২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:১১, শুক্রবার

আগামী ৩ মাস প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আনা যাবে

আগামী ৩ মাস প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আনা যাবে 

55

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : আগামী ৩ মাস বিদেশ থেকে আমদানি করা চাল সংরক্ষণ বা পরিবহনে পাটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করা যাবে। তবে দেশে উৎপাদিত চাল সংরক্ষণ বা পরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাল সংকট এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেদিক বিবেচনা করে আগামী তিন মাসের জন্য আমদানি করা চাল আনতে পাটের বস্তা ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, আমদানি করা চালের বস্তায় ‘আমদানিকৃত’ সিল থাকতে হবে। এই সিল থাকলে ক্রেতারা প্লাস্টিকের বস্তা ঘর পর্যন্ত নিতে পারবেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ আইন শিথিল করা হলো বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

উল্লেখ্য, চালের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে আমদানিকৃত চালে পাটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ীদের সাথে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা 

58852

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানো উৎসাহিত করতে ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে রেমিটেন্স পাঠিয়ে এবং পাঠাতে সহায়তা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৪টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হযেছে। এবার সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী ব্যক্তি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। তিনি আগেও একই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী ২১ জন, বন্ডে বিনিয়োগকারী ৫ জন, বিদেশি বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৪টি এক্সচেঞ্জ হাউজ ও শীর্ষ রেমিটেন্স আহরণকারী ৫ ব্যাংককে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষ রেমিটেন্স প্রেরণকারীর তালিকায় পর্যায়ক্রমে প্রথম স্থানে রয়েছেন মাহতাবুর রহমান, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহাম্মদ অলিউর রহমান, তৃতীয় মোহাম্মদ মাহবুব আলম, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ এমাদুর রহমান, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ মনির হোসেন, মো. শফিক, নূপুর কুমার ফৌমিক, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আবু নাইম মো. তৌহিদুল আলম চৌধুরী, এএইচ এম তাজুল ইসলাম।

অদক্ষ রেমিটেন্স প্রেরণকারীর তালিকায় পর্যায়ক্রমে প্রথম স্থানে রয়েছেন মো. আব্দুল হাকিম, দ্বিতীয় মনির হোসেন, তৃতীয় মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ডলি মোহাম্মদ, বিকাশ কান্তি শুশীল, মোহাম্মদ ইউসুফ, মাসুদ পারভেজ, আব্দুল কুদ্দুস এবং মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম।

বন্ডে বিনিয়োগকারী হিসেবে তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন জামিল আজহার, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নূর মোহাম্মদ, তৃতীয় স্থানে শামীমা হোসেন, নিহাল রে রহিম এবং নাভিদ রশিদ খান।

সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আহরণকারী তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রথম স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড লিমিটেড; তৃতীয় স্থানে অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক।

অনিবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন ৪টি এক্সচেঞ্জ হাউজের মধ্যে প্রথমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্লাসিড এনকে করপোরেশন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালির ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ কোম্পানি, তৃতীয় হয়েছে যুক্তরাজ্যের এনইসি মানি ট্রান্সফার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস।

সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী ও বন্ডে বিনিয়োগকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। অপর ৯ জন যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, কাতার ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অস্থির চালের বাজার নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? 

rice-price

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর : চালের দাম এতোটা উর্ধ্বমুখী এর আগে কখনো হয়নি। অস্থির চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মিয়ানমার থেকে এক লক্ষ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এনিয়ে ঢাকায় সোমবার মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের সাথে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার বলছে, মিল মালিকদের গুদামে কতটা চাল মজুত আছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সীমার বাইরে মজুত থাকলে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে।

উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নওগাঁর একজন চালকল মালিক সারোয়ার আলম বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগে কোন কাজ হবে কিনা সেটি নিয়ে তার সংশয় আছে।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে চাল কল মালিকদের মাঝে ‘আতংক’ সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ‘আতংক’ তৈরি হলে চাল ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে এখন মোটা চালের কেজি কমপক্ষে ৫০ টাকা।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারের গুদামে যথেষ্ট চাল মজুত না থাকার কারণেই এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

একটা সময় চালকল মালিকরা সরকারের বেঁধে দেয়া দামে তাদের কাছে চাল বিক্রি করতে চাননি।

ফলে বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতির আশংকা থেকেই চালের বাজার উর্ধ্বমুখী হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সরকারীভাবে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দেবার উদ্যোগ নেয়া হয়।

“সে সময় চালের একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বোরো ধানের উৎপাদনের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও, এরপর বন্যার কারণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এখন যখন আমনের উৎপাদন চলছে তখন আশংকা রয়েছে যে বাজারে পর্যাপ্ত উৎপাদন নাও আসতে পারে,” বলছিলেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

কিন্তু এ পরিস্থিতিকে সংকট বলতে রাজী নয় সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলছেন, কোথায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকা দিলে চাল পাওয়া যায়। তার মানে কোন ঘাটতি নাই। আমারা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের বলেছি, বিভিন্ন জায়গায় চাল কল মালিকদের সাথে আলাপ করে জেনে নেয়া যে কোন মিলে কত চাল মজুত আছে।”

তিনি বলেন, যদি বেশি মজুত থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, আর যদি বেশি মজুত না থাকে তাহলে কোন সমস্যা নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানালেন, কোন চাল ব্যবসায়ীকে অগ্রিম গ্রেফতারের কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে সরকারী গুদামে চাল সংগ্রহ করা।

যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে সরকার গুদামে মজুদ করতে পারছে না তাহলে পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হবে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, সরকারী গুদামে চালের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে চাল আমদানিতে উৎসাহ দিতে হবে।

মি: মোয়াজ্জেম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সরকারের অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায় থেকেও যথেষ্ট চালের আমদানি বাড়াতে হবে।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানাচ্ছেন, সরকার চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কোন জোর জবরদস্তি করতে চায় না। বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে কিভাবে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য। -বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হঠাৎ পতন বিটকয়েনের 

9222

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর : হোঁচট খেয়েছে ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের অগ্রযাত্রা। এ মুদ্রাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিটকয়েনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত বিটকয়েন নিষিদ্ধ করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এ পরিকল্পনা জানানোর পর বিটকয়েনের বাজার ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করেছে।

গত এক সপ্তাহে বিটকয়েনের দর প্রায় এক হাজার ডলার কমে গেছে। এক সপ্তাহ আগে বিটকয়েনের দাম ৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে। এখন তা ৪ হাজার ১০৮ ডলারে নেমে এসেছে। ২০০৮ সালে এ মুদ্রা চালু হয়।

বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের হিসাব গোপন থাকে বলেই এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ২০১৪ সালে বিটকয়েনের বড় আকারের দরপতন ঘটে। তবে পরে আবার বাড়তে থাকে। গত এক বছরেই বিটকয়েনের দাম বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বছরে কোটিপতি হচ্ছেন ৫ হাজার লোক 

0258

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ‘পাকিস্তানের ২২ পরিবার কোটিপতি, আমরা কিন্তু আন্দোলন করেছি। এখন বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ হাজার লোক কোটিপতির খাতায় নাম লেখাতে পারছে। কাজেই একটা বৈষম্যের ব্যাপার আছে।’

দশম মিসবাহউদ্দিন খান স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের মূল বক্তা হিসেবে গতকাল শনিবার এসব কথা বলেন ফরাসউদ্দিন। মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা ট্রাস্ট গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফরাসউদ্দিনের বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক রূপান্তরে জনকল্যাণ—কোন পথে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বিষয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমলে গিনি সহগ ছিল শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, এটা এখন দশমিক ৪৫ শতাংশ। এটা দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। যদি একটি সমাজে গিনি সহগ শূন্য হয় তাহলে সে সমাজে কোনো সম্পদবৈষম্য থাকে না। আর যদি ১ হয় তাহলে একজনই সব সম্পদের মালিক। গিনি সহগ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা কোনো দেশের আয় বা সম্পদের বণ্টনের অসমতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অনুপাত বা ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা হয়, যার মান ০ থেকে ১-এর মধ্যে থাকে।

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন,বাংলাদেশের ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৩ লাখ টাকার বেশি। অথচ কর দেন মাত্র ১৫ লাখ লোক। কর যাঁরা দেন এটা শুধু তাঁদের সমস্যা নয়, যাঁরা কর আদায় করেন তাঁদের ব্যবস্থাপনায় সমস্যা আছে। অন্তত এই সোয়া কোটি মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। এই কাজটি ছলেবলেকৌশলে না করে বুঝিয়ে করতে হবে।

জ্বালানি তেল বিক্রিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ভূমিকার সমালোচনা করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কম দামে তেল আমদানি করে তা বেশি দামে বিপিসিকে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপিসির যদি বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা লাভ হয় তাহলে এর অর্ধেক কেন সরকারি কোষাগারে জমা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনে বিকল্প প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নভিত্তিক মডেল নিতে হবে। ১৯৭২ সালে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) শিল্প খাতের অবদান ছিল ৭ শতাংশ, এখন সেটা ৩০ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে সেবা খাত থেকে আসছে ৫৪ শতাংশ। সেবা খাতে লাভ বেশি, কর্মসংস্থান কম। এ জন্য শিল্প খাতকে জোর দিতে হবে কারণ এতে বেশি কর্মসংস্থান হবে, তাতে সম্পদবৈষম্য ও দারিদ্র্য কমবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫ কোটি। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে। এর ফলে তাঁরা মানব-মূলধনে পরিণত হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের মানুষ 

255

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর : অস্থির চালের বাজার। বর্তমানে রাজধানীর খুচরাবাজারে ৫০ টাকা কেজির নীচে মোটা চাল নেই বললেই চলে। আর ভালোমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। এছাড়া বিআর-আটাশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণির ভোক্তারা। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে।

এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আগামীকাল রবিবার থেকে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি শুরু করবে সরকার। প্রতি কেজি চাল ১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকায় বিক্রি করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে তা চালু হবে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সরকারের কাছে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রবিবার থেকে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস চালু হবে। যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন ওএমএস চালু থাকবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওএমএস-এর পাশাপাশি আগামী বুধবার থেকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু হবে। এ কর্মসূচিতে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে আগামী তিন মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ কর্মসূচি চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় চালের মজুত ও সরকারের সব গুদামে চালের সুষম বণ্টন না হওয়ায় এ কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। জানা যায়, বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এসব চালের বেশির ভাগ চট্টগ্রাম ও খুলনাকেন্দ্রিক খাদ্যগুদামগুলোতে ছিল। কারণ, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করে তা চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে খালাস করে বন্দরকেন্দ্রিক গুদামগুলোতে রাখা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য দেরিতে শুরু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি।

এদিকে আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও অস্থিরতা কমছে না চালের বাজারে। চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন। সিন্ডিকেটটি ব্যবসায়ীদের মাঝে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে চালের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর উত্পাদন কম হওয়ার পর থেকেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ-উল আযহার আগে কিছুদিন বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর আবার চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সব ধরনের চালে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের আমদানি বাড়াতে গত এক মাসে আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো প্রভাব নেই চালের বাজারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কেজিতে চালের দর বেড়েছে ৮-১০ টাকা 

54

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর : হাওড়ে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর দুই দফা বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে করে বেশ কয়েক মাস আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম গত কয়েকদিনে আরো বেড়েছে।আর সপ্তাহের ব্যবধানে চলের দাম বেড়েছে প্রায় ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছ এবং মুরগীর দাম আগের বাড়তি দামেই স্থীতিশীল থাকলেও নতুন করে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে চালের দাম।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দামে কিনে বাড়তি দামে বিক্রি করবো- এটাই স্বাভাবিক। দাম বাড়ার জন্য বরাবরই মিল মালিক ও আড়ৎদারদের দায়ী করছেন তারা। তবে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি ৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে (ভালো মানের) ৬৪ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৬০ টাকা, বিআর-২৮  ৫৮ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৫ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাতিরপুল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বাড়তি দামে কিনছি; সে অনুযায়ীই বিক্রি করছি। আড়ৎদাররাই বাড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের কিছুই করার নেই।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান এ প্রতিবেদককে বলেন, চালের দাম বাড়ছে; আরও বাড়বে। বন্যার সমস্যা এখনো কাটিয়ে উঠেতে পারেনি মিল মালিকেরা। ফলে দাম বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের সাবধান করে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মন্ত্রী তো মন্ত্রীর জায়গায় থেকে এসব কথা বলেছে; তিনি তো আর মাঠে গিয়ে দেখেন না। শুধু মুখে বললেই হবে না; এক্ষেত্রে মন্ত্রীরও অনেক দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

এদিকে ক্রেতারা মনিটরিং এবং সঠিক তত্ত্বাবধায়নের অভাবকে দায়ী করছেন। ক্রেতা ফাহমিদা হোসেন বলেন, চালের দাম যেভাবে বাড়ছে; তাতে করে আগামী কয়েকদিনে ৮০-৯০ টাকা হয়ে যাবে মানে হচ্ছে।

এদিকে সবজির বাজার আগের বাড়তি দামেই স্থীতিশীল রয়েছে। আজকের বাজারে বেগুন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; দেশি টমেটো ৯০ টাকা; শশা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা; বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আজকের বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১০০০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০; পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কোরবানি ঈদের পর গরু ও খাসির মাংসের বাজার বন্ধ রয়েছে। -অর্থসূচক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চালের বাজার অস্থিতিশীল 

55863

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর : ভারত রফতানি বন্ধ করবে_ এমন খবরে দেশের চালের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। গত দু’দিনেই পাইকারিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে ভারত আসলেই রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি-না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতের কোনো গণমাধ্যমেও এ সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের এক চিঠির বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস ভারত থেকে চাল রফতানি করতে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ চিঠিটি সঠিক কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এমন সন্দেহ পোষণ করেছেন কর্মকর্তারা।

এর আগে দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। ডেপুটি হাইকমিশনার এখন কক্সবাজারের উখিয়ায় আছেন। তিনি ঢাকায় ফেরার পর তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে চালের প্রচুর মজুদ আছে। কোনো সংকট নেই। বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হয়েছে। অনেক চাল আমদানি পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত চাল পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই। মন্ত্রী বলেন, চাল মজুদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সরকারি অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের গোডাউনে চালের অবৈধ মজুদের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে।

আমাদের পাবনা অফিস ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানান, উত্তরবঙ্গে মোটা চালের বৃহৎ আড়ত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর মোকামে হঠাৎ করে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তবে দাম বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ মোকামে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি (৮৪ কেজি) ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে চালের দাম বাড়ার কারণে ঈশ্বরদী মোকাম প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এর আগের মঙ্গলবার যে চালের বস্তা ছিল ৩ হাজার ৮০০ টাকা, মঙ্গলবার তা বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। এ মোকামে চালের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঈশ্বরদীর বাইরের ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে আসছেন না বলে মোকাম সূত্রে জানা গেছে।

ভারত থেকে চাল আমদানি করেন দিনাজপুরের ব্যবসায়ী ললিত কেশরা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা চাল রফতানি বন্ধের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এখন পর্যন্ত রফতানি বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রফতানি বন্ধ হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। ললিত বলেন, রফতানি বন্ধ না হলেও আমদানির জন্য আগে খোলা ঋণপত্রের দর অনুযায়ী চাল পাওয়া যাচ্ছে না। রফতানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি টন মাঝারি মানের চাল ৫০০ ডলারের বেশি দামে এখন আনতে হবে।

ললিত কেশরা আরও বলেন, ঈদের পর থেকে পাইকারদের তিন থেকে চারগুণ চালের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। গতকাল আমদানি করা মোটা চাল তারা ৪২ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করেছেন, দু’দিন আগেও যা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা ছিল। এখন মাঝারি মানের চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের দাম কমবেশি আগে থেকেই বাড়ছিল। আকস্মিক ভারত চাল রফতানি বন্ধ করবে_ এমন খবরে মিলগেটে ও রাজধানীর পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিতে গড়ে ৫ টাকা বেড়েছে। একই সংবাদে খুচরা পর্যায়েও বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খুচরায় কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর পাইকারি চালের আড়ত বাদামতলী ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট। এ দুই বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আমদানি করা মোটা চাল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম পড়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, যা দু’দিন আগেও ছিল ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা। এ মাসের শুরুতে ছিল ৪১ থেকে ৪২ টাকা। এ বাজারে মাঝারি মানের আমদানি করা ও দেশি বিআর ২৮ চাল ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়। ভালো মানের সব ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৫৯ থেকে ৬১ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। গত সোমবার মাঝারি মানের চাল পাইকারিতে ৪৭ থেকে ৫০ টাকা, সরু চাল ৫৫ থেকে ৬৪ টাকা ছিল।

বাদামতলী আড়তদার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতের চাল রফতানি বন্ধের খবরে দেশে চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, মিলগুলো ধানের বাড়তি দামের কথা বলে চালের দাম বাড়াচ্ছে। দেশে আগে দেড় থেকে দুই হাজার মিল ছিল। এখন ৪০ থেকে ৫০টি বড় মিল পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, এবার মৌসুমে সিটি গ্রুপের নতুন চালের মিল, রশিদ, এরফান, সাগরসহ বড় মিলগুলো প্রতিযোগিতা করে অতিরিক্ত দামে ধান কিনে এখন বেশি দামে বিক্রি শুরু করেছে। তাছাড়া এবার বন্যায় উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদামতো ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে এখন বাজারে প্রভাব পড়ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জাহান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম স্বপন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমদানি করা চালের দাম বেড়েছে। দেশি মিলগুলো দাম অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ দাম পড়ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ দামে মিল থেকে চাল আনতে হলে কেজিতে আরও দাম বেড়ে যাবে।

খুচরা বাজারেও গত দু’দিনে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে বলে জানান মিরপুর ১ নম্বরের চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি মুহূর্তে পাইকারি বাজারে চালের দাম পরিবর্তন হচ্ছে। আমদানি করা মোটা চাল ৫১ থেকে ৫২, বিআর ২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৭, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৪ ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কৃষি পুরস্কার দেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক 

04

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর : দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কৃষি পুস্কার দেবে বেসরকারি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিটপী দাশ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবছর সাতটি ক্যাটাগরিতে অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড বা কৃষি পুরস্কার-২০১৭ দেওয়া হবে। ক্যাটাগরি বা শ্রেণিগুলো হলো- বছরের সেরা পুরুষ কৃষক, বছরের সেরা নারী কৃষক, সেরা উদ্ভাবন ও গবেষণা সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সেরা সমর্থন/সহায়তা ও বাস্তবায়ন সহযোগী সংগঠন, কৃষিখাতের প্রযুক্তির সেরা ব্যবহার, সেরা কৃষিপণ্য রফতানিকারক এবং বছরের সেরা কৃষক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরিফুল ইসলাম, গত বছরের সেরা পুরুষ কৃষক পুরস্কার বিজয়ী মো. আব্দুল সাত্তার সানা, সেরা নারী কৃষক পুরস্কার পাওয়া হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের ৩১ শতাংশ ব্যয় ঋণ পরিশোধে 

999

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর : গত পাঁচ বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে যে অর্থ উত্তোলন করেছে তার ৩১ শতাংশই ব্যয় করা হয়েছে ঋণ পরিশোধে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ার ব্যবসায়ীরা কোম্পানিতে পুঁজির জোগান দেয় ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য। যেন কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মুনাফা বাড়াতে পারে। সে মুনাফার ভাগ পাবে শেয়ারহোল্ডার। কিন্তু ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করায় কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের পর তাদের মুনাফা আর প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শেয়ার বিনিয়োগকারীরা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তথ্যে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে ৫০টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করেছে। এরমধ্যে ৩১ শতাংশই ব্যয় করা হয়েছে ঋণ পরিশোধে। আর ৪৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করা হয়েছে ব্যবসা সম্প্রসারণে। আইন অনুযায়ী উত্তোলিত মূলধনের এক তৃতীয়াংশ টাকা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা যায়। তবে ব্যাংক ঋণে যতটা কম ব্যবহার করা হয় পুঁজিবাজারের জন্য ততই ভালো।

আইপিওর টাকা ঋণে ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলো বলছে, আমাদের দেশে আইপিও প্রক্রিয়া খুবই শ্লথ গতির। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইপিওর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করতে ২ থেকে ৩ বছরও সময় লেগে যায়। তাই আইপিওর টাকা পাওয়ার আশায় বসে থাকলে ব্যবসা করা যায় না। ফলে তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প শুরু করে দেন। পরে আইপিওর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেন। তবে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু কোম্পানি পুরোনো ঋণ পরিশোধেও টাকা উত্তোলন করে। কোম্পানিগুলো যখন ঋণের ভারে চলতে কষ্ট হয়ে যায় তখন তারা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন করে। কিছুদিন পর এসব কোম্পানি মুনাফা করতে পারে না। ফলে কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানিগুলো ঋণ পরিশোধে অর্থ ব্যয় করতে পারে, কিন্তু বেশি পরিমাণে করা উচিত নয়। অথচ প্রায়ই দেখা যায় যখন কোনো কোম্পানি অত্যধিক ঋণের ভারে চলতে পারে না। তখন তারা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে। ফলে অর্থ উত্তোলন করে পুঁজি বাড়ানো হলেও কোম্পানির আয় তেমন বাড়ে না। এতে অনেক কোম্পানিই পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাদের শেয়ারের দাম অফার প্রাইসের (যে দামে শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি) নিচেও নেমে আসে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, আইপিওর অর্থে ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে। তবে আমাদের দেশে সাধারণত যারা আইপিওর অর্থ ঋণ পরিশোধে বেশি ব্যয় করেছে সে কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করতে পারেনি। ফলে কোনো কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করে ভালো অবস্থায় ফিরে আসার সত্ উদ্দেশ্য থাকলেও তারা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারে না। তাছাড়া আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এতে যেসব কোম্পানির ঋণ বেশি থাকে সেসব কোম্পানির উদ্যোক্তারা বেশি শেয়ার হাতে রাখেন না। কোম্পানিগুলোর অবস্থাও ভালো থাকে না। ফলে আস্থা হারান বিনিয়োগকারীরা। তাই কোনো কোম্পানি আইপিওর টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে দেখলেই বিনিয়োগকারীরা ভয় পান। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ফিরছে 

Loading Container

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১১ সেপ্টেম্বর : চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একইসঙ্গে এ সময়ে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাও ছাড়িয়েছে। গত দুই মাসে মোট ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির হয়েছিল ৫৮২ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার  চেয়ে সাত দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে।

গত দেড় দশকের মধ্যে গেল অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত দেড় দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। অন্য দিকে, অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি হয়েছে। এসব বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেশ ভালো রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, আবারো গতি ফিরছে রপ্তানি বাণিজ্যে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একক মাস হিসাবে গত আগস্ট মাসের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৩৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। অন্য দিকে, গত অর্থবছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩২৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। অর্থাত্ আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রপ্তানি আয়ের প্রধান হাতিয়ার তৈরি পোশাকের মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেই রপ্তানির সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়। আর সেটা হলেই প্রবৃদ্ধিও স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। ইপিবির তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। আর গত দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি করে ২৮৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে এ আয় আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি। তবে হোম টেক্সটাইল ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। হোম টেক্সটাইল খাতে এ দুই মাসে আয় হয়েছে ১৪ কোটি সাত লাখ ডলার। আর স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে আয় হয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার। হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে চার দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আলোচ্য সময়ে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ম্যানুফেকচারার্স পণ্যসহ রপ্তানি তালিকার বিভিন্ন পণ্যেই রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে। তবে জুলাই ও আগস্ট মাসে রপ্তানির ভালো অবস্থার মধ্যেও কেমিক্যাল প্রোডাক্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট, কার্পেট, গ্লাস ও গ্লাসওয়্যার, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রভৃতি পণ্যে লক্ষ্যমাত্রা বা প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জিত হয়নি। আর পাট ও পাটজাত পণ্য, রাবার, প্লাস্টিক পণ্য, অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং প্রোডাক্ট প্রভৃতিতে প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত পোশাকনির্ভর। রপ্তানিতে পোশাক খাত ভালো করলে তার ইতিবাচক প্রভাব পুরো রপ্তানির ওপর পড়ে। অন্য দিকে, পোশাক খাতে রপ্তানি খারাপ হলে তার নেতিবাচক প্রভাবও একইভাবে পড়ে। তিনি বলেন, রপ্তানি আয় আরো বাড়াতে প্রচলিত বাজার ছাড়াও অনেক নতুন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর প্রতিও মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। তবে পোশাক ছাড়া অন্যান্য খাতের রপ্তানি আয় নেতিবাচক। এজন্য তিনি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তাসহ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চামড়ার বাজারে ধস, বঞ্চিত হলো দুস্থরা 

522

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১০ সেপ্টেম্বর : এবার ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে রীতিমত ধস নেমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়ার ফ্যাক্টরি স্থানান্তর হওয়া, ট্যানারি মালিকরা পোস্তার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা না দেওয়ায় তারা পাইকারি ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সরকার চলতি বাজার দরের চেয়ে কম দর নির্ধারণ করায় চামড়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চামড়ার বাজারে ধস নামায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে দুঃস্থ-অসহায়দের। কারণ, ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি হলে গরীব-অসহায়রা বেশী অর্থ পেতেন। এদিকে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে দাম কম হওয়ায় অনেক চামড়া পাচার হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

চামড়া ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান,  ১ লক্ষ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকায়। এমনকি ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। ঢাকায় ঈদের দিন শনিবার মাঝারি গরুর চামড়া ৭ থেকে ৮শ’ ও বড় গরুর চামড়া সাড়ে ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ ঈদের পর গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ দেয়নি। তাই নগদ টাকার সংকট থাকায় চামড়া কিনতে অগ্রিম অর্থ দিতে পারিনি। এ কারণে পাইকারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সুবিধামতো বিভিন্ন দরে চামড়া কিনেছেন। তবে এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা হলেও ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরসহ নানা অজুহাতে মালিকরা আমাদের টাকা পরিশোধ করছেন না। এ কারণে তারা চামড়া কেনার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের টাকা দিতে পারেনি।

কোরবানির চামড়া পাচার হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু জবাই হয়েছে। কিন্তু সে হিসেবে চামড়া প্রান্তিক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের কাছে নেই। সীমান্তবর্তী জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা ভারতে চামড়া বিক্রি ও পাচার করছেন।

উত্তরবঙ্গে চামড়ার একটি বড় বাজার বগুড়া। বগুড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাহী সদস্য রোকন, খোকন  জানান, ঢাকায় ট্যানারি স্থানান্তর, জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের টাকা ট্যানারি মালিকরা আটকে রাখা এবং লবণের বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোই এবার চামড়ার বাজার ধসের কারণ।

খুলনা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ঢালী বলেন, আগে ঈদে শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার চামড়া সংগ্রহ হলেও এবার হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার। বাকি চামড়া কিছু মাদ্রাসায় গেছে, কিছু পাশের জেলা দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এবার সরকারিভাবে কোরবানির গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা ও বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ট্যানারি ব্যবসায়ীদের হিসেবে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এসব চামড়ার অর্ধেকেরও বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া আসছে না বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভবন সরাতে আরও ১ বছর চায় বিজিএমইএ 

2333

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর : নতুন ভবন তৈরি হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তাই রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে কার্যালয় সরাতে আদালতের কাছে আরও এক বছর সময় চেয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

সিদ্দিকুর বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব। তবে নতুন ভবন সম্পন্ন হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তাই আমরা মহামান্য আদালতের কাছে আরও একটি বছর চেয়েছি।

এ সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায়ে ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে ছয় মাস সময় দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট।

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত ওই ভবন হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করার পর আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে। বিজিএমইএ ওই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলে তাও খারিজ হয়ে যায়।

পরে কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ তিন বছর সময় চায়। আদালত তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলেছিল।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সেই সময়সীমা উত্তীর্ণ হবে। তার আগেই তারা আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করল বিজিএমইএ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাথাপিছু জিডিপিতে পাকিস্তানকে ছাড়াল বাংলাদেশ 

578

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে এটি পাকিস্তানের চেয়ে অনেক দরিদ্র একটি দেশ। সে সময় বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল মাত্র ৬-৭ শতাংশ, যা পাকিস্তানে ছিল ২০ শতাংশেরও বেশি।

তবে সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশ ক্রমেই বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সূচকে পেছনে ফেলেছে পাকিস্তানকে। সর্বশেষ মাথাপিছু জিডিপিতেও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

‘দ্য ইকোনমিস্টে’ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি যেখানে ছিল ১ হাজার ৪৭০ ডলার সেখানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ হাজার ৫৩৮ ডলার। গত মাসে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়।

তবে গত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত পাকিস্তানের সর্বশেষ আদম শুমারির তথ্য মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, সর্বশেষ ওই শুমারির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের জনসংখ্যা এখন ২০ কোটি ৭৮ লাখ, যা দেশটি জনসংখ্যা নিয়ে আগের যে ধারণা ছিল তার ৯০ লাখেরও বেশি। পাকিস্তানের জনসংখ্যার নতুন এই তথ্য হয়তো দেশটিকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম জনবহুল দেশে পরিণত করেছে, তবে এই সংখ্যা তাদের মাখাপিছু জিডিপিকে ৪-৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে, যা এক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

তবে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও একটি বিষয় এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, পাকিস্তানে দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশের তুলনায় কম। ফলে পাকিস্তানের ১ হাজার ৪৭০ ডলারের ক্রয় ক্ষমতা বাংলাদেশের ১ হাজার ৫৩৮ ডলারের চেয়ে বেশি।

তবে যাই হোক, মাথাপিছু জিডিপিতে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক। গত ১০ বছর ধরেই বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে, যা গত দুই বছরে ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটির জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ২৯ শতাংশ। এক সময় পরিধেয় বস্ত্রের অভাবে থাকা দেশটি এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রফতান্ করে। এখনও বাংলাদেশে কাজের পরিবেশের মান যেখানে থাকা উচিত সেখানে পৌঁছায়নি, তবে এক সময় যা ছিল তার চেয়ে এটি এখন অনেক ভালো।

বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধিতে আরও একটি উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের আদম শুমারির তথ্যও দেশটির মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ২০১১ সালে করা বাংলাদেশের ওই শুমারিতেও পাকিস্তানের মতো ব্যাপক সংশোধন হয়েছিল, তবে পাকিস্তানে যেখানে শুমারির পর জনসংখ্যা প্রকৃত তথ্য বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কমেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমানত ও ঋণের সুদহার আরো কমেছে 

8111

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর : ঋণ চাহিদা না থাকায় ব্যাংক ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণের উদ্বৃত্ত তারল্য জমে আছে। এতে ব্যাংকগুলো এখন আর আগের মতো উচ্চ সুদহারে আমানত সংগ্রহ করছে না। ফলে আমানতে সুদহার কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আর ঋণের চাহিদা কম থাকায় ঋণের সুদহারও কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছে ব্যাংকগুলো। জুন শেষে আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) আগের মাসের তুলনায় আরো কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কোনো ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের  সুদ ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি হতে পারবে না। জুনে স্প্রেড সীমা বেশি রয়েছে ১৩টি ব্যাংকের। এ তালিকায় বেসরকারি খাতের ৫টি, বিদেশি খাতের ৮টি ব্যাংক রয়েছে। তবে সরকারি খাতের সবগুলো ব্যাংকের স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আমানতের অনুপাতে ঋণের সুদহার না কমায় স্প্রেড প্রত্যাশিতহারে কমছে না। এর জন্য খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিই দায়ী বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন শেষে ঋণ ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই সুদহার কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণের সুদের তুলনায় আমানতের সুদ বেশি কমেছে। এ সময়ে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ সময়ে আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আমানতের পাশাপাশি ঋণের সুদ কমায় জুনে গড় স্প্রেড দশমিক শূন্য ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্টে। যা মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া এপ্রিল মাসে ব্যাংকিং খাতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশীয় পয়েন্ট স্প্রেড ছিল। তবে এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করলেও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড এখনও ৬ শতাংশীয় পয়েন্টর ওপরে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, সরকারি ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদ আদায় করছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে কম। মাত্র ৩ দশমিক ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এ দুটি ব্যাংক ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ সুদ ঋণ বিতরণ করেছে। এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে আমানতের সুদহার অনেক কম থাকায় স্প্রেড অনেক বেশি। যা ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুন মাসে আমানতের বিপরীতে সুদহার মাত্র ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর। আমানতের বিপরীতে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ সুদ দিয়ে ঋণের বিপরীতে আদায় করছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। স্প্রেড হয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার আরো কমানোর লক্ষ্যে আমানতের বিপরীতে সুদহার আরো কমিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের সুদহারের ব্যবধানও বেশ খানিকটা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ঋণের সুদের হার নির্ভর করে ব্যাংকগুলোর আমানত তথা তহবিল সংগ্রহ খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়, প্রভিশন ব্যয়, মুনাফার মার্জিন প্রভৃতির উপর। বর্তমানে ব্যাংকের বিভিন্ন সেবার চার্জ, ফি, কমিশনের যৌক্তিকীকরণ, ব্যাংক শাখা স্থাপনে উচ্চ ব্যয় পরিহার ও যানবাহন ক্রয়ে খরচ সীমিত করার নীতি গ্রহণের ফলে ব্যাংকের সার্বিক তহবিল খরচ কমছে। এতদিন আমানতের সুদহার কমে আসলেও ঋণের সুদহার সে হারে কমছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বিচার বিবেচনা পূর্বক প্রকৃত ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করে ঋণ সম্প্রসারণের মতো পর্যাপ্ত তারল্যও ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর