২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ৯:৪৫, সোমবার

বাসাবাড়িতে পুনরায় গ্যাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের নেই

বাসাবাড়িতে পুনরায় গ্যাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের নেই 

22

ঢাকা : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বাসাবাড়িতে পুনরায় গ্যাস-সংযোগ চালু করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

প্রতিমন্ত্রী গতকাল বুধবার সংসদে জাসদের লুৎফা তাহেরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস দেওয়া অনেক ব্যয়বহুল, তাই আমরা আবাসিক খাতে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারকে উৎসাহিত করছি।’

নসরুল হামিদ বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ইতিমধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ এলাকা এলপিজির আওতায় চলে এসেছে। বাকি এলাকাও শিগগিরই এর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেক শিল্প-কারখানাতেও এলপিজি গ্যাসের আওতায় এসেছে।

অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এখানে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।-বাসস

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উভয় পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে 

0289

ঢাকা : মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ২৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়েছে এবং সিএসইর প্রধান সূচক ৫৯ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়েছে। উভয় পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১২৯ পয়েন্টে, ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩২৮ পয়েন্টে এবং ২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসই-৩০ সূচক দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ১৭২টির এবং কোনও পরিবর্তন হয়নি ৪৮টি কোম্পানির শেয়ার দর।

এদিকে সিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৫৯ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৫১১ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ৯২ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ২৪ পয়েন্টে, সিএসই-৫০ সূচক ১০ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ১০২ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ১২৮টির এবং কোনও পরিবর্তন হয়নি ২৪টি কোম্পানির শেয়ার দর।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রাইজবন্ডের ড্র : প্রথম পুরস্কারের নম্বর ০৭৭৩৯০৮ 

22

ঢাকা : ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ৮৯তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে এই ড্র হয়। এতে ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত নম্বর ০৭৭৩৯০৮। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রতিটি সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ড্র পরিচালিত হয়। বর্তমানে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের ৪৯টি সিরিজ যথা—কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল এবং খশ এই ড্রর আওতাভুক্ত। উপরোক্ত সিরিজগুলোর অন্তর্ভুক্ত ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য বলে ঘোষিত হয়। নিম্নে বর্ণিত সংখ্যার বন্ডগুলো সাধারণভাবে প্রতিটি সিরিজের ক্ষেত্রে পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

প৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দ্বিতীয় পুরস্কারের নম্বর ০৭৪২০১১। ১ লাখ টাকার দুটি তৃতীয় পুরস্কারের নম্বর ০৭২২৩০৭ ও ০৭৬৭২৯১। ৫০ হাজার টাকার দুটি চতুর্থ পুরস্কারের নম্বর ০৪১৫২৭৭ ও ০৮১৫৭১৯। ১০ হাজার টাকা করে ৪০টি পঞ্চম পুরস্কারের নম্বর ০০৬৬০৫৭, ০২৮৬৫৬১, ০৪৭২৬৪২, ০৬৩১৬৬৪, ০৭৯১২২৭, ০০৮৩৯৮০, ০৩০১৬৫০, ০৪৭৮০৭৭, ০৬৪১৫৭৫, ০৮৩০৬৩৪, ০০৯৮৩৫৬, ০৩০৯৮৭৮, ০৪৮৭২৯৬, ০৬৪৮২৬৭, ০৮০৬৬৫৫, ০১৪৭৮৫৬, ০৩৫০৮৪৯, ০৫৩৪৮০০, ০৭০৬৫৮২, ০৮০৯৫৩৩, ০১৪৭৮৯৪, ০৪২১৩১৬, ০৫৫২৮৬৪, ০৭১২১২১, ০৮৫৫৬৩৪, ০১৫০২০৭, ০৪৪৮৬৪৫, ০৫৫৭৩৮৪, ০৭৫৫১৬১, ০৯৩৯৫৮৮, ০২২৩৬৯৯, ০৪৫২৬৪৬, ০৬০৪৯৮০, ০৭৭৭১৪৯, ০৯৪৩৭১৫, ০২৪৮০৫২, ০৪৫৪৪৮৭, ০৬১৯০১৪, ০৭৯০৭৭৫ ও ০৯৭৮৩৭৮।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রিজার্ভ চুরির হোতারা ভারতে 

077

অর্থনৈতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মূল হোতারা ভারতে অবস্থান করছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিক ব্যক্তির পরিকল্পনার পরই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্থ কেলেঙ্কারি কোনো একজন ‘মূল পরিকল্পনাকারী’র কাজ নয়। এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত। তারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ঘটনার পরিকল্পনা করেছেন। সংশ্লিষ্টরা ভারতে রয়েছেন এবং তারা সম্ভবত প্রক্সি (ইন্টারনেটে নিজের প্রকৃত অবস্থান গোপন করে ভার্চুয়াল অবস্থান দেখানোর পদ্ধতি) ব্যবহার করেন। সে কারণেই তাদের ধরা যাচ্ছে না। কেউ কেউ ভারতের কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। আর কয়েকজন রয়েছেন বাইরে। তবে কারিগরি দিক থেকে তারা এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের সন্ধান পাওয়াই অসম্ভব। এসব ব্যক্তি খুব সহজেই নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে পারেন এবং ২ বা ৩ মিনিটের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারেন।

সূত্রটি মেইল অনলাইনকে আরও জানায়, চুরি করা রিজার্ভের অর্থ দিয়ে হোতাদের জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সারাজীবন নিশ্চিন্তে পার করে দেওয়ার জন্য দেড় কোটি ডলারই যথেষ্ট।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার গ্রাহকের নাম ভুল করায় শ্রীলংকায় আটকে যায়, পরে তা ফেরত আনা হয়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় ওই অর্থ। ঘটনাটি তদন্ত করছে একাধিক সংস্থা। তবে এখনো পর্যন্ত দেশের কারোরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

তবে রিজার্ভ চুরির এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে ফিলিপাইনে শনাক্ত করা গেলেও কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া আবাদ জানিয়েছেন, কিম ওংয়ের কাছে থাকা দেড় কোটি ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার রয়েছে ম্যানিলার ক্যাসিনো সোলেয়ারে এবং এক কোটি ৭০ লাখ ডলার রয়েছে রেমিট্যান্স কোম্পানি ফিলরেমের কাছে। আরও এক কোটি ২০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের ক্যাসিনো সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করেন জুলিয়া আবাদ।

তবে ম্যানিলার একজন বেসরকারি গোয়েন্দা অগাস্টাস এসমেরাল্ডা রয়টার্সকে বলেছেন, এ ঘটনাকে ব্যাংকের হ্যাকিং হিসেবে দেখা উচিত হবে না। এটা অনেকটা হ্যাকারদের নিযুক্ত করে অর্থ চুরির ঘটনার মতো। এর পেছনে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা ব্যাংক, অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং সিস্টেম ও ক্যাসিনো সম্পর্কে জানেন। আমার কাছে এটাকে মনে হয়েছে আধুনিক সময়ের ওশান’স ১১। একে বলা যেতে পারে ম্যানিলা ১২। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্যাসের জন্য আবেদনের পাহাড় 

244

ঢাকা : গ্যাসের সংকট। তাই শিল্পকারখানায় মিলছে না সংযোগ। এমনকি মিলছে না গ্যাসের লোড বৃদ্ধি। শিল্পকারখানার এমন সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে আছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে। প্রতিদিনই জমা হচ্ছে নতুন নতুন আবেদন। তবে কবে মিলবে নতুন শিল্পকারখানার গ্যাস সংযোগ অথবা চাহিদা অনুযায়ী বর্ধিত লোড- এর নিশ্চিত উত্তর জানা নেই। গ্যাসের অভাবে অভাবে শিল্প মালিক বিনিয়োগ হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারছে না।

গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে পাঁচ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদন হচ্ছে ২৭শ থেকে সাড়ে ২৭শ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার হিসাবেই গড়ে প্রায় ১২শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে গাজীপুর-কোনাবাড়ি এলাকায় বিদ্যমান শিল্পকারখানায় গ্যাসের কম চাপ এবং গ্যাসের লোড বৃদ্ধি করতে না পেরে অনেক কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো কোনো শিল্পকারখানা সিএনজি স্টেশনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সিলিন্ডারে করে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে চালাতে হচ্ছে কারখানা। এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্প খাত চরম সংকটের মধ্যে আছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি আছে। কমিটি অনেক যাচাই-বাছাই করে দীর্ঘ সময় পর পর কিছু কারখানাকে গ্যাস সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের মে মাসে এই কমিটি প্রায় দেড় বছর পর ২৭৩ শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন গ্যাস সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্রমতে, ২০১৩ সাল থেকে শিল্পে গ্যাস-সংযোগ সীমিত করার পর এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচশ শিল্পকারখানায় নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির অনুমোদন মিলেছে। তবে উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন হওয়ার পরও কোনো কোনো কারখানায় এ পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ মেলেনি।

এদিকে চরম গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরসহ পোশাক শিল্পঘন এলাকায় বিকল্প উপায়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগের দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গত শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিজিএমইএর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গ্যাস সংকট থাকায় বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রসঙ্গত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর, আশুলিয়া ও কোনাবাড়ি এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। একটি সার কারখানা বন্ধ করে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এলএনজি না আসা পর্যন্ত শিল্পকারখানায় সুষ্ঠুভাবে গ্যাস সরবরাহের দাবি করেন।

এদিকে দেশে চলমান গ্যাস সংকটের সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নাধীন তথ্য থেকে জানা যায়, গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধানে আগামী ৪ বছরে ১০৮ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার মধ্যে চলতি বছরই ২৮ কূপ খনন করা হবে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি করবে বাপেক্স এবং অবশিষ্টগুলো করবে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া গভীর সমুদ্র ব্লকগুলোতেও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি সমুদ্র ব্লক ইতোমধ্যে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এমন তথ্য জানিয়েছেন। তবে গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের সবচেয়ে বৃহৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়টি।

এদিকে গ্যাস সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ প্রতিবেদককেকে বলেন, দেশ বিভিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের বিষয়টি আমাদের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এর সমাধানে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হবে।

দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সর্বোত্তম খাতে ব্যবহারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকার সারা দেশে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। আর শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং ব্যবহার বাড়ানো (লোড বৃদ্ধি) কার্যত ২০০৯ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে আবাসিক খাতে ১৩ শতাংশ, সিএনজিতে ৫.৪৪, বাণিজ্যিকে ১.০৫, ক্যাপটিভে ১৭.১৭, শিল্পে ১৬.৮৫, চা বাগানে ০.৯, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪০.১৭ এবং সার কারখানায় ৬.১৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশে অর্থ আদান-প্রদান সহজ করতে হবে 

636

অর্থনৈতিক ডেস্ক : ‘বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অতিথি ও বক্তারা।রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশে অর্থ আদান-প্রদান সহজ করতে হবে। কারণ, এখন মানুষ শুধু দেশেই অর্থ পাঠায় না, প্রয়োজনে দেশ থেকে অর্থ আনে। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড প্রবাসীদের সেবায় যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করার চেষ্টা করবে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ব্যালিজিনো পার্টি হলে ‘বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে মঞ্জুর হোসেন এসব কথা বলেন। নিউইয়র্কে এবিসিসিআই’র উদ্যোগে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

মঞ্জুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নয়, সব দেশেই কম-বেশি সমস্যা রয়েছে। তার সমাধানও আছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য হুন্ডি একটি বড় সমস্যা। তাই বাস্তবতার প্রয়োজনেই অর্থ আদান-প্রদান পদ্ধতি সহজ করতে হবে। কারণ, বৈধ পথে সরকারিভাবে অর্থ না পাঠানো হলে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। আর প্রবৃদ্ধি না বাড়লে দেশের উন্নয়ন হবে না।

রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশের শীর্ষ চারটি ব্যাংকের মধ্যে অন্যতম। জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যাংকের ন্যূনতম কোনো ঘাটতি নেই। রূপালী ব্যাংক দেশবাসীর পাশাপাশি প্রবাসীদের সঙ্গেও থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে, তাই দেশের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। গত দুই মাসে নিউইয়র্ক থেকে ২৭৩ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে গেছে। তবে সঠিক পথে দেশে অর্থ যাচ্ছে না বলেই রেমিট্যান্সের হার কমে যাচ্ছে। তাই প্রবাসীদের সেবায় রূপালী ব্যাংক আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশে কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো কমে যাচ্ছে। এটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়। প্রবাসীদের সেবায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সব সময় পাশে থাকবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে। বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের বিভিন্ন নিয়ম-নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমে যাচ্ছে।

এবিসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসানুজ্জামান হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আ ন ম ফজলুল হক, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান, প্রবীণ প্রবাসী নাসির আলী খান পল, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সভাপতি আবদুল লতিফ ও ব্যবসায়ী ফাহাদ সোলায়মান। উপস্থাপনায় ছিলেন আশরাফুল হাসান বুলবুল।

সেমিনার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিল্পী নিলুফার বানু গান ও মোরশেদ খান অপু সেতার পরিবেশন করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন অধ্যাপক হাসান কবীর। সূত্র: প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে জোর বিএসইসির 

44545

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ৭ অক্টোবর : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন।

শনিবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরাই প্রধান চালক। আর সেজন্য তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান কাজ।”

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিট্যাল মার্কেট (বিআইসিএম)।

এছাড়া বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে বিএসইসিও ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে।

সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেন, “বিনিয়োকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আমরা কর্পোরেট গাইড লাইন করেছি। লিস্টেট কোম্পানির জবাবদিহিতার জন্য গাইড লাইন করেছি। এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বাড়ানো হয়েছে। অনেক ইস্যু ম্যানেজারদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সকলের সমন্বিত অগ্রগতি, সরকারের আগ্রহে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইসিএমের সহযোগী অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র দেবনাথ।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর কিছু অধিকার ও ঝুঁকি রয়েছে। বিদ্যমান আইনে বিনিয়োগকারীদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা তাদের অধিকার ও ঝুঁকি সর্ম্পকে সচেতন নয়। তাদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

প্যানেল আলোচনায় আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, “দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রেগুলেটরি, স্টক একচেঞ্জ, ইস্যু ম্যানেজারদের সমন্বনিতভাবে কাজ করতে হবে।”

বিআইসিএমের প্রভাষক মো. হাবিবুল্লাহর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালা। মডারেটর হিসেবে ছিলেন বিআইসিএমের নিবার্হী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জোয়ারদার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সই 

77

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৫ অক্টোবর : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ‘যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটসমূহ’ স্বাক্ষরিত হয়।

বুধবার ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সকাল ৭টায় তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যান।

জানা গেছে, বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে ভারত। এটি ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। এর আগেও এলওসির আওতায় দুইবার ঋণ দিয়েছে ভারত। এটি তৃতীয় ঋণ চুক্তি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছান ভারতের অর্থমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান তিনি। তাকে স্বাগত জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

পরে বিমানবন্দর থেকে অরুণ জেটলিকে সোনারগাঁও হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ডেসকোর বিদ্যুতের দাম ইউনিটে ৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ 

0255

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৩ অক্টোবর : গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো)। আর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সোমবার রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে বিইআরসি আয়োজিত বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানিতে এই সুপারিশগুলো করা হয়।

গণশুনানিতে ডেসকোর প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ২০ পয়সা। তবে এ বিদ্যুতের গড় সরবরাহ মূল্য ৭ টাকা ৭২ পয়সা। ফলে ইউনিটপ্রতি ঘাটতি ৫২ পয়সা বা ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে মুনাফা করে ডেসকো। পাশাপাশি আবাসিকেও ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মুনাফা হয়। আর বাকি সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে ডেসকোর ট্যারিফ ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু কারিগরি কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণার ফলে ডেসকোর ব্যয় বেড়েছে ইউনিটপ্রতি ৮ পয়সা, যা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি করলেই যথেষ্ট। তবে বিদ্যমান পাইকারি মূল্য বাড়ানো হলে খুচরা পর্যায়ে তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে।

শুনানিতে অংশ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর দায়ভার গ্রাহকদের ওপর চাপানো সঠিক হবে না। প্রয়োজনে ঘাটতি অন্য উপায়ে মেটানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ ইউনিটপ্রতি ৮ পয়সা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, মূল্যবৃদ্ধি করে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায়নি। রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে কিন্তু তা লাভজনক হয়নি। চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ কমানো হলো, কিন্তু চালের দাম কমেনি। তাই ডেসকোকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও মিরপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডেসকো। বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া শুনানিতে অংশ নেন। -প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মজুদ আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক 

933

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১ অক্টোবর : নতুন আলু বাজারে আসবে দু’মাস পরই। অথচ গত মৌসুমের ৩০ লাখ টন আলু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে হিমাগারে। এই আলু নিয়ে কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কৃষক। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। বাজারে দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না তারা। আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী দুই মাসে পাঁচ লাখ টন বিক্রি হতে পারে। বাকি ২৫ লাখ টন অবিক্রীত থাকবে। ফলে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমাগার থেকে এখন প্রতি বস্তা আলু ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বা ৮ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা লোকসান হচ্ছে কৃষকের। এর পরও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় খুচরা বাজারেও দাম কমে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে আলু। হিমাগারে সংরক্ষিত এ আলু বিক্রির বিষয়ে এখনই সরকারি পর্যায়ে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া না হলে বছর শেষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও হিমাগার মালিকরা।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার আলুর দাম কমে হিমাগার থেকে ৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ১৫ টাকা ছিল। দাম কমে যাওয়ায় মজুদ আলু নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষক। বর্তমানে বাজারে বিক্রির জন্য ৩১ লাখ টন আলু হিমাগারে মজুদ রয়েছে। আগামী দু’মাসে অর্থাৎ নতুন আলু ওঠার আগে আরও পাঁচ লাখ টন বিক্রি হতে পারে। ফলে হিমাগারেই থেকে যাবে প্রায় ২৬ লাখ টন। যার বর্তমান বাজারমূল্য পাঁচ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এই আলু বিক্রি না হলে নতুন আলু ওঠার পর ফেলে দিতে হবে।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আলু রফতানিতে অগ্রগতি না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বছর দাম ভালো থাকায় বেশি পরিমাণে চাষ হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাড়তি আলুর চাপে বাজারে দাম নিল্ফম্নমুখী রয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ডিসেম্বরে আগাম আলু বাজারে উঠলেও জানুয়ারির শেষ থেকে নতুন মৌসুমের আলু মিলবে পুরোদমে। এ সময়ের মধ্যে আলু বিক্রি না হলে ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে আলু কিনে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি এবং বন্যাদুর্গত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে বিতরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে সংগঠনের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের জন্য ১০০ টন আলু ত্রাণ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। ৩০ টনের মতো বিতরণও করা হয়েছে।

কৃষক, ব্যবসায়ী ও অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলতি বছর এক কোটি টন আলু উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সারাদেশে ৩৯০টি হিমাগারে ৫৩ লাখ টন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে সর্বশেষ পাঁচ মাসে মাত্র ১৩ লাখ টন বিক্রি হয়েছে। ৮ থেকে ১০ লাখ টন বীজ আলু হিসেবে ব্যবহার হবে। সংরক্ষিত বাকি আলুর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখ টন নতুন মৌসুমের আগেই বিক্রি করতে হবে।

চলতি বছর উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের খরচসহ প্রতি বস্তা আলুর দাম পড়েছে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগারের ভাড়া হিসেবে যোগ হবে ৩০০ টাকা। ফলে এলাকাভেদে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দাম পড়ে প্রতি বস্তার। অথচ এখন তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন হিমাগারে আলুর দুরবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর, অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে আলু সরকারকে কিনে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার এই আলু কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি ও ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে পারে। ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখাসহ বিভিম্ন কর্মসূচি ও ত্রাণে আলু বিতরণ করা হলে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু সময়মতো বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলু রফতানি বাড়াতে নতুন বাজার সৃষ্টি ও প্রণোদনা বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এতে কৃষক লোকসানের মুখে পড়বেন না এবং হিমাগার মালিকরাও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। এরই মধ্যে অনেকে পুঁজি হারিয়েছেন উল্লেখ করে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এ সুবিধা না পেলে নিরুৎসাহিত হবেন কৃষক। যার প্রভাব আগামী বছর আলুর উৎপাদনে পড়তে পারে।

কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ী মো. সবুজ মিয়া সমকালকে বলেন, পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই দাম দিন দিন কমছে। এভাবে দাম কমলে কৃষক আলু তোলা বন্ধ করে দেবে। বর্তমানে হিমাগার থেকে কেজি প্রতি সাত টাকাতেও আলু মিলছে। ভালো আলুর দাম যদিও দুই টাকা বেশি। তিনি বলেন, খুচরায় সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। অথচ আলুর কেজি ১৫ টাকা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি একরে আলু উৎপাদন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ। বেশি উৎপাদন হওয়ায় কৃষক আরও বেশি করে উৎপাদনে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় উৎপাদনও ভালো হচ্ছে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে। বিশ্বেও আলু উৎপাদনে শীর্ষ দশে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান অবস্থান বিশ্বে সপ্তম ও এশিয়ায় তৃতীয়। তবে রফতানির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। রফতানিকারকদের কাছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় আলু রফতানিতে সুফল আসছে না। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পিই রেশিও কমেছে ডিএসইতে 

225

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর : সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৬ দশমিক ৩১ পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে।

সপ্তাহ শেষে খাতভিত্তিক ট্রেইলিং পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১১ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৮.৭ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২৫.৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২৪.৬ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২৭.৭ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১২.৯ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১৩.৭ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ২৬.৫ পয়েন্টে।

এছাড়া পাট খাতের পিই রেশিও মাইনাস ২৫.৩ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ২৮.৫ পয়েন্টে, এনবিএফআই খাতে ২০.৫ পয়েন্ট, কাগজ খাতের মাইনাস ৫০.২ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৯.৯ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৮.৩ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ১৯.৩ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৭.৯ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ২৪.৮ পয়েন্টে এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২২.৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাপানকে পাশে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক 

895

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর : দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় এবার কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর বন্যার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাস্তবায়িত এএমএপির (স্মল অ্যান্ড মার্জিনাল সাইজড ফারমার্স এগ্রিকালচারাল প্রোডাকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ডাইভারসিটিফিকেশন প্রজেক্ট) আওতায় সহজ শর্তে ঋণ পায় দারিদ্র্য, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় এসব ঋণগ্রহীতাদের মাঠের ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পরিশোধ করা অসম্ভব। উল্টো সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তী ফসলের জন্য এসব কৃষকের নতুন ঋণের প্রয়োজন।

এমন পরিস্থিতিতে বিপন্ন কৃষকদের জাপান সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে আর্থিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক মনোজ কান্তি বৈরাগী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এএমএপির আওতাধীন বন্যাকবলিত জেলার তালিকা, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ (টাকায়) পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সাত হাজার ২০৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা। তাদের ঋণের পরিমাণ ২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ৪১৩ টাকা। তাই দুদর্শা লাঘবের জন্য জাপান সরকারের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান নেওয়া যেতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৬ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ 

752

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা, মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ও পবিত্র মহররম উপলক্ষে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও মহদিপুর স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে বন্দরে কার্যকম বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত কার্যক্রম চালু থাকবে।

এ ছাড়া সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে আমদানিকৃত পণ্য লোড-আনলোডের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আগামী  ৩ অক্টোবর থেকে আবারও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য ৫ দিন বন্দর দিয়ে সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ১ অক্টোবর পবিত্র মহররম ও ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন হিসেবে সরকারি ছুটি থাকবে। সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুর রহমান বাবু, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের ইসমাইল হোসেন ও ভারতীয় মহদিপুর স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিখিল চন্দ্র ঘোষ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ভুপতি মণ্ডল স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান ঢাকা চেম্বারের 

882

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর : বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করে সদরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

ডিসিসিআই মনে করে, বিদ্যুতের পুনরায় মূল্য বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদনমুখী শিল্প বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টিল রি-রোলিং, টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। বিদ্যুতের পুনরায় মূল্য বৃদ্ধির এ প্রস্তাবে ডিসিসিআই উদ্বেগ প্রকাশ করছে। যদি আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে প্রতিযোগী মূল্যে শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হবে। এছাড়া বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো, রফতানি সক্ষমতা, শিল্প বহুমুখীকরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

বিদ্যুতের ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোসহ সব সরকারি-বেসরকারি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে একটি ‘জ্বালানি মনিটরিং কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে ছয়টি বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সোমবার থেকে গণশুনানি শুরু করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আধুনিক জীবন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উপকরণ। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত পুনরায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ খুচরাপর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ৯ টাকা ১৬ পয়সা থেকে ১০ টাকা, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৯৮ পয়সা, বৃহৎ শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৩২ পয়সা এবং গৃহস্থালীতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬ টাকা ১০ পয়সা হারে বৃদ্ধি পাবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছয় ইউনিয়নে সব ব্যাংক বন্ধ আজ 

88

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর : ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আজ রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের চার জেলার ছয়টি ইউনিয়নের সব ব্যাংকের সব শাখা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত্র প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে। নির্বাচনী এলাকাগুলো হলো- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (পীরগঞ্জ, রায়পুর ও রামনাথপুর), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন ও টাঙ্গাইল জেলা সদরের কাকুয়া, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়ন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন উপলক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকসমূহের নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়সহ সব শাখা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বন্ধ থাকবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর