২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৬, সোমবার

আজ থেকে ব্যাংকে লেনদেন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত

আজ থেকে ব্যাংকে লেনদেন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত 

65

ঢাকা, ২৮ মে : পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যাংকের কর্মঘণ্টা ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ গত ১৭ ও ১৮ মে দু’টি পৃথক সার্কুলারে এ সময়সূচি নির্ধারণ করে।

ওই সার্কুলারে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।

সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয়। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অফিস সময় হবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি পূর্বাস্থায় ফিরে আসবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিশ্বে মোটা চালের দাম বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি 

33

ঢাকা, ২৮ মে : মোটা চালের দাম বিশ্বে এখন বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। এরপরই আছে পাকিস্তান, তাও বাংলাদেশের চেয়ে ১০ টাকা কম। সরকারি হিসাবেই দেশে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। চালের এই দরও দেশের মধ্যে নতুন রেকর্ড।

চালের দাম পর্যবেক্ষণকারী সরকারি তিনটি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে চালের দাম বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসে মোটা চালের দর বেড়েছে ১১ শতাংশ। আর গত এক বছরে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, একের পর এক ভুল নীতি গ্রহণ ও সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে চালের দাম এতটা বেড়েছে।

চালের এই রেকর্ড দর নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘চাল সংগ্রহের চুক্তি করতে ভিয়েতনাম থেকে কেবল দেশে এসেছি। এখনই চালের দাম বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

চালের আন্তর্জাতিক দর
চাল-গমের দামবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে সস্তায় চাল বিক্রি করছে ভিয়েতনাম। সেখানে চালের দাম পড়ে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি কেজি চালের দাম ৩৪ টাকা ৪৩ পয়সা, থাইল্যান্ডে ৩৭ টাকা ৮১ পয়সা ও পাকিস্তানে ৩৮ টাকা ৫৪ পয়সা। এর বাইরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল উৎপাদনকারী দেশ চীন ও ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র চাল উৎপাদন করলেও তারা তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে না। উল্টো তারা কিছু চাল আমদানি করে থাকে। এই হিসেবে সবচেয়ে বেশি দামে বাংলাদেশেই চাল বিক্রি হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দর নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘এগ্রি মার্কেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে একমাত্র ভিয়েতনাম ছাড়া বিশ্বের মোটা চাল বিক্রয়কারী সব দেশে চালের দাম বেড়েছে। থাইল্যান্ডে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ, ভারতে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও পাকিস্তানে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

এফএওর গত এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিশ্বে চালের উৎপাদন ৬ লাখ টন কমবে। ২০১৬-১৭ সালে
বিশ্বে চাল উৎপাদন হয়েছিল ১৭ কোটি ১৩ লাখ টন। এই অর্থবছরে তা কমে ১৭ কোটি ৭ লাখ টন হতে পারে। ফলে তিন বছর ধরে যেখানে চালের দর ছিল কমতির দিকে, এ বছর তা বাড়তে শুরু করেছে।

দেশেও দামের রেকর্ড
খাদ্যনীতি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) হিসাবে, এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে দেশের মধ্যে প্রতি কেজি চালের দর ৩৮ টাকায় উঠেছিল। ২০০৮ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতি কেজি চাল ছিল ৩৬ টাকা। এরপর ২০০৯ সালে ধানের বাম্পার ফলনের পর দেশে চালের দাম কমতে থাকে। ২০১২ সালে প্রতি কেজি চাল ২৬ টাকায় নেমে আসে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর চালের দর আবারও বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে ৩০ এবং ২০১৫ সালে ৩৩ টাকায় ওঠে চালের দর। ২০১৬ সালে মোটা চালের দর ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যদিও কম দামে চাল পাওয়া ছিল সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

ইফপ্রির ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড়ে খাদ্যশক্তির (ক্যালরি) ৬৫ শতাংশ আসে চাল বা ভাত থেকে। আর প্রতিদিন তারা খাবারের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করে, তার ২৭ শতাংশ যায় চাল কিনতে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দাম বাড়লে গরিব মানুষ ভাত খাওয়া কমিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, চালের দাম ৪৮ টাকা হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ কোটি নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তায় মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। এসব পরিবারের দিনের খরচের একটি বড় অংশ চাল কেনা বাবদ যায়। দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিপদ বাড়বে। তিনি মনে করেন, কয়েক বছর ধরে সরকারের খাদ্যবিষয়ক পদক্ষেপগুলো যে সঠিক ছিল না, তা এখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে।

কেন বাড়ছে চালের দর
এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধান ও বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূলত চারটি কারণে মোটা চালের দাম এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। প্রথমত, সরকারি গুদামে চালের মজুত গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত শুক্রবার পর্যন্ত সরকারের চালের মজুত ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার টন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি গুদামে কমপক্ষে ৬ লাখ টন চালের মজুত থাকা উচিত। এর চেয়ে কম মজুত থাকলেই সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়ান। এবারও তা-ই হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীদের হাতে কী পরিমাণে চাল আছে সেই তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। কেউ চালের বেশি মজুত করল কি না, সেই তথ্য সরকার জানে না। ২০১২ সালে খাদ্য মজুত নিয়ন্ত্রণ আইন করা হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তৃতীয়ত, দেশে চালের উৎপাদন ও ভোগের কোনো সমন্বিত তথ্য এখন পর্যন্ত সরকারের কাছে নেই। ২০১৩ সালে বিআইডিএসকে দিয়ে বাংলাদেশে চাল উদ্বৃত্ত আছে কি না সে সম্পর্কে একটি গবেষণা করানো হয়েছিল। ওই গবেষণায় দেশে কোনো উদ্বৃত্ত চাল নেই—এমন কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও দেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত—এই তথ্য তুলে ধরে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি ও ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়ে চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়। ফলে দুই বছর ধরে শুধু দেশের উৎপাদন দিয়েই চাহিদা মেটানো হয়েছে।

চতুর্থত, চার বছর ধরে চালের উৎপাদন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও কৃষক ভালো দাম পাননি। ফলে প্রতিবছরই চালের উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমেছে। ভালো দাম পাওয়া যায় এমন ফসলের দিকে কৃষক বেশি ঝুঁকে গেছেন। বর্তমানে এশিয়ার চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ সবচেয়ে বেশি। এমনকি ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের বোরো ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ।

এ ব্যাপারে বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ও চালের উৎপাদন এবং ভোগ নিয়ে করা গবেষণার প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোন চিন্তায় কেন চাল রপ্তানি হয়েছিল, তা বলতে পারব না। হাওরে ধান মার খাওয়ার পরও চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বলে আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এটাও ঠিক হচ্ছে না।’-প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন 

872

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৭ মে : আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন হয়েছে। টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার একদিন পরই দরপতন ঘটল মূল্যবান ধাতুটির। দরপতনে ভূমিকা রেখেছে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও ধাতুটির বাজার নিম্নমুখী করেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর মার্কেটওয়াচ, রয়টার্স।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (নিমেক্স) কোমেক্স বিভাগে মঙ্গলবার আউন্সে ৫ ডলার ৯০ সেন্ট বা স্থানীয় মুদ্রায় ৪৭২ টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে) দাম কমেছে স্বর্ণের। জুনে সরবরাহ চুক্তিতে সোমবারের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ ডলার ৫০ সেন্ট বা এক লাখ ৪৪০ টাকায়।

এর আগে গত সোমবার কোমেক্সে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২৬১ ডলার ৪০ সেন্ট বা এক লাখ ৯১২ টাকায়, যা গত ২৮ এপ্রিলের পর সেটিই ছিল ধাতুটির সর্বোচ্চ দর। আইসিই ইউএস ডলার সূচক মঙ্গলবার বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ।

ডলারের শক্তিশালী অবস্থানে ভূমিকা রেখেছে দুর্বল ইউরো। যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রভাব পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। এ কারণে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে ইউরো। দুর্বল ইউরো শক্তিশালী অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে ডলারকে। আর শক্তিশালী ডলার স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান ও ব্যবহারিক ধাতুর বাজারে সৃষ্টি করেছে নিম্নমুখী প্রবণতা।

ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২-১৩ জুন। এ বৈঠকে সুদহার বাড়ানো হতে পারে। সুদহার বাড়ানো হলে ডলার আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে যেতে পারে।

স্বভাবতই এতে ডলার দ্বারা নির্ধারিত স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধাতুর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আইআই ট্রেডারের প্রধান বাজার বিশ্লেষক বিল বারুচ বলেন, স্বর্ণের বাজারটি আপাতত বিক্রয়প্রবণ হয়ে উঠেছে।

এ বিক্রয়প্রবণতা সামনের দিনগুলোয় আরও বাড়তে পারে। ফেডের সুদহার বাড়ানোর বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। সুদহার বাড়লে স্বর্ণের বাজারে নিঃসন্দেহে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে তিনি জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইসলামী ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ 

389

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৬ মে : ইসলামী ব্যাংকের সদ্য অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ আহসানুল আলম পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার দুজনই পদত্যাগ করেছেন বলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান নিশিচত করেছেন। তবে বিষয়টি জানতে পদত্যাগকারী দুই পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবারই স্বতন্ত্র এ দুই পরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

আরাস্তু খান বলেন, তারা দুজনই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। আগামী বোর্ড সভায় তাদের পদত্যাগপত্র উপস্থাপন করা হবে। বোর্ড এটি গ্রহণ করলে তা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। এরপরই পদত্যাগ কার্যকর হবে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ব্যাংকটির ৩৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আহসানুল আলম ও আবদুল মাবুদকে পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি ওঠে। এজিএম ও পর্ষদের সভায় সৈয়দ আহসানুল আলম ছাড়া অন্য ১৮ পরিচালকই উপস্থিত ছিলেন। একইদিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের দুজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। সেদিন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান জানান, তারা স্বতন্ত্র পরিচালক পদে বহাল থাকবেন।

ব্যাংকটির পরিচালকদের কোন্দল আলোচনায় শুরু হয় স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ আহসানুল আলমের ফেসবুকে দেয়া পোস্টের মাধ্যমে। গত ১১ মে তিনি নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জানান, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নিয়ে প্লাস-মাইনাসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই পরিচালনা পর্ষদ ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এরপর গত ১৩ মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে স্বতন্ত্র এই পরিচালক কয়েকটি গণমাধ্যমকে জানান, জাকাতের ৪৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর জাকাত তহবিলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইফতারের ১৩ কোটি টাকা এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সুবিধাভোগীদের তালিকাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জাকাতের ৪৫০ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর জাকাত তহবিলের প্রদানের বিষয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে গত ১৬ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খানকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ মে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জবাব দিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম ব্যাংকের গোপনীয়তা ভেঙেছেন। পরিচালক হওয়ার সময় তিনি গোপনীয়তা রক্ষার যে শপথ করেছিলেন, তা লঙ্ঘন করেছেন। ব্যাংক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁকে পদত্যাগ করতে বলব না, উনি নিজে সরে গেলে সমস্যা নেই।

এরপর ২০ মে সৈয়দ আহসানুল আলমসহ সাত পরিচালক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ মে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের শীর্ষ পদ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় পরিচালকবৃন্দ বলেন, হুমকির মুখে যদি কোনো পরিচালককে পদত্যাগ করানো যায়, তবে একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পরিচালকদের বিদায় নিতে হবে। হুমকির মাধ্যমে কোনো পরিচালককে পদত্যাগ করানোর চেষ্টা করা হলে অনেক পরিচালক একযোগে পদত্যাগ করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক আব্দুল মতিন, বোরহান উদ্দিন আহমেদ ও কাজী শহিদুল আলম। বাকিরা হলেন স্বতন্ত্র পরিচালক আবদুল মাবুদ, সাইফুল ইসলাম ও হেলাল আহমেদ চৌধুরী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভ্যাটের হার কমানো কষ্টকর: অর্থমন্ত্রী 

03

ঢাকা, ২৫ মে : মূল্য সংযোজন করের (মূসক বা ভ্যাট) হার কমানো বেশ কষ্টকর বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এক শতাংশের বেশি কমানো হলে নতুন করে সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য দুই মাস সময় লাগবে। ভ্যাট হার একাধিক হবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, একাধিক হার পারবো না।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সফররত প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভ্যাট হার কমানোর কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এনবিআর এর এক হিসাব অনুযায়ী ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ কমালে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকা এবং ৩ শতাংশ কমালে ২৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় কম হবে। এটা কীভাবে পুষিয়ে নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক শতাংশ কমানো হলে সম্ভব। তেমন কিছু করতে হবে না। এর চেয়ে বেশি কমাতে গেলে নতুন করে সফটওয়্যার করতে হবে। এ জন্য দুই মাস সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এখন দেখছি যে ভ্যাট হার কমানো বেশ কষ্টকর হবে।

নতুন আইনে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) ভ্যাটমুক্ত। ৩০ লাখ টাকা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ টার্নওভার কর এবং ৮০ লাখ টাকার উপর টার্নওভারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে ৮০ লাখ টাকার এ টার্নওভার সীমা বেড়ে দেড় কোটি টাকা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা কত হবে জানি না। তবে ৮০ লাখ টাকার বেশি হলে অনেকেই ভ্যাটের আওতার বাইরে চলে যাবেন। ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা করবো কি না নিশ্চিত নই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ভ্যাট হার নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

জাইকার সফররত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাইকার প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশে অনেক দিন পর আসলেন, সাধারণত ভাইস প্রেসিডেন্ট আসেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছিল, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এখনও জঙ্গি নির্মূলে কাজ করছি। বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আশা করছি, তারা সতর্কতা বার্তা তুলে নেবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দুই স্তরের ভ্যাট কাঠামো 

389

ঢাকা, ২৪ মে : নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক কাটছে না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও ভ্যাটহার নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। রোববারও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যাটের হার একটিই হবে। তবে এ হার কমবে। মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেছেন, ভ্যাটহার ১৫ শতাংশের নিচে থাকছে। কিন্তু দায়িত্বশীল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এনবিআর আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে একক ভ্যাটহার থাকছে না। সর্বোচ্চ ভ্যাটহার ১৫ শতাংশই রেখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে হ্রাসকৃত হার কার্যকর করার সম্ভাবনা বেশি। এভাবে দুই স্তরের ভ্যাট কাঠামো ঠিক করে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনবিআর। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই ভ্যাটহার চূড়ান্ত হবে জানিয়ে এনবিআরের একজন সদস্য জানান, আমরা বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছি। তবে দুই স্তরে ভ্যাট কার্যকরের প্রস্তুতি রয়েছে। হার কমিয়ে তা একক রাখা হলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জনঅসন্তোষ এড়াতে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হলে নিত্যপণ্য মূল্যসহ কোন খাতে কি প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতিসহ দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা বা এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কিনা তা যাছাইয়ে এনবিআর মাঠ পর্যায়ে কোনো জরিপের উদ্যোগ নেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র স্বীকার করেছে, নতুন আইনে সব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এনবিআর কোনো জরিপ বা গবেষণা করেনি। এটা না করে কার্যকর হলে তা জনরোষ সৃষ্টি করবে। আর এ সুযোগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মাঠ গরম করার ইস্যু পাবে। এ জন্য পণ্য মূল্য এবং স্থানীয় শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ আছে।

সংশিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৯১ সাল থেকে সর্বস্তরে সহনীয় হওয়ায় সর্বোচ্চ ভ্যাটহার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এনবিআরের প্রস্তাব ছিল একক ভ্যাট হার ১৫ শতাংশের স্থলে ১৩ শতাংশ করা। এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে দ্বিমত থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ২৫ বা ২৬ মে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকটি হতে পারে। অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই বিতর্কিত ভ্যাট হার, ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো, সিগারেট ও বিড়ি শিল্পের মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক হার, আবাসনখাতে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ সম্প্রসারিত করাসহ বেশকিছু জটিল বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে। এ বৈঠকের জন্য এনবিআর ভ্যাটহার নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৫ শতাংশের একক ভ্যাট হারই কার্যকর থাকছে। তবে উৎপাদন ও সেবা খাতে যেসব ব্যবসায়ী রেয়াত নেয়ার সামর্থ্য রাখেন না তাদের জন্য থাকছে বিশেষ হ্রাসকৃত হার। এতে ক্ষুব্ধ ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আলোকে ভ্যাট অব্যাহতির বিদ্যমান সীমা ৩০ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ জন্য আইনের ধারা ২-এর দফা (৪৮) সংশোধন করা হচ্ছে। একইভাবে টার্নওভারের বিদ্যমান সীমা প্রায় ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে টার্নওভার ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। এ জন্য নতুন ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারা ২-এর দফা (৫৭) সংশোধন করার প্রস্তাব করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে ১২৭টি পণ্য ও সেবাখাতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। নতুন ভ্যাট আইনে এ ধরনের অব্যাহতির কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নিত্যপণ্য ও সেবা খাতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কিছু খাতের জন্য বিদ্যমান আইনে থাকা সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের আদলে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট থাকার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী আড়াই কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত বিভিন্ন নিত্যপণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। অর্থাৎ একসঙ্গে আড়াই কেজির বেশি এসব পণ্য না কিনলে ভ্যাট দিতে হবে না। এ তালিকায় আছে মাংস, সব ধরনের সবজি, ফল, তরল দুধ, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, গম, আটা ইত্যাদি।

এ ছাড়া আদা, জিরা, লবঙ্গ, ধনিয়া, দারুচিনি, এলাচসহ অন্যান্য মসলায় আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়েও ভ্যাট থাকছে না। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য এবং কৃষি খাতে ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের বীজ, সেচ ও কীটনাশক, ফুল ও ফুলের তোড়াসহ কিছু পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি থাকছে। ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত সরকারের ১০ প্রকল্প, হাইটেক পার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি- বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে।

সূত্রমতে, সিগারেট, মোবাইল ফোন, তেল ও গ্যাস, গাড়ি, সিমেন্ট, ব্যাংকসহ বড় কয়েকটি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রাখা হচ্ছে। এনবিআর হিসাব করে দেখিয়েছে মোট ভ্যাটের প্রায় ৮১ শতাংশই আসে এসব খাত থেকে। তারা বিদ্যমান ভ্যাটহার নিয়ে কোনো আপত্তিও করেনি। এসব খাতে এই হার সহনীয় হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্ধ কয়েকটি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবিতে ভ্যাটহার কমানোর মতো ঝুঁকি নিলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে- যা সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নতুন ভ্যাট আইনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভ্যাটের একক হার। অথচ কিছু খাতে ১৫ শতাংশ আর কিছু খাতে ১২ শতাংশ করা হলে কার্যত বহুস্তর ভ্যাটই থাকছে। তাতে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ অনলাইনের সফটওয়্যার একক হারের জন্য তৈরি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত এবং চলতি অর্থবছরে অনেক পণ্য ও খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ আছে। এনবিআরের প্রস্তাবে আগামী অর্থবছরে ভ্যাটের এ হার বহাল থাকছে। এর বাইরে সীমিত কিছু পণ্যে নতুনভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু খাত ও পণ্যকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। এর অধিকাংশই সেবা খাতে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে দর বাড়ার যে আশঙ্কা ছিল তা দূর হবে। এ ছাড়া কিছু পণ্য ও খাত থেকে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব খাতে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য কার্যকর আছে সে সব খাতে নির্দিষ্ট ভ্যাটহার নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

এদিকে এনবিআরের বিভিন্ন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমে দাবি করছেন, নতুন ভ্যাট আইনে সর্বত্র ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হলেও তার দায় ভোক্তাদের ওপর পড়বে না। রেয়াতের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনবিআর এখনও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত আড়াই বছর অনড় অবস্থানে থেকে এনবিআরের নীতিনির্ধারকরা অহেতুক জটিলতা ও বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছেন। আইএমএফের ফরমুলায় দেশের স্বার্থবিরোধী একটি আত্মঘাতী আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভ্যাট ইনক্লুসিভ হওয়ার কারণে ভ্যাটের আপাতন কমে ১৩ শতাংশ হবে। এনবিআরের এমন বক্তব্য ডাহা মিথ্যা। নতুন আইনে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য হলেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। এটিও ঠিক নয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিলের ওপর গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়। এটা ১৫ শতাংশ হলে অবশ্যই বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১০ শতাংশ বাড়বে।

এছাড়া নির্মাণ খাতে বর্তমানে ৬ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এটি ১৫ শতাংশ হলে পদ্মা সেতুসহ সরকারের সবগুলো বড় প্রকল্প খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়বে। এছাড়া ইটের ওপর বর্তমানে প্রতি হাজারে ২২০০ টাকা ধরে এক সিজনে মাত্র তিন লাখ টাকা ভাটাপ্রতি আদায় করা হয়। নতুন আইন কার্যকর হলে ভাটাপ্রতি কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হবে- যা নির্মাণ কাজের ব্যয় বহুগুণে বাড়াবে। এছাড়া বর্তমানে প্রতি টন রডে ভ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৫০০ টাকা, নতুন আইন কার্যকর হলে এর পরিমাণ বেড়ে হবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এর ফলে বিকাশমান রিয়াল এস্টেট সেক্টর এক প্রকার বসে যাবে। সুপার শপের কেনাকাটায় ৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য করায় এখানে কেনাকাটা করলেই বাড়তি ভ্যাট দিতে হবে ক্রেতাকে। এতে মানুষ খোলাবাজার থেকেই পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে। সুপারশপের মতো অত্যাধুনিক একটি উদীয়মান শিল্প এতে মুখ থুবড়ে পড়বে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অগ্রণী ব্যাংকের স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা ৯ জুন 

545

ঢাকা, ২৩ মে : প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

এই পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তালেব ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আগামী ৯ জুন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সকাল এবং বিকেল দুই শিফটের পরীক্ষা একইসঙ্গে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আগামী ৯ জুন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠিকভাবে জানানো হবে।’

পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় শুক্রবার দুই ভাগে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম ভাগের পরীক্ষা শুরুর আগেই একটি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে খবর আসে। ফেইসবুকেও অনেকে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নের’ ছবি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই পরিস্থিতিতে সকালের অংশের পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটায় নির্ধারিত দ্বিতীয় অংশের পরীক্ষা স্থগিত করে। দুই ভাগ মিলিয়ে মোট দুই লাখ ৩ হাজার চাকরিপ্রত্যাশী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সকালে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় এক লাখ চাকরি প্রত্যাশী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উত্তরাঞ্চলের পণ্যপরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার 

655

নাটোর, ২৩ মে: দাবি পূরণের আশ্বাসের ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় পণ্যপরিবহণ ধর্মঘট পত্যাহার করেছে ট্রাক ট্যাংক লরি ্ও কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার বেলা পোনে ১১টার দিকে পণ্যপরিবহণ শ্রমিক নেতারা বৈঠকে বসে এই ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মহাসড়কে পুলিশি চাঁদাবাজি, অবৈধ যানচলাচল বন্ধ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে গত রোববার থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় উত্তরাঞ্চলের ট্রাক ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ 

29

ঢাকা, ২২ মে : রমজানে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে আগামীতে ঢাকার বাইরে লোডশেডিং বাড়বে। এতে বাড়বে মানুষের দুর্ভোগও।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এ সময় সারা দেশে চাহিদা ছিল ৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এতে সরকারি হিসাবেই ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। বেসরকারি হিসাবে এ ঘাটতি ১৫শ’ থেকে ১৭শ’ মেগাওয়াট। এ কারণে দেশব্যাপী চরম লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করেছে আরইবি (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড)।

আরইবির একটি সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেনারেল ম্যানেজার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকার চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড)। এ কারণে ঢাকার বাইরের সমিতিগুলোতে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশিরভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকার বাইরে অনেক শিল্পকারখানা সন্ধ্যার পর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দিনেও অধিকাংশ কল-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না আরইবি। রোববার আরইবির বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো।

সংস্থার প্রেস কনসালট্যান্ট তালুকদার রুমী এ প্রতিবেদককে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই বাধ্য হয়ে তাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে রমজানের আগে লোডশেডিং আরও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বলেন, রমজানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট করার টার্গেট আছে সরকারের। এ কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেরামতের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে মেঘনাঘাট, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ, রংপুর, বড়পুকুরিয়াসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। কয়েকটি মেরামতের পর ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভেড়ামারার ২১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাকিগুলো আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে চালু হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তিনি আশা করছেন রমজানের আগেই লোডশেডিং শূন্য পর্যায়ে চলে আসবে। তার মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় বর্তমানে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শনিবার রাতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি সামিট পাওয়ারের বিবিয়ানা ইউনিট ২-এর ৩৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

সামিট গ্রুপের হেড অব পিআর অ্যান্ড মিডিয়া মোহসেনা হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, কারিগরি ক্রুটির কারণে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। শিগগিরই কেন্দ্রটি চালু হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে বন্ধ আছে এরকম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হল বিবিয়ানা ৩৪১ মেগাওয়াট, রংপুর ২০০ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা ২১৪ মেগাওয়াট, বড়পুকুরিয়া ২১০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ৪২৫ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ৩৬০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড আছে। রমজানে এটা বাড়িয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাশাপাশি উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর জন্য সঞ্চালন লাইনেরও সংস্কার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় রমজানে ইফতার-তারাবি ও সেহেরির সময় লোডশেডিং থাকবে না। লোডশেডিং করতে হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় জানিয়ে দেয়া হবে। এজন্য অগ্রিম শিডিউল তৈরি করে সবাইকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, প্রথম রমজান থেকেই বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে।

সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় চলতি গ্রীষ্ম মৌসুম ও আসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, রমজানে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো খোলা রাখার বিষয়ে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করা হবে। রমজানে পিক আওয়ারে রি-রোলিং মিল, ওয়েল্ডিং মেশিন, ওভেন, ইস্ত্রির দোকানসহ অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সরঞ্জামাদির ব্যবহার বন্ধ রাখা হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুপার মার্কেট, পেট্রলপাম্প ও সিএনজি গ্যাস স্টেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইফতার ও তারাবির সময় এসি ব্যবহার বন্ধ, বিদ্যুতের অপচয় রোধে সিএফএল বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবারের পুরো রমজানজুড়ে গরম থাকবে। এতে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে অবস্থা তাতে রমজানে সরকারের টার্গেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট করা সম্ভব হবে না। এতে রোজাদারদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। ইফতারি, তারাবি ও সেহেরির সময় চাহিদা বেড়ে গেলে গ্রামের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করবে। ডিপিডিসি ও ডেসকোকে ঢাকায়ও বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করতে হবে। তাছাড়া ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সংস্কার না হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। দুর্বল বিতরণ লাইনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেই বিভিন্ন স্থান লাইন ও ট্রান্সফরমার জ্বলে যাবে। এতে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে রমজানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে সারকারখানাগুলোতে ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। যা মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৮ শতাংশের বেশি। রমজানে এ পরিমাণ গ্যাস যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দেয়া সম্ভব না হয় তাহলে অনেকগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না। এতে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উত্তরাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু 

03

ঢাকা, ২১ মে : ৪৮ ঘণ্টার জন্য উত্তরাঞ্চলের সব জেলায় পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আজ রবিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট পালন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরবঙ্গ ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অধিকার আদায় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ এ ঘোষণা দেন।

সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল এবং হুক খোলার সরকারি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ওজন যন্ত্রের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, চলতি মাসের মধ্যে যদি এই সাত দফা দাবি মেনে নেয়া না হয় তাহলে ঈদুল ফিতরের পরে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমদানির দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ছোলা 

554

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২০ মে : পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি আমদানি মূল্য কম, তারপরও বাড়ছে ছোলার দাম। পবিত্র রমজানে ইফতারির অন্যতম এই উপকরণটির দাম গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয় ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। কিন্তু এক মাস আগে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রতি কেজি ছোলা ৫৫ টাকায় বিক্রি করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম হওয়ায় খুচরা বাজার থেকে ভোক্তাদের বেশি দরেই ছোলা কিনতে হচ্ছে। অথচ গত ৩০ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা কমিটির সভায় ব্যবসায়ীরা রমজানে পণ্য সরবরাহ ঠিক রেখে দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দুই লাখ ১৫ হাজার টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। যার আমদানির মূল্য ৯৫০ কোটি টাকা। এ হিসেবে প্রতি কেজি ছোলার আমদানি মূল্য পড়ে ৪৪ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ছোলার খুচরা মূল্য ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। অর্থাত্ আমদানির দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে ছোলা। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ছোলার আমদানিও বেড়েছে। গত বছর ছোলা আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৬৫ হাজার টন। এ হিসেবে চলতি অর্থবছরে গত বছরের ৫০ হাজার টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে আমদানিকৃত ছোলার ৬০ শতাংশ এনেছে ৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৭ হাজার টন ছোলা এনেছে স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড। এছাড়া সিলভার ডাল অ্যান্ড মিলস লিমিটেড ২৮ হাজার টন, মেসার্স এনআর ট্রেডিং ২৪ হাজার টন, রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ১৬ হাজার ৩৪৫ টন, গাজী ট্রেডিং সাড়ে ৯ হাজার টন, ফ্লেটচার ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর্ট লিমিটেড ৮ হাজার ৮০০ টন, লাকী ট্রেডিং প্রায় ৮ হাজার টন, ইসলাম ব্রাদার্স ২ হাজার ৭০০ টন ও রিলায়েন্স করপোরেশন ২ হাজার ৪০০ টন ছোলা আমদানি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে ছোলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যটির দাম বাড়াচ্ছে। অথচ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ব্যবসায়ীরা উত্সব-পার্বণে পণ্যের দাম উল্টো কমিয়ে দেয়।

কাওরান বাজারে একটি জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা কবির জানান, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বাড়তি। তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজার থেকে এক বস্তা ছোলা কিনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। এর সাথে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। কিন্তু এক মাস আগে এক বস্তা ছোলার দাম ছিল ৩ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া খুব ভালো মানের ছোলার দাম বস্তায় আরো ২০০ টাকা বেশি। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও ছোলার দাম কমবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার 

558

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৯ মে : ধর্মঘট ডাকার তিন ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বর্ণ দোকান মালিকরা। আপন জুয়েলার্সে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির এক বৈঠকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু রাতে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খানের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি থেকে সরে আসেন তারা।

জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি গঙ্গা চরণ মালাকার গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাতে রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে বৈঠক হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।

মালাকার আরও জানান, জুয়েলার্স সমিতির নেতারা ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনিও দাবি পূরণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেছেন, ফলপ্রসূ আলোচনার পর ধর্মঘট তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতারা।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির ওই বৈঠকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেছিলেন, হয়রানি বন্ধ ও জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি ব্যবসাবান্ধর স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সদস্য সংখ্যা এখন ৭০০ জনের মতো; এর বাইরে সারাদেশে হাজার দশেকের মতো গহনার দোকান রয়েছে। ঈদের আগে ধর্মঘট ডাকায় এখন দোকানগুলো বন্ধ থাকবে, যাতে যুক্ত আছে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ।

রাজধানীর বনানীতে চার তারকা হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে গত ৬ মে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর থেকেই আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে আসছে শুল্কো গোয়েন্দারা।  শুলক্ গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান অ্যাভিনিউ, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ার শাখায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করে। বিভিন্ন শাখায় ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুত সোনা ও হীরার ব্যাখ্যা দিতে আপন জুয়েলার্সের মালিককে তলব করে শুল্কো গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের পক্ষ থেকে সময় আবেদন করায় আগামী ২৩ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে শুরু হলো মহিলাদের মার্কেট 

542

ঢাকা, ১৮ মে : রাজধানীতে প্রথমবারের মতো চালু হলো নারী বিক্রেতা দ্বারা পরিচালিত উইমেন্স হলিডে মার্কেট। ৫০ নারী বিক্রেতা দ্বারা পরিচালিত এই মার্কেট বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়।

মহাখালী পাইকারি কাঁচাবাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত মার্কেটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত আছেন।

সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও শনিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উইমেন্স হলিডে মার্কেট সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে। তবে নারী উদ্যোক্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঈদ উপলক্ষে পুরো রমজান মাসে মার্কেট সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অর্ধেক ব্যাংক কর্মকর্তাই আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ 

48

ঢাকা, ১৭ মে : আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে ৫০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তাই অজ্ঞ। যার মধ্যে ২৮ শতাংশ খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ কিছুটা কম অজ্ঞ। এছাড়া সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘আইটি সিকিউরিটি ইন ব্যাংক’ শীর্ষক কর্মশালায় বিআইবিএমের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।  প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে আইটি নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ কর্মকর্তার। এছাড়া কিছুটা ভালো ধারণা ১০ শতাংশ এবং মোটামুটি ধারণা রয়েছে ১৬ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার। ২১ টি ব্যাংকের উপর এই জরিপ চালায় বিআইবিএম। যার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৩ টি এবং বিদেশী ব্যাংক ৩টি। বাংলাদেশের ৫৭টি ব্যাংকে  প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা রয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যেও একই জরিপ চালিয়েছে বিআইবিএম। এতে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ গ্রাহক সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৯০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতের তথ্য নিরাপত্তা বাধায় আরও কিছু কারণ রয়েছে। এগুলো হল- নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানা-শোনার অভাব, গ্রাহকদের অসচেতনতা, ব্যাংকগুলোর বাইরের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর অতি নির্ভরশীলতা, ব্যাংকিং খাতে আইটি এক্সপার্টের অভাব, প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বাজেটের স্বল্পতা থাকার কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে।

কর্মশালায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সাইবার সিকিউরিটি ইন ব্যাংক শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজডাক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজ আহমেদ।  অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দ্যা ডিজিটাল ব্যাংকিং রিভুলুয়েশন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম।

এস কে সুর বলেন, সাইবার নিরাপত্তার জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবছর আইটি নিরাপত্তায় রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। দেশের ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তার মানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার আক্রমণ প্রায়ই ঘটছে এবং সেগুলো খুব বড় ধরনের ও জটিল। আর্থিক খাতের পুরো সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলেছে। এই অপরাধীরা সাইবার আক্রমণ করে বড় অংকের তহবিল  হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এটিএম জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, সাইবার ঝুঁকিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের একটি বড় ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতে থাকলেও ব্যাংকিং খাতে দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ভারতের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তা না হলে আরও ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল  রায় বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গাইডলাইনে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। আইটি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আইটি নিরাপত্তা খাতে আরও জোর দিতে হবে। কোনো সংকেত আসলেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকে অ্যালার্ট ম্যাসেজ দেখলেও ঠেকানোর জন্য দক্ষ জনবল নেই।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সম্পূরক শুল্ক বসছে ৮শ’ পণ্যে 

22

ঢাকা, ১৬ মে : আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় আটশ’ পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বসছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার জন্যই সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা আছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়ানো হচ্ছে। করমুক্ত আয় সীমা বাড়ছে। নির্দেশ দেয়া হয়েছে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের।

রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৪ ঘণ্টাব্যাপী বাজেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট ইস্যুতে আলোচনা শেষে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এর ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। ওই রাতের বৈঠকে ভ্যাট হার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৪ মে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে সব শ্রেণী-পেশার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে নতুন আইনে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার রাখা হবে, নাকি সেটি কমানো হবে- সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। ২৪ মে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠকে এনবিআর থেকে ভ্যাট হার কমানোর একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে ভ্যাট কমালে কত টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। এনবিআর থেকে বলা হয়েছে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের আওতায় গ্যাস, সিগারেট, মোবাইল অপারেট, সিমেন্ট খাত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করছে। এ ধরনের বড় খাত থেকে মোট ভ্যাটের ৬০ শতাংশ আদায় করা হয়। এ হার ১ শতাংশ কমালে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হবে। তাছাড়া রেয়াত নিতে অসামর্থ্য সেবা খাত যেমন জুয়েলারি ও কম্পিউটারের মতো সেবার ওপর ভ্যাট হারের বিরূপ প্রভাবের কথা জানান। ১৫ শতাংশ সমহারে (ফ্ল্যাট রেট) ভ্যাট বহাল রেখে এসব ক্ষেত্রে ছাড় দিলে দেড় থেকে ২ হাজার কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় হবে। সে ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখার জন্য বড় খাতের ওপর ১৫ শতাংশ এবং রেয়াত নিতে অসামর্থ্য খাতের জন্য আলাদা ভ্যাট রেট নির্ধারণের বিষয় আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ২৪ মে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই বিষয়টি নিয়ে আবার বৈঠকে বসতে পারেন। তখন ভ্যাট হারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। যে ধরনের সিদ্ধান্ত হবে তাতে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সেদিক বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট আইন সংশোধনের নির্দেশ দেন।

রোববারের বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সোমবার সচিবালয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভ্যাট হার নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী মহল খুশি হবেন বলে আশা করছি। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কোনো ব্যবসায়ীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, সবদিক বিবেচনা করেই ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। আমরা (সরকার) মনে করছি, এতে সন্তুষ্ট হবেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ভ্যাটের আওতায় কিছু নতুন যোগ হবে। এতে ব্যবসায়ীদের অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর- এই তিনটি বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এসবের প্রতিফলন থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনবিআর থেকে ভ্যাট হার নিয়ে আলাদা প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। একক হারের পরিবর্তে একাধিক হার হলে রাজস্ব আদায় হ্রাস-বৃদ্ধির প্রভাব হিসাব-নিকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা। ১৫ শতাংশের পরিবর্তে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার জন্য আলাদা ভ্যাট হারও করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অনুষ্ঠেয় বৈঠকেই সব পরিষ্কার হবে।

সূত্র জানায়, রোববারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামনে নির্বাচন আসছে। এ মুহূর্তে ভ্যাট নিয়ে কাউকে কষ্ট দেয়া যাবে না। ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিক বিবেচনা করে ভ্যাট হার নির্ধারণ করতে বলেন। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি গাইডলাইন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাভুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ সময় এনবিআর থেকে বলা হয়, এ খাতে একশ’ কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী টার্নওভার সীমা বাড়ানো হলেও রাজস্ব আয়ে খুব প্রভাব পড়বে না। তখন প্রধানমন্ত্রী টার্নওভার বাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই-এনবিআর যৌথ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। এছাড়া দেশীয় শিল্প সুরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্পের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর নতুন ভ্যাট আইনের দ্বিতীয় তফসিল সংশোধন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের সংখ্যা ১৭০টি থেকে বাড়িয়ে ৮০০-র কাছাকাছি নেয়ার কাজ শুরু করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্যাট হার ছাড়া অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সোমবার থেকেই কাজ শুরু করেছে এনবিআর। নতুন আইন-বিধি পর্যালোচনা করে এসআরও’র খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে সেটি চূড়ান্ত করে তাদের সম্মতি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে আয়কর খাতে করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভ্যাটের প্রভাবে যেন কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পবান্ধব রাজস্ব নীতি গ্রহণের জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। শিল্পের কাঁচামাল ও মেশিনারি আমদানিতে শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিল্পায়ন চাচ্ছে। তাই আগামী বাজেটের রাজস্ব নীতি শিল্পবান্ধব হতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, প্রথম সচিব শব্বির আহমেদ, ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রথম সচিব ফায়জুর রহমান ও শুল্ক নীতির সদস্য লুৎফর রহমান, প্রথম সচিব ফখরুল আলম প্রমুখ।

ভ্যাট আইন সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের বড় বড় কোম্পানি অনলাইনের আওতায় ভ্যাট দিচ্ছে। ভ্যাট থেকে আসা মোট রাজস্বে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বড় কোম্পানিগুলো দিয়ে থাকে। এখন ভ্যাট আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে হার ১৫ শতাংশের কথা বলা হচ্ছে। আমরা সর্বজনীনভাবে এটি ৭ শতাংশ প্রস্তাব করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ হার কোনোভাবেই ১০ শতাংশের উপরে যাবে না। আর ছোটদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির সীমা দেড় কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আশা করছি সরকার সেটিও বিবেচনায় নেবে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর