২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৫, সোমবার

ভৈরবে ১৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

ভৈরবে ১৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ 

2222

কিশোরগঞ্জ, ২৮ মে : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৫ কেজি গাঁজা ও একটি মাইক্রোবাসসহ দু’জনকে আটক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই।

রবিবার সকালে ভৈরবের দুর্জয় মোড় এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

তারা হলেন মাইক্রোবাসের চালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয় নগরের শাহীন মিয়া ও তার সঙ্গী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আজমপুরের মনি বেগম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনএসআইয়ের একটি দল ভৈরবের দুর্জয় মোড় এলাকায় পুলিশের সহায়তায় মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৭৮৪৩) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে মাইক্রোবাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক শাহীন মিয়া ও তার সঙ্গী মনি বেগমকে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাদকসহ আটক চোরাকারবারি পায়রা 

85

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক, ২৭ মে : পিঠে ব্যাকপ্যাকে মাদকসহ আটক হলো চোরাকারবারি পায়রা। কুয়েতের ঘটনা। চোরাকারবারিদের কৌশলে তাজ্জব হয়ে গেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। মাদক চোরাচালান রোধে তারা এখন নতুন কৌশল খুঁজছেন।

কুয়েতের কাস্টমস অফিসের ছাদে এসে বসেছিল পায়রাটা। পোড় খাওয়া শুল্ক কর্মকর্তা তখন কিঞ্চিত হাল্কা মেজাজে জানলা দিয়ে ছাদের দিকে চেয়ে। হঠাৎ চোখে পড়ে পায়রাটি। না পায়রা তো কতই দেখা যায়, অফিসার অবাক হন পায়রার পিঠটি দেখে। চেয়ার ছেড়ে উঠে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতেই নজরে আসে একটা ‘ব্যাকপ্যাক’। তারপরই আটক করা হয় ওই সন্দেহজনক শান্তির দূতটিকে। কিন্তু কী ছিল ওই থলীতে?

ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের! দেখা যায় ব্যাগ ভর্তি মাদক। কুয়েতের শুল্ক আধিকারিক ও গোয়েন্দাদের অনুমান, পায়রাটিকে পাঠানো হয়েছে ইরাক থেকে। নিরীহ প্রাণিটি বুঝতেই পারেনি তার মতো শান্তির দূতকে কতটা অশান্তির কাজে ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পায়রাটিকে আটক রাখা হয়েছে।

তবে অনেকের ধারণা, পায়রাটি মাদকের চালানটি ধরিয়ে দিতেই কাস্টমস অফিসের ছাদে এসে বসে। তা না হলে শহরে তো ছাদের অভাব ছিল না। এছাড়া পায়রাটি উড়েও যেতে পারতো। এত সহজে তো তার ধরা দেওয়ার কথা না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাগুরায় ঘুষ দিতে এসে টাকাসহ যুবক গ্রেপ্তার 

5578

মাগুরা, ২৬ মে : মাগুরায় ঘুষ দিতে গেলে ৫ লাখ টাকাসহ এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার জেলা প্রশাসনে কয়েকটি পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা রয়েছে। ওই পরীক্ষার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার কুরানিরচর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের কক্ষে ঢোকেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর এপিএস মিজানুর রহমান পরিচয় দিয়ে ০১৮৮২১২৬২৩৬ নম্বর থেকে একটি ফোন জেলা প্রশাসকের সরকারি মোবাইলে একটি কল আসে। ওই কল পেয়ে জেলা প্রশাসকের সন্দেহ হলে তিনি নিজের গানম্যান আকবর হোসেনকে ডেকে তৌহিদুর রহমানকে তল্লাশি করেন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পলিথিনের ব্যাগে নগদ ৫ লাখ টাকা ও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শিহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে নিয়োগ পরীক্ষার একটি প্রবেশপত্র ও তিনটি মোবাইল সেট পাওয়া যায়।

পরে পুলিশকে খবর দিলে রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, ‘এ ঘটনায় তার (তৌহিদুর রহমান) বিরুদ্ধে রাতেই ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে কোটি টাকার সাপের বিষ জব্দ, আটক ৫ 

sss

ঢাকা, ২৫ মে : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ সদৃশ বস্তু ও একটি অস্ত্রসহ ৫ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-১০। আটক ব্যক্তিদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

র‌্যাব -১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, সাপের বিষ সদৃশ বস্তুর চারটি কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা এগুলোকে সাপের বিষ বলেই দাবি করেছেন। সে অনুযায়ী এগুলোর বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এগুলো আসলেই সাপের বিষ কী-না, তা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাহজালালে পরচুলা থেকে দেড় কেজি স্বর্ণ জব্দ 

63

ঢাকা, ২৪ মে : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মো. আমিনুল হক নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৩টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে স্বর্ণসহ তাকে আটক করা হয়।

বুধবার সকালে বিমানবন্দর কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার এ এইচ এম আহনাসুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে মালিন্দ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে ঢাকায় আসেন আমিনুল। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি সোনা বহনের কথা অস্বীকার করেন। দেহ তল্লাশি করেও কোনো সোনা পাওয়া যায়নি। পরে আর্চওয়েতে নিয়ে গেলে তার সঙ্গে ধাতব বস্তু বহনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। আরও তল্লাশিতে দেখা যায়, তিনি পরচুলা পরে আছেন। আর সেখানে করে অভিনব পন্থায় সোনা পাচার করছিলেন।

কাস্টম কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার করা সোনার ওজন দেড় কেজি। এগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। আমিনুল হকের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে, বয়স ৪৫। আমিনুলকে আটকের পর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাদারীপুরে ইয়াবাসহ দু’জন গ্রেফতার 

363

মাদারীপুর, ২৩ মে : মাদারীপুর সদর উপজেলার ভদ্রখোলা গ্রামে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, সোমবার রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার ভদ্রখোলা গ্রামে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ শহিদুল ইসলাম ও রুমান নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শহিদুল ওই এলাকার একটি বসতঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। দু’জনের বিরুদ্ধেই মাদক মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ 

32365

ঢাকা, ২২ মে : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরীচ্যুত শিক্ষক মো. মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেয়। আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি এটর্নি জেনারেল খন্দকার দিলীরুজ্জামান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধ এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ১০ ধারায় যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে রাজধানীর কলাবাগান থাকায় একটি মামলা করেন। পরে এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আজ আপিল বিভাগে শুনানির কার্যতালিকার ৯ নং ক্রমিকে ছিলো। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত মো. মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে আবেদনটি নিষ্পত্তি (ডিসপোজড্ অফ) করে আপিল বিভাগ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ডিবি পরিচয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা 

01

ঢাকা, ২১ মে : পুলিশের সোর্সের মতো সোর্স। রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। সেই বাহিনীতে রয়েছে ডিবির ডিসি, এডিসি, এসি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সব পদমর্যাদার সদস্য। আছে অস্ত্র, ওয়াকিটকি, ডিবি জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফসহ নিজস্ব গাড়ি। এ এক ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে জিম্মি করে তারা। পরে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থসহ মালামাল।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান। এ সময় বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর ছবি যারা প্রকাশ করেছে এবং প্রকাশ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা ভুয়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা খোলাবাজার ও অন্যদের মাধ্যমে ডিবির ব্যবহƒত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ছিনতাই এবং ডাকাতি করে আসছিল। তিনি বলেন, যেসব দোকানে এসব সরঞ্জাম বিক্রি হয় সেসব স্থানে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। তা আরও বাড়ানো হবে। যারা প্রকৃত ডিবি পুলিশ তারা আইনানুগভাবেই অভিযান চালায়, এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর ছবি যারা প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আব্দুল বাতেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সাইবার ক্রাইম বিভাগকে অবহিত করা হবে। অন্যতম অভিযুক্ত নাঈমের রিমান্ড চলছে। সাফাত ও সাকিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, সামনে রোজা ও ঈদ আসছে। এ সময়টাতে প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়ে। তাই বেশি পরিমাণ টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবায় পুলিশের মানি স্কট টিম সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। কাফরুলের ডিবি পুলিশের একটি অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত চক্রের ১৬ সদস্য হলেন- জুয়েল রানা, ইয়াসিন, বাদল, মোমেন আলী, শহিদুল ইসলাম, ফিরোজ, সৈয়দ মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, সবুজ, লিটন খান, বাবলু মিয়া ওরফে আকাশ, মনির হোসেন-১, ছাইদুর রহমান, মনির হোসেন-২, মাহমুদুল হাসান ওরফে মুন্না ও আফজাল হোসেন ওরফে শাহীন। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি খেলনা পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি, চারটি ছুরি, দুটি ওয়াকিটকি, তিনটি ডিবির জ্যাকেট, দুটি হ্যান্ডকাফ, দুটি বেতের লাঠি, একটি ব্যাগ, দুটি ডিবির স্টিকার, দুটি কার ও দুটি মাইক্রোবাস, ১৭টি অব্যবহৃত প্রিপেইড মোবাইল সিম, সাতটি মোবাইল সেট, একটি আর্মির জ্যাকেট, স্টিলের স্টিক, এক জোড়া বুট, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি কার্ডরিডার, স্টিলের নেমপ্লে­ট এবং পুলিশের মনোগ্রাম সংবলিত একটি খালি আইডি কার্ডের কভার উদ্ধার করা হয়। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানী ১৬ ভুয়া ডিবি সদস্য আটক 

25

ঢাকা, ২০ মে : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ জন ভুয়া ডিবি’র সদস্য আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৯ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডিবি’র সদস্যদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি গাড়ি, পিস্তল, গুলি, ওয়ারলেস, ছুরি, ডিবির জ্যাকেট জব্দ করা হয়।

আজ সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান মাসুদুর রহমান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস 

25461

ঢাকা, ১৯ মে : অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কথিত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র মিলিয়ে অভিযোগের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যাবে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে বাছাইপর্বের নিয়োগ পরীক্ষা। সকাল ও বিকেল—দুই ভাগের এই পরীক্ষায় ২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকেই অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, তারা হাতে লেখা ও ছাপা প্রশ্নপত্র দেখেছেন। আবার শুধু উত্তরও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে এই প্রশ্নপত্র ও উত্তর বিনিময় করেছেন।

তবে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কথিত ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কতটুকু মিল আছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কথিত প্রশ্নপত্র মিলিয়ে অভিযোগের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা যাবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১৩ মণ সোনার কাগজ নেই আপন জুয়েলার্সের 

577

ঢাকা, ১৮ মে : আপন জুয়েলার্সের কর্ণধাররা জব্দকৃত সাড়ে ১৩ মণ সোনা এবং ৪২৭ গ্রাম হীরার বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর গত কয়েকদিনে দুদফায় অভিযান চালিয়ে বনানী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামির পরিবারের মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। সেগুলো থেকে অবৈধ সন্দেহে এসব অবৈধ সোনা এবং হীরা উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা।

বৈধ কাগজ দেখানো এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালিকপক্ষকে তলব করা হয়েছিল বুধবার।

বনানী দুজন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ এবং তার দুই ভাই আপন জুয়েলার্সের মালিক। তারা তিন ভাই তলবের কারণে বুধবার শুল্ক অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন।

তাদের বেশ কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ড: মইনুল খান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদের অভিযানে উদ্ধার করা আড়াইশ কোটি টাকা মূল্যের ৪৯৮ কেজি সোনা এবং ৪২৭ গ্রাম হীরার ব্যাপারে মালিকপক্ষ কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি।

এরপরও আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই মালিকদের বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য ২৩ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।

সেদিন তারা বৈধতার প্রমাণ দিতে পারলে আটক সোনা ছাড়া পাবে। তা নাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বৈধ কাগজ না থাকলে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে এবং শুল্ক আইনে মামলা হতে পারে বলেও বলা হয়েছে।

একইসাথে শুল্ক অধিদপ্তর বলেছে, সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে খুব বেশি হলে ১০ কেজির মতো স্বর্ণ কিছু গ্রাহকের হতে পারে- এটা মালিকরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে। ফলে গ্রাহকদের স্বর্ণ বাছাই করে তা ফেরৎ দেয়ার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

তবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর বেরিয়ে এসেই সাংবাদিকদের মুখে পড়েন দিলদার আহমেদসহ আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক।

সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলদার আহমেদ দাবি করেছেন, তিনি বৈধভাবে ব্যবসা করেন। তার মতোই একইভাবে সারা দেশে অন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করেন। তিনি প্রশ্ন করেন — শুধু তার দোকান কেন বন্ধ করা হলো? সারা দেশের সব দোকান বন্ধ করা উচিত।

তবে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ড. মইনুল খান বলেছেন, তাদের কাছে আপন জুয়েলার্সের অবৈধ মজুদের ব্যাপারে আগে তথ্য ছিল।

এছাড়া বনানীর ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে পাচার করা স্বর্ণ দিয়ে ব্যবসার করার অভিযোগ এসেছে। ফলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে তারপর শুল্ক গোয়েন্দারা আপন জুয়েলার্সের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ড. মইনুল খান আরও বলেছেন, স্বর্ণের অন্য ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। স্বর্ণ আমদানির ব্যাপারে জটিলতা দুর করার জন্য তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন।

তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত পাচার হয়ে আসা স্বর্ণ যা ধরা পড়েছে, সেগুলো দ্রুত নিলামে দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া স্বর্ণ আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। তাতে অনেক সময় লাগে এবং জটিলতা আছে বলে ব্যবসায়ীরা বলেছে। এই জটিলতা দুর করার জন্য শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৫০০ কার্টুন সিগারেটসহ ভারতীয় নাগরিক আটক 

24

ঢাকা, ১৭ মে : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ৫০০ কার্টুন সিগারেটসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তর। মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে কাস্টমস হল থেকে তার লাগেজ তল্লাশি করে এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয় ।

আটক ভারতীয় নাগরিকের নাম আব্দুর রহিম (৪০)। ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা তিনি।

শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, আব্দুর রহিম ব্যাংক থেকে একটি ফ্লাইটে রাতে ঢাকায় পৌঁছান। পরে তার লাগেজ থেকে এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অবৈধ ক্লিনিকের ছড়াছড়ি ব্যবসা রমরমা 

24

ঢাকা, ১৬ মে : আগারগাঁও-শেরেবাংলানগর রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানেই গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা শিশু হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ আরও বেশকিছু হাসপাতাল। অথচ এসব সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা পাচ্ছে না সাধারণ রোগীরা। কারণ আশপাশে গড়ে উঠা নিম্নমান ও অনুমোদনহীন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিয়োগকৃত দালালরা রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করে। ফলে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোয় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা রোগীদের ভালো চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করছে। কিন্তু রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা তারা দিতে পারছে না। এতে একদিকে রোগীরা টাকা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এসব অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালালেও তাদের অসাধু কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী এসব সিন্ডিকেটের অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য চলছেই।

জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় চলে দালালচক্রের শোডাউন-পাল্ট শোডাউন। কখনো কখনো সরকারি হাসপাতালের রোগী নিয়ে দালালদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তবে কথিত বড় ভাইদের নির্দেশনায় আবার সবকিছুই এক সময় ঠিক হয়ে যায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে এসব হাসপাতাল ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসা বাণিজ্যের অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য। এসব হাসপাতালকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও অনেক রোগী চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন অথবা ভুল চিকিৎসায় জীবন দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কোনো ডাটাবেজ নেই। আমরা একটা ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

সূত্র জানায়, শেরেবাংলানগরের সরকারি হাসপাতালগুলোয় উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা, ডাক্তার ও দালালদের অলিখিত চুক্তিতে কোনো কোনো রোগের চিকিৎসাই মেলে না। এরপর দালাল আর কর্মকর্তাদের প্রবঞ্চনায় রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান দালাল আর পাড়ার মাস্তানদের গড়ে তোলা হাসপাতালে। একবার এসব হাসপাতালে গেলে আর রক্ষা নেই রোগীদের। নানা ছলে বলে কৌশলে কেবল আর্থিক ব্যয় বাড়ানো হয়। বিভিন্ন টেস্টের নামে ধরিয়ে দেওয়া হয় বড় অঙ্কের টাকার ঝামেলা। আর এসব চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসায় রোগীরা সর্বশান্ত হলেও বেশ উল্লেখযোগ্য কমিশন পান হাসপাতালের ডাক্তার আর কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও কথিত বড় ভাইয়েরাও পান কমিশন। ফলে দিনের পর দিন এই অবৈধ ব্যবসা চললেও নির্বিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শেরেবাংলানগর এলাকায় এক সময় ফুটপাতে ব্যবসা করতেন দুই সহোদর আবুল ও নুরনবী। এরপর হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে জড়িয়ে যান দালালিতে। আর তাতেই যেন আলাদিনের চেরাগ মিলে যায় দুই ভাইয়ের। রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন হাসপাতাল। বর্তমানে তাদের চারটি হাসপাতাল রয়েছে। মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতাল, বেবি কেয়ার হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও সেবা হাসপাতাল। কোনোটিই দেখতে হাসপাতালের মতো নয়। নোংরা আর ঘিঞ্জি পরিবেশ। নেই ডাক্তারও। অথচ এসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে অবৈধভাবে অর্থ কামিয়ে নিচ্ছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরনবী এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়েই ব্যবসা করেন বেসরকারি হাসপাতালগুলো। অন্য সবার ওপর দোষ চাপালেও তিনি এ কাজ করেন না বলে দাবি করেন।

এমন চিত্র যুবলীগ নেতা দাবি করা বাবুর ক্ষেত্রেও। তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন বাসের হেলপার। এরপর হেলপারি ছেড়ে পঙ্গু হাসপাতালের আশপাশে ফুটপাতে ব্যবসা করতেন। ভাগ্য খুলে যায় দালালির সূত্রে। আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তোলেন ছোটখাটো বাহিনী। নাম লেখান সরকারদলীয় যুব সংগঠন যুবলীগে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। গড়ে তুলেছেন ওয়েল কেয়ার নামের একটি হাসপাতাল।

অ্যাডভান্সড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অপর একটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে কোনো ডাক্তার নেই। তারপরও রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজ্জাক ওই হাসপাতালের মালিক। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বাবর রোড, নূরজাহান রোড ও খিলজি রোড ঘিরে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল বাণিজ্য। এখানেই রয়েছে মেডিল্যাব, প্রাইম, ভিক্টোরিয়া, শাহজালাল, ঢাকা জেনারেল, ইবাদ মেডিক্যাল কেয়ারসহ অর্ধশতাধিক হাসপাতাল। যেগুলোতে কোনো চিকিৎসকই পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, পঙ্গু হাসাপাতালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কমর্চারী কাজ করেন। তার দায়িত্ব অসহায় গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তিনি খুলে বসেছেন ব্যবসা। রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রিসহ টাকা ছাড়া কাজ করেন না মোল্লা নামে পরিচিত ওই কর্মচারী।

এ ছাড়া যুবলীগ নেতা মহব্বত পঙ্গু হাসপাতালের ক্যান্টিনটি ইজারা ছাড়াই ১৪ বছর ধরে চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক ও তার সহকারী রোগীদের কাছে মেডিক্যাল সরঞ্জাম বিক্রি করেন তিনি। কোনো রোগীকে ওষুধ কেনার প্রেসক্রিপশন নিয়ে বের হতে দেয় না দালাল চক্র। হাসপাতালের ভেতরেই তারা ওষুধ বিক্রি করছেন। হাসপাতালের দালালদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তারিক হাসান কাজলের বিরুদ্ধে।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখায়রুল আলম হিরকের পঙ্গু হাসপাতালের সামনেই রয়েছে আল-রাজি ফার্মেসি। বিভিন্ন সময় ওই ফার্মেসি থেকেই উদ্ধার করা হয় সরকারি ওষুধ। মূলত হিরকের প্রধান ব্যবসাই দালালি ও ওষুধ চোরাচালান। এ ছাড়া পঙ্গু হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নজরুল এসব অবৈধ কাজে হাসপাতালের অভ্যন্তর থেকে সহযোগিতা করেন। আর এসবের নিয়ন্ত্রক ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শওকত, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাইসুল ইসলাম শাকিল, শিশু-পঙ্গু ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার মোল্লা, শিশু-পঙ্গু হাসপাতালের দালাল সর্দার মজনু, হৃদরোগ ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দালাল সর্দার হাসিনা, বাবু, জাহিদ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইফতেখায়রুল আলম হিরক দাবি করেন, তিনি কোনো অবৈধ ব্যবসা করেন না। এসব তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। র‌্যাবের অভিযানে সরকারি ওষুধ নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গিয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় অলিখিত টেন্ডার নিয়ন্ত্রক আওয়ামী লীগ নেতা দাবিদার কাজী কবির। স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ টেন্ডার তার ইশারার বাইরে চলে না। ফলে নিজ ইচ্ছামতো পণ্য সরবরাহ করেন এসব হাসপাতালে। এতে সেবাবঞ্চিত হন রোগীরা। টেন্ডার বাণিজ্যের কারণে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সেবার মান তলানিতে যাচ্ছে।

অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, সাধারণ রোগীরা যাতে সঠিক সেবা পায় সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হচ্ছে। অভিযান চলমান থাকবে। সূত্র : আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রেইনট্রি হোটেলে অভিযান, ১০ বোতল মদ উদ্ধার 

458

ঢাকা, ১৪ মে : রাজধানীর বনানীতে ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল মদ উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

আজ রবিবার বেলা দেড়টার দিকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

রবিবার দুপুরে বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে অবস্থিত এই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক শফিউর রহমান ও বিভাগীয় কর্মকর্তা সিফাত-ই-মরিয়ম।

গোয়েন্দারা জানান, ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে অভিযান চলছে। হোটেলের একটি কক্ষে ১০ বোতল মদ পাওয়া গেছে। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এর আগে শনিবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ‘দ্য রেইনট্রি’তে অভিযান চালালেও কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।

গত ২৮ মার্চ ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার সিলেটে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক। পলাতক তিন আসামি হলেন- ইমেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাঈম আশরাফ, শাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আপন জুয়েলার্সের গুলশান শাখা সিলগালা 

20

ঢাকা, ১৪ মে : ‘ডার্টি মানি’র অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সের গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ারের পাঁচটি শাখায় অভিযান পরিচালনা করছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। এর মধ্যে গুলশান ২ নম্বরের সুবাস্তু টাওয়ারের শাখাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান চালাচ্ছেন তারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বনানীর একটি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের ‘ডার্টি মানি’র তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আজকের অভিযানে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ উৎস ও পরিশোধেযোগ্য শুল্ক কর সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্য তলব করেছে।

উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে দেশে কোনো বৈধ বাণিজ্যিক আমদানি না থাকায় প্রাথমিকভাবে শুল্ক গোয়েন্দার কাছে তাদের স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যবসায় ‘অস্বচ্ছতা’ প্রতীয়মান হয়েছে।

অভিযানে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ভ্যাটের কর্মকর্তারা ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) এর সদস্যরা রয়েছেন।-আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর