২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৬, মঙ্গলবার

এফবিসিসিআই নির্বাচন : আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

এফবিসিসিআই নির্বাচন : আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৭ মার্চ : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৩০ মার্চ ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

এই সময়ের মধ্যে এফবিসিসিআই কর্তৃপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

পরে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা নথিপত্রে ভুল থাকায় আজ শুনানি হয়নি। বৃহস্পতিবার আবার শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে।’

এর আগে গত ২৩ মার্চ এফবিসিসিআইয়ের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন। একইসঙ্গে এই সময়ে এফবিসিসিআই নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারবে বলেও আদেশে বলেন।

গত ২২ মার্চ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করে এফবিসিসিআই কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে পরিচালক নিয়োগে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়।

পরে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক বিভাগ থেকে পরিচালক মনোনয়ন করতে হবে। কিন্তু নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে কোনো পরিচালক মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

এই বাদ পড়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৬ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেছেন ময়মনসিংহ চেম্বার ও কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক।

আগামী ১৪ মে এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী সংগঠনটির পরিচালক পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে ১০ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। ১৪ মের ভোটে নির্বাচিত পরিচালকরা ১৬ মে সভাপতি, প্রথম সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিরপুরে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের মধ্যে বি২বি সমঝোতা 

বিনোদন ডেস্ক, ২৬ মার্চ : মিরপুর ই-কমার্স পরিবারের উদ্দ্যোগে শুক্রবার মিরপুর ১১ নম্বরের হাব ঢাকাতে বি২বি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিরপুরের ২৪ জন ই-কমার্স ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে বি২বি মডেলে ব্যবসা শুরু করার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

বি২বি সাইনিং সিরোমানি কেক কেটে উদ্বোধন করেন বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রোটারিয়ান ইঞ্জিয়ার শহিদুল ইসলাম। তিনি বি২বি মডেলে ব্যবসাকে আরো গতিশীল করা এবং সকলের সাফল্য কামনা করেন।

এই সময় মিরপুর ই-কমার্স পরিবার এর এডমিন নারায়ণ দাস তপন, আমিনউদ্দিন সাগর, রাশেদ আলী এবং সাদিকা হক সহ সকল সদস্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসা সর্ম্পকে আলেঅচনা করেন। সমঝোতা স্মারকও সবাইকে পড়ে শোনান হয়। উপস্থিত সকল ই-কমার্স ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে ব্যবসায়িক বন্ধন তৈরী করার জন্য সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

মিরপুরের ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিজনেস টু বিজনেস মডেলকে আরো গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ডিনার এর আয়োজন করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টাকা ফেরত না দিতে অনড় ফিলিপাইন 

375

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৫ মার্চ : ফিলিপাইনে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ায় চুরি যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের সাড়ে ৬ কোটি ডলার ফেরত পাওয়া আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশটির নতুন নেতৃত্ব টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছে না। এছাড়া দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করে, রিজার্ভ চুরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের লোকজন দায়ী। এ কারণে টাকা ফেরত দেয়া ঠিক হবে না।

বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির ইনকোয়ারার পত্রিকার সাংবাদিক ড্যাক্সিম লুকাস এসব কথা বলেন। রিজার্ভ চুরির তথ্য প্রকাশ করে ওই সাংবাদিক বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে, ফিলিপাইনকে অবশ্যই অর্থ ফেরত দিতে হবে। এ ব্যাপারে আইনগত সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান শুক্রবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি। আইনগত সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ফিলিপাইনকে এ অর্থ ফেরত দিতে হবে। এটা তারা (ফিলিপাইন) অস্বীকার করতে পারবে না।

তবে দেশের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে রিজার্ভ চুরির তথ্য অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির দেয়া রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। না হলে বিষয়টি নিয়ে আরও জটিলতা তৈরি হবে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্র্জ্জা আজিজুল ইসলাম শুক্রবার এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এমন সন্দেহ অনেক দিন ধরেই চলছে। সরকার রিপোর্ট প্রকাশ না করায় সেটি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের জড়িতদের শাস্তি দেয়া উচিত।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর ১ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার দেয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনি সাংবাদিক ড্যাক্সিম লুকাস বলেন, দুই কারণে বাংলাদেশের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না ফিলিপাইন। প্রথমত, ফিলিপাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। দ্বিতীয়ত, সে দেশের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ব্যাংক তহবিল লোপাটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত। বিষয়টি নিয়ে ফিলিপাইনের সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে বেশ কয়েকবার শুনানিও হয়। তিনি আরও বলেন, ফিলিপাইনের আইন প্রণেতারা গত কয়েক মাস ধরে বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ যে তদন্ত করেছে তার ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য এটি দরকার। এছাড়া যে প্রক্রিয়ায় অর্থ চুরি গেছে তাও জানলে ভালো হয়। তা হলে ভবিষ্যতে সাবধানতা অবলম্বন করা যাবে। বাংলাদেশকে টাকা ফেরত আনতে আরও সচেষ্ট ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ফিলিপাইন সরকার অজুহাত দেখাচ্ছে। রিজার্ভ চুরিতে তাদেরও দোষ আছে।

এদিকে রিজার্ভ চুরি নিয়ে আরেক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ‘এনএসএ’ উপ-পরিচালক রিক লিজেট বলেছেন, বাংলাদেশের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের নেপথ্যে ছিল উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। মার্কিন সংবাদ ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে আরসিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ তারা ফেরত দেবে না। কারণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবহেলার কারণেই রিজার্ভের অর্থ চুরি হয়েছে। সংস্থাটির এ ধরনের ঘোষণা টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টিকে অনিশ্চিত করে তোলে। এরপর অর্থ উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে ফিলিপাইন সফর করেছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ফিলিপাইন সরকার রিজার্ভ চুরির অর্থ আদায়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে বলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছে।

জানা গেছে, রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটসহ (এগমন গ্রুপ) ৪টি সংস্থার কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। অন্য সংস্থাগুলো হচ্ছে- বিশ্বব্যাংক, অর্থ পাচারে মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি) ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

এদিকে সন্ধান পাওয়া রিজার্ভের অর্থের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার আছে সোনেয়ার রিসোর্ট ও ক্যাসিনো ম্যানিলার ব্যাংক হিসাবে। ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আছে ফিলিপাইনের রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেমের হিসাবে। ৬০ লাখ ডলার এখনও রয়েছে কিম অংয়ের কাছে। আর দেশে ফেরত এসেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

জানা গেছে, অর্থ ফেরত আনতে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠক সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) এবং বিচার বিভাগের কাছে রিজার্ভ উদ্ধারের আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়। টাস্কফোর্স বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ১৬ আগস্ট নিউইয়র্কে রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং সুইফটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে সংস্থাগুলোর কর্তৃপক্ষ চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি যৌথ ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।

সূত্রমতে, চুরি হওয়া রিজার্ভের ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার সোনেয়ার ক্যাসিনোর কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে ফিলিপাইনের উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাসিনোর ব্যাংক হিসাবটি ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়। পাশাপাশি ফিলিপাইনের সুপ্রিমকোর্টের মাধ্যমে ক্যাসিনোর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ আদেশের পক্ষে অস্থায়ীভাবে আরও একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কারণ উচ্চ আদালতের আদেশ যে কোনো সময় তুলে নেয়া হলেও সুপ্রিমকোর্টের এ আদেশে ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে না।

এদিকে এ চুরির সঙ্গে দেশী এবং বিদেশী চক্র জড়িত থাকার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত হয়েছে। ফলে দেশের বাইরের জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিদেশী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে একটি নির্দিষ্ট টাইম ফ্রেম থাকে। এর মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হয়। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বিদেশীদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টাইম ফ্রেমের প্রয়োজন আছে কিনা, তা জানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (বিএফআইইউ)। এক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত সংগ্রহের কথা বলা হয়। সূত্রমতে, ফিলিপিনো-চাইনিজ ব্যবসায়ী কিম অং কর্তৃক ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রায় ৪৯ কোটি পেসো বাংলাদেশকে ফেরত দিতে আদালতে একটি যৌথ প্রস্তাব দাখিল করেছে। এ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে কিম অং এবং এএমএলসি। এ দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার ফেরত পেয়েছে।

এদিকে রিজার্ভ সুরক্ষায় সুইফট পুনর্গঠনসহ ৯টি পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে পৃথক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক নিষিদ্ধ করা, ডিভাইসের ইউএসবি ড্রাইভ অকার্যকর করা, সাইবার নিরাপত্তায় কেন্দ্র স্থাপন, অনুমোদিত ডিভাইস সংযুক্ত ও চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আইটি যন্ত্রাংশ ক্রয়ে নিরুৎসাহিত করা। আইটি স্থাপনায় এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে আধা-সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আগুন তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকে কমিটি 

ঢাকা, ২৪ মার্চ : বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত কমিটির তিন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ঘুরে দেখেন এবং প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে তদন্ত দলের বাকি সদস্যরা হলেন- লে. কর্নেল (অব.) মো. মাহমুদুল হক খান চৌধুরী ও ব্যাংকের কমন সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা মো. তফাজ্জল হোসেন।

তদন্ত দলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফারাহ মোহাম্মদ নাসের এবং কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকও ছিলেন।

পরে আহমেদ জামাল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সামান্য। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আগুনে জিএম ও পিএসের কক্ষ পুড়ে গেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, নির্ধারিত সময় ২৮ মার্চের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৩তলায় আগুন লাগে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ২৮ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের (ঢাকা) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করবে এফবিআই 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৪ মার্চ : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। একদিন পরই আরেক গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই চাঞ্চল্যকর এ অর্থ চুরির পেছনে উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি চীনের দালালদেরও হাত ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এফবিআইর গোয়েন্দারাও বিশ্বাস করেন, কোরিয়ান হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মূল হোতা বলে এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আলোচিত এ চুরির ঘটনার তদন্তে জড়িত কর্মকর্তাদের সূত্র উদৃব্দত করে বলেছে, ফেডারেল আইনজীবীদের বিশ্বাস, চীনা দালালরা সুইফটের মাধ্যমে ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে কোরিয়ান হ্যাকারদের সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, সরাসরি মামলা করা হবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে। সংশিল্গষ্ট চীনের মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও অভিযোগের আওতায় চলে আসবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই কর্মকর্তারা লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কে গত বছরের ফেব্রুয়ারির এ ঘটনার তদন্ত করছেন। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।

এফবিআই গোয়েন্দারা এখন তদন্তের ক্ষেত্রে চীনা দালাল বা ব্যবসায়ীদের যোগসূত্রের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, মামলার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ পর্যায়ে দালালি ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার এক সেমিনারে এনএসএর উপপরিচালক রিক লেজেট দাবি করেন, রিজার্ভের অর্থ চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। তার মতে, দেশটি ব্যাংকের অর্থ চুরির ব্যবসায় নেমেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফা হত্যায় সাবেক স্বামী রবিন গ্রেপ্তার 

ঢাকা, ২৪ মার্চ : রাজধানীর কলাবাগানে ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুন্নেসা আরিফা হত্যাকাণ্ডের আটদিনের মাথায় একমাত্র আসামি তার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামি ফখরুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

সেন্ট্রাল রোড-সংলগ্ন ১৩ ওয়েস্টএন্ড স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় সাবলেট থাকতেন আরিফা। ১৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে কাজে বের হয়ে নিজ বাসার দরজায় তাকে ছুরিকাঘাত করে রবিন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আরিফার গ্রামের বাড়ি জামালপুর শহরে। রবিনদের বাড়িও ওই একই শহরে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস ডিপার্টমেন্টের কর্মী রবিন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা পড়েন।

আরিফার ভাই আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আরিফা প্রথমে সিটি ব্যাংকে চাকরি নেন। গত এপ্রিলে যোগ দেন যমুনা ব্যাংকে। পরিবারের অমতে রবিনকে বিয়ে করেন আরিফা। তার বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি। নানা ছুতায় তাকে মারধর করতেন রবিন। তিন মাস আগে আরিফা তালাক দেন রবিনকে। এরপর থেকেই আরিফাকে হুমকি দিতে শুরু করেন রবিন।

ঘটনার পর থেকে রবিন টাঙ্গাইলে তার আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। তদন্ত করার পর আজ ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রামপুরায় গার্মেন্টকর্মীদের সড়ক অবরোধ 

9

ঢাকা, ২৩ মার্চ : বকেয়া বেতনের দাবি ও কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন লিরিক গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি গার্মেন্টকর্মীরা।

বুধবার সকাল থেকে লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজ শ্রমিক ইউনিয়ন ব্যানারে তারা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। তবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

গার্মেন্টকর্মী মনিরা জানান, গতকাল সকালে আমাদের শ্রমিক ভাইরা কারখানার কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন কারখানা বন্ধ। মালিক আমাদের তিন মাসের বেতন না দিয়ে বেআইনিভাবে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। দাবি আদায়ে শ্রমিকরা সড়কের উপর বসে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানও দিচ্ছেন।

এদিকে গার্মেন্টকর্মীদের সড়ক অবরোধের ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রামপুরা-বাড্ডা সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলগামীরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এফবিসিসিআই নির্বাচন ২ মাস স্থগিত 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২২ মার্চ : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ১৪ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনটি দায়ের করেন ময়মনসিংহ চেম্বারের সভাপতি আমিনুল হক শামীম।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি জানান, নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বদরুদ্দোজা বলেন, নিয়ম হচ্ছে বিভাগীয় পর্যায়ে একজন প্রতিনিধি থাকবেন। কিন্তু এতে ময়মনসিংহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে আবেদন করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। পরে আবেদনকারী হাইকোর্ট আবেদন করেন। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও ময়মনসিংহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে আমিনুল হক শামীম নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে, আগামী ১৪ মে ২০১৭-১৯ মেয়াদের এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তফসিল অনুযায়ী ১০ এপ্রিলের মধ্যে পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের নিয়ম ছিল। কিন্তু ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক নির্ধারণ করে ভোটার তালিকা করা হয়। পরে নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করে ময়মনসিংহ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক আবেদন করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বকেয়া না দিয়ে গার্মেন্ট বন্ধ, রামপুরায় শ্রমিক বিক্ষোভ 

ঢাকা, ২২ মার্চ : বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের কাছে সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। বুধবার সকালে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়ে ওই এলাকার জীবনযাত্রা। সড়কের উভয় পাশে শত শত গাড়ি জমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা মানুষগুলো চরম বিপাকে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে। তবে বেলা ১১ টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও সড়কের পাশে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।

জানা গেছে, রামপুরার মোল্লা টাওয়ারে অবস্থিত একটি গার্মেন্টে শ্রমিক-কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রেখেই হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার শ্রমিকরা কাজে এসে গার্মেন্ট বন্ধ দেখে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রামপুরা ব্রিজের কাছে গিয়ে অবস্থান নেয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, কয়েক মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। বার বার মালিকপক্ষকে বললেও তারা আজ না কাল বলে ঘুরাচ্ছিল। আজ সকালে গার্মেন্টে এসে দেখেন তালা ঝুলছে। একটি নোটিশ ঝুলানো। বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। এদিকে কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে পরিবার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভের কারণে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে শত শত গাড়ি জমে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঋণ হাতিয়ে উধাও ৩ হাজার গার্মেন্ট 

ঢাকা, ২২ মার্চ : দুর্নীতির মাধ্যমে ঋণ নেয়া ৩ হাজার গার্মেন্ট এখন বন্ধ। এর বেশির ভাগ গার্মেন্টের কোনো অস্তিত্বই নেই। উধাও হয়ে গেছে। সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ না দিয়ে কয়েকশ’ উদ্যোক্তা সটকে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাধ্য হয়ে ইতিমধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করতে হয়েছে। বাকি টাকার ভবিষ্যৎও একই পথে এগোচ্ছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কম-বেশি সব ক’টি ব্যাংক। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় ৩৫টি ব্যাংক। অথচ গোপন কমিশন ভাগাভাগির মাধ্যমে যারা চরম অনিয়ম করে এসব ঋণ দিয়েছেন তাদের কিছুই হয়নি।

খেলাপিরাও আছেন বহাল তবিয়তে। অনেকে যে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন সেখানে ঋণের ১০ শতাংশ টাকাও বিনিয়োগ করেননি। ঋণের টাকায় অন্যত্র ভিন্ন নামে শিল্প গড়ে তুলেছেন কিংবা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকের টাকা দিচ্ছেন না। এভাবে মুষ্টিমেয় কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির কারণে ব্যাংক ও গার্মেন্ট খাতে ব্যাপক ক্ষতি বয়ে এনেছে। এ প্রতিবেদকের তথ্যানুসন্ধানে গার্মেন্ট খাতের এ রকম বেহালচিত্র বেরিয়ে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতে সরকারের ভুল পলিসির কারণে বাংলাদেশে গার্মেন্ট শুধু দর্জির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কেননা এ শিল্পে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। উপরন্তু এসব ঋণ দুর্নীতি এ খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমছে না। ব্যাংকগুলো এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে উচ্চ সুদ আরোপ করে। আর উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বেশির ভাগ শিল্প কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতির ওপর।

সূত্র জানায়, ব্যাংকভেদে ১০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয় পোশাক খাতে। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) দাবি অনুযায়ী এ খাতে গড় বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ। এ হিসাবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গার্মেন্ট খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যানে পোশাক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬.৭১ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই ১৫ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। যে কারণে আদায় অযোগ্য ঋণ হিসেবে ৭ হাজার ৭২ কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে। বাকি ১০ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকাও আদায় হবে না ধরে নিয়ে নিকট-ভবিষ্যতে অবলোপন করা হবে।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০০৮ সালের তথ্য মতে, দেশে পোশাক কারখানা ছিল ৫ হাজার ৬০৮টি। হালনাগাদ তালিকায় তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১১০টিতে। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ কারখানার সংখ্যা ২৪৯৮টি। এ খাতের অপর সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) তথ্যানুযায়ী ২০১৫ সালেই ২২০টি নিটওয়্যার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত এক দশকের বেশি সময়ে নানা কারণে বন্ধ হয় আরও আড়াই শতাধিক কারখানা। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান তার ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিবিশেষের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকাই এর জন্য দায়ী। ব্যাংকগুলোয় বিপুল মন্দ ঋণের সৃষ্টি সেই পুঞ্জীভূত প্রভাবের ফসল। সেটিও একসময় অবলোপন করতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়েই এমনটি হচ্ছে। বাংলাদেশেও ঘটছে। সারা বিশ্বে পুঁজিবাদী অর্থনীতির দাপট এর নেপথ্য কারণ। যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে খোলাবাজার ও পুঁজিবাজারে কিছু সুযোগসন্ধানী লোক সৃষ্টি করা। বিনিয়োগের নামে উদ্যোক্তা সেজে এরা আত্মপ্রকাশ করে। নানা কায়দায় ব্যাংক ঋণ পকেটস্থ করতেও এরা সিদ্ধহস্ত থাকে। এরপর উৎপাদনে থাকার ভান করে সুযোগ বুঝে একসময় লোকসানের অজুহাতে সটকে পড়ে।’ তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা মেরে দিতে এভাবে তারা ঋণ নিয়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, শুধু তৈরি পোশাক নয়, সব খাতেই ঋণ পরিশোধ না করার রীতি দেশে একটা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই না করে ঋণ দেয়ার কারণেই এমনটি ঘটছে। রাজনৈতিক প্রভাবেও কিছু ঋণ যাচ্ছে। ফলে দিন দিন আদায় অযোগ্য ঋণও বাড়ছে, যা ঋণ অবলোপনের পথে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের চলমান এ পরিস্থিতিকে তিনি উদ্বেগজনক বলেও দাবি করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যহারের মাধ্যমে দেয়া এসব ঋণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি করতে না পারলে আর্থিক খাতে এ দুর্বৃত্তপনা বন্ধ হবে না।

পোশাক খাতে খেলাপি ঋণের প্রায় পুরোটাই মন্দঋণে পরিণত হয়েছে। সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ঋণ পুনর্গঠন বা সহজ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগও করে দেয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঋণ আদায় হয়নি। একপর্যায়ে লোকসানের বোঝা কমাতে আমানত হিসাবের স্থিতিপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। যাকে সহজে বলা হয়, লোকসান বা পুঁজি ঘাটতি। সরকারি ব্যাংকগুলো এ ঘাটতি মিটিয়ে থাকে সরকারি তহবিল থেকে টাকা নিয়ে, যা জনগণের দেয়া ট্যাক্সের পয়সা। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো এসব ঘাটতি মিটিয়ে থাকে ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা রকম সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে। এদিকে এটি করতে গিয়ে নিয়মানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর গড়ে ২৫ ভাগ মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখতে হচ্ছে, যা ‘প্রভিশন’ নামে পরিচিত। এতে করে ব্যাংকগুলো প্রভিশনে রাখা অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে ব্যাংক তার ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেষমেশ এসব লোকসানের বোঝা টানতে হবে সাধারণ গ্রাহকদের।

জানা গেছে, কারখানা স্থাপন, সম্প্রসারণ এবং আমদানি-রফতানি পরিচালনার কাজে বিভিন্ন ব্যাংক এসব গার্মেন্ট কারখানায় অর্থায়ন করে। কিন্তু গুটিয়ে নেয়ার আগে কোনো মালিক ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেননি। কারণ তাদের অনেকেই ব্যবসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। ওদিকে ব্যাংক কর্তারা জেনেশুনেই এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছেন। বিনিময়ে নিয়েছেন মোটা অংকের অলিখিত কমিশন। আর যারা ঋণ নিয়েছেন তারাও টাকা পরিশোধ না করার নিয়তে ছিলেন। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে উদ্যোক্তা ঋণের বিপরীতে যে বন্ধকি সম্পদ দেখিয়েছেন এখন তার সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের কোনো মিল দেখা যাচ্ছে না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে দিয়েও ৫ ভাগ ঋণ আদায় হচ্ছে না।

অবশ্য সামান্য কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও আছে। যারা কম ঘুষে ঋণ নিয়ে সত্যিকারার্থে ব্যবসা করতে চেয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারেনি প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে। এছাড়া উচ্চ ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্ক হার বসানোসহ কাস্টমসের নানা ধরনের হয়রানি তো আছেই। সেই সঙ্গে দফায় দফায় পরিবহন ব্যয় ও মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। অথচ পোশাকের দাম বাড়ানো নিয়ে ক্রেতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। উল্টো তারা এখানে কমপ্লায়েন্সের নামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স সংগঠনের পাহারা বসিয়েছে। তারা শ্রমিকদের উসকানি দেয়া ছাড়াও যেনতেন ছুতেই নেতিবাচক রিপোর্ট দিয়ে থাকে। গার্মেন্ট মালিকরা তাদের কমপ্লায়েন্স তালিকা পূরণ করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেলছেন। কিন্তু সেভাবে ফল মিলছে না। এ রকম ফাঁদে পড়েও অনেকে পুঁজি হারিয়ে গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ঋণ খেলাপিদের তালিকায় এ রকম সংখ্যাও একেবারে কম নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক খাতের অনাদায়যোগ্য খেলাপি ঋণের হার যদি ৩ শতাংশের বেশি হয় তাহলে ব্যাংকিং খাত পর্যাপ্ত মূলধন সংকটে থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেটি এখন ১৬ শতাংশ। সঙ্গতকারণে সংকটের মাত্রাটা সহজে অনুমান করা যায়।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, বন্ধ কারখানাগুলোর কাছে ব্যাংকগুলোর কী পরিমাণ ঋণ আটকে আছে তা জানেন না তিনি। তবে দাবি করেন, প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে প্রতিদিনই ২-৩টি কারখানা বন্ধ হচ্ছে।

বিকেএমইএর সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সচল কারখানার খেলাপি ঋণ কিংবা আদায় অযোগ্য ঋণ নেই বললেই চলে। এ খাতে মন্দ ঋণের যে ফিরিস্তির কথা বলা হচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই উৎপত্তি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে পড়া কারখানাগুলোর জন্য।’ বাস্তবসম্মত কারণেই এদের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তবে অনেক ভালো উদ্যোক্তার ভিড়ে সুযোগ সন্ধানী কিছু খারাপ উদ্যোক্তাও এ সেক্টরে ঢুকে পড়ছে। যারা মজা লুটে সময় বুঝে চলেও গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, মাদার টেক্সটাইল, মাদারীপুর স্পিনিং, বেনটেক্স, ফেয়ার গ্রুপ, রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইলসহ ভুঁইফোড় শত শত প্রতিষ্ঠানকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নামমাত্র বন্ধকীতে ঋণ দিয়েছে বেশ কিছু ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়া ঋণের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বের হয়ে গেছে। দুর্বল অনেক প্রতিষ্ঠানকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণ দেয়া হয়। সাভারের দুর্ঘটনাকবলিত রানা প্লাজা ভবনে থাকা পাঁচটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতেও বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়ন ছিল। তথ্য মতে, ইথার টেক্স, নিউওয়েভ, নিউওয়েভ বটমস, নিউওয়েভ স্টাইল, ফ্যান্টম ট্যাক লিমিটেডে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইথার টেক্স লিমিটেড সরকারি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পুরনো ঋণ শোধ না করায় লেনদেন আগে থেকেই বন্ধ ছিল। ফ্যান্টম ট্যাক লিমিটেড বেসরকারি একটি ব্যাংকের লোকাল শাখার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সোয়ান, লিরিক, আরএম ফ্যাশন, মিফকিফ, বনী, লিবার্টি গার্মেন্ট, লিবার্টি ফ্যাশন ও ফাহিম লুম, আম্বিয়া গার্মেন্ট, সানম্যান টেক্সটাইল, মেনস্ অ্যাপারেলস, ডে অ্যাপারেলস, ডে ফ্যাশন ও বায়েজিদ ড্রেসেস, আরএসআই অ্যাপারেলস, কেন্ট অ্যাপারেলস ও শাহচাঁন অ্যাপারেলসসহ অসংখ্য কারখানা বন্ধ হলেও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেনি। এভাবে দেশে ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৩৫টি ব্যাংক পোশাক খাতে ঋণ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ ফিনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০১৬ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশ মন্দ ঋণ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। এদের মোট খেলাপি ঋণের ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশই আদায় অযোগ্য। টাকার অংকে এর পরিমাণ ২৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পোশাক খাতের রয়েছে চার হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এ খাতে বিশেষায়িত ব্যাংকের আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ৭৯২ কোটি টাকা। বেসরকারি বাণিজ্যিক সবক’টি ব্যাংকের পোশাক খাতে ছাড়কৃত ঋণের মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণ রয়েছে তিন হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। বিদেশী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে এ খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে খেলাপির মেয়াদ পাঁচ বছর উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে ঋণ অবলোপন করতে বাধ্য হয়েছে এমন মন্দ ঋণের পরিমাণ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি, বিদেশী এবং বিশেষায়িত ব্যাংক মিলে আরও সাত হাজার ৭২ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব, ঋণ ছাড়ে রাজনৈতিক প্রভাব, আদায়ে অমনোযোগী এবং ঋণ বিতরণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোর অলসতা প্রত্যক্ষভাবে দায়ী।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি কাজী মশিহুর রহমান দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির কারণেই ব্যাংকগুলোতে মন্দ ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে ব্যাংকারের দায় থাকে না। কারণ কোনো ব্যাংকার ইচ্ছে করলেই পছন্দসই কাউকে ঋণ দিতে পারে না। তাকে ব্যাংকের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। একই সঙ্গে যে শাখা ঋণ দিচ্ছে, তার আদায়ও নিশ্চিত করতে হয় ওই শাখাকেই। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধান এ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এত বেশি ঋণ দিয়েছে, সেখানে আনুপাতিক একটা অংশ খেলাপি বা আদায় অযোগ্য হতেই পারে। একটি ব্যবসায় সবাই সফল হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের এমডি আবদুল হালিম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঋণের টাকা পুনরায় ব্যাংকে ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে যাকে ঋণ দেয়া হয়েছে সে ব্যবসায় টিকে আছে কি-না তার ওপর। যে ব্যবসায় নেই, তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফেলেছে অথবা পালিয়ে গেছে ওই টাকা কার কাছ থেকে আদায় করবে? এর দায় ব্যাংককেই নিতে হয়। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পেপ্যাল চালুর অনুমোদন পেল সোনালী ব্যাংক 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২১ মার্চ : বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেন প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল অবশেষে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে পেপ্যাল  সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সোনালী ব্যাংকে অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার সোনালী ব্যাংকের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ নওয়াব হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে সোমবার এ অনুমোদন দিয়েছে।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পেপ্যাল সেবা চালুর জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি পেয়েছি। এখন পেপ্যালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর দেশে শিগগির এ সেবা চালু করা হবে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে পেপ্যালের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এখন সফটওয়্যারের উন্নয়ন এবং সমন্বয়ের জন্য পেপ্যালের  সঙ্গে কাজ করা হবে। এর জন্য আমরা অনেক বেশি সময় নষ্ট করবো না। দেশবাসী খুব শিগগির সুসংবাদ পাবেন।

পেপ্যালের সাহায্যে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে বিশ্বব্যাপী ফান্ড ও রেমিটেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন এর সেবা গ্রহীতারা। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও কোনো ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

এর আগে সম্প্রতি তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়াতে পেপ্যালের ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বাংলাদেশে তাদের সেবা চালুর জন্য সরকারের নীতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ চলতি প্রান্তিকে বাংলাদেশে সেবা শুরু করতে সম্মত হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে পেপ্যাল। দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশে পেপ্যালের সেবা চালুর দাবি ছিল।

জানা গেছে, চুক্তি সই করার আগে আন্তর্জাতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এ চুক্তিতে সই করেন। প্রথমে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে খসড়া চুক্তিতে সই করে তা পাঠানো হয় পেপ্যালের সদর দপ্তরে। সেখান থেকে পেপ্যালের পক্ষে চুক্তিতে সই করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা 

244

ঢাকা, ২০ মার্চ : চলতি বছর (২০১৭) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশে কার্যরত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ঋণ বিতরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৭ সালে এসএমই ঋণের এই লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় ২০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ১৫ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো এক হাজার ৩০ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলো আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করেছে এক হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। আগের বছর বিদেশি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা।

চলতি বছর এসএমই খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো; যার পরিমাণ ৫২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৭ হাজার ১৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করবে।

ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, শুধু ব্যবসা খাতে এ বছর ঋণ বিতরণ করবে ৭১ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা; আগের বছর যা ছিল ৬২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।

সেবা খাতে ঋণ বিতরণ করা হবে ২০ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ১৩ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা।

এছাড়া উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ঋণ বিতরণ করা হবে ৪১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

২০১৭ সালে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ২১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ দেয়া হবে ১১ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। আর নতুন নারী উদ্যোক্তাদের দেয়া হবে ১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

আর এ বছর গ্রামাঞ্চলে এসএমই ঋণ বিতরণ করা হবে ৩৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে এর পরিমাণ ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বলেন, বড় ঋণ গ্রহীতার তুলনায় এসএমই ঋণের আদায় ভালো। ফলে এ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। যার কারণে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও বেড়েছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রার শতভাগের বেশি অর্জন হয়েছে। আশা করছি এ বছরও লক্ষ্যমাত্রার অর্জন সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ হয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। যা ছিল আগের বছরের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। এরআগে ২০১৫ সালে এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ে তরমুজ চাষে কৃষাণীর চমক 

hdr

রাঙামাটি, ১৯ মার্চ : রাঙামাটির পাহাড়ে তরমুজ চাষ করে চমক লাগিয়ে দিয়েছে এক কৃষাণী। আকারে বেশ বড় এসব তরমুজ দেখতে টসটসে, স্বাদেও মিষ্টি। উপযুক্ত আবহাওয়া এবং সঠিক পদ্ধতির চাষাবাদের কারণে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব তরমুজ উৎপাদন হয়েছে রাঙামাটির জেলার সুভলং ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুনাছড়ি পাহাড়ে।

রাঙামাটির সুবলং ইউনিয়নের বরুনাছড়ি এলাকার তরমুজ চাষী মনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী সলিমুল্লাকে সাথে নিয়ে চলতি মৌসুমে দক্ষিণ বরুনাছড়ি পাহাড়ে ২ একর জমি বর্গা নিয়ে তরমুজের চাষ শুরু করেন তিনি। পাহাড়ের পাদদেশে মাত্র ৩০০ মাদার (গর্ত) মধ্যে তরমুজ চাষ করা হয়। প্রতিটি মাদায় ৩ থেকে ৪টি করে তরমুজ স্থান পায়। সময়মত পানি সারসহ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলনও হয়েছে বাম্পার। শুধু এ মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন তিনি।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়েছে লংগদু উপজেলায়। এছাড়া রাঙামাটি সদর, বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলাগুলোতে ব্যাপকহারে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। এসব উপজেলার উৎপাদিত তরমুজ এখন রাঙামাটির বিভিন্ন বাজারে সয়লাব।

রাঙামাটির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বড় ও মাঝারি আকারের প্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা এবং ছোট আকারের তরমুজ ৮০-১০০ টাকায়। চাহিদাও অনেক। তাই দাম যাই হোক লুভে নিচ্ছে ক্রেতারা। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা জানান, উপযুক্ত আবহাওয়া, জমির ঊবরতা এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকহারে তরমুজের চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। এতে চাষিদের বিপুল অর্থনৈতিক আয়ের পাশাপাশি বিশেষ মুনাফা লাভের সম্ভবনা রয়েছে। এবার মৌসুমেও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে টোফেল, গ্লোরি ও চ্যাম্পিয়ন জাতের তরমুজ।

এদিকে পাহাড়ের এসব উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাজারজাত হচ্ছে জেলার বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে। তরমুজ চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বহু কৃষি পরিবার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৬১৫ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা 

25

ঢাকা, ১৬ মার্চ : বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা ৬১৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাংকের করা আপিল আজ বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ বিচারপতির বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেয়া ৬১৫ কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছিল। ঐ রায়ে এস. আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ কোটি টাকা, দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডকে ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ, মেঘনা সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজকে ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডকে ১৫ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডকে ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজকে ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টকে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ৩৫ কোটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের এক পরিচালককে ১৮৯ কোটি ও ইউনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারীকে ৬৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়।

এই টাকা যেন ফেরত দিতে না হয় সে জন্য হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আপিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এবং বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী প্রমুখ শুনানি করেন।

শুনানিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অংশ নেয়া আইনজীবীরা বলেন, রাষ্ট্র কোন নাগরিকের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোড় করে অর্থ নিতে পারে না। এটা সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে সেই টাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং এই টাকা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করেছে। তারা বলেন, কোন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আইন নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার অর্থ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন ভাবেই অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। ফলে বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে টাকা আদায় করা হয়েছে তা বেআইনিভাবেই করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, এই বিষয়টি নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টের কোন এখতিয়ার নেই। এটা নিষ্পত্তি করতে হলে সিভিল মামলা করতে হবে। ডিক্রি হতে হবে। তিনি বলেন, সংসদে আইন ছাড়া এ টাকা ফেরৎ দেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তাছাড়া বিভিন্ন কারণেই এ বিষয়টি রিট মামলায় নিষ্পত্তি করা ঠিক নয়।

শুনানি গ্রহণ করে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ব্যাংকের আপিল খারিজ করে দেন।

আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায় ঐতিহাসিক। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বেআইনিভাবে ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যেভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছিল তা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়ায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

প্রসঙ্গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময়ে টাস্কফোর্স বিভিণ্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করেন। এই টাকা দুই শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অর্থবছরের ৮ মাসে ৩৭ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন 

78

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৫ মার্চ : চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৭ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল এডিপির হালনাগাদ প্রতিবেদনটি সংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় জানানো হয়,  চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে এডিপিতে মোট খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯ হাজার ৮২৭ কোটি (৪২ শতাংশ) এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা (৩০ শতাংশ) খরচ হয়েছে। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা (৩১ শতাংশ)।

গতবছরের একই সময়ে এডিপি মোট ব্যয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ২২ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা (৩৭ শতাংশ) এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ব্যয় হয়েছিল ৭১০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা (৩০ শতাংশ) এবং নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়ে ছিল এক হাজার ৪৬৬ টাকা (৩৭ শতাংশ)। এ সময়ে ৩৩ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন হার ৪০ শতাংশেরও কম।

অর্থবছরের ৮ মাস পর্যন্ত মাত্র ১০ মন্ত্রণালয় বিভাগ ৫০ শতাংশের বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (৮২ শতাংশ), গৃহায়ণ ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয় ৫৩ শতাংশ,  কৃষি মন্ত্রণালয় ৫১ শতাংশ, বিদ্যুত্ বিভাগ ৫০ শতাংশ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫০ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪৮ শতাংশ,  সেতু বিভাগ ২১ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণায়ল ২৭ শতাংশ, পানি সম্পদ ২৫ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ শতাংশ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৩৫ শতাংশ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪৬ শতাংশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৩৭ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর