১৮ নভেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৫২, শনিবার

খালেদা এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তা আজ প্রমাণিত: শাজাহান

খালেদা এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তা আজ প্রমাণিত: শাজাহান 

12

মাদারীপুর, ১৭ নভেম্বর : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে খালেদা জিয়া অবৈধভাবে এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা আজ দেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

শুক্রবার সকালে মাদারীপুরে আচমত আলী খান পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

শাজাহান বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলে দলটি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না।

নৌমন্ত্রী বলেন, যেকোনো মামলায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার সাজা হবেই। তেমনি খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি নির্বাচন করবে না।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, মায়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়। ১৩৫টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়ে মায়ানমারের রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ। ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসির পক্ষে সৌদি আরব এই রেজুলেশন উত্থাপন করে। তাই মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আচমত আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ওয়ায়দুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভাইস চেয়ারম্যানদের ডেকেছেন খালেদা জিয়া 

201

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর : দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের নিয়ে বেঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের পর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মূলত ওইসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দলের বিভিন্ন স্তরে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন বেগম জিয়া। এরই অংশ হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন তিনি। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা বলবেন।

এদিকে বুধবার রাতে জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। শরিক দলের নেতারা এ ব্যাপারে খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করেন।

আগামী জানুয়ারির প্রথম দিকে জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়ার বিভাগীয় শহর ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর সফরের সিদ্ধান্ত হয়।

কেন্দ্র ও স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে সুবিধাজনক সময় সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বিজয়ের মাস ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে একটি বড় আকারের বিজয় র‌্যালীর ব্যাপারেও আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া জোটের কয়েকজন নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বৈঠকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দর সড়ক, রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে কক্সবাজার মহাসড়ক এবং সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ন সমাবেশ অনুষ্ঠান হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান জোটের শরিক দলের নেতারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আ. লীগ মুখে যা বলে তা বিশ্বাস করে না: মওদুদ আহমদ 

0152

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর : আওয়ামী লীগ মুখে যা বলে তা বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, তারা মুখে বলে এক কথা আর কাজে আরেক কথা।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া যদি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন, তাহলে শেখ হাসিনা কেন পারবেন না। খালেদা জিয়া যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, শেখ হাসিনার তা করা উচিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের তো বর্তমান সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি। তারা চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে পারেন।’

মওদুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি এতোই জনপ্রিয় হয়, মানুষ আবারো তাদেরকে ভোট দিতে অপেক্ষা করছে, তাহলে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো এ অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেন। তাহলে আমি অভিনন্দন জানাবো যদি আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে আবার নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে। দেশের মানুষও আওয়ামী লীগকে স্মরণ করবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে- এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কারণ আওয়ামী লীগ মুখে যা বলে তা বিশ্বাস করে না। এছাড়া বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল আরেক রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপিকে ৯৬ সালে বিশ্বাস করেনি। তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল।

দেশে আর কোনো একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। খালেদা জিয়া হবেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার যেসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছে দেশের মানুষ এর জবাব দেবে আগামী নির্বাচনে।

তিনি বলেন, আমরা এখনো অপেক্ষা করছি সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সভ্যতা ও গণতন্ত্র ফিরে আসুক। যাতে করে দেশের মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পায়।

আওয়ামী লীগ কোনো দিনই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, তারা মুখে বলে এক কথা আর কাজ করে ভিন্ন। তারাই অতীতে রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে। তাদের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশে দুর্ভিক্ষও হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় আজো আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনায় এসে দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিচ্ছে।

দেশের রাজনীতিবিদদের এখন কোনো আদর্শ নেই দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই। সরকার বিশ্বাস করে না বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করে না সরকারকে। তাই একে অপরের প্রতি সেই বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় যে যত কথাই বলুক না কেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন শুধুমাত্র নামে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তাও চলবে না।’

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মজলুম ভাসানী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, তিনি রাজনীতি করেছেন নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। তিনি আন্দোলন করেছেন যে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তার বিরুদ্ধে।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরো দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল হবে : প্রধানমন্ত্রী 

28444

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়া শিল্পের আরো বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো পরিকল্পনা আছে-মূলত রাজশাহী বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে এ দুটি জায়গায় নতুন দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল আমরা গড়ে তুলবো। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ঢাকায় করলে হবে না এটিকে সমগ্র বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিন ব্যাপী ‘লেদার প্রডাক্ট শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়ার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৭’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‘থিংক অ্যাহেড, থিংক বাংলাদেশ’ শীর্ষক থিম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকরার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এলএফএমইএবি’র সভাপতি শফিউল ইসলাম ও বিশিষ্ট উদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে পূর্বে রেকর্ডকৃত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম এবং ভারপ্রাপ্ত এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিমের বক্তব্যও প্রচার করা হয়।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার সালমান এফ রহমান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কুটনিতিকবৃন্দ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ এবং চামড়া খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে অনুষ্ঠানে একটি অডিও ভিজুয়াল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ১৫টি দেশের চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই লেদার শোতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগ ও রফতানিতে চামড়া প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। এই খাতের উৎপাদনশীলতা এবং গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হবে এই অনুষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বৈশ্বিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারিদের রুলস অব অরিজিন সম্পর্কে আরো আকৃষ্ট করবে। ২০১৭ সালের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে আমরা ‘বর্ষপণ্য ২০১৭’ হিসেবে ঘোষণা করেছি (প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ২০১৭)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাত হতে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, সম্প্রতি অধিকাংশ ট্যানারি আমরা হাজারিবাগ থেকে সাভারে নিয়ে গেছি। সাভারে পরিবেশসম্মতভাবে এই শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে এবং একে ঘিরে যেন আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নেব।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাত সহযোগে একটি টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়কর রেয়াত ওয়েট ব্লু লেদার ছাড়া চামড়া খাতে এফওবি রফতানি মূল্যের ওপর একশ’ ভাগ এক্সপোর্ট পার্ফমেন্স লাইসেন্স সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে যাতে রফতানিটা আরো সহজ করা যায়। সেইসাথে ওয়েট ব্লু উৎপাদনকারি ট্যানারিসমূহকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগও প্রদান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প স্থানান্তরের প্রণোদনা হিসেবে সাভার ট্যানারি শিল্পাঞ্চল থেকে ফিনিশড চামড়া রফতানির ক্ষেত্রে শতকরা ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা রফতানির ক্ষেত্রে ১৫ ভাগ নগদ সহায়তা আমরা দিচ্ছি। চামড়া ক্ষেত্রে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় মেশিনারি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল থেকে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও রফতানি নীতি ২০১৫ থেকে ২০১৮ তে এই খাতকে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লেদার খাত বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড বাংলাদেশী উদ্যোক্তদের সাথে যৌথভাবে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য সোর্সিং করা হচ্ছে। চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটা পাবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, চামড়া খাতে অধিক সহায়তা প্রদানের পেছনে রয়েছে এর অমিত সম্ভাবনা। খাতটি একদিকে একটি অত্যন্ত শ্রমঘন শিল্প যা বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে সক্ষম অন্যদিকে এর শতভাগ কাঁচামাল আমাদের দেশেই বিদ্যমান রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক সহায়তা কাজে লাগানোর ফলেই খাতটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি আয় অর্জনকারি খাত হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, যথাযথভাবে এই খাতকে কার্যকর করা হলে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে স্থিরকৃত সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই খাত পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে প্রতিনিয়ত যে সব পশু জবাই হয় তার চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার এবং এই শিল্পের দিকে আরো বিশেষভাবে নজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, দেখা গেছে এসব জবাইকৃত পশুর চামড়া যথাযথভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণ করা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি এসব কাজে একটু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি তাহলে এই চামড়াকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুণগত মান সম্পন্ন চামড়া হিসেবে আমরা প্রস্তুত করতে পারি।

এই সচেতনতাটা এখনও যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি বলে অনেক চামড়া আমাদের কাজে লাগানো যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব গর্ব অনুভব করি যখন আমার দেশের তৈরি কোনো একটা জিনিস আমি ব্যবহার করতে পারি বা বিদেশে গেলে দেখাতে পারি এটা আমার দেশের তৈরি। কাজেই দেশীয় পণ্য আরো উন্নতমানের যেন হয় আন্তর্জাতিক মানের যেন হয় সেদিকে আরো বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এতে যেমন রফতানি বৃদ্ধি পাবে, বাজার বৃদ্ধি পাবে এবং এজন্য নতুন নতুন বাজারও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ব্যবসায়ীরা আরো উদ্যোগী হবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশটা আরো এগিয়ে যাক এবং বাংলাদেশে আরো বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবার আশা পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রেতাদের বাংলাদেশের চামড়া খাতে আরো অধিক পরিমানে বিনিয়োগ করতে এবং চামড়া খাতে অধিক পরিমানে সোর্সিং করার জন্য এ শিল্পে সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহবান জানান।

এ সময় বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান এবং এই অনুষ্ঠান দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাসস

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ: আদালতে খালেদা জিয়া 

02

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কোনোরকম দুর্নীতি হয়নি। এ মামলায় আমাকে কেন অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনগণের কাছে এই প্রতিটি মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দায়ের করা হয়েছে। সবগুলো মামলা করা হয়েছে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলারই কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় বলে এবং আমাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েও জনগণ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এসব মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।’

আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি এ মামলার বিবরণ থেকে জেনেছি এবং কুয়েত দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান দিয়েছিলো। আমি আরো জেনেছি কুয়েতের দেয়া অনুদানের অর্থ দুই ভাগ করে দু’টি ট্রাস্টকে দেয়া হয়। এতে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি কিংবা অন্য কারো লাভবান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া, ট্রাস্ট দু’টির কোনো পদে আমি কখনো ছিলাম না বা এখনো নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিলো না।’

তিনি বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে আরো জানতে পেরেছি যে, বগুড়ায় এতিমখানা স্থাপনের লক্ষ্যে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে সে জমি ক্রয় সম্পর্কেও অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। এই ট্রাস্টের বাকি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদাসলে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে পঞ্চম দিনের মতো বক্তব্য রেখেছেন।

খালেদা জিয়া আদালতে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এক ঘন্টা ৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এরপর খালেদা জিয়া তার বক্তব্য অসমাপ্ত অবস্থায় বাকি বক্তব্য রাখার জন্য সময় আবেদন করলে আদালত ২৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এরআগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখতে আদালতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া।

আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনবিদ জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, আমিনুল হক, জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লা মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, জাকির হোসেন ভূইয়া প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের আদালতে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, বরকতউল্লাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

গত ১২ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বেগম খালেদা জিয়া জিয়া লন্ডনে পা ও চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গত ১৯ অক্টোবর অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। ওই দিন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। এর গত ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না ২০ দলীয় জোট 

21

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের তিন মাস আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। সরকার দাবি না মানলে রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ারও আহবান জানান খালেদা জিয়া।

রংপুরসহ ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যাবে বিএনপি। রংপুরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জোটের নেতারাও সফর করবেন।

আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসুচী ও নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডে জোটকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোন সরকারী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দিয়ে জোটের শরিকরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্য অটুট রেখে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যে কোনো মূল্যে জোটের ঐক্য রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। আটটি বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় খালেদা জিয়ার সফর করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করার জন্য বেগম জিয়াকে পরামর্শ দেন জোটের শরিকরা।

খালেদা জিয়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার দাবী আদায়ে সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাড়ানোর কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত সোয়া নয়টার বৈঠক শুরু হয়ে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১৭ টি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফতে মজলিশের মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকিব, জাগপা সভাপতি রেহানা প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা, এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাছ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে তিনি  ছিলেন না। জোটের শরিক লেবার পার্টিকে সংগঠনটির উপদলীয় কোন্দল বিভক্ত নেতৃত্বের কারণে  কোনো অংশকেই এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘জোর দেওয়ার’ জন্য শরিকদের পরামর্শ দেন। তিনি বিচার বিভাগের বর্তমান সংকট নিয়ে কথা বলেন। আগামীতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার ক্ষেত্রে জ্যোষ্ঠতা অনুসরণ ও সংবিধান সম্মতভাবে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে শরিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ও আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব এবং জামায়াত ইসলামের আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ড, জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান নিখোঁজ থাকায় নিন্দা প্রস্তাব করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইয়াবায় ছেয়ে গেছে দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

34

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর মাদক ইয়াবায় দেশ ছেয়ে গেছে বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আমরা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু তারপরও তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। “

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আনীত এক মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিশের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে নোটিশ উত্থাপনকালে ডা. ফরাজী বলেন, “আজ দেশ মাদকের আগ্রাসনে জর্জরিত। প্রতিটি শহরে, শহর থেকে গ্রামে, এমনকি বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজের ছেলেরা অতি সহজে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ” তিনি এ সময় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মিয়ানমারের সীমানায় নজরদারি বাড়িয়েছি। এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে অনেক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বান্দরবানের একটা দুর্গম এলাকায় আমরা নজরদারি করতে পারি না।
এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সীমানা সড়ক করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে ইয়াবা না আসে। কিন্তু এখনও সে চুক্তিতে যেতে পারিনি। যে চুক্তিটি আমরা ভারতের সঙ্গে করতে সমর্থ হয়েছি। “

মন্ত্রী বলেন, “টেকনাফে আমরা মৎস্যজীবীদের বলেছি যাতে তারা নাফ নদীতে চলাচল না করে। আমরা কোস্টগার্ডকে সতর্ক করেছি। আধুনিক স্পিডবোট ও জাহাজ ব্যবহার করছি। বর্ডার দিয়ে যাতে কোনও মাদক ঢুকতে না পারে, সে জন্য তারা নজরদারি  বাড়িয়েছে। ” তিনি বলেন, “এরপরও মাদকের ভয়াবহতা অনেক। এটা এখন একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখানে ঘুরে দাঁড়াতে হবে জনসাধারণকে। আমরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলেছি, এ বিষয়ে যাতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন। আমরা মসজিদে খুতবার সময় মোয়াজ্জেমকে বলেছি, তিনি যেন সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করেন। “

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। জেলখানাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছি। জেলে মাদক ব্যবসায়ীরা শাস্তি ভোগ করছে। তারা জেলখানায় রয়েছে। বর্ডার লাইন সিল করছি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তবে সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে। ” এর ফলে ঐশীর মতো আর কোনও সন্তান বাবা-মাকে হত্যা করতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া 

55

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার আদালতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এদিন বেলা ১১টার দিকে তিনি আদালতে যাবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাক্ষীদের পুনরায় জেরার দিন ধার্য রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দুর্নীতির এ দুই মামলায় চলতি বছরের ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ১৯ অক্টোবর এ দুই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ওইদিন তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলাটি দায়ের করে দুদক।

আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ ধলাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় অপর মামলাটি দায়ের করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিএনপি-জামায়াত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত: প্রধানমন্ত্রী 

54-copy

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বহু ব্যর্থতার ইতিহাস বিএনপি নেত্রীরই রয়েছে। ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা দেখার মত মানসিকতাও তার নেই। যিনি সব কাজেই ব্যর্থ, তিনি অন্যের সব কাজে ব্যর্থতাই দেখবেন—এটাই স্বাভাবিক। যার চোখ থাকতে অন্ধ, তাকে দেখাবে কে? বিএনপি-জামায়াত সবকিছুতেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে ব্যস্ত। মানবিক কোন গুণাবলী তাদের (খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত) মধ্যে নেই—এটাই হলো বাস্তবতা।’

রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ দেশে অশান্তি ও সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে কিংবা উস্কানি দিলে জড়িত ও উস্কানিদাতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংসদ নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতে চায়। কিন্তু কাউকে এদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্যদেশে কোনো রকম সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে দেওয়া হবে না। যারা এটি করার চেষ্টা করবে এবং উস্কানি দেবে—তাদের সবার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধীদলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

রোহিঙ্গাদের দেখতে বিশাল বহর নিয়ে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাত্রা ও কিছু অযাচিত মন্তব্য সংক্রান্ত সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রামে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে—’পাগলে কি-না কয়, ছাগলে কি-না বলে।’ যিনি (খালেদা জিয়া) দেখেও দেখেন না, তাকে দেখাবার কিছু নেই। তার সব কাজেই তো ব্যর্থতা। নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৩ সালে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে পারেননি। জনগণই তাকে ঠেকিয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটচুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। থাকতে পারেননি। দেড় মাসের মধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করেছিল। সেনানিবাসের দখলকৃত বাড়ি রক্ষায় আদালতে মামলা করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন। বাড়ি হারিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদলেন, বাড়ি আর রাখতে পারলেন না। এমন বহু ব্যর্থতার ইতিহাস বিএনপি নেত্রীর আছে। মানবিক কোনো গুণাবলীই তার মধ্যে নেই।’

শেখ হাসিনা জানান, কাজেই তার (খালেদা জিয়া) বক্তব্যকে তিনি ধর্তব্যে নেন না। যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে—তাদের কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। সরকার তাদের কাজ করে যাবে।

দুর্গত রোহিঙ্গাদের দেখার নামে খালেদা জিয়ার বিশাল বহর নিয়ে কক্সবাজার সফরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানবিক কারণে অসহায়-নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এটা হচ্ছে একটা অনুভূতি ও বোধের ব্যাপার। কিন্তু বিএনপির সেই বোধটা আছে কি-না, সেটাই প্রশ্ন। বিএনপি নেত্রী যেভাবে সাজসজ্জা, ঢোল-বাদ্য ও হাতি-ঘোড়া সবই নিয়ে কক্সবাজার গেলেন—সেটি দেখে সবার প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, বিএনপি নেত্রী কী কোন দুর্গত মানুষকে দেখতে গিয়েছিলেন, নাকি সেখানে বরযাত্রী হিসেবে গেলেন? কী করতে সেখানে গিয়েছিলেন? সেটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।’

রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা এদেশে সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে, উস্কানি দিচ্ছে; এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কী-না—তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুর বশর মাইজভাণ্ডারীর এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া শুরু হয় ১৯৭৮ সাল থেকে। যখন জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন—তখন থেকেই এই সংকটের শুরু হয়। পাবর্ত্য সমস্যারও সৃষ্টি হয় ওই সময় থেকেই। এখনও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দেশে সংঘাত ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। এখানে যে কিছু উস্কানি আছে—তাতেও সন্দেহ নেই। তবে সরকার সচেতন আছে। খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। তাদের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা যাতে কোনো অপরাধে জড়িত না হন—সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সব দেশ বাংলাদেশের এমন মানবিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা যাতে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য বিশ্ববাসী জোরালোভাবে তৎপর রয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার ফলে বন ও পাহাড়ি অনেক গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলমূলের চাষাবাদ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন—তারা সে সুযোগ পাচ্ছেন না। এতগুলো মানুষ (রোহিঙ্গা) এদেশে এসেছে। এতে করে বিশেষ করে এদেশের গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই মানুষগুলোর খাদ্য ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থাও সরকার করে দেবে। ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মাত্র ১৫ হাজার মানুষকে সহযোগিতা করতে পারবো না—এতটা দৈন্যতায় সরকার পড়েনি।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, ‘এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারো কারো শরীরে এইচআইভি জীবাণু পাওয়া গেছে। নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তাদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মাধ্যমে সারাদেশে যেন রোগজীবাণু ছড়াতে না পারে—সে বিষয়েও সরকার সচেতন রয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন এলাকায় একাধিক মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা টিম কর্মরত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রোহিঙ্গা সংকট ও এদেশের তাদের আশ্রয়দান সংক্রান্ত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া ছিল বাংলাদেশর একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ কারণে বাংলাদেশের নাম আজ বিশ্বনেতাদের কণ্ঠে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে উচ্চারিত হচ্ছে।’

তিনি জানান, এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রায় এক কোটি মানুষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করার পর প্রায় ছয় বছর তিনি (শেখ হাসিনা) ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা শরণার্থীর জীবন-যাপন করেছেন। যে কারণে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সেই অনুভূতি তাদের মধ্যে কাজ করেছে।

শেখ হাসিনা আরও জানান, তার দৃঢ় বিশ্বাস আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ সমস্যা সমাধানে সফল হবেন তারা। বাংলাদেশের উদ্যোগের ফলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সমস্যাটি অন্যতম আলোচ্য বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ নিয়ে এখন অবধি তারা মোট ছয়টি সভা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে এখনো প্রতিদিন রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনের ফলে তাদের নিরাপত্তা বিধান ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে হচ্ছে। মানবিক কারণে এদের আশ্রয় দিলেও এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘকাল বাংলাদেশে রাখা সম্ভব হবে না। লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। মনে রাখা প্রয়োজন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেদেশকেই করতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষও সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের জোর সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও কর্মতৎপরতায় মিয়ানমারে জাতিগত নিধন বন্ধের দাবিটি আজ সার্বজনীন দাবিতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই ফলাফল। সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সকলের প্রত্যাশার অংশ।’

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বের ভাষণে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে তার পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বিশ্বমহল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। আজ কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সবাই এ সমস্যা নিয়ে চিন্তিত। জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারসহ বরেণ্য বিশ্বনেতারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গাদের দুঃখদুর্দশা লাঘবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদসহ বিগত আট বছরে তিনি ২৭টি পুরস্কার ও ১৩টি সনদ পেয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া আর কোনো সরকারের আমলে কোনো সরকারপ্রধানই এতগুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেননি। সূত্র : সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সময় নিয়ে বাধ্যবাধকতা নেই: আইনমন্ত্রী 

0895

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : প্রধান বিচারপতি নিয়োগে কোনো সময় নির্ধারণ বা সময় নিয়ে বাধ্যবাধকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাষ্ট্রপতি যখন চাইবেন তখনই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি না থাকায় সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সমস্যা না। আমাদের সংবিধানেই (৯৭ অনুচ্ছেদ) বলা আছে, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে সিনিয়র বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পর এখন রাষ্ট্রপতি সময় অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ  দেবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ যেহেতু রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, সেহেতু আইন মন্ত্রণালয়ের বলার কিছু নেই।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদ্যুতের বর্তমান স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট : প্রধানমন্ত্রী 

047

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদ অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০১৭ সালের অক্টোবর মোট ৯ হাজার ২৫৪ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎ আমদানিসহ) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০০১ অক্টোবর থেকে ২০০৬ অক্টোবরে মোট ১ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযোজিত হয়েছে, যা মূলত ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগের ফসল। প্রকৃতপক্ষে ওই সময়ে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি বরং কমেছে।

তিনি বলেন, আগামীতে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ১২ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতায় ৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মোট ৭ হাজার ৩৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতায় ৪১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি বলেন, মোট ৯ হাজার ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে আগামী সপ্তাহে ইতিবাচক পদক্ষেপ : কাদের 

044

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি বাঙালির সম্পদ, আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ ভাষণই স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল মুক্তিকামী জনতাকে। সেদিন এ ভাষণ নেতৃত্ব দিয়েছিল, কর্তৃত্ব করেছিল, শানিত করেছিল চেতনা।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এদেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা ছিল নিষিদ্ধ। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার হতো না। মাইকে এ ভাষণ বাজানোর অপরাধে অনেককেই নিগৃহীত হতে হয়েছিল।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ। বাসস

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ অশনি সংকেত 

01

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বলে বঙ্গভবনের বরাতে মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমে খবর আসার পর দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মোশাররফ বলেন, প্রধান বিচারপতিকে (সিনহা) নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি (সিনহা) ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাগপত্র দেননি। জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটা অশনি সংকেত, এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চতর আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল- তা বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও দফতর সম্পাদক এসকে সাদীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সহসভাপতি এম এ তাহের, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম এবং জামাল উদ্দিন খান মিলন বক্তব্য রাখেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ওই রায়ে বর্তমান সংসদকে প্রধান বিচারপতি ডিসফাংশনাল বলেছেন; এতে আওয়ামী লীগ গোস্বা করেছে। এই সংসদ ডিসফাংশনাল, কারণ এখানে ১৫৪টি আসনে যেসব প্রার্থী ছিল, জনগণ সেখানে কাউকে ভোট দেয়নি। সংবিধানে লেখা আছে জাতীয় সংসদ সদস্য তিনি, যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাহলে ১৫৪ জন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়।

বিচারপতি সিনহা ছুটি থেকে ফিরে ওই ১৫৪ জনের বৈধতার প্রশ্নে করা একটি রিটের শুনানি নিয়ে তাদের অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন বলে সম্ভাবনা থাকায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা শুনতে পারছিলাম যে, প্রধান বিচারপতি ছুটি থেকে আদালতে বসে একটি রিট করা আছে যে ১৫৪ জন অবৈধ, সেই রিট মামলার শুনানি করবেন। হয়তো সিদ্ধান্ত যেতে পারে ১৫৪ আসন অবৈধ। তাহলে সরকার অবৈধ হয়ে যায়। এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ওপরে কী ন্যক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীনভাবে প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিল, পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল। শুধু তাই না, সেই প্রধান বিচারপতিকে সরকারের লোকরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে চলে আসছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য, সেখানে গিয়ে জোর করে তার থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে। এটা অশনি সংকেত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে ধবংস করে আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটা জঙ্গল আইন করতে চায়।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ফের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মোশাররফ বলেন, এবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। জনগণ রাস্তায় নামবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেত্রী খালেদা জিয়া সেই জনগণকে নেতৃত্ব দেবেন। রাস্তায় এসে জনগণ তাদের প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করার পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৪ বছরের শিশুও এখন মুক্তিযোদ্ধা 

345

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : মুক্তিযোদ্ধাবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আদালতের নির্দেশের কারণে ৪ বছরের শিশুকেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাখতে হচ্ছে। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এখনও অ-মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়েছে, ভাতাও পাচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে কাজী ফিরোজ রশিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।

তিনি বলেন, জাতির জন্য এটা খুবই লজ্জার ও বেদনাদায়ক। এখনও অ-মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়ে গেছে। আদালতের আদেশের কারণেই এ অবস্থা। তবে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, সংসদের মাধ্যমে আদালতের প্রতি আহ্বান, তারা যেন সেই আদেশ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার করেন।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আদালত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু আমরা বলছি যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কেবল তিনিই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার স্বীকৃতি পাওয়া। আদালতের আদেশের কারণে ১৯৭১ সালে যার বয়স চার বছর ছিল তাকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক।

তিন দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ওয়েবসাইটে
দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করতে সরকার কাজ করছে। অধিকাংশ উপজেলার তালিকা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২টি উপজেলার তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। আগামী তিন দিনের মধ্যে সব উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

মকবুল হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, এখনও যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়নি, তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সকল এসিল্যান্ড গাড়ি পাবে : ভূমিমন্ত্রী 

244

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : দেশের সকল সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) গাড়ি পাবেন বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
সরকারি দলের সদস্য গাজী ম. ম. আমজাদ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সহকারি কমিশনারদের মাঝে বিতরণের জন্য ইতিমধ্যে ১০০টি গাড়ি কেনা হয়েছে।

একই প্রশ্নের উত্তরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। সরকারি ভূমি উদ্ধারে তাদের মাঝে মাঝে অভিযানও পরিচালনা করতে হয়। সুতরাং তাদের সবারই গাড়ির প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ১০০টি গাড়ি কেনা হয়েছে। আরো গাড়ি কেনা হবে। পর্যায়ক্রমে সহকারি কমিশনারদের এই গাড়ি দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সদস্য নুরজাহান বেগমের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মোট ৩ হাজার ১০০টি ভূমি অফিস নির্মাণ করা হবে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শামসুর রহমান শরীফ বলেন, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের জলসীমায় ২৬টি দ্বীপ এবং এসব দ্বীপে মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৩৭০ একর ভূমি জেগে ওঠেছে।
এর মধ্যে নোয়াখালী জেলার জলসীমায় ৫টি দ্বীপ জেগে উঠেছে। দ্বীপগুলো হলো- হাতিয়ার ভাষানচর, স্বর্ণদ্বীপ, চরকবির, চরবন্দনা এবং সুবর্ণচরের রজনীগন্ধা। উক্ত চরসমূহের মোট ৭৫ হাজার ৮৭৪ একর জমি জেগে উঠেছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলাধীন সন্দ্বীপ উপজেলায় দুইটি দ্বীপ জেগে উঠেছে- সেটি হলো ঠেঙ্গারচর ও জাহাজ্জ্যোর চর। এতে আনুমানিক ১৮ হাজার ৯১২ দশমিক ৯০ একর জমি জেগে ওঠেছে।

একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার জেলার জলসীমায় ১৯টি দ্বীপ জেগে ওঠেছে। উক্ত চরসমূহে মোট ৩০ হাজার ৫৮৩ একর খাস জমি রয়েছে। এগুলো হলো- কক্সবাজারের বাঁকখালী খরাট চর, উখিয়ার জালিয়াপালং চরপাড়া, টেকনাফের জিনজিরাদ্বীপ, মধ্যহ্নীলা, উত্তর হ্নীলা, শাহপরার দ্বীপ। মহেশখালীর মাতারবাড়ি মৌজা, ধলঘাটা, হাঁসের চর, কালারমারছড়া, উত্তরনলবিলা, আমাবশ্যাখালী, কুতুবজোম, সোনাদিয়া, ঘটিভাঙ্গা, সোনারদিয়ার উত্তরে ঘাটিভাঙা মৌজা এবং হামিদরদিয়া, কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ এবং নতুন ঘোনা, পেকুয়ায় করিয়ারদিয়া এবং দুবাইঘোনা।

তিনি আরো বলেন, এসব দ্বীপগুলো এখনো জনশূন্য এবং দ্বীপগুলো সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য এসব দ্বীপে সেনাবাহিনী জরিপ করছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর