২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ৯:৫৫, সোমবার

দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো মুগাবেকে

দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো মুগাবেকে 

3255

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ নভেম্বর : জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন-প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (জানু-পিএফ)।

দলের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে রবিবার বিবিসির এ খবর জানিয়েছে।

বিবিসি খবরে বলা হয়, রোববার জনগণের বিক্ষোভের মুখে রবার্ট মুগাবেকে জানু-পিএফের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দলীয় প্রধানের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘তাকে (মুগাবে) বরখাস্ত করা হয়েছে। নানগাওয়া এখন আমাদের নতুন নেতা।’

১৯৮০ সালে স্বাধীনতার পর থেকে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতায় রয়েছেন ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে।

জানু-পিএফ পার্টির উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে গত বুধবার সেনাবাহিনী জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানায়। এরপরই ৯৩ বছরের মুগাবেকে হারারেতে তার বিলাসবহুল ভবন ‘ব্লু রুফ’ এ গৃহবন্দি করে রাখার খবর আসে। গত শুক্রবার মুগাবে একটি বিশ্বিবিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দেন।

শনিবার রাজধানী হারারেতে হাজার হাজার লোক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে যুগের শেষ হওয়ায় উৎসবে মাতে। পাশাপাশি ‘সেনা অভ্যুত্থানের’ প্রশংসাও করে তারা। এ সময় প্রেসিডেন্ট মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয় দেশবাসী।
এ প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী ও দল থেকে মুগাবেকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া দেননি সাবেক এই গেরিলা নেতা।পরে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার জানু-পিএফ পার্টির বিশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকেই মুগাবেকে সরিয়ে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়াকে দলীয় প্রধান করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আনাতোলিয়ায় ইরান-তুরস্ক-রুশ মন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক 

323

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ নভেম্বর : সিরিয়া ইস্যুতে জেনেভা সম্মেলনের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জরিফ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তুরস্কের উপকূলীয় শহর আনাতোলিয়ায় রোববার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল গঠন ও দেশটির বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক সংলাপের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন তিন মন্ত্রী।

বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদের বীজ বপনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। তিনি বলেন, যদি তারা যুদ্ধকামী নীতি বাদ দেয় তাহলে তারাও আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে।

এর আগে এক টুইটার বার্তা জারিফ বলেছেন, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ইয়েমেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, একদিকে সৌদি আরব ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল করার জন্য দোষারোপ করছে অন্যদিকে সে নিজেই সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে, ইয়েমেনে যুদ্ধ করছে, কাতারের ওপর অবরোধ দিয়ে এবং লেবাননে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির জন্য হস্তক্ষেপ করছে।

আগামী বুধবার রাশিয়ার সোচি শহরে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। এর আগে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তুরস্কে বৈঠকে বসলেন। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে শনিবার তিন দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে তেহরানে।

সিরিয়া ইস্যুতে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার অবস্থান ও নীতি কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বৈঠকে বসবেন।

এ তিন দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় সাত দফা বৈঠক হয়েছে এবং সেসব বৈঠক থেকে সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে যার ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত আরব দেশটিতে সহিংসতা ব্যাপকমাত্রায় কমে গেছে।-পার্সটুডে

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আর্জেন্টিনার ‘নিখোঁজ সাবমেরিন থেকে’ মিলেছে সংকেত 

415

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর : আর্জেন্টিনার নৌবহরে থাকা তিনটি সাবমেরিনের মধ্যে এআরএ সান হুয়ানই সবচেয়ে নতুন— ইপিএ

আটলান্টিক মহাসাগরে ৪৪ জন ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনার সাবমেরিন থেকে ‘সংকেত’ পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আর্জেন্টিনার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার তারা সাতটি ‘ফেইলড স্যাটেলাইট কল’ পেয়েছেন এবং সেগুলো নিখোঁজ সাবমেরিতে থেকে এসেছে বলে তারা ধারণা করছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছেন তারা।

নাসার গবেষণা বিমান সঙ্গে নিয়ে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ এআরএ সান হুয়ান নামের সাবমেরিনটিকে খুঁজে বের করতে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আর্জেন্টিনার উপকূলের ৪৩০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে শেষবারের মতো সাবমেরিনটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই ডিজেল-বিদ্যুৎ চালিত সাবমেরিনটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক সার্চ মিশন। তবে ঝড়ো বাতাস ও প্রায় ২০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের কারণে সে প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার নৌবহরে থাকা তিনটি সাবমেরিনের মধ্যে এআরএ সান হুয়ানই সবচেয়ে নতুন। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দক্ষিণে উসুইয়া নামে একটি সমুদ্রঘাঁটিতে নিয়মিত টহল শেষে ফেরার পথেেই নিখোঁজ হয় সাবমেরিনটি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বন্দিদশা থেকে ফিরে প্রকাশ্যে বক্তৃতা রবার্ট মুগাবের 

0231

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : বন্দিদশা থেকে জনসমক্ষে এলেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দুই দিন পর শুক্রবার প্রকাশ্যে এসে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন তিনি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নীল-হলুদ গাউন আর হ্যাট পরে শুক্রবার জিম্বাবুয়ে ওপেন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে যোগ দেন মুগাবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আচার্য। উপস্থিত সবাই একযোগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর পর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুগাবে।

তবে এ অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী গ্রেস মুগাবে বা শিক্ষামন্ত্রী জনাথন মোয়োকে দেখা যায়নি।

মুগাবের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার রাতে জিম্বাবুয়ের সৈন্যরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন জেডবিসির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

পরদিন ওই টেলিভিশনেই এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সিবুসিসো মোয়ো বলেন, সরকারের কর্তৃত্ব নেয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে ঘিরে থাকা ‘অপরাধীদের দলকে’ লক্ষ্য করেই তাদের এ অভিযান।

কিন্তু তারপরই মুগাবেকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে খবর আসে। সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এসএডিসি) মুগাবে ও সেনাবাহিনীর মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সেনাবাহিনী মুগাবেকে পদত্যাগের চাপ দিলেও তাতে তিনি রাজি হননি। নিজেকে এখনো তিনি জিম্বাবুয়ের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলেই দাবি করছেন।

মুগাবের স্ত্রী গ্রেস নামিবিয়ায় পালিয়ে গেছেন বলে কোনো কোনো গণমাধ্যমে খবর দেওয়া হলেও নামিবিয়া সরকার তা অস্বীকার করে।

এসএডিসির মধ্যস্থতায় সমঝোতা না হওয়ায় মুগাবের দল জানু-পিএফ এর একজন মুখপাত্র শুক্রবার জানান, তারাও আর প্রেসিডেন্ট পদে মুগাবেকে চান না।

আর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই জনগণকে এর ফলাফল জানানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে তারা।

এর কয়েক ঘণ্টা পর গৃহবন্দি দশা থেকে বেরিয়ে এসে সমাবর্তনে যোগ দেন মুগাবে।

প্রেসিডেন্ট মুগাবে গত সপ্তাহে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করার পর থেকে রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত। এত দিন নানগাগওয়াকেই মুগাবের উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু মুগাবে সম্প্রতি তার স্ত্রী ৫২ বছর বয়সী গ্রেস মুগাবেকে উত্তরসূরি করার পরিকল্পনা করেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বরখাস্ত করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নানগাগওয়াকে।

৭৫ বছর বয়সী নানগাগওয়া দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে বেশ জনপ্রিয়। মুগাবের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় সেনাবাহিনী। আর এ কারণেই প্রেসিডেন্ট পদে নানগাগওয়াকে বসাতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। আরও বরখাস্ত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যাওয়া নানগাগওয়া পরদিন বুধবার দেশে ফেরেন। এরপর শুরু হয় মুগাবের সঙ্গে আলোচনা।

যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা পাবার পর থেকে, ১৯৮০ সাল থেকে বেশির ভাগ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন মুগাবে। তবে, মুগাবেকে গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ এখনো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাবুলে জমিয়াতে ইসলামীর বৈঠকে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৮ 

254

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : কাবুলের লাব-এ-জার স্কোয়ার এলাকায় জমিয়াতে ইসলামির এক বৈঠকে গাড়িবোমা হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে এক রেস্টুরেন্টের বাইরে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ট্রেন্ড।

এ ব্যাপারে নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, খায়র খানা নামক একটি রেস্টুরেন্টে আট পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়।   নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। সেখানে কয়েকজন জমিয়াতে ইসলামি দলের নেতাকর্মী এক বৈঠকে জড়ো হয়েছিলেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিনটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়  এবং পার্শ্ববর্তী কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রসঙ্গত, জমিয়তে ইসলামী আফগানিস্তানের প্রভাবশালী ইসলামী রাজনৈতিক দল। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির হাত ধরে ১৯৬৮ সাল থেকে এ দলটির যাত্রা। রাশিয়ান ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত আছে মুজাহিদিন এ দলটির।

এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, জুন মাসে কাবুলে এক জানাযায় তিনটি বিস্ফোরণে কম পক্ষে জমিয়তের সাত জন নিহত হয়েছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন ১১৯ জন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস 

377-copy

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে ভোটাভুটির পর এ প্রস্তাব পাস হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিউইয়র্ক থেকে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩৫টি রাষ্ট্র।

বিপক্ষে পড়েছে ১০টি ভোট। কিছু দেশ অনুপস্থিত ও ভোটদানে বিরত ছিল। চীন, রাশিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামসহ ১০টি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এছাড়া ভারত ও জাপান ভোটদানে বিরত ছিল।

অনুপস্থিত ছিল ইরান। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর সহিংসতা বন্ধ ও মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পুনর্বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের ‘পূর্ণ নাগরিকত্ব’ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত ও রোহিঙ্গাদের ওপর যারা অত্যাচার-নিপীড়ন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্যও দেশটির সরকারকে বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ৩১ অক্টোবর কমিটিতে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শিরোনামে ওআইসি এ খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এর কো-স্পনসর ছিল ৯৭টি দেশ।

২ সপ্তাহের মাথায় সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস করল। প্রায় ১৫ বছর ধরে এ কমিটি Èমিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ নিয়ে প্রতি বছর এ প্রস্তাব গ্রহণ করে।

প্রস্তাবটিতে বলা হয়, রাখাইনে সামরিক অভিযানের কারণে ‘পদ্ধতিগতভাবে’ রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ অভিযান বন্ধ করাসহ রোহিঙ্গা নিধনের জন্য দোষীদের বিচারের আওতায় আনতেও মিয়ানমার সরকারকে বলা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরত যেতে পারেন, রাখাইনে যেন জাতিসংঘসহ অন্যান্য সাহায্য সংস্থা কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে উলে্লখ করা হয়।

প্রস্তাবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসকে ‘মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত’ নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ সব ধরনের সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতাকে উত্সাহিত করা হয়েছে।

যারা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, যেসব সামরিক, সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার করেছে- তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদনে্তর আহ্বান জানানো হয়েছে এ প্রস্তাবটিতে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্যারিস যাচ্ছেন হারিরি 

3312

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : লেবাননের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ভেসো লি ড্রিয়াঁ বৃহস্পতিবার এ কথা জানান। এদিকে হারিরির পদত্যাগের পর বৈরুত রিয়াদের বিরুদ্ধে তাকে অপহরণের অভিযোগ এনেছে।

হারিরির অবস্থান নিয়ে চলমান ধোঁয়াশার মাঝেই এমন খবর এলো। জ্যঁ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (হারিরি) ফ্রান্সে আসছেন এবং সৌদি প্রিন্সকে তা অবহিত করা হয়েছে।’ গত বুধবার রাতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ সালমানের মধ্যে বৈঠককালে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। খবর এএফপির।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোনের সঙ্গে হারিরির বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্যঁ বলেন, ‘বিষয়টি হারিরির ওপরই নির্ভর করবে।’ লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন হারিরিকে ‘আটক’ করা হয়েছে বলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

তিনি বিদেশ থেকে পাঠানো তার পদত্যাগপত্র গ্রহণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হারিরি সৌদি আরবেরও নাগরিক। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের চাপে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া 

654

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া। কিং জং উনের দেশের অভিযোগ, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে অসম্মান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি মুখপত্রের এক প্রতিবেদনে কড়া ভাষায় এমনই বার্তা দিয়েছে কিম প্রশাসন।

সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ রডং সিনমুন নামে উত্তর কোরিয়ার শাসক দলের মুখপত্র। সম্প্রতি এশিয়া সফরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ায় দাঁড়িয়ে কিমের পরমাণু নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিমকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। এমনকী ট্রাম্প টুইটে লেখেন, ‘কিম আমাকে বুড়ো বলে অপমান করলেও আমি কখনোই তাঁকে মোটা এবং বেঁটে বলতে পারি না। ‘ এই শুনেই খেপেছেন কিম প্রশাসনের পদস্থ অফিসাররা।

কিমের শাসনকে সর্বোচ্চ সম্মান দেন উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা। তাই, কিমের বিরুদ্ধে কোনো কুরুচিকর মন্তব্য যে সেই দেশকে অপমান, তা ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়। দুই কোরিয়ার মধ্যে নো ম্যানস ল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য ওই সফর বাতিল করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, আবহাওয়াটা অজুহাত  সূত্র: জিনিউজ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্রিসে আকস্মিক বন্যায় ৭ জনের প্রাণহানি 

247

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর : গ্রিসের তিনটি শহরে রাতভর বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বুধবার অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছে।

মান্দ্রা, নেয়া পেরামোস ও মেগারা শহর এবং এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, যেখানে বহু পণ্যাগার। বাড়ির ভেতরে আটকা পড়া এক ব্যক্তি বলেন আমরা আটকা পড়েছি। আমাদের বেড়োনোর জন্য প্রযুক্তি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বন্যায় নিহতদের জন্য গভীর শোক জানিয়েছেন। এএফপি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিঙ্গাপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত ২৮ 

335

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর : সিঙ্গাপুরে একটি ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে মেট্রো সিস্টেমের ত্রুটি থাকায় সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

আজ বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

সিঙ্গাপুরের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আহত যাত্রীদের হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে।

পরিবহন কর্মকর্তারা জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জু কন স্টেশনে ভোরের ব্যস্ততম সময়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনকে অপর ট্রেন আঘাত করলে দু’টি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নিলো দেশটির সেনাবাহিনী 

04

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর : রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার পর অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর মধ্যে, রাজধানী হারারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জিম্বাবুয়ে ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (জেডবিসি) দখলে নিয়েছে তারা।

প্রেসিডেন্ট মুগাবের নেতৃত্বাধীন দল জানু-পিএফ সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্টাতিনো চিয়েংগা ও তার মিত্রদের হুঁশিয়ারি দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান নেয় সেনা সদস্যরা। জানা গেছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে জেডবিসি সদর দফতর দখলে নেওয়ার পর কর্মীদের কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ দেন সেনা সদস্যরা। এ সময় কয়েক জনকে হেনস্তা করা হয় বলে টেলিভিশনের কয়েকজন কর্মী সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন দখলে নেওয়ার পর এক লিখিত বিবৃতিতে দেশটির আপদকালীন নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সেনাবাহিনী জানায়, এটি ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের আশপাশে থাকা ‘চিহ্নিত অপরাধীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান। এটি সামরিক ক্যুয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট মুগাবে নিরাপদ আছেন বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। বিবিসি ও রয়টার্স।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৪ 

044

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর : ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় চারজন মারা গেছে। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরে অবস্থিত একটি গ্রামের স্কুলে এ ঘটনাটি ঘটে।

সেই সময় ছিল স্কুল শুরুর ব্যস্ততা। ভিড় পূর্ণ সেই সময়েই হামলা চালায় বন্দুকধারী।

জানা গেছে, যে স্কুলে আক্রমণ চালানো হয়েছে তার নাম রাঞ্চো তেহামা এলিমেন্টারি স্কুল। সকালের দিকে স্কুল শুরুর সময়ে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী এবং পড়ুয়াদের বেশ ভিড় ছিল স্কুল চত্বরে। সেই ভিড়ের মধ্যে প্রথমে ট্রাক নিয়ে হামলা চালায় আততায়ী। ট্রাকে পিষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হয় চারজনের।

এ ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তেহামা কাউন্টি অ্যাসিস্ট্যান্ট শেরিফ ফিল জনস্টন জানিয়েছেন, পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিক হামলার কারণ জানা যায়নি।

জনস্টন বলেন, ‘এ ঘটনার মাধ্যমে এটা খুবই স্পষ্ট যে, যেকেউ সহজেই কোনোকিছুকে তার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন’।

তিনি আরো বলেন, হামলাকারী গুলি চালাতে চালাতে স্কুল থেকে বের হয় এবং আশপাশের এলাকায়ও গুলি চালায়। হামলাকারী এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটি ভেঙে দিয়ে অপর একটি গাড়ি চুরি করে পালাতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

প্রাথমিক হামলাকারীর নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইরাক-ইরান ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩০ 

24

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর : ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি নগর ও জনপদে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে এখন পর্যন্ত ৫৩০ জন মারা গেছেন। রবিবারে আঘাত হানা ভূমিকম্পের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন এ সংখ্যা হাজারের ঘরে পৌঁছাতে পারে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ইরাকে হলেও মৃতের সংখ্যা ইরানেই বেশি দেখা যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল জানায়, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩০-এ এসে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়ছেন আরো ৭ হাজার জন। এখনো অনেক লোক নিখোঁজ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে উভয় দেশে সাত হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এ ছাড়া বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ঘরবাড়িগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র শীতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর আরও কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে। ফলে আরও আঘাত হানার আশঙ্কায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ রাস্তা ও আশপাশের পার্কে অবস্থান নিয়েছে। ভূমিকম্পটি যখন আঘাত হানে, তখন অনেক মানুষই রাতের খাবার খাচ্ছিল।

স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল এবং ইরানের অন্তত ১৪টি প্রদেশেও এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। এটি মাটির নিচে ২৩ দশমিক ২ কিলোমিটর গভীর পর্যন্ত আঘাত করে। ফলে ভূমিকম্পটি পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত, ইসরায়েল ও তুরস্কেও অনুভূত হয়।

ইরানের ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্র জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পটির পর তাঁরা ১১৮টি পরাঘাত (আফটার শক) রেকর্ড করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ইরান-ইরাকের সীমান্তবর্তী ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৩।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া প্রদেশের পেঞ্জভিনে। উৎপত্তিস্থলটি দুই দেশের প্রধান সীমান্তরেখার একেবারেই কাছে এবং কুর্দিস্তানের হালাবজা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ইউএসজিএস জানায়, উৎপত্তিস্থলের ১০০ কিলোমিটারের (৬০ মাইল) মধ্যে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে।

ভূমিকম্পটির কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে। শুধু এ প্রদেশে আহতের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। ইরানের একটি সাহায্য সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সৌদির যুদ্ধ এবার নিজের সঙ্গে 

344

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর : নিজের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের এ কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে একটি প্রক্সিযুদ্ধ চালিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশটি।

অন্যদিকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি রাজপরিবার নিজেদের মধ্যে প্রচণ্ড দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। এ দ্বন্দ্বে কে জয়ী হবে এই মুহূর্তে না বলা গেলেও এ সংঘাত রাষ্ট্র হিসেবে সৌদিকে অশান্ত করে তুলতে পারে। চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দেশটি ইতিমধ্যেই দুর্বল হতে শুরু করেছে।

বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে এ মুহূর্তে যা ঘটছে, তা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের একটি আদর্শ উদাহরণ। দেশটির বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তার সৎ ভাই সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহ আল-সৌদের মৃত্যুর পর ক্ষমতার মসনদে বসেন। তিনি ক্ষমতায় আসেন দেশটির সরল উত্তরাধিকার সূত্রেই। তবে এরপরই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব একটি জটিল রূপ নেয়।

উত্তরাধিকারের সহজ সমীকরণের বাইরে গিয়ে বাদশাহ সালমান নিজের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন। ফলে মাত্র ৩১ বছর বয়সী মোহাম্মদ অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হন। তবে পর্দার আড়ালের এ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নগ্নভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে চলতি বছরের ৪ নভেম্বর। এদিন বাদশাহ সালমান ও তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে রাজপরিবারের বহু প্রিন্স, সরকারের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে এ সময়ের মধ্যে দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বিশাল সংখ্যক এ গ্রেফতার পেছনের কারণটি খুব সরল। আর সেটা হচ্ছে- বাদশাহ সালমান তার ছেলে মোহাম্মদের সৌদির পরবর্তী বাদশাহ হওয়ার ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করছেন।

উত্তরাধিকার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সৌদির বিশেষ যে ঐতিহ্য ছিল আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে বাদশাহ সালমানই প্রথম কোনো ব্যক্তি, যিনি সেই ঐতিহ্য ভঙ্গ করেছেন। সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আল সৌদের ছেলেদের সর্বসম্মতিতেই সচরাচর উত্তরাধিকার বাছাই করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজপরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রায় সবাই মৃত। একই সঙ্গে রাজপরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রিন্সের সংখ্যা অনেক হওয়ায় দেশের পরবর্তী বাদশাহ কে হবেন, এটা বেছে নেয়া বেশ কঠিন। বাদশাহ সালমান এক্ষেত্রে নিজের ছেলেকেই বেছে নিয়েছেন। রাজপরিবারের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টনের ক্ষেত্রে অন্যান্য যে ঐতিহ্য ছিল তাও লঙ্ঘন করেছেন তিনি। নিজের ছেলেকে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করে তার হাতকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ এখন একাধারে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কৌশলগত অর্থনৈতিক কাউন্সিলের প্রধান, সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর পরিচালক এবং গত ৪ নভেম্বর গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটির প্রধান। আর বাদশাহ সালমান এর সবই করেছেন তার এক সৎ ভাই ও এক ভাইপোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে। তাদের উভয়ই ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন।

কিছু গুজব ছড়িয়েছে, বাদশাহ সালমান রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছেন, তা তার বিরুদ্ধেই করা এক ষড়যন্ত্রের জবাবে। এ ঘটনা সত্য কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে গুজব সত্য হোক বা গ্রেফতার অভিযান পূর্বপরিকল্পিতই হোক, ফলাফল একই। প্রাসাদে মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতার প্রতি এ মুহূর্তে হুমকি তেমন নেই বললেই চলে। মিতাব বিন আবদুল্লাহ নামে এক প্রিন্স প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর সমান্তরাল ন্যাশনাল গার্ড বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। মোহাম্মদ ও ওই প্রিন্স গত ৪ নভেম্বর পর্যন্তই সৌদির সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছিলেন। সে দিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় মিতাবের ভাই তুর্কি বিন আবদুল্লাহকেও। এসব ব্যক্তিবর্গকে গ্রেফতারে দুইটা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমত, মোহাম্মদ বিন সালমানের নিকট তাদের আনুগত্য নিশ্চিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সালমানপন্থী অংশের দুর্নীতি দমন অভিযানের পথ আরও সুবিন্যাস্ত করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইরান-ইরাকে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৩৮৭ 

474

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর : ইরান-ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৭ জন হয়েছে। সোমবারের এই ভূমিকম্পে ৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছে।

একটি ইরানি দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৭০ হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের বাসিন্দা, সেখানে আরো ৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। ইরাকে ৯ জন মানুষ নিহত হয়েছে, রাজধানী বাগদাদে ভূমিকম্পের পরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

মসজিদগুলো থেকে লাউডস্পিকারে দোয়া পাঠ করে শোনানো হয়। বাগদাদের বাসিন্দা মাজিদা আমির বলেন, আমি আমার তিন সন্তানকে নিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। হঠাৎ ভবনগুলো যেন নাচা শুরু করল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম বড় বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। কিন্তু এরপরই আমি শুনতে পাই, আমার আশেপাশে সবাই ভূমিকম্প বলে চিৎকার করছে। বিবিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর