২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ৯:৫৫, সোমবার

পানামা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারি: ৫৩ বাংলাদেশির ব্যাপারে তদন্ত করছে দুদক

পানামা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারি: ৫৩ বাংলাদেশির ব্যাপারে তদন্ত করছে দুদক 

3232

ঢাকা, ২০ নভেম্বর : পানামা ও প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ৫৩ বাংলাদেশির নামের তালিকা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। তাদের মধ্যে পানামা কেলেঙ্কারির ৪২ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে গত বছরের এপ্রিল থেকেই কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এখন প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত ২১ বাংলাদেশির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে দুদক।

এদিকে গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্যারাডাইস পেপারসখ্যাত গোপন নথিতে বাংলাদেশি যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।’

পানামা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৪২ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করে বিদেশে অফশোর কোম্পানি খুলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করার পর বিশ্বব্যাপী আলোড়ন দেখা দেয়। ওই সময় দুদক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে ৪২ বাংলাদেশির নাম সংগ্রহ করে। তাদের মধ্যে ৩২ জনের নাম এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে- যারা প্রভাবশালী রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ ক্ষমতাবান পেশাজীবী।

এবার আইসিআইজে প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করার পর ২১ বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ খবর এরই মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে দুদক। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে যাচাই-বাছাই কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে কি-না, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে সবেমাত্র তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো বিচার-বিশ্নেষণ করা হবে। পরে কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী, অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তের এখতিয়ার দুদকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ, এনবিআর ও সিআইডিরও রয়েছে। আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অভিযোগটি দুদক এককভাবে অনুসন্ধান করতে পারে। অথবা ওই সব সংস্থার কোনো একটিকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবেও তদন্ত হতে পারে।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য চেয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও ওই সব দেশ থেকে কোনো তথ্য বা উত্তর পাওয়া যায়নি।

এক বছর আট মাস ধরে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। পাশাপাশি তাদের সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ জন অভিযুক্তের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে নয়জন ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ছয়জনের কাছে পাঠানো চিঠি ফেরত এসেছে। তারা পানামা পেপারসে উল্লেখ করা ঠিকানায় অবস্থান করেন না।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গত বছরের প্রথম দিকে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর আইসল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে গত দুই বছরেও কোনো তদন্ত সংস্থা থেকে বাংলাদেশের ৪২ জনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দুদকের উপপরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম পানামা কেলেঙ্কারির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এ কার্যক্রম তদারক করছেন পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। টিমের আরও দুই সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাৎ।

সংসদেও আলোচনা : এদিকে, প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের টাকার হিসাব এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী। গতকাল জাতীয় সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

রুস্তম আলী বলেন, এর আগে পানামা পেপারসে অনেকের নাম এসেছিল। বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও তা হয়নি। এবার ২১ জনের নাম এসেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ অনেকের নাম এসেছে। তারা বারমুডায় বিনিয়োগ করেছেন কেন? কারণ, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে হলে কর দিতে হয়। তাদের উদ্দেশ্য কর ফাঁকি দেওয়া। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাহজালালে ১৩৮ কার্টন নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ 

277

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফকরুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৩৮ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। সিগারেটগুলো বেনসন অ্যান্ড হেজেস ব্র্যান্ডের।
রবিবার দুপুরে এই সিগারেট জব্দ করা হয়।

রবিবার রাতে এক বার্তায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহারপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, সকালে শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ওই যাত্রী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা ব্যাগেজ বেল্টসহ গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে। পরবর্তীতে স্ক্যানিং ফাঁকি দিয়ে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় তার ব্যাগেজ তল্লাশি করে সিগারেটগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ড. মইনুল খান বলেন, আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী সিগারেট প্যাকেটের গায়ে বাংলায় ধূমপানবিরোধী সতর্কীকরণ লেখা ব্যতীত বিদেশি সিগারেট আমদানি করা যায় না। সিগারেটের ওপর উচ্চ শুল্ক (প্রায় ৪৫০%) পরিহারের জন্যই এসব সিগারেট আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পণ্যের শুল্ককরসহ আটক পণ্যের মূল্য প্রায় আট লাখ ২৮ হাজার টাকা। এই সিগারেট জব্দের বিষয়ে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে ৯৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার 

325

ঢাকা : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া পানির পাম্পের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশী চালিয়ে ৯৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে ৬টি বস্তায় ৯৫ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সবুজ (২৫), মো. মিলন (২৮) ও মো. জাহিদ হাসান (২৪)।

ডিবি দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিন জানান, সন্ধ্যার দিকে কাঁচপুর সেতু দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স রাজধানীতে প্রবেশ করে। গোয়েন্দা পুলিশ থামার সংকেত দিলে অ্যাম্বুলেন্সটি সাইরেন বাজিয়ে দ্রুত চলে যায়। এরপর গোয়েন্দারা তাদের অনুসরণ করে। এক পর্যায়ে তাদের হারিয়ে ফেললেও অনুসন্ধান চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি মোহাম্মদপুর এলাকায় যাওয়ার কথা জানা যায়। পরে ওই এলাকার টিক্কাপাড়া পানির পাম্পের কাছে সেটি আটক করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাল সনদে চাকরি: মামলা হচ্ছে বিকেএসপির ৭ কোচের বিরুদ্ধে 

6366

ঢাকা, ৯ নভেম্বর : জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার কমিশন এসব মামলার অনুমোদন দিয়েছে। দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম সংশ্নিষ্ট থানায় মামলাগুলো দায়ের করবেন।

দুদক জানায়, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে বিএসসি পাসের জাল সনদ তৈরি ও ব্যবহার করে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন তারা। দুদকের অনুসন্ধানে সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

সাত আসামি হলেন—শুটিংয়ের প্রধান কোচ সৈয়দ আসবাব আলী, আরচ্যারি কোচ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ফুটবল কোচ মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন (রানা), জুডো কোচ মো. আবু বকর ছিদ্দিক, বপিং কোচ মো. আবু সুফিয়ান চিশতী, মো. জহির উদ্দিন ও জিমন্যাস্টিকস কোচ কাজী আকরাম আলী।

জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগটি গত বছর দুদক অনুসন্ধান শুরু করলে চার কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। বাকি তিনজন চাকরিতে বহাল আছেন।

এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন সৈয়দ আসবাব আলী, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মো. জহির উদ্দিন ও কাজী আকরাম আলী। চাকরিতে বহাল আছেন মোহাম্মদ মাকসুদুল আমিন (রানা), মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও মো. আবু সুফিয়ান চিশতী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দুর্নীতির দায়ে নাজমুল হুদার ৪ বছরের কারাদণ্ড 

022

ঢাকা, ৮ নভেম্বর : ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতির দায়ে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সাজা ৭ বছর থেকে ৩ বছর কমিয়ে ৪ বছর করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার স্ত্রী সিগমা হুদা ইতিমধ্যে যে পরিমাণ সাজা খেটেছেন, তাই শাস্তি হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারিক আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা কমিয়ে আজ বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এই রায় হাতে পাওয়ার দিন থেকে সাবেক এই মন্ত্রীর সাজা গণনা শুরু হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কৌশল পাল্টে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক দিয়ে আসছে ইয়াবা 

312

চট্টগ্রাম : বিভিন্ন মাদকদ্রব্যসহ ইয়াবা পাচার থেমে নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে। নিত্য-নতুন কৌশল পাল্টে ও অভিনব কায়দায় পাচারকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার করছে। প্রতিদিন এ সড়কের কোন না কোন অংশে ইয়াবার ছোট-বড় চালান পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। এ সড়কের লোহাগাড়া অংশে পুলিশের হাতে যারা ধরা পড়ছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ অভিনব কায়দায় পাচারকারী।

বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে ইয়াবার এতো বেশি চাহিদা যে, মিয়ানমারের উৎপাদিত ইয়াবা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রায় ৩৩টি সীমান্ত পথ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। সড়ক পথে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। তারপরও চোরাচালানকারীরা বিভিন্ন কৌশল ও রুট পরিবর্তন করে ইয়াবা পাচার করছে। সড়ক পথে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে। নীল, লাল রংসহ বিভিন্ন রং’র ছোট প্যাকেটে ২শ’টি ট্যাবলেট প্যাকেটজাত করে পাচার হচ্ছে ইয়াবা। স্থানভেদে প্রতি পিস ট্যাবলেটের দাম ১৮০-৫০০ টাকা। ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা এবং দেশের যুবসমাজ ও অভাবী নারী-পুরুষকে। পাচারকারীরা কখনো যাত্রীবেশে কখনো চালকের আসনে কখনো ভিক্ষুক-প্রতিবন্ধী, কখনো ভিআইপি গাড়ি করে ও কখনো সুফি সেজে পাচার করছে। কক্সবাজার থেকে প্রাইভেট গাড়ি, মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মালবাহী-লবনবাহী ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সড়ক পথে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮টি চেকপোস্ট রয়েছে। এসব চেক পোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকার পরও পাচারকারীরা কৌশল পাল্টে ইয়াবা পাচার করছে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে শত শত ও হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। এ মাদকদ্রব্য থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে  কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে। পাচারের রুট হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক- উপসড়ক। দেশীয় চোরাচালানী ও প্রভাবশালীরা নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার-পাল্টে পাচারকারীদেরকে দিয়ে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে। এতে আক্রান্ত হচ্ছে যুব সমাজ।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, মাদকদ্রব্য ইয়াবা সেবনে শরীরে নানা জটিল রোগ হয়। ইয়াবায় ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এমফিটামিন রয়েছে। এটি সেবনে কিডনি নষ্ট, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসসহ হার্টএ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। এক পর্যায়ে কর্মশক্তি ও উদ্যম হারিয়ে শারীরিক-মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে জীবনের আলো নিভে যায়।

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. শাহজাহান পিপিএম জানান, ইয়াবা পাচারে পাচারকারীরা যত কৌশল অবলম্বন করুক না কেন পার পাবে না। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে লোহাগাড়া থানা পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাচারকারীরা রেহাই পাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব আলম জানান, ইয়াবা নেশা জাতীয় মরণঘাতি মাদকদ্রব্য। এটি সেবনে নানা মারাত্মক রোগ হয়। দেশের যুব সমাজ এটির প্রতি আসক্ত হয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলায় মাদকদ্রব্যের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে শাস্তির ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে লোহাগাড়ায় অর্ধ শতাধিক ইয়াবাসেবককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদেরকে মাদকদ্রব্যের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাহজালালে সাড়ে ৪ কেজি সোনা উদ্ধার 

184

ঢাকা : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  প্রায় সাড়ে ৪ কেজি সোনার বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। উদ্ধারকৃত সোনার বারের বর্তমান বাজার মূল্য ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

বুধবার বিমানবন্দরে ওমানের মাস্কত থেকে আসা বিমানের সিটের ভিতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টমসের  সহকারী পরিচালক এইচ এম আহসানুল কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ইউএস বাংলার ফ্লাইট নং বিএস ৩২২ এর  ১১ এ এবং ১১বি  সিটের ভিতর থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সোনার বার উদ্ধার  হয়। বিমানটির বিভিন্ন স্থান তল্লাশির এক পর্যায়ে সিটের ভেতরে শক্ত ধাতব বস্তু থাকার অস্তিত্ব পায় ঢাকা কাস্টমস। সিটের নরম ফোম উঠানোর পর দেখা যায় কালো স্কচটেপ মোড়নো দুটি বান্ডিল পরে আছে। বান্ডিল দুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিমানবন্দরের কাস্টম হলে নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীকালে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্কচটেপে মোড়ানো ১০ তোলা ওজনের ৪০ পিস সোনার বার উদ্ধারপূর্বক মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা হয়। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাপড়ের ভেতর সাত কেজি সোনা 

8825

ঢাকা, ৮ অক্টোবর : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইড এলাকা থেকে কাপড়ের রোলের ভেতর থেকে সোনার চালানটি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

শুল্ক গোয়েন্দাদের দাবি, গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এস কিউ ৪৪৬ নম্বর ফ্লাইটে করে সোনার চালানটি আসে। জব্দ হওয়া সোনার পরিমাণ সাত কেজি। এর বাজার মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করেন তাঁরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ থেকে কার্গোর মালামাল খালাস করা হচ্ছিল।

এ সময় এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে তৈরি পোশাক কারখানার জন্য আমদানি করা কাপড়ের একটি রোল তল্লাশি করা হয়। কালো কাপড়ের ওই রোলের ভেতর সাতটি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি। সব মিলিয়ে মোটা সাত কেজি সোনা জব্দ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কাপড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।  -প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে অভিযান 

85

ঢাকা : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইনে ‘১০৬’ অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটির একটি বিশেষ দল। গতকাল বুধবার সকালে হটলাইনে অভিযোগ পাওয়ার পর রাজধানীর সদরঘাটে ট্রেজারি ভবনের পেনশান শাখায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বলেন, ‘জনৈক ব্যক্তি দুদকের হটলাইন ১০৬ এ অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার সদরঘাটস্থ ট্রেজারি ভবনের পেনশান শাখায় প্রকাশ্যে টাকার বিনিময়ে পেনশানভোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে জানালে, তিনি দুদকের উপপরিচালক মনজুর আলম এর নের্তৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম এবং দুদকের নিজস্ব আর্মড ইউনিটের সদস্যেদের তৎক্ষণাত ঘটনাস্থলে পাঠান।

টিমের সদস্যরা সকাল সাড়ে দশটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুদক টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে দুদকের সদস্যরা ঘুষ-লেন-দেনের কোনো ঘটনা না পেলেও সেবা প্রদানে গাফলতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা সেবা গ্রহীতাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে জানান যদি কোনো কর্মকর্তা সেবা প্রদানে ঘুষ বা অনৈতিক কোনো সুবিধা দাবি করেন তা হলে বিষয়টি তারা যেন দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬ এ জানান।

এছাড়া তারা দপ্তরটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও জনবান্ধব করার অনুরোধ জানান।

দদুক মহাপরিচালক মোহম্মদ মুনীর চৌধূরী জানান, অভিযান পরিচালনার জন্য কমিশনের একাধিক টিম সশস্ত্র পুলিশসহ সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরকারি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে ব্যাংকিংখাতের অর্থ আত্মসাতের মামলায় কমিশনের সশস্ত্র টিমের সদস্য সহ একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চালিয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বরিশালে ইয়াবাসহ ২ যুবক আটক 

232

বরিশাল, ২ অক্টোবর : বরিশালে পৃথক দু’টি অভিযানে ১০৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে আটক করেছে ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রবিবার দিবাগত রাতে নগরের কোতোয়ালি মডেল ও কাউনিয়া থানাধীন এলাকায় এ অভিযান দু’টি চালানো হয়।

আটককৃতরা হলেন- নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলী এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদ শিকদারের ছেলে মো. জুয়েল সিকদার (২৬) ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড পলাশপুর এলাকার স্বপন হাওলাদারের ছেলে আরিফ হোসেন (২৪)।

১০ এপিবিএন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এপিবিএনের পরিদর্শক (নি.) মো. সোহাগ রানার নেতৃত্বে অভিযানে নগরের সাগরদী ব্রিজ সংলগ্ন হোটেল মূন (আবাসিক) এর দোতলার সিঁড়ির ওপর থেকে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জুয়েলকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অপর অভিযানে নগরের কাউনিয়া প্রধান সড়কের শফি মঞ্জিলের সামনে থেকে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আরিফকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ত্রাণের চালও চুরি 

88

ঢাকা : রক্ষকই ভক্ষক। প্রবাদ বাক্যটি খাদ্য অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে একেবারে প্রযোজ্য। কারণ তারা রক্ষক হয়েও সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন। বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত চাল সরিয়েছেন। ত্রাণের চাল থেকে শুরু করে আনসার-ভিডিপির জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ চাল চুরি করেন। এভাবে চুরি করা টন টন চাল বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা ভাগবাটোয়ারা করেছেন। গড়েছেন অঢেল সম্পদ। নমুনা হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁও গুদামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ নিয়ে র‌্যাবের তথ্যবহুল প্রতিবেদনে নামধামসহ বিস্ময়কর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেজগাঁও গুদামের ন্যায় দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে একই কারচুপি হচ্ছে। আর বাস্তবে তাই যদি হয় তবে নীরবে এক ভয়াবহ দুর্নীতি ভর করেছে সরকারের খাদ্য বিভাগে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে দ্রুত এ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। যদিও ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুদকের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে তেজগাঁও খাদ্য গুদামে হাতেনাতে চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। গুদামে কর্মরত সাত কর্মকর্তাকে ‘চাল চোর’ হিসেবে চিহ্নিত করে র‌্যাব। এ ঘটনার পর তেজগাঁও খাদ্য গুদাম থেকে তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে হাতেনাতে ধরা পড়া ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও তেজগাঁও খাদ্য গুদামে সরকারি চাল চুরির সঙ্গে জড়িত আরও অন্তত ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্দেহভাজন এসব চাল চোরদের অবৈধ সম্পদসহ ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে জোরেশোরে।

চোরের খাতায় যাদের নাম : র‌্যাবের অভিযানে তেজগাঁও সরকারি গুদাম থেকে চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পর গুদামের ৭ সরকারি কর্মকর্তার মুখোশ খুলে যায়। তাদের বিরুদ্ধে চাল চুরির অকাট্য প্রমাণ মেলে। চাল চুরির টাকায় এদের অনেকে অঢেল সম্পদ গড়েছেন। কেউ কেউ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রাজকীয় জীবনযাপন করেন।

র‌্যাব জানায়, গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে নিজেরাই চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। যাদের অনেকে বছরের পর বছর একই স্থানে কর্মরত। ৭ থেকে ১০ বছরেও তেজগাঁও গুদাম থেকে অন্যত্র বদলি হননি কয়েকজন কর্মকর্তা। বহু বছর একই স্থানে থাকার কারণে তারা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েক কর্মকর্তা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।

সূত্র জানায়, চাল চোরদের চিহ্নিত করে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়। ওই তালিকায় দুর্নীতিবাজদের একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে এক নম্বরে আছে খাদ্য কর্মকর্তা নান্নু মিয়ার নাম। তিনি উপ-খাদ্য পরিদর্শক। তার পোস্টিং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হলেও বিশেষ সংযুক্তি নিয়ে বর্তমানে তিনি তেজগাঁও খাদ্য গুদামে কর্মরত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নম্বর গুদামের দায়িত্বে নিয়োজিত এ কর্মকর্তা ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে চাল চুরিতে সিদ্ধহস্ত। তবে তিনি একা নন। সরকারি চালের এ চৌর্যবৃত্তিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মর্যাদার আরেক কর্মকর্তা। তার নাম মোহাম্মদ হোসেন মামুন। তিনি ১৩ নম্বর গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে এ দুই কর্মকর্তার উপরে আরও বড় চোর আছেন।

র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য পরিদর্শক পাপিয়া সুলতানা গুদামের ওজন সেতুর দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই তাকে বাদ দিয়ে চুরি সম্ভব নয়। পাপিয়া নিজেও চাল চুরিতে সিদ্ধহস্ত। চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চাল চুরির অভিনব উপায় বের করেন। গুদামের নির্ধারিত ডিজিটাল ওজন সেতু থাকলেও সেটি বেশিরভাগ সময় বিকল করে রাখেন তিনি। এরপর গুদামের পুরনো এবং বিকল অ্যানালগ ওজন সেতুর মাধ্যমে চাল ওজন করা হয়। বিকল মেশিনে ওজনে কম দিয়ে চাল চুরির অভিনব কৌশল রপ্ত করেছেন এ কর্মকর্তা। এভাবে বিকল মেশিনে চাল ওজন তার আরেকটি কৌশলী ফাঁদ। কারণ পরে ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে যাতে সোজাসাপ্টা বলে দিতে পারেন- ‘মেশিন নষ্ট থাকায় তিনি বুঝতে পারেননি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাপিয়া সুলতানার পোস্টিং দোহার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে হলেও তিনি তেজগাঁও খাদ্য গুদাম ছাড়তে রাজি নন। তাই তিনিও সংযুক্তি নিয়ে তেজগাঁওয়ে কর্মরত আছেন। তবে শুধু গুদাম বা ওজন শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাল চুরি সম্ভব নয়। গুদাম থেকে চাল বের করতে হলে আরও কয়েকটি শাখার সহযোগিতা দরকার হয়। এর মধ্যে ফটক শাখা অন্যতম। তাদের সহায়তা ছাড়া চোরাই চাল গুদাম থেকে বের করা অসম্ভব। র‌্যাবের তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- চাল চোর সিন্ডিকেটে নাম লিখিয়েছেন ফটক শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত খাদ্য পরিদর্শক ইউনুছ আলী মণ্ডল। তিনি কাগজপত্রে তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে চোরাকারবারিদের সহায়তা করেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুটি চাল ভর্তি ট্রাক বের হয় রাত ৮টায়। কিন্তু চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইউনুছ আলী তার রেজিস্টারে ট্রাক বের হওয়ার সময় লেখেন বিকাল সাড়ে ৪টা। তেজগাঁও খাদ্য গুদামের প্রধান দারোয়ান মো. হারেজও কম যান না। বাইরের চাল চোরাকারবারিদের সঙ্গে গুদামের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তার। অর্থাৎ তিনি চোরাই চালের কাস্টমার জোগানদাতা। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন আগে তাকে তেজগাঁও থেকে অন্যত্র বদলিও করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে যোগদান না করে বহালতবিয়তে আছেন। ওদিকে চাল চুরির পর লুকিয়ে রাখার কাজটি করেন উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবু সাঈদ। তিনি তেজগাঁওয়ের ৪ ও ৩৪ নম্বর গুদামের ইনচার্জ।

র‌্যাব জানায়, কিছুদিন আগে আনসারের জন্য বরাদ্দ চালের একটি বড় অংশ ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে চুরি করা হয়। এ চোরাই চাল রাখা হয় আবু সাঈদের গুদামে। এছাড়া তার অধীনে থাকা দুটি গুদাম পরীক্ষা করে বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। দেখা যায়, এ দুটি গুদামের নির্ধারিত মজুদের চেয়ে অন্তত ১৫০ টন চাল কম রয়েছে।

সূত্র জানায়, দুদকে পাঠানো তালিকার ৭ নম্বরে থাকা উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবদুল কাদের বকসি বিপুল বিত্তবৈভবের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে তেজগাঁও খাদ্য গুদামের সবচেয়ে লাভজনক শাখা হিসেবে পরিচিত স্টক শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর গুদামেরও ইনচার্জ। র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের বক্সি চাল কালোবাজারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। র‌্যাবের তল্লাশিতে তার অধীনস্থ ১ নম্বর গুদামে ২০ টন চাল কম পাওয়া যায়। অবৈধ উপায়ে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। চাল চুরির অবৈধ টাকায় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিজাত ফ্ল্যাট কেনেন। রাজকীয় আসবাবে ঠাসা এ ফ্ল্যাটে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। এমনকি গুদামের ভেতরেও গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

যেভাবে ধরা পড়ে চুরি : ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা তার এলাকার দুস্থ, অসহায় ও দুর্যোগ কবলিত পরিবারের জন্য ত্রাণ হিসেবে সরকারি চালের বরাদ্দ চেয়ে কয়েক মাস আগে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেন। ২৫ অক্টোবর তার ডিওর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ টন চাল বরাদ্দ দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। বরাদ্দ পাওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর বরাদ্দকৃত চাল আনতে তেজগাঁও খাদ্য গুদামে যান এমপি বাবলার প্রতিনিধি হায়দার আলী। ৩০ টন চাল আছে বলে তেজগাঁও খাদ্য গুদাম থেকে তাকে দুটি ট্রাক বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ট্রাকে চালের বস্তা কম দেখে হায়দার আলীর সন্দেহ হয়। তিনি বুঝতে পারেন নির্ধারিত চালের চেয়ে অনেক কম চাল দিয়ে তাকে ট্রাক বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের কাছে তার সন্দেহের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতেক্যটি বস্তায় আপনারা চাল কম দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।’ অভিযোগ পেয়ে ট্রাক দুটি খাদ্য গুদামের ওজন সেতুতে তোলা হয়। দেখা যায় দুটি ট্রাকেই কম চাল রয়েছে। ওজনে কারচুপি ধরা পড়ে যাওয়ার পর গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য তারা একটি ট্রাকে ৭ বস্তা এবং অপর ট্রাকে ৪ বস্তা করে মোট ১১ বস্তা চাল তুলে দেন। ততক্ষণে গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাল চুরির ঘটনা গোপনে র‌্যাবের কাছে পৌঁছে যায়।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ আসার পর তাৎক্ষণিক গুদামের বাইরে অবস্থান নেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ এর একটি দল। গুদাম থেকে দুটি ট্রাক বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আটক করে র‌্যাব। এরপর ট্রাক দুটি গুদামে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে শুরু করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুদামের ম্যানেজার হুমায়ুন কবিরকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু হুমায়ুন কবির লাপাত্তা। তেজগাঁও খাদ্য গুদামে র‌্যাবের অভিযানের খবর ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে একে একে আসতে শুরু করেন খাদ্য অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন কবিরও ঘটনাস্থলে হাজির হন। কিন্তু গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় ট্রাক থেকে প্রতিটি বস্তা নামিয়ে ওজন করা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে ১১টায় জব্দ তালিকা তৈরি করে চালসহ দুটি ট্রাক তেজগাঁও খাদ্য গুদামের ম্যানেজারের জিম্মায় দিয়ে আসে র‌্যাব। পরদিন দুপুর ২টায় খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ট্রাকের চাল নামিয়ে প্রতিটি বস্তা পৃথকভাবে ওজন করা শুরু হয়।

র‌্যাব জানায়, বস্তা খুলে ওজন করা শুরু হলে গুদামের কয়েকজন কর্মকর্তা রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেন। কারণ প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই চাল কম। কোনো বস্তায় ১২ কেজি কোনো বস্তায় ১৪ কেজি, আবার কোনো বস্তায় চাল আছে মাত্র ২০ কেজি। অথচ প্রতি বস্তায় চাল থাকার কথা ৩০ কেজি করে। মোট বরাদ্দ অনুযায়ী দুই ট্রাকে ৩০ হাজার কেজি চাল থাকার কথা। কিন্তু ত্রাণের জন্য বরাদ্দ ৩০ টন চালের প্রায় অর্ধেকই চুরি করেন গুদাম কর্মকর্তারা। প্রতিটি বস্তা ধরে ওজন করতে গিয়ে দেখা যায়, কারচুপির মাধ্যমে গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ৯ হাজার ৪৯৫ কেজি চাল চুরি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, চাল চুরির এমন ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এরপর কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুদামে রক্ষিত বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকটি কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে আরও একটি বড়সড় চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।

সূত্র জানায়, র‌্যাবের তল্লাশিতে আনসার ও ভিডিপিকে ২৫৮ টন চাল সরবরাহের একটি রেকর্ড পাওয়া যায়। দেখা যায় ৩, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর গুদাম ঘর থেকে এ চাল সরবরাহ করা হয়েছে। গুদামের প্রধান ফটকে রক্ষিত গেট পাস রেজিস্টারেও এ চাল বের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু আনসারকে এত বিশাল চাল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে র‌্যাবের সন্দেহ হয়। ঘটনাস্থল থেকেই ২৫৮ টন চাল প্রাপ্তির বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে র‌্যাব। কিন্তু আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৫৮ টন নয় তারা মাত্র ৭৫ টন চাল পেয়েছেন। আনসারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সরবরাহে এমন জালিয়াতি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে র‌্যাব। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২৫৮ টন চালের মধ্যে ৭৫ টন দেয়া হলে বাকি ১৮৩ টন চাল কোথায় আছে। কিন্তু এ বিষয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে জানা যায়, আনসারের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্য থেকে ১৮৩ টন চাল ৩৪ নম্বর গুদামে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৪ নম্বর গোডাউনটি সিলগালা করে দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও খাদ্য গুদামের ম্যানেজার হুমায়ুন কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, র‌্যাবের অভিযানের পর মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে খাদ্য পরিদর্শক পাপিয়া সুলতানা, উপ-খাদ্য পরিদর্শক নান্নু মিয়া ও মোহাম্মদ মামুন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়েও তদন্ত চলছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব যেসব অভিযোগ এনেছে তার সবগুলো সঠিক নয়। গুদামের ভেতর অনৈতিক কাজ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবদুুল কাদের বকসি শুক্রবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব অভিযোগ মোটেও সঠিক নয়। তবে গুদামের ক্লাবে জুয়া খেলা হয় এমন কথা তিনি বিভিন্ন সময় শুনেছেন। কিন্তু তিনি কখনও এসব কাজে জড়িত ছিলেন না। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মংলায় হরিণের চামড়াসহ পাচারকারী আটক 

555

খুলনা, ৩০ সেপ্টেম্বর : বাগেরহাটের মংলা উপজেলায় শনিবার ভোরে হরিণের চামড়াসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। তার নাম ইমাম হোসেন, বয়স ২৩ বছর।

উপজেলার পশুরনদীর লাউডোব খেয়া ঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মংলা) অপারেশন অফিসার লে. এমএইচআই সিদ্দিক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে লাউডোব ঘাট  একালায় অভিযান চালিয়ে ইমামকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য পাচারকারীকে চামড়াসহ পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটক ইমাম খুলনার দাকোপ থানার লাউডোব গ্রামের ওলিয়ার রহমানের ছেলে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বরিশালে ইয়াবাসহ আটক ৪ 

552

বরিশাল, ২৭ সেপ্টেম্বর : বরিশাল নগরে পৃথক তিনটি অভিযানে দুই সহোদরসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- দুই সহোদর বরিশালের উজিরপুরের কাকড়দাড়ী এলাকার মো. ছালেক রাঢ়ীর ছেলে মো. বাবু রাঢ়ী (২৮) ও মো. সোহাগ রাঢ়ী (২২) এবং নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়কের চৌহুতপুর এলাকার জালাল আহমেদের ছেলে মো. ইমরান হোসেন বাপ্পী (২৩) ও নগরের সাগরদী চান্দু মার্কেট এলাকার মালেক মিয়ার ভাড়াটিয়া মো. সাগর আহাম্মেদ রাজ (২৭)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৭৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে বরিশাল নগরের কাশিপুর পোস্ট অফিস বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. বাবু রাঢ়ী ও মো. সোহাগ রাঢ়ীকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শের-ই-বাংলা সড়কের চৌহুমপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ইমরান হোসেন বাপ্পিকে ১৫৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় বলে জানান ডিবি’র উপপরিদর্শক (এসআই) নৃপেন কুমার দাস।

অপরদিকে একইদিনে ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি অভিযানিক দল ধান গবেষণা রোডের খান বাড়ির সামনে থেকে সাগর আহম্মেদ রাজকে ২০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে।

এ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. সোহাগ রানা জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বেসিক ও সোনালী ব্যাংকের ৩৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ 

7811

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর : সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের ১৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে তিন হাজার ৩৩৮ কোটি টাকাই দেয়া হয়েছে অস্তিত্বহীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া ব্যক্তির নামে। এমনকি এগুলোর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের জামানতও ভুয়া।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কছে পেশ করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া তিন হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে দুই হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংকের। আর সোনালী ব্যাংকের রয়েছে এক হাজার চার কোটি টাকা। ব্যাংক দুটির সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশেই এই অর্থ পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঋণের টাকা উত্তোলনের পর থেকেই ঋণগ্রহীতাদের সন্ধান পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। বেসিক ব্যাংকের এই লুটপাট ও অনিয়ম হয়েছে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর মেয়াদকালে। যদিও তিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ রোববার এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের ফাইল এখনও আমার কাছে আসেনি। তবে ঘটনা সঠিক হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলতে পারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, এটি পরিষ্কার বলা যেতে পারে, এগুলো কোনো ঋণ ছিল না। দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ জন্য ভুয়া জামানত ব্যবহার করা হয়। সাধারণ ঋণ হলে এটি আর্থিক অপরাধ ছিল। কিন্তু এটি হচ্ছে ফৌজদারি অপরাধ। এটি এক ধরনের জালিয়াতি। ঋণ না বলে জালিয়াতি বলাই ভালো। এ টাকা ফেরত আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এ টাকা দেয়ার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা উচিত।

জানা গেছে, ভুয়া জামানত ও প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিহীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ ব্যাপারে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনূসুর রহমানকে ডিও (আধা সরকারি পত্র) লেটার দিয়েছেন। আধা সরকারি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে দেখা গেছে, বেসিক ও সোনালী ব্যাংকে ৬৪টি ভুয়া জামানত ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় সর্বনিন্ম এক কোটি বা তারও বেশি অর্থ ঋণ নেয়া হয়েছে। আর জনতা, অগ্রণীসহ বাকি ছয়টি ব্যাংকে এ ধরনের কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুয়া জামানত দিয়ে ঋণ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঋণ নেয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিষ্ঠান নেই, জামানত ভুয়া সেখানে ঋণ দেয়া হয়েছে। এখানে ব্যাংকের যোগসাজশ আছে। এসব ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারান্টারদের খোঁজ করা দরকার। এসব টাকা পাওয়া কঠিন হবে। কারণ খুঁজে না পাওয়া গেলে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় হবে কী করে। এখন আদালতে মামলা করা উচিত।

সর্বশেষ হিসাব মতে, বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাত হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এই খেলাপির প্রায় ৩২ শতাংশ লুটপাট করা হয় ভুয়া জামানত ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয় ভুয়া জামানত, ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিহীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংক থেকে এই অর্থ বের করে নেয়া হয়। এর মধ্যে শুধু ভুয়া জামানত ও জামানতবিহীন ঋণ নেয়া হয় দুই হাজার ২৪৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার। ৫৫টি ঘটনার মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। এর বাইরে আরও পাঁচটি ঋণ দেয়া হয় কার্যক্রমবিহীন নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে। যেখানে ৭০ কোটি আট লাখ টাকার ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি আরেকটি জালিয়াতির ঘটনায় নিজের নাম পরিচয় ভুল দাখিল করে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে সর্বশেষ তথ্যমতে, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১০ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। এর প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ লুটপাট হয় ভুয়া জামানত, ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিহীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত শীর্ষ সোনালী ব্যাংকে প্রায় ১০০১ কোটি টাকার ঋণ দেয়া হয় ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিহীন নামসর্বস্ব দুটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অপর একটি ঘটনায় ভুয়া জামানত দিয়ে তিন কোটি টাকা লুট করা হয় ব্যাংকের।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা বেরিয়ে আসে। সব মিলে এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকের গুলশান শাখায় ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল মেসার্স মা টেক্স একটি অ্যাকাউন্ট খোলে। হিসাব খোলার একদিন পর ১৭ এপ্রিল ৬০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনের দু’দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল পুরো ঋণ মঞ্জুর করা হয়। বেসিক ব্যাংকের আর্থিক কেলেংকারির পর ঘটনাটি অনুসন্ধান করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, ব্যাংক হিসাবটি ছিল ভুয়া এবং গ্রাহকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে অনিয়মিতভাবে ৫০ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যাংকের গচ্চা যায়। এ ছাড়া মেসার্স এসপিএন এন্টারপ্রাইজ ২০১২ সালের ১৩ আগস্ট একই শাখা একটি চলতি হিসাব খোলে। সেখানে স্বত্বাধিকারীর নাম দেয়া হয় আবদুর রব। হিসাব খোলার ৪৯ দিনের মাথায় ৫৫ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন এই গ্রাহক। আবেদনের সাত দিনের মাথায় অর্থাৎ ৯ অক্টোবর এই ঋণের অনুমোদন দেয় ব্যাংক। ঋণ অনুমোদনের পর মর্টগেজ সম্পন্ন করা হয়। পরে ঘটনা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, হিসাবটি ছিল ভুয়া এবং গ্রাহকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে আড়াই কোটি টাকার সোনার বার উদ্ধার 

2222

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর : রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কলকাতা থেকে আসা একটি বিমানের সিটের নিচ থেকে আড়াই কোটি টাকার ৪০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। রবিবার রাতে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, কলকাতা থেকে আসা বিএস২০২ ফ্লাইটটি বিকালে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দারা ফ্লাইটটি অবতরণের আগে থেকেই বিশেষ নজরদারিতে রাখছিল। অবতরণের পর শুল্ক গোয়েন্দা দল তল্লাশি চালিয়ে বিমানের ৮এফ সিটের নিচ থেকে ৪০টি সোনার বার উদ্ধার করে।

জানা যায়, হলুদ রঙের স্কচটেপে মোড়ানো সোনার বারগুলো কালো রঙের প্যাকেটে পাওয়া যায়। বারগুলোর প্রতিটির ওজন ১০ তোলা এবং মোট ওজন ৪.৬ কেজি। যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় শুল্ক আইন, ১৯৬৯ অনুযায়ী কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর