২৪ এপ্রিল ২০১৭
ভোর ৫:৩৮, সোমবার

৩ দশকের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভয়াবহ ধস

৩ দশকের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভয়াবহ ধস 

36

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল : উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গত দুই বছর ধরে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ধসের এই প্রবণতাকে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এদিকে বৈশ্বিক বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশেও রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক কমে গেছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ চলতি বছরের শেষে বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও প্রথম তিন মাসেই কমেছে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্টের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে নেমেছে। গত ২০১৫ সালে দেশগুলোর রেমিট্যান্স আয় ছিল ৪৪ হাজার কোটি ডলার। ভূ-মধ্যসাগরীয় দেশগুলো ও রুশ ফেডারেশনে তেলের দরপতন ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ইউরোপে দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে আফ্রিকার উত্তর ও সাহারা মরু অঞ্চলের দেশগুলোর প্রবাসী আয় কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স গ্রহীতার অবস্থান ধরে রেখেও ভারতের প্রবাসী আয় গতবছর ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। ২০১৫ সালে এই আয় ছিল ৬ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। অন্য শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে গতবছর বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে পাঠিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে এসেছিল ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গতবছর প্রবাসী আয় আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে।

রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের দামের পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন টাকার বেশি। তাই বেশি লাভের আশায় অনেকেই অবৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় পাঠানোর পথ বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিঙ্গিত, সিঙ্গাপুর ডলার প্রভৃতি মুদ্রার মূল্যমান কমে গেছে। ফলে এসব দেশের শ্রমিকদের আয়ের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স আসায় প্রবাসী আয়ও কমে গেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক পতনে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কয়েক দফায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি প্রতিনিধি দল মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সরেজমিন তদন্তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক চলতি বছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেও বাংলাদেশের প্রবাহ ক্রমাগত কমছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক মাসে গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩০২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫৭ কোটি ২৪ লাখ ডলার। এ হিসেবে গত বছরের একই সময়ে তুলনায় চলতি বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের নেতিবাচক প্রবণতা প্রথম দেখা দেয় ২০১৩ সালে। ওই বছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ডলার পাঠান, যা ২০১২ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম ছিল। এরপর ২০১৪ সালে প্রবাসী আয়ে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটে। ওই বছর মোট ১ হাজার ৪৯২ কোটি ডলার আয় দেশে আসে। এরপর ২০১৫ সালেও প্রবাসী আয়ে ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়ার ১০ শতাংশ ও মিশরের আয় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমেছে। তবে মেক্সিকো ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ও ফিলিপাইনে গত বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হারে। তেলের মূল্য হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আর্থিক সংকটের কারণে ২০১৬ সালে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী আয় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১১ হাজার কোটি ডলারে নেমেছে। এ অঞ্চলের রেমিট্যান্স ২০১৭ সালে ২ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নেমেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবাহে চলতি বছর অগ্রগতি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে এসব দেশে প্রবাসী আয় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস।

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইন্ডিকেটরস গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রিতা রামালহো বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বে লাখো পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস প্রবাসী আয়। এই আয় প্রবাহ কমে গেলে এসব পরিবারের স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও যথাযথ পুষ্টির চাহিদা পূরণের ক্ষমতায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আশার আলো 

20

ঢাকা, ২২ এপ্রিল : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও ভুটান সফর করেছেন। এই সফরে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ সংক্রান্ত বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে করা চুক্তি ও সমঝোতাগুলো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে চুক্তি এবং এমওইউ হয়েছে সেগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটান পারস্পরিক স্বার্থে বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারে দ্বিপক্ষীয় এবং উপ-আঞ্চলিকভাবে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সংহত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে এ দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাসো তেরেসিং তোবগে তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থে বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আঞ্চলিক কাঠামোয় নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিষয়কে তারা স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তিনটি দেশের নেতারা যখন একত্রিত হবেন, তখন এ সমঝোতা স্মারক সই হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াট হবে। এ চাহিদা পূরণে ভারত, ভুটান, নেপালের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ভুটানে জলবিদ্যুতের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সেখানে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের। ভুটান মনে করে, তাদের জলবিদ্যুতের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ‘দৃশ্যপট পরিবর্তন’ করা সম্ভব। আলোচনা হচ্ছে, তিন দেশ মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা আঞ্চলিকভাবে বণ্টন করা হবে।

ভারত প্রসঙ্গ :১০ এপ্রিল দিলি্লতে অনুষ্ঠিত বিজনেস ফোরামে ১৩টি চুক্তি এবং এমওইউ হয়। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯টি চুক্তি এবং এমওইউ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রিক। পাশাপাশি কন্টেইনার ট্রান্সপোর্টেশন নিয়েও একটি এমওইউ হয়েছে কন্টেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড এবং কন্টেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার মধ্যে। ভারতের রিলায়েন্স মেঘনাঘাটে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে। সরকার এখান থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বলে চুক্তি হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রিলায়েন্স ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে পিডিবি ও ভারতের এনটিপিসি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতিমধ্যে এ সংস্থা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে পিডিবি। এই এনপিটিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগম নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে সঞ্চালনে সহযোগিতা করবে বলে এমওইউ হয়েছে। এদিকে ভারতের আরেক বড় কোম্পানি আদানি পাওয়ারের সঙ্গে পিডিবি চুক্তি করেছে, যার অধীনে আদানির ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেবে। এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে তিনটি চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড, রিলায়েন্স পাওয়ার ও ইন্ডিয়া অয়েল করপোরেশনের সঙ্গে আলাদা চুক্তি হয়। এই এলএনজি প্লান্ট থেকে গ্যাসের চাহিদা অনেকটা

পূরণ হবে। এ ছাড়া ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির সঙ্গে গ্যাসওয়েল আমদানির বিষয়ে চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা।

সব মিলিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংস্থা থেকে দুই হাজার ৩৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপ্যাধ্যায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির কথা বলেছেন। এ ছাড়া দু’দেশের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া রামপাল মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্পের এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট প্রকল্পের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। এ মর্মে চুক্তিও হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব চুক্তি দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। চুক্তিগুলো থেকে বাংলাদেশের অনেক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকরী উদ্যোগ দরকার। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য সবচেয়ে ক্ষুধার্ত দেশ। উদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে নতুন বিনিয়োগে যেতে পারছেন না। ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎসহ জ্বালানি বিষয়ে যে চুক্তিগুলো হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে ঘাটতি কিছুটা হলেও কমবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। এ ছাড়া অন্য বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ আছে। সেগুলো বাস্তবায়ন হলে সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি আসবে।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে সেগুলো যদি কাজে লাগানো যায়, ভারতীয় বিনিয়োগ যদি আসে, তাহলে ভারত যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিয়েছে, সেটা আরও বেশি কাজে লাগানো যাবে। সরবরাহ সক্ষমতা বাড়বে। বিভিন্ন ধরনের যে সীমান্ত সুবিধার কথা বলা হয়েছে, এগুলো কার্যকর করা হলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। রফতানি সক্ষমতাও বাড়বে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেসব চুক্তি এবং এমওইউ হয়েছে, তার সবই ইতিবাচক। এখন শক্তিশালী উদ্যোগ নিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, শুল্ক-অশুল্ক বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে ভারত আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের সরকারের সম্পর্ক যত ভালো হবে, ব্যবসা তত সহজ হবে। বর্তমানে সে ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে ও বাড়বে।

এ ছাড়া এই সফরে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রকল্পে ৪৫০ কোটি ডলারের লাইন অব ক্রেডিট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সহযোগিতা, মহাকাশ সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনায় ঋণ বিষয়ে চুক্তি এবং এমওইউ হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সঙ্গে এ ধরনের সম্পৃক্ততা থাকাটা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ, ডিজেল ও তরলীকৃত গ্যাস বা এলএনজি আমদানি নিয়ে কথা রয়েছে যৌথ বিবৃতিতে। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এ ছাড়া রয়েছে ট্রান্স বাউন্ডারি পাইপলাইন, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের অন্য রাজ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ হুইলিং চার্জ পাবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সীমান্তে শুল্ক ও সমন্বিত পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা এসেছে দুই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। পাটের ওপর আরোপিত অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে লাইন অব ক্রেডিটে (এলওসি) ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারত। এর আগেও ভারত দুটি এলওসি বা দু’দফা ঋণ দিয়েছে। যদিও তার পুরোটা বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলওসি থেকে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে শ্লথ গতিতে। প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসিতে ৩৫টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেখানে কেনাকাটার যেসব প্রকল্প ছিল, বিশেষ করে বাস কেনা, বগি কেনা; এগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে খুবই শ্লথ গতিতে। আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নদীবন্দরের উন্নয়ন অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এ জন্য নতুন যে লাইন অব ক্রেডিট আসছে, সেখানে উপযুক্ত প্রকল্প বাছাই করতে হবে। তবে এই এলওসি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই ৪৫০ কোটি ডলারের এলওসি কোন কোন খাতে ব্যবহার হবে বা কী কী শর্তে ভারত এ ঋণ দেবে, তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা সুফল পাবে।

ভুটান প্রসঙ্গ :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে কয়েকটি চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বাংলাদেশের নৌপথ ভুটানকে ব্যবহার করতে দেওয়া, কৃষি, সংস্কৃতি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে প্রতিবেশী দুই দেশ। তবে এসব চুক্তির চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বিদ্যুৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা। ভুটানে হাজার হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ করে বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে ভারতও একমত। এই তিন দেশ একসঙ্গে এই সম্ভাবনা ভাগাভাগি করতে আগ্রহী।

এ ছাড়া দুই দেশের সংযোগকে ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বৈত কর প্রত্যাহার করায় দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল নিয়ে বিবিআইএন নামে যে উপ-আঞ্চলিক জোট গঠনের কাজ চলছে, তা নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। বিবিআইএন এ এলাকার কানেকটিভির একটা প্রধান করিডর হতে পারে। এর বাস্তবায়নে ভুটানকে তাগাদা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চলতি বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা 

30

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২২ এপ্রিল : বিগত কয়েক বছরের মতো চলতি বছরেও বাজেট বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

কারণ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এ ৮ মাসে বাজেটের টাকা ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বাজেট বাস্তবায়ন করতে জুনের মধ্যে সরকারকে ব্যয় করতে হবে এক লাখ ৮৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

ওই হিসাবে প্রতি মাসে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের শুরুতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বড় আকারের বাজেট ঘোষণা দেয়া হয়। বছরের মাঝামাঝিতে তা কাটছাঁট করে আকার ছোট করা হয়।

পাশাপাশি বাজেটে বরাদ্দ ব্যয়ের হার বেশি দেখাতে বছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খরচ করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এতে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় দ–র্নীতি, অপচয় ও অপব্যবহার।

আর কোনোভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না কাজের গুণগত মান। এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে হাত দেয়ায় বেড়ে যায় জনদুর্ভোগও।

চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সংশোধিত বাজেট তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এ ৮ মাসে বাজেটের টাকা ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ৫৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে।

সঠিক সময়ে বাজেটের অর্থ ব্যয় না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও। সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্থা ও অর্থনীতিবিদরে সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, বছর শেষে মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর টাকা খরচ বেড়ে যায়। এতে চুরিচামারি বেশি হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের টাকা ব্যয় নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আগামীতে এসব বন্ধে মনিটরিং করা হবে।

এদিকে টাকা খরচ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের উন্নয়ন ব্যয় শ্লথ গতি বিরাজমান রয়েছে। এ গতি কাটাতে এডিপি বাস্তবায়ন হার বৃদ্ধির জন্য নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হলে উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে অর্থ বিভাগ থেকে।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন- প্রথম কথা হচ্ছে, সংশোধিত বাজেটের পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে না। ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, বাজেটের টাকা খরচের অনুপাত ২০১২ সালে ছিল ৯৩ শতাংশ। ২০১৬ অর্থবছরে কমে ৭৮ শতাংশে এসেছে। এ অর্থনীতিবিদের ধারণা, চলতি বাজেটের টাকা ব্যয় সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ হবে, এর বেশি নয়। ফলে এতে বাজেট বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

সূত্রমতে, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্পদ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। ফলে বাজেট কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই বৈঠকে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন যে হবে না, সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ রাজস্ব খাতে যে বরাদ্দ অর্থাৎ বেতন-ভাতা, পেনশন ইত্যাদিতে অর্থ খরচ হবেই। কেননা বেতন-ভাতা এগুলো না দিয়ে তো উপায় নেই। অন্যদিকে উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে এডিপির বাস্তবায়নও আশা করছি ৯০ শতাংশের বেশি হবে।

কেননা এখন পুরোদমে কাজ চলছে। জুনে এসে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হলে তখন বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উন্নয়ন হলে একটু ভোগান্তি তো জনগণকে মানতেই হবে। তবে মূল বিষয়টি হল যেসব উন্নয়ন কাজ হয়, সেগুলোর গুণগতমান যদি ঠিক থাকত তাহলে ৭-৮ বছর আর খোঁড়াখুঁড়ি করার প্রয়োজন হতো না। তখন জনদুর্ভোগও কম হতো।

কিন্তু যেসব কাজ করা হচ্ছে সেগুলো ২-৩ বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঘন ঘন কাজ করতে গিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করে কাজের জায়গাগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট হচ্ছে তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। সম্প্রতি তা কাটছাঁটের মাধ্যমে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ইতিমধ্যে বাজেট থেকে ২৩ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়। শেষ পর্যন্ত এ সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসাব মতে, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এ ৭ মাসে বাজেটের মাত্র ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। বাকি ৪ মাসে ব্যয় করতে হবে ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থ। গত বছর একই সময়ে টাকা খরচের হার বাজেটের ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য দেশের বাজেট একটু সম্প্রসারণমূলক হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক বছর একটা বিশাল বাজেট দেয়া হচ্ছে, এতে একটা প্রত্যাশা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া কতগুলো রূপকল্পের লক্ষ্য স্থির করা হয়, যা বাজেটকালীন সময়ে বাস্তবায়ন একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না।

এটি জেনেশুনেও বড় বাজেট দেয়া হয়। ফলে বাস্তবায়নে একটা চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। অপরদিকে রাজস্ব আহরণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো এখন কেউ নেই। ফলে সরকারও পার পেয়ে যাচ্ছে।

নতুন বাজেট আরও বড় হচ্ছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে তাই বড় বড় প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। মূল লক্ষ্য বেশিরভাগ রাজনৈতিক কৌশল।

বাজেট উন্নয়নের যে হাতিয়ার আমার মনে হয় এটা নিয়ে সরকার অতটা সজাগ নয়। শেষ সময়ে বাজেট বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি করে টাকা ব্যয় করা হয়। যার বেশিরভাগ অপচয় হয়। এখন এমন পরিস্থিতি, টাকাগুলো খরচ করলে এক শ্রেণীর লোকের জন্য বেশি সুবিধা হয়। মানুষের কল্যাণ হবে কিনা, তা ভাবা হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্য ধরা হয়েছে চার লাখ কোটি টাকার উপরে। এর মধ্যে এডিপি হচ্ছে এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা।

অনুন্নয়ন ব্যয় : চলতি বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয় দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এ ব্যয় থেকে সরকারি কর্মকর্র্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভর্তুকি, প্রণোদনা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি, সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধ করা হয়। এ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুন্নয়ন বাজেট থেকে অর্থ ব্যয় হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। এটি মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থবছর শেষ হতে সময় আছে ৪ মাস। জুনের মধ্যে বাকি এক লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ অর্থ এ সময়ের মধ্যে ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

এডিপি : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ধীরগতির কারণে বাজেট বাস্তবায়ন পুরোপুরি না হওয়ার আশঙ্কার অন্যতম একটি কারণ।

শুরুতে এ বছর এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। এটি মোট এডিপির ৪৫ শতাংশ। বাকি ৪ মাসে ব্যয় করতে হবে ৫৬ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা দেয়া হয়েছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কাটছাঁট করে পরে সংশোধিত বাজেট করা হয় দুই লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে প্রকৃত অর্থ ব্যয় হয় দুই লাখ ২৫ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৭৮ শতাংশ।

একই ভাবে দেখা গেছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা দেয়া হয় দুই লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট করা হয় দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকৃত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ৮৩ শতাংশ। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এফবিসিসিআই নির্বাচনে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের প্যানেল ঘোষণা 

88

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২১ এপ্রিল :  ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নির্বাচনে (২০১৭-১৯) শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদের প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৮ জন এবং চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক নেতাদের উপস্থিতিতে মহিউদ্দিন নিজের প্যানেল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এ কে আজাদ, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক প্রমুখ।

নির্বাচনে প্যানেল অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচার মেশিনারিজ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের খন্দকার মঈনুর রহমান জুয়েল, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের এসএম জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউট সোর্সিংয়ের সাফকাত হায়দার, বাংলাদেশ অটো স্পেয়ার পার্টস মার্চেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবুল আয়েস খান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের মুনতাকিম আশরাফ, বাংলাদেশ হার্ডবোর্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিজামুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আনোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ লেদারগুড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের আমজাদ হোসাইন, বাংলাদেশ পেপার ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শফিকুল ইসলাম ভরসা, বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং, রোল ম্যানুফ্যাকচারার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবু মোতালেব, বারবিডার হাবিবুল্লাহ ডন, রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের খন্দকার রুহুল আমিন, সেকেন্ডারি কোয়ালিটি টিনপ্ল্যাট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেনের নিজামুদ্দিন রাজেশ, সুইয়িং থ্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের আব্দুল হক, ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হাফেজ হারুন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের শমী কায়সার, আউট সোর্সিং অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিস প্রভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের আবু নাছের ও প্রাইভেট রেডিও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাশেদুল হোসাইন চৌধুরী রনি।

এছাড়া চেম্বার গ্রুপ থেকে এই প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাগেরহাট চেম্বারের হাসিনা নেওয়াজ, বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের নিজাম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের আজিজুল হক, চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের দীলিপ কুমার আগারওয়াল, কুমিল্লা চেম্বারের মাসুদ পারভেজ খান, ফেনী চেম্বারের একেএম শাহেদ রেজা, গাজীপুর চেম্বারের মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, গোপালগঞ্জ চেম্বারের শেখ ফজলে ফাহিম, জামালপুর চেম্বারের রেজাউল করিম রেজনু, কিশোরগঞ্জ চেম্বারের কাজী গোলাম আশরিয়া, লালমনিরহাট চেম্বারের শেখ আব্দুল হামিদ, মানিকগঞ্জ চেম্বারের তাবারুকুল তাসাদ্দেক হোসাইন খান টিটু, মুন্সিগঞ্জ চেম্বারের কোহিনূর ইসলাম, নরসিংদী চেম্বারের প্রবীর কুমার সাহা, নোয়াখালী চেম্বারের মোহাম্মদ আতাউর রহমান ভূইয়া, রাঙ্গামাটি চেম্বারের মোহাম্মদ বজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ চেম্বারের খায়রুল হুদা চপল এবং টাঙ্গাইল চেম্বারের আবুল কাশেম আহমেদ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জুলাই থেকে দেশে শুরু হচ্ছে পেপ্যাল সার্ভিস 

356

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২০ এপ্রিল : জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দেশে উদ্বোধন হচ্ছে বিশ্বজুড়ে অনলাইনে অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম পেপ্যাল। লেনদেন চালু করতে এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক ও পেপ্যাল চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করেছে। বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা।

বিদেশে অর্জিত অর্থ দেশে আনতে দীর্ঘ দিন ধরেই পেপ্যাল সার্ভিস চালুর দাবি করে আসছে ফ্রিলান্সাররা। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০শে মার্চ সোনালী ব্যাংককে পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর সেবাটি চালু করতে গত দু বছর ধরেই কাজ করছে সোনালী ব্যাংক ও পেপ্যাল। ওই সময় ওয়েবসাইটসহ অনলাইন অর্থ লেনদেনের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছিল।

অন্যদিকে প্রযুক্তি দুনিয়ার আঁতুড় ঘর বলে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ঘুরে এসে বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাতে নতুন নতুন সম্ভাবনা আসছে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সম্প্রতি তিনি সিলিকন ভ্যালিতে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মার্চের ৩১ তারিখ থেকে এপ্রিলের ২ তারিখ পর্যন্ত সিলিকন ভ্যালিতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, ফেসবুক, গুগল, নুয়ান্স কমিউনিকেশন্স, পেপ্যাল-জুমসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।

পেপ্যাল চালু হলে এর ৩ ধরনের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশ্বের ১শ’ ৯০টি দেশ ও ২৩টি মুদ্রায় অর্থ লেনদেন ও কেনাকাটা করতে পারবেন বাংলাদেশীরা। এর জন্য অতিরিক্ত চার্জ নেবে না সোনালী ব্যাংক।

তবে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে, গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ট্রাভেল কোটার মধ্যে কেনাকাটা করতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চালবাজিতে বাড়ছে মোটা চালের দাম 

8522

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল : চাল নিয়ে প্রতারণা চলছে। মোটা চাল ছেঁটে চিকন ও পলিশ করে মিনিকেট নামে বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে দেশে মোটা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়ছে চালের দামে। ফলে এক মাসে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। যা নিন্ম আয়ের মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য মিল মালিকদের দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, চাল নিয়ে এটি এক ধরনের চালবাজি।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজার শপিং কমপ্লেক্সের আল্লার দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে এখনও পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। কিন্তু মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে রেখেছে। এছাড়া মোটা চাল থেকে মিনিকেট চাল বানানোর কারণেই মোটা চালের কৃত্রিম সংকট চলছে। যার কারণে মোটা চালের দাম বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশি দামে কিনছি। ফলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। তবে তার মতে, সপ্তাহখানেক পর বাজারে নতুন মৌসুমের ধান উঠলেই চালের দাম অনেকাংশে কমবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণীর চালকল মালিক মোটা চাল ছেঁটে সরু করে মিনিকেট চাল বলে বাজারে বিক্রি করে। দীর্ঘদিন থেকে চক্রটি এ প্রক্রিয়ায় বিপুল অংকের মুনাফা লুটে নিচ্ছে। বাজারে মিনিকেট চালের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু চালকল মালিক কম দামে মোটা চাল সংগ্রহ করে মিনিকেট চাল বানিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। বিশেষ করে মাঝারি সরু বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও বিআর-৩৯ জাতের ধান ছেঁটে পলিশ করে মিনিকেট চাল বলে বাজারজাত করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পাশাপাশি চালের ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করতে এখনও আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার জন্য সব ধরনের চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। যার কারণে দফায় দফায় বাড়ছে সব ধরনের চালের দাম।

এদিকে সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে চালের মিলমালিক, পাইকার, আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার এই দাম বৃদ্ধির চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তালিকায় লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা ও চায়না ইরি চালের মূল্য দেয়া আছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, যা এক মাস আগে মূল্য ছিল ৩৭ থেকে ৪০ টাকা। মাসের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর এক বছর আগে এর মূল্য ছিল ৩২ থেকে ৩৪ টাকায়। সেক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ টিসিবির তথ্য বলছে, সাধারণ ও নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য মোটা চালের দাম এক বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

জানতে চাইলে দেশের চালের বৃহৎ পাইকারি বাজার বাদামতলি ও বাবুবাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা চালকল ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনে এনে বিক্রি করি। তারা চালের যে দাম ঠিক করে আমাদের সে দামেই কিনে বিক্রি করতে হয়। তিনি দাবি করেন, চালের দাম বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী নয়। এদিকে দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে বিভিন্ন বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালের সিন্ডিকেট ওপেন সিক্রেট। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আগে কোনো কিছুর দাম বাড়লেই সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি করা হতো। কিন্তু এখন তা না হওয়ায় মিল মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তারা বলেন, বোরো মৌসুম সামনে রেখে মিলারদের তৎপরতা বেড়েছে। বোরো ধান সস্তায় কিনতে কৌশল আঁটছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হলে মিলারদের অপতৎপরতা কিছুটা কমতে পারে। কারওয়ান বাজার, বাদামতলি পাইকারি চালের বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসে পাইকারি বাজারে চালের দাম অনেকটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৪ টাকায়। পারিজাত চাল ৪১ টাকা। এক মাস আগে এর দাম ছিল ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা। বি আর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা। এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকায়। নাজিরশাইল ৪৮ টাকা, মাসখানেক আগে দাম ছিল ৪৩ টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এই চালই খুচরা বাজারে এসে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে যায়। খুচরা বাজারে মঙ্গলবার মোটা চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকায়। এছাড়া পারিজাত প্রতিকেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, বি আর-২৮ ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, ভালো মানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা এবং মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায়। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকবে : অর্থমন্ত্রী 

016

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল : মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হার নিয়ে অনড় অবস্থানে অর্থমন্ত্রী। তবে ব্যবসায়ী নেতারা এখনো ঢালাও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের বিপক্ষে। সোমবার সচিবালয়ে এক সভায় আসছে বাজেট ও জুলাই থেকে চালু হওয়া নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আলোচনা হয়। শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ১ জুলাই থেকে নতুন আইন কার্যকর হবে এবং ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই থাকবে। এর কোন বিকল্প নেই।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের এফবিসিসিআই ভ্যাট আইনের ৬৩ ধারার সংশোধন করে দোকান প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভারের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের মতে, এতে ভোক্তাগণ সহজেই ভ্যাট পরিশোধে আগ্রহী হবেন এবং ব্যবসায়ীগণ তালিকাভুক্ত হয়ে আহরিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে উৎসাহী হবেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষে বলা হয়েছে, উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভ্যাট আইনে প্রদত্ত টার্নওভার করের ওপর প্রদত্ত ভ্যাট রেয়াত গ্রহণেরর সুযোগ দেয়া হয়নি। যেটা আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচলিত ভ্যাট ক্রেডিট চেইন ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সোমবারের বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ. রহমান ও কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীকে নতুন ভ্যাট আইনের রাজনৈতিক দিকটিও বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়। যাতে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাটের খড়গ না পড়ে।

বৈঠকের ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মানুষের জন্যই আমরা রাজনীতি করি। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি, ব্যবসাবান্ধব সরকার হিসাবে অবশ্যই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তই কাম্য।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ 

098

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল : আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও উত্তর কোরিয়ার পরামাণু অস্ত্র ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনায় মার্কিন ডলারে প্রভাব ফেলেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে চলেছে। খবর রয়টার্স।

নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বিশ্বের বৃহত্তম গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড এসপিডিআর গোল্ড শেয়ার জানায়, গত বৃহস্পতিবার তাদের স্বর্ণ লেনদেন ছয় টন ছাড়িয়ে গেছে। এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি এক হাজার ২৮৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা স্থানীয় মুদ্রায় এক লাখ দুই হাজার ৯০০ টাকায় (প্রতি ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে) পৌঁছায়। ওই দিন বাজারের শুরুতে মূল্যবান এ ধাতুটির দাম এক হাজার ২৮৮ ডলার ৬৪ সেন্ট বা এক লাখ তিন হাজার ৯১ টাকায় পৌঁছায়। নভেম্বরের প্রথম দিকের পরে এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম ছিল। এ ছাড়া নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (নিমেক্স) কোমেক্স বিভাগে গত শনিবারও আগামী জুনে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৮৬ ডলার ৩০ সেন্ট বা এক লাখ দুই হাজার ৯০৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি শহরে রাসায়নিক হামলার জবাবে সরকারি বাহিনীর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছয় বছর ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন এটিই দেশটির সরাসরি হামলা। এ হামলার মধ্য দিয়ে আসাদ সরকারকে উৎখাতে মার্কিন যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এতে সিরিয়া ও তার মিত্র রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ উত্তেজনা প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগের কথা চিন্তা করে মূল্যবান এ ধাতুটির দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও উত্তর কোরিয়ার বিষয়টির সঙ্গে স্বর্ণের দরবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘প্রেসাস মেটালস ইনভেস্টিং ফর ডুমিনিস’-এর লেখক পল ম্লাদজেনোভিচ বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে অর্থ খাটিয়ে নিরাপদ বোধ করেন।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আসছে ৩ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকার বাজেট 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা।

এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
ওই হিসাবে নতুন বাজেটে ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬ কোটি টাকা। এ হিসেবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৫০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাজেটের এ হিসাব অর্থমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের আগামী বৈঠকে এ হিসাব পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর সরকারের আয় বাড়ানোর জন্যে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে বহু আলোচিত ও বিতর্কিত নতুন ভ্যাট আইন। সরকার আশা করছে এ আইন কার্যকর হলে রাজস্ব আদায় অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে বাজেটের অর্থায়ন নির্ভরতা কমবে। এজন্য আগামী বছর যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে তা চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা বেশি। এর অর্থ হচ্ছে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়বে। যদিও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি কয়েকটি প্রাক-বাজেট বৈঠকে বলেছেন, বর্তমান সরকার আর দুটি বাজেট ঘোষণা দিতে পারবে। ফলে আগামী বাজেট হবে মেগা প্রকল্প গ্রহণের শেষ বাজেট। পরবর্তী বাজেটে নির্বাচনের বছর থাকবে। তিনি বলেন, নতুন কোনো চমক না থাকলে আকারের দিক থেকে বাজেট বড় হবে।

সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি বাজেটের তুলনায় বাড়ছে ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে রাজস্ব বাড়ছে ৩৯ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। এ বছর এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যেখানে মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। যদিও ব্যাপক ঘাটতির মুখে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে করা হয়েছে। এ হিসাবে আগামী বছর টাকার অঙ্কে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে ৫৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। পহেলা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের ফলে কর ও ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।

এছাড়া নতুন অর্থবছরের বাজেটে সম্ভাব্য অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হবে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

চলতি বাজেটে সংশোধিত এডিপির আকার হচ্ছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। এ বছর মোট বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। তবে নতুন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী বাজেটে নতুন করে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে বাজেটে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এছাড়া বিনিয়োগ নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে গ্যাস দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই। আগামী বাজেটে এমপিদের থোক বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। সর্বোচ্চ করদাতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিআইপি পর্যাদা দেয়ার ঘোষণা থাকছে বাজেটে।-যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশের অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে ‘ইকোনমি জোন’ 

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বিদ্যুৎখাতে যেমন বিপ্লব ঘটেছে, তেমনি ইকোনমি জোনও দেশের অর্থনীতিতে একটি বিপ্লব ঘটাবে বলে জানান ইকোনমি জোনের প্রথম নকশাকারক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান রুহেল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুবাইয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু এফডিআই না বাংলাদেশের মধ্যেও যারা উদ্যোক্তা আছেন, তারাও ইকোনমি জোনে বিনিয়োগ করতে যাবেন। বিনিয়োগ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে ইকোনমি জোন অথারিটি কর্তৃক এনআরবিদের জন্যে একটি ডেস্ক খোলা উচিত। এতে প্রবাসীরা সরাসরি বিনিয়োগ না করলেও মেনুফেকচারিং ফান্ড নিয়ে যেতে পারে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের এসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিত।

এসময় পিতৃস্থান মিরসরাইয়ের সার্বিক উন্নয়নের প্রশংসা করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে রুহেল বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মিরসরাইয়ের চেহারা বদলে যাবে। সারাদেশে একনামে পরিচিত হবে এ অঞ্চল। এখানে হবে ৫০ তলা বিল্ডিং, ৫টি কৃত্রিম লেক এবং মিনিমাম ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান। এছাড়াও পর্যটন খাতে ধীরে ধীরে পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে মিরসরাইয়ের। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চল এক সময় শ্রীলংকার মত পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে।

মিরসরাই সমিতির দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সালাউদ্দিন হেলালের সভাপতিত্বে তিনি সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময়  অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপদেষ্টা আবুল হাশেম, জাফর উল্লাহ, আব্দুল কাইয়ুম, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মাস্টার, সাইফুল ইসলাম, মেজবা উদ্দিন প্রমুখ।

এসময় প্রবাসীদের স্বার্থ ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করে এলাকার দুস্থ অসহায় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য এ সমিতি কাজ করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নববর্ষে পুরান ঢাকায় হালখাতার প্রস্তুতি 

ঢাকা, ১২ এপ্রিল : বাংলা নববর্ষের বড় একটি ঐতিহ্যের অংশ হালখাতা। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে পয়লা বৈশাখে লাল মোড়কের হালখাতার প্রচলন ও ঐতিহ্য রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বছরের প্রথম দিনেই লালসালু কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতা খোলেন বৈশাখের প্রথম দিনে।

লাল মোড়কের হালখাতা, মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং নানা বর্ণিল আর ফ্যাশনের বৈচিত্র্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বাংলা নববর্ষ বরণের ব্যাপক প্রস্তুতি। বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। প্রতিবছর নবান্নের সুঘ্রাণ, নানা রকমের পিঠাপুলি, পান্তা ইলিশ, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকে এই উৎসবে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৈশাখকে ঘিরে থাকবে নানা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি ও অনুষ্ঠান।

তবে পয়লা বৈশাখকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠান থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছে এর আলাদা একটি তাৎপর্য রয়েছে। কারণ নববর্ষের প্রথম দিনে তারা আয়োজন করে হালখাতা অনুষ্ঠানের।

রাজাদের খাজনা প্রদানের অনুষ্ঠান ছিল ‘পূণ্যাহ’। চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলাগুলোতে এখনো এই প্রথা কিছুটা প্রচলিত রয়েছে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন প্রজারা ভালো পোশাক পরে জমিদার বাড়িতে গিয়ে খাজনা পরিশোধ করতেন। তাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। জমিদারি ও রাজপ্রথা উঠে যাওয়ায় ‘পূণ্যাহ’ বিলুপ্ত হয়েছে। তবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নববর্ষে হালখাতার আয়োজন করে আজও।

এদিনে ব্যবসায়ীরা বিগত বছরের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে নতুন খাতা খোলেন। পুরনো সব দেনা পরিশোধ করার জন্য ক্রেতাদের কাছে আমন্ত্রণপত্রও পাঠান। হালখাতার দিনে ক্রেতাদের মিষ্টি মুখ করান ব্যবসায়ীরা। পয়লা বৈশাখে হালখাতা অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি চলছে পুরান ঢাকায়।

রাজধানীর শাঁখারিবাজার ও তাঁতিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পয়লা বৈশাখে হালখাতা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে সব ক্রেতা ও অতিথিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। এখন শুধু বাকী রয়েছে নিজ নিজ দোকানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। তাই ব্যবসায়ীরা সব পণ্য নামিয়ে ধুয়ে-মুছে দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। এছাড়া অনেক ব্যবসায়ী হালখাতা উপলক্ষে বিভিন্ন রঙ দিয়ে দোকানে সাজসজ্জা করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তারা পুরাতন খাতার সব লেনদেনের হিসাবও করছেন। কেন না বছরের প্রথম দিনে তারা নতুন খাতা দিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করবেন। তাই পয়লা বৈশাখ আসা পর্যন্ত তেমন একটা কেনাবেচা তারা করছেন না। হালখাতার অনুষ্ঠানটি যেন সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করতে পারেন সে দিকেই এখন তাদের নজর।

তাঁতিবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মানিক পাল জানান, ‘আমরা হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব করে থাকি। তাই আমাদের পয়লা বৈশাখ একদিন পরে হয়। আমরা এই দিনে শিব ও চড়ক পূজা করি।’

চাল ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় চালের ব্যবসা করে আসছি। পয়লা বৈশাখে সবকিছু ধুয়ে মুছে, পুরোনো লেনদেন ঘুচিয়ে নতুন করেই নতুন বছরের ব্যবসা শুরু করি। হালখাতায় সব গ্রাহক যে টাকা পরিশোধ করতে পারেন এমন না। আমরা কাউকেই টাকা পরিশোধ করতে চাপ দিই না। টাকা দিতে পারুক আর না পারুক, বছরের শুরুর দিনে ক্রেতা-বিক্রেতা একত্রে বসে মিষ্টি মুখ করতে পারাটাই অনেক আনন্দের।’

এবার তাঁতিবাজার ও শাঁখারিবাজারে মোট দুই হাজার দোকানে হালখাতার অনুষ্ঠান হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেড় বছরে সরকারের ক্ষতি দুই হাজার কোটি টাকা 

555

ঢাকা, ১১ এপ্রিল : বিদেশ থেকে আসা বৈধ কলের সংখ্যা কমেই চলেছে। পাশাপাশি কমছে সরকারের রাজস্বও। অথচ যারা বিদেশ থেকে এই কল আনছেন তাদের আয় কমছে না। গত দেড় বছরে সরকার অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে বিদেশ থেকে কল আনছে ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে বা আইজিডাব্লিউ কোম্পানিগুলো। কিন্তু সেই বেশি টাকার রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। কোম্পানিগুলো নিজেরাই অতিরিক্ত টাকা লুটে নিচ্ছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের দেওয়া এক হিসেবে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। বিদেশ থেকে আনা কলের রেট সরকার দেড় সেন্ট (এক টাকা ২০ পয়সা) নির্ধারণ করে দিলেও অপারেটররা আনছে দুই সেন্ট (এক টাকা ৬০ পয়সা) করে। কিন্তু অতিরিক্ত যে টাকা আইজিডাব্লিউ কোম্পানিগুলো আয় করছে তার রাজস্বও পাচ্ছে না সরকার। সবার চোখের সামনে এই অনিয়ম দিনের পর দিন চললেও কেউ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অ্যামটবের এক হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু এ খাতে সরকারের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। আর কলসংখ্যা কমে যাওয়া এবং আয়ের ভাগ না পাওয়ায় আরও দেড় হাজার কোটি টাকা আয়ের সুযোগ হারিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে এ খাত থেকে গত দেড় বছরে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

আন্তর্জাতিক কল রেট পুনর্নির্ধারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অ্যামটবের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ফলে অবৈধ পথে কলসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ কয়েকদিন আগে আলাপকালে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক কল রেট পুনর্নির্ধারণে বিটিআরসি কাজ করছে। সেটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা এমন একটা প্রস্তাব তৈরি করছি সেটা বাস্তবায়ন হলে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।’

অ্যামটব হিসেব করে দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা থেকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির জন্য দায়ী প্রধানত দু’টি বিষয়। একটি হলো কল টার্মিনেশন রেট দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে দুই সেন্ট করায় বৈধ পথে কলসংখ্যা ৪৬ শতাংশ কমে যাওয়া। অ্যামটবের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত দেশে বৈধ পথে আসা দৈনিক কলের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৬ লাখ মিনিট। তখন কল টার্মিনেশন রেট ছিল দেড় সেন্ট। কল রেট বাড়িয়ে দুই সেন্ট করার পর বৈধ পথে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে কল এসেছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ কোটি মিনিট।

এই হিসেবেই দেখা যাচ্ছে কলের পরিমান অর্ধেকে নেমে এসেছে। কলসংখ্যা কমায় প্রতি মাসে ৫২ কোটি টাকা হিসাবে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা।

সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আরেকটি কারণ হলো, কল রেট দশমিক ৫ সেন্ট বৃদ্ধির ফলে যে বাড়তি আয় হয়েছে, তার ভাগ না পাওয়া। নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ সরকার, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স (ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ), ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মোবাইল ফোন অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। প্রতি মিনিটে ৪০ পয়সা হিসাবে ১৮ মাসে কমপক্ষে দেড় হাজার কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে সরকারের ক্ষতি দুই হাজার কোটি টাকার বেশি।

সরকারের বিপুল এ রাজস্ব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দু’টি সুপারিশও করেছে অ্যামটব। একটি হলো কল টার্মিনেশন রেট দুই সেন্ট থেকে কমিয়ে দেড় সেন্ট নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়টি হলো যে দরে কল আসবে, সে দরেই আয় ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করা। কল রেট নির্ধারণের সর্বোচ্চ সীমা (সিলিং রেট) সাড়ে তিন সেন্ট থেকে সর্বনিম্ন সীমা (ফ্লোর রেট) কমিয়ে দেড় সেন্ট করার সুপারিশ করেছে অ্যামটব। ইতিমধ্যে বিটিআরসি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। সেখানে বিদেশ থেকে আসা কল রেট দেড় সেন্ট থেকে সর্বোচ্চ এক দশমিক ৬০ সেন্ট করা প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব এখন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। বছর দেড়েক আগে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকেই একই ধরনের প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হয়েছিল।

আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের সংগঠন আইওএফের সভাপতি শামসুদ্দোহা বলেন, ‘আমরা যেটা করছি সেটা বিটিআরসির অনুমোদন নিয়েই করছি। অবৈধ পথে কল আসা বন্ধ না করে দাম কমানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেটা ঠিক নয়। দাম আরো বাড়ানো উচিত্। পাশাপাশি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করার ব্যবস্থা করা উচিত্।’ দুই সেন্টে কল আনলেও সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন দেড় সেন্টের- এটা অন্যায় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও অনেক খরচ আছে। সেটা এই টাকার মধ্য থেকে খরচ করা হয়। ফলে আমরা যা করছি তা অন্যায় নয়।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরাও নববর্ষ ভাতা পাবেন 

ঢাকা, ১০ এপ্রিল : শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী সরকারি চাকরিজীবীরাও নববর্ষ ভাতা পেতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশে সম্মতি দিয়েছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পেনশনে যাওয়া চাকরিজীবীরা বছরে দুটি করে উৎসব ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছেন। গত বছর থেকে সরকার নববর্ষ ভাতা চালু করে। তবে যে সমস্ত চাকরিজীবী শতভাগ পেনশন সমর্পণ করেছেন তারা নববর্ষ ভাতা পেতেন না। চলতি বছর থেকে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীরাও নববর্ষ ভাতার আওতায় আসছেন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার। এদের নববর্ষ ভাতার আওতায় আনা হলে সরকারের অতিরিক্ত ১৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদেরকে নববর্ষ ভাতায় অন্তর্ভূক্তের বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দিক বিবেচনা করে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি গত বছর থেকে চালু হয়েছে কাজেই নতুন করে অন্তর্ভূক্তরাও নববর্ষ ভাতা চালু হওয়ার বছর থেকেই বকেয়াসহ পেতে পারেন। তবে বিষয়টি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আসছে নববর্ষের আগেই তারা এ ভাতা পাচ্ছেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই যাতে নতুন করে অন্তর্ভূক্তরা এ ভাতা পেতে পারেন সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদেশি সহায়তা কমছে বাড়ছে সরকারের ঋণ 

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৯ এপ্রিল : সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। বর্তমানে দেশি ও বিদেশি মিলে মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে প্রতিবছরই বিদেশি সহায়তা কমে আসছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’র পর্যালোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানোর কারণে সরকারের দায় বাড়ছে। এ কারণে বাজেটে সুদ পরিশোধকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ অবস্থায় বাজেট ঘাটতি ও ঋণের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় দুটি সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে- রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় করে কার্যকরী ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতিকাঠামো তৈরি এবং প্রবৃদ্ধি সহায়ক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। শনিবার এ পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলছে, বতর্মানে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি মিলিয়ে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এ হিসাবে মাথাপিছু ঋণ ৩০ হাজার ৭৪০ টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণ ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৩১ কোটি এবং বিদেশি ঋণ ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া বতর্মানে বিদেশি ঋণের স্থিতি দেশের মোট রফতানি আয় ও রেমিটেন্সের প্রায় ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে বাড়ছে ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধের দায়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি ঋণের বিপরীতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারকে ২০ কোটি ২১ লাখ ডলার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা দেশের মোট রাজস্ব আয়ের ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং মোট রফতানি ও প্রবাসী আয়ের ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে আগের বছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশীয় ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ মাসে দেশীয় ঋণের স্থিতি ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে। আর জিডিপির অনুপাতেও দেশীয় ঋণ বাড়ছে। জিডিপির অনুপাতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ঋণের স্থিতি ছিল ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৩-১৪তে ছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ, ২০১৪-১৫তে ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই তা ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিয়েছে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে দেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা এবং অর্থবছর শেষে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকায়। এদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছর দেশীয় ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাত বছরে দেশীয় ঋণ হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

উন্নয়ন অন্বেষণ আরও বলছে, দেশে বৈদেশিক ঋণও ব্যাপক হারে বাড়ছে। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি জিডিপির ১২ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ হাজার ৬৩০ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সালে যা ছিল ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার।

এদিকে বর্তমান অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশি সহায়তা প্রায় ৩০ কোটি ডলার কমেছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ সময়ে বিদেশ থেকে অনুদান এসেছে ১৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এছাড়া বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তা কমেছে ৪৫ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ঋণের সুদের হারও বাড়ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৯২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পরিশোধের পরিমাণ কমে ১০৫ কোটি ৫ লাখ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ সালে বৈদেশিক ঋণের সুদ ছিল ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০ কোটি ২১ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।

বাজেট ঘাটতি পূরণে চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ৪১ হাজার ১০০ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্যানারি বন্ধে হাজারীবাগে অভিযান 

88

ঢাকা, ৮ এপ্রিল : উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারিগুলোর গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ অন্যান্য সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে অভিযান চলছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে শফিক লেদার ট্যানারিতে সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের মধ্য দিয়ে এ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল এসব তথ্য দেন।

তিনি জানান, পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) আবু হেনা মোরশেদ জামান, পরিচালক ঢাকা অঞ্চল মো. আলমগীর ও পরিচালক ঢাকা মহানগর সুকুমার বিশ্বাসে নেতৃত্ব এ অভিযান চলছে।

এছাড়া অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দু’জন ও পরিবেশ অধিদফতরের দু’জনসহ মোট চারজন ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নিয়েছেন।

সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কাজে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বাপেক্স, ওয়াসা, ডিপিডিসি মনোনীত প্রকৌশলীরা।

দিনভর গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ অন্যান্য সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। অভিযান ঘিরে হাজারীবাগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন শুরু হওয়ার পর ট্যানারি কারখানাগুলোর শ্রমিকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা আহাজারী করতে থাকেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর