২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:১১, শুক্রবার

মিয়ানমারকে সমরাস্ত্র দিতে আগ্রহী ভারত

মিয়ানমারকে সমরাস্ত্র দিতে আগ্রহী ভারত 

787

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারকে সমরাস্ত্র দিতে আগ্রহী ভারত। মিয়ানমারের নৌপ্রধানের নয়া দিল্লি সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা রোহিঙ্গাদের উপর দমন-পীড়নে সমালোচনার মুখে থাকা দেশটির প্রতি নয়া দিল্লির জোরাল সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিয়ানমার নৌবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ অ্যাডমিরাল তিন অং সান বুধবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দুই পক্ষের মধ্যে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় টহল নৌযান সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে একজন সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া চার দিনের এই সফরে মিয়ানমারের নৌপ্রধান মুম্বাইয়ে ভারতের নৌজাহাজ নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ভারতের ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার আমাদের পূর্বমুখী নীতির একটি স্তম্ভ এবং সম্পর্কের একটি বড় জায়গা প্রতিরক্ষা।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিয়ানমারের নৌবাহিনী সদস্যদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনার সিদ্ধান্ত দৃশ্যত এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবের বিপরীতে নিজেদের দাঁড়ানোর চেষ্টার অংশ।

এমন একটি সময়ে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যখন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচনা চলছে।

রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর পদক্ষেপ চেয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, বার্মার রাখাইন প্রদেশে চলমান সহিংসতা, এর কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট এবং সেখানে মানবাধিকার লংঘনের যেসব ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধানে না আসা পর্যন্ত বার্মিজ সেনাবাহিনীর সব শিক্ষা কোর্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

নয়া দিল্লি ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভারতের প্রতিবেশী নীতি বিশেষজ্ঞ কে ইওমে বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছে সে সময় উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের আনছে ভারত সরকার, এটা একটি বার্তা দিচ্ছে। বার্তাটি হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আছে।

গত মাসে রাখাইনে এই সংকট শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির পাশে দাঁড়ায় নয়া দিল্লি। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানায় তারা।
পরে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক মহল উচ্চকিত হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত।

এ বিষয়ে চীনও মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় মিয়ানমারের পদক্ষেপকে সমর্থন এবং রাখাইনে সহিংস হামলার প্রতিবাদ জানায় তারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আহ্বান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের 

96

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থকদের অব্যাহত সহিংতা ও নির্যাতনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

২০ সেপ্টেম্বর বুধবার সাধারণ পরিষদে শান্তিরক্ষী মিশন নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

ভাষণে মাইক পেন্স মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতা অবিলম্বের বন্ধ ও দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই সহিংসতা অব্যাহত থাকে তাহলে তা হিংসা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেবে এই অঞ্চলে। যা আগামী প্রজন্ম ও আমাদের সবার শান্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

মাইক পেন্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এই সংকটের ইতি টানতে দৃঢ় ও দ্রুত পদপেক্ষ নেয়া এবং রোহিঙ্গা মানুষের প্রয়োজনের সময় তাদের জন্য আশাবাদ নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ সামরিক বাহিনীর এক অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সংস্থাটি এই নামের উপযুক্ত নয়। কারণ এতে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অনেক দেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

কিউবা ও ভেনেজুয়েলাকে ইঙ্গিত করে পেন্স বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য ও কর্মপদ্ধতি সংস্কার করা উচিত।

চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনা করেছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য আনা ত্রাণ দিতে দিল না 

845

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর : অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য আনা ত্রাণ দিতে দেয় নি উগ্রবাদী বৌদ্ধরা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতওয়েতে।

ত্রাণভর্তি জাহাজের ওপর উগ্রবাদীদের হামলার কারণে ত্রাণ বিতরণ করতে পারে নি আন্তর্জাতিক রেডক্রস। অথচ ত্রাণের অপেক্ষায় ছিল হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান। বৌদ্ধ জঙ্গি আর সেনাবাহিনীর হামলায় সব হারানো এসব রোহিঙ্গার জন্য খুব বেশি প্রয়োজন ছিল কিছু ত্রাণ সাহায্যের।

মিয়ানমারের পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইটের সংবাদ অনুসারে, রেডক্রসের ওই জাহাজে ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী ছিল কিন্তু ৩০০ উগ্রবাদী বৌদ্ধ জাহাজটিকে ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়। উগ্রবাদীরা জাহাজটিকে সব ত্রাণসামগ্রী নামাতে বাধ্য করে কিন্তু জাহাজটিকে যেতে বাধা দেয়। তারা জাহাজের ওপর পাথর ও ককটেল ছোঁড়ে এবং এতে জাহাজের কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন।এ সময় ঘটনাস্থলে দাঙ্গাপুলিশ ছিল।

রেডক্রসের এশিয়া অঞ্চলের মুখপাত্র গ্রাজিলা লিতি পিকোলি এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, রেডক্রসের কোনো কর্মী আহত হন নি। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠানো অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। -পার্সটুডে

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে: ম্যাক্রোঁ 

882

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে সহিংসতা ও নিপীড়ন চলছে, তাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

এই গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট  সমাধান করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএমসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের যেন নিন্দা জানায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, সে জন্য পরিষদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন অভিযান বন্ধ করতে নিরাপত্তা পরিষদ যেন হস্তক্ষেপ করে তার জন্য একটি পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্স পরিকল্পনা করছে বলেও জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, অবশ্যই রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে। মানবিক ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে এবং যে জাতিগত নিধন চলছে তা বন্ধ করে আইনের শাসন ফেরাতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাম রহিমের মতোই যৌনতায় আসক্ত ভণ্ডবাবা ফলহারি মহারাজ! 

589

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : রাম রহিমের মতোই যৌনতায় আসক্ত এই ভণ্ডবাবা। তিনি যৌন লালসা চরিতার্থ করতে নিজের ভক্তের কন্যাকেই বেছে নিয়েছিলেন।
আর তার জেরেই বিপত্তি।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে ভারতের রাজস্থানের ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নামে। রাজস্থানের এই বাবার নাম কৌশলেন্দ্র প্রপণাচার্য ফলহারি মহারাজ। আলোয়ারে তার আশ্রম।

নিগৃহীতা তরুণীর বাড়িতে যাতায়াত ছিল বাবার। যেহেতু তরুণীর বাড়ির সদস্যরা ফলহারি মহারাজের শিষ্য ছিল। আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন তরুণী। পড়া শেষ পওয়ার পর একটি সংস্থায় চাকরির সুযোগ মেলে। সে কারণেই গুরুর আশ্রমে গিয়েছিলেন তিনি। কিছু অনুদান দেওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। তরুণীর অভিযোগ, সে সময়ই তাকে বসিয়ে রাখা হয়।

তারপর তাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে যৌন নিগ্রহ শুরু করে বাবা। এমনকী তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এরপরই বাড়ি ফিরে ভণ্ড বাবার কুকীর্তির কথা জানান তিনি। অভিযোগ দায়ের করা হয় পুলিশেও। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের গতিবিধি আগেভাগেই আঁচ করে সাবধান হয়ে গিয়েছে বাবা।

আলোয়ারে তার আশ্রমে হানা দিয়ে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি হাসপাতালে ভর্তি আছে ফলহারি মহারাজ। যদিও ডাক্তারের অনুমতি নিয়েই বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করে দিল ভারত 

887

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমরা যাতে সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় সরকার।

বুধবারের ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আনাদলু এজেন্সি।

খবরে জানানো হয়, সামুদ্রিক সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বিমান চালু করা হয়েছে।

এক  ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারত টুডে জানায়, রোহিঙ্গাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি বলে মনে করছে ভারত সরকার।

ভারত সরকারের দাবি, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা আইএসআই কিংবা আইএসআইএস এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। যারা ভারতে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার মতো গণহত্যা চলছে মিয়ানমারে 

935

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি বলেছেন, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা ও ১৯৯৫ সালে বসনিয়ায় যে গণহত্যা হয়েছে, তার সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের খুবই মিল রয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে বুহারি এই মন্তব্য করেন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনাচৌকিতে একযোগে হামলা হয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ বা আরসা) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এর পর থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হিসাবে ৪০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

এই সহিংসতার মধ্যে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে চার লাখ ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। এ ছাড়া পালিয়ে আসার সময় নাফ নদে ডুবে মারা গেছে শতাধিক রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে বুহারি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিষয়ে (মিয়ানমারে গণহত্যা) নীরব থাকতে পারে না এবং তাদের অবশ্যই  জাতিগত পরিচয় ও ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বর্বরোচিতভাবে জনমানবশূন্য করে ফেলার ফলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের ঘটনার নিন্দা জানাতে হবে।’

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চলমান জাতিগত নির্মূলকরণ বন্ধের আদেশ বা বন্ধ করতে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘের মহাসচিব মিয়ানমার সরকারকে যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধান চান ট্রাম্প 

635

নিউইয়র্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘বলিষ্ঠ ও দ্রুত’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রেসিডেন্টের এ আহ্বানের কথা জানান।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মাইন পেন্স জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দ্রুত সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। চলমান সংকট সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদি কূটনৈতিক সহায়তার কথাও জানান তিনি।

মাইক পেন্স বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এবং তাদের সহায়তায় ‘বলিষ্ঠ ও দ্রুত’ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বলেছি।”

মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক প্রস্থান’ ও হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য এ ঘটনা ‘মহান ট্রাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন পেন্স।

এর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে সৃষ্ট সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কথা বলেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে সহস্রাধিক প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সহায়তায় প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার (২৬২ কোটি ৩ লাখ টাকা) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্থানীয় আশ্রয়দানকারী ও যারা রাখাইন রাজ্যে অভ্যন্তরীণভাবে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে তারা এই সহায়তা পাবে বলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার একথা জানানো হয়েছে।  নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৭২তম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র এই সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। -এনটিভি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত’ 

088

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন। খবর বিবিসির।

দেশটির রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন থেকে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

যদিও মিয়ানমার সরকার অভিযোগ করে বলছে ‘রোহিঙ্গা জঙ্গিরা’ই এমন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

হুসেইন বলছেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা চরমপন্থীর কার্যক্রমের উদাহরণ একটা অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এর আগে জাতিসংঘে এক ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেবার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাতিসংঘে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট 

04

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তার দেশের বিরুদ্ধে “অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিদ্বেষমূলক” বক্তব্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অজ্ঞতাপূর্ণ, কুৎসিত ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন যা ছিল মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে পরিপূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য   জাতিসংঘের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এর আগে, মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীল কার্যক্রম’র জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন। তিনি আরো বলেছেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো সম্প্রতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও অর্থায়ন বন্ধের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান তার বিপরীতে রয়েছে।”

ট্রাম্প তার বক্তৃতায় ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া ২০১৫ সালের পরমাণবিক চুক্তিকে আমেরিকার জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি একে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলেও মন্তব্য করেন।

জবাবে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা বা জিসিপিওএ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার প্রতি সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি আরো বলেছেন, জেসিপিওএ বাতিলের বিষয়ে ইরান কখনো প্রথম দেশ হবে না।

বক্তৃতায় রুহানি তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেন যে, ইরানের সামরিক শক্তি কেবল নিজের প্রতিরক্ষার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হবে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, তারা নিজেকে শান্তিপ্রিয় দেশ বলে দাবি করছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রুহানি বলেন, ইরান চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইরান নিরাপদ ও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য দেখতে চায় এবং সন্ত্রাসবাদ অবসানের জন্য অন্যদের সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। -পার্সটুডে

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিয়ানমারকে অবশ্যই সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব 

087

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তার ভাষণে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ মেনে চলার যে অঙ্গীকার করেছেন সেটার তিনি নোট রেখেছেন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

গুতেরেস আরো বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলছি, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য অনুমতি দিতে হবে।’

রাখাইন রাজ্য থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

গুতেরেসের বক্তৃতার কয়েক ঘণ্টা আগেই সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এতে তিনি বলেন, হামলার জবাবে পরিচালিত সেনাবাহিনীর অভিযান গত ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

সাধারণ অধিবেশনে যোগদানকারী বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গোষ্ঠীগত উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার আমরা উদ্বিগ্ন।’
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, সহিংসতা বন্ধ এবং এ বিষয় কথা বলার সু চির এটাই শেষ সুযোগ।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভন থিও জাতিসংঘে কথা বলবেন। সু চি বিশ্বনেতাদের এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাপানকে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে: ইরান 

77

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ভয়াবহ দমন অভিযান বন্ধ করতে সেদেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিউ ইয়র্ক সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর জাপানের মতো দেশগুলোর চাপ প্রয়োগ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলমান দুর্দশা লাঘবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ পাঠানোরও আহ্বান জানান।

শিনজো অ্যাবের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট রুহানি তার দেশের পরমাণু সমঝোতাকে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশকে স্বেচ্ছাচারীভাবে এই সমঝোতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা তার আটটি প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। এরপরও এই সমঝোতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অর্থ থাকতে পারে না।

২০১৫ সালের জুলাই মাসে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরকারী ছয়টি দেশের অন্যতম ছিল আমেরিকা। কিন্তু সেই দেশের সরকার এই সমঝোতা মেনে চলছে না এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি বাতিলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তেহরানের সঙ্গে টোকিওর সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি পরমাণু সমঝোতার প্রতি জাপানের পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সব পক্ষকে এই আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলতে হবে। শিনজো অ্যাবে অদূর ভবিষতে ইরান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। -পার্সটুডে

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মেক্সিকোতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২৪৮ 

442

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : সাত মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে রীতিমত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু ভবন, যার মধ্যে রয়েছে একটি স্কুল যেখানে আটকা পড়েছে অনেক শিশু।

এতে এখন পর্যন্ত ২৪৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে যখন মেক্সিকো কেঁপে উঠলো তখন দেশটির মানুষ আসলে অংশ নিচ্ছিলো ভূমিকম্পের মহড়ায়।

আবার ৩২ বছর আগে এ দিনেই এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিলো মেক্সিকো।

যদিও দেশটি একটি ভূমিকম্প প্রবণ একটি এলাকায় আর এ মাসের শুরুতেই দেশটির দক্ষিণে ৮ মাত্রার এক ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিলো ৯০ জন।

তবে এবার কেন্দ্রস্থলে সাত মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ব্যাপক হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য মতে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানী মেক্সিকো সিটির চেয়ে মাত্র ৭৫ মাইল দূরে।

শুধু মেক্সিকো সিটিতেই এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৯।

ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী এখন বিদ্যুৎ হীন ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রাজধানীকে একটি স্কুল থেকেই আটটি শিশু আর এক শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধার কর্মীরা।

মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং প্রায় বিশ লাখ মানুষ সেখানে বাস করে।

ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সাথে সাথেই বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসে কিন্তু তারপরেও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে অনেকেই।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাতিসংঘে মিয়ানমারকে চীনের সমর্থন 

7356

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারে অব্যাহত বর্বর নির্যাতন আর গণহত্যার পরও দেশটির সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে চীন। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বৈঠকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

গুতেরেসকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুরক্ষায় মিয়ানমার সরকারের নেয়া উদ্যোগ চীন বুঝতে পারছে এবং তা সমর্থন করছে। আশা করি আগুন নিয়ে এ খেলা দ্রুতই শেষ হবে।’

তাদের বৈঠকের বিষয়ে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের প্রতি চীন সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তাদের জন্য ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে আলোচনা ও সাংবিধানিক উপায়ে এ সংকট সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছে চীন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীন নিজস্ব উপায়ে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতেও আগ্রহী।

উল্লেখ্য, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উত্তর কোরিয়াকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের 

822

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘে দেওয়া প্রথমবারের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিলেন উত্তর কোরিয়া ও ইরানকে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। আর ইরানের ‘ভয়াবহ পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিতে’ বাধা দিতে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়েছেন। খবর এএফপির

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হুঁশিয়ার করে করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনকে ‘লৌহ মানব’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর দেশকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শক্তি ও ধৈর্য আছে। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের বা মিত্রদের রক্ষা করতে বাধ্য হই, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’

ট্রাম্পের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু কোরীয় নেতার উদ্দেশে ট্রাম্পের আরও হুমকি, ‘রকেট ম্যান নিজেকে এবং নিজের দেশকে আত্মঘাতী অভিযানের দিকে পরিচালিত করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম। তবে আশা করি এর প্রয়োজন হবে না।’

২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বের ছয় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষে ইরানের ধ্বংসাত্মক ভূমিকার লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন খুনে শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দিতে পারি না, যখন তারা ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যায়।…সত্যি বলতে কি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লজ্জার।’ ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করুন। এখন পুরো বিশ্বের আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময়। ইরানকে তাদের ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করতে হবে।’

ট্রাম্পের আজকের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত আমেরিকা থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময়ে এ সমঝোতা থেকে বের হয়ে আসবেন বলে একাধিকবার ঘোষণাও করেছিলেন ট্রাম্প।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর