২৯ মে ২০১৭
সকাল ৮:০২, সোমবার

রোজায় মোদীর সম্প্রীতির বার্তা, কিন্তু বাস্তবতা কী?

রোজায় মোদীর সম্প্রীতির বার্তা, কিন্তু বাস্তবতা কী? 

57

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৯ মে : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রমজান মাসের শুরুতে আজ তার বিশেষ রেডিও ভাষণে বলেছেন, সে দেশে যে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষজন একসঙ্গে থাকেন – এটা ভারতের বিরাট গর্বের জায়গা।

‘মন-কি-বাত’ শীর্ষক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও মুসলিম সমাজের নেতারা কিন্তু বলছেন আজকের ভারতে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের সম্প্রদায়কে চরম আতঙ্কে রেখেছে।

এমন কী পর্যবেক্ষকরাও অনেকেই মনে করছেন, ভারতে আজ যে ধরনের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশ দেখা যাচ্ছে তা এ দেশের আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে আদৌ খাপ খায় না।

প্রতি মাসের শেষ রবিবারে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে ‘মন-কি-বাত’ ভাষণ দেন, তাতে আজকের পর্বটি ছিল রমজান স্পেশাল। সেখানে দেশবাসীকে ও বিশেষত মুসলিমদের রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এদিন দাবি করেন, ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের মানুষরা কীভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে ভারতীয়রা সেটা সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “রমজানের পবিত্র মাসে বিশেষ গুরুত্ব পায় প্রার্থনা, আধ্যাত্মিকতা আর দান-ধ্যান। আর আমরা সোয়াশো কোটি ভারতীয় এ নিয়ে গর্ব করতে পারি যে বিশ্বের সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেন। আস্তিক ও নাস্তিক, পৌত্তলিক কিংবা মূর্তিপূজার বিরোধী – সবাই কীভাবে এখানে পাশাপাশি থাকতে পারেন, সেই কলা আমাদের মজ্জায়।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনতে ভাল লাগলেও প্রতিদিনকার খবরের কাগজ কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য কোনও আশার ছবি তুলে ধরতে পারছে না – বিবিসিকে বলছিলেন আসামের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এমপি সিরাজুদ্দিন আজমল।

তিনি বলছেন, “সরকার যে সব-কা-সাথ সব-কা-বিকাশের কথা বলছে আমরা তো তাতেই ভরসা রাখতে চাই। কিন্তু গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি তো সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভাল মানুষ, কিন্তু তার আশেপাশের লোকজন তো হিন্দু-মুসলিম একতার ভাবনা রাখতে চাইছেন না। ভারতের ধর্মীয় বুনট তাতে নষ্ট হচ্ছে।”

শাসক দল বিজেপি বা তাদের ঘনিষ্ঠ লোকজনদের নানা কাজকর্মে মুসলিমদের শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বলেই তার দাবি।

সিরাজুদ্দিন আজমলের কথায়, “এই যে ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি – তাতে সার্বিকভাবে ভারতের মুসলিমরা খুবই শঙ্কিত। তাদের ধর্মীয় আচার পালনের ওপর আঘাত আসছে, তাদের ঘরবাড়ি বা মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আমাদের আসামে মুসলিমদের সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোটেই কোনও ভাল সংকেত যাচ্ছে না – মুসলিমরা খুবই ভয় পাচ্ছেন।”

অথচ প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন – সেই সব ধর্মকে নিয়ে চলাটাই ছিল ভারতের চিরকালীন ইতিহাস, বলছিলেন গবেষক ও অধ্যাপক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

“শুধু তো মুসলিম ভাবধারা নয়, এই ভারতে বৌদ্ধরাও ছিলেন – যাদের সঙ্গে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধ ছিল, বৌদ্ধিক বিরোধ। তারপর ছিলেন শিখরাও, যাদের চিন্তাধারা একটু অন্যরকম। মুসলিম শাসকরা আসার পরে তারাও কিন্তু অনেকেই হিন্দু সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু করেছেন।”

“বাদশাহ আকবর থেকে শুরু করে অনেক মুসলিম রাজা-রাজড়াই এই দলে পড়বেন। যেমন আমাদের বঙ্গেও ছিলেন মহম্মদ বরবক শাহ। তাদের প্রত্যেকের সভাতেই হিন্দু সভাসদরা ছিলেন”, বলছিলেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

আজ ভারতের বিজেপি সরকার যখন তিন বছর পূর্ণ করেছে, তখন কিন্তু দেশে সে ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না ড: ভাদুড়ী।

“যত মত তত পথের এই দেশে আজ চারপাশে যা-সব শুনছি, সেগুলো কিন্তু খুব ভাল কথা নয়। অনেক মুসলিম গ্রেট আছেন আমাদের এ দেশে, তাদের বলা হয়েছে পাকিস্তানে চলে যান। এগুলো আমাদের কাছে খুব অস্বস্তিকর ঠেকে!

‘সুতরাং এখন প্রধানমন্ত্রী ‘মন-কি-বাতে’ যেটা বলছেন সেটা যদি ‘কাম-কি-বাত’ও হয়, তার পারিষদরা যদি সত্যিই সেই অনুযায়ী চলতে পারেন তখনই কেবল আমাদের ভাল লাগবে’, বলছিলেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী।

ফলে প্রধানমন্ত্রী মুখে আজ যা বলছেন – তার সরকার যতক্ষণ না সেটা কাজেও করে দেখাতে পারছে এবং রাশ টানতে পারছে মুসলিম-সহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক হামলায় – ততক্ষণ ভারতের পরিস্থিতিকে কিছুতেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলা যাবে না বলেই অনেক বিশেষজ্ঞর অভিমত। -বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮ 

78

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৯ মে : যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির লিংকন কাউন্টিতে বন্দুকধারীর গুলিতে শেরিফের একজন ডেপুটিসহ আটজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার গভীর রাতে লিংকন কাউন্টির পৃথক তিনটি স্থানে এসব গুলির ঘটনার পর সন্দেহভাজন একজনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ফোনে বন্দুকধারীর হামলার খবর পেয়ে কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের একজন ডেপুটি ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। বাকি নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এদিকে হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লাদেন হত্যার বিবরণ দিলেন তার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমল 

243

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৮ মে : পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে আল-কায়দার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের গোপন আস্তানায় তাকে হত্যার জন্য যেদিন মার্কিন নেভি সিল অভিযান চালিয়েছিল, সে রাতে লাদেনের পাশেই ছিলেন তার চতুর্থ স্ত্রী আমল। তাদের সঙ্গে ছিলেন তার এক ছেলে হুসেন। গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তারা এই দু’জন। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন আমল।

আসলে ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্যাথি স্কট-ক্লার্ক এবং আদ্রিয়ান লেভি একটি বই লিখেছেন। ‘দ্য এক্সাইল’ নামে সেই বইয়ের জন্যই তারা কথা বলেছিলেন আমলের সঙ্গে। আর সে কথা প্রসঙ্গেই বেরিয়ে এসেছে অনেক অজানা তথ্য। খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে ‘দ্য এক্সাইল’। সম্প্রতি ওই বই নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য সানডে টাইমস’-এ কলম ধরেছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। সেখানে লাদেন হত্যা এবং নেভি সিলের গোপন অভিযানের কথাও উঠে আসে।

তাঁরা লিখেছেন, অ্যাবটাবাদে তিন স্ত্রী এবং ১৭ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতেন ওসামা। প্রায় ছ’বছর ধরে সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন। ২০১১ সালের ১ মে মাসেই ডেরাতেই অভিযান চালান মার্কিন নেভি সিলের কম্যান্ডোরা। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মার্কিন সেনার দু’টি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার নামে অ্যাবটাবাদ কম্পাউন্ডে। ওই বাড়িরই তিন তলায় খোঁজ মেলে লাদেনের। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।

আমল ওই দুই সাংবাদিককে জানিয়েছেন, “সেই রাত ছিল বিভীষিকাময়। তিন তলার বাড়িতে লাদেনের চার স্ত্রী-র মধ্যে তিন জন থাকতেন। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে সেখানেই থাকতেন ওসামা। রাত ১১টা নাগাদ রাতের খাওয়া ও প্রার্থনা সেরে সকলেই ঘুমিয়ে পড়েন। আচমকা একটি শব্দে আমলের ঘুম ভাঙে। উঠে বসেন ওসামাও। তার মুখে ছিল আতঙ্কের ছায়া। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের বাড়ির নীচে গোপন কুঠুরিতে চলে যেতে বলেন। “

আমল আরও জানান, ওসামা নাকি সেই সময়ে বলেন, ‘ওরা আমাকে চায়, তোমাদের নয়। ’ কিন্তু, রাজি হননি আমল। বাকিরা চলে গেলেও ছেলে হুসেনকে নিয়ে তিনি থেকে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন দুই মেয়েও। পরিবারেরই কোনও বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মার্কিন বাহিনী ওই গোপন আস্তানার সন্ধান পায়, সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন আমল। এবং এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।

আমলের কথা অনুযায়ী, দুর্গের তিন তলার উঠে প্রথমেই ওসামার এক ছেলে খালিদের মুখোমুখি হয় নেভি সিলের সদস্যেরা। তার হাতে ছিল একে-৪৭। খালিদকে হত্যা করে তিন তলায় উঠে একের পর এক ঘরে তল্লাশি চালাতে থাকেন তারা। এর পর আচমকাই পর্দা সরিয়ে আমলদের ঘরে ঢুকে পড়েন তারা। কমান্ডোদের বাধা দিতে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ওসামার দুই মেয়ে সুমাইয়া ও মিরিয়াম। এগিয়ে যান আমলও। কিন্তু তারা তার পায়ে গুলি করেন।

আমল বলেন, পায়ে গুলি লাগার পরেই আমি পড়ে যাই। বুঝতে পারি ওরা প্রাণে মেরে ফেলবে। তাই মরে পড়ে থাকার ভান করি। সেই সময় নাকি আতঙ্কে কাঁপছিলেন ওসামার বাকি স্ত্রী ও সন্তানেরা। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওসামাকে হত্যা করে তারা। গুলিতে লাদেনের মাথা ফুঁড়ে দিয়েছিলেন মার্কিন নেভি সিলের কম্যান্ডোরা। এরপর তার দেহ ও পরিবারের বাকি জীবিত সদস্যদের নিয়ে বেরিয়ে যান কম্যান্ডোরা। তার আগে দ্বিতীয় স্ত্রী খাইরিয়া ও দুই মেয়েকে দিয়ে ওসামার মৃতদেহ শনাক্তকরণ করিয়েছিলেন তারা।

হোয়াইট হাউসে বসে পুরো অপারেশনটা নাকি লাইভ দেখেছিলেন মার্কিন শীর্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কজর্মকর্তারা। এরপর সেই রাতের অভিযান নিয়ে, নানা রকম তথ্য উঠে আসে। আমলের এই বক্তব্য সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। সম্প্রতি লাদেনকে একাই হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন মার্কিন নেভি সিল টিমের প্রাক্তন সদস্য রবার্ট ও’নিল। সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই-‘দ্য অপারেটর: ফায়ারিং দ্য শটস দ্যাট কিলড বিন লাদেন’-এ সেই রাতের খুঁটিনাটি বিবরণ দিয়ে এমনটাই দাবি করেছিলেন তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সৌদিতে ৫ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৬ 

366

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৮ মে : সৌদি আরবের মদিনা-কাশিম মহাসড়কে পাঁচ বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা গুরুতর।

হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও থাকতে পারেন বলে খবর দিয়েছে সৌদি গেজেট।

আল কাশিম প্রদেশের সিভিল ডিফেন্সের উপ মুখপাত্র কর্নেল আবদুলআজিজ আল-তামিমির বরাত দিয়ে সৌদি পত্রিকাটি জানিয়েছে, ওমরাহ শেষে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো সৌদি আরবের রিয়াদ ও আরব আমিরাতের দিকে যাচ্ছিল। আল কাশিম প্রদেশের রাজধানীর বুরাইদাহ থেকে ২২৫ কিলোমিটার দূরে সাকরিয়াত কাবরা সেতুর কাছে সেগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে।

পত্রিকাটি আরও জানায়, পাঁচটি বাসে অন্তত দুইশ যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাশিম প্রদেশের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আল-হাম্মাদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাদের ২৮টি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান তারা।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট জানিয়েছে, ধুলিঝড়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় মহাসড়কে দুটি বাহনের মধ্যে সংঘর্ষের পর বাকিগুলোও দুর্ঘটনায় পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাশ্মীরে হিযবুল নেতা সাবজার ভাট নিহত 

6555

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৮ মে : ভারত শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী নিষিদ্ধ জঙ্গী গোষ্ঠী হিযবুল মুজাহেদিনের এক শীর্ষ কমান্ডার সাবজার ভাটকে হত্যা করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, সাবজার ভাটের গোপন আস্তানায় পুলিশ হামলা চালালে তিনি নিহত হন। শুক্রবার রাত জুড়ে চলা বন্দুকযুদ্ধে তার আরো দু’জন সঙ্গীরও মৃত্যু হয়।

সাবজার ভাট গত জুলাই মাসে নিহত বুরহান ওয়ানির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

সাবজার ভাটকে হত্যা করা হয়েছে – এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।

শত শত মানুষ শ্রীনগরের কাছে ট্রাল শহরে রাস্তায় নেমে আসে। তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

বিক্ষোভের সময় অন্তত দশজন আহত হয়েছে। বহু দোকানপাট এ সময় বন্ধ হয়ে যায়।

সাবজার ভাটের জানাজায় যোগ দেবার জন্য হাজার হাজার লোক ট্রালের দিকে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আফগানিস্তানে রমজানের প্রথম দিনে সহিংসতায় নিহত ৫০ 

19

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৮ মে : আফগানিস্তানে রমজান মাসের প্রথম দিনে সহিংসতায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। খোস্ত প্রদেশে একটি সামরিক ঘাটির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪ জন নিহত হয়।

এছাড়া জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াইয়ে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছে।

খোস্ত প্রদেশে সামরিক ঘাঁটির কাছে আত্মঘাতী হামলার পরে ১৪টি মৃতদেহ ও আটজন আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গুল মোহাম্মাদ্দিন মঙ্গল। তিনি বলেন, নিহতদের দেহ এত বেশি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যে দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর না বেসামরিক জনগণ। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ বলেছেন দুই শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে হামলায়।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ খোস্ত প্রদেশে হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল।

এদিকে আফগানিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বাদঘিসের কাদিস জেলায় জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করলে তুমুল লড়াই শুরু হয়। সেই লড়াইয়ে ২২ জন জঙ্গি, ৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র জহির বাহারান্দ। এই লড়াইয়ে ৩৩ জন জঙ্গি ও ১৭ জন বেসামরিক আহত হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে নানগারহর প্রদেশে শুক্রবার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা আচিন জেলার বাসিন্দারা বিদ্রোহ করলে লড়াইয়ে ১৫ জঙ্গি ও ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। রয়টার্স।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিশরে হামলার জবাবে লিবিয়ার সন্ত্রাসী আস্তানায় হামলা 

8823

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৭ মে : লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে জিহাদিদের ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মিশরের বিমানবাহিনী। এ ব্যাপারে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলার জবাবে ‘সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে’ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এসময় প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালানো বন্দুকধারীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেরনা শহরের ক্যাম্পে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

বিবিসির প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হামলার পর তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের শিবিরের ওপর হামলায় তিনি কোন ধরনের দ্বিধা করবেননা। এক টেলিভিশন বার্তায় প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন সন্ত্রাসীদের এই হামলা মিশরীয়দের বিভক্ত করতে পারবে না, তিনি তার দেশকে রক্ষা করবেন। অপরাধীদেরও শাস্তি দেবেন। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট সিসি আরও বলেছেন, ‘মিশরের অর্থনীতি, সামাজিক শান্তি নষ্ট করার জন্য সবধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা সবসময় একত্রিত ও সক্ষম থাকবো। এটা শুধু মিশরের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা যুদ্ধে লড়াই করছি তা নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য এটি করছি। ‘

এদিকে এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, লিবিয়ায় যেসব জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে তারা মিশরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলার সাথে জড়িত। যদিও ওই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি, তবে গত সম্প্রতি মিশরে কপটিক খ্রিস্টানদের উপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী বা আইএস।

উল্লেখ্য, কায়রোর দক্ষিণে মিনিয়া প্রদেশে একটি খ্রিস্টান মঠ দেখতে যাচ্ছিলো কপটিক খ্রিস্টানরা, তখন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বন্দুকধারীরা। এতে ২৮ জন নিহত হয় এবং আহত হয় ২৫ জন। এর আগে গত ৯ই এপ্রিল তান্তা ও আলেক্সান্দ্রিয়ায় চার্চ লক্ষ্য করে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রমজানের শুভেচ্ছা ট্রাম্পের 

95

নিউইয়র্ক, ২৭ মে : উত্তর আমেরিকায় আজ শনিবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে সকল মুসলিমকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল শুক্রবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকানদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের এ রমজানের সার্থকতা কামনা করছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই মাসে মুসলমানেরা রোজাব্রত পালনের পাশাপাশি নিকট প্রতিবেশী গরিব-দুখীদের মধ্যেও খাদ্য-সহায়তা দিয়ে থাকেন অর্থাৎ সকলেই রমজানের মহিমাকে সমুন্নত রাখতে প্রয়াসী হন। এছাড়া, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিহত করার সংকল্পও গ্রহণ করেন মানবতার শান্তির পথ সুগম করতে। দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত এলাকার অসহায় মানুষ এবং গরিব মানুষদের কল্যাণেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত হন রোজাদাররা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সউদি আর সফরের সময় সেখানে ৫০টির অধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। গোটা বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির প্রশ্নে আমরা সকলেই পরস্পরের সহযোগী হয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করেছি।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্য এবং মিশরে সন্ত্রাসী হামলায় অনেক অসহায় মানুষ হতাহত হয়েছেন। এ নিয়ে গোটা বিশ্ব আজ শোকাহত। এমন বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে সকলের রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। কারণ, এহেন হামলার মধ্যে রমজানের মূল্যবোধ ব্যাহত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লিবিয়ায় ‘জিহাদিদের ক্যাম্পে’ মিশরের হামলা 

88

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৭ মে : কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলার জবাবে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে জিহাদিদের ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মিশরের বিমানবাহিনী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটি জানাচ্ছে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলার জবাবে ‘সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে’ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চালানো বন্দুকধারীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেরনা শহরের ক্যাম্পে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। হামলার পর তিনি বলেন সন্ত্রাসীদের শিবিরের ওপর হামলায় তিনি কোনো ধরনের দ্বিধা করবেননা।

এক টেলিভিশন বার্তায় প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, সন্ত্রাসীদের এই হামলা মিশরীয়দের বিভক্ত করতে পারবে না, তিনি তার দেশকে রক্ষা করবেন। অপরাধীদেরও শাস্তি দেবেন। প্রেসিডেন্ট সিসি আরো বলেছেন, ‘মিশরের অর্থনীতি, সামাজিক শান্তি নষ্ট করার জন্য সবধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা সবসময় একত্রিত ও সক্ষম থাকবো। এটা শুধু মিশরের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা যুদ্ধে লড়াই করছি তা নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য এটি করছি।’

এমন অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য পুরো বিশ্বকে একত্রিত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি। অশুভ শক্তির কাছ থেকে মিশরের নাগরিকদের সুরক্ষার প্রতিজ্ঞা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট সিসি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে সাহায্যের আহ্বানও জানান তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মিশরের সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, লিবিয়ায় যেসব জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে তারা মিশরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর হামলার সাথে জড়িত। যদিও ওই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি, তবে গত সম্প্রতি মিশরে কপটিক খ্রিস্টানদের উপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী বা আইএস।

উল্লেখ্য, কায়রোর দক্ষিণে মিনিয়া প্রদেশে একটি খ্রিস্টান মঠ দেখতে যাচ্ছিলো কপটিক খ্রিস্টানরা, তখন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বন্দুকধারীরা। এতে ২৮ জন নিহত হয় এবং আহত হয় ২৫ জন। এর আগে গত ৯ই এপ্রিল তান্তা ও আলেক্সান্দ্রিয়ায় চার্চ লক্ষ্য করে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়। বিবিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিসরে বাসে এলোপাতাড়ি গুলি, ২৬ খ্রিষ্টান নিহত 

yi571x2o-copy

অনলাইন ডেস্ক, ২৬ মে : মিসরে কপটিক খ্রিষ্টানদের বহনকরা একটি বাসে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার দেশটির রাজধানী কায়রোর ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মিনইয়া প্রদেশে এ ঘটনা  ঘটে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রাদেশিক গভর্নর ইসাম এল-বেদাভি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, বাসটি সেন্ট স্যামুয়েল গির্জার দিকে যাচ্ছিল এবং পথে মুখোশ পরা বন্দুকধারীরা বাসটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা সয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ মেগাহেদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, হামলায় ২৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।

মিসরে গত কয়েকমাসে কপটিক খ্রিষ্টানদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে, যেসব হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। তবে সর্বশেষ এই হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল মিসরে দুটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৬ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আপিল আদালতেও নাকচ 

444

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ মে : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত বিতর্কিত নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। ওই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানসহ ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। খবর : বিবিসি ও এএফপির।

ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ড শহরের ‘ফোর্থ সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলস’ বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেছে, ট্রাম্পের নির্দেশ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল; কাজেই জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যাবে না।

আপিল আদালতের ১৩ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই নির্দেশের পক্ষে রায় দেন। বিচারপতি রজার গ্রেগরি এই রায় পড়ে শোনানোর সময় বলেন, সরকার মুসলমানদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নামক ‘অস্পষ্ট পরিভাষা’ ব্যবহার করেছে। কিন্তু এই নির্বাহী আদেশ ‘ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষ এবং বৈষম্য’ সৃষ্টি করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণার সময় আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেকথা উল্লেখ করে বিচারপতি গ্রেগরি বলেন, একটি ধর্মের অনুসারীদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের লঙ্ঘন।

এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মেরিল্যান্ডের ফেডারেল আদালত যে রায় দিয়েছিল তার বিরুদ্ধে ‘ফোর্থ সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলস’-এ আপিল করেছিলেন।

মেরিল্যান্ডের ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন এবং ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার নির্বাহী আদেশে ইরান ছাড়া আর যে ছয়টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল সে দেশগুলো হচ্ছে- ইরাক, সুদান, সিরিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তৃতীয় ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কারাখানা নির্মাণ ইরানের 

366

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ মে : শত্রু দেশের যে কোনও ধরণের হুমকি মোকাবেলায় ইসলামি প্রজতান্ত্র ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানালেন, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বাড়ানোর ধারা অব্যাহত রাখবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার দেশ তৃতীয় ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা নির্মাণ করেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেজফুল শহরে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র বিমান শাখার এই কমান্ডার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রাডার এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ সামগ্রীসহ প্রতিরক্ষা খাতে ইরানের অভূতপূর্ব সাফল্যের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।  ক্ষেপণাস্ত্র খাতে ইরান কার্যকরী শক্তি অর্জন করায় তেহরান যাতে এই ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রযুক্তি অর্জন করতে না পারে সেজন্য শত্রুরা এখন উঠে পড়ে লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করার সব ধরনের প্রাথমিক সামগ্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।  আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণসহ এগুলোর পরীক্ষা এবং প্রদর্শনীতে আমেরিকা এবং ইজরায়েল উদ্বিগ্ন এবং ভীত হবে এটাই স্বাভাবিক।  কারণ এসব বলদর্পী শক্তি সব সময় ইরানকে দুর্বল করে রাখতে চায়। আর সেই জন্যেও ইরান আগামিদিনে আরও শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সৌদি আরবে আল জাজিরা নিষিদ্ধ 

4

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ মে : সৌদি আরবে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরাসহ বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আঞ্চলিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আলে সানির কিছু বক্তব্যের পর সৌদি আরব এ ব্যবস্থা নিল।

বৃহস্পতিবার সৌদি সংবাদ মাধ্যম আল রিয়াদ জানায়, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থাকে সমর্থন করায় আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান ওয়েবসাইটসহ ২১টি ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এছাডা মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওয়েবসাইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

মিশরের দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বুধবার থেকে সৌদি আরব যেসব চ্যানেল এবং পত্রিকার ওয়েবসাইট ও টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো হলো- কাতার নিউজ এজেন্সি, আল জাজিরা ডকুমেন্টারি চ্যানেল, আল জাজিরা ইংলিশ নিউজ চ্যানেল, আরবি ভাষার পত্রিকা আল-ওয়াতান, আধা সরকারি পত্রিকা আল-রাইয়া, আল-আরব এবং সরকারপন্থি আশ-শার্ক পত্রিকা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে গ্যাস-সমৃদ্ধ কাতার। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারি গণমাধ্যম বন্ধের এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ইরানকে ‘ইসলামি শক্তি’ এবং ফিলিস্তিনের হামাসের আন্দোলনের প্রশংসা করে সংগঠনটিকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ প্রতিনিধি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চীনের বিতর্কিত দ্বীপের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 

38

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৫ মে : মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নির্মিত একটি কৃত্রিম দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে চলাচল করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবীর ওপর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লো যুক্তরাষ্ট্র।

অজ্ঞাতনামা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ডিউয়ি মিসচিফ রিফের মাত্র ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটাই দাবী করে চীন, এর মধ্যে কিছু কোরাল রিফ এবং দ্বীপ অন্যান্য দেশও দাবী করে।

যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অভিযান চালাতে পারে।

যদিও তারা বলছে, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে কোন পক্ষাবলম্বন তারা করে না, কিন্তু অতীতে বিতর্কিত দ্বীপের কাছে তারা সামরিক জাহাজ এবং বিমান পাঠিয়েছে, যাকে তারা বলছে গুরুত্বপূর্ণ নৌ এবং বিমান চলাচলের পথ রক্ষায় “চলাচলের স্বাধীনতা” অভিযান।

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বেইজিং চলাচলের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে দাবী করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তারা বারবার এর সমালোচনা করে আসছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি এবং তাতে কিছু সামরিক স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে ঐ অঞ্চলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে দক্ষিণ চীন সাগরকে ‘সামরিকীকরণ’ করার অভিযোগ তুলছে।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই অঞ্চলটি একটি গুরুতর বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বর্তমান চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এমন এক সময়ে এটি করা হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাইছে। -বিবিসি বাংলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কে এই সালমান রাবাদান 

376

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৫ মে : যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের পপ কনসার্টে আত্মঘাতী হামলায় অভিযুক্ত সালমান রামাদান আবেদি। নামটি এখন পুরো বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খোঁজ করা হচ্ছে, আসলে কে এই সালমান, কিভাবে এতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠলো সে!

সালমানের বয়স ২২ বছর। লিবীয় বাবা-মায়ের সন্তান। পরিচিতরা বলছে, সালমান বরাবরই ‘শান্ত-শিষ্ট’ ছিল। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, পুলিশের খাতায় কখনো নাম ওঠেনি তার। কিন্তু, সালমানের বাবা আবু ইসমাইল যে মসজিদে আজান দিতেন, ম্যানচেস্টারের সেই মসজিদের ইমামের দাবি; সালমান রামাদান আবেদি ছিল এক ‘বিপজ্জনক উগ্রপন্থী’।

২২ জন নিহত হয়েছেন ম্যানচেস্টার হামলায়। আহত হয়েছে অন্তত ৫৯ জন। পরে জানা যায়, আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে সালমান রামাদান আবেদি। ব্রিটিশ পুলিশ এখনই হামলাকারীর নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছিল না। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সালমানের নাম জানিয়ে দেওয়ার পর ব্রিটেন বিষয়টি প্রকাশ করে। তাতেই আরও চমকে গেছে দক্ষিণ ম্যানচেস্টারের লিবীয় কলোনি। ব্রিটেন প্রশাসন বলছে, সালমান আবেদি সন্ত্রাসবাদী।

‘শান্ত-লাজুক’ ছেলেটা এত বড় ‘গণহত্যা’ ঘটিয়ে ফেলল? হতবাক সালমানের স্বজন, পরিচিতরা।

১৯৯৪ সালের শেষ দিনে লন্ডনে জন্ম সালমান রামাদান আবেদির। তার বাবা ও মা লিবীয়। মুয়াম্মার গাদ্দাফির স্বৈরশাসন এড়াতে দেশে ছেড়ে ব্রিটেনে পাড়ি জমান অনেক আগেই। প্রথম কয়েক বছর তারা লন্ডনে ছিলেন। পরে চলে যান ম্যানচেস্টার। জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক সালমান ম্যানচেস্টারের স্কুলেই পড়েছে। পরে সালফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। তবে, উচ্চশিক্ষা মাঝপথেই থেমে যায়। বেকারিতে কাজ নেয় সালমান। কিছু দিন আগে সালমানের বাবা লিবিয়ায় ফিরে গেছেন। পরিবারের বাকিরা ম্যানচেস্টারেই রয়েছে বলে জানা গেছে।

ম্যানচেস্টারের পুলিশ জানাচ্ছে, সালমান রামাদান আবেদিকে নিরাপত্তা বিভাগ চিনত। দক্ষিণ ম্যানচেস্টারের যে অঞ্চলে লিবীয়দের বাস, সেখানে কট্টরবাদীদের প্রভাব বাড়ছে বলে খবর ছিল পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে। পুরো লিবীয় কলোনিতেই তাই নজর ছিল পুলিশের। সেই সূত্রেই পুলিশ চিনত সালমানকেও। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছিল না। কোনো অভিযোগও ছিল না। কোনো গোয়েন্দা রিপোর্টে ওই লিবীয় বংশোদ্ভূত তরুণকে কখনো ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। কিন্তু সেই সালমানই বিস্ফোরণটা ঘটিয়েছে। ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী হামলার দায় নিয়েছে আইএস। কিন্তু, হামলাকারী সালমানের সঙ্গে সত্যিই আইএসের কোনো যোগ ছিল কি না, ব্রিটিশ তদন্তকারীরা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন।

সোমবার রাতে আত্মঘাতী হানা হয় ম্যানচেস্টারে। পুলিশ সরকারিভাবে হামলাকারীর নাম প্রকাশ করার আগেই শোনা যাচ্ছিল লিবীয়দের মধ্যে কেউ হামলাটি চালিয়েছে। তাতেই চমকে যায় ম্যানচেস্টারে বসবাসকারী লিবীয়রা। তাদের মধ্যে একজনই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অনেকেই। কে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে? জল্পনা শুরু হয়েছিল। ২০১১ সালে লিবিয়ায় যখন গৃহযুদ্ধ চলছিল, তখন অনেক লিবীয় ব্রিটেন ছেড়ে দেশে গিয়েছিলেন সে যুদ্ধে যোগ দিতে। তারা ফের ব্রিটেনে ফিরেছিলেন আতঙ্ক আর পশ্চিমা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে এক রাশ ঘৃণা সঙ্গে নিয়ে। তাদের কেউই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, প্রথমে ভেবেছিলেন ম্যানচেস্টারের লিবীয়রা। কিন্তু, পুলিশ সালমান রামাদান আবেদির নাম প্রকাশ করার পর লিবীয় কলোনিতে বিস্ময়ের সীমা ছিল না। তার প্রতিবেশীরা বলছে, ‘কোনো ধরনের কট্টরবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল না সালমান আবেদি।’

বিস্মিত নন একমাত্র ডিডসবেরি মসজিদের ইমাম মহম্মদ সইদ এল সাইতি। ম্যানচেস্টারের এই ডিডসবেরি মসজিদেই আজান দিতেন সালমনের বাবা আবু ইসমাইল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মসজিদের ইমাম জানিয়েছেন, সালমান এক বিপজ্জনক উগ্রপন্থী ছিল।

তিনি জানিয়েছেন, একবার আইএসের সম্পর্কে স্থানীয় মানুষকে সতর্ক করে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। ভাষণ শেষ হওয়ার পর সালমান তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিল। ইমামের কথায়, ‘সালমানের মুখে আমি ঘৃণার ছায়াটা দেখেছিলাম।’ আইএসের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কার্যকলাপ ও কট্টরবাদকে সালমান যে সমর্থন করত, ওই তরুণের কথা-বার্তাতেই তা তিনি টের পেয়েছিলেন বলে সাইতির দাবি। সালমন তাকে পছন্দ করত না বলেও সাইতি দাবি করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর