফের মিনায় ফিরে যাবেন।

১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। যারা ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে পারবেন না, তারা ১৩ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করবেন এবং জামারায় ১১ ও ১২ তারিখের মতো পাথর নিক্ষেপ করবেন। হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। নিয়োগ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি মুসল্লি হজ পালন করতে গেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর মিনা 

344512

ঢাকা, ৩০ আগস্ট : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতেই হাজিরা মিনায় তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান নেন। লাখ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মিনা।

তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় আজকের রাত অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার ফজরসহ এখানে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শেষে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা ছুটে যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়।

পরদিন সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে, হজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দুই বছর আগে মিনায় পদদলিত হওয়ার যে অনাহুত ঘটনা ঘটেছিল এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২ সেপ্টেম্বর 

15

ঢাকা, ২৩ আগস্ট : বাংলাদেশে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঈদ-উল আযহা উদযাপিত হবে। আজ বুধবার বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের আকাশে গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামী ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সেখানে ঈদুল আজহা পালন করা হবে।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। আজ ২৩ আগস্ট বুধবার থেকে সৌদি আরবে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে।

সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান ও মালয়েশিয়ায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর আগে পাকিস্তান গত শনিবার ঘোষণা দেয়, ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা হতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদ 

5522

ঢাকা, ২৩ আগস্ট : পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। বাংলাদেশের আকাশে হিজরি সালের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে কমিটি ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে।

এদিকে, বাংলাদেশের আকাশে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর : ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ হবে ১ সেপ্টেম্বর। হজ হবে ৩১ আগস্ট।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদুল আজহায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় 

63

ঢাকা, ৯ আগস্ট : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর, ওয়াসা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ বা ৩ সেপ্টেম্বর দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আরও ৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল 

8825

ঢাকা, ৯ আগস্ট : পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রী না পাওয়ায় ঢাকা থেকে আজ বুধবারের দু’টি এবং চট্টগ্রাম থেকে আজ ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দু’টি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে বাতিল হওয়া বিজি-৫০৪৫ ফ্লাইটটির আজ বুধবার ভোর পাঁচটায় ও বিজি-৩০৫৩ ফ্লাইটটি বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রী না পাওয়ায় ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অনিশ্চয়তা বাড়ছেই হজ যাত্রীদের 

1502218040

ঢাকা : হজ যাত্রীদের ঊদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। ই-ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট বিপর্যয়, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা, মধ্যস্বত্বেভাগীর প্রতারণা এবং এক শ্রেণীর মুনাফালোভী হজ এজেন্টদের পাকচক্রে পড়ে হজ যাত্রীরা দু:সহ সময় পার করছেন। এই সংকট এবং ভোগান্তির জন্য হজ এজেন্সি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হজের মতো ধর্মীয় পবিত্রতা নিয়ে রাঘব-বোয়ালদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে বেপরোয়া। হজ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের অনুগত হজ এজেন্টদের কাছে নিবন্ধিত হজ যাত্রীরা আছেন কিছুটা স্বস্তিতে। অন্য হজ যাত্রীদের অবস্থা করুণ। এখনো ৪৮ হাজার হজ যাত্রীর ভিসা হয়নি। আর ৯ দিন পর সৌদি সরকার ভিসা দিবে না। গতকাল পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদনই জমা দেয়নি । হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ আগস্ট। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীর অভাবে বাতিল হচ্ছে শিডিঊল ফ্লাইট। ই-ভিসা জটিলতার কারণে টিকিট কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। ই-ভিসার প্রিন্ট নিতে গিয়ে সার্ভার ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা পড়ছেন যাত্রীরা। ইতোমধ্যে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত জটিলতা নিরসন না হলে কমপক্ষে ৪০ হাজার যাত্রীর হজ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। আর হজ এজেন্টদের সংগঠন হাব নেতারা কেউ কেউ বলছেন, ১০ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আগামী ১৭ দিনে ৮৪ হাজার হজযাত্রীকে পরিবহন করতে হবে বিমান ও সাউদিয়াকে। মাত্র ৯ দিনে এই সব যাত্রীর ই-ভিসা ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছে না। মাসের শেষে যদি সত্যিসত্যিই যাদের হজ করতে যাওয়ার কথা তারা সবাই না যেতে পারেন তাহলে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি আরব ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংকট তৈরি করছে। ছয় শতাধিক হজ এজেন্সির মধ্যে মাত্র শ’খানেক এজেন্সিকে বাংলাদেশ বিমান টিকিট দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩০টি এজেন্সির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি টিকিট পেয়েছে। যারা পরে অতিরিক্ত দামে ছোট এজেন্সিগুলোর কাছে সেগুলো বিক্রি করছে। টিকিট নিয়ে এজেন্সিগুলোর মধ্যে দরকষাকষির কারণেও অনেক যাত্রী বিমানের টিকিট পাচ্ছেন না। আশকোনা হজক্যাম্পে দিনের পর দিন বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। আর কোন কোন এজেন্সি অভিযোগ করছে, সিন্ডিকেট করেছে রাঘব বোয়ালরা।

গতকাল পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাতিল হওয়া হজ ফ্লাইটগুলোর বিপরীতে জেদ্দা বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া স্লট পাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ভিসা জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত বাতিল ২১টি ফ্লাইটের ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে ক্রমশ। দ্রুত অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ না পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিমানের স্লট বরাদ্দ পাওয়া গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজ নিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনা নেওয়ার পরও যাদের জন্য জটিলতা তৈরি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফি বাড়ানোর খবর রাখেনি সরকার

সৌদি সরকার নতুন ভিসা কাঠামো কার্যকর করে ২ অক্টোবর (১ মহররম)। নতুন নিয়মাবলিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পুনরায় হজে গেলে দুই হাজার রিয়াল ফি দিতে হবে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের জারি করা বিশাল হজ প্যাকেজের কোথাও এর উল্লেখ ছিল না। এরই পরিণতি ২৫ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে ৫ হাজারের বেশি হজ যাত্রীকে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনছে। হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের নেতারা বলছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণে আজ এই পরিস্থিতি। অতিরিক্ত ফির কথা হজ প্যাকেজে থাকলে ভোগান্তি হতো না।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানতাম না।

এদিকে সরকারি খরচে যাদের হজে পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেককে নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে। সরকারী খরচায় হজে যাচ্ছেন মন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা । তালিকায় ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের ৩৫ জন লোক হজ চিকিত্সকদের সহায়তা দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যারা চিকিত্সক নন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ১৭১ জনের হজ চিকিত্সকদের সহায়তাকারী তালিকায় আছেন গাড়িচালক, নিরাপত্তা প্রহরী, গানম্যান ও মসজিদের ইমাম প্রমুখ। তালিকায় থাকা কারো কারো নামের পাশে আবার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই। এই টিমে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ২৫ জন গাড়িচালককে। মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, এমনকি টাইপিস্টও আছেন এই মেডিক্যাল সহায়ক দলে। দলে এমন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নেওয়া হচ্ছে, যাদের অনেকেই এই কাজের উপযোগী নন। ওই দলে আরও আছেন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সহায়ক, পাম্প অপারেটর, টাইপিস্টসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কৃষিবিদ ও ফার্মাসিস্টরাও যাচ্ছেন এই দলের সদস্য হয়ে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে হজযাত্রীদের চিকিত্সা সহায়তা দিতে এই ১৭১ জন যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যাতায়াত ভাতা ও দৈনিক ভাতা ইত্যাদি মিলে জনপ্রতি  পদ অনুযায়ী পাবেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে। এই অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি সমালোচনা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি। ইতিমধ্যে এই কথিত সহায়ক টিমের অনেক সদস্য  সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন। এই প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ময়মনসিংহ থেকে যারা হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন তাদের নেয়া হয়েছে। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে যাদের সুপারিশ করা হয় তাদেরও নেয়া হয়েছে।

ভিসা জটিলতা : ২৮ হজ এজেন্সিকে মন্ত্রীর আল্টিমেটাম

চলতি বছর সময় মতো ভিসার আবেদন করতে পারেনি এমন ২৮টি হজ এজেন্সিকে ভিসার আবেদন করতে দুই দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আশকোনা হজক্যাম্পে হজের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। হজ ফ্লাইট বাতিলসহ ভিসা জটিলতার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেন মন্ত্রী। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত পরিসখ্যান অনুযায়ী মোট ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদন জমা দেয়নি। নাম ও হজযাত্রীর কোটা অনুযায়ী প্রাপ্ত তালিকার বিভিন্ন এজেন্সিগুলো হলো রিয়েল ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), বদরপুর ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস (২৪১ জন), আজমল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (১৫৯ জন), ফারুক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৮৭), গোল্ডেন ট্রাভেলস্ অ্যান্ড কার্গো সার্ভিসেস (২৫১ জন), এআরএস ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), ঢাকা হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৮২ জন), ঢাকা ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৩ জন), গ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি (১৬৪ জন), হাবিব এয়ার ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (২২০ জন), হা-মিম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫৪ জন), ইহরাম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৭ জন), কাশেম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (২০২ জন), এমএএম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫০ জন), এম/এস এম নুর ই মদিনা হাজি ট্রাভেলস্ (২০৮ জন), মাবরুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৪ জন), মাহির হজ সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৭২ জন), মক্কা বাবে জান্নাত ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (১৫৮ জন), মেছফালা ট্রাভেলস (২২৫ জন), এমএইচএম ওভারসিজ (১৮০ জন), মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন (১৬৬ জন), পেনাং ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫১ জন), সিনেটর এয়ার ট্রাভেলস (১৯৪ জন), এম/এস মক্কা অ্যান্ড মদিনা ট্রাভেলস্ (২৬৫ জন), সাকের হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), মিম ট্রাভেলস্ ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), তাওসিফ ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৫ জন) ও এম আলী ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস (২০৯ জন)। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যেসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে হজযাত্রীদের 

897

ঢাকা : এবার সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য ই-ভিসা চালু করায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভিসা সংরক্ষেণে বিষেশ সচেতনতার কথা বলা হয়েছে। কারণ আগের মতো এই ই-ভিসা পাসপোর্টের সঙ্গে লাগানো থাকে না। ফলে এটি আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে হজযাত্রীদের, যা আগে থেকে সচেতন না থাকলে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

তাছাড়া ই-ভিসা ও পাসপোর্ট দেখাতে হবে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ কাউন্টারে। ইমিগ্রেশন পুলিশ পাসপোর্টের নির্দিষ্ট পাতায় সিল মারার পর সেটি যত্ন করে রাখতে হবে। ই-ভিসা দেখাতে ও প্রিন্ট করতে পাসপোর্ট নম্বর ও নামের শেষ অংশ লিখে দেয়া হবে। এটি পাওয়া যাবে www.hajj.gov.bd লিংক থেকে।

জানা গেছে, ই-ভিসা পাসপোর্টের সঙ্গে লাগানো না থাকায় এটি আলাদাভাবে প্রিন্ট করে দেয়া হবে হজযাত্রীদের।

হজযাত্রী ও হজ এজেন্সির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্রটি (হজের ওয়েবসাইট www.hajj.gov.bd থেকে ১৫ নম্বর ফরম) সঙ্গে রাখবেন।

অন্যদিকে, হজযাত্রীদের আগে যাওয়ার সময় একটি বোর্ডিং কার্ড, ফেরার সময় একটি বোর্ডিং কার্ড দেয়া হতো। এবার যাওয়া-আসার জন্য দুটি বোর্ডিং কার্ড যাত্রীদের আগেই দিয়ে দেয়া হবে।

হজযাত্রীরা হজে যাওয়ার আগে তিন সেট করে ই-ভিসা, বোর্ডিং কার্ড, হেলথ কার্ড, পাসপোর্টের ফটোকপি করবেন। মূল কপি থাকবে হাতে। এসব কাগজ এক সেট হাতব্যাগে সংরক্ষণ করবেন, এক সেট মালামালের মধ্যে রাখবেন এবং এক সেট দেশে আত্মীয়স্বজনের কাছে রাখতে হবে।

কারণ, জেদ্দা হজ টার্মিনালে পৌঁছানোর পর মক্কায় বাসে ওঠার আগে মোয়াল্লেম পাসপোর্ট জমা নিয়ে নেয়। আবার দেশে ফেরার সময় জেদ্দা বিমানবন্দরে মোয়াল্লেম পাসপোর্ট ফেরত দেয়।

হজে যাওয়ার আগে হজযাত্রীদের আত্মীয়স্বজনকে নজর দিতে হবে যাতে পাসপোর্টের সঙ্গে ভিসা, হেলথ কার্ড যথাযথভাবে লাগানো হয়। তা না হলে এসব কিছু হারিয়ে যেতে পারে।

এছাড়া, পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট সংগ্রহ ও তারিখ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করাসহ নিয়ম মেনে ম্যানিনজাইটিস টিকা বা অন্যান্য ভ্যাকসিন দিয়ে নিন। হজের নিয়ম জানার জন্য একাধিক বইও পড়তে পারেন।

মনে রাখুন, বিমানে উড্ডয়নকালে হাত ব্যাগে ছুরি, কাঁচি, দড়ি নেয়া যাবে না। বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানে কোনো হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো ওষুধ নিতে পারবেন না। চাল, ডাল, শুঁটকি, গুড় ইত্যাদিসহ পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমন: রান্না করা খাবার, তরিতরকারি, ফলমূল, পান, সুপারি ইত্যাদি সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া যাবে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজ ফ্লাইট শুরু ২৪ জুলাই 

06

ঢাকা, ১৮ জুলাই : চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ২৪ জুলাই থেকে শুরু হবে। এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ তথ্য জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন এমপি, বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক প্রমুখ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘আগামী ২২ জুলাই রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্প পরিদর্শন ও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী জানান, প্রথম হজ ফ্লাইট ২৪ জুলাই ঢাকা ছেড়ে যাবে। বাংলাদেশ বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হবে। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেদ্দায় পৌঁছাবে। হজের শেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবে ২৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ৫ অক্টোবর।

তবে রাশেদ খান মেনন কেবল বাংলাদেশ বিমানের হজ ফ্লাইট সম্পর্কে জানান। সৌদি এয়ার লাইন্সের হজ ফ্লাইট সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাওয়ালের ছয়টি নফল রোজার সওয়াব 

98

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: অল্পসংখ্যক নেকআমলের বিনিময়ে আল্লাহর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের পাত্র হওয়ার জন্য নবী করিম (স)-এর মুখ নিঃসৃত অমিয় বাণীতে প্রদত্ত উত্তম পন্থাসমূহ থেকে একটি অতি সহজ পন্থা হলো শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল বা ঐচ্ছিক সিয়াম পালন। বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই ছয়টি নফল রোজা রাখবে, তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব দিয়ে দেবেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পূর্ণবছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম: ১১৬৪)

শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা পালন সারাটি বছর রোজা রাখার সওয়াব প্রাপ্তির এমনি একটি পরম সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান; এই হলো এক বছরের রোজা।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের  রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য।’ (আহমাদ: ৫/২৮০, দারেমি: ১৭৫৫)

জাগতিক কল্যাণকর কাজে মানুষের প্রতিযোগিতাস্বরূপ শাওয়ালের ছয়টি নফল সিয়াম পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। মাহে রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের মধ্যে ছয়টি রোজা রাখার ফজিলত কতই না মহান! কোনো ঈমানদারের পক্ষে সহজেই সম্ভব নয় এক বছর লাগাতার রোজা রাখা। অথচ এই নেকআমলটা বিরাট ফজিলতসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব। একদিন রাসূলুল্লাহ (স)-কে সারা বছর সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমার ওপর তোমার পরিবার-পরিজনের হক বা অধিকার রয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন, মাহে রমজানের এবং তার পরবর্তী দিনগুলোরও প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখবে। সুতরাং যখন তুমি এই রোজাগুলো রাখবে তখন যেন তুমি সারাটা বছরই রোজা রাখলে।’ নবী করিম (স) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হজরত দাউদ (আ)-এর রোজা। তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন বিনা রোজায় থাকতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বান্দার ওপর আল্লাহ কতই না পরম দয়ালু ও অশেষ মেহেরবান যে তিনি অল্প আমলের বিনিময়ে অধিক সওয়াব দেবেন। বান্দা যখন আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে তাঁর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সামান্যতম আমল তাঁর দরবারে পেশ করে, আল্লাহ তখন বান্দার এই আমলকে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। আল্লাহর পরম দয়া ও অনুগ্রহ বান্দারা তখনই লাভ করবেন যখন তারা নেকআমল করবেন। তাই মুসলমানরা যেন আল্লাহর খাস রহমতকে হাতছাড়া না করেন, বরং অল্প নেকআমলের বিনিময়েই যেন আল্লাহর অফুরন্ত দয়া ও অশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হয়ে যান। সৎকর্ম সম্পাদনের প্রতিফল সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘কেউ কোনো সৎকর্ম করলে সে তার ১০ গুণ পাবে এবং কেউ কোনো অসৎকাজ করলে তাকে শুধু তারই প্রতিদান দেওয়া হবে।’ (সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৬) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অনন্তর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।’ (সূরা আয-যিলজাল, আয়াত: ৭-৮)

শাওয়ালের ঐচ্ছিক রোজা মাসের শুরু থেকে শেষ সময় পর্যন্ত পালন করা যাবে। ধারাবাহিক ও অধারাবাহিক যেভাবেই হোক না কেন, রোজাদার অবশ্যই এর সওয়াবের অধিকারী হবেন যদি আল্লাহর দরবারে রোজা কবুল হয়। তবে যার ওপর মাহে রমজানের রোজা কাজা আছে, সেই ব্যক্তি আগে কাজা আদায় করবেন, তারপর শাওয়ালের ঐচ্ছিক সিয়াম পালনে ব্রতী হবেন। কারণ, ওয়াজিব আদায়ের দায়িত্ব পালন নফল আদায়ের চেয়ে অধিক গুরুত্ব রাখে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘যে মাহে রমজানের পূর্ণ রোজা রাখবে, আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরো করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে।’ (মুগনি: ৪/৪৪০)

রাসূলুল্লাহ (স) ফরজের আগে-পরে সুন্নত ও নফল প্রবর্তন করেছেন। যেমন- ফরজ নামাজের পূর্বাপর সুন্নতগুলো এবং মাহে রমজানের আগে ফজিলতময় শাবানের ঐচ্ছিক রোজা আর পরে বরকতময় শাওয়ালের নফল সিয়াম। এই নফল ইবাদতগুলো ফরজের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে দেয়। কারণ রোজাদার কখনো অনর্থক বাক্যালাপ, কুদৃষ্টি প্রভৃতি খারাপ ও পাপকাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বাঁচতে পারে না, যা তার রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়। একজন মুমিন বান্দা যেন রমজান-পরবর্তী দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের শিক্ষা অনুসারে সর্বাবস্থায় মিথ্যাচার, পরচর্চা-পরনিন্দা, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতারণা-প্রবঞ্চনা, কপটতা-অসাধুতা, সুদ-ঘুষ, দুর্নীতিপরায়ণতা, আত্মকলহ, ঝগড়া-বিবাদ, সন্ত্রাস-সহিংসতা ইত্যাদি সামাজিক অনাচার জাতীয় শরিয়ত-গর্হিত ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিহার করে আত্মসংযমী হন। কেউ যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, সহিহ-শুদ্ধভাবে ফরজ ও নফল সিয়াম পালন এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ, তওবা-ইস্তিগফার— এসব ইবাদতের মধ্য দিয়ে প্রাত্যহিক দিন অতিবাহিত করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর একজন খাঁটি আবেদ বা প্রিয় মকবুল বান্দা হিসেবে ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হবেন!

লেখক: পরিচালক, এশিয়ান ইন্সটিটিউট, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। সম্পাদক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বার্তা

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার ঈদ 

88

ঢাকা, ২৫ জুন : বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রথমে চট্টগ্রামে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। এবার ২৯ দিনেই শেষ হলো মুসলমানদের সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান।

ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকাল থেকেই শাওয়ালের চাঁদ দেখার জন্য অগণিত মুসলিম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ইফতারির পর আকাশে চাঁদ দেখা যায়।

ঈদুল ফিতর মুসলিম বিশ্বের জন্য এক আনন্দঘন উৎসব। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে ছেলে, বৃদ্ধ সবাই শামিল হবেন ঈদগাহ ময়দানে। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করবেন একে অপরের সঙ্গে। দোয়া ও মোনাজাত করবেন বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম জাহানের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনার অঙ্গীকারে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সাধ্যমতো সব পরিবারই নতুন জামা-কাপড় কিনেছে। খাবার তৈরির জন্য কেনা হয়েছে সেমাই, চিনি, দুধসহ সুস্বাদু খাদ্যসামগ্রী। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের আগে দরিদ্র লোকদের ফিতরা-জাকাত দিয়ে থাকেন। এবারের সর্বনিন্ম ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী ঈদের জামাতের আগেই ফিতরা পরিশোধ করে দিতে হয়।

ঈদে রোগীদের জন্য হাসপাতাল এবং এতিমখানা ও বন্দিদের জন্য জেলখানায় থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে থাকবে উন্নতমানের খাবার এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগারে পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার। এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। নাড়ির টানে মানুষ ছুটছে গ্রামের পানে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।

এদিকে ঈদের জন্য আজ থেকে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। অবশ্য শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ 

886

ঢাকা, ২৩ জুন : আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে পালন করে থাকেন।

দেশব্যাপী মসজিদে-মসজিদে পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানাতে শেষ জুমাকে পালন করা হয় বিশেষ ইবাদতের মাধ্যমে। খুতবায় রোজার মাসের ফজিলত ও ইবাদতের গুরুত্ব ব্যাখ্যাসহ বিশেষ দোয়া হবে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমাতুল বিদার নামাজে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জুমার নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর