২২ জুলাই ২০১৭
দুপুর ২:৪৭, শনিবার

আল আকসা মসজিদের ইমাম গুলিবিদ্ধ

আল আকসা মসজিদের ইমাম গুলিবিদ্ধ 

aksa_52796_1500632405

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ জুলাই : ইসরাইলি সেনাদের বাধা উপেক্ষা করে আল আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে গিয়ে মসজিদের ইমাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য মসজিদে প্রবেশের সময় ইসরাইলের সৈন্যরা মুসলিমদের উপর গুলি চালায়।

মুসলিমরা ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে সেনাদের সাথে এই সংঘর্ষ বাধে। খবর আল জাজিরার।

সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় গত সপ্তাহে আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরাইল।

সপ্তাহজুড়ে ফিলিস্তিনিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের প্রতিবাদের মুখে মসজিদটি খুলে দেওয়ার পর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল।

ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষ মুসলিমরা আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না ।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদের গেটে মেটাল ডিটেক্টর বসানোর প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরেই বাইরে নামাজ পড়ছিলো মুসলিমরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে অনাস্থা প্রস্তাব 

895

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ জুলাই : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলের ২৪ সদস্য। প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অর্থ নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাসাজশের বিষয়ে তদন্ত চলাকালে মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এফবিআইয়ের প্রধানকে বরখাস্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

বুধবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে।

এ প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কংগ্রেস প্রতিনিধি স্টিভ কোহেন বলেন, এতে কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে ট্রাম্পের যোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। তিনি একে রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হিসেবেও অভিহিত করেন।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী একমাত্র ইমপিচের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে পারে কংগ্রেস।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘খুব দ্রুত প্লাস্টিকের গ্রহে পরিণত হবে পৃথিবী’ 

891

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পৃথিবী খুব দ্রুত প্লাস্টিকের গ্রহে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলায় এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাস্টিকের অধিক উৎপাদন এবং খোলা প্রকৃতিতে এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। মার্কিন বিজ্ঞানীদ বলছেন, এখন পর্যন্ত উৎপাদিত প্লাস্টিকের পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন টন। তাদের হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ বিলিয়ন টন।

ইস্পাত, সিমেন্ট এবং ইট ছাড়া মানুষের তৈরি আর সব কিছুর চেয়ে প্লাস্টিকের উৎপাদনের হার বেশি। আর সেই সংখ্যাটি হলো ৮.৩ বিলিয়ন টন, যা কিনা নিউ ইয়র্কের ২৫ হাজার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর সমান। কিংবা ১ বিলিয়ন হাতির ওজনের সমপরিমাণ।

আর এই বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিকের প্রায় ৭৯ শতাংশই ছড়িয়ে পড়েছে খোলা প্রকৃতিতে। প্লাস্টিক বর্জ্যে দিনে দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

ড. রোল্যান্ড গেয়ার নামের একজন বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে বলেছেন, “এই পৃথিবী খুব দ্রুতই পরিণত হবে একটি প্লাস্টিকের তৈরি গ্রহে। আর যদি আমরা এমনটা না চাই, তাহলে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ব্যবহারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিস্ট প্লাস্টিকের উৎপাদন এবং ব্যবহার ও দূষণ সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন।

এতে দেখা যায়, এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক পণ্যের অন্তত অর্ধেক উৎপাদন হয়েছে গত ১৩ বছরে। বাতিল প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার হয়েছে শতকরা মাত্র নয় ভাগ। ১২ শতাংশকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে আর বাকিটা ছড়িয়ে পড়েছে প্রকৃতিতে। আশংকাজনক হারে ছড়িয়েছে সাগর মহাসাগরে।

গবেষণা দেখা গেছে, ২০১৪ সালে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য হার ইউরোপে ছিল শতকরা ৩০ ভাগ। সবচেয়ে কম রিসাইক্লিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, মাত্র নয় শতাংশ। আর এই অধিক হারে উৎপাদন শুরু হয় ১৯৫০ এর সময় থেকে।

যেহেতু প্লাস্টিক পণ্য পচনশীল নয়, তাই বিশেষজ্ঞদের মতে এটিকে অত্যন্ত তাপ প্রয়োগ করে নিঃশেষ করে দেয়া দরকার।

কিন্তু এর চেয়েও বেশি জরুরি প্লাস্টিকের সঠিক প্রয়োজন নিরুপণ করে তারপর এর উৎপাদনে যাওয়া। আর এর জন্যে দরকার একটি সমন্বিত আলোচনা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ 

91

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ জুলাই : ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন রামনাথ কোবিন্দ। প্রথম কোনও বিজেপি প্রার্থী হিসাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে এলেন দলিত প্রার্থী। গণনার শুরু থেকে মীরা কুমারের থেকে অনেকটা লিড নেন এনডিএ মনোনীত প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল রাইসিনা হিলের পরবর্তী বাসিন্দা উত্তর প্রদেশের এই প্রতিনিধি। এমনকী বেশ কিছু রাজ্য থেকে প্রত্যাশার বেশি ভোট পেয়েছেন কোবিন্দ। ২৫ জুলাই কোবিন্দ শপথ নেবেন।

প্রত্যাশা মতোই অঙ্কের বিচারে অনেক যোজন এগিয়েছিলেন কোবিন্দ। তবু হাল ছাড়েননি বিরোধীদের প্রার্থী মীরা কুমার। জানিয়েছিলেন হারানোর কিছু নেই।

মীরার এই লড়াকু মেজাজ অবশ্য ভোটের বাক্সে দেখা গেল না। গণনার প্রথম রাউন্ড থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় বিশাল ব্যবধানে জিততে চলেছেন এনডিএ মনোনীত প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে গণনা শুরু হয়। দেখা যায় কোবিন্দকে ঢেলে ভোট দিয়েছে গুজরাট, হরিয়ানা, দিল্লি, অরুণাচল, আসাম, বিহারের মতো রাজ্য। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে একটিও ভোট পাননি মীরা কুমার। তুলনামূলকভাবে জম্মু-কাশ্মীরে তিনি কিছুটা লড়াই দেন। তবে বেশ কিছু রাজ্যে বাড়তি ভোট পান কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতি ভোটে ক্রস ভোটিংয়ের আশঙ্কা করছিল বিরোধী শিবির। ফলে স্পষ্ট হল বেশ কিছু বিরোধী জনপ্রতিনিধি কোবিন্দকে ভোট দিয়েছেন।

গুজরাটের ৮জন কংগ্রেস বিধায়ক ভোট দেন এনডিএর প্রার্থীকে। ভোটের প্রবণতা বুঝতে পেরে ফল ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে কোবিন্দকে অভিনন্দন জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী কংগ্রেসও কোবিন্দকে শুভেচ্ছা জানায়।

প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এনডিএ প্রার্থী। অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থী মীরা কুমার পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ সমর্থন। লোকসভা ও রাজ্যসভার ৫২২ জন সাংসদ কোবিন্দকে ভোট দেন। তবে এর আগে দু’বার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দু’বারই হেরেছিলেন কোবিন্দ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘পাকিস্তানের সহযোগিতায় ভারতে হামলায় প্রস্তুত চীন’ 

86

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৯ জুলাই : পাকিস্তানের সহযোগিতায় ভারতে হামলার জন্য চীন প্রস্তুতি নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব। একই সঙ্গে তিব্বতের স্বাধীনতায় সমর্থন ও তিব্বত ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বদলাতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উত্তর প্রদেশের নেতা মুলায়ম সিং যাদব বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ভারতে পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা করছে। চীন-ভারত বিবাদের বিষয়ে সংযত বক্তব্য দেয়ার সরকারি পরামর্শ উপেক্ষা করে বর্ষীয়ান এই বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ভারতে হামলার জন্য পাকিস্তানে পারমাণবিক বোমা লুকিয়ে রেখেছে চীন।

সিকিম প্রদেশের সীমান্তে চীনের সামরিক উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষিতে মুলায়ম সিং যাদব বলেন, ভারত চীনের দিক থেকে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনেক বছর ধরে এই বিষয়ে সতর্ক করে আসছি। চীন পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এবং তারা ভারতে হামলার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মুলায়ম সিং দাবি করেন, ভারতে হামলার জন্য পাকিস্তানে পারমাণবিক বোমা লুকিয়ে রেখেছে চীন। তবে এটাও বলেছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরো ভালো জানবে এই বিষয়ে। গত শুক্রবারে ভারতের বিরোধী দলীয় নেতাদের সিকিম সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করার সময়ও তিনি এই মূল্যায়ন উপস্থাপন করেছিলেন। সেই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাকে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি তার শঙ্কার বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর বিভিন্ন দলের ২০জন সংসদ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দলকে বলেন, যদিও চীন সীমান্ত বিরোধ ইস্যুতে ‘অস্বাভাবিক আগ্রাসন’ প্রদর্শন করছে তারপরেও রাজনীতিবিদদের উচিত হবে ‘গভীর নিঃশ্বাস নেয়া’ কারণ দিল্লি এই সমস্যার সমাধানে সব কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ করছে।

চীন মঙ্গলবার পুনরায় দাবি করেছে, ১৬ তারিখ ভারতীয় সেনারা চীনের সীমান্তে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ডংলাং মালভূমিতে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিয়েছে। ভুটান এই মালভূমিকে ডোকালাম নামে অভিহিত করে এবং এটি নিজেদের সাম্রাজ্যের অংশ মনে করে। ভারত এই দাবিকে সমর্থন করে এবং চীনকে সতর্ক করেছে, এই রাস্তা নির্মাণ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি। এই রাস্তা নির্মিত হলে চীন ভারতের সাতটি উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগরক্ষাকারী ‘চিকেন নেক’ নামের সরু উপত্যকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

তিব্বতে বেশ কয়েকদিন ধরে সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে চীন যেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে কিভাবে শত্রুপক্ষের বিমান ও ট্যাংক উড়িয়ে দেয়া হবে। চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম সরকারের প্রতি ভারতকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যা ১৯৬২ সালে অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে হওয়া যুদ্ধে ‘অপমানজনক পরাজয়ের’ সমতুল্য হবে। মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী গ্লোবাল টাইমস বলেছে, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত চীন এবং সেনা প্রত্যাহার না করলে ৩৫০০ কিলোমিটার বিবদমান সীমান্ত জুড়ে চীনা সেনার মোকাবেলা করতে হবে ভারতকে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিরোধকে ভুলভাবে ব্যবস্থাপনা করছে। ‘চিকেন নেক’ উপত্যকার সন্নিকটে হওয়ায় এতে পশ্চিমবঙ্গের ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের 

07

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৮ জুলাই : ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো যদি ব্যাপক বিক্ষোভের মুখেও সংবিধান পরিবর্তন করে তাহলে দেশটির উপর অনতিবিলম্বে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনডিটিভি।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলগুলো আগাম নির্বাচনের দাবিতে এক অসাংবিধানিক গণভোটের আয়োজন করে। ওই গণভোটের প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প এমন হুমকি ভেনেজুয়েলাকে দিয়েছে বলে বিশ্বাস বিশ্লেষকদের।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সমালোচনা করে বলেন যে, মাদুরো একজন বাজে নেতা যিনি স্বৈরাচারী হবার স্বপ্ন দেখছেন। ভেনেজুয়েলার টুকরো হয়ে যায় তা চায় না যুক্তরাষ্ট্র বলেও জানান ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কেমন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। কিন্তু এই হুমকির ফলে ভেনেজুয়েলার আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে যেমন নতুন মোড় অসবে, তেমনি অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির পক্ষে দীর্ঘ রাজনৈতিক সমস্যা দূর করা কষ্টকর হয়ে দাড়াবে।

গত এপ্রিল থেকে ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অবশ্য এই মৃত্যুর ঘটনা তখনই ঘটেছে যখন বিক্ষোভকারীরা কিছু ক্ষেত্রে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছিল এবং তাদের জবাবে সরকারি বাহিনীকে শক্ত অবস্থান নিতে হয়।

তবে নিকোলাস মাদুরো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে, দেশের ভেতরে থাকা ডানপন্থী দলগুলো একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে এবং এর পেছনে মদদদাতা হিসেবে আছে সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ 

883632

দিল্লি, ১৭ জুলাই : ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ সোমবার। এটি দেশটির চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাজধানী নয়াদিল্লীর পার্লামেন্ট ভবন ও রাজ্যের বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে তাদের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনের ভোট গণনা করা হবে ২০ জুলাই।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দুইজন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ যিনি এর আগে বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ’র প্রার্থী মীরা কুমার যিনি এর আগে কংগ্রেস শাসনামলে লোকসভার স্পিকার ছিলেন। দুইজনই দলিত সম্প্রদায়ের।

বর্তমান বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নিবেন ২৫ জুলাই। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ফের মৃত্যুদণ্ড চান এরদোগান 

5599

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ জুলাই : ফের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে প্রশ্ন। প্রয়োজনে ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ হাত কেটে নিতেও দ্বিধা নেই। সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার এক বছর পূর্তিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এরদোগানের গলায় শোনা গেল এমন গরম গরম কথাই।

গত শনিবার ইস্তানবুলের বসফোরাস সেতুতে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এক বছর আগে এখানেই অভ্যুত্থানের চেষ্টায় জড়িত সেনার হাতে প্রাণ হারান অন্তত ৩৬ জন। তার পর সেখানেই এরদোগানের প্রথম বক্তৃতা। পরের বক্তৃতা আঙ্কারায় তুরস্কের পার্লামেন্টের কাছে। সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার সময় ষড়যন্ত্রকারীরা বোমা মেরেছিল পার্লামেন্টেও।  সেখানে ভরা দর্শকদের সামনে গর্জে ওঠেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানের সমর্থকদের বিচারের সময়ে গুয়ান্তানামোর মতো পোশাক পড়তে হবে।

এরদোগান জানান, যারা এ ভাবে দেশকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল, তাদের ‘‘মাথা কেটে দেবে সরকার’’। কারণ ওই অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীরা ‘অবিশ্বাসী। ’ তাঁর কথায়, ‘‘দেশের শত্রুরা নির্বিচারে আমাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ’’ এই সূত্রেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।

তুরস্কে ২০০৪ সালে মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়েছিল। তাই তা ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন এরদোগান।

সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার সময়ে আঙ্কারা আর ইস্তানবুলের আকাশে ছেয়ে যায় যুদ্ধবিমান। রাস্তায় নামে ট্যাঙ্ক। তবে পথে নেমে সেই অভ্যুত্থান রুখে দেয় সব রাজনৈতিক দল। সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে তারাই চ্যালেঞ্জ জানায় সেনার সেই অংশকে। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ষড়যন্ত্রের পিছনে ছিলেন ফেতুল্লা গুলেন নামে এক নির্বাসিত নেতা, যিনি আমেরিকা নিবাসী হলেও তাঁর অনুগামীর সংখ্যা যথেষ্ট।

এই রকম ষড়যন্ত্র ঠেকাতেই মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজন বলে মনে করেন এরদোগান। তাঁর সুরে গলা মেলান ভিড়ে দাঁড়ানো আম জনতা। যদিও রবিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জুনকার বলেছেন, ‘‘তুরস্ক যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হিসেবে টিকে থাকার পথ নিজেরাই বন্ধ করে দেবে। ’’

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার থেকেও এখন ভয়ঙ্কর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। সরকারি চাকরি থেকে হাজার হাজার মানুষকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া সরকারি চাকরিতে, পুলিশ, সেনা অফিসার, বিচারক, শিক্ষক এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত লোকজনকে কখনো কখনো আটক করা হচ্ছে। প্রায়শই কোপের মুখে পড়ছেন দক্ষিণপন্থী সমর্থকরা। গত শুক্রবারই অতিরিক্ত সাত হাজার জনকে বরখাস্ত করেছে তুরস্ক সরকার। ১৫০-রও বেশি সাংবাদিক এখন জেলে। তাই ইইউ এর ১২ বছরের এই সদস্য দেশটি আদৌ কত দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে, সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাকিস্তানি সেনাদের সাথে জঙ্গিদের গোলাগুলি, নিহত ৪ জঙ্গি 

8585

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ জুলাই : জঙ্গিদের লক্ষ্য ছিল পাক সেনার একটি চৌকি গুঁড়িয়ে দেওয়া। মেশিনগান থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে তারা ভিতরে ঢুকতে চেয়েছিল। আর তখনই পাল্টা গুলি চালায় রক্ষীরা। ধুন্ধুমার লড়াইয়ের পর নাশকতা রুখে চার জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের জোহব এলাকায়।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, জঙ্গি হামলার পরপরই ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাছাড়া প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ পাকিস্তানের সব বড় শহরেই সতর্ক করা হয়েছে রক্ষীদের। যদিও বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা কোন নতুন ঘটনা নয়। বিদ্রোহীদের অভিযোগ, এখানে শাসান কব্জা করার নামে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করছে পাকিস্তানি সেনারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিরিয়ায় রাশিয়ান দূতাবাসে হামলা 

536

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ জুলাই : সিরিয়ায় আসাদ বিদ্রোহীদের হামলায় দামেস্কের রাশিয়ান দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, রবিবার রাতের এ হামলা দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত করে। প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজধানীর উপকন্ঠে সিরীয় বিদ্রোহীদের দ্বারা রাশিয়ার দূতাবাসে হামলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, রাশিয়া আসাদ সরকারের শক্তিশালী সমর্থক এবং ৬ বছর ধরে চলমান এ যুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ার সাথে যুক্ত হয়। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত শহরে এক হাসপাতালে কাছে বোমা হামলায় ৫ জন আহত হবার কয়েক ঘন্টা পরই দামাস্কাসে এ হামলা হয় বলে জানা যায়। সূত্র: আল জাজিরা

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মানুষ হত্যাকারী গো–রক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত 

88

দিল্লি, ১৭ জুলাই : ভারতের বিভিন্ন স্থানে গো–রক্ষার নামে মানুষ হত্যার ঘটনায় জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে রাজ্যগুলোর অভিযান চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি রবিবার নয়াদিল্লিতে এক সর্বদলীয় বৈঠকে বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলোর। পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর আগের দিন প্রথাগত এ গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার সাংবাদিকদের আলোচিত বিষয় সম্পর্কে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, গো-রক্ষার নামে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যে পরামর্শ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে বলেন, দেশে গো রক্ষার আইন আছে। কিন্তু গো রক্ষার নামে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে অপরাধ করলে তা বরদাশত করা হবে না। কিছু রাজনৈতিক দল গো রক্ষাকে একটা সাম্প্রদায়িক বিষয় হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। এটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। গো রক্ষার বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে মোদি বলেন, এতে দেশের কোনো উপকার হবে না। এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ করতে প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে।

এবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনে সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যুগান্তকারী পণ্য-পরিষেবা কর (জিএসটি) নিয়ে বিরোধী ১৮-দলীয় জোটের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী গতকালের বৈঠকে জিএসটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। ভারতজুড়ে দুই সপ্তাহ আগে জিএসটি চালু হয়।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে চীনের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা, কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতি এবং গো রক্ষার নামে পিটিয়ে মানুষ হত্যা।

কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, আলোচনার সব পথ সরকার বন্ধ করে রেখেছে। কাশ্মীরে রাজনৈতিকভাবে দমবন্ধ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দলটি বিজেপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে।

গো রক্ষার নামে মানুষ হত্যা বরদাশত করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি আগেও ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দৃশ্যত তাতে হামলা থামছে না। ভারতে গোমাংস নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ জুন হরিয়ানায় জুনেইদ খান নামের এক মুসলিম কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গের ব্যাগে গোমাংস রয়েছে—এমন সন্দেহে একদল দুর্বৃত্ত চলন্ত ট্রেনে জুনেইদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ হত্যার রেশ না কাটতেই উত্তর প্রদেশে গত বুধবার ট্রেনের ভেতরে এক মুসলিম পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তরা চড়াও হয়। তাদের লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা ‘ওরা গরু খায়’ বলে চিৎকার করে।

এদিকে মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে গত বুধবার গো রক্ষক বাহিনীর পিটুনির শিকার বিজেপি কর্মী সালিম শাহর কাছে গোমাংসই ছিল বলে পুলিশ গতকাল জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা পিটিআই বলেছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, সালিমের কাছে গরুর মাংস ছিল। তবে সালিম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর ব্যাগে খাসির মাংস ছিল। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাজ্য-ওয়েলসে ছয় মাসে ৪শ এসিড হামলা 

552

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ জুলাই : একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য এবং ওয়েলসে এসিড হামলার ঘটনা দিন দিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

লন্ডনে বৃহস্পতিবার রাতে ৫টি এসিড হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর নড়েচড়ে বসেছে সেখানকার প্রশাসন। খবর বিবিসির।

এসিড হামলার বিষয়ে কঠোর আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা চলছে। তাছাড়া এসিড বিক্রির ওপর কড়া নজরদারি আরোপের চিন্তাভাবনাও করছে প্রশাসন।

এসিড নিয়ে বিদ্যমান আইন, পুলিশের দায়িত্ব, শাস্তি, কীভাবে ক্ষতিকারক পণ্যগুলি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং এসিড হামলার শিকারদের কীভাবে সাহায্য করা যায় তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

হোম সেক্রেটারি অ্যাম্বার রুড সানডে টাইমসকে বলেন, অপরাধীরা যেন আইনটির পূর্ণ শক্তি অনুভব করা।

তিনি বলেন, এসিড আক্রমণে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য জীবনযাত্রা কঠোর হয়ে যায়

সোমবার কমন্সে বিতর্কিত অ্যাসিড হামলার কারণে এমপিরাও দায়ী।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০১২ সালের পর এসিড হামলার ঘটনা দ্বিগুন হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫০৪টি হামলার ঘটনা ঘটে।

ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিল তথ্যমতে, চলতি বছরে প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্য এবং ওয়েলসে পৃথকভাবে ৪০০ এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের অধিকাংশই তরুণ। তাদের বয়স ১৮ এর মধ্যে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে করা ১৯৭২ সালের আইনটি আবারও পর্যালোচনার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শিশু দাসত্ব ঘোচাতে গিয়ে কীভাবে প্রাণ দিয়েছিল এক কিশোর 

4555

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ জুলাই : নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের একটি গ্রামের কিশোর এক বালক কীভাবে তার দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে আন্তর্জাতিক প্রচারক হয়ে উঠেছিলেন এবং এজন কীভাবে তাকে জীবন দিতে হয়েছিল তা নিয়েই এই পর্বের ইতিহাসের সাক্ষী।

মাত্র চার বছর বয়সে ইকবাল মাসিহকে কার্পেট বোনার কাজে দাস হিসাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরে ওই শৃঙ্খলিত জীবন থেকে পালিয়ে যায় ইকবাল এবং শিশু অধিকার নিয়ে সংগ্রামের একজন প্রবক্তা হয়ে ওঠে অল্প বয়সেই।

এহসানউল্লাহ খানের সংস্থা ইকবালের মুক্তিতে সাহায্য করেছিল। কীভাবে সেকথাই বিবিসিকে বলেছেন এহসানউল্লাহ খান।

১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানের শেখোপুরায় এক বৈঠক ডেকেছিল বন্ডেড লেবার লিবারেশন ফ্রন্ট সংক্ষেপে বিএলএলএফ- যারা দক্ষিণ এশিয়া থেকে দাসত্ব নির্মূল করার জন্য তখন আন্দোলন ও প্রচারণা চালাচ্ছিল।

সেবছরই আরও আগে পাকিস্তান সরকার দাসত্ব- শ্রম নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু এই মর্মে কোনো আইন বলবৎ করেনি।

বিএলএলএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা এহসানউল্লাহ খান বলছিলেন ওই বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিল ছোট্ট একটি ছেলে। ছেলেটির মুখ দেখে আমার মনে হল সে কিছু বলতে চায়। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না।

ছেলেটির বয়স মাত্র ১০, উচ্চতায় ৪ফুট।

ছেলেটার চোখেমুখে ছিল ভয়, আর চেহারা ছিল খুব নোংরা। আমি ওর সঙ্গে দশ মিনিটের মত কথা বললামা। ও চুপ করে রইল। কিন্তু আমি ওর কথা শুনতে চাইছি বুঝতে পারার পর ও মুখ খুলল। আমার দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল, ‘আমি ইকবাল’। আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘তুমি কী কর?’ ও বলল ‘কার্পেট বুনি’। জানতে চাইলাম- ‘কতদিন এ কাজ করছ’? ও বলল চার বছর বয়স থেকে।

মিঃ খান ইকবালকে সাহস দেবার চেষ্টা করেছিলেন – বলেছিলেন অন্য ছেলেরা কেমন তাদের কাজের কথা বলছে- তাকেও বলেছিলেন তুমিও বলো না!

ও ঘাড় নেড়ে বলল- না-না-না-না। ও থরথর করে কাঁপছিল, ঘামছিল। আমি ওর সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ কথা বলার পর ও সাহস পেল। ওর পাশে অন্য যে বাচ্চারা বসেছিল তারাও ওকে সাহস দিল- মাইকের সামনে দাঁড়াতে সাহায্য করল। সেটাই ছিল মুক্তির পথে ওর প্রথম পদক্ষেপ, বলছিলেন এহসানউল্লাহ খান।

শেখোপুরায় এহসানউল্লাহ খানের সঙ্গে ওই বৈঠকে ইকবাল তার মালিকের নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে একটা ভাষণ দিয়েছিল।

আমি কাজ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। মালিক সেখানে যেতে আমাকে নিষেধ করেছিল। আমি যখন ভাষণ দিয়ে ফিরলাম আমার মালিক বলল তোমাকে আর ওখানে যেতে দেব না। আমার কিন্তু মালিক সম্পর্কে তখন ভয় কেটে গিয়েছিল। বরং মালিক আমাকে ভয় করতে শুরু করল, এমনটাই ছিল এহসানউল্লাহর রেকর্ড করা ইকবালের বক্তব্য ।

ইকবাল ছিল পাকিস্তানের শ্রমজীবী কয়েক লক্ষ শিশুর একজন, যাদের অধিকাংশই দাসখৎ লিখে দেওয়া শ্রমিক হিসাবে কাজ করত। অর্থাৎ তাদের বাপমায়েরা হয় কারখানা মালিক বা জমি মালিক বা অপরাধী চক্রের কাছে কোনো না কোনোভাবে ছিলেন দেনাগ্রস্ত। তাদের বাচ্চাদের গতর খেটে সেই দেনা শোধ করতে হতো।

ইকবাল ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পরিবার থাকত লাহোরের কাছে মোরিদ্‌কে নামে এক এলাকায়।

তার পরিবার স্থানীয় একজন কার্পেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০০ রুপি ধার নিয়েছিল। কার্পেট কারখানার ঐ মালিকের দেনা পরিবারটি শোধ করতে না পারায় ইকবালের মা তার ছেলেকে দাস হিসাবে খাটার জন্য তার কাছে বিক্রি করে দেন।

এইধরনের দেনাব্যবস্থার জালে পরিবারগুলোকে জড়িয়ে ফেলার যে পদ্ধতি পাকিস্তানে তাকে বলা হয় ‘পেশগি’।

সারা পাকিস্তান জুড়ে চলত এই পেশগি ব্যবস্থা- খুবই বড় ছিল এদের জাল- বলছিলেন এহসানউল্লাহ খান।

যেসব বাচ্চারা স্কুল যায় না, তারা এই ব্যবস্থার মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। এই নেটওয়ার্ক একটা মাফিয়া নেটওয়ার্কের মত। কখনও এরা বাপমায়েদের ঘুষ দেয়, কখনও চাপ দিয়ে বাচ্চাদের শ্রমে দাসখৎ লেখাতে বাধ্য করে। তাদের এভাবে জোর করে কাজে নিয়ে যায়। এটাই ওদের ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থার শিকার হয়েছিল ইকবাল।

কখনও কখনও ইকবালকে এই কার্পেট কারখানায় ১৪ঘন্টাও কাজ করতে হতো। ভোর থেকে প্রায় রাত অবধি সে কাজ করতো।

মিঃ খান বলছেন তাদের মারধোর করা হতো, শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। নির্যাতন চালানো হতো। চার বছর বয়স থেকে ইকবাল এবং কারখানার অন্য শিশুরা এই জীবনেই অভ্যস্ত ছিল।

এহসানের সংস্থার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের ফলে দাসত্ব শ্রম থেকে মুক্তি পায় ইকবাল। শেখোপুরার বৈঠকে ইকবালকে প্রথম দেখার পর সংস্থার কর্মীরা ইকবালের কর্মস্থলে যায় এবং ইকবাল ও আরও বেশ কিছু শিশুকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আনে। উদ্ধারকারীরা একাজে অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কারণ তাদের হামলা ও মৃত্যুর হুমকীর মুখে কাজ করতে হয় বলে বলেছেন মিঃ খান।

ইকবাল মুক্তি পাবার পর প্রথমেই তাকে স্কুলে পাঠানোর উদ্যোগ নেন এহসানুল্লাহ খান।

আমি তার গ্রামেই স্কুল খুলেছিলাম। কিন্তু কাপের্ট ব্যবসার গুণ্ডারা সেটা পুড়িয়ে দিয়েছিল। স্কুলের শিক্ষককে ওরা মারধোর করত, আসবাবপত্র জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ওর মা এসে আমাকে বলেছিল ইকবাল পড়তে চায় এবং আমি যেন তার সবসময়কার অভিভাবক হই। তিনি বলেছিলেন আমার পক্ষে ওকে বাসায় রাখা সম্ভব নয়। তাই আমিই যেন ওকে পড়াই। এরপর ও আমার সঙ্গেই থাকত।

এহসানের সংস্থা প্রায় ১১ হাজার এধরনের শিশুর জন্য যে দুশ-বিশটি স্কুল খুলেছিল তারই একটিতে যেতে শুরু করে ইকবাল।

অল্পদিনের মধ্যেই ওই শিশুদের মধ্যে ইকবাল আলাদা করে নিজের একটা জায়গা তৈরি করে নেয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শিশুশ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করে।

তার প্রচার-কাজের জন্য ১৯৯৪ সালে ইকবাল আমেরিকায় একটি সম্মানজনক মানবাধিকার পুরস্কার পায়। পুরস্কার নেওয়ার জন্য এহসানের সঙ্গে ইকবাল আমেরিকার বস্টন শহরে যায় । ওই অনুষ্ঠানে ইকবাল বলেছিল তার নিজের কথায়:

স্কুলে আমাদের একটা স্লোগান আছে- আমরা শিশুদের স্বাধীনতা চাই – আমরা সবাই সমস্বরে বলি- উই আর ফ্রি- আমরা স্বাধীন।

ওই ইকবালের বক্তৃতা খুবই সমাদৃত হয়েছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ইকবালকে ভবিষ্যতে পড়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন । তিনি বলেছিলেন পাকিস্তানে স্কুলের পড়া শেষ করে ইকবাল ওখানে ভর্তি হতে পারবে। এবং চাইলে আইন পড়ে আইনজ্ঞ হতে পারবে।

কিন্তু তার আকাশছোঁয়া স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।

কিশোর ইকবাল তখন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরের স্কুলে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছে। দাসত্বের শেকলে বাধা শিশুদের কথা বলছে – তাদের মুক্তির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু এর ফলে তখন নিজের দেশে এই স্পষ্টবক্তা কিশোরের অনেক শত্রু তৈরি হয়ে গেছে।

এহসানউল্লাহ খান বলছিলেন দেশে ফেরার পর ইকবাল তার সঙ্গে ইসলামাবাদ যেতে চেয়েছিল। তিনি একটা সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু ওর মা এসে বলল কাল ইস্টারের উৎসব। আমি চাই ও দিনটা আমার কাছেই থাকুক। পরের দিন সকালে যখন আমি অফিসে গেলাম, আমাদের ড্রাইভারকে দেখলাম খুব চুপচাপ। ও আমাকে যখন নামিয়ে দিল , দেখলাম ও কাঁদছে। ও বলল মাত্র এক ঘন্টা আগে ও ফোন পেয়েছে যে ইকবালকে মেরে ফেলা হয়েছে। কেউ একজন তাকে শুধু জানিয়েছে ইকবালকে হত্যা করা হয়েছে।

ইকবালকে অজ্ঞাতপরিচয় একজন বন্দুকধারী গুলি করে মারে। দিনটা ছিল ১৯৯৫ সালের ১৬ই এপ্রিল। ইকবাল যখন দুজন আত্মীয়ের সঙ্গে সাইকেলে ঘুরছিল, তখন কেউ তাকে গুলি করে। ইকবালের বয়স তখন মাত্র ১২।

তার হত্যার দায়ে কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হয়নি। মিঃ খান মনে করেন, পাকিস্তানে শিশুদের দাসত্বে বেধে কাজ করানোর প্রথার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার হতে গিয়ে ইকবালকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এহসানউল্লাহ খানকেও পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

মিঃ খান বলছিলেন মালালা ইউসুফজাই ও কৈলাশ সত্যিয়ার্থী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কারণ তারা শিশুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। ইকবাল এবং আমরা এই লড়াই শুরু করেছিলাম। আমরা বলতে চেয়েছিলাম দাসত্ব ও শিশুশ্রম মানুষের তৈরি সমস্যা – এর সমাধান সম্ভব।

পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যত্র এখনও এধরনের দাস হিসাবে কাজ করছে লক্ষ লক্ষ শিশু।

এহসানউল্লাহ বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন সুইডেনে এবং এই মুহূর্তে তিনি ইকবাল মাসিহর জীবন নিয়ে একটি বই লিখছেন।

ইতিহাসের সাক্ষীর এই পর্ব পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়া। শুনতে চাইলে ক্লিক করুন অডিও লিংকে। -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দেওয়া জনগণের প্রশংসায় এরদোয়ান 

565

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ জুলাই : তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দেওয়ার এক বছর পূর্ণ হয়েছে শনিবার। এই অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দিতে ভূমিকা রাখায় তুরস্কের জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান ঠেকানোর বছরপূর্তি উপলক্ষে লাখো লোকের এক সমাবেশে এরদোয়ান জনগণকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাদের ব্যাপক প্রশংসা করেন।

তুরস্কে গত বছরে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা জনগণ ঠেকিয়ে দেওয়ার বছর পূর্তি উপলক্ষে ইস্তাম্বুলে আয়োজন করা হয় বিশাল এক সমাবেশের। হাজার হাজার লোকের সেই সমাবেশে সকলে মিলে গেয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত। উচ্ছ্বসিত জনগণ হাতে হাতে নিয়ে বেরিয়েছে জাতীয় পতাকা।

কঠিন সেই সময়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে যারা রক্ষা করেছেন, তাদেরকে স্মরণ করে, সমাবেশে আবেগঘন এক বক্তৃতা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান।

অভুত্থানের সেই রাতকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেই রাতে মানুষের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, তাদের হাতে ছিল একটি পতাকা আর সবচেয়ে বড় কথা, তাদের ছিল বিশ্বাস।’

এই সমাবেশে যোগ দেওয়া অনেকেই বলছেন, দেশের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করতেই সমাবেশে তারা যোগ দিয়েছেন।

সমাবেশে অংশ নেয়া জুলফিকার কাহারমান নামে একজন বলেন, ‘আমি জানি না সেই রাতে কেন যে আমার মুত্যু হয়নি! এই কথা এখনো আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। কেন আমি ট্যাঙ্কের সামনে সিনা টান করে দাঁড়াইনি? দেশের প্রয়োজনে আমি নিজেকে নির্ভয়ে উৎসর্গ করতে পারি।’

গত বছরের ১৫ই জুলাই তুরস্কে সংঘটিত ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারায় মোট ২৫০ জনের মতো মানুষ। আর আহত হয় প্রায় ২ হাজার ১৯৬ জন।

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর অভ্যুত্থানের সমর্থনকারী সন্দেহে ৫০ হাজার জনকে গ্রেফতার এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষকে চাকুরিচ্যুত করে এরদোয়ান প্রশাসন।

বিরোধীদের মূলোৎপাটনের জন্য কঠোর হাতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী তুরস্ককে নিয়ন্ত্রণ করেছে দেশটির সরকার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন 

558

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : রাত পোহালেই ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাজধানী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন ও দেশের রাজ্য বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা কাল সোমবার ভোট দিয়ে ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

এবারের লড়াই দ্বিমুখী। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ, যিনি প্রার্থী মনোনীত হওয়ার আগে পর্যন্ত বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। ভোট গণনা ২০ জুলাই। দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ তারিখ। একই দিন শপথের পর প্রথা অনুযায়ী বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে রাজাজি মার্গে তাঁর সরকারি আবাসে পৌঁছে দিয়ে আসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফাত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যাঁরা, তাঁদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮। রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে। সবচেয়ে বেশি ভোট মূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, এটি ৮। এবারের ভোটে সাংসদেরা ভোট দেবেন সবুজ ব্যালটে। বিধায়কদের ব্যালটের রং গোলাপি। সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত সদস্যরা এই ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নেবেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পুডুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক।

সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট মূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সাংসদদের ভোট মূল্য ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮, বিধায়কদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

প্রণব মুখার্জিকে দ্বিতীয় দফার জন্য রাষ্ট্রপতি করার যে প্রস্তাব কোনো কোনো বিরোধী দল দিয়েছিল, বিজেপি তা মানেনি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিজেপি তাদের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে। সেই সুযোগ হারাতে তারা রাজি হয়নি। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদই একমাত্র দুই দফায় (১৯৫০-১৯৬২) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এনডিএ ও ইউপিএর এই মুহূর্তে যা ভাগাভাগি, তাতে বিজেপি প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতে পারেন। দুই জোটের বাইরে যে দলগুলো রয়েছে, যেমন বিজু জনতা দল, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, ওয়াই এস আর কংগ্রেস, এআইএডিএমকের দুই শিবির এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট ছোট আঞ্চলিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থন বিজেপি আদায় করে নিয়েছে। ইউপিএ শিবিরে থাকলেও জনতা দল সংযুক্ত সমর্থন করছে রামনাথ কোবিন্দকে। পরাজয় যে নিশ্চিত, কংগ্রেস প্রার্থী মীরা কুমার তা মেনেই নিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বলেছেন, ‘এটা দুই নীতির লড়াই। তাই নির্বাচন থেকে সরার প্রশ্ন নেই।’

প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি গত পাঁচ বছরে রাইসিনা হিলসে কী ছাপ রেখে গেলেন? ভারতীয় সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি কি স্বকীয়তার নিদর্শন রাখেননি? খুব সহজে এই দুই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, প্রতিভা পাতিলের মতো ‘রাবার স্ট্যাম্প’ কিংবা আবদুল কালামের মতো ‘বিক্ষুব্ধ জনতার রাষ্ট্রপতি’ কোনোটাই তিনি হতে চাননি। পাঁচটি বছর সাংবিধানিক আওতায় নিজেকে আবদ্ধ রেখেও প্রয়োজনের সময় উপযুক্ত পরামর্শ তিনি সরকারকে দিয়ে গেছেন। ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনের স্পর্শকাতরতাকে একই সময়ে পিঠেপিঠি সফরে তিনি যেভাবে সামলেছিলেন তাতে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই পরিচয় মেলে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না চাইলেও তিনি এই দুই দেশ একই সঙ্গে নিজের সফরসূচিতে রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই বলেছেন, প্রণববাবু সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁকে সৎ পরামর্শ দিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়েছেন। প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে তিনি সব সময় পরামর্শ নিয়েছেন। সংবিধান ও পররাষ্ট্রনীতি। কিন্তু তাই বলে এমন নয় যে এই পাঁচ বছরে শাসক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মতপার্থক্য বা মতানৈক্য ঘটেনি। সংসদকে এড়িয়ে জমি অধিগ্রহণের অর্ডিন্যান্স আনতে চেয়েছিল মোদি সরকার। প্রণববাবু বিরোধিতা করেছিলেন। কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের কট্টরবাদিতায় সামাল দিতে চেয়েছেন। বারবার বলেছেন, হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত হবে না। অসহিষ্ণুতার মাথাচাড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন প্রকাশ্যেই। সরকারসহ সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বহুত্ববাদী ভারতের চরিত্র রক্ষার কথা। যে অভিন্ন কর ও পণ্য পরিষেবাকে (জিএসটি) মোদি সরকার তার মুকুটের ঝলমলে পালক হিসেবে গণ্য করছে, সেই আইনের খসড়া অর্থমন্ত্রী থাকাকালে যে তাঁরই তৈরি, মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তা। সে সময় যে রাজ্যগুলো বিরোধিতা করেছিল, গুজরাট ছিল তাদের অন্যতম। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাঁর দীর্ঘ অবিতর্কিত রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, মেধা, ক্ষুরধার রাজনৈতিক বুদ্ধি, দেশপ্রেম, মর্যাদাবোধ, সাংবিধানিক জ্ঞান ও ভারতীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। এতটাই স্মৃতিধর তিনি যে সব সময় সরকারকে অতীতের উদাহরণ দিয়ে সজাগ করে দিয়েছেন। এই সবকিছুই তাঁকে সব দলের কাছে পেতে দিয়েছিল এক অনন্য আসন। ছোটখাটো চেহারা সত্ত্বেও এমনই ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব যে তাঁর পরামর্শকে সবাই নির্দেশ বলে মেনে এসেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও তিনি ছিলেন প্রণম্য। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো।

গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রপতি ভবন জনতার কাছে উন্মুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের গ্রন্থাগার জ্ঞান ও ইতিহাসের আকর। সেই লাইব্রেরির আমূল সংস্কার করেছেন প্রণববাবু। সুবিশাল এই ভবনে প্রকৃতির কোলে কিছুদিন থেকে সাহিত্যিক, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, চারুকলার দিকপাল ও জীবনের সর্বক্ষেত্রের ‘ক্রিয়েটিভ’ মানুষদের কাজ করার সুযোগ তাঁরই সৃষ্টি করে দেওয়া। গত পাঁচটি বছরে রাষ্ট্রপতি ভবনের মান ও মর্যাদাকে প্রণব মুখার্জি এভারেস্টের উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর বিদায়বেলায় এই আশঙ্কাই বড় হয়ে উঠছে, রাইসিনা হিলস আরও একবার রাজনৈতিক দলের রাবার স্ট্যাম্প সর্বস্ব শাখা অফিসে পরিণত না হয়।

অতঃপর তাঁর নির্ভার জীবনের সঙ্গী হবে অগুনতি বই। বহু বছর আগে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেছিলেন, কিছু একটা না পড়লে রাতে তাঁর ঘুম আসে না। হাতের কাছে কিছু না পেলে অগত্যা পঞ্জিকার পাতা ওল্টান তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওনা সব কিছুই তিনি রাষ্ট্রের জন্য রেখে আসছেন। নিয়ে যাবেন শুধু উপহার পাওয়া বই। আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ডটি এই অবসরে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

জীবনটা তাঁর অবশ্যই পাল্টে যাবে। এই বদলের সঙ্গে বদলাবে এত বছরের একটা প্রিয় অভ্যাস। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায় কাকভোরে উঠে রাষ্ট্রপতি ভবনের আদিগন্ত চরাচরে হনহন করে হাঁটায় এবার রাশ টানতে হবে। রাজাজি মার্গের সরকারি আবাসের আঙিনা আর যাই হোক রাইসিনা হিলস নয়।সূত্র: প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর