১৮ নভেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৫৩, শনিবার

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ 

8785

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : আজ মঙ্গলবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিস এক নীরব মহামারি। এটি রোধ করা না গেলে এ রোগ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। এবারের প্রতিপাদ্যটি যথার্থ হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০ পদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।সারাদেশে গর্ভকালীন নারীদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে ডায়াবেটিক সমিতির সেবাকেন্দ্রগুলো কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চিকুনগুনিয়া জটিল রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে 

333

ঢাকা : চিকুনগুনিয়া জটিল রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এসব রোগীরা দীর্ঘ দিন রোগে ভোগেন বলে এদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। নতুন করে আরেকটি রোগে আক্রান্ত হলে তার মধ্যে অবশিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে এসব রোগীর মৃত্যঝুঁকিও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা বেশি থাকার কারণে কেউ দ্রুত সেরে উঠেন আবার কারো সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকুনগুনিয়ার প্রতিক্রিয়া কারো দেহে দীর্ঘ দিন থাকে আবার কেউ ১০ বা ১২ দিন পরই সেরে ওঠে।

মেডিসিনের বিশিষ্ট চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: এম এ ফয়েজ জানিয়েছেন, চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গিটে ব্যথা হয়, মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর সেরে গেলে এ ব্যথা আরো কিছুদিন থাকে এবং কারো দীর্ঘ দিন থাকে। রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ কতটুকু আছে এর ওপর নির্ভর করে রোগী কত আগে সুস্থ হয়ে যাবেন অথবা হয়তো তিনি কয়েক দিন বেশি ভুগতে পারেন। তিনি জানান, জটিল রোগে আক্রান্তদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে তারা খুব দ্রুত আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তাদের মৃত্যুও হতে পারে। ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ ফয়েজ জানান, অনেক সময় আক্রান্তরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে পারেন। গিটে ব্যথা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ভরা বর্ষার এ সময়টাতে নানা জটিল রোগে ভুগছেন অথবা বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন এমন রোগীদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। দিনের বেলা ঘুমানোর সময় রোগে আক্রান্তদের অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে যাতে তারা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত না হয়।

এ দিকে বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকুনগুনিয়া টেস্ট করা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েই গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, জাতীয় রোগ তত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত চিকুনগুনিয়া টেস্ট হওয়া সম্ভব নয়। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কিত নিউলেটারে আইইডিসিআর একটি নির্দেশ জারি করেছে। আইইডিসিআর নির্দেশে বলেছে, ‘বিভিন্ন বেসরকারী ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং রোগীর তথ্য নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে পজিটিভ হয়েছে এমন রক্তের নমুনা, রোগী নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা ও মোবাইলফোন নাম্বারসহ পরীক্ষার রিপোর্টের অনুলিপি জাতীয় রোগ তত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রেরণের জন্য পরামর্শ দেয়া হলো।’

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে স্বীকার করছেন। তিনি ঢাকা শহরে কী পরিমাণ চিকুনগুনিয়ার রোগী আছে এর নির্ণয় করবেন বলে মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা সম্বন্ধে আমাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কী পরিমাণ মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এ জন্য আমাদের প্রত্যেক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এলাকাগুলোয় জরিপ শুরু করতে। আমরা আশা করছি খুব শিগগির এ বিষয়ে একটা ফল পাব। -নয়া দিগন্ত

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চিকুনগুনিয়া 

222

ঢাকা, ১১ জুলাই : নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে চিকুনগুনিয়া। রাজধানীতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অন্য জেলা-উপজেলায় এ রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। দেশের সর্বত্র এখন চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া দেখা দেয়। গত তিন-চার মাসে এটি মহামারী আকার ধারণ করে। শুরুতে চিকুনগুনিয়ার বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশন তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এর প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাজধানীতে এর ব্যাপকতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বর্তমানে তা জেলা-উপজেলায়ও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

রাজধানীর বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেসব রোগীর সন্ধান মিলেছে, তারা ঢাকার মশা দ্বারা আক্রান্ত বলে দাবি করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকুনগুনিয়া লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে।

চিকুনগুনিয়া পর্যবেক্ষণে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে গত ৩ জুলাই। আইইডিসিআরের নিয়ন্ত্রণের কক্ষের গত ৯ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরিতে চিকুনগুনিয়া রোগীর সংখ্যা ৫৫৬। ওইদিন ১৬৫ জন লোক হটলাইনে এবং ১৮ জন সরাসরি হাজির হয়ে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে তথ্য জানেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ ঢাকার এবং কয়েকজন মাদারীপুরের বাসিন্দা ছিলেন। অর্থাৎ রাজধানীর বাইরের জেলা থেকেও চিকুনগুনিয়ার খোঁজখবর নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে মাদারীপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাটে চিকুনগুনিয়া রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ জন্য প্রতিটি জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার জন্য সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত জুলাই প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজন (অর্থাৎ ৯ শতাংশ) লোক চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে গতকাল প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ওই পরিসংখ্যান সঠিক নয় বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ৯ শতাংশ লোক চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়ার রোগী হতো ১৮ লাখ। রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি লোক বসবাস করে।

আইইডিসিআরের তথ্যমতে, চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের। এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস এলবোপিকটাস মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এ ধরনের মশা সাধারণত দিনের বেলায় (ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার সময়) কামড়ায়। মশাগুলো সাধারণত পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে জন্মে। এ ধরনের পরিবেশে বসবাসকারী মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।

চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ হচ্ছে হঠাৎ জ্বর আসা, সঙ্গে গিঁটে গিঁটে প্রচ- ব্যথা, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে ঠা-া অনুভূতি, বমি বমি ভাব অথবা বমি, চামড়ায় লালচে দানা ওঠা। চিকুনগুনিয়া এমনি এমনিই সেরে গেলেও কখনো কখনো গিঁটের ব্যথা কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও থাকতে পারে। এই জ্বর ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত হতে পারে। এ রোগ প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, চিকুনগুনিয়া একটি মশাবাহিত রোগ। আফ্রিকায় প্রথম এর ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া যায়। ঢাকার পর চিকুনগুনিয়া গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে কাজ করার কথা স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সিটি করপোরেশন থেকে যদি মশা নিধন কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করা হতো, তা হলে মশার বংশবিস্তার হতো না। মশক নিধনের পাশাপাশি জনসেচতনতা বাড়ানো সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। সিটি করপোরেশন রাস্তা ও বাড়ির আশপাশের মশা মারল এবং আবর্জনা পরিষ্কার করল; কিন্তু জনসচেতনতা সৃষ্টি না করায় বাসার ভেতরে যে মশা রয়েছে সেগুলো থেকে গেল। সচেতনতার অভাবে মশা নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে হলো না। ফলে করপোরেশনকে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও পালন করতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ড. জাফর উল্লাহ বলেন, ১৯৫০ সালের দিকে চিকুনগুনিয়া আফ্রিকায় দেখা দেয়। ১৯৬৩ সালে ভারতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এবার ঢাকা আক্রান্ত হলো। সিটি করপোরেশন মশা মারছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও সজাগ হচ্ছে। চিকুনগুনিয়া নিয়ে চিকিৎসকদের পাঠদান করা হচ্ছে না বিধায় চিকিৎসকরা এর চিকিৎসা দিতে পারছেন না। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করতে হবে। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির ভেতর রাখতে হবে। তাকে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার বিকালে এই কমিটি প্রথম বৈঠক করে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হাতেগোনা ২-৩ জন রোগীর খবর পাওয়া গেছে। তারা ঢাকায় অবস্থানকালেই মশার কামড় খেয়েছেন। পরে গ্রামে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হন। ওইসব রোগী ঢাকায় এসে পরীক্ষা করিয়েছেন। তাদের চিকুনগুনিয়া নেগেটিভ (হয়নি) পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, চিকুনগুনিয়া জ্বর যে পরিবেশে ছড়ায়, তার জন্য ঢাকা উপযুক্ত। বৃষ্টি হলে ঢাকার পানি সহজে সরে না। মশার প্রজননক্ষেত্রের জন্য পানি খুবই জরুরি। কিন্তু জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বৃষ্টি হলে সেখানকার পানি আটকে থাকে না। সরে যায়। এ কারণে চিকুনগুনিয়া যে মশার দ্বারা ছড়ায় সেই মশা বংশবিস্তার করতে পারে না। ফলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই।

চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হেল্পডেস্ক খোলা হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে। পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধির ব্যথা প্রশমনে প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনে জয়েন্টপেইন ক্লিনিক বা আর্থালজিয়া ক্লিনিক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি বা ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হবে। দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালেও এই সেবা দেওয়া হবে। রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ নির্দেশনা পৌঁছে দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার ডেঙ্গু জ্বরের তেমন বিস্তার না ঘটলেও চিকুনগুনিয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এডিস মশা নিধন জরুরি। কিন্তু মশা নিধন করতে পারছে না সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। চিকুনগুনিয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকটা উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে গত ১ থেকে ৫ জুন মহানগরীর ৪৭টি ওয়ার্ডে একটি জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জরিপে রাজধানীর ২৩টি অঞ্চলকে চিকুনগুনিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পরই চিকুনগুনিয়ার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করতে ১৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে রাজধানীর ৭১টি মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ ১২ হাজার কর্মী। ২৫০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯২টি ওয়ার্ডের ৭৫০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়দের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, এডিস মশা ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার বাহক। ডেঙ্গুজ্বরের সঙ্গে চিকুনগুনিয়ার অনেক পার্থক্য রয়েছে। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের সাধারণত দীর্ঘ সময় শরীর ব্যথা বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে না। জ্বর ভালো হয়ে গেলে কয়েকদিন দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকতে পারে। কিন্তু চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের জ্বর সেরে গেলেও ব্যথা থাকতে পারে দীর্ঘ সময়। আক্রান্তদের অনেকেই দীর্ঘদিনের জন্য স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, অন্য ভাইরাস জ্বরের মতো চিকুনগুনিয়ার নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। কেউ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীকে বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি প্রচুর পানিসহ অন্য তরল খেতে হবে। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতরে রাখতে হবে।

এদিকে চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার (চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খোলা হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে। সার্বক্ষণিক হটলাইনও চালু করা হয়েছে, যার ফোন নম্বর হচ্ছে ০১৯৩৭-১১০০১১ এবং ০১৯৩৭-০০০০১১। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লিংক ভিজিট করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঝুঁকি এখন ডেঙ্গুর, প্রকোপ কমেছে চিকুনগুনিয়ার 

8722

ঢাকা: রাজধানীতে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কিছুটা কমেছে। তবে আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। দুটি রোগেরই জীবাণু ছড়ায় এডিস মশা। মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও পরিবারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এ কথা বলেন। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চিকুনগুনিয়া বিষয়ে সরকার সচেতন ও সতর্ক। ইতিমধ্যে মানুষকে সচেতন করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে জনসচেতনতা বাড়াতে দুটি বড় কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, জঙ্গির মতো মশা দমনও সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকুনগুনিয়া বা ডেঙ্গু রোগের জন্য দায়ী মশা নিধনের দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ওপর বর্তায়। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সর্বতভাবে কাজ করে যাচ্ছে যাতে এ ধরনের রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিত্সা ও কর্মীদের চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা সেবা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না বলে সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি ছিল না। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে অনুমান করা যায় যে, চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কমে আসছে। আশা করা যায় আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঠিক তথ্য ও জনসচেতনতা জরুরি। নর্দমা বা রাস্তার পানি নোংরা বলে তাতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে না। পরিত্যক্ত কৌটা, ড্রাম, পাত্র, ফুলের টবে জমা পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে। সে জন্য বাসায় বা বাসার আশপাশে যেন পানি না জমে সে ব্যাপারে ব্যক্তি ও পরিবারকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডিরেক্টর অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, জরিপে দেখা গেছে পুরো ঢাকা শহর এডিস মশার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি চিকিত্সক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকুনগুনিয়ার চিকিত্সা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব জানার জন্য মুঠোফোনভিত্তিক জরিপ করছে আইইডিসিআর। ৪ হাজার ৭৭৫ জন সম্ভাব্য রোগীর তথ্য নিয়ে ৩৫৭ জনের চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকায় চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব কমার আভাস পাওয়া গেছে।

সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (স্বাস্থ্যসেবা) সিরাজুল হক খান, অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের, হাবিবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বাজারে আসছে ভ্যাকসিন 

55

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। রক্তে কোরেস্টরেলের মাত্রা কমানোর জন্য কিংবা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। তবে ভবিষ্যতে হয়তো প্রতিদিন ওষুধ সেবন করত হবে না।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন যেটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে। ইতিমধ্যে ইঁদুরের ওপর এর সফল প্রয়োগ হয়েছে। এখন মানুষের ওপর এর গবেষণা চালানো হচ্ছে। এ জন্য ৭২ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এ টিকা প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে এটি সত্যিই কাজ করছে কিনা।

এটি সফল হলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ‌ওষুধ সেবন করতে হবে না। টিকা দিলেই কোলেস্টরেল কমে আসবে এবং সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে। তবে মানবদেহের জন্য এ টিকা কতটা নিরাপদ ও  কার্যকরী হবে- সেটি দেখতে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ছয় বছরের মধ্যে এ টিকা হয়তো বাজারে আসতে পারে।

কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি বাজারে আসলেও ব্যায়াম পরিহার করা এবং অধিকমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। এ টিকা নিলেও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে। এ টিকা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল তৈরি হওয়া ঠেকাবে। গবেষকদদের ধারণা, প্রতিবছর একবার এ টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ইঁদুরের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, এটি একবার প্রয়োগ করার ফলে ১২ মাসে খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমেছে। কোলেস্টরেল হচ্ছে চর্বির একটি উপাদান। মানবদেহের জন্য এটি প্রয়োজন। কিন্তু এলডিএল কোলেস্টরেল বেশি থাকলে সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কোরেস্টরেল কমানোর জন্য বাজারে ওষুধ থাকলে অনেকে সেটি নিয়ম করে সেবন করতে পারেন না। তাছাড়া সবার ক্ষেত্রে সে ওষুধ সমানভাবে কাজ করে না। সেজন্য গবেষকরা আরেকটি বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন। সেজন্য এ ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারের চেষ্টায় নেমেছিলেন তারা। কিন্তু এ টিকার একটি নেতিবাচক দিক থাকতে পারে। এর ফলে বেড়ে যেতে পারে ডায়াবেটিসের মাত্রা। -বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাবধান! বাড়ছে চিকুনগুনিয়া 

1360

অনলাইন ডেস্ক : ইদানীং প্রায় সবার জ্বরের লক্ষণ একই রকম গা কাপিয়ে জ্বর, জয়েন্টে ব্যাথা, র‍্যাস এবং শরীর চুলকানো। এমন রোগী এখন ঘরে ঘরে। প্রথমে অনেকেই এটাকে বাতাসবাহিত ভাইরাস জ্বর মনে করলেও, এখন বুঝতে বাকি নেই কারও যে এটি চিকুনগুনিয়া। এডিস মশার মাধ্যমে এই জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আকারে।

‘চিকুনগুনিয়া’ আফ্রিকান শব্দ, এর অর্থ ধনুর মতো বাঁকা হয়ে যাওয়া। জ্বরে হাড়ের জয়েন্টগুলি ফুলে যাওয়ার জন্য এই নামকরণ। ১৯৫২ সালে আফ্রিকার মেকন্দ, মোজাম্বিক ও তানজানিয়া এলাকায় এই রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫৫ সালে মেরিয়ন রবিনসন নামে এক চিকিৎসক প্রথম এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। ধীরে ধীরে জানা যায়, এই রোগ শুধু আফ্রিকায় নয়, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে।

লক্ষণ

সাধারণত চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত মশা কামড় দেয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।
জ্বর ১০১ থেকে ১০৪ পর্যন্ত ওঠে।
জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যাথা থাকে। স্বাভাবিক হাঁটাচলা ব্যাহত হয়।
এছাড়াও বমি, মাথা ব্যাথা, মাংসপেশি ব্যাথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
ত্বকে র‍্যাস হতে পারে। র‍্যাস হলে ত্বক চুলকায়।
সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বর ও ব্যাথা ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো রোগীর
ক্ষেত্রে ব্যাথা এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

rash
চিকিৎসা

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ ডেঙ্গু এবং জিকার মতই। তাই চিকিৎসায় অবহেলা করা উচিত নয়।
প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
প্রচুর পানি, ফলের রস, সরবত খেতে হবে। নাহলে শরীরে পানিশূন্য হয়ে যাবে।
অ্যাসপিরিন, নন-স্টেরয়েডাল কিংবা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ, যদি ডেঙ্গু হয়ে থাকে তাহলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

joint-pain
ঝুঁকি

সাধারণত চিকুনগুনিয়া জ্বরে রোগীর মৃত্যু হয় না। তবে নবজাতক এবং বৃদ্ধদের জন্য এই জ্বর খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বর তিনদিনের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। একবার চিকুনগুনিয়া জ্বর হয়ে গেলে সারা জীবনে আর চিকুনগুনিয়া জ্বর হয় না।

প্রতিরোধ

চিকুনগুনিয়া কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি এখনো।
জ্বর হলে এক সপ্তাহ সাবধানে থাকতে হবে যেন মশা না কামড়ায়। কারণ, মশা কামড় দিলে মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া অন্যদের দেহে ছড়াবে।
এডিস মশা নির্মূলে ফুলের টব কিংবা অন্য কোথাও পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।
দিনের বেলা মশার কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এইডস-যক্ষ্মা-ম্যালেরিয়া নির্মূলে সহায়তা দিতে ডব্লিউএইচও’র আশ্বাস 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে এইচআইভি/এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নির্মূলে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেইন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তৃণমূল জনগণের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন একটি সফল কর্মসূচি। আমি যেখানে যাই উদাহরণ হিসেবে এ কর্মসূচির কথা বলি।

ডা. পুনম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে অন্যান্য দেশকে এ কর্মসূচি চালুর উৎসাহ দিচ্ছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, আগামী মাসে ভুটানে অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল এ সম্মেলনের আয়োজন করবে বাংলাদেশ, ভুটান ও ডব্লিউএইচও।

ডা. পুনম অটিজম বিষয়ে ভূমিকার জন্য বাংলাদেশে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল অব অটিজমের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেইনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সায়মা ওয়াজেদের কারণে বিশ্ব সংস্থার কর্মসূচিতে অটিজম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাসস্থানসহ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে তার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হয় তা তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে শিখেছেন এবং গোটা দেশ সফর করে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সব অভিজ্ঞতা প্রয়োগ এবং দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তার সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আবারও চালু করে। বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৩৭টি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে।

দেশে আরও চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার জন্য চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। পল্লী জনগণের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টেলি-মেডিসিন ও মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী 

2

স্বাস্থ্য ডেস্ক : গ্রামের তুলনায় শহরে ক্রমশ বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। এক সময় যক্ষ্মা গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের রোগ বলে মনে করা হলেও পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে।

বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরের সব শ্রেণির পরিবারের সদস্যরা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. শায়লা বেগম।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ  কথা বলেন। শুক্রবার (২৪ মার্চ) বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হবে।

গত বছর দেশে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার নির্ণয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরে যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলেও শহরে নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি এ রোগের সুচিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামের সবাই কম বেশি সচেতন।

ডা.শায়লা জানান, শহরে হাজার হাজার যক্ষ্মা রোগী এখনও শনাক্ত না হওয়ায় ওই নিখোঁজ লোকদের মাধ্যমে সংক্রামক এ রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগীদের খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এমডিআর (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স) রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

শহরে যক্ষ্মা রোগী কম শনাক্ত হচ্ছে কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজেজ কন্ট্রোল (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিভি/লেপ্রোসি ডা. রুসেলি হক জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর মাধ্যমে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তাদের প্রশিক্ষিত জনবল তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রচার প্রচারণা কম।

তিনি বলেন, সরকার বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা দেয়ায় ধনীদের মধ্যে এ চিকিৎসায় আগ্রহ কম বলে জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেশে নতুন যক্ষ্মা রোগীর হার বছরে প্রতি লাখে ২২৫ জন। বছরে প্রতি লাখে মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। নতুন যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স (এমডিআর) টিবিতে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ। পূর্বে চিকিৎসাকৃত রোগীদের মধ্যে এমডিআর টিবির শতকরা হার ২৯ ভাগ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিএসএমএমইউতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা 

0000

স্বাস্থ্য ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও রক্তদানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৭ মার্চ সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ উপলক্ষে যাত্রা, সকাল ৮টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন এবং বাদজুমা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কনসালট্যান্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে বিনামূল্যে রোগী দেখবেন।

ইতোমধ্যে জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচিসমূহ সফল করার জন্য বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অটিজম চিকিৎসায় ইনডোর সেবা চালু 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার’র জন্য মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আট শয্যার ‘ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা)’র ইনডোর চিকিৎসা চালু হয়েছে।

এদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-ব্লকের তৃতীয় তলায় ইপনা’র উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, ইপনা’র প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আকতার, শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, শিশু কিডনী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, শিশু কিডনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম মাঈনুদ্দিন প্রমুখ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ এবং তার সুযোগ্য কন্যা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা হোসেন ওয়াজেদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল ইপনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অটিজম এবং অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশু রোগী ও তাদের পরিবারের সেবায় সর্বদা পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এই সেবার পরিধি বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ইপনা’র নিজস্ব ইনডোর সেবা চালু করা ছিল সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগী ও তাদের পরিবারসমূহ প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইপনা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সুযোগ্য কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ইপনার নিজস্ব ভবনে ইনডোর সার্ভিসের বেড সংখ্যা ৩০-এ উন্নীত করার কথা উল্লেখ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশে বিষণ্নতায় ভুগছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ 

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ১ শতাংশ বিষণ্নতায় ভুগছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এছাড়া উদ্বেগসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

‘ডিপ্রেশন অ্যান্ড আদার কমন মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স : গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন এ তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মোট ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৭৬০ জন বিষণ্নতায় ভুগছেন। এছাড়া ৬৯ লাখ ২১২ জন ভুগছেন উদ্বেগ সংক্রান্ত সমস্যায়।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, গোটা বিশ্বে যত মানুষের বাস ২০১৫ সালে তার ৪ শতাংশেরও বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগেছে। গত ১০ বছরে এ হার ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানসিক ও শারিরীক প্রতিবন্ধকার জন্য বিষণ্নতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সমস্যার জন্য উদ্বেগকে চিহ্নিত করা হয়েছে ষষ্ঠ কারণ হিসেবে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে ভুটানে বিষণ্নতায় ও উদ্বেগসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ, ভারতে ৪ দশমিক ৫ ও ৩ শতাংশ মানুষ, মিয়ানমারে ৩ দশমিক ৭ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ, শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে ৭ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর জন্য আত্মহত্যায় দ্বিতীয় কারণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বাস্থ্যখাতে ৪০ হাজার জনবল নিয়োগ শিগগিরই 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্বাস্থ্যখাতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য ৪০ হাজার পদে শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসাপাতালে তৃতীয় ও চতৃর্থ শ্রেণির এ পদগুলো শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নবনির্বাচিত কমিটি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ৬ হাজার চিকিৎসক ও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের সমাধান করেছে। কর্মচারী পর্যায়ের শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ১১ হাজার ১৯৫টি শয্যার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক মঞ্জুরি প্রদান করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দেশের বেশ কিছু হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ালেও দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি শয্যাগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ ছিল না। ফলে পূর্বের শয্যা সংখ্যার বাজেট দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের সময়ে এ বরাদ্দের ফলে দেশের দরিদ্র রোগীরাই বেশি উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার যাত্রাপথে দেশের স্বাস্থ্যখাতে গত আট বছরে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে উল্লেখখ করে এই অর্জনকে আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য বিএমএ এর নতুন কমিটির প্রতি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তারা।

বিএমএ নেতারা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিএমএ।  পাশাপাশি অবৈধ হাসপাতাল, ভুয়া চিকিৎসক ও মানহীন মেডিকেল কলেজ এবং ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচালিত অভিযানকেও সহায়তা করবে বিএমএ।

স্বাস্থ্য সচিব সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএমএ’র নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গবেষণা মঞ্জুরি পেলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ২৩২ শিক্ষার্থী 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মেডিকেল শিক্ষাবিষয়ক উচ্চতর গবেষণার জন্য ২৩২ জন ছাত্রছাত্রীকে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অফিসের উদ্যোগে মেডিসিন অনুষদে ১১০ জন, সার্জারি অনুষদের ৭৭ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ৩৭ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮ জন শিক্ষার্থীকে এ মঞ্জুরি প্রদান করা হয়।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গবেষণার প্রকারভেদে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার সকাল ১১টায় ‘এ’ ব্লকের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এএসএম জাকারিয়া স্বপন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে হাসিখুশি থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাসিক পারিতোষিক দ্বিগুণ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০০ বেডের হল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টেলিনরের ডিজিটাল টনিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সাড়া 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ৭০ বছরের বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছেলে, ছেলের বউ, নাতি ও নাতনির সঙ্গে বসবাস করেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তাকে একটু অসুস্থ দেখলেই পরিবারের সবাই উদ্বিগ্নও হয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হাসিনা বেগম সে সময় সবাইকে অভয় দিয়ে বলেন, তার বয়স হয়েছে, অসুস্থতা এ বয়সে নিত্যসঙ্গী। সুতরাং কথায় কথায় চিকিৎসকের কাছে দৌড়ানো ঠিক হবে না।

হাসিনা বেগম সম্প্রতি গভীর রাতে অসুস্থবোধ করলে সবাই তার রুমে ছুটে আসেন। এ সময় তার নাতনি দাদির শারীরিক অবস্থা ভালো নয় আঁচ করতে পেরে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে স্বাস্থসেবার পরামর্শ চান। চিকিৎসকে উপসর্গ শুনে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা হাসিনা বেগমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, আর কিছুক্ষণ দেরি করলে তাকে হয়তো বাঁচানোই যেত না।

এটি কোনো গল্প বা নাটকের স্ক্রিপ্ট নয়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে মোবাইল ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ পেয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার এ অভিজ্ঞতার কথা জানান টেলিনর হেলথ ও গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সাজিদ রহমান।

তিনি বুধবার গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশে টেলিনরের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা  সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে  মতবিনিময়ের আয়োজন করেন। সাজিদ রহমান জানান, ২০১৫ সালের জুন মাস  থেকে টেলিনর কোম্পানি গ্রামীণফোন মোবাইল কোম্পানির  মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে  ‘টনিক’স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম চালু করে।

তিনি জানান, গ্রামীণ ফোন কোম্পানির গ্রাহকরা *৭৮৯# ডায়াল করে  টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিবন্ধন  করার মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও নামমাত্র খরচে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডাক্তারদের কাছ  থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন।

এছাড়া  হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার  ওপর শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন ও তিনদিনের বেশি ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিলে গ্রাহকরা ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা পাচ্ছেন। শুধু তাই না, টনিক স্বাস্থ্যসেবার অ্যাপস্, ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষুদে বার্তা ও ডাক্তারদের রোগব্যাধি  সম্পর্কে  প্রশ্ন করে উত্তর পাচ্ছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা আগে কেউ প্রদান করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ডিজিটাল পদ্ধতির এ টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাচ্ছে। মাত্র ছয় মাসে (জুন-ডিসেম্বর) টনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ২০ লাখ গ্রামীণফোনের গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন।

টেলিনর হেলথের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা.ফ্রেড হারস্চ (fred hersch) জানান, নিবন্ধনকৃত গ্রাহকরা স্বাস্থ্যসেবায় চার ধরনের ( টনিক জীবন, টনিক ডাক্তার, টনিক ডিসকাউন্ট ও টনিক ক্যাশ) সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কোন গ্রাহক নিবন্ধন করলে ক্ষুদেবার্তা, ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে বিনামূল্যে কিভাবে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা যায় সে সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত পাবেন।

তিনি জানান, প্রতি মিনিট ৫ টাকা খরচে গ্রাহকরা ডাক্তারের কাছ থেকে রোগব্যাধি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক পরামর্শ পাচ্ছেন। পালাক্রমে দিনরাত ২৪ ঘন্টা গ্রাহকদের পরামর্শ দিতে  ৩০ জন এমবিবিএস  চিকিৎসকদের একটি টিম রয়েছে। সারাদেশে ২শ’হাসপাতালে বেড ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় শতকরা ৫০ ভাগ ছাড় রয়েছে।এছাড়া তিনদিন বা তারও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিলে ১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে।গত ছয় মাসে ১৬ হাজারের বেশি গ্রাহক বিভিন্ন হাসপাতালে ডিসকাউন্টে পরীক্ষা নিরীক্ষা, ১লাখের বেশি গ্রাহক টেলিফোনে ডাক্তারের পরামর্শ, ১৪ লাখ গ্রাহক ফেসবুকে ও আড়াই লাখের  বেশি গ্রাহক ওয়েবসাইটে সংযুক্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

চিফ কর্মাশিয়াল ম্যানেজার ম্যাথিউ গুইলফোর্ড (Matthwe Guilford )  জানান, টেলিনরের এ স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগী হিসেবে  গ্রামীণফোন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, মাইক্রোএনশিওর, প্রগতি লাইফ ইনসুরেন্স ও সারাদেশের দুই শতাধিক হাসপাতাল, ফার্মেসি ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সংযুক্ত হয়েছে।

এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা চালুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে  টেলিনর হেলথের সিইও সাজিদ রহমান বলেন, দেশে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। দেশের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো এসব রোগী সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এ ছাড়া সংক্রামক ব্যাধিতেও হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে সীমিত খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যেই তাদের এ উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতায় ঝাড়ু হাতে ভিসি 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : রোগী ও তাদের স্বজনদের সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। গায়ে সাদা টি-শার্ট, মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপ, হাতে ও মুখে গ্লাবস লাগিয়ে ঝাড়ু হাতে ক্যাম্পাসে পড়ে থাকা গাছের পাতা ও ধুলোবালি বেলচায় তুলে রাখছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্যরাও একই পোশাক গায়ে চাপিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় নেমে পড়লেন।

দৃশটি রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রাঙ্গণের। ‘আমাদের ক্যাম্পাস আমরাই পরিস্কার রাখব’ শ্লোগানে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান কিক্ষুক্ষণের জন্য ঝাড়ুদার বনে যান। তার দেখাদেখি প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের জন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহে দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছনতা কার্যক্রম ছাড়াও সপ্তাহে ১ দিন নিজ নিজ অফিসে বিশেষ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের এ ধরণের কার্যক্রম আরও জরুরি। কারণ হাসপাতালের পরিবেশ যত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে রোগ জীবাণু তত কম ছড়াবে এবং সংক্রমণের হার তত কম থাকবে। এখন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস, বিভাগ ও ওয়ার্ডে প্রতি মাসে অত্যন্ত একবার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে মানদণ্ডের প্রশ্নটিও জড়িত। বাড়িতে আমরা যেভাবে নিজেরাই নিজেদের বাসা-বাড়ি পরিস্কার রাখি এখানেও সেটা করা দরকার। এখন থেকে আমাদের নিজ নিজ অফিস, বিভাগ ও ওয়ার্ড সমূহ নিজেরাই একইভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো।

ডি ব্লকের সামনে এ মহতী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আলী আসগর মোড়ল, মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন প্রমুখসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা, নার্স, কমচারী, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর