২২ জুলাই ২০১৭
দুপুর ২:৫৭, শনিবার

হজযাত্রীদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের উপহার হস্তান্তর

হজযাত্রীদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের উপহার হস্তান্তর 

6

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২১ জুলাই : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড হজযাত্রীদের ব্যবহারের জন্য উপহার হিসেবে কভারসহ বিছানার ফোম ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও ডেভেলপমেন্ট উইংপ্রধান আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া মঙ্গলবার আশকোনাস্থ হজ অফিসে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলামের নিকট এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিজনেস প্রমোশন অ্যান্ড মার্কেটিং ডিভিশন প্রধান এএসএম রেজাউল করিম, এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাজী ক্যাম্প শাখা প্রধান মো. খালেকুজ্জামানসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আবারো কমল স্বর্ণের দাম 

938

ঢাকা, ২০ জুলাই : আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য চিত্র সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে নেই।

এতে ডলারের দাম ১০ মাসের মধ্যে সোমবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (নিমেক্স) কোমেক্স বিভাগে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি আউন্সে স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক পাঁচ শতাংশ। ওই দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণ লেনদেন হয় এক হাজার ২৩৩ ডলার ৯০ সেন্ট।

এছাড়া স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স লেনদেন হয় এক হাজার ২৩৪ ডলার ৫৯ সেন্ট।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আইএমএফের ঋণ এখন গলার কাঁটা 

8899

অর্থনৈতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৯৬.৪০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ এখন দেশের মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিনাসুদের এ ঋণ নিতে সরকারকে আইএমএফের কাছে আর্থিক খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৬ শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্র“তি দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মানুষ এখন সেই প্রতিশ্র“তি রক্ষার খেসারত দিচ্ছে। যেসব শর্তের দায় সরাসরি জনগণের বোঝা বাড়ায় তেমন শর্ত বাস্তবায়নেই সরকারের তোড়জোড় চলছে।

আবার দু’হাতে লুটপাটের পথ বন্ধ হওয়ার শংকায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসনসহ অনেক শর্তের বাস্তবায়ন এখনও হচ্ছে না। অন্যদিকে পুঁজিবাজারসহ আরও কিছু খাতে বাস্তবায়িত কিছু শর্ত আর্থিক খাতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কারণ সেসব সংস্কার পরিস্থিতি বদলাতে পারেনি। এতে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের এই ঋণ শর্ত দেশের শিল্পবিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ কর অবকাশ সুবিধা কর্তন করার শর্তগুলো সরাসরি শিল্পবিরোধী নীতি।

আর্থিক নীতি, মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার, আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ খাত সংস্কারে আইএমএফের শর্তগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি হ্রাস, কর অবকাশ সুবিধা কমানো, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কর আইন সংশোধন ও বাস্তবায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা, রফতানিমুখী বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ হ্রাস, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত তদারক কাউন্সিল গঠন, স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) শক্তিশালী করার পদক্ষেপ, সামাজিক ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন, আন্তর্জাতিক একটি নিরীক্ষা ফার্ম (অডিট ফার্ম) দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম এবং সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় হারসহ ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ প্রভৃতি।

এসব শর্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, যে সময়ে এ ঋণটা নেয়া হয়েছে, ওই সময় বিশ্বের অনেক দেশই তাদের আর্থিক খাত নিয়ে চাপে ছিল। সবাই কিন্তু এ ঋণ নেয়নি। তিনি দাবি করেন, বিনাসুদে হলেও আইএমএফের কাছ থেকে কঠিন শর্তযুক্ত এ ঋণ নেয়াটাই সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখন ঋণ যেহেতু নিয়েছে, শর্তের বাস্তবায়ন করতে তো হবেই। সেটা করতে হলে জনজীবনে ভোগান্তি আসবেই।

অন্যদিকে আইএমএফের শর্তের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সেই ২০১২ সালেই অস্বীকার করেছেন। তিনি তখন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যেসব শর্তের কথা বলা হচ্ছে, সেসব শর্ত আইএমএফের নয়। বরং আমিই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির কথা ভেবে আমাদের আর্থিক খাতে বেশ কিছু সংস্কার আনার প্রস্তাব আইএমএফকে জানিয়েছিলাম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল এক্সটেনডেট ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) ঋণ নেয়ার পরপরই এ দাতা সংস্থার শর্ত পূরণে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এসব শর্তের ধরন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্র ঋণ নিলেও এর ব্যয়ভার সহজেই যাতে জনগণ থেকে তুলে আনা যায়- এমন শর্ত বাস্তবায়নের দিকেই সরকার বেশি মনোযোগী।

এর ধারাবাহিকতায় গত দুই বছরে জ্বালানি-বিদ্যুতের স্থানীয় দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়। এ কারণে উদ্যোক্তার উৎপাদন ব্যয় গড়ে ৮ ভাগ বেড়েছে। পরিবহন ব্যয় ও পণ্যমূল্যও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কমিয়ে আনা হয় স্থানীয় শিল্পের কর অবকাশ সুবিধা। এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ ভাগ অর্থ বা প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বাড়তি বোঝা জনজীবনে যোগ হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ভর্তুকিও কমানো হয়েছে। এতে সক্ষমতা হারিয়েছে অনেক উৎপাদনমুখী খাত। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) নানামুখী আগ্রাসী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে করদাতার ওপর। শর্ত পালন করতে গিয়ে সরকার গত তিন বছর ধরেই ঢাকঢোল পিটিয়ে আসছে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকর করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের বছরে এসে দেশের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝতে পেরে এ আইন কার্যকর থেকে দু’বছর পিছু হটে সরকার। এ পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দায় স্বীকার করে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এখনই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া এনবিআরের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখানে আমার (অর্থমন্ত্রী) আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। বিদেশি প্রতিষ্ঠান আইএমএফের শর্ত পূরণ করা নয়। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকার দেশের বৃহৎ কল্যাণ, জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সঠিক কাজটিই করেছে।

তবে আইএমএফের বেশ কিছু শর্ত দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার জন্য সহায়ক হলেও সরকারের দায়িত্বশীলরা তাতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ সেসব জনগুরুত্বপূর্ণ শর্তের বাস্তবায়ন করতে গেলে সুবিধাভোগীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাবে এবং দু’হাতে অর্থ লোপাটের পথ বন্ধ হবে।

ফলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় হারসহ ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত তদারক কাউন্সিল গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংস্কার এবং বাণিজ্য উদারীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো শর্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ প্রতিবেদককে বলেন, যখন বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ নিয়েছিল সেই সময় আর বর্তমানের প্রেক্ষাপট এক নয়।

দেশের অর্থনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেয়া আইএমএফের কিছু শর্ত বাস্তবায়ন দেশের জন্যই সহায়ক ছিল।

কিন্তু সরকার সেটি পরিপূর্ণভাবে করতে পারলে আর্থিক ভিত্তি মজবুত হতো। অন্যদিকে যেসব শর্ত ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে তার কিছু নেতিবাচক প্রভাব জনজীবনে পড়ছে। এ থেকে উত্তরণে তিনি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিভাবে বাড়ানো যায়, দ্রুত সেদিকে নজর দেয়ার পাশাপাশি অধিক হারে কর্মসংস্থান তৈরিরও পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভ্যাট আইন কার্যকরের সময় এখনও হয়নি মন্তব্য করে তিনি সরকারের পিছু হটে আসাকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা ইসিএফ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হওয়া এ ঋণের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ মাত্র ৯৬.৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

অর্থাৎ এক বিলিয়নেরও কম। সেটাও আবার দেয়া হয়েছে ৭টি কিস্তিতে। অথচ দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করছে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চালের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রামে আসছে আজ 

5652

চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই : ভিয়েতনাম থেকে দ্বিতীয় চালানের ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে আরো একটি জাহাজ আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

এমভি পেক্স নামের চাল বোঝাই এই জাহাজটি রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে পৌঁছাবে বলে চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে ২০ হাজার টন চাল নিয়ে এমভি ভিসাই ভিসিটি-৫ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই জাহাজ থেকে চাল খালাস চলছে। সর্বমোট আড়াই লাখ টন চাল ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হচ্ছে বলে সরকারি খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এমভি ভিসাই ভিসিটি-৫ ও এমভি পেক্স জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট ইউনিশিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসাইন জানান, ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে দ্বিতীয় জাহাজটি আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। ভিয়েতনামের হো চি মিন বন্দর থেকে আরো চারটি জাহাজ দুয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

এমভি ভিসাই ভিসিটি-৫ জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে চাল খালাস কাজ করছে মেরিন সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী অমল চন্দ্র দাস জানান, এই জাহাজে থাকা ২০ হাজার টন চালের মধ্যে ২৫০০ টন চাল বহির্নোঙরে খালাস করা হবে। পরে জাহাজটি বন্দরের জেটিতে নিয়ে এসে বাকি ১৭ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চালের উৎপাদন কমার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ 

9878

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৫ জুলাই : বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যেতে পারে। শস্যহানির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূমিধস এবং তার পরিণতিতে বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে। এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ওপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

এডিবি এমন এক সময়ে রিপোর্টটি প্রকাশ করল যখন বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। কিছুদিন আগে হাওর অঞ্চলে বন্যার কারণে প্রধান ফসল বোরোর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে বোরোর উৎপাদন কম হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত এডিবির এ প্রতিবেদনের নাম ‘ঝুঁকিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল :জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা’। এতে বলা হয়, জলবায়ু

পরিবর্তন ঠেকাতে না পারলে এ অঞ্চলে বহু কষ্টে অর্জিত উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের অবনতি হবে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, বন্যা ও প্লাবনের প্রকোপ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে চালের উৎপাদন কমবে বছরে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ। ২০০৫ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বিবেচনায় নিয়ে চালের উৎপাদন মোট আট কোটি টন কমে যাওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। আর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধিকে বিবেচনায় না নিয়ে ২০৫০ সাল নাগাদ চালের উৎপাদন ১৭ শতাংশ এবং গমের উৎপাদন ৬১ শতাংশ কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি টনের মতো চাল উৎপাদন হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির দেশ। তবে এর আয়তন খুবই কম। ভূপৃষ্ঠের বিবেচনায় এটি বিশ্বের ৯৪তম দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬২ সেন্টিমিটার বাড়লে ২০৮০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১৩ শতাংশ হারিয়ে যাবে এবং বর্তমানের তুলনায় ২০ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাবে। ২০৩০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটার বাড়লে এ হার হবে যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আগের এক গবেষণার উদৃব্দতি দিয়ে বলা হয়, মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিবেচনায় বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বন্যা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব দেশে ব্যাপকভাবে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বাড়তে পারে তার মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৩৫ কোটি ডলারের ৭৫ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক 

55

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৪ জুলাই : বিশ্ব ব্যাংকের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট (এফএসএসপি)’ থেকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে রফতানিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর করা প্রায় ৩৫ দশমিক ২৯ কোটি মার্কিন ডলারের ৭৫ টি প্রকল্প প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেন,‘ আমরা ইতোমধ্যে ৪৩ টি প্রস্তাবের ১৯ দশমিক ২৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুমোদন করেছি। এর মধ্যে ৩১টি প্রস্তাবের মার্কিন ১০ দশমিক ০১ ডলার বিতরণ করা হয়েছে। অনুমোদিত অবশিষ্ট অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, অনুমোদিত মোট ফান্ড থেকে কিছু আংশিক বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো কিছু মেশিনারি আমদানির জন্য বিতরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, যা এলসি খোলার পর বিতরণ করা হবে।

বিবি সূত্র জানায়, আবেদনপত্রগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠানো হয়, যার মধ্যে তিনটি প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ১৬টি বিশ্ব ব্যাংক বাতিল করেছে।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চারটি কোম্পানির ৩ দশমিক ৪৬ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব জমা দিয়েছি। এতে ইতোমধ্যে দুটি কোম্পানির ২ কোটি ১ লাখ মার্কিন ডলার ফান্ড অনুমোদন হয়েছে।’ দেশের উৎপাদন খাতে এফএসএসপি-র দীর্ঘমেয়াদী এই ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে চুক্তি করেছে, যা দেশের রফতানিমুখি শিল্পে ৩১টি ব্যাংকের মাধ্যমে ফান্ড বিতরণ করবে।মোট টাকার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ৩০ কোটি ও বাকি অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চালের প্রথম চালান চট্টগ্রামে 

967

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৩ জুলাই : সরকারিভাবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রথম চালানে ২০ হাজার টন আতপ চাল নিয়ে এম ভি ভিসাই ভিসিটি-৫ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করেছে।

শুল্কায়ন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর লাইটারিংয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ বিভাগ। আজ বিকেল কিংবা আগামীকাল সকাল থেকেই লাইটারিং করে এই জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হতে হতে পারে।

চট্টগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চলাচল ও সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ভিয়েতনাম পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভিসাই ভিসিটি-৫ জাহাজটি সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এই জাহাজে সরকারের আমদানি করা চালের প্রথম চালানে ২০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল রয়েছে। জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট ইউনিশিপ বুধবার জাহাজের বার্থিং সভায় এর আগমনের ব্যাপারে ঘোষণা দেয়।

তিনি আরো জানান, এখন জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ এবং কাস্টম হাউসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বহির্নোঙ্গর থেকে লাইটারিংয়ের কাজ শুরু হবে। কিছু চাল লাইটারিংয়ের পর বাকিটা নিয়ে জাহাজ বহির্নোঙর থেকে বন্দর জেটিতে চলে আসবে। সেখানে সব চাল খালাস করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগের আওতাধীন খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন এলএসডিতে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে আতপ চাল আমদানিতে প্রতি টনের দাম পড়েছে ৪৩০ ডলার। সেখান থেকে ২ লাখ টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। এ ছাড়া ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানি হবে। সিদ্ধ চাল প্রতিটনের দাম পড়বে ৪৭০ ডলার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টিভি রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির ঘোষণা ওয়ালটনের 

889

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১২ জুলাই : এবার টেলিভিশনে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির ঘোষণা দিলো ওয়ালটন। চলতি জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। এখন থেকে টিভি কেনার পর এক বছরের মধ্যে প্যানেলে যে কোনো সমস্যা হলে গ্রাহকদের দেয়া হবে নতুন টিভি। ওয়ালটন টিভির উচ্চগুনগতমান নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহকদের অধিকতর সেবার ক্ষেত্রে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বলেই ওয়ালটন এই ঘোষণা দিলো।

আজ বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ওয়ালটন মিডিয়া অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি ওয়ালটনের এলইডি টিভির প্যানেলে রয়েছে দুই বছরের ওয়ারেন্টি। থাকছে ৫ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবাও।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বের লেটেস্ট প্রযুক্তির মেশিনারিজ স্থাপন করেছে ওয়ালটন। নিশ্চিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মান। পাশাপাশি আরো গ্রাহকবান্ধব হতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সময়োপযোগী পণ্য উপহার দিতে দেশের সর্ববৃহৎ টেলিভিশন গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ গড়ে তুলেছে ওয়ালটন। যেখানে কাজ করছেন উচ্চ-শিক্ষিত, মেধাবী ও দক্ষ প্রকৌশলীরা। তারা ওয়ালটন টিভির মান উন্নয়নে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যার সুফল হিসেবে এলইডি টেলিভিশনে এবার দেশীয় ব্র্যান্ডটি দিচ্ছে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি।

ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ও বিপণন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রিজওয়ানা, পলিসি ও এইচআরএম বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এসএম জাহিদ হাসান, টিভি গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ফরহাদ হাসান মামনুন, টিভি সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মোস্তফা নাহিদ হোসেন এবং টিভি সার্ভিসিং শাখার প্রধান ব্রজ গোপাল কর্মকার।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে অনেকেই এলইডি টিভিতে রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধার কথা বললেও সমস্যা হলে গ্রাহকদের নতুন টিভি না দিয়ে শুধুমাত্র পার্টস বদলে দেয়। কিন্তু টিভি কেনার এক বছরের মধ্যে যদি এলইডি টিভির প্যানেলে কোনো ধরনের সমস্যা হয় তাহলে সেটি বদলে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ নতুন টিভি দেবে ওয়ালটন।

উল্লেখ্য, ওয়ালটন টিভিতে উচ্চমানের ছবি ও শব্দের গুণগতমান নিশ্চিত করতে ডাইনামিক নয়েজ রিডাকশন, মোশন পিকচার, সর্বোচ্চ ফ্রেম রেট, ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ নিজস্ব ডিজাইনের উন্নত প্রযুক্তির মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে নিজস্ব কারখানায় কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাশ্রয়ী মূল্যে এলইডি টিভি বাজারজাত করায় বিক্রিও হচ্ছে বেশি। অধিক উৎপাদনের ফলে কমে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বকেয়ার দাবিতে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও 

58825

ঢাকা, ১১ জুলাই : বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন বাড্ডা এলাকার শামস গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। সোমবার মধ্য রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকে দাবি দাওয়া নিষ্পত্তি না হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শ্রমিকরা।

রমনা থানার ওসি জানান, শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা বুঝতেছেন না। বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। মালিক ও বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আসার পর সুরাহা হতে পারে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধ্য বাড্ডার শামস গার্মেন্টসটিতে প্রায় পাঁচশ শ্রমিক কাজ করেন। ৪ জুন কাজ করে তারা বাসায় যান। ৫ জুন কারখানায় এসে দেখেন গেটে তালা দেয়া। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেতন-ওভারটাইম কিছুই দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। পাওনা ও ওভারটাইমের দাবিতে গতকালও তারা বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। গতকাল কোনো সমাধান না পেয়ে আজও অবস্থান নিয়েছেন। বকেয়া বেতন না পাওয়া পর্যন্ত তারা বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

সুফিয়া নামে একজন শ্রমিক জানান, তিনি দেড় বছর ধরে কারখানাটিতে কাজ করেন। হঠাৎ কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন।

জানা গেছে, মধ্য বাড্ডার শামস গার্মেন্টসটির মালিকের নাম মো. রেজা। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপি কারা 

85

অর্থনৈতিক ডেস্ক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, চলতি বছরের এপ্রিলে তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। তিনি সংসদে শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শীর্ষ ১০০ খেলাপি
অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ঋণখেলাপি ১০০টি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। এর মধ্যে দুজন রয়েছেন ব্যক্তি, বাকিগুলো হচ্ছে প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীর তালিকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটির নাম দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লি. ও যমুনা অ্যাগ্রো কেমিক্যাল।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লি., জেসমিন ভেজিটেবল লি., ম্যাক্স স্পিনিং মিলস লি., বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ঢাকা ট্রেডিং হাউস, আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লি., এমএম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্ট লি., আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লি., ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লি., ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, হল-মার্ক ফ্যাশন লি., মুন্নু ফেব্রিকস লি,. ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিকস লি., সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েল লি., নুরজাহান সুপার অয়েল লি., সালেহ কার্পেট মিলস লি., এসকে স্টিল, চৌধুরী নিটওয়্যারস লি., রনকা শোয়েল কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লি., টি অ্যান্ড ব্রাদার নিট কম্পোজিট লি., তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ইউনিট, রহমান স্পিনিং মিলস লি., এস স্পিনিং লাইন, হাজী ইসলাম উদ্দিন স্পিনিং মিলস লি., গ্রামবাংলা এমপিকে ফার্টিলাইজার অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডা., টেলি বার্তা লি., কটন করপোরেশন, ভারগো মিডিয়া, সোনালী জুট মিলস লি., এক্সপার টেক লি., এমবিএ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লি., ওয়ালমার্ট ফ্যাশন লি., ওয়ান ডেনিম মিলস লি., অ্যাগ্রো ইন্ডা, প্রা. লি., হিমালয় পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লি., এমদাদুল হক ভুইয়া, এম কে শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড স্টিলস লি., রনকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস লি., ম্যাক শিপ বিল্ডার্স লি., বিশ্বাস গার্মেন্টস লি., মাস্টার্ড ট্রেডিং, হিন্দুল ওয়ালি টেক্সটাইল লি., ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লি., কেপিট্যাল বনানী ওয়ান লি., মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লি., অর্জন কার্পেট অ্যান্ড জুট ওয়েভিং লি., এ জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স, অরনেট সার্ভিসেস লি., দোয়েল অ্যাপারেল লি., আশিক কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লি., মুন বাংলাদেশ লি., মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লি., এইচআর স্পিনিং মিলস প্রা. লি., বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লি., কেয়া ইয়ার্ন মিলস লি., তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ, অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লি., দ্যা ওয়েল টেক্স লি., ডেল্টা সিস্টেমস লি., জাহিদ এন্টারপ্রাইজ লি., হিলফুল ফুজুল সমাজকল্যাণ সংস্থা, মুজিবুর রহমান খান, নিউ রাখী টেক্সটাইলস মিলস লি., আলী পেপার মিলস লি., অল টেক্স ইন্ডা. লি., নর্দার্ন ডিস্টিলারিজ লি., লাকি শিপ বিল্ডার্স লি., যমুনা অ্যাগ্রো কেমিক্যাল, মাকসুদা স্পিনিং মিলস লি., শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস লি., সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানি লি., যমুনা অ্যাগ্রো কেমিক্যাল লি., মনোয়ারা ট্রেডিং, একে জুট ট্রেডিং কোং, মাহাবুব স্পিনিং লি., আলামিন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট লি., প্রফিউশন টেক্সটাইল লি., মা টেক্স, সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বিসমিল্লাহ টাওয়েল লি., ন্যাম করপোরেশন, জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পিএ, সর্দার অ্যাপারেলস লি., জেড অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বাস টেক্সটাইলস লি., মডার্ন স্টিল মিল লি., নিউ অটো ডিফাইন, অনিকা এন্টারপ্রাইজ, ডি আফরোজ সোয়েটার ইন্ডা. লি., মোবারক আলী স্পিনিং মিলস লি., আফিল জুট মিলস লি., রেজা জুট ট্রেডিং, আর কে ফুডস লি., আলফা টোব্যাকো ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লি., ফেয়ার এক্সপো ওয়েভিং মিলস লি., কেয়ার স্পেশালাইজ হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লি. এবং ফিয়াস এন্টারপ্রাইজ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আমদানির অর্থ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ বাড়ছে 

5558

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১০ জুলাই : আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক  ঋণ (বায়ার্স ক্রেডিট) নেওয়ার হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় মুদ্রার ঋণ চাহিদা কমার পেছনে বায়ার্স ক্রেডিট বেড়ে যাওয়া অন্যতম কারণ। আর ব্যবসায়ীদের অভিমত, ব্যবসার খরচ কমানোর জন্য শিল্পোদ্যোক্তারা বায়ার্স ক্রেডিটের দিকে ঝুঁকছেন।

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের কাছ থেকে আগে বাকিতে পণ্য কিনতেন এ দেশের আমদানিকারকরা। এতে আমদানিকারকরা পণ্যের দর-দাম করার সুযোগ পেতেন না। গত ২০১২ সালের পর থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ (বায়ার্স ক্রেডিট) নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আমদানিকারকরা। এরপর থেকে এই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। গত এপ্রিল মাস শেষে দেখা গেছে, বায়ার্স ক্রেডিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮২ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৮৯ কোটি ডলার। অর্থাত্ গত এক বছরে এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার বা ৪৯ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগে কখনো এত বেশি বায়ার্স ক্রেডিট নেওয়া হয়নি।

বায়ার্স ক্রেডিট হচ্ছে দেশের আমদানিকারকের বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া ঋণ। দেশের কোনো আমদানিকারক মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে আমদানিকারক স্থানীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি সাপেক্ষে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ওই পণ্য আমদানি করতে পারেন। এক্ষেত্রে সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। কোনো ঋণের সুদহার কেবল ৬ শতাংশের বেশি হলে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয় ব্যাংকগুলোর। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এসব ঋণের মেয়াদ এক বছর, আর শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে মেয়াদ ৬ মাস। এ কারণে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই ঋণ শোধ হতে থাকে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যবসায়ীদের এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। পরের মাস থেকেই শুরু হয় এই ঋণ গ্রহণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশের ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদহার অনেক কম। সেক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদের নিচেও বায়ার্স ক্রেডিট নিতে পারছেন আমদানিকারকরা। তবে বড়-বড় দেশি কয়েকটি ব্যাংক বায়ার্স ক্রেডিট দিচ্ছে। যদিও পরিমাণ তা খুব সামান্য। আমদানিকারদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পাওয়ার সুযোগ পণ্যমূল্য নির্ধারণে নেগোশিয়েট করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে দেশি আমদানিকারকদের খরচ কমছে। আগে বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাকি করে পণ্য কেনা হতো। এ জন্য বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই পণ্য কিনতে বাধ্য ছিলেন আমদানিকারকরা। অনেকটা সাশ্রয়ী বলে বায়ার্স ক্রেডিট দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংক খাতে এক লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আছে যা বিনিয়োগ করা যাচ্ছেনা। অবশ্য ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া অনুযায়ী ঋণের সুদহার  সিঙ্গেল ডিজিটে (১০ শতাংশ) নামলেও পারিপার্শ্তিক অন্যান্য কারণে ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। সর্বশেষ হিসাবে মে মাসে ব্যাংকগুলো গড় ঋণের সুদহার ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে শিল্প খাতের এখনো সর্বোচ্চ ১৬-১৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করছে কোনো-কোনো ব্যাংক। বায়ার্স ক্রেডিটের মতো স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদহার ব্যাংকভেদে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত।

আমাদানিকারকরা বলছেন, পণ্য আমদানিতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তার সুদ অনেক বেশি। কিন্তু বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদহার দেশভেদে ৩ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। এতে বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবসার খরচ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে এক ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। ঋণ পরিশোধের সময় যদি বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার দামের অবমূল্যায়ন হয় তবে আমদানিকারকের খরচ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বায়ার্স ক্রেডিট আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা দিলেও তা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। যে হারে এ ঋণ বাড়ছে তা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।-ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেড় দশকে সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি 

3

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৯ জুলাই : গত দেড় দশকের সদ্যসমাপ্ত গেল অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত দেড় দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশ থেকে তিন হাজার ৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অথচ এ অর্থবছরের জন্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ছয় দশমিক ০৩ শতাংশ বা ২০০ কোটি ১৫ লাখ ডলার কম রফতানি হয়েছে।

একক মাস হিসেবে সর্বশেষ জুন মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায়  ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। জুন মাসে আয় হয়েছে ৩০৪ কোটি ডলার। গত বছরের জুন মাসে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৫৯ কোটি ডলার। প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় সার্বিকভাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দায় পোশাকের মূল্য কমে যাওয়ায় এ বছর রপ্তানি অর্ডার কম থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এছাড়া ইউরো ও রোবলের দরপতনেরও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রানা প্লাজা দূর্ঘটনার প্রভাব এজন্য দায়ী।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে বিদায়ী অর্থবছরে। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক ১১ শতাংশ। আর এ গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০১০-১১ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নয় দশমিক ৭২ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে পাঁচ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তার আগের অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল। এ দশবছরের আগের তিন বছরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ভাল ছিল। যার মধ্যে ২০০২-০৩ অর্থবছরে নয় দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। অবশ্য ২০০১-০২ অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ছিল। ওই অর্থবছরে সাত দশমিক ৪৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল।

বিদায়ী অর্থবছরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরাবরের মত গেল অর্থবছরের রপ্তানিতেও  সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নিটওয়্যার ও ওভেন খাত। পোশাক খাতের রপ্তানিতে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। লক্ষ্যমাত্রা থেকে সাত দশমিক ৩৪ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। এ খাতে আয় হয়েছে দুই হাজার ৮১৫ কোটি ডলার। ওভেন খাতে এক হাজার ৪৩৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে দুই দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। নিটওয়্যার খাতে আয় হয়েছে এক হাজার ৩৭৫ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক এক শতাংশ। এর বাইরে রপ্তানি পণ্যে যেসব পণ্যের ভূমিকা বেশি থাকে সেগুলোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত পোশাক নির্ভর। রপ্তানিতে পোশাক খাত যত বেশি ভূমিকা রাখে ততই পুরো রপ্তানি খাতে তা পড়ে। অন্যদিকে পোশাক খাতে রপ্তানি খারাপ হলে একইভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব রপ্তানি খাতে পড়ে। তিনি বলেন, রপ্তানি আয় আরো বাড়াতে প্রচলিত বাজার ছাড়াও অনেক নতুন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর প্রওিত মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পোশাক খাতের রপ্তানির জন্য ইতিবাচক হয়েছে। তবে পোশাক ছাড়া অন্যান্য খাতের রপ্তানি আয় নেতিবাচক। এজন্য তিনি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তাসহ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশে জমির দাম কমে যাওয়ায় টাকা পাচার হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী 

5885

ঢাকা, ৮ জুলাই : দেশে জমির দাম কমে যাওয়াতে টাকা পাচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শনিবার সকালে সিলেট নগরীর নাওয়ের পুলে একটি ফুয়ারা উদ্বোধন শেষে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমানো টাকা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে কালো টাকা বেড়ে গেছে। আর জমির দাম কমার কারণে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে।

দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার আগামী মাস থেকে ট্রান্সফার ফি কমাবে বলে জানিয়েছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বেনাপোলে পরিবহন ধর্মঘট চলছে 

788

বেনাপোল, ৮ জুলাই : কাউন্টার ভাঙচুর ও শ্রমিক মারধরের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে বেনাপোলে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো এ ধর্মঘট পালন করছে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ১০ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে শুক্রবার বিকালে বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগের (মেয়র সমর্থিত) নেতাকর্মীরা বেনাপোল বন্দরে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বেনাপোল পরিবহন স্ট্যান্ডে পৌঁছানোর সময় গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি কোচের বক্সে যাত্রীদের ল্যাগেজ উঠাচ্ছিলেন পরিবহনের অফিস স্টাফ মোহন (৩৫)। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এর পরপরই ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী উত্তেজিত হয়ে মোহনকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে ওই বাসের চালক জামাল, সুপারভাইজার আলাল ও হেলপার লিয়াকতকে মারধর করে আহত করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে তারা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে গ্রিন লাইন কাউন্টার ভাংচুর করেন।

ঘটনার পরপরই পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি রেখে যশোর-বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল ভারত থেকে সীমান্ত সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন।

তাদের অনুরোধে পরিবহন শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল থেকে সকল পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

বেনাপোল গ্রিন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার রবিন বাবু বলেন, বিষয়টি ঢাকায় মালিককে জানানো হয়েছে। তারা ওখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বেনাপোলের সব পরিবহন ম্যানেজার ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো বসে শনিবার সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মতিঝিলে নভোএয়ারের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র 

67872

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৭ জুলাই : রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকার সম্মানিত যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে মতিঝিলে নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা  নভোএয়ার। বৃহস্পতিবার নভোএয়ারের মতিঝিল বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দি বাংলাদেশ মনিটর এর সম্পাদক জনাব কাজী ওয়াহিদুল আলম, নভোএয়ারের হেড অব ফাইনান্স জনাব গোলাম সারওয়ার, নভোএয়ারের মার্কেটিং এন্ড সেলস সিনিয়র ম্যানেজার এ কে এম মাহফুজুল আলমসহ নভোএয়ার ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মতিঝিল ও এর আশপাশের সম্মানিত যাত্রীরা ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি নভোএয়ারের বিক্রয় কেন্দ্রথেকেই সরাসরি টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে সেবা প্রদান করা হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা

করিম চেম্বার (নীচ তলা), ৯৯ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। ফোন নম্বর: ১৩৬০৩, +৮৮-০৯৬৩৮-০১৩৬০৩, +৮৮০-৯৬৬৬৭২২২২৪, এক্সটেনশন ৫১৬১ অথবা ০১৭৫৫৬৫৬৬৪৮

উল্লেখ্য, নভোএয়ার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সিলেট ও সৈয়দপুর প্রতিদিনফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা থেকে কলকাতা প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে নভোএয়ার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর