২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৬, মঙ্গলবার

বিশ্বনবি যে ছোট্ট দোয়াটি বেশি পড়তেন

বিশ্বনবি যে ছোট্ট দোয়াটি বেশি পড়তেন 

00

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ ও আবেদনের অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। দোয়া প্রসঙ্গে হাদিসে পাকে অনেক আশাবাদী কথা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়াকে ইবাদত বলেছেন। আবার দোয়াকে ইবাদতের মূল বলেছেন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান প্রভুর নিকট প্রতি কাজের বিষয়ে দোয়া করতেন। তিনি উম্মতের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। বিশ্বনবির পঠিত দোয়াগুলো উম্মতের জন্য সুমহান শিক্ষা।

উম্মতে মুসলিমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ দ্বীন ও ঈমান। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকার জন্য সব সময় আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করতেন।

উম্মুল মুসলিমিন হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়েন। তখন তিনি এ দোয়াটির কথা উল্লেখ করেন। আর তা হলো-

উচ্চারণ : ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব; ছাব্বিত ক্বালবি আ’লা দ্বীনিক।’

অর্থ : হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর দৃঢ় ও মজবুত রাখো।’ (তিরমিজি ও মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরের একমাত্র পরিবর্তনকারী। সে কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য এবং তাঁর উম্মতের জন্য শিক্ষা স্বরূপ এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর দ্বীন ও ঈমান হেফাজতে একনিষ্ঠ থাকার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যে আমলে অভাব দূর হয় 

1

ইসলাম ডেস্ক : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার এ গুণবাচক নামের জিকির করবে, সে জান্নাতে যাবে।’ তাছাড়াও এ গুণবাচক নামগুলোর আলাদা আলাদা অনেক আমল ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম (اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-শাকুরু’।

(اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-শাকুরু’-এর অর্থ হলো- কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অল্প আমলে অধিক প্রতিদান দানকারী, যিনি নেক আমল বর্ধিত করেন এবং পাপকে মিটিয়ে দেন।’

আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-গাফুরু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : ‘আল-গাফুরু’

অর্থ : কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অল্প আমলে অধিক প্রতিদান দানকারী, যিনি নেক আমল বর্ধিত করেন এবং পাপকে মিটিয়ে দেন’

আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْغَفُوْرُ)-এর আমল-

ফজিলত
>> যে ব্যক্তির অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয় বা অস্বচ্ছল হয়, ওই ব্যক্তি যেন আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-শাকুরু’৪১ বার পাঠ করে পানিতে দম করে (ফু দিয়ে) সে পানি পান করে। ওই ব্যক্তি অবশ্যই স্বচ্ছলতা লাভ করবে।

>> যে ব্যক্তির চোখের আলো (দৃষ্টি শক্তি) কমে যায় ওই ব্যক্তি যদি আল্লাহ তাআলার গুণবাচক মুবারক নাম (اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-শাকুরু’ ৪১ বার পাঠ করে পানিতে দম করে বা ফু দিয়ে সে পানি চোখে মেখে দেয়; তবে অবশ্যই সে চোখের রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবে।

>> যে ব্যক্তির অন্তরের আলো কমে যায় ওই ব্যক্তি যদি আল্লাহ তাআলার গুণবাচক মুবারক নাম (اَلشَّكُوْرُ) ‘আল-শাকুরু’ ৪১ বার পাঠ করে পানিতে দম করে বা ফু দিয়ে সে পানি পান করে; তবে অবশ্যই সে ব্যক্তি গোমরাহি থেকে মুক্তি লাভ করবে।

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ ছোট্ট আমলটির মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও আমলি রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে স্বচ্ছলতা দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজ যাত্রীদের নিবন্ধন ২৮ মার্চ শুরু 

8831

ঢাকা, ২৩ মার্চ : ২৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে চলতি মৌসুমে হজের নিবন্ধন। চলবে তিনদিন। হজ গমনেচ্ছুদের মধ্যে যারা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন তারা ২৮ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। গতকাল বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত কোটার মধ্যে ২ হাজার ৬০৪ জন হজ গাইড ও হজ এজেন্সি ব্যবস্থাপনার জন্য ৮৫০ জন সরাসরি নিবন্ধন করবেন।

অবশিষ্ট ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৪টি খালি কোটা প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমানুসারে পূরণ করা হবে। এজন্য জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি অনুযায়ী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের সিরিয়াল ২ লাখ ১৭ হাজার ২৮৮ পর্যন্ত প্রাক-নিবন্ধিতকে ২০১৭ সালের নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এছাড়া হজ প্যাকেজে ঘোষিত ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকার মধ্যে ২৮ হাজার ৭৫২ টাকা নেয়া হয়। সিটি চেক ইন, জম জম পানি, শতকরা ১ ভাগ হারে অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া ও ব্যাংক গ্যারান্টি সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে, ব্যাংক গ্যারান্টি সৌদি জেনারেল কার সিন্ডিকেটের অনুকূলে, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ, হজ যাত্রীদের কল্যাণ তহবিল, হজ যাত্রীদের জন্য ট্রলি ব্যাগ ও প্রশিক্ষণ ফি বাবদ আট হাজার ৪০১ টাকা কেটে অবশিষ্ট ২০ হাজার ৩৫১ টাকা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নিবন্ধিত হজ যাত্রীর সংখ্যার বিপরীতে নিজ নিজ এজেন্সির হিসাবে ফেরত দেয়া হবে।

একই সঙ্গে হজ এজেন্সির মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে নিবন্ধন ভাউচারের মাধ্যমে বিমান ভাড়া বাবদ ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টাকা জমা দিতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইয়াতিমের লালন-পালন ও সম্পদের রক্ষাবেক্ষণের বিধান 

ইসলাম ডেস্ক : মদ জুয়া এবং ব্যয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুনিয়া পরকালের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশ দেয়ার পর আল্লাহ তাআলা ইয়াতিম ছেলেমেয়েদের প্রতি সঠিক আচরণের ব্যাপারটি তুলে ধরেছেন। ইয়াতিমদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে। বা তাদের ভরণপোষণ ও তাদের সম্পদের বিষয়ে কি নীতি অবলম্বন করবে ইত্যাদি বিষয়ের প্রশ্নের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি স্পষ্ট করে আয়াত নাজিল করে বলেন-

আয়াতের অনুবাদ

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২২০ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মদ ও জুয়ার কুফল এবং আল্লাহর পথে ব্যয়ের ব্যাপারে দুনিয়া ও পরকালের লাভ-ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অতঃপর ইয়াতিমদের বিষয়ে প্রশ্নের আলোকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

ইয়াতিমদের বিষয়ে এ আয়াতটি নাজিলের আগে তাদের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে কুরআনে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, ‘ইয়াতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যেয়ো না।’ এবং ‘যারা জুলুম নির্যাতন চালিয়ে ইয়াতিমদের সম্পদ খায় তারা আগুন দিয়ে নিজেদের পেট ভরে নেয়।’

এ কঠোর আয়াত নাজিলের কারণে তৎকালীন সময়ে যাদের অধীনে ইয়াতিম সন্তানরা লালিত-পালিত হচ্ছিল; আয়াতের ভয়াবহতার কারণে তারা ইয়াতিমদের খাওয়া পরার ব্যবস্থাও আলাদা করে দিয়েছিল।

এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের পরও তারা ইয়াতিমদের সম্পদের কিছু অংশ তাদের নিজেদের ব্যবহার্য জিনিসের সঙ্গে মিশে যায় কিনা এ ভয়ের আশংকা করছিল।

তাই তারা ইয়াতিম ছেলেমেয়েদের সাথে লেনদেন ও আচরণের সঠিক পদ্ধতি কি হতে পারে, সে সম্পর্কে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইয়াতিমতের খাদ্য ও পানি পৃথক করা ছাড়া খুঁটিনাটিভাবে তাদের মাল দেখাশুনা করা খুবই কঠিন।’

অতঃপর ঈমানদারদের কষ্ট ও বিপদে না ফেলে ইয়াতিমদের আহার ও পানি পৃথক করার কারণে যে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল, এ আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা তা দূর করে দিলেন। যার ফলে তারা একই হাঁড়িতে রান্নাবান্না করা এবং মিলিতভাবে কাজ করার বৈধতা পেলেন।

এমনকি ইয়াতিমের অভিভাবক যদি দরিদ্র হয় তবে ন্যায়ভাবে সে নিজের কাজে ইয়াতিমের মাল খরচ করতে পারে। আর যদি কোনো ধনি অভিভাবক প্রয়োজন বশত ইয়াতিমের মাল নিজের কাজে লাগায়, তবে সে পরে তা আদায় করে দেবে।

পড়ুন- সুরা বাকারার ২১৯ নং আয়াত

পরিষেশে…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইয়াতিমের লালন-পালন ও তার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে কুরআনের বিধান যথযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে কুরআন সুন্নাহর বিধান পালন এবং তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও প্রচেষ্টার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পিরোজপুরে কাঠের তৈরি দৃষ্টিনন্দন মমিন মসজিদ 

000

ইসলাম ডেস্ক : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাঠের তৈরি হস্তশিল্পসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘মমিন মসজিদ’। পুরো মসজিদটি নির্মাণে কাঠের কারুকাজ ও ক্যালিওগ্রাফি খচিত সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর সংযোগ স্থাপনেও লোহা বা তারকাটা ব্যবহার করা হয়নি। সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রঙ।

১৯১৩ সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বুড়িরচর গ্রামের অধিবাসী মমিন উদ্দিন আকন নিজ বাড়িতেই এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯২০ সালে এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ সাত বছরে শেষ হয়।

২১ জন সুদক্ষ কারিগরের নিরলস পরিশ্রমের ফসল কাঠশিল্পের অনন্য নিদর্শন মমিন মসজিদ। মসজিদটি ১৬ হাত দৈর্ঘ্য, ১২ হাত প্রস্থ এবং উচ্চতায় ১৫ হাত। চার পাশের বেড়া তিনটি অংশে বিভক্ত। যার উপর এবং নিচ কাঠের কারুকাজ দিয়ে তৈরি। দুই পাশ দিয়ে ডাবল বেড়া। ভেতরে একরকম আর বাইরে আরেক রকম। ভেতরের কারুকাজ করা বেড়া খুলে আলাদা করা যায়।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মসজিদ বাঁশ-টিন, ইট-বালি-সিমেন্টে তৈরি হলেও কাঠের তৈরি মসজিদ খুবই বিরল। যদিও এ ধরনের কাঠের তৈরি মসজিদ এক সময় ভারতের কাশ্মীরে ছিল বলে জানা যায়।

বুড়িচর গ্রামের যুবক মমিন উদ্দিন আকন বাড়ি থেকে দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয় বিধায় একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তার ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শনের মাধ্যমে কারুশিল্প ডিজাইন ও ক্যালিওগ্রাফি সম্পর্কে ধারণা নেন।

সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত মমিন উদ্দিন সাধারণ ঘরে বসবাস করে অনিন্দ্য সুন্দর দৃষ্টিনন্দন ক্যালিওগ্রাফি ও প্রাকৃতিক ফুল, ফল এবং গাছের আদলে মসজিদ নির্মাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি চট্টগ্রাম ও মিয়ানমার থেকে লোহা ও সেগুন কাঠ সংগ্রহ করেন। তৎকালীন সময়ে তিনি বরিশাল জেলার স্বরূপকাঠী থানা থেকে ২১ জন কারিগর নিয়োগ করেন। তার তত্ত্বাবধানে মসজিদের পুরো পরিকল্পনা, কারুকার্য, ক্যালিওগ্রাফি তৈরি করা হয়। মসজিদটির প্রবেশদ্বারে এবং মেহরাবে একটি করে ক্যালিওগ্রাফির নকশা বসানো হয়।

বৃষ্টি, বন্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির রঙ ও স্থাপনার কিছু ক্ষতি হয়। মমিন উদ্দিন আকনের নাতি মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ তদারকির জন্য পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন। ফলে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কাঠের তৈরি এ মসজিদটিকে পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সর্বশেষ ২০০৮ সালে মসজিদটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মর্মার্থ 

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মু’মিন : আয়াত ৬০)

আল্লাহ তাআলাকে ডাকা বা দোয়া করা হলো ইবাদত। এ কারণেই হাদিসে বলা হয়েছে। দোয়াই ইবাদাত। আল্লাহ তাআলা দোয়াকে ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সাহায্য লাভের মাধ্যম বানিয়েছেন।

মানুষ যখন বুঝতে পারে যে, বস্তুজগতের উপায় উপকরণ; তার কোনো সমস্যা, কষ্ট ও চাহিদা পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয় বা যথেষ্ট বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না; তখন কোনো অতি প্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী সত্তার কাছে ধর্না দেয়া অপরিহার্য মনে করে।

আর তখনই মানুষ দোয়া করে এবং না দেখেই সে সত্তাকে ডাকে, প্রতিমুহূর্তে, প্রতিটি জায়গায় এবং সর্বাবস্থায় ডাকে। একাকী নির্জনে ডাকে, শুধু উচ্চস্বরেই নয়, চুপে চুপেও ডাকে এবং মনে মনেও তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তা শুধু মাত্র একটি বিশ্বাসের ভিত্তিতেই জন্ম নেয়। কেননা এর মাঝেই নিহিত আছে আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মর্মার্থ।

কী সেই বিশ্বাস?
যেই সত্তা মানুষকে সর্বত্র দেখছেন, তার মনের কথা, আবেগ ও অনভূতি শুনছেন। তিনি এমন অসীম ক্ষমতার অধিকারী যে, তাঁর কাছে প্রার্থনাকারী যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেন, তার বিপর্যস্ত ভাগ্যকে পুনরায় তৈরি করতে পারেন।

মানুষের উপলব্ধি
আল্লাহ তাআলার এই অনুগ্রহ ও দয়ার ওপর আমাদের জীবনটাই কুরবানি করা উচিত যে,
>> আল্লাহ তাআলা কুরআনে মানুষকে তার নিকট প্রার্থনা করার (সাহায্য চাওয়ার) জন্য আহ্বান করেছেন এবং প্রার্থনা আল্লাহ তাআলা কবুল (গ্রহণ) করার ওয়াদাও করেছেন।

>> হযরত সুফিয়ান সাওরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, আল্লাহর নিকট ওই বান্দাই সবচেয়ে বেশি প্রিয় যে খুব বেশি প্রার্থনা করে; আর ওই বান্দা খুবই অপ্রিয় ও মন্দ যে তার নিকট সাহায্য চায় না।

>> কবি বলেছেন-
‘আল্লাহর মহাত্ম্য এই যে, যদি তুমি আল্লাহর কাছে চাওয়া পরিত্যাগ কর, তবে তিনি অসন্তুষ্ট হন; পক্ষান্তরে আদম সন্তানের কাছে যখন কিছু চাওয়া হয়, তখন সে অসন্তুষ্ট হয়।’

>> আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মর্মার্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করার পর মানুষের জন্য একথা বোঝা আর কঠিন থাকে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া অন্য কাউকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করেন সে প্রকৃতই নিরেট নির্ভেজাল এবং স্পষ্ট শিরকে লিপ্ত হয়। যা হয়ে থাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কারণ, যে সব গুণাবলী শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সত্তার মধ্যেও আছে বলে সে বিশ্বাস করে। (নাউজুবিল্লাহ)

আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মর্মার্থ উপলব্ধিতে কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো-
>> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনে, যে ব্যক্তি মহামহিমান্বিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, তিনি তার প্রতি রাগান্বিত হন। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)

>> হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়াই হচ্ছে ইবাদতের সারবস্তু। (তিরমিজি)

>> হজরত নুমান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়া-ই ইবাদত। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

উল্লেখিত আলোচনার শিক্ষা
১. দু’টি ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়
>> মানুষ মনে করে আল্লাহ তাকদিরের ভালো-মন্দ একবারেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এতে রদবদল করার ক্ষমতা আল্লাহ পাকের নাই। (নাউজুবিল্লাহ) কিন্তু আল্লাহর এ আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী আল্লাহ বান্দার চাওয়া-পাওয়ার জন্য তাকদিরের ভালে ও মন্দের পরিবর্তন করতে পারেন।
>> দোয়া কবুল হোক বা না হোক, বান্দা তার প্রভুর সামনে নিজের অক্ষমতা, অযোগ্যতা, অভাব ও প্রয়োজন পেশ করে প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়া এবং নিজের দাসত্ব ও অক্ষমতা স্বীকার করে নেয়া। এ দাসত্বের স্বীকৃতিই ইবাদতের মূল প্রাণসত্তা। এর ফায়দা সে পাবেই পাবে।

২. হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একমাত্র দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছুতেই তাকদিরের পরিবর্তনের ক্ষমতা নেই।

৩. বহু সংখ্যক সাহাবি থেকে একটি হাদিস এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একজন মুসলমান যখনই কোনো দোয়া করে তা যদি কোনো গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের মতো কোনো কাজ না হয়, তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে তিনটি অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থায় কবুল করে থাকেন।
>> হয় তার প্রার্থিত জিনিস এই দুনিয়াতেই কবুল করা হয়;
>> নতুবা পরকালে প্রতিদান দেয়ার জন্য সংরক্ষিত করে রাখা হয়; অথবা
>> তার ওপর ঐ পর্যায়ের বা পরিমাণ বিপদ-আপদ আসা বন্ধ করা হয়। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

৪. দোয়া করার সময়, হে আল্লাহ তুমি চাইলে মাপ কর, রহম কর, দান কর এই রকম না বলে বরং নির্দিষ্ট করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে হবে, হে আল্লাহ! আমার ওমুক প্রয়োজন পূরণ করুন।

৫. দোয়া কবুল হয় না ভেবে অস্থির হওয়া যাবে না বরং অস্থির না হয়ে ধীরতা অবলম্বন করাই ঈমানদারের লক্ষণ।

৬. এমনকি ছোট থেকে অতি সুক্ষ্ণ এবং বড় থেকে অনেক বড় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা বা ডাকা।

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মর্মার্থ উপলব্ধি করে তাওহিদের ওপর অটল ও অবিচল থেকে অন্যের নিকট কোনো কিছু চাওয়া থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার নৈকট্য লাভ করা। যা ব্যতীত দুনিয়া ও পরকালে মানুষের কোনো উপায় নেই।

আর আল্লাহ তাআলাকে ডাকা বা তাঁর নিকট দোয়া করা-ই হলো নৈকট্য লাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। মানুষ আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমেই তাঁর নিকটবর্তী হয়।

আল্লাহ তাআলাকে ডাকার মাধ্যমেই মানুষ তার ইবাদত করে, উদ্দেশ্যে লাভে সফল হয়, তার সন্তুষ্টি অর্জন করে। সুতরাং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নামাজ-রোজা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপদ-মুসিবত, সৎ চাওয়া-পাওয়া তথা আমলি জিন্দেগিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজে আল্লাহ তাআলাকে ডাকাই মূল বিষয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর কাছে ধর্না দেয়াসহ তাঁর শেখানো ভাষা ও নিয়মে, দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে আশ্রয় প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

 

000

ময়মনসিংহে ‘কেরাত মাহফিল ও স্বাধীনতার সন্ধ্যা’ ১৬ মার্চ
ইসলাম ডেস্ক : স্বাধীনতার মাসে সুস্থ সংস্কৃতির নির্ভর সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ময়মনসিংহের একঝাক দেশপ্রেমিক ও ধর্মপ্রাণ কর্মবীর উদীয়মান তরুণদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত গৌরবোজ্জ্বল সামাজিক সংগঠন ‘আস-সিরাজ-এর আয়োজনে আগামীকাল ১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহ টাউনহলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে কেরাত মাহফিল ও স্বাধীনতার সন্ধ্যা নামের ব্যতিক্রমী সংস্কৃতিক আয়োজন।

ময়মনসিংহ বড় মসজিদের খতিব আল্লামা আবদুল হকের সভাপতিত্বে ইত্তেফাকুল ওলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী’র মজলিসে শুরার সভাপতি আল্লামা আবদুর রহমান হাফেজ্জী অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

স্বাধীনতার সন্ধ্যা মাহফিলে কেরাত পরিবেশন করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারী, তাহফিজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসা যাত্রাবাড়ী, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী নাজমুল হাসান, আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কারী হাফেজ নাজমুস সাকিব, হাফেজ আব্দুল আখের ও হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

স্বাধীনতার সন্ধ্যা আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করবেন বিশিষ্ট ইসলামি দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ জাগ্রত কবি মুহিব খান।

00

এছাড়াও এ অনুষ্ঠানে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন আবাবিল, নবরবি ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, হাবিবী শিল্পী গোষ্ঠী ও অভিলাষ ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা তাদের জনপ্রিয় ইসলামি সঙ্গীত ও আবৃতি উপহার দিবেন।

স্বাধীনতার সন্ধ্যা কেরাত মাহফিলের বিশেষ আকর্ষণ থাকবে সাড়া জাগানো শিশুশিল্পী মারুফ আল্লাম।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ইউসুফ বিন মুনীরের নির্দেশনায় আবৃত্তিকার ও প্রচ্ছদশিল্পী ওয়ালিউল ইসলাম পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন।

স্বাধীনতার সন্ধ্যা অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক চৌধুরী নাসির আহমাদ দেশের ইসলামি অঙ্গণের আলোর দিশারী ‘আস-সিরাজ’-এর পক্ষ থেকে সবাইকে কেরাত মাহফিল ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বান্দার প্রতি আল্লাহর ক্ষমার নমুনা 

000

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলার দরবারে এক অফুরন্ত রহস্যের নাম তাওবা ও ইগতিগফার। যে রহস্য শুধুমাত্র তাওবাগ্রহণকারী এবং ক্ষমার অধিকারী আল্লাহই ভাল জানেন। তিনি তখনই সবচেয়ে বেশি খুশী হন, যখন বান্দা অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ করে। আর বলে, ‘হে আল্লাহ! আমি ভুল করেছি; আমাকে ক্ষমা করে দিন।

আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা ও ইসতিগফার সম্পর্কে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের উদ্দেশ্যে হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেছেন।

হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (এ কথা) বলতে শুনেছি- আল্লাহ বলেন-

‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করতে থাকবে; ততক্ষণ আমি তোমার গোনাহ ক্ষমা করতে থাকব।

তোমার গোনাহের পরিমাণ যত বেশিই হোক এবং যত বড়ই হোক না কেন। এ গোনাহের পরিমাণ যদি আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলেও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করব না।

হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গোনাহসহ উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরিক (অংশীদার) না করে থাক; তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে যাব। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, দারেমি ও মুসতাদরেকে হাকেম)

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা ও ইসতিগফার কতটা প্রিয় এ হাদিস দ্বারাই বুঝা যায়। আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার পরিমাণ কত বিশাল।

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ তবে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, এমনকি সে ব্যক্তি যদি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মতো গোনাহ করলেও।’(তিরমিজি ও মুসতাদরেকে হাকেম)

পরিশেষে…
ক্ষমা লাভে তাওবার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি হাদিসে। তিনি বলেছেন, ‘পাপের কাফফারা হল অনুতাপ বা অনুশোচনা। আর অনুতাপই হচ্ছে তাওবা।’ (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনু মাজাহ)

ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক কোনো অন্যায় কথা বা কাজ ঘটে গেলে তা থেকে মুক্তি লাভে আল্লাহ তাআলার নিকট অনুতাপ বা অনুশোচনার বিকল্প নেই। চাই সে গোনাহ যত বড়ই হোক আর ছোটই হোক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে ফিরে আসতে তাওবা ও ইসতিগফার করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও দয়া লাভে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বপ্ন দেখা প্রসঙ্গে বিশ্বনবির বক্তব্য 

000

ইসলাম ডেস্ক : সব স্বপ্নই মানুষের মনের নিছক কোনো কল্পনা নয়। অনেক স্বপ্ন মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ ও ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানের স্বপ্ন নবুয়তের ৪৫ ভাগের একভাগ। তাই স্বপ্নকে নিছক কোনো কল্পনা প্রসুত বিষয় বলে উড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়।

তাছাড়া সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখার বাসনাও মানুষের কাছে একটা স্বপ্ন। মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিছু কিছু স্বপ্ন আছে, মানুষ যা ঘুমের ঘোরে দেখে, তা আবার বাস্তবে ফলে যায়।

আবার কিছু কিছু স্বপ্ন আছে মানুষকে আনন্দ-বেদনার ঈঙ্গিত দেয়। স্বপ্ন দেখার সুফল, কুফল সম্পর্কে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কিয়ামত সন্নিকটে হবে তখন মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। তোমাদের মাঝে সবচেয়ে যে সত্যবাদী তার স্বপ্ন সবচেয়ে বেশি সত্য হবে।
আর মুসলিমদের স্বপ্ন নবুয়তের ৪৫ ভাগের একভাগ।

স্বপ্ন তিন প্রকার-
>> নেক স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ;
>> শয়তানের পক্ষ হতে স্বপ্ন, (মানুষকে) দুশ্চিন্তায় ফেলানোর জন্য;
>> মানুষ মনে মনে যা জল্পনা-কল্পনা করে, সে স্বপ্ন।
অতএব তোমাদের কেউ অপছন্দ করে, এমন স্বপ্ন দেখলে ওঠে নামাজ আদায় করবে এবং তা মানুষকে বলবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিস অনুযায়ী ভালো স্বপ্নের জন্য আল্লাহ শুকরিয়া এবং অপছন্দনীয় স্বপ্নের জন্য দান-খয়রাত ও আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি করা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নের করণীয় রক্ষায় হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুরো কুরআন হাতে লিখলেন ফিলিস্তিনের সায়িদা আক্কাদ 

000

ইসলাম ডেস্ক : যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ফিলিস্তিনের রামাল্লার অধিবাসী ২৪ বছরের যুবতী সায়িদা আক্কাদ পুরো কুরআনুল কারিম হাতে লিখেছেন। পুরো কুরআনুল কারিম হাতে লিখতে সায়িদার সময় লেগেছে তিন বছর।

যেখানে মানুষ জীবন-মৃতু্যর সংকায় দিন কাটায়, সেখানে সায়িদার এ অসাধারণ কর্মকাণ্ড সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার শহর রামাল্লায় সায়িদা আক্কাদের বসবাস। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ রামাল্লায় জীবন যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে পুরো কুরআন মাজিদ হাতে লিখার কারণেই কয়েকটি গণমাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।

২৪ বছর বয়সী সায়িদা আক্কাদের এ কাজে ফিলিস্তিনের অধিবাসীরাসহ সমগ্র বিশ্ব অবাক। সায়িদা আক্কাদের এ অসামান্য কাজ দেখতে প্রতিবেশীরা ভিড় জমাচ্ছে তার বাড়িতে।

২০১৪ সালে পবিত্র কুরআনুল কারিম লেখার কাজ শুরু করেন সায়িদা আক্বাদ। সে তার পড়াশুনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিনের সব কাজ ঠিক রেখেই পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি লেখার কাজ চালিয়ে যেতেন। তার তিন বছরের নিরলস পরিশ্রমে এ তার এ বিরল সম্মাননার কাজ সম্পন্ন হয়।

সায়িদা আক্কাদের পিতা রামাল্লায় ফলের ব্যবসা করেন। সে পরিবারের বড় মেয়ে।

00

কুরআনুল কারিম হাতে লেখা প্রসঙ্গে সায়িদা আক্কাদ জানান, শখের বশেই তিনি নিজ হাতে কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি খিলেছেন। তাছাড়া ফিলিস্তিন ব্যাপক সমস্যা কবলিত একটি দেশ। ইসরায়িলের সঙ্গে চলছে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ইচ্ছে হলেই তো আর ঘর থেকে বের হওয়া যায় না।

এ সুযোগে পড়াশুনা ও দৈনন্দিন কাজের পর অবসর সময়টাকে কাজে লাগানোর বিকল্প হিসেবে কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি লেখার কাজটাকে বেছে নিয়েই কাজটি শুরু করি। যা তিন বছরে সফলতার মুখ দেখে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুরা কাহাফের তিলাওয়াত জুমআর দিনের বিশেষ আমল 

0

ইসলাম ডেস্ক : সুরা কাহাফ। কুরআনুল কারিমের ১৮ নং সুরা। আয়াত সংখ্যা ১১০। মক্কায় অবতীর্ণ সুরাটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সুরাটি সম্পর্কে হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি হাদিস বর্ণিত আছে, ‘সম্পূর্ণ সুরাটি এক সঙ্গে নাজিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে ৭০ হাজার ফেরেশতা দুনিয়াতে আগমন করেছেন। আর এ কারণেই সুরাটির তিলাওয়াতের ফজিলত অনেক। তাছাড়া জুমাআর দিনে সুরাটির তিলাওয়াতের ফজিলতও অনেক। যা তুলে ধরা হলো-

>> হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমআ পর্যন্ত নূর হবে।

>> হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেৎনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফিৎনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

>> অন্য রেওয়ায়েতে আছে এক জুমআ থেকে অপর জুমআ পর্যন্ত তার সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। তবে উল্লিখিত গোনাহ মাফ হওয়ার দ্বারা সগিরা গুনাহ উদ্দেশ্য। কারণ ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য হচ্ছে যে, কবিরা গোনাহ তাওবা করা ছাড়া ক্ষমা হয় না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামআর নামাজ আদায় করার আগে নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত জুমআর দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ লাভের দোয়া 

27

ইসলাম ডেস্ক : সুস্বাস্থ্যই সুখ-শান্তির মূল। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে মর্যাদা দেয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোর তাগিদ দিয়েছেন। এবং সুস্থ থাকতে আল্লাহর কাছে কিভাবে আবেদন করতে হবে তাও শিখিয়ে দিয়েছেন। তাই সুস্থ ও কল্যাণ লাভের দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

130db44974eb935424e6865ec8e7f9ed

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাছ ছিহ্হাতা ওয়াল ইফফাতা ওয়াল আমানাতা ওয়া হুসনিল খালক্বি ওয়াররিদা বিলক্বাদরি। (বায়হাকি)
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্বাস্থ্য, পবিত্রতা, আমানতদারীতা, উত্তম চরিত্র এবং তাকদিরের উপর সন্তুষ্টি থাকার।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুস্থ্যতা, পবিত্রতা, আমানতদারীতা এবং উত্তম চরিত্র লাভে উক্ত দোয়া মাধ্যমে সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব 

0

27ইসলাম ডেস্ক : মানুষের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানুষের হেদায়াত এবং তাঁর জীবন ব্যবস্থা প্রচার ও প্রসারে দুনিয়াতে অনেক নবি ও রাসুল পাঠিয়েছেন। আর নবি-রাসুলগণও আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাঁর বাণী মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে নবি-রাসুলগণের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবন-যাপনে দিয়েছেন সঠিক দিকনির্দেশনা। মানুষের কল্যাণে তিনি নাজিল করেছেন আসমানি গ্রন্থ কুরআন এবং আরো রয়েছে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান নিসৃত হাদিস।

মানুষের দুনিয়ার জীবন সুন্দর এবং পরকালকে স্বার্থক করে তুলতে রয়েছে কুরআন হাদিসে অনেক সুস্পষ্ট নির্দেশনা। হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা তুলে ধরা হলো-

Hadith
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য।

>> আযাদী চুক্তিবদ্ধ গোলাম- যে তার রক্তমূল্য আদায় করতে চায়;
>> পবিত্রতার মানসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি;
>> আল্লাহর পথের মুজাহিদ। (তিরমিজি, মিশকাত)

উল্লেখিত হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি কল্যাণমূলক কাজে বান্দাকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য বলে মনে করছেন।
>> যে ব্যক্তি রক্তমূল্য আদায় করে মুক্তি লাভ করতে চায়, ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলার নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করেন।
>> দুনিয়ার জীবনে পাশবিকতার উচ্ছৃঙ্খলপনা থেকে নিজেকে হেফাজত করতে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিবাহ বন্ধে আবদ্ধ হতে চায়, তাদেরকে সাহায্য করাও আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। এবং
>> ওই ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করাও আল্লাহ তাআলার দায়িত্ব, যারা আল্লাহর বিধানগুলোকে পৃথিবীতে বাস্তবায়ন করতে বাতিলের সঙ্গে প্রাণন্তকর প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এ সব লোকদেরকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলা কর্তব্য হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে উল্লেখিত কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে আল্লাহর সাহায্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভাষা শহীদদের প্রতি মুসলিম উম্মাহর করণীয় 

0

ইসলাম ডেস্ক : ৮ ফাল্গুন ১৩৫৯ বাংলা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিন। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী যারা সাবলীলভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলে, তাদের কাছে ভাষা শহীদদের মর্যাদা যেমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করাও সমান গুরুত্বের দাবিদার।

বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা হিসেবে পাওয়ার দাবিতে একদল অকুতোভয় বীর সন্তান নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আমাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ভাষার অধিকার। তাদের স্মরণে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম উম্মাহর অনেক করণীয় রয়েছে।

৬৫ বছর আগে সালাম জব্বার রফিক বরকতসহ নাম না জানা অসংখ্য বীর সেনানি সেদিন নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন মাতৃভাষার জন্য। তাদের জন্য দোয়া করা সব বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কারণ মাতৃভাষা ব্যবহার করার অধিকার সৃষ্টিগতভাবে মানুষের জন্মগত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘দয়াময় আল্লাহ। তিনিই শিক্ষা দিয়াছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাহাকে ভাব (ভাষা) প্রকাশ করার শিক্ষা দিয়েছেন। (সুরা আর-রহমান : আয়াত ১-৪)

আলোচ্য আয়াতে মানুষের সৃষ্টির সঙ্গে ভাষার ব্যবহারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাই মাতৃভাষা মানুষের একটি সৃষ্টিগত অধিকারও বটে। সুতরাং মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে যারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শহীদি মর্যাদা দান করুন।

বাংলাদেশের মাতৃভাষা বাংলা। আবার বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আমরা যারা মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। তাদের উচিত ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রত্যেকের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, তাঁরা যদি ইসলামি শহাদাতের শর্তগুলো পূরণ করে থাকে, তবে  কুরআন-হাদিসের আলোকে তারা জান্নাতি। তাদের নাজাতের ব্যাপারে আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।

আর ভাষার জন্য নিহত ব্যক্তিদের মাঝে যদি ইসলামি শাহাদাতের শর্তাবলী অনুপস্থিত থেকেও থাকে, তবুও তারা যেহেতু আমাদের ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেদের তাজা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন সেহেতু একজন মুসলমান হিসেবে তাদের জন্য আমাদের কর্তব্য হলো- আল্লাহ তাআলার কাছে তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা, ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া।

হাদিসের বর্ণনা মতে ভাষা শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সদকায়ে জারিয়ার মতো কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কেউ কোনো সদকায়ে জারিয়ার মত সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাহলে যত প্রাণী তা থেকে উপকৃত হবে, সে ঐ সব মানুষের নেকির একটি অংশ পেয়ে যাবে। (মুসলিম)

হাদিসের বর্ণনা মতে, আজ যারা বাংলা ভাষায় স্বাধীনভাবে কুরআন-হাদিসের খেদমত করছেন, ওয়াজ-মাহফিল ও ইসলামি আলোচনাসহ যত ভালো কাজ করছেন এর একটি অংশ ভাষা শহীদদের নিকট অবশ্যই পৌছে যাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করার তাওফিক দান করুন। ভাষা শহীদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মানব জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য 

0

ইসলাম ডেস্ক : ‘মাতৃভাষা বাংলা ভাষা আল্লাহর সেরা দান।’ মানুষের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। তাইতো ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি ও ভাষা।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা রূমের ২২ নং আয়াতে উল্লেখ করেন, ‘আর মহান আল্লাহর নিদর্শসমূহ হতে (একটি নিদর্শন হলো) আসমান ও জমিন সৃষ্টি এবং মানুষের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা। এর মধ্যে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ রয়েছে।’

আবার মানুষকে দুনিয়ার গোমরাহী থেকে সত্যের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অনেক নবি রাসুল প্রেরণ করেছেন। যাদের প্রত্যেককেই তিনি স্বজাতির ভাষায় সত্য বিধানসহ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁরা মানুষের মাঝে তাওহিদের প্রচার-প্রসারের কাজ সহজে করতে পারে।

তাইতো আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবি-রাসুলকেই তার গোত্রের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেন, ‘আর আমি প্রত্যেক পয়গম্বরকেই (নবি-রাসুলগণকে) স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে করে তাদের পরিষ্কার (আল্লাহর বিধান) বুঝাতে পারে। (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪)

বাঙালি ও বাংলাদেশীদের মুখের ভাষা, প্রাণের ভাষা, আত্মার বন্ধনের ভাষা তথা রাষ্ট্রীয় ভাষা হলো বাংলা ভাষা। মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অস্ত্রের মুখে গর্জে উঠেছিল এদেশের সূর্য সন্তান সালাম, রফিক ও জাব্বার-বরকতদের মতো একদল দেশপ্রেমী মর্দে মুজাহিদ।

আজকে আমাদের মুখের ভাষা বাংলা ভাষা তাদের আত্মত্যাগেরই অবদান। যার ফলশ্রুতিতে আজ বাংলা ভাষায় ইসলাম ও মুসলিমদের তাহজিব তমদ্দুনের দাওয়াত, প্রচার-প্রসারে আমরা দ্বীনের দাওয়াত ও কুরআনের বাণী পৌঁছে দিতে সক্ষম। এটা মাতৃভাষা বাংলার এক মহা সফলতা।

ভাষার গুরুত্বের প্রয়োজনীয়তা আমরা কুরআনেই দেখতে পাই। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় কথাবার্তা বলার জন্য তার ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সালামকে নিজের সঙ্গী করার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।

কারণ তিনি উপলব্দি করেছিলেন যে, সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় আল্লাহর একত্মবাদ ও দ্বীনের বক্তব্যকে উত্তম বচন ভঙ্গিতে তৎকালীন সম্রাট ফেরাউন ও তাঁর সঙ্গীদের নিকট তুলে ধরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের এ বিষয়টিকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে এভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমার ভাই হারুন, তিনি আমার থেকে অনেক বেশি প্রাঞ্জল ভাষী। তাই আপনি তাকে আমার সহযোগী করে প্রেরণ করুন; যাতে সে আমাকে (দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার প্রাঞ্জল ভাষার দ্বারা) সত্যায়িত করে। কেননা আমি আশঙ্কা করছি (আমার বক্তব্য সত্য হওয়া সত্বেও) তারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ৩৪)

ভাষার গুরুত্ব অত্যধিক হওয়ায় আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন হিব্রু ভাষায়, ইউনানি ভাষায় যাবুর অবতীর্ণ করেছেন পয়গাম্বর হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর, আর হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন সুরিয়ানি ভাষায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মায়ের ভাষায় কথা বলতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুন্দর। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে উন্নত ও মার্জিত ভাষায় কথা বলতেন। কারণ তিনি আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে (শিশুকাল ভাষা রপ্ত করার সময়) লালিত পালিত হয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি বলতেন, ‘আমি সর্বাধিক সুফলিত ভাষায় আমার ভাব বিনিময় করছি।’

সুতরাং মাতৃভাষা মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার সেরা দান বা অনুগ্রহ। তাইতো ভাষা নিয়ে গর্ব করা যায়। মাতৃভাষার চর্চা ও একে উন্নত করার অধিকার সবার একান্ত কর্তব্য। মাতৃভাষা চর্চা ও রক্ষাও প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।

বিশ্বনবির হাদিস মতে, ভাষা শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সদকায়ে জারিয়ার মতো কাজ। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কেউ কোনো সদকায়ে জারিয়ার মত সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাহলে যত প্রাণী তা থেকে উপকৃত হবে, সে ওইসব মানুষের নেকির একটি অংশ পেয়ে যাবে। (মুসলিম)

হাদিসের বর্ণনা মতে, আজ যারা বাংলা ভাষায় স্বাধীনভাবে কুরআন-হাদিসের খেদমত করছেন, ওয়াজ-মাহফিল ও ইসলামি আলোচনাসহ যত ভালো কাজ করছেন এর একটি অংশ ভাষা শহীদদের নিকট অবশ্যই পৌঁছে যাচ্ছে।

আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা সমগ্র জাতির হেদায়েতের জন্য আলোর দিশারী হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ করেন তাঁর স্বজাতি ভাষা ‘আরবি ভাষায়’।

বাংলা ভাষার জন্য আত্মদানকারী সালাম, রফিক, জাব্বার বরকতসহ নাম না জানা অসংখ্য আত্মদানকারী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনতার আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। যে ভাষা আমাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার ও দান।

কেননা এ বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে কুরআনের হাদিসের অগণিত অসংখ্য কপি। রয়েছে দেশ ও বিশ্বব্যাপী ভরপুর ইসলামি সাহিত্যের ভাণ্ডার। রচিত হয়েছে কুরআনে হাদিসে ব্যাখ্যা গ্রন্থসহ অসংখ্য ইসলামি সংকলন, যা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আল্লাহ অশেষ রহমত।

সুতরাং যারা ভাষার জন্য বুকের তাঁজা রক্তকে এ জমিন ঢেলে দিয়েছেন, আজকের এই দিনে ওই সব ভাষা শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করাও ঈমানের দাবি।

পরিশেষে…
কুরআন হাদিসের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, ঠিক মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকাও ঈমানের অপরিহার্য বিষয়।

তাই দেশের সব নাগরিকের উচিত, ব্যক্তি, জাতি ও দেশ মাতৃকার জন্য, ভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনে সবাইকে এক ও অভিন্ন থাকা।

আল্লাহ তাআলা বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে মাতৃভাষার প্রশ্নের এক কাতারে শামিল থাকার তাওফিক দান করুন। বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলা সব ভাষা শহীদদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর