২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ৯:৫১, সোমবার

সাংবাদিক উৎপলকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি

সাংবাদিক উৎপলকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি 

011

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর : ষোলো দিন ধরে নিখোঁজ সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেতে আকুতি জানালেন এক বাবা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।

সংবাদ সম্মেলনে চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ মানুষ। শিক্ষকতা করে জীবন চালিয়েছি। আমাদের কোনো শত্রু নেই। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা জটিলতা আমরা বুঝি না। আমরা আমাদের সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক উৎপলের বোন ববিতা রানী দাস ও  বিনীতা রানী দাস। ববিতা বলেন, ‘আমার ভাই প্রতিদিন একবার আমাকের কল দিয়ে জিজ্ঞেস করত দিদি কেমন আছিস। আজ কত দিন হলো, আমার সোনা ভাইটা আমাকে কল দেয় না। আমরা কী এমন ক্ষতি করেছি। উৎপলের জন্য আমার মা কিছু খায় না। কারো সঙ্গে কথা বলে না। জানি না এ মুহূর্তে আমার মা কী করছে। আমার কিছু চাই না, আমার ভাইটারে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৬ দিনেও প্রাণবন্ত, প্রাণচঞ্চল রিপোর্টার উৎপল দাস আমাদের মাঝে ফিরে আসেনি, যা শুধু উদ্বেগের বিষয় নয়; তাঁর স্নেহশীল বাবা-মায়ের জন্য ঘুম হারাম করা ভয়ের বিষয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এত দিন ধরে আমাদের সন্তানতুল্য সহজ-সরল উৎপল দাস। কোথায়, কেমন আছে? কী ঘটেছে তার জীবনে, কেন তার সন্ধান মিলছে না, আমরা বুঝতে পারছি না।’

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতি, এমনকি দেশবাসীর কাছে আমাদের আবেদন, যার যার জায়গা থেকে উৎপলকে ফিরিয়ে আনতে, তাঁর সন্ধানে তৎপর হোন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আজ একজন তরতাজা তরুণ সংবাদকর্মী এভাবে দিনদুপুরে নিখোঁজ হয়ে হারিয়ে যেতে পারেন না’, বলেন পীর হাবিব।

এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে যে আন্দোলন করছি, সে আন্দোলনের এজেন্ডায় উৎপল দাসের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। উৎপলকে যত দিন আমরা ফিরে না পাব, তত দিন মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করব।’

উৎপলের পরিবারের সঙ্গে আজ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দেখা করবেন বলে জানান শাবান মাহমুদ। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে পীর হাবিবেব কথা হয়েছে জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘তিনি (পুলিশ কমিশনার) পুরো বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। তিনি আন্তরিকভাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।’

পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজ নামে একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন উৎপল। গত ১০ অক্টোবর মতিঝিলের অফিস থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন।

এর মধ্যে গত সোমবার উৎপলের মোবাইল নম্বর নকল করে স্পুফিং কল করে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, উৎপল তাদের কাছে আটক আছে। এক লাখ টাকা দিলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।

চিত্তরঞ্জন দাস এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নিখোঁজের পর থেকেই তাঁর ছেলের ফোন বন্ধ ছিল। সোমবার হঠাৎ ওই নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ ধানমণ্ডি এলাকায় উৎপলের মোবাইল সচল ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, উৎপল দাসের ভাই মনোহর চন্দ্র দাস, পলাশ চন্দ্র দাস, শুভ দেব ভৌমিক প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাংবাদিককে মারধর: সার্জেন্ট প্রত্যাহার 

2214

ঢাকা, ১২ অক্টোবর : রাজধানীর মৎস ভবনের সামনে মানবজমিন পত্রিকার ফটো সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুস্তাইন নামের এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টায় মৎস ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ফটো সাংবাদিক নাসির উদ্দিন জানান, প্রেসক্লাব থেকে অফিসে যাওয়ার পথিমধ্যে মৎস ভবনের সামনে সিগন্যাল দেন সার্জেন্ট মুস্তাইন। পরে তিনি গাড়ীর কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান। পরে তাকে গাড়ীর কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাই। এদিকে আমার মাথায় হেলমেট না থাকার কারণে তিনি মামলা দিতে চান। আমি তাকে অনুরোধ করে জানাই, ৩/৪ দিন আগে আমার বাইক থেকে হেলমেট চুরি হয়ে গেছে। ২/১ দিনের মধ্যে আমি আরেকটা কিনে নিব। তাছাড়াও আপনাদের অনেকেই আমার পরিচিত। আর আমি প্রতিনিয়ত এই পথ দিয়েই চলাচল করি। প্লিজ মামলাটা দিয়েন না, এটা ঠিক হবে না।

এ কথা বলতেই, সার্জেন্ট মুস্তাইন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে, ঠিক বেঠিক তোরে জিগাইতে হইব না। আর গালাগালি করতে থাকে। পরে ক্যামেরা বের করতেই সার্জেন্ট গলায় ও বুকে ধরে মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক – দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম জানান, মারধরের ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় ওই সার্জেন্টকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি’র নিউজ পোর্টালে নিউজও করা হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিয়ানমারের দুই আলোকচিত্রীর জামিন 

1542

কক্সবাজার, ২৩ সেপ্টেম্বর : কক্সবাজার থেকে গ্রেফতারের ১০ দিন পর মিয়ানমারের দুই আলোকচিত্র সাংবাদিককে জামিন দিয়েছেন আদালত।

শনিবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার দেব তাদের জামিনের রায় দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,  আদালত তলব করলে হাজির হওয়ার শর্তে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উখিয়া সীমান্ত এলাকায় ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাফেরা করার সময় ওই দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মিনজাইয়ার উ ও হকুন লাট নামে মিয়ানমারের এই দুই নাগরিক জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক ‘জিও’ সাময়িকীতে কাজ করেন।

কক্সবাজারের এএসপি আফরুজুল হক টুটুল বলেন,  তারা সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন।  কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ছবি তুলছিলেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন ওই দুজন।

সীমান্তে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির ছবি সংগ্রহ করতে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলার প্রতিবেদন পিছিয়ে ১০ অক্টোবর 

5633

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর : কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল। আগামী ১০ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

আজ রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল হক তা দিতে না পারায় মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম ১০ অক্টোবর নতুন তারিখ ঠিক করে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফরহাদ মজহার ‘অপহৃত’ হয়েছেন বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। এরপর তার স্বজনরা আদাবর থানায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। টানা ১৮ ঘণ্টা ‘নিখোঁজ’ রহস্যের পর ওই দিন রাতেই ফরহাদ মজহারকে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাংবাদিকদের পরবর্তী কর্মসূচি ২২ আগস্ট 

4522

ঢাকা, ২০ আগস্ট : রেজিস্টার্ড সংগঠনের সাংবাদিক প্রতিনিধিদের নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি আগামী ২২ আগস্ট ঘোষণা করা হবে।

আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়, ২২ আগস্ট সকালে বিএফইউজে ও ডিইউজে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় সাংবাদিকদের রোববারের কর্মসূচি দুপুর সোয়া একটায় শেষ করা হয়।

সাংবাদিকদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অপসারণ দাবি করেন।

সাংবাদিকদের কর্মসূচি চলাকালে গুলিস্তান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নবম ওয়েজবোর্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার 

15725

ঢাকা, ১৮ আগস্ট : নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে চলমান আন্দোলন সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মী ও দেশবাসীকে সাংবাদিক সমাজের বক্তব্য জানানোর লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

বিএফইউজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিত এ কথা জানিয়ে বলা হয়, ২২ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, শিগগিরই নবম ওয়েজ বোর্ড 

154

ঢাকা, ১৩ আগস্ট : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, শিগগিরই নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হবে।

আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে শোকের দিবস স্মরণে বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্য অধিদপ্তরের সামনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইনু বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। ওয়েজ বোর্ড শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি যে কাজ রয়েছে, তা-ও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এ সময় বৈঠকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে গত ৯ আগস্ট একই কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি না থাকার কারণে সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তবে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের পথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের শতকরা ৮০ ভাগ কাজ এগিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তবে গত ৮ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নবম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচিত হন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে সাংবাদিকদের বেতন বেশি। এই যুক্তিতে সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজ বোর্ডের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের দাবি টোটালি রাবিশ, বোগাস বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে: ওবায়দুল কাদের 

2322

টাঙ্গাইল, ৯ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ডের কার্যক্রম ৮০ ভাগ এগিয়েছে। খুব দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন নবম ওয়েজবোর্ড আননেসেসারি তারা সরকারী কর্মচারীদের চেয়ে বেশি বেতন পান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজন নেই: অর্থমন্ত্রী 

54

ঢাকা, ৮ আগস্ট : সাংবাদিকদের বেতন সরকারি চাকরিজীবীদের চেয়েও বেশি; তাই তাদের কোনও ধরনের ওয়েজ বোর্ডের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়)। তাদের বেতন নির্ধারণ বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া উচিৎ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এসএ টিভির চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা 

8325

ঢাকা, ২০ জুলাই : মানহানি মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভির চেয়ারম্যান ফরিদা পারভীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালাহ উদ্দীন আহম্মেদ, ডিএমডি সেলিনা আক্তার, পরিচালক নূরে আলম রুবেল, শিরিন আক্তার ও সামছুর আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলি আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মানহানির মামলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির আসামিদের গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসএ টিভির সাবেক যশোর প্রতিনিধি অনুব্রত সাহা মিঠুনের দায়ের করা মামলার আসামি পরোয়ানা ব্যক্তিরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অনুব্রত সাহা মিঠুন গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রি চিঠির মাধ্যমে এসএ টিভি থেকে যথাযথভাবে অব্যাহতি নেন। এরপর ফিরিয়ে দেন পরিচয়পত্র, লোগোসহ যাবতীয় মালামাল।

এরপর গত ২৩ ডিসেম্বর এসএ টিভি কর্তৃপক্ষ একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করে। এ ঘটনায় অনুব্রত সাহা মিঠুন বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলি সদর আদালতে একটি মানহানি মামলা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এক সাক্ষীর জবানবন্দী, মাইক্রোর হদিস নেই 

93

ঢাকা : ফরহাদ মজহারকে অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির হদিস নেই। তিন দিনেও পুলিশ-গোয়েন্দারা ওই মাইক্রোবাসটি খুঁজে বের করতে পারেনি। এ দিকে অপহরণ মামলায় এক সাক্ষীর জবানবন্দী নিয়েছেন আদালত। এ দিকে কেন এবং কারা ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করেছে সে সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য মিলছে না।

গত ৩ জুলাই রাজধানীর আদাবর থানার রিং রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পরে অপহৃত হন কবি, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার। অপহরণকারীরা তাকে নিয়ে যায় খুলনায়। সেখানে র‌্যাব-পুলিশের প্রচেষ্টায় উদ্ধার হন ফরহাদ মজহার। পুলিশ-গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, অপহরণকারীরা চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে বসিয়ে ফরহাদ মজহারকে নিয়ে যায় খুলনায়। সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে তাকে খেতে দিয়ে অপহরণকারীরা আশপাশে বসেই তাকে অনুসরণ করে। ফরহাদ মজহারকে মাইক্রোবাসে তোলার পরেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। যারা নিয়ে গেছে তারাই ফরহাদ মজহারকে একটি বাসে তুলে দেয়।

এ দিকে ঘটনার পর চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও ফরহাদ মজহারকে অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ গোয়েন্দারা। তবে পুলিশ সূত্র বলেছে, তারা মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। মাইক্রোবাসটি যে রুট ধরে গেছে সেই রুটের সিসি ক্যামেরার সন্ধান করা হচ্ছে। অপর দিকে, ওই দিন কোন কোন মাইক্রোবাস ফেরিতে উঠেছে সেসব মাইক্রোর নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ সূত্র ধরেই মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা সম্ভব মনে বলে করছে সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশ মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, এ ঘটনায় ফরহাদ মজহার এবং অন্যরা যেসব তথ্য দিয়েছেন সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি জানান, তদন্ত কাজ শুরু হয়ে গেছে।

এ দিকে ফরহাদ মজহারকে অপহরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন সাদাত সাদী নামে এক ব্যক্তি। আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল হক খুলনা নিবাসী নাজমুস সাদাত সাদীকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম মো: হাফিজুর রহমান ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেন। খুরশীদ আলম জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

জানা গেছে, এই সাদী খুলনার শিববাড়ি হানিফ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক। ওই কাউন্টারে গফুর নামে একটি টিকিট কাটা হয়েছিল। ওই টিকিটেই ফরহাদ মজহার গাড়িতে চড়েছিলেন। তবে অপহৃতের পারিবারিক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ মজহারকে অপহরণকারীরাই বাসের কাউন্টারে নিয়েছিল। তারাই তাকে বাসের শেষের দিকের সিটে বসিয়ে দিয়ে যায়। টিকিট কোত্থেকে আসে সে সম্পর্কে ফরহাদ মজহার কিছু বলতে পারেননি।

প্রসঙ্গত গত ৩ জুলাই ভোর ৫টার পরে ফরহাদ মজহার চোখের ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হলে তাকে কে বা কারা অপহরণ করে। পরে ওই রাতে তাকে উদ্ধার করা হয় যশোরের নওয়াপাড়া থেকে। -নয়া দিগন্ত

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি 

ঢাকা, ৭ জুলাই : প্রস্তাবিত অনলাইন গণমাধ্যম ও নীতিমালা বাস্তবতা শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভা আজ নিউজ ২১ বিডি ডট কমের উদ্যোগে এবং সৈয়দ হোসেন সৈকত(ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, নিউজ ২১ বিডি) এর সভাপতিত্বে বনানিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, শরিফুল ইসলাম খান(সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন), সাহিদ সিরাজী (প্রধান সম্পাদক, এপিপি বাংলা), এস এম সামসুল হুদা (সদস্য সচিব, বাংলাদেশ অনলাইন টেলিভিশন এসোসিয়েশন), নাসিরুদ্দিন বুলবুল (সম্পাদক, ভোরের বানী), রোকমুনুর জামান রনি (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন), আবু সুফিয়ান রতন(সম্পাদক, ফটো নিউজ), মোহাম্মদ সজিব খান(যুগ্ম সম্পাদক, বিডি টুডেজ), আব্দুল ওয়াদুদ (সম্পাদক, তরঙ্গ নিউজ), মেহেদি হাসান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান। এছাড়া সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় সকল সমমনা অনলাইন গণমাধ্যম সংগঠনের সমন্বয়ে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলা ডিবিতে 

98

ঢাকা, ৫ জুলাই : বিশিষ্ট লেখক ও কবি ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করার অভিযোগ এনে স্ত্রী ফরিদা আখতারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এক আদেশে আদাবর থানা থেকে ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এডিসি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে ফরহাদ মজহার নিখোঁজ হলে তার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় আদাবর থানায় একটি নিয়মিত অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রহস্যে ঘেরা ফরহাদ মজহারের অপহরণ 

5525

ঢাকা : প্রায় ১৯ ঘণ্টা ‘নিখোঁজ’ থাকার পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার হওয়া কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার গতকাল মঙ্গলবার ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়, আবার ছেড়ে দেওয়া হয়- তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তবে তার অপহরণের ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরও তাত্ক্ষণিক তিনি বাসায় অথবা পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। আবার তিনি খুলনা থেকে ভিন্ন নামে বাসের টিকিট কেটেছিলেন। এছাড়া তাকে যখন পুলিশ উদ্ধার করে তখন তার কাছে একটি ব্যাগ ও সাড়ে ১২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

বেলা পৌনে ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. আহ্সান হাবীব ভিকটিম হিসেবে ফরহাদ মজহারের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর একই আদালতে শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় স্বাক্ষর নিয়ে তাকে নিজের জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন বিচারক। জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার বলেন, গত সোমবার ভোরে তিনি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। এর পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে করে তাকে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা তাকে দিয়ে বাসায় ফোন করিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। তবে সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা তাকে একটি বাসের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে একটি স্থানে নামিয়ে দেয়। পরে তিনি এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে জানতে পারেন যে ওই এলাকাটি খুলনা। এরপর তিনি শহরের একটি হোটেলে ৫শ’ টাকা ভাঙিয়ে রাতের খাবার খান। পরে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসে ওঠার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। অপহরণের ব্যপারে তিনি বলেছেন, ধারনা করছি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকার বিরোধী একটি চক্র আমাকে অপহরণ করেছিল।

এদিকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত সোমবার ভোরে তিনি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। তাকে কেউ ফোন করে ডেকে নিয়ে যাননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।’  স্ত্রীর দায়ের করা ‘অপহরণ’ মামলা প্রসঙ্গে আব্দুল বাতেন বলেন, মামলার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তাছাড়া তার নিখোঁজের পর থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি আদালতে জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শুরু হবে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার ভোরে তিনি বাসা থেকে বের হবার সময় হাতে মোবাইল ও একটি ব্যাগ নিয়ে বের হন। তার ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার ও একটি পোষাক ছিল। বাসা থেকে বের হবার সময় তার কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকাও ছিল। এ থেকে অনুমান করা যায় তার বাসা থেকে বের হওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এছাড়া ‘নিখোঁজ’ হবার পর ফরহাদ মজহার তার স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ বার ফোন করে তিনি মুক্তিপণের টাকার কথা বলেন। অথচ মুক্তির পর তিনি এ ঘটনাটি স্থানীয় থানায় বা তার পরিবারের লোকজনকে জানাননি। নিজের মত করে খুলনার একটি হোটেলে রাতে খাবার খেয়েছেন। এমনকি বাসের টিকিট কেটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। বাসে উঠেও তিনি তার পরিবারকে মুক্তি পাবার কথা জানাননি। তিনি সচেতন একজন মানুষ হয়েও পুলিশ বা তার পরিবারকে মুক্তির কথা না জানানোর বিষয়টি রহস্যময়। এছাড়া পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার আগে গত দুই মাস ফরহাদ মজহার ভোরে বাসা থেকে বের হননা।  সেদিনই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

এর আগে গত সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে নেওয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে বাসার সামনে থেকে ‘নিখোঁজ’ হন ফরহাদ মজহার। এরপর তিনি মোবাইলে বেশ কয়েকবার স্ত্রীকে ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার কথা বলেন। এ ঘটনায় রাতে তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

‘গফুর’ নামে বাসের টিকিট কেটেছিলেন! : ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় যশোরের নওয়াপাড়া রেলক্রসিং সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশের একটি টিম ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে। রাত দেড়টায় খুলনার ফুলতলা থানায় এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহম্মেদ ও র্যাব-৬ খুলনার পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি দাবি করেন, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভ্রমণে ছিলেন ফরহাদ মজহার। তবে এ সময় ফরহাদ মজহারের কাছে সাংবাদিকরা তার অপহরণের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ‘এখন আমি কোন কথা বলবো না’ বাক্যটি ছাড়া কোন কথা বলেননি। বারবার প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দিকে হাতজোড় করে কোন প্রশ্ন না করতে অনুরোধ করেন। সেখান থেকে রাত ২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রতিনিধি দলের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

হানিফ পরিবহনের ওই বাসের (৫০৫ নম্বর এসি কোচ) সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান জানান, ফরহাদ মজহার খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন। বাসে উঠেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়ার কাছাকাছি স্থানে তিনি ফরহাদ মজহারের টিকিট চেক করেন। তার টিকেটে নাম লেখা ছিল ‘মিস্টার গফুর’। নওয়াপাড়ায় পৌঁছানোর পর পুলিশ গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেয়। পরে অভয়নগর থানা পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়।

হানিফ পরিবহনের খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার ইনচার্জ মো. সাদিক জানান, ফরহাদ মজহার নিজেই নিজেকে ‘গফুর’ নাম বলে তার কাছ থেকে টিকিট নেন। এরপর রাত সোয়া ৯টায় বাসটি কাউন্টার ত্যাগ করে। এ সময় তিনি একাই ছিলেন।

এদিকে বাসে ওঠার আগে সোমবার খুলনা নিউমার্কেটের সামনে গ্রিল হাউজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান ফরহাদ মজহার। রেস্টুরেন্টের মালিক আব্দুল মান্নান জানান, রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে একটি সাদা মাইক্রোবাসে ফরহাদ মজহার গ্রিল হাউজ রেস্টুরেন্টে আসেন। রেস্টুরেন্টে তিনি একাই প্রবেশ করেন। এ সময় তার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, পরনে লুঙ্গি ও মাথায় সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। ফরহাদ মজহার রেস্টুরেন্টে এসে সাদা ভাত, ভর্তা, সবজি ও ডাল খেয়েছেন। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় ধরে তিনি খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে  একাই বেরিয়ে যান। তখন তাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।

হোটেলের ক্যাশিয়ার ইব্রাহিম জানান, তার (ফরহাদ মজহার) খাবারের বিল হয়েছিল ১৭০ টাকা। তিনি নিজে বিল পরিশোধ করে হোটেল থেকে বের হয়ে যান।

এর আগে ফরহাদ মজহারের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে র্যাব-৬ এর সদস্যরা নিশ্চিত হন তিনি নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন একটি টাওয়ারের আওতাধীন কোন এক স্থানে রয়েছেন। তার সন্ধানে র্যাব সদস্যরা নিউমার্কেট ও শিববাড়ি মোড় সংলগ্ন কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড, মজিদ সরণী ও ইবরাহিম মিয়া সড়কের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে।

এদিকে ফরহাদ মজহারকে যশোরের নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে অভয়নগর থানায় এবং র্যাব খুলনাস্থ সদর দপ্তরে আনার চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে র্যাব-পুলিশের মধ্যে মৃদু উত্তেজনাও তৈরি হয়। সবশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তাকে ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফরহাদ মজহার হাসপাতালে 

023

ঢাকা, ৫ জুলাই : আদালত থেকে বাসায় ফেরার অনুমতি পাওয়ার পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফরহাদ মজহারকে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি একটি কেবিনে রয়েছেন।

তবে তার স্ত্রী ফরিদা আখতার বা বন্ধুরা তার অসুস্থতা নিয়ে কিছু বলতে চাননি। শুধু জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ।

ফরহাদ মজহারের বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের অনেকেই তাকে দেখতে ওই কেবিনে আসছেন। তার শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে পিনাকী ভট্টাচার্য, নুরুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ অনেকেই সন্ধ্যায় এসেছিলেন। তারাই চিকিৎসক-সেবিকাদের সঙ্গে কথা বলা, ডাকাডাকি, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের কাজ করছেন।

এদিকে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের একজন জানিয়েছেন, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপকের অধীনে ফরহাদ মজহারকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পেলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বলা যাবে।

সন্ধ্যায় তাকে স্বাভাবিক খাবার রুটি, মুরগির মাংস ও সবজি দেওয়া হয়েছে বলে জানান একজন চিকিৎসাকর্মী।-প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর