২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:৩০, মঙ্গলবার

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী 

2

স্বাস্থ্য ডেস্ক : গ্রামের তুলনায় শহরে ক্রমশ বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। এক সময় যক্ষ্মা গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের রোগ বলে মনে করা হলেও পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে।

বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরের সব শ্রেণির পরিবারের সদস্যরা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. শায়লা বেগম।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ  কথা বলেন। শুক্রবার (২৪ মার্চ) বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হবে।

গত বছর দেশে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার নির্ণয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরে যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলেও শহরে নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি এ রোগের সুচিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামের সবাই কম বেশি সচেতন।

ডা.শায়লা জানান, শহরে হাজার হাজার যক্ষ্মা রোগী এখনও শনাক্ত না হওয়ায় ওই নিখোঁজ লোকদের মাধ্যমে সংক্রামক এ রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগীদের খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এমডিআর (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স) রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

শহরে যক্ষ্মা রোগী কম শনাক্ত হচ্ছে কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজেজ কন্ট্রোল (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিভি/লেপ্রোসি ডা. রুসেলি হক জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর মাধ্যমে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তাদের প্রশিক্ষিত জনবল তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রচার প্রচারণা কম।

তিনি বলেন, সরকার বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা দেয়ায় ধনীদের মধ্যে এ চিকিৎসায় আগ্রহ কম বলে জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেশে নতুন যক্ষ্মা রোগীর হার বছরে প্রতি লাখে ২২৫ জন। বছরে প্রতি লাখে মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। নতুন যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স (এমডিআর) টিবিতে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ। পূর্বে চিকিৎসাকৃত রোগীদের মধ্যে এমডিআর টিবির শতকরা হার ২৯ ভাগ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা 

0000

স্বাস্থ্য ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও রক্তদানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৭ মার্চ সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ উপলক্ষে যাত্রা, সকাল ৮টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন এবং বাদজুমা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কনসালট্যান্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে বিনামূল্যে রোগী দেখবেন।

ইতোমধ্যে জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচিসমূহ সফল করার জন্য বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অটিজম চিকিৎসায় ইনডোর সেবা চালু 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার’র জন্য মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আট শয্যার ‘ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা)’র ইনডোর চিকিৎসা চালু হয়েছে।

এদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-ব্লকের তৃতীয় তলায় ইপনা’র উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, ইপনা’র প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আকতার, শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, শিশু কিডনী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, শিশু কিডনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম মাঈনুদ্দিন প্রমুখ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ এবং তার সুযোগ্য কন্যা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা হোসেন ওয়াজেদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল ইপনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অটিজম এবং অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশু রোগী ও তাদের পরিবারের সেবায় সর্বদা পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এই সেবার পরিধি বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ইপনা’র নিজস্ব ইনডোর সেবা চালু করা ছিল সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগী ও তাদের পরিবারসমূহ প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইপনা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সুযোগ্য কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ইপনার নিজস্ব ভবনে ইনডোর সার্ভিসের বেড সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত করার কথা উল্লেখ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশে বিষণ্নতায় ভুগছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ১ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এছাড়া উদ্বেগসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

‘ডিপ্রেশন অ্যান্ড আদার কমন মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স : গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন এ তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মোট ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৬০ জন বিষণ্নতায় ভুগছেন। এছাড়া ৬৯ লাখ ২১২ জন ভুগছেন উদ্বেগ সংক্রান্ত সমস্যায়।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, গোটা বিশ্বে যত মানুষের বাস ২০১৫ সালে তার ৪ শতাংশেরও বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগেছে। গত ১০ বছরে এ হার ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানসিক ও শারিরীক প্রতিবন্ধকার জন্য বিষণ্নতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সমস্যার জন্য উদ্বেগকে চিহ্নিত করা হয়েছে ষষ্ঠ কারণ হিসেবে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে ভুটানে বিষণ্নতায় ও উদ্বেগসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ, ভারতে ৪ দশমিক ৫ ও ৩ শতাংশ মানুষ, মিয়ানমারে ৩ দশমিক ৭ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ, শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে ৭ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর জন্য আত্মহত্যায় দ্বিতীয় কারণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বাস্থ্যখাতে ৪০ হাজার জনবল নিয়োগ শিগগিরই 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্বাস্থ্যখাতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য ৪০ হাজার পদে শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসাপাতালে তৃতীয় ও চতৃর্থ শ্রেণির এ পদগুলো শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নবনির্বাচিত কমিটি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ৬ হাজার চিকিৎসক ও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের সমাধান করেছে। কর্মচারী পর্যায়ের শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ১১ হাজার ১৯৫টি শয্যার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক মঞ্জুরি প্রদান করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দেশের বেশ কিছু হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ালেও দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি শয্যাগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ ছিল না। ফলে পূর্বের শয্যা সংখ্যার বাজেট দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে এ বরাদ্দের ফলে দেশের দরিদ্র রোগীরাই বেশি উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার যাত্রাপথে দেশের স্বাস্থ্যখাতে গত আট বছরে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে উল্লেখখ করে এই অর্জনকে আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য বিএমএ এর নতুন কমিটির প্রতি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তারা।

বিএমএ নেতারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিএমএ।  পাশাপাশি অবৈধ হাসপাতাল, ভুয়া চিকিৎসক ও মানহীন মেডিকেল কলেজ এবং ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত অভিযানকেও সহায়তা করবে বিএমএ।

স্বাস্থ্য সচিব সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএমএ’র নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গবেষণা মঞ্জুরি পেলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ২৩২ শিক্ষার্থী 

2

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মেডিকেল শিক্ষাবিষয়ক উচ্চতর গবেষণার জন্য ২৩২ জন ছাত্রছাত্রীকে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অফিসের উদ্যোগে মেডিসিন অনুষদে ১১০ জন, সার্জারি অনুষদের ৭৭ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ৩৭ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮ জন শিক্ষার্থীকে এ মঞ্জুরি প্রদান করা হয়।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গবেষণার প্রকারভেদে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার সকাল ১১টায় ‘এ’ ব্লকের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এএসএম জাকারিয়া স্বপন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে হাসিখুশি থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাসিক পারিতোষিক দ্বিগুণ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০০ বেডের হল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টেলিনরের ডিজিটাল টনিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সাড়া 

356

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ৭০ বছরের বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও নাতনির সঙ্গে বসবাস করেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তাকে একটু অসুস্থ দেখলেই পরিবারের সবাই উদ্বিগ্নও হয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হাসিনা বেগম সে সময় সবাইকে অভয় দিয়ে বলেন, তার বয়স হয়েছে, অসুস্থতা এ বয়সে নিত্যসঙ্গী। সুতরাং কথায় কথায় চিকিৎসকের কাছে দৌড়ানো ঠিক হবে না।

হাসিনা বেগম সম্প্রতি গভীর রাতে অসুস্থবোধ করলে সবাই তার রুমে ছুটে আসেন। এ সময় তার নাতনি দাদির শারীরিক অবস্থা ভালো নয় আঁচ করতে পেরে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে স্বাস্থসেবার পরামর্শ চান। চিকিৎসকে উপসর্গ শুনে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা হাসিনা বেগমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, আর কিছুক্ষণ দেরি করলে তাকে হয়তো বাঁচানোই যেত না।

এটি কোনো গল্প বা নাটকের স্ক্রিপ্ট নয়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে মোবাইল ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ পেয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার এ অভিজ্ঞতার কথা জানান টেলিনর হেলথ ও গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সাজিদ রহমান।

তিনি বুধবার গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশে টেলিনরের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা  সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে  মতবিনিময়ের আয়োজন করেন। সাজিদ রহমান জানান, ২০১৫ সালের জুন মাস  থেকে টেলিনর কোম্পানি গ্রামীণফোন মোবাইল কোম্পানির  মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে  ‘টনিক’স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম চালু করে।

তিনি জানান, গ্রামীণ ফোন কোম্পানির গ্রাহকরা *৭৮৯# ডায়াল করে  টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিবন্ধন  করার মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও নামমাত্র খরচে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডাক্তারদের কাছ  থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন।

এছাড়া  হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার  ওপর শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন ও তিনদিনের বেশি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিলে গ্রাহকরা ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা পাচ্ছেন। শুধু তাই না, টনিক স্বাস্থ্যসেবার অ্যাপস্, ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা ও ডাক্তারদের রোগব্যাধি  সম্পর্কে  প্রশ্ন করে উত্তর পাচ্ছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা আগে কেউ প্রদান করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ডিজিটাল পদ্ধতির এ টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাচ্ছে। মাত্র ছয় মাসে (জুন-ডিসেম্বর) টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ২০ লাখ গ্রামীণফোনের গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন।

টেলিনর হেলথের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা.ফ্রেড হারস্চ (fred hersch) জানান, নিবন্ধনকৃত গ্রাহকরা স্বাস্থ্যসেবায় চার ধরনের ( টনিক জীবন, টনিক ডাক্তার, টনিক ডিসকাউন্ট ও টনিক ক্যাশ) সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কোন গ্রাহক নিবন্ধন করলে ক্ষুদেবার্তা, ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে বিনামূল্যে কিভাবে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা যায় সে সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত পাবেন।

তিনি জানান, প্রতি মিনিট ৫ টাকা খরচে গ্রাহকরা ডাক্তারের কাছ থেকে রোগব্যাধি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক পরামর্শ পাচ্ছেন। পালাক্রমে দিনরাত ২৪ ঘন্টা গ্রাহকদের পরামর্শ দিতে  ৩০ জন এমবিবিএস  চিকিৎসকদের একটি টিম রয়েছে। সারাদেশে ২শ’হাসপাতালে বেড ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় শতকরা ৫০ ভাগ ছাড় রয়েছে।এছাড়া তিনদিন বা তারও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিলে ১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে।গত ছয় মাসে ১৬ হাজারের বেশি গ্রাহক বিভিন্ন হাসপাতালে ডিসকাউন্টে পরীক্ষা নিরীক্ষা, ১লাখের বেশি গ্রাহক টেলিফোনে ডাক্তারের পরামর্শ, ১৪ লাখ গ্রাহক ফেসবুকে ও আড়াই লাখের  বেশি গ্রাহক ওয়েবসাইটে সংযুক্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

চিফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার ম্যাথিউ গুইলফোর্ড (Matthwe Guilford )  জানান, টেলিনরের এ স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগী হিসেবে  গ্রামীণফোন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, মাইক্রোএনশিওর, প্রগতি লাইফ ইনসুরেন্স ও সারাদেশের দুই শতাধিক হাসপাতাল, ফার্মেসি ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সংযুক্ত হয়েছে।

এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা চালুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে  টেলিনর হেলথের সিইও সাজিদ রহমান বলেন, দেশে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো এসব রোগী সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া সংক্রামক ব্যাধিতেও হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে সীমিত খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যেই তাদের এ উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতায় ঝাড়ু হাতে ভিসি 

1

স্বাস্থ্য ডেস্ক : রোগী ও তাদের স্বজনদের সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। গায়ে সাদা টি-শার্ট, মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপ, হাতে ও মুখে গ্লাবস লাগিয়ে ঝাড়ু হাতে ক্যাম্পাসে পড়ে থাকা গাছের পাতা ও ধুলোবালি বেলচায় তুলে রাখছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্যরাও একই পোশাক গায়ে চাপিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় নেমে পড়লেন।

দৃশটি রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রাঙ্গণের। ‘আমাদের ক্যাম্পাস আমরাই পরিস্কার রাখব’ শ্লোগানে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান কিক্ষুক্ষণের জন্য ঝাড়ুদার বনে যান। তার দেখাদেখি প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের জন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহে দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছনতা কার্যক্রম ছাড়াও সপ্তাহে ১ দিন নিজ নিজ অফিসে বিশেষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের এ ধরণের কার্যক্রম আরও জরুরি। কারণ হাসপাতালের পরিবেশ যত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে রোগ জীবাণু তত কম ছড়াবে এবং সংক্রমণের হার তত কম থাকবে। এখন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস, বিভাগ ও ওয়ার্ডে প্রতি মাসে অত্যন্ত একবার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে মানদণ্ডের প্রশ্নটিও জড়িত। বাড়িতে আমরা যেভাবে নিজেরাই নিজেদের বাসা-বাড়ি পরিস্কার রাখি এখানেও সেটা করা দরকার। এখন থেকে আমাদের নিজ নিজ অফিস, বিভাগ ও ওয়ার্ড সমূহ নিজেরাই একইভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো।

ডি ব্লকের সামনে এ মহতী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আলী আসগর মোড়ল, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন প্রমুখসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা, নার্স, কমচারী, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পেটের সুস্থতায় ৮ খাবার 

k0ra1yfc-copy

অনলাইন ডেস্ক : পেটের মধ্যে অশান্তি থাকলে সবকিছুই খারাপ লাগে। শরীরের হজম ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থল হলো পেট। শরীরের ঠিকঠাক সঞ্চালনে, অনেক কিছুর জন্যই এর সঠিক চালনার প্রয়োজন। সার্বিক সুস্থতার জন্য পেট ঠিক থাকা খুবই দরকারি।

পেটকে ঠিকঠাক অবস্থায় রাখার দু’টো উপায়, এক ব্যয়াম অপরটি হলো নিয়ম করে খাওয়া দাওয়া।

কী খেলে পেট সুস্থ থাকে, তা জানতে হবে। এ রকমই আটটি খাবারের কথা আলোচনা করা হলো, যাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি আছে। এগুলো পেট পরিষ্কার করে ও সার্বিকভাবে, আপনার হজম ব্যবস্থায় উন্নতি আনে।

চলুন দেখি, কী খেলে পেটটা পরিষ্কার হয়—

দই
আপনার পেটে বহু লক্ষ ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা আপনার হজমে সাহায্য করে। দই-এ প্রচুর স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া আছে, যা শুধু হজমে সাহায্য করা না, আপনার পেটের সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

চর্বিহীন মাংস
চর্বিহীন মাংসের সবচেয়ে ভালো ব্যাপারটা হলো, যে এতে মেদের মাত্রা একদমই কম। এতে কোনো ক্ষতিকারক কোলেস্টারল থাকে না এবং স্যাটিউরেটেড ফ্যাটের মাত্রাও খুব কম। চর্বিতে মেদের মাত্রা অনেক বেশি এবং বয়স্কপ্রাপ্ত পুরুষের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

কলা
জনপ্রিয় ফলের মধ্যে কলা একটি। এটি পেটের পাচন ব্যবস্থায় সাহায্য করে, কোষ্টকাঠিন্য রোধ করে, সার্বিকভাবে হজমে সাহায্য করে। শুধু পেট ও হজমের জন্যই কলার গুণাবলী সীমিত না। এতে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে।

কমলা লেবু
কমলা লেবুতে, ভিটামিন সি ও খাবার ফাইবার আছে প্রচুর। দু’টোই খুব দরকারি জিনিস, পেটের জন্য। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

লেবু
লেবুতে অনেক পানিতে দ্রবিভূত হয় এমন অ্যাসিড থাকে, যা হজমের জন্য খুবই কার্যকরি। লেবুর পানিও শরীরের জন্য খুব ভালো, কারণ এটা পুরো হজম প্রণালী স্বচ্ছ করে।

আদা
মাঝারি মাত্রায় আদা, শরীরের জন্য খুবই উপকারি। বেশি খেলে, যদিও হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রাচীন কাল থেকে, এর ব্যবহার পেটের অনেক রোগ নিরাময়ে হয়ে এসেছে।

ক্যাপসিকাম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়ন্ট সমৃদ্ধ, ক্যাপসিকাম একটা আশ্চর্যকর সবজি পেটের জন্য। এতে উপস্থিত ভারি মাত্রার ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আপনার পেটের অনেক রকমের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

সবুজ শাক সবজি
শাকে প্রচুর মাত্রায় জিংক, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। শাক সবজি, আপনার নিয়মিত খাবারের অঙ্গ বানান, এতে আপনার পেটের সমস্যা থেকে অনেকদিন রেহাই পাবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যে লক্ষণে বুঝবেন আপনি ক্যানসারে আক্রান্ত 

4ezqpfa9-copy

অনলাইন ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর : ক্যানসার নিঃসন্দেহে মরণব্যাধি। কিন্তু সঠিক সময়ে ক্যানসারকে যদি চিহ্নিত করা যায় এবং যথাযথ চিকিৎসার সুফল যদি মেলে তাহলে ক্যানসারকেও পরাজিত করা সম্ভব। এর জন্য দরকার ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা।

‘জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ডাক্তার রেণু ওয়াধা ও নূপুর নিগম জানিয়েছেন কোন কোন শারীরিক পরিবর্তন ক্যানসারের পূর্বাভাস দেয়।

১. শরীরের কোনো অংশ যদি লাল হয়ে ফুলে যায় এবং চুলকানি দেখা দেয় : কোনো অংশে ক্যানসার দেখা দিলে সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক প্রতিষেধক ক্ষমতার প্রতিক্রিয়ায় ওই অংশে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। স্বভাবতই ওই অংশ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং সেখানে চুলকানিও দেখা দিতে পারে।

২. যদি চামড়ার নীচে কোনো মাংসের দলা দেখা দেয় : এটা বোঝা যায় খুব সহজেই। হাত দিয়ে স্পর্শ করে যদি শরীরের কোনো অংশে শক্ত মাংসের দলা অনুভব করেন তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন। স্তন, অণ্ডকোষ, গলা, তলপেট কিংবা বগলের মতো জায়গাগুলোতে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

৩. যদি শরীরের কোনো অংশের কোনো ঘা বা ক্ষত সারতে না চায় : দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো ঘা বা ক্ষত না সারে, তাহলে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যেতে হবে।

৪. ব্যাখ্যাহীন রক্তপাত: শরীরের কোনো অংশ থেকে (যেমন যোনি কিংবা স্তনবৃন্ত) যদি আকস্মিকভাবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই রক্তপাত শুরু হয়ে যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. এক টানা কাশি: যদি টানা দুই সপ্তাহের উপর কাশি থাকে, তবে তা গলা, ফ‌ুসফুস, খাদ্যনালী এমনকী পাকস্থলীর ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১৫তম জাতীয় সাওল হার্ট সেমিনার শুক্রবার 

50

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আগামী শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় ১৫তম জাতীয় হার্ট সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিনা অপারেশনে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ সাওল হার্ট সেন্টার এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। পরদিন চট্টগ্রামে ১৬তম সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান সাওল হার্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান কবি মোহন রায়হান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসায় প্রচলিত পদ্ধতির রিং বসানো কিংবা বাইপাস সার্জারি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণ পরিবর্তনই হৃদরোগের স্থায়ী চিকিৎসা। জীবনঘাতী হৃদরোগ ও তার সহযোগী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনাচরণ পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের কোলেস্টোরেল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে না দিয়ে পরিশ্রম, হাঁটাচলা, ব্যায়াম, ইয়োগা, মেডিটেশন তথা শরীরচর্চার মাধ্যমে হৃদরোগকে দূরে রাখা অবশ্যই সম্ভব।

পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধগ্রহণ, বিনা অপারেশনে অত্যাধুনিক ইইসিপি মেশিনে ন্যাচারাল বাইপাসের মাধ্যমে রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

শুক্রবার সকালে ঢাকার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে সকাল ৮টা থেকে এই সেমিনার শুরু হবে। সেমিনারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো বিনা তেলের রান্না খাবার তৈরির প্রণালিও সেখানো হবে। ঢাকায় এই সেমিনারে রেজিস্ট্রেশনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার টাকা।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন হার্ট কেয়ার ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড়, ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর বিজয় কুমার সরকার, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ও কার্ডিওলজিস্ট ডা. এএফএম সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখ।

পরদিন শনিবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালে ১৬তম সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এখানে রেজিস্ট্রেশনের ফি ধরা হয়েছে এক হাজার টাকা।

ঢাকায় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে ০১৭৫৫৬৬০৭৭৭, ০১৭৪৪২৫১২২২ নম্বরে এবং চট্টগ্রামের সেমিনারের জন্য ০১৭১১৭৪৮৯১৯ ও ০১৯৭৯৮০৮৮৬০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু ভুল ও নির্ভুল তথ্য 

111

১. ভুলঃ কোমর ব্যথা মানে কিডনি রোগ!
নির্ভুলঃ কিডনি রোগে প্রস্রাব কমে যায়, খাওয়ার রুচি কমে যায়, বমি বমি লাগে, মুখ ফুলে যায়!

২. ভুলঃ ঘন ঘন প্রস্রাব মানেই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ!!
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হলে প্রথম অনুভূতি হল- এতো খেলাম, তবুও কেন শক্তি পাইনা, এছাড়া ওজন কমে যায়, মুখে দুর্গন্ধ হয়, ঘা শুকাতে চায়না!

৩. ভুলঃ ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার!
নির্ভুলঃ প্রেসার বাড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ পাওয়া যায় না! একটু অস্বস্তিকর অনুভুতি হয় মাত্র।

৪. ভুলঃ বুকের বামে ব্যথা মানে হার্টের রোগ!
নির্ভুলঃ হার্টের রোগে সাধারণত বুকে ব্যথা হয় না। হলেও বামে নয়তো বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়… হার্টের সমস্যায় সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ চাপ অনুভূতি হয়, মনে হয় বুকের মাঝখানটা যেন কেউ শক্ত করে ধরে আছে!!

৫. ভুলঃ মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়।
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হরমোনাল অসুখ। অগ্ন্যাশয় ঠিকমত কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়। তাই মিষ্টি খাওয়ার সাথে এই রোগ হবার সম্পর্ক নেই। কিন্তু ডায়াবেটিস হয়ে গেলে মিষ্টি খেতে হয় না।

৬. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে বেশি পানি খেলে পায়ে পানি আসে।
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে প্রোটিন কম খেয়ে, কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে পায়ে পানি আসে। তাই প্রোটিন বেশি বেশি খেতে হয়।

৭. ভুলঃ এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং করাকালীন বেবির (৬মাসের আগে পানিও খাওয়ানো যায় না একারণে) ডায়রিয়া হলে, মা স্যালাইন খেলেই বেবিরও চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
নির্ভুলঃ মা খেলেই বাচ্চার চাহিদা পূরণ হয় না… বেবিকেও স্যালাইন খাওয়াতে হয়।

৮. ভুলঃ দাঁত তুললে চোখের আর ব্রেইনের ক্ষতি হয়।
নির্ভুলঃ দাঁত তোলার সাথে চোখের আর ব্রেইনের কোনো সম্পর্ক নেই। দাঁত, চোখ, মাথার নার্ভ সাপ্লাই সম্পূর্ণ আলাদা।

৯. ভুলঃ মাস্টারবেশন করলে চোখের জ্যোতি কমে যায়!
নির্ভুলঃ ভিটামিন এ জাতীয় খাবার না খেলে চোখের জ্যোতি কমে যায়।

১০. টক/ ডিম/ দুধ খেলে ঘা দেরীতে শুকায়।
নির্ভুলঃ টক/ ডিমের সাদা অংশ/ দুধ খেলে ঘা তাড়াতাড়ি শুকায়।

১১. ভুলঃ অস্বাভাবিক আচরন, ভাংচুর, পাগলামি মানেই জ্বিন ভুতে ধরা!!!
নির্ভুলঃ এটা বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, হ্যালুসিনেশন।

১২. ভুলঃ তালু কাটা, এক চোখ, কপালে চোখ, বাঘের মত ডোরাকাটা দাগ নিয়ে জন্ম গ্রহন করা বাচ্চা কিয়ামতের আলামত, আল্লাহর গজব, বাঘের বাচ্চা।
নির্ভুলঃ মানুষের পেট থেকে বাঘের বাচ্চা হয় না আর কিয়ামতের আলামত বা গজব বাচ্চাদের উপর আসে না। এসব জিনগত রোগ বা জন্মগত রোগ।

১৩. ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম এসব খেলে বাচ্চা বড় হয়ে যায়। তাই গাইনী ডাক্তার সিজার করার জন্য এগুলা প্রেসক্রাইব করে….
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম না খেলে গর্ভস্থ বেবির নিউরাল টিউব ডিফেক্ট হয়।

১৪. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে সাদাস্রাব হলে ফ্লুইড কমে যায়।
নির্ভুলঃ White discharge এবং Amniotic fluid সম্পূর্ণ আলাদা দুটো ফ্লুইড.. একটার সাথে আর একটার কোনো সম্পর্ক নেই।

১৫. বাচ্চা না হওয়া মানেই বন্ধ্যা নারী।
নির্ভুলঃ বন্ধ্যা, নারী এবং পুরুষ উভয়ই হতে পারে।।
__________________________________________
এ ধরণের আরো অনেক ধরণের গুজব বা কুসংস্কার আমাদের সমাজে প্রচলিত, যেগুলোর কোনো ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
সৌজন্যেঃ ডাঃ রিফফাত করিম

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নার্সদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে সেমিনার 

111

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : দেশের নার্সিং পেশা ও সেবার মান উন্নয়নে এবং সম্মানিত নার্সদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার অপরচুনিটিস ফর নার্সেস’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর ডা. মিল্টন হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার এবং সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান ফরাজী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, নার্সিং পেশা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরণের সেমিনার অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকরী, যা নার্সদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ করে উন্নত ক্যারিয়ার গড়নে সহায়ক হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের বিএসসি নার্সিং কোর্স চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ক্যান্সারের নতুন সাত বাহক 

111

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ক্যান্সার বিস্তারের মাধ্যম দিন দিন বাড়ছে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী নতুন আরো সাতটি বাহকের খোঁজ মিলেছে সম্প্রতি। এর মধ্যে পাঁচটি ভাইরাস আর অন্য দুটির একটি রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ। অপরটি একটি জৈব যৌগ।

ক্যান্সারের এই সম্ভাব্য স্রষ্টাদের (কার্সিনোজেনিক)  নতুন ওই সাত তালিকার নাম প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস’। আর সেই তালিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) কাছে জমা দিয়েছেন তারা।

গত ৩ নভেম্বর এটি প্রকাশের ফলে ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর সম্ভাব্য বাহকের সংখ্যা বেড়ে হলো ২৪৮। এ বিষয়ে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এনভায়রনমেন্টাল হেল্থ সায়েন্সেসে’র মিডিয়া সেলের মুখপাত্র লিন্ডা বার্নবউম বলেছেন, ‘ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এই সাতটি বাহকের মধ্যে পাঁচটিই ভাইরাস।

ভাইরাস পাঁচটি হলো – (১) মানুষের শরীরে থাকা ‘টি-সেল লিম্ফোট্রোপিক ভাইরাস টাইপ-ওয়ান’, (২) ‘এপস্টিন-বার ভাইরাস’, (৩) ‘কাপোসি সারকোমা-অ্যাসোসিয়েটেড হার্পস-ভাইরাস’, (৪) ‘মার্কেল সেল পলিওমা ভাইরাস’ এবং (৫) ‘হিউম্যান ইমিউনো-ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস টাইপ-ওয়ান’ (এইচআইভি-ওয়ান)।

আর বাকি দুটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর অন্যতম একটি রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ। অন্যটি একটি জৈব যৌগ- ‘ট্রাইক্লোরোইথিলিন’।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ভাইরোলজিস্ট অনিতা কুলকার্নির কথায়, ‘নতুন যে পাঁচটি ভাইরাসের নাম তালিকায় জোড়া হয়েছে, তারা কম করে ২০ রকমের ক্যান্সার সৃষ্টি ও তার বৃদ্ধির কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন এইচআইভি-ওয়ান ভাইরাস এইডস ছড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকেও পঙ্গু, দুর্বল করে দেয়। তার ফলে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের স্রষ্টা অন্য ভাইরাসগুলোকে প্রতিরোধে শারীরিক ক্ষমতাও তা কমিয়ে দেয়।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনিতা সরকার বলছেন, ‘ওই ভাইরাসগুলো ছাড়া ক্যান্সারের বাকি দুই সম্ভাব্য উপাদানের অন্যতম- জৈব যৌগ ‘ট্রাইক্লোরোইথিলিন’ মূলত হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের শিল্পোৎপাদনে কাজে লাগে। সেনাবাহিনীতেও এর ব্যবহার হয়।

আর রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার বিভিন্ন রকমের যৌগের বহুল ব্যবহার হয় রিচার্জিয়েবল ব্যাটারি, টাইলস, সেরামিকস আর নীল ছোপ ছোপ কাচে। সৌর প্যানেলেও ব্যবহার হয় কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগের। অন্যান্য প্রাণীর শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিতে কোবাল্টের ভূমিকা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে মানুষের শরীরে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনও মেলেনি। কিন্তু কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ কীভাবে প্রাণীর শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠছে, তা গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তবে কোবাল্ট থেকে যেহেতু আধানযুক্ত কণা (চার্জড্ পাটিক্ল বা আয়ন) বেরিয়ে আসে শরীরের ভেতর, তাই সেগুলো আমাদের ডিএনএরও প্রচুর ক্ষতি করতে পারে।

তিনি বলেন- যার ফলে, তার ক্যান্সারের কারণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে যথেষ্টই। কোবাল্টে অবশ্য ভিটামিন বি-টুয়েলভেও পাওয়া যায়। তবে প্রোটিন সেই কোবাল্টকে শক্তিশালী বাঁধনে বেঁধে রাখে বলে তার থেকে আয়ন বেরিয়ে আসে না। তাই ভিটামিন বি-টুয়েলভে পাওয়া কোবাল্ট মোটেই ক্ষতিকারক হয় না।

তবে আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়তী সিংহ বলছেন, এই ভাইরাসগুলোকে ক্যান্সার সৃষ্টির সাম্ভাব্য কারণ বলা হচ্ছে। তার মানে এই ভাইরাসগুলোই যে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ তা শতভাগ বলা যাবে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রতিদিন সকালে লেবুর পানি খাবেন যে ৭ কারণে 

379

স্বাস্থ্য ডেস্ক : রোজ সকালে নিয়ম করে লেবুর পানি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সব ধরণের চিকিৎসা শাস্ত্রে। শুধুমাত্র ভিটামিন সি-এর কথাই যদি বলি তাহলে একটি লেবুতে রয়েছে ৩০.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। যদিও আমাদের শরীরে ভিটামিন সি-এর দৈনিক চাহিদা পরিমাণ পুরুষদের ৯০ মিলিগ্রাম এবং মহিলাদের ৭৫ মিলিগ্রাম। যার অনেকটাই পাওয়া যেতে পারে এই লেবু থেকে। হজমশক্তি বাড়াতে চাইলে প্রথমে আপনাকে শরীরের ভিটামিন সি-র ঘাটতি পূরণ করতে হবে। একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে যে কখনোই লেবুর সঙ্গে চিনি বা লবণ মেশানো যাবে না। ঘুম থেকে উঠেই যে কিছু না খেয়ে একদম খালি পেটে লেবুর পানি খেতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। খাবার খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরেও খেতে পারেন আপনি লেবুর পানি। শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে রোজ সকালে খালিপেটে লেবুর পানি খাওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু লেবুর পানির আরও অনেক উপকার রয়েছে। আসুন আজ জেনে নেই লেবুর পানির আরও কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা-

১. হজম শক্তি বাড়ায়: রোজ লেবুর পানি খান। আপনার হজমশক্তি ধীরে ধীরে বাড়বে। গ্যাস-অম্বল দূর হবে। কারণ, লেবুর পানি পরিপাক নালির মধ্যে থাকা টক্সিন শরীর থেকে বের করে দেয়।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: লেবুর মধ্যে রয়েছে ভরপুর ভিটামিন সি। যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

৩. এনার্জি জোগায়: লেবুর শরবত খান, ইনস্ট্যান্ট এনার্জি পাবেন। রোজ সকালে যদি লেবুর পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, মেজাজ ভালো থাকবে। কাজে এনার্জি পাবেন।

৪. ওজন কমাতে: ওজন কমাতে বা মেদ ঝরাতে লেবুর তুলনা নেই। দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ দেয়। হালকা গরম পানিতে, লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আরও ভালো ফল পাবেন।

৫. অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল: হ্যা, এই দু’টি গুণও লেবুর মধ্যে রয়েছে। ফলে, ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ এড়াতে লেবুর পানি খেতে পারেন। বিশেষত, ফ্লু, সর্দিকাশি ও গলাব্যথা হলে।

৬. মস্তিষ্ক সতেজ রাখে: লেবুর মধ্যে রয়েছে অতিমাত্রায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। যা শুধু মস্তিষ্ক নয়, স্নায়ুকেও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। চিন্তাশক্তি বাড়ায়। শারীরিক ধকল ও বিষণ্ণতা কাটাতেও পাতিলেবুর তুলনা নেই।

৭. ক্যানসার প্রতিরোধক: লেবুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর