২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সকাল ৭:১৪, রবিবার

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ঘরে ঘরে ক্ষোভ

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ঘরে ঘরে ক্ষোভ 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারি : মাত্র দেড় বছরের মাথায় গ্রাহকপর্যায়ে গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন ব্যবসায়, শিল্পোদ্যোক্তা, পরিবহন শ্রমিকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। কয়েক বছর থেকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যবসাবাণিজ্যের মন্দাবস্থার মধ্যেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবেই দেখছেন তারা। গ্যাসের এ মূল্যবৃদ্ধি দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য দেশে কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকেই দুষছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের গণবিরোধী মনোভাবের পাশাপাশি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বড় দলগুলোর নির্লিপ্ততায়ও। যদিও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় প্রায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হরতালেরও ডাক দেয়া হয়েছে।

দেড় বছরের ব্যবধানে শুক্রবার গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১ মার্চ ও ১ জুন থেকে দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে এ দাম। বর্ধিত দর অনুযায়ী ১ জুন থেকে আবাসিক গ্রাহকদের সিঙ্গেল চুলার জন্য বর্তমান ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০ টাকা এবং ডাবল বার্নারের জন্য ৬৫০ টাকার স্থলে ৯৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে মিটারভিত্তিক গ্রাহকদের গ্যাসের দাম। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাসের এ মূল্যবৃদ্ধিতে আবাসিক গ্রাহকের ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। পরিবহন ভাড়া এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়বে।

ঘরে ঘরে ক্ষোভ : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর খিলগাঁর বাসিন্দা আবদুল হাকিম গতকাল ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকার এর আগে অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটিয়ে দেখেছে, জনগণ প্রতিবাদ করে না। তাদের প্রতিবাদের অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সবে তো ৩০০ টাকা বাড়িয়েছে। এক বছর বছর পর দেখা যাবে চুলাপ্রতি এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। জনগণ কেবল তাদের জনবিরোধী সিদ্ধান্ত মেনেই চলবে। দেশে কোনো বিরোধী দল নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিরোধী দল থাকলে এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারত না।

ঢাকার কল্যাণপুরের আলেয়া পারভীন এ প্রতিবেদককে বলেন, বছর শেষে বাড়ি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ায় আবারো ভাড়া বাড়াবে বাড়িওয়ালা। ফলে আয় না বাড়লেও ব্যয় বৃদ্ধিতে সংসার পরিচালনায় হিমশিম খেতে হবে।

বাসাবো এলাকার বাসিন্দা সুজন রহমান বলেন, বছরের শুরুতে এক হাজার টাকা ভাড়া বাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আবারো বাড়িভাড়া বাড়াবেন। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে গ্যাসের দাম পুর্নিবিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন সুজন।

কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা ফেরদৌসী বলেন, আমি অবশ্যই চাইব নিত্যব্যবহার্য পণ্য সহজলভ্য হবে। কারণ এমনিতেই আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সঙ্কোচন করে চলতে হয়। আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে মাসিক খরচ করতে হয়। এভাবে প্রতি বছর গ্যাসের দাম বাড়ানো মেনে নেয়া যায় না।

গ্যাসের দাম বথাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই : ক্যাব
গ্যাসের দাম বথাড়ানোর প্রভাব বাসাভাড়া ও পরিবহন খরচ এবং বাজারের ওপর পড়বে বলে মনে করছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। গ্যাসের দাম বথাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই মন্তব্য করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূইয়া বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া। এর ফলে ট্রান্সপোর্ট খরচ বাড়বে এবং বাজারের ওপর প্রভাব পড়বে। বাসা ভাড়াও বাড়বে। এ উছিলায় বাড়িওয়ালারা পানির দামও বাড়াবেন। সামগ্রিকভাবে খরচ বথাড়বে। কিছু লোককে সুবিধা দিতে গণমানুষ সাফার করবে এটা হয় না। তিনি বলেন, গণশুনানি করলেও সাধারণ মানুষের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা রিভিউ করা উচিত।

শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে উদ্বেগ : শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এমনিতেই তারা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। চাপহীনতায় কারখানা চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে তাদের টিকে থাকাই মুশকিল হবে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বস্ত্র খাত সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হবে দাবি করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, বড় আকারের স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং ও প্রিন্টিং-ফিনিশিং কারখানাগুলোর একমাত্র জ্বালানি গ্যাস। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাসের ইউনিট প্রতি দর ছিল ৪ দশমিক ১৮ টাকা, একই বছর সেপ্টেম্বরে দ্বিগুণ বাড়িয়ে করা হয় ৮ দশমিক ৩৬ টাকা। এখন নতুন করে দর বাড়ানোয় বড় ধরনের চাপে পড়বে বস্ত্র খাত। ফলে ভারত এবং চীনের কাছে বাজার হারাবে তৈরি পোশাকের পশ্চাৎসংযোগ শিল্পটি।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে ভারত নতুন বস্ত্রনীতিতে সাড়ে ছয় হাজার কোটি রুপির প্রণোদনা অনুমোদন করেছে। আগামী তিন বছরে পোশাক শিল্পে বাংলাদেশকে টপকে যেতে বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে ভারত। তুলা, সুতাসহ সব ধরনের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি ভারতের নিজস্ব। এ কারণে এ ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে এবার আর টিকতে পারবে না আমাদের বস্ত্র খাত।

দর বাড়ানোয় নিটওয়্যার শিল্পখাত ব্যবসায়িকভাবে তিগ্রস্ত হবে জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি বলেন, গ্যাস ছাড়া বিকল্প কোনো কিছু দিয়ে নিট কারখানা চালানো যায় না। দর বাড়ানোর আগে উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন ছিল। এ নিয়ে সংসদেও আলোচনা করা যেত। কোথাও আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদেশী ক্রেতারা পোশাকের দাম কমাচ্ছেন। রফতানি কমছে। এর মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যাবে। ফলে শিল্পমালিকেরা সমতা হারাবেন। কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ১৫ মাস আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন সিএনজির যে দাম রয়েছে, তা এ খাতের জন্য সর্বোচ্চ। তাই দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তারপরও দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে। ফলে প্রকৃতপে সাধারণ মানুষই তিগ্রস্ত হবেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দাম বাড়িয়ে পরোভাবে সিএনজি ব্যবহার বন্ধের চেষ্টা করছে।

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে : মির্জ্জা আজিজ
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, পরিবহন ভাড়া বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি। মধ্য ও নি¤œবিত্তের জীবনধারণের ব্যয় বেড়ে যাবে। গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জানিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. মির্জ্জা এ বি আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ালে গ্যাসচালিত শিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে পরিবহন ভাড়া। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। অর্থনীতি চাপে পড়বে।

জবাবদিহি না থাকায় এ উদ্যোগ : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
জাতীয় প্রেস কাবের সামনে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, কোথাও জবাবদিহি না থাকায় সরকার স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্যাসের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি জবাবদিহি না থাকায় সরকার চরম স্বেচ্ছাচারী পন্থায় গ্যাসের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধিসহ একের পর এক গণদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী পদপে গ্রহণ করে চলেছে। সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা আমলাতান্ত্রিক কায়দায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির একতরফা ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য গ্রাসের ফলে সরকার ইতোমধ্যে ১৫-১৬ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে; কিন্তু জনগণকে তারা কোনো সুবিধা দেয়নি। বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য তারা দফায় দফায় বাড়িয়ে চলেছে। পুনর্বাসন ছাড়া লাধিক হকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।-নয়া দিগন্ত

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইসলামী ব্যাংক-সমধারা ৩য় কবিতা উৎসব পালিত 

441

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি : ইসলামী ব্যাংক-সমধারা ৩য় কবিতা উৎসব ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সাপ্তাহিক সমধারা আয়োজিত কবিতা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। কবি ও কথা সাহিত্যিক কাইয়ুম নিজামীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি হেলাল হাফিজ ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহিত উল আলম ও ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মোশাররফ হোসাইন। অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উৎসবে দুই বাংলার ৩শ’ কবি অংশগ্রহন করেন। অনুষ্ঠানে ‘পদাবলির যাত্রা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যমুনা ব্যাংকের প্রথম ক্রেডিট কার্ড বীমা সুবিধা চেক প্রদান অনুষ্ঠান 

55512

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি : সম্প্রতি যমুনা ব্যাংক ও আইটিসিএল, মাইক্রোএনশিওর এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স – এর মধ্যে প্রথম ক্রেডিট কার্ড বীমা সুবিধা চেক প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

যমুনা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের উপ- ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জনাব এ. কে. এম. সাইফুদ্দীন আহমেদ এর সভাপতিত্বে চেক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যমুনা ব্যাংকের হেড অব কার্ড জনাব আদনান মাহমুদ আশরাফ উজ জামান, কান্ট্রি ম্যানেজার, মাইক্রোএনশিওর জনাব মীর রাশেদুল হোসেন, আইটিসিএল-এর হেড অফ বিজনেস ডেভলপমেন্ট জনাব জুবায়ের আহমেদ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর জিএম জনাব এস এম জিয়াউল হক সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হুমকিতে রফতানিমুখী শিল্প 

36

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারি : গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে রফতানিমুখী ছোট ছোট শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক শিল্প-কারখানা। কারণ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে; যা প্রতিযোগী দেশের তুলনায় রফতানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা হ্রাস করবে।

রফতানির ওপর নেতিবাচক এই প্রভাবের কারণে বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশংকাও রয়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসায়ী নেতারা এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেছেন।

এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পরিবহন সেক্টরের নেতারা জানিয়েছেন, গ্যাসের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহনে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়ে যাবে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। যার মাশুল গুনতে হবে সাধারণ নাগরিকদের।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ও ব্রেক্সিটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যাপারেল খাতে মন্দা চলছে। ২০১৫ সালের পর থেকে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের বাজার ছোট হয়ে আসছে। ৪৮৩ বিলিয়ন ডলারের বাজার কমে ৪৪৫ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্যান্য দেশ যেখানে রফতানি খাতকে চাঙ্গা করতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে, সেখানে বাংলাদেশে প্রতি বছর গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধি তো আছেই। সামগ্রিকভাবে চাপে রয়েছে দেশের রফতানিমুখী শিল্প। অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান টিকতে না পেরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় রফতানিমুখী শিল্প খাত চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। প্রতিযোগী সক্ষমতা হারাবে রফতানি খাত। যতদিন না শিল্পে সঠিক মূল্যে কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে, ততদিন গ্যাসের দাম স্বাভাবিক রাখা উচিত ছিল। এখন যেহেতু দাম বাড়ানোই হল তাই রফতানিকারকদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় অথবা ইনসেনটিভ দিতে হবে; যাতে তারা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

তিনি বলেন, এলএনজি ও এলপিজি এলে এমনিতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে। এই অল্প সময়ের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও সঞ্চালন লাইনের অভাবে ৮ হাজার মেগাওয়াট ব্যবহৃত হচ্ছে। অচিরেই বেসরকারি খাতকে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণে যুক্ত করা উচিত। তাহলে সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। পাশাপাশি শিল্পেও কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অ্যাপারেলে চাহিদা কমছে। তার ওপর ক্রেতারা পোশাকের দাম কমিয়েছে, আরও কমাতে চাপ দিচ্ছে। অপরদিকে বিভিন্ন কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোয় প্রতিযোগী সক্ষমতা কমবে। এ অবস্থায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রফতানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বর্তমানে রফতানি খাতে মূল চ্যালেঞ্জ হল- সক্ষমতা কমেছে। অন্যদিকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ব্রেক্সিট, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের দামের সমন্বয় ও নিজ নিজ দেশ নীতি সহায়তা দেয়ায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানোয় রফতানিমুখী শিল্প আরও ঝুঁকির মুখে পড়ল।

তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের বাজার ছোট হয়েছে। ৪৮৩ বিলিয়ন ডলারের বাজার কমে ৪৪৫ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্য দেশগুলো মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে নানা নীতি সহায়তা ও ইনসেনটিভ প্যাকেজ ঘোষণা করছে। আমাদের দেশে হচ্ছে এর উল্টো।

বিকেএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি আসলাম সানি বলেন, বর্তমানে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাওয়া যায় না। দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা প্রেসার থাকে না। এক কথায় বলতে গেলে, উদ্যোক্তারা এ সময় গ্যাসের বদলে বাতাস পাচ্ছেন, অথচ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এতে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও ব্রেক্সিটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম ১৯ শতাংশ কমেছে, ইউরোর দাম কমেছে ৮ থেকে ১০ শতাংশ। এ অবস্থায় ইউরোপের ক্রেতারা তৈরি পোশাকের দাম ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমাতে চাপ দিচ্ছে। নতুবা অন্য বাজার থেকে পণ্য কেনার হুমকি দিচ্ছে। সব মিলিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে রফতানিকারকরা। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানোয় রফতানিমুখী শিল্পের অস্তিস্ব হুমকিতে পড়েছে।

বিটিএমএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, দেশের শিল্প এগিয়েছে দুই কারণে। প্রথমত, সস্তা শ্রম ও দ্বিতীয়ত, নিজস্ব গ্যাস। এ দুটি ছাড়া বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ নেই। শিল্পের কাঁচামাল ও মেশিনারিসহ সবই আমদানি করতে হয়।

গত কয়েক বছরে মজুরি ৩ দফা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রথম ধাক্কা খায় উদ্যোক্তারা। এরপর গত বছর গ্যাসের দাম ১০০ ভাগ বাড়ানো হয়। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছল।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্পিনিং মিলে বছরে ৭০ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন। এর বিপরীতে দেশে ১ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়। বাকিটা আমদানি করতে হয়। এই তুলা থেকে সুতা উৎপাদনে খরচ হতো ১৮ সেন্ট।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সেটি আরও বাড়বে। এভাবে চলতে থাকলে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস পাবে। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে সেটিও অর্জন করা সম্ভব হবে না।

গণপরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে : গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গণপরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। সিএনজি স্টেশনের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেছেন, দেশে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য মুনাফাসহ ব্যবসা করছে। সেখানে সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি করে গণপরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সিএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করবে। তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির ফলে সিএনজির ব্যবহার কমবে এবং সেই সঙ্গে ডিজেল ব্যবহার বাড়বে। এতে বায়ুদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছবে। সিএনজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

ক্যাবের প্রতিক্রিয়া : কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক। এখানে ভোক্তাস্বার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি। কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে তা বিইআরসির প্রকাশ করা উচিত।

তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উৎপাদক ও ভোক্তার স্বার্থ দুটো সংরক্ষণ করতে হয়। এ জন্য আইনের আওতায় রেগুলেশন আছে। তার ভিত্তিতে বিইআরসির কর্মকর্তারা দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি। শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু নতুন কমিশন ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ক্যাবও যেতে পারে। তবে তার আগে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বাড়তি দাম দুই ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপ ১ মার্চ থেকে আর দ্বিতীয় ধাপ ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। নতুন দাম অনুযায়ী, শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ২৪ পয়সা করা হয়েছে। এটি ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

আর ১ জুন থেকে শিল্পোদ্যোক্তাদের দিতে হবে ৭ টাকা ৭৩ পয়সা। বাণিজ্যিক ইউনিট মার্চে ১৪ দশমিক ২০ টাকা এবং জুনে ১৭ দশমিক ০৪ টাকা হবে। ক্যাপটিক পাওয়ার ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার ৯ ইউনিট ৯৮ এবং ১ জুন থেকে ৯ দশমিক ৬২ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের গ্যাসের দাম মার্চ থেকে ২ দশমিক ৯৯ টাকা ও জুন থেকে ৩ দশমকি ১৬ টাকা করা হয়েছে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মন্দার পর ২০১৬ সালে সবচেয়ে কম বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি 

2778

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৩ ফেব্রুয়ারি : টানা পঞ্চম বছরের মতো বিশ্ব পণ্য বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০০৮ সালের মন্দার পর সবচেয়ে কম বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গেলো ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু উচ্চ আয়ের দেশগুলোই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোরও বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

‘গ্লোবাল ট্রেড ওয়াচ: ট্রেড ডেভেলপমেন্ট ইন-২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং নিত্য পণ্যের দাম কম থাকাসহ নীতি অনিশ্চয়তার ফলে বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে। ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের ২০১৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিলো ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে গতকাল প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গেলো ২০১৬ সালে বিশ্বে পণ্য দ্রব্যে বাণিজ্য বেড়েছে মাত্র এক শতাংশ। আগের বছর ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছিলো ২ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৪ সালে পণ্য দ্রব্যের বাণিজ্য বেড়েছিলো ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাত্ বিশ্ববাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ক্রমশ আরো দুর্বল হচ্ছে। বিশ্বমন্দা পরিবর্তী সময়ে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর বাণিজ্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। সেসময় উন্নয়নশীল বিশ্বে এর আঘাত কম হলেও সম্প্রতি সময়ে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেবা বাণিজ্যের অবস্থা তুলনামূল ভালো ছিলো।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্পাদনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ব বাজার ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের উত্পাদনশীলতার তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ৪০টি দেশের ১৩টি খাতের ১৫ বছরের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্য ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হলে শ্রমিকের উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে বিশ্ববাণিজ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ শতাংশ হারে।

বিশ্বমন্দার আগের সময়কালে অর্থাৎ ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সময় কালে গড়ে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৭ শতাংশ হারে। আলোচ্য সময়কালে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতাও গড়ে ১ শতাংশ হারে কম হয়েছে। প্রতিবেদনে উত্পাদনশীলতা কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্য ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘দেশে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন কয়েকগুন বেড়েছে’ 

238

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি : দেশে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন কয়েকগুন বেড়েছে। যোগান কম থাকায় দেশে মাংস, দুধ ও ডিমের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশে দুধ ২ গুন, মাংস ৩ গুন এবং ডিমের উৎপাদন ২ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী মাছ, মাংস ও দুধের যোগান দেয়া যাচ্ছে না। ফলে দেশের বাজারে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিতি জানান, বর্তমানে দেশে দুধের চাহিদা ১৪৬ কোটি ৯১ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৭২ কোটি ৭৫ লাখ মেট্রিক টন। ফলে দুধের ঘাটতি রয়েছে ৭৪ কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন। আর মাংসের চাহিদা ৭০ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন হলেন উৎপাদন হচ্ছে ৬১ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন। এখানেও ঘাটতি ৯ লাখ মেট্রিক টন। আর ডিমের চাহিদা হচ্ছে ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার ১৯০ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এখানে ঘাটতি হচ্ছে ৪৮৩ কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৫ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবি 

1487592844

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি : গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান টাকা পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বিশ্বের ‘বৃহত্তম ব্যাংক ডাকাতি’ উল্লেখ করেছে নিউইয়র্কস্থ বিশ্বব্যাপী টাকা পাচার ও অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি এগেইনস্ট ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস (আইসিএএফসি)।

এই ঘটনার বছরপূর্তি উপলক্ষে দিনটিকে জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। দাবির সমর্থনে সম্প্রতি সংস্থাটির পক্ষে থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেস বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে পাচারকৃত টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের অসহায়ত্ব ও ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংগঠিত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ টাকা পাচারের ঘটনার ধরন, ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি আইটি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই কর্তৃক তদন্তের পর মিডিয়াকে প্রদত্ত বক্তব্য, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যাখ্যা স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথা আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় এ ধরনের আরো সাইবার হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিষয়ক প্রযুক্তি সংস্থা সুইফটের বক্তব্যসহ এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পাচারকৃত টাকা উদ্ধারে গৃহীত সকল পদক্ষেপের বর্ণনা রয়েছে স্বারকলিপিতে। জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে স্মারকলিপি দাখিলের পরপর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আইসিএএফসি’র পক্ষ থেকে বাংলাভাষী মিডিয়ার জন্য আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আইসিএএফসিএ’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ওয়ালিউল আলম এবং নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারীর উপস্থিতিতে সমবেত মিডিয়াকে ব্রিফিং করেন সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও মুখপাত্র কাউসার মুমিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ শিল্প উদ্যোক্তা 

77121

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি : বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উত্পাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫৬ জনের মাঝে ‘বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (শিল্প)-২০১৫ কার্ড’ বিতরণ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্ড বিতরণ করেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে সিআইপি (শিল্প) কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ৪৯ জন এবং পদাধিকার বলে সাত জন শিল্প উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান সিআইপি (শিল্প) পরিচয়পত্র পেয়েছেন। এদের বৃহত্ শিল্প ক্যাটাগরিতে ২৫ জন, মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে ১৫ জন, ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে পাঁচ জন, মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে দুই জন, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে দুই জন রয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, সিআইপি (শিল্প) কার্ডপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা রূপালী হক চৌধুরী এবং মো. আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।

উল্লে­খ্য, সিআইপি পরিচয়পত্রধারীদের অনুকূলে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আজ থেকে আগামী এক বছরের জন্য বহাল থাকবে। এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র হিসেবে গণ্য হবে। কার্ডধারীরা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণের সময় বিমান, রেলপথ, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার থাকবে। ব্যবসার কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা প্রাপ্তির জন্য তাঁদের অনুকূলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লি­ষ্ট দূতাবাসে ‘লেটার অব ইনট্রডাকশন’ দেওয়া হবে। তাঁদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিত্সার জন্য হাসপাতালের কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে। কার্ডধারীরা বিমান বন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধাও পাবেন।

অনুষ্ঠানে আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন কার্যক্রম জোরদারের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লে­খ করেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ থেকে রাজধানীবাসীকে সুরক্ষা দিতে সরকার সাভারে আধুনিক চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলছে। এ মাসের মধ্যেই হাজারীবাগ থেকে সকল কাঁচা চামড়া কারখানা সরিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে রাসায়নিক, প্ল­াস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে মাংস বিক্রি শুরু 

14

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি : টানা ছয় দিন পর আজ রবিবার রাজধানীতে মাংস বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার সাধারণত ঢাকায় পশু জবাই করা হয় না। কিন্তু ছয় দিন বন্ধ থাকায় ভোক্তা চাহিদার কথা বিবেচনা করে এ নিয়ম শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেছেন, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট শনিবার শেষ হয়েছে। ফলে আজ থেকে ব্যবসায়ীয়া মাংস বিক্রি করছেন।

তিনি জানান, রবিবারের নিয়ম শিথিল করে ব্যবসায়ীদের মাংস বিক্রি করতে বলা হয়েছে।

গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয় দিনের ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতি।

ব্যবসায়ীদের বাকি দাবিগুলো হচ্ছে- হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া, ট্যানারিতে চামড়া নেয়া ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার অপসারণ।

এদিকে এসব দাবি-দাওয়া আদায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ-আল মামুনের সঙ্গে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ বৈঠক করছেন।

এই বৈঠক শেষে দুপুর ২টায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

এরপর ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।

রবিউল আলম আগেই হুশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্যাসের দাম নিয়ে উভয় সংকট 

44

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি : গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে উভয় সংকটে সরকার। বর্তমানে গ্যাস আমদানির কোনো বিকল্প নেই। আগামী বছরের জুলাই থেকে আমদানি করা গ্যাস ভোক্তারা ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছে সরকার। কিন্তু দেশীয় গ্যাসের চেয়ে আমদানি করা গ্যাসের দাম পাঁচগুণ বেশি। এত বেশি দামে আমদানি করা গ্যাস বর্তমানে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে সরকারকে বছরে কমবেশি ৩০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি গুনতে হবে, যা বহন করা সরকারের পক্ষে অনেকটাই দুরূহ। এদিকে দাম যদি দ্বিগুণও বাড়ানো হয়, তাহলেও সরকারকে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হবে। ওদিকে দাম বাড়ালে শিল্প উৎপাদনসহ সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, দু’বছরের মাথায় জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনী বছরে কোনো সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি নেবে না। কারণ এতে জনমতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে চলতি বছরেই গ্যাসের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এদিকে, বছরে এক দফার বেশি দাম বাড়ানোও মুশকিল। কারণ এতে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সার্বিকভাবে আমদানি করা গ্যাস ও দেশীয় গ্যাসের সমন্বিত দাম নির্ধারণ নিয়ে উভয় সংকটে সরকার।

সূত্র বলছে, শিগগিরই গ্যাসের দাম এক দফা বাড়তে পারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিভিন্ন খাতে দাম বৃদ্ধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে কয়েক মাস আগে। জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বাড়তে পারে।

বর্তমানে সারাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট। ৮০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানি করা হবে ৫০ কোটি ঘনফুট। আগামী বছরের মাঝামাঝি জাতীয় গ্রিডে এই আমদানি করা গ্যাস যুক্ত হবে। পরবর্তী বছরেই আরও ৫০ কোটি ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাস যত বেশি যুক্ত হবে, গ্যাসের দামও তত বাড়তে থাকবে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বেশি দামে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষমতা শিল্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকদের আছে কি-না। একজন শিল্প মালিক নাম না প্রকাশের শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, এভাবে গ্যাসের দাম বাড়তে থাকলে পোশাক রফতানিতে ধস নামবে। কারণ প্রতিযোগিতায় তারা টিকতে পারবেন না।

বিইআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিষয় নিয়ে নানা রকম চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির ভার সরকার বহন করতে পারবে না। একই সঙ্গে শিল্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরাও অসহনীয় কোনো দাম বৃদ্ধি মেনে নেবেন না। ফলে আমদানি করা গ্যাস ব্যবহার শুরু হলে দাম সমন্বয় কীভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। যাই করা হোক না কেন, সবকুল রক্ষা করেই করতে হবে।

আমদানি করা গ্যাসের ব্যবহার শুরু হলে দামের ক্ষেত্রে কী রকম প্রভাব পড়তে পারে সেটি বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (এক হাজার ঘনফুট) গ্যাসের দাম ১৭৩ টাকা (২.১৭ ডলার)। দিনে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি যোগ হলে গ্যাসের দাম হবে প্রতি ইউনিট ৯২১ টাকা। আর ৫০ কোটি ফুট এলএনজি যোগ হলে গ্যাসের দাম হবে প্রতি ইউনিট ৩৪৮ টাকা। আমদানি মূল্য ও স্থানীয় পর্যায়ের শুল্ক ধরে এ দাম হিসাব করা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এলএনজির ওপর ধার্য শুল্ক ও কর না নিলে এ দাম কমবে।

এলএনজি আসার পরও সরকার যদি বর্তমান দরেই (প্রতি হাজার ঘনফুট ১৭৬ টাকা) ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করে তাহলে বছরে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে। দিনে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি ব্যবহার হলে বছরে ভর্তুকি গুনতে হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর দিনে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি যোগ হলে ভর্তুকি গুনতে হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে গ্যাসের দাম এক দফা বৃদ্ধির একটি প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। যে কোনো সময় দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে পারে বিইআরসি। বর্তমান মূল্যের চেয়ে গ্যাসের দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। এই মূল্য বৃদ্ধির বিরোধিতা করছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তরা। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়ালে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। বাড়বে মূল্যস্ফীতি। অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়বে।

বর্তমানে সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ছাড়া দেশীয় গ্যাসের প্রতি ইউনিট উৎপাদনে খরচ হয় ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। এসডি এবং ভ্যাটসহ উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ২৭০ টাকা ৪৬ পয়সা। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করা হয় ১৭৬ টাকা ১৫ পয়সা।

দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। এর ৬২ শতাংশ আসে বিদেশি কোম্পানির (আইওসি) মালিকানাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে। চুক্তি অনুসারে বর্তমানে এই ৬২ শতাংশের ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ বাংলাদেশের অংশ। বাকি অংশ আইওসির। আইওসির অংশ প্রতি হাজার ঘনফুট গড়ে ২৪০ টাকায় কিনে নেয় পেট্রোবাংলা। আইওসিগুলোর কর ও শুল্কও পরিশোধ করে পেট্রোবাংলা। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উত্তোলিত গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। প্রতি ইউনিটে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সব মিলিয়ে গড়ে গ্যাসের উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১২১ টাকার মতো। কিন্তু বিক্রয় পর্যায়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ কর ও শুল্ক ধার্য থাকায় গ্যাসের দাম বেড়ে হয় ২৭০ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমানে ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই। এর ফলে গ্যাসের দাম কয়েক গুণ বাড়বে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে এক দফায় দাম বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে না। তাহলে শিল্প-বণিজ্য সব বন্ধ হয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে দাম বাড়াতে হবে। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মকৌশল প্রণয়ন করা উচিত। কোন বছর কতটুকু বাড়ানো হবে, সরকার কতটুকু ভর্তুকি দেবে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেন উদ্যোক্তারা আগেই জানতে পারেন সামনে গ্যাসের দাম কত হবে। তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, জ্বালানি ঘাটতির সাময়িক সমাধানে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীলতা হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ এতে গ্যাসের দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। অর্থনীতির জন্য তা শুভ ফল বয়ে আনবে না। বিকল্প হিসেবে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দিতে বলেছেন তিনি।

জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, এলএনজি আমদানির পর গ্যাসের দাম কীভাবে নির্ধারণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য শিগগিরই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে জ্বালানি বিভাগ। এর পর করণীয় ঠিক করা হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এলএনজি আসার পর গ্যাসের দাম বাড়বে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে মূল্য একবারে না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করা হবে। সরকার ভর্তুকি দেবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সবদিক বিবেচনা করা হচ্ছে। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

২০৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির দিকপাল ৩২ দেশের তালিকা 

5887

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারি : ২০৫০ সালে পৃথিবীর রূপ আজকের অবস্থা থেকে ব্যাপকভাবে বদলে যাবে। একইভাবে বিশ্বের অর্থনৈতিক আর বিনিয়োগ চিত্রও বদলাবে তার মুখাবয়ব। বিশ্বসেরা পেশাগত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পরবর্তী ৩৩ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর শক্তিশালী অর্থনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর তালিকা বিন্যাস করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে অপর এক প্রতিবেদনে একই প্রতিষ্ঠান ২০৩০ সালের সম্ভাব্য সবচেয়ে শক্তিশালী আর বৃহৎ ৩২টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছিল যাতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৮তম স্থানে।

‘দ্য লং ভিউ: হাউ উইল দ্য গ্লোবাল ইকোনমিক অর্ডার চেঞ্জ বাই ২০৫০’ নামক বিশ্বের ভবিষ্যত অর্থনীতি নিয়ে ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হবে বিশ্বে ২৮তম। একই ধারায় এগোতে থাকলে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।

সামস্টিক অর্থনীতিবিদরা ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) সূত্র ব্যবহার করে থাকেন নির্দিষ্ট সময়কালের আওতায় বিভিন্ন দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাপন মানের তালিকা নির্ধারণে।

সে মতে, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জাপান ও জার্মানির মতো বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তিক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত অনেকগুলো দেশের লক্ষ্যণীয় স্থানচ্যুতি ঘটবে। এসব দেশের স্থান দখল করবে ভারত, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো যারা বিকাশমান বাজারক্ষেত্র হিসেবে পরিগণিত।

২০৫০ সালকে সামনে রেখে করা পিডব্লিউসি তালিকার দেশগুলো হচ্ছে:

৩২. নেদারল্যান্ডস- ১.৪৯৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (পিপিপি)
৩১. কলম্বিয়া- ২.০৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৩০. পোল্যান্ড- ২.১০৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৯. আর্জেন্টিনা- ২.৩৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৮. অস্ট্রেলিয়া- ২.৫৬৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৭. দক্ষিণ আফ্রিকা- ২.৫৭০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৬. স্পেন- ২.৭৩২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৫. থাইল্যান্ড- ২.৭৮২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৪. মালয়েশিয়া- ২.৮১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২৩. বাংলাদেশ- ৩.০৬৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২২. কানাডা- ৩.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২১. ইতালি- ৩.১১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২০. ভিয়েতনাম- ৩.১৭৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৯. ফিলিপাইন্স- ৩.৩৩৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৮. দক্ষিণ কোরিয়া- ৩.৫৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৭. ইরান- ৩.৯০০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৬. পাকিস্তান- ৪.২৩৬
১৫. মিশর- ৪.৩৩৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৪. নাইজেরিয়া- ৪.৩৪৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১৩. সৌদি আরব- ৪.৬৯৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১২. ফ্রান্স- ৪.৭০৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১১. তুরস্ক- ৫.১৮৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১০. যুক্তরাজ্য- ৫.৩৬৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৯. জার্মানি- ৬.১৩৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৮. জাপান- ৬.৭৭৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৭. মেক্সিকো- ৬.৮৬৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৬. রাশিয়া- ৭.১৩১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৫. ব্রাজিল- ৭.৫৪০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৪. ইন্দোনেশিয়া- ১০.৫০২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
৩. যুক্তরাষ্ট্র- ৩৪.১০২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
২. ভারত- ৪৪.১২৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
১. চীন- ৫৮.৪৯৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ । এর একটি ছোট্ট দৃষ্টান্ত-হাতিরঝিল

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য শীর্ষ অর্থনীতির দেশের তালিকা থেকে একই প্রতিষ্ঠানের করা ২০৫০ সালের সম্ভাব্য তালিকায় বেশকিছু দেশের উত্থান-পতন হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারির নতুন তালিকাটিও প্রকাশ করে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত দ্য বিজনেস ইনসাইডার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গরু-খাসি উধাও, বাড়ছে মুরগির দাম 

211

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারি : রাজধানীতে গত রোববার থেকে চলছে মাংস ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট। ফলে সব মাংসের দোকানেই ঝুলছে তালা। অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। কোথাও গরু-মহিষ কিংবা খাসি-ভেড়ার মাংস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। অনেকে গরুর মাংস কিনতে এসে বাসায় ফিরছেন মুরগি নিয়ে। আর এ সুযোগে প্রতিদিনই বাড়ছে মুরগির দাম। আগের তুলনায় কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

বাজারে গরু ও খাসির মাংস না পেয়ে কেউ কেউ আবার যাচ্ছেন সুপারশপে। কিন্তু নিস্তার নেই সেখানেও। গলা কাটা দাম রাখছে অভিজাত এই দোকানগুলো, কেজিতেই বেশি দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না মাংস। এসব কারণে হোটেলেও বন্ধ হয়ে গেছে তেহারি ও বিরানি বিক্রি। গতকাল ইস্কাটনের মিনাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, তাদের কাছে অল্প পরিমাণ গরুর মাংস আছে। তবে খাসির মাংস আগেই শেষ। সেখানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৪৫ টাকা কেজি। চামড়া ছাড়া ব্রয়লার মুরগির মাংস ২৫৮ ও চামড়াসহ ২৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন বিক্রয়কর্মী জানান, তারা নিজস্ব ফার্মের গরু বিক্রি করছেন। আর খাসির মাংস বিক্রি করেন বাইরে থেকে কিনে এনে। বর্তমানে বাইরে খাসি বিক্রি বন্ধ থাকায় এখানেও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ধর্মঘটের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মগবাজারের স্বপ্ন সুপারশপের অবস্থাও একই। সেখানেও কোনো খাসির মাংস পাওয়া যায়নি। কিছু গরুর মাংস আছে তাদের কাছে। তবে স্বপ্নের মাংসের দাম মিনাবাজারের তুলনায় কিছুটা কম। এখানে গরু বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪৯০ টাকায়। আর ব্রয়লার মাংসের দাম ২৪০ থেকে ২৭৫ টাকা। বিক্রেতারা জানান, তারাও নিজস্ব ফার্মের গরু বিক্রি করছেন।

এদিকে মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি শুনতে আগামী রোববার সরকারের পক্ষ থেকে নিজ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডেকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু সেখানেও দাবি পূরণের আশ্বাস না পেলে ব্যবসায়ীরা লাগাতার ধর্মঘটে যাবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মর্তুজা মন্টু এ প্রতিবেদককে বলেন, আগামী রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী আলোচনার জন্য সচিবালয়ে ডেকেছেন। সেখানে আলোচনা হবে। আমাদের কোনো অন্যায় দাবি না, ন্যায়সঙ্গত দাবি নিয়েই ধর্মঘট পালন করছি। তা ছাড়া আমরা ভারত বা বার্মা (মিয়ানমার) থেকেও আসিনি। আমরা এ দেশেরই সন্তান। আর যাদের বিরুদ্ধে ধর্মঘট চলছে, তারাও এ দেশের সন্তান। তাই কাউকে বাদ দিয়ে কিছু সম্ভব নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

মাংস ব্যবসায়ীদের চার দফা দাবির মধ্যে রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ করা অন্যতম। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে ঢাকায় আসতে ৫০ হাজার টাকা লেগে যায়। পুরো ২০ হাজার টাকাই পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। এ কারণে বাজারে গরুর মাংসের দাম বেশি পড়ে। এখন যে দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে তা অন্যায্য বলেও দাবি করছেন তারা। ক্রেতাদের ঠকিয়ে এত দামে মাংস বিক্রি করতে তাদেরও মন চায় না। তাই বাধ্য হয়ে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

তবে শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাংসের দোকানগুলোয় তালা ঝুলছে। গত রোববার থেকেই তারা দোকান বন্ধ রেখেছেন। আগামী রোববার পর্যন্ত কেউ দোকান খুলবেন না। তাই বিক্রেতারা বসে অলস সময় পার করছেন। কেউ বসে গল্প করছেন, কেউ আবার মোবাইলে গেমস কিংবা তাস খেলছেন। জানতে চাইলে তারা বলেন, কোনো কাজ নেই বলে বসে আছি। তবে এখনো অনেক ক্রেতা আসেন, মাংস কিনতে চান। কিন্তু আমাদের কাছে না থাকায় বিক্রিও করতে পারছি না।

সেগুনবাগিচার হাজি আফজাল গোশত বিতানের বিক্রেতা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৮০ টাকা এবং খাসি সাড়ে সাতশ টাকা দরে বিক্রি করলেও লোকসান হয়। অন্যদিকে এত দাম রেখে ক্রেতাদের সঙ্গেও অন্যায় করা হয়। দাম নিয়ে প্রতিদিনই ঝগড়া হয় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। ঢাকার বাইরে থেকে গরু আনতে চাঁদা দিতে দিতে মালিকের অবস্থা খারাপ। আর এই চাঁদার বাড়তি খরচ গিয়ে পড়ে মাংসের ওপর। এভাবে আর কতদিন চলে বলেন?

শান্তিনগরের ব্যবসায়ী মো. মোকলেস জানান, বেশি দামে গরু ও ছাগল কিনেও চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। অথচ আগে গরু-ছাগল বেশি দামে কিনলেও চামড়া বিক্রি করে কিছুটা পোষানো যেত। এখন খুবই খারাপ অবস্থা। আগে গরুর চামড়া আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যেত। এখন সেই চামড়া অনেক কমে বিক্রি করতে হয়। আর ছাগলের চামড়া বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। কখনো সেই চামড়া নিতেও চায় না।

এদিকে সেগুনবাগিচার নিউ বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউসের বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, বাজারে গরু ও খাসির মাংস না থাকায় আড়ত থেকেই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। গতকাল এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। আর ছোট আকারের ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা এবং লেয়ার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাঘাইছড়িতে শনিবার ব্যাংক বন্ধ 

0235

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারি : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আগামী শনিবার তফসীলি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী কার্যলয়সহ ব্যাংকের সব শাখা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিনকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এক প্রজ্ঞাপনপত্র জারি পাঠিয়েছে দেশে কার্যরত সকল তফসীলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে।

প্রজ্ঞাপনপত্রে বলা হয়, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লে­খ করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিশ্বব্যাংকের ১৬ গাড়িসহ পাস বই তলব 

52522

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারি : শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের ১৬টি গাড়িসহ পাস বই তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

আজ বুধবার সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল ইসলাম খান।

মইনুল জানান, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে ১৬টি গাড়ি, কাগজপত্র ও পাস বই তলব করা হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের অধীনে কোরীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের লোকজন বাংলাদেশে কাজ করেছেন। তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা নিয়েছিলেন। বিপরীতে তাদের কাগজপত্র, পাস বই দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু কাজ শেষে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় তারা কাগজপত্র, গাড়ি ও পাস বই হস্তান্তর করেননি। তাই বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরকে অনুরোধ করা হয়েছে, গাড়িগুলোসহ কাগজপত্র হস্তান্তরের জন্য। এ বিষয়ে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতেও কান্ট্রি ডিরেক্টরকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দ্বিতীয় বছরের মতো আলু রপ্তানি করছে প্রাণ 

33

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারি : দ্বিতীয় বছরের মতো আলু রপ্তানি শুরু করেছে প্রাণ। ৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৫২ টনের প্রথম চালানটি মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। চলতি বছরে ২০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাণ চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের কাছে থেকে গ্রানুলা, ডায়মন্ট ও অ্যাসটেরিক্স জাতের মানসম্পন্ন আলু সংগ্রহ করে। বর্তমানে  দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও-এ প্রাণ এর প্রায় ২০০০ আলুচাষী রয়েছে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার চুক্তিভিত্তিক আলুচাষী আব্দুল মজিদ বলেন, দুই বছর ধরে তিনি প্রাণ এর কাছে আলু সরবরাহ করছেন। গত বছর তিনি তিন একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। চুক্তিভিত্তিক চাষ লাভজনক হওয়ায় এবার তিনি চার একর জমিতে আলু চাষ করেছেন।উন্নতমানের আলু উৎপাদনের লক্ষে কোম্পানিটি কৃষকদের স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করে।

কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ায় উন্নতমানের আলু উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রির নিশ্চয়তা পাওয়ায় চুক্তিভিত্তিক চাষে আগ্রহী হচ্ছে বলে জানান প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজাজামান কামাল বলেন, গত বছর আমরা সীমিত আকারে আলু রপ্তানি শুরু করি। আশাব্যাঞ্জক সাড়া পাওয়ায় এই বছর আমাদের ব্যাপক পরিমাণে আলু রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া ছাড়াও এই বছরে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, জাপান ও শ্রীলংকায় আলু রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের উৎপাদিত আলু রপ্তানির পাশাপাশি চিপস ও স্টার্চ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলেও জানান কামরুজজামান। প্রাণ ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো আলু রপ্তানি করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর