২৩ মে ২০১৭
রাত ১:৩১, মঙ্গলবার

কড়া নিরাপত্তায় ইসরাইলে গেলেন ট্রাম্প

কড়া নিরাপত্তায় ইসরাইলে গেলেন ট্রাম্প 

022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২২ মে : প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম সফরেই মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের অংশ হিসেবে ইসরাইলে পোঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি জানাচ্ছে, সৌদি আরবের পর ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে ট্রাম্পের এই সফরকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে ইসরাইলী সরকার।

এর আগে, গত রবিবার সৌদি আরবে ৪০টি মুসলিম দেশের নেতাদের সম্মেলনে ইসলাম ধর্ম নিয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তারপরই তিনি ইসরাইলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে দু’দিনের সফরে ট্রাম্প উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। তবে চরম বৈরিতাপূর্ণ মনোভাবে থাকা ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের শান্তি চুক্তিকে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু এটিকে বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপের কথাই তিনি জানাননি। এক্ষেত্রে এ সমস্যা সমাধানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনাকে মুখ্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও আভাস দিচ্ছে, নিজের অবস্থানগত জায়গা থেকে তিনি ফিলিস্তিন আর ইসরায়েল দুই পক্ষকে সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ‘আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলন’ মঞ্চ থেকে নিজের ইসলাম বিদ্বেষী ‘নেতিবাচক’ ভাবমূর্তি শোধরানোর একটা চেষ্টা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্মেলনের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও লড়াই নেই। দুটো বিশ্বাস, দুটো ধর্ম বা দুটো সভ্যতার মধ্যে লড়াই নেই। লড়াইটা ভালোর সঙ্গে খারাপের। মানুষের জীবন শেষ করে দেয় যে সব বর্বর অপরাধী, লড়াইটা তাদের সঙ্গে।’

সম্মেলন শুরুর আগে রবিবার মিশর, কাতারসহ এক ঝাঁক আরব দেশের নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আটদিনের সফরসূচির অংশ হিসেবে বুধবার ২৪ মে ট্রাম্প যাবেন ইতালির রোমে। সেখানে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তিনি বেলজিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর ২৫ মে ব্রাসেলসে ন্যাটো সামিটে যোগ দেবেন। শেষদিন শুক্রবার ২৬ মে যাবে সিসিলিতে। সেখানে জি-সেভেন সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে অংশ নেবেন ট্রাম্প। বিবিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ধসে পড়ল এভারেস্ট চুড়ায় ওঠার গুরুত্বপূর্ণ পথ হিলারি স্টেপ 

365

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২২ মে : গত বছর কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছিলো যে হিলারি স্টেপের আকার বদলে গেছে। সম্পূর্ণ খাড়াভাবে উঠে যাওয়া এই পথটি ছিলো ১২ মিটার। এটি ছিলো এভারেস্টে ওঠার সর্বশেষ বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্রিটেনের পর্বতারোহী টিম মোসডেল এ সপ্তাহের শুরুতেই এভারেস্টের চুড়ায় ওঠার পর প্রথম আবিষ্কার করেন যে হিলারি স্টেপ ধসে পড়েছে।বেজ ক্যাম্পে নামার পর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি লিখেছেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

বিশ্বে প্রথমবার এভারেস্টের চুড়ায় ওঠার কৃতিত্ব নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যর এডমুন্ড হিলারির। তিনি উঠেছিলেন ১৯৫৩ সালে। তাঁর নামেই ঐ পথটির নামকরণ।তাঁর পরে হিমালয়ের নেপাল অংশ হয়ে পৃথিবীর যত পর্বতারোহী এভারেস্টের চুড়ায় উঠেছেন, বরফে ঢাকা ঐ পাথুরে পথটি তাদের সবাইকে পার হতে হয়েছে।

এভারেস্টে ওঠার সবচেয়ে জটিল অংশ ছিলো এই হিলারি স্টেপ। ২৯ হাজার ফিট উচ্চতায় এর অবস্থান। ২০১৫ সালে নেপালে ৭.৮ মাত্রার যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিলো তাতেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।এখন সেখানে অবশিষ্ট আছে পাথরের কয়েকটি চাই। ঐ ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতাও কমে গিয়েছিলো এক ইঞ্চির মতো।

নেপাল ও তিব্বতের অংশে হিমালয়ের পর্বতগুলোর চুড়ায় ওঠা এমনিতেই বিপজ্জনক। হিলারি স্টেপ ধসে পড়ায় এভারেস্টের চুড়া পর্যন্ত যাওয়া আরো বিপদজনক হয়ে উঠবে বলে পর্বতারোহীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিবিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দুই তরুণী হাত-পা ধরলেও ছাড় দেয়নি সাফাতরা 

24

ঢাকা, ২২ মে : রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিল্লাল জবানবন্দিতে বলেছে, ‘দুই শিক্ষার্থীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের অষ্টম তলার দুই রুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। আর ধর্ষণের পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ। তাদের মধ্যে নাঈম ধর্ষণকাজে প্রধান ভূমিকা রাখে। ধর্ষণের সময় দুই তরুণীই বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করে। এমন কাজে বাধ্য না করতে তারা সাফাত ও নাঈমের হাত-পা ধরে। কিন্তু তারা (সাফাত-নাঈম) কিছুতেই ছাড় দেয়নি।

জবানবন্দিতে বিল্লাল আরও বলেন, সাফাতের কথামতো আজাদ ও আমি (বিল্লাল) পুরো রাতই হোটেলের ওই কক্ষ পাহারা দিই। খাবারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে দিই। ধর্ষণের সময় দুই শিক্ষার্থীর দুই বন্ধুও ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে গভীর রাতে সাফাত তার রুমে আসতে বলে। এরপর তাকে বাথরুমে দাঁড় করিয়ে রাখে সাফাত। ওই সময় এক রুমে সাফাত, অন্য রুমে নাঈম ও সাদমান দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর পাশের রুম থেকে দুই তরুণীর ওই বন্ধুকে ডেকে এনের তাকে মারধর করা হয়। তাদের কথা না শোনায় তাকে ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ধর্ষণের সময়ও আমি দুই বাথরুমে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করি। ’

এদিকে, সাফাত ও সাদমানের কাছ থেকে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা পাঁচটি মোবাইল ও একটি ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের কারণে ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। জব্দ মোবাইল ও ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামি সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এই অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঘটনার শিকার এক ছাত্রী। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হাইপ্রোফাইলের আড়ালে অন্ধকার জগৎ 

44

ঢাকা, ২২ মে : রাত ১২টা। বনানীর ৮ নম্বর রোডের একটি বহুতল বাড়ির সামনে পাহারায় কয়েকজন অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী। বাড়িটির সামনে একের পর এক এসে থামছে দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। গাড়ি থেকে নামছেন সমাজের নামিদামি ব্যক্তিরা।

রাতেও যাদের চোখে দামি সানগ্লাস। কেউ কেউ আসছেন পুলিশ প্রটেকশনে। এভাবে রাত যত গভীর হচ্ছে বাড়িটির সামনে গাড়ির জটলা ততই বাড়ছে।

সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানী টিমের চোখে এ রকম দৃশ্য ধরা পড়ে। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সমাজের হাইপ্রোফাইল লোকজনের অনেকের কদর্য চেহারা।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভে যখন উত্তাল তখনও রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোয় এমন প্রকৃতির ডাকসাইটে লোকজন এবং তাদের সন্তানদের রগরগে নিশুতি পার্টি বেশ জমজমাট।

জানা যায়, বনানীর এই বাড়িটি শোবিজ জগতের একজন বিশেষ ভিআইপির। যার নামের প্রথম আদ্যাক্ষরটি ইংরেজি ‘এস’ দিয়ে শুরু। শেষ শব্দ বাংলায় ‘হোসেন’। এসব আলো-আঁধারির পার্টিতে যারা গভীর রাত অবধি সময় কাটান তাদের কাছে তিনি এক নামে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বনানীর আলোচিত ধর্ষণ ঘটনার পর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ধানমণ্ডি এলাকার অভিজাত অনেক ফ্ল্যাটে ভিআইপিদের আনাগোনা কমে গেলেও এই বাড়িটি ব্যতিক্রম। ‘প্রভাবশালীর’ বাড়ি হওয়ায় এখানে সবকিছুই চলছে আগের মতো। নাচ, গান, মদ, রুমপার্টি, পছন্দের বান্ধবী নিয়ে রাতভর একান্ত সময় কাটানো- বহাল আছে সবই।

গভীর রাত অথবা ভোরের আলোয় তাদের বেরিয়ে আসার দৃশ্য বিশ্লেষণ করলে ভালো কিছু মনে করার কোনো কারণ নেই। শুধু বনানীর এই বাড়িটি নয়, এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকার এমন অনেক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের রমরমা খবর। যেখানে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সবই জায়েজ। তাদেরও কেউ কেউ সেখানকার সম্মানিত অতিথি।

ফলে প্রভাবশালীদের এসব আড্ডাস্থল শেষ রাত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে জমজমাট থাকে। ভেতরে প্রাইভেট পার্টির নামে ধনীর দুলালরা রাজা-বাদশাহদের মতো রীতিমতো সরাইখানা খুলে বসেছেন। পার্টির পরিবেশটা দেখলে তেমনটিই মনে হবে।

এ ধরনের প্রাইভেট পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একজন তরুণ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য এসব প্রাইভেট পার্টিতে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। তিনি জানান, সেখানে সবকিছুই হয়। মদ, ইয়াবা থেকে শুরু করে একান্তে পছন্দের সঙ্গীর সান্নিধ্য পাওয়া যায়। অতিথিদের জন্য আভিজাত্যের সব চাহিদা সেখানে জোগান দেয়া হয়। বিনিময়ে শুধু মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়। যারা দিনের আলোয় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামান তারা ও তাদের ছেলেমেয়েদের অনেকে রাতে এসব পার্টি আড্ডায় অবৈধ টাকা খরচ করেন দেদারসে।

যারা আছেন এ জগতে : শেয়ারবাজার কেলেংকারি ও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রায় যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর নাম শোনা গেছে তার কথিত ভাগ্নেও এ জগতের বাসিন্দা। নাম পাপ্পু। গুলশানের প্রাইভেট পার্টিতে তিনি একজন পরিচিত মুখ।

পাঁচ তারকা হোটেলের প্রাইভেট পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত আছে তার। তবে পাপ্পু একা নন, প্রাইভেট পার্টি নামের এসব অন্ধগলির খাতায় নতুন করে নাম লিখিয়েছেন অনেক হাইপ্রোফাইল পরিবারের সন্তানরা। অনেকে নেশা আর নারীতে আসক্ত হয়ে ইতিমধ্যে বিপথগামিতার চরমে পৌঁছে গেছেন।

রাজধানীর আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর ভাগ্নের নাম জিয়া। তিনি অবশ্য নিজে পার্টিতে যাওয়া ছাড়াও লাভজনক ভিন্ন এক পেশায় নাম লিখিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শোবিজ তারকাদের পাঠিয়ে থাকেন। কথিত সেলিব্রেটি শো আয়োজনের আড়ালে তিনি এমন অনৈতিক ব্যবসা বেছে নিয়েছেন। আছেন বেশ ভালোই।

বনানী এলাকায় জনৈক শাহরিয়ার মাসুম ওরফে স্যাক্স নামের এক যুবক এখন রাজধানীতে ব্যাপক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তিনি সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতা পরিচয়ে অভিজাতপাড়ায় প্রাইভেট পার্টির আয়োজন করেন। তার পার্টিতে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকের নিয়মিত যাতায়াত আছে। মাসুমের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার হাত অনেক লম্বা। সঙ্গত কারণে প্রশাসনের কেউ তাকে নিয়ে ঘাঁটাতে চান না।

সূত্র জানায়, মাকসুদুর রহমান বিশাল নামের জনৈক নাট্য পরিচালকের হাতের মুঠোয় আছেন সিনেমাপাড়া থেকে শুরু করে টিভি অভিনেত্রীদের এ সারির অনেকেই। বিশাল আয়োজনের টিভি নাটক বানানোর নামে মডেল অভিনেত্রীদের তিনি বশে আনেন। এরপর তাদের অনেককেই এসব প্রাইভেট পার্টিতে নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে একটি বড়সড় ফ্যাশন হাউস চালান জনৈক হিরো নামের এক যুবক। তিনি নিজেও একজন প্রথম সারির ইয়াবা আসক্ত। উঠতি মডেলদের অনেকেই তার হাতের মুঠোয় বন্দি। তাই কারও কারও কণ্ঠে শোনা যায়, হিরো না থাকলে অনেক প্রাইভেট পার্টি রঙিন হয়ে ওঠে না। জানা গেছে, গুলশানের ‘ডলি আপা’ নামের অভিজাত এক নারীর হাতও নাকি অনেক লম্বা।

কারণ প্রতি রাতেই তার অতিথি হন প্রভাবশালীদের অনেকে। এছাড়া তার সঙ্গে অনেক পুলিশ কর্মকর্তার বিশেষ ঘনিষ্ঠতার কথা এ জগতের কারও অজানা নয়।

সূত্র জানায়, ‘করবী’ নামের জনৈক টিভি উপস্থাপিকার ফ্ল্যাট বনানীর ১১ নম্বর রোডে। তার ফ্ল্যাটেও নিয়মিত চলে প্রাইভেট পার্টি। এই পার্টির সুবাদে হঠাৎ করেই তিনি বিশাল অর্থবিত্তের মালিকও বনে গেছেন। তবে তার এই হঠাৎ ধনাঢ্য হয়ে ওঠার পেছনে মূল অবদান রেখেছেন টিভি নাটকের কয়েকজন নায়িকা ও মডেল।

বনানী থানা পুলিশ জানায়, হাইপ্রোফাইলের চাপ সামলাতে না পেরে এক পর্যায়ে বনানীর ফ্লোর সিক্স নামের একটি সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কারণ একাধিক মেয়ে বন্ধু নিয়ে সেখানে নিয়মিত আড্ডা জমাতেন সরকারদলীয় কয়েকজন তরুণ জনপ্রতিনিধি।

সঙ্গত কারণে তাদের নামের আগে থাকা বিশেষ পরিচিতি প্রকাশ করা হল না। মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন জনৈক মনির। যিনি এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাগ্নে। নানা শঙ্কায় থানা পুলিশ সেটিকে কৌশলে বন্ধ করে দেয়।
রাজধানীর এক সংসদ সদস্যের ছেলের নাম জনৈক সালমান।

তিনিও এসব পার্টি জগতের পরিচিত নাম। বছরখানেক আগে গুলশানে কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। এই ফ্ল্যাটেই একাধিক বন্ধুর সঙ্গে একান্ত ‘রুমপার্টিতে’ মশগুল থাকেন প্রায় দিন। সঙ্গে থাকে তার কথিত প্রেমিকা ইডেন।

রাজধানীর কয়েকটি অভিজাত হোটেলে দাপুটে ঘোরাফেরা ডেভিল নামের জনৈক ডিস্কো জকির (ডিজে)। প্রাইভেট পার্টি জগতে তিনি ডিজে ডেভিল নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম কাজী হাসিব।

এছাড়া সাজু হাসান ওরফে গাড়ি হাসান নামের এক ধনাঢ্য যুবক মাঝে মাঝে ঢাকায় আসেন এসব পার্টির স্বাদ নিতে। উত্তরবঙ্গের ছেলে হলেও সাজু হাসান পার্টিতে এসে দু’হাতে টাকা ওড়ান। শুনতে অবাক মনে হলেও তিনি নাকি প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিজাত এলাকার এসব অন্ধকার জগতে অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ছেলেমেয়েরাও জড়িয়ে পড়ছেন। মানসম্মানের ভয়ে অনেকের পরিবার এ নিয়ে মুখ খুলে না। আবার বখে যাওয়া সন্তানদের এসব নিশুতি পার্টি থেকে ফেরাতেও পারছেন না। অনিক নামে জনৈক এক সচিবের ছেলেও প্রাইভেট পার্টিতে জড়িয়ে নিজের সবকিছু খুইয়েছেন।

সম্প্রতি তাকে নিয়ে বেশ ঝামেলাও হয়েছে। তিনি রাজধানীর অন্যতম ইয়াবার ডিলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে বসবাস করেন অনিক। অভিযোগ আছে, নিকুঞ্জ থেকে গুলশান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নিজস্ব ডিলারদের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা করেন তিনি।

সূত্র জানায়, প্রাইভেট পার্টির আয়োজন করায় ধানমণ্ডির এইচটুও নামের একটি সিসা লাউঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। রেস্টুরেন্টের আড়ালে সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগ বেশি। জনৈক প্রভাবশালীর ছেলে সৌরভ এই সিসা লাউঞ্জের হর্তাকর্তা।

এছাড়া অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায়। কারণ উড়ে এসে জুড়ে বসার মতোই জনৈক রাসেল মোল্লা নামের এক যুবক এখন নাকি ধানমণ্ডি এলাকার সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে তিনি ধানমণ্ডির বড় ভাই হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

হ্যাভেন টাচ নামের একটি হোটেলে প্রাইভেট পার্টির নামে নিয়মিত জুয়ার আড্ডা বসে বলে জানা গেছে। এই হোটেলের মালিক জনৈক প্রভাবশালী একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। নাম বিশ্বজিৎ বণিক। পুলিশের ওপর মহলে তার হট কানেকশন। বনানীতে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনার যে ক’জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে আছে বিশ্বজিৎ বণিকের নাম।

জনৈক একজন সংসদ সদস্যের ছেলে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে প্রথম সারির বখাটেদের তালিকায় চলে আসেন। তিনি বনানী কাবানা লাউঞ্জ নামের একটি সিসা বারে ঘন ঘন যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে সেখানে নিয়মিত ইয়াবা সেবনকারী হিসেবেও পরিচিতি পেয়ে যান। ক্ষমতার দাপটে মাথাটা বড্ড গরম। তাই একদিন রাতে কাবানা রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে রিকশাচালককে গুলি করে বসেন।

এভাবে গত বছর রাজধানীর আলোচিত ক্রাইম লিস্টে তার এ ঘটনাটি জায়গা করে নেয়।

একটি অভিজাত ক্লাবের সভাপতির নাম জনৈক নাসির। দুর্ভাগ্য, তার ছেলেও এখন বিপথগামী। যাকে প্রায় প্রতিদিন খিলক্ষেত এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। অভিযোগ আছে, তিনিও নষ্ট খাতায় নাম লিখিয়েছেন। প্রতিদিন তার নতুন বন্ধুর প্রয়োজন হয়।

সূত্র জানায়, অভিজাত প্রাইভেট পার্টির সুবাদে দরিদ্র পরিবারের অনেক তরুণীরও ভাগ্য খুলে গেছে। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ কান্তা নামের এক পার্টি গার্ল। তিন বছর আগেও ঠিকমতো বাসা ভাড়া দিতে পারতেন না। প্রাইভেট পার্টির বদৌলতে তারও ভাগ্য বদলেছে। রুদ্র নামে জনৈক কোটিপতির ছেলে তার প্রেমের ফাঁদে পা দেন।

এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার সবই হয়েছে। রুদ্রের কাছ থেকে চাহিদামাফিক অঢেল টাকাও পান কান্তা। মাসের বেশির ভাগ দিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান তিনি।

এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে ঢাকার অভিজাত এলাকায় ‘প্রাইভেট হাউস পার্টি’র কয়েকজন আয়োজকের নামও জানা গেছে। তারা হলেন ডিজে জুডো, ডিজে জিসান ও পিজে হেলেন। এদের মধ্যে পিজে হেলেন ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠজন একটি নাইট ক্লাবে ক্যাবারে ড্যান্সার হিসেবে কাজ করেন।

হেলেন সম্প্রতি পুলিশের হাইওয়ে থানার এক ওসির ছেলেকে গোপনে বিয়েও করেছেন। এছাড়া রাজধানীর একটি নামকরা চেইন বেকারি শপের মালিকের ছেলের নাম শামীম। তিনিও রাজধানীর বড় বড় প্রাইভেট পার্টিতে নিয়মিত অতিথি হন। অবশ্য শামীমের আরেকটি পরিচয় আছে। ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জে ইয়াবা চোরাচালানেও জড়িত তিনি। চলাফেরা করেন নতুন মডেলের হেরিয়ার গাড়িতে।

সূত্র জানায়, প্রাইভেট পার্টিতে সোসাইটি গার্ল সরবরাহ করে দরিদ্র ঘরের সন্তান আরজু রনি ওরফে কালা রনি এখন কোটিপতি। অবশ্য কালা রনির একাধিক কথিত প্রেমিকাও আছে। এদের মধ্যে পুতুল নামের এক তরুণীর সঙ্গে তাকে বেশির ভাগ সময় দেখা যায়।

এছাড়া পার্টি জগতের পরিচিত নাম ডিজে মিরাজ ও ফারজানাও এখন কোটিপতি। বিভিন্ন ক্লাবে তারা ‘বিশেষ পস পার্টি’র আয়োজন করেন। এসব পার্টিতে অংশ নেন মিরাজ ফারজানার আমন্ত্রিত অতিথিরা। সেখানে সাধারণের প্রবেশ থাকে একেবারে নিষিদ্ধ।

জানা গেছে, জনৈক সবুজ খান নামের এক ফটোগ্রাফার ভাগ্য বদলের জন্য পার্টি জগৎকে বেছে নিয়েছেন। গ্রামের দরিদ্র ঘরের আটপৌরে সুন্দরী মেয়েদের ঢাকায় এনে মডেল বানান তিনি। বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তুলে এসব তরুণীকে বিত্তশালীদের কাছে পাঠান তিনি। এদের অন্যতম হচ্ছেন তাসনিম মেহনীল জয়া নামের এক তরুণী।

পার্টি হিসেবে নাম লেখানোর পর জয়া কোটিপতি বনে গেছেন। অথচ ২০১০ সালেও তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পার্ট টাইম গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পোশাক বদলে অভিজাত মডেল বনে গেছেন জয়া। তবে শুধু জয়া নন, জনৈক নাট্য পরিচালক রয়েল খান আশ্চর্য প্রদীপের পরশে এখন গাড়ি-বাড়ির মালিক। তিনি নিজেই তার বন্ধুদের বলে থাকেন- এক মডেল দিয়ে আমি একটা করে গাড়ি কিনি। অবশ্য মডেলদের বিনিময়ে তিনি কিভাবে গাড়ি কেনেন তা বিস্তারিত বলার অপেক্ষা রাখে না।

জনৈক চিত্রনায়িকা ইমুকে নিয়ে অন্ধকার পার্টি জগতে নানা মুখরোচক কথাবার্তা শোবিজ মিডিয়ায় ছড়াছড়ি।

এসবের কতটুকু সত্যি আর কতটুকু সে ফ গল্প তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে ইমুকে বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে গভীর রাত অবধি বিশেষ পোশাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিথী নামের এক নামকরা সুরকারের স্ত্রীর নিয়মিত হাইপ্রোফাইল পার্টিতে যাতায়াতের খবর বেশ পুরনো। পার্টি শেষে গভীর রাত অবধি তাকে বাসায় ফিরতে দেখে প্রতিবেশীরা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় থাকেন ধানমণ্ডি ২৬ নম্বর রোডের এক ফ্ল্যাটে। এমন ‘স্বাধীন’ জীবনযাপন তার খুব পছন্দ। রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর এলাকায় জনৈক জনপ্রতিনিধির ফ্ল্যাট ঘিরেও নানা গুঞ্জন আছে। ওই ফ্ল্যাটে কলকাতার চিত্রনায়িকাদেরও আনাগোনা আছে। জানা গেছে, সেখানে প্রাইভেট পার্টি করেন ইংরেজি মাধ্যমে পড়–য়া ধনাঢ্য পরিবারের কয়েকজন তরুণ। এদের অন্যতম হচ্ছেন কাজী সিহাম, ডিজে জিসান ও মিশু নামের তিন তরুণ।

সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ এ প্রতিবেদককে বলেন, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষার্থী ধর্ষণ ঘটনার পেছনে অভিজাত এলাকার এসব কদর্য চেহারা অনেকখানি দায়ী। এজন্য এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে গলে প্রথমে পরিবার, তারপর সমাজ থেকে মাদককে সমূলে বিদায় জানানোসহ আধুনিকতার নামে ছেলেমেয়েদের বেপরোয়া জীবনযাপনের লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না হলে বনানীর মতো এ রকম ঘটনা বাড়বে বৈ কমবে না। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ 

29

ঢাকা, ২২ মে : রমজানে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে আগামীতে ঢাকার বাইরে লোডশেডিং বাড়বে। এতে বাড়বে মানুষের দুর্ভোগও।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এ সময় সারা দেশে চাহিদা ছিল ৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এতে সরকারি হিসাবেই ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। বেসরকারি হিসাবে এ ঘাটতি ১৫শ’ থেকে ১৭শ’ মেগাওয়াট। এ কারণে দেশব্যাপী চরম লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করেছে আরইবি (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড)।

আরইবির একটি সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেনারেল ম্যানেজার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকার চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড)। এ কারণে ঢাকার বাইরের সমিতিগুলোতে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশিরভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকার বাইরে অনেক শিল্পকারখানা সন্ধ্যার পর বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দিনেও অধিকাংশ কল-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না আরইবি। রোববার আরইবির বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো।

সংস্থার প্রেস কনসালট্যান্ট তালুকদার রুমী এ প্রতিবেদককে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই বাধ্য হয়ে তাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে রমজানের আগে লোডশেডিং আরও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বলেন, রমজানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট করার টার্গেট আছে সরকারের। এ কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেরামতের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে মেঘনাঘাট, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ, রংপুর, বড়পুকুরিয়াসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। কয়েকটি মেরামতের পর ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভেড়ামারার ২১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাকিগুলো আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে চালু হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তিনি আশা করছেন রমজানের আগেই লোডশেডিং শূন্য পর্যায়ে চলে আসবে। তার মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় বর্তমানে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শনিবার রাতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি সামিট পাওয়ারের বিবিয়ানা ইউনিট ২-এর ৩৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

সামিট গ্রুপের হেড অব পিআর অ্যান্ড মিডিয়া মোহসেনা হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, কারিগরি ক্রুটির কারণে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। শিগগিরই কেন্দ্রটি চালু হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে বন্ধ আছে এরকম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হল বিবিয়ানা ৩৪১ মেগাওয়াট, রংপুর ২০০ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা ২১৪ মেগাওয়াট, বড়পুকুরিয়া ২১০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ৪২৫ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ৩৬০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড আছে। রমজানে এটা বাড়িয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাশাপাশি উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর জন্য সঞ্চালন লাইনেরও সংস্কার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় রমজানে ইফতার-তারাবি ও সেহেরির সময় লোডশেডিং থাকবে না। লোডশেডিং করতে হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় জানিয়ে দেয়া হবে। এজন্য অগ্রিম শিডিউল তৈরি করে সবাইকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, প্রথম রমজান থেকেই বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে।

সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় চলতি গ্রীষ্ম মৌসুম ও আসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, রমজানে দোকানপাট, মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো খোলা রাখার বিষয়ে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করা হবে। রমজানে পিক আওয়ারে রি-রোলিং মিল, ওয়েল্ডিং মেশিন, ওভেন, ইস্ত্রির দোকানসহ অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সরঞ্জামাদির ব্যবহার বন্ধ রাখা হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুপার মার্কেট, পেট্রলপাম্প ও সিএনজি গ্যাস স্টেশনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইফতার ও তারাবির সময় এসি ব্যবহার বন্ধ, বিদ্যুতের অপচয় রোধে সিএফএল বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবারের পুরো রমজানজুড়ে গরম থাকবে। এতে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে অবস্থা তাতে রমজানে সরকারের টার্গেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট করা সম্ভব হবে না। এতে রোজাদারদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। ইফতারি, তারাবি ও সেহেরির সময় চাহিদা বেড়ে গেলে গ্রামের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করবে। ডিপিডিসি ও ডেসকোকে ঢাকায়ও বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করতে হবে। তাছাড়া ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সংস্কার না হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। দুর্বল বিতরণ লাইনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেই বিভিন্ন স্থান লাইন ও ট্রান্সফরমার জ্বলে যাবে। এতে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে রমজানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে সারকারখানাগুলোতে ২১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। যা মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৮ শতাংশের বেশি। রমজানে এ পরিমাণ গ্যাস যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দেয়া সম্ভব না হয় তাহলে অনেকগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না। এতে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে 

898

খাগড়াছড়ি, ২১ মে: পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের একাংশের ডাকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সমঅধিকার আন্দোলনের আহ্বানে সড়ক অবরোধ চলছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের কর্তৃক অব্যাহতভাবে চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ এবং মহালছড়িতে মোটরসাইকেল চালক ছাদেকুল হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও অবৈধ অস্ত্র উদ্বারের দাবিতে এই কর্মসূচি আহ্বান করা হয়।

হরতাল অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার গাড়িও। এখনো পর্যন্ত শহরের দোকানপাট খোলেনি। তবে হরতাল আহ্বানকারীদের মাঠে দেখা যায়নি।

এদিকে অনুরূপ দাবি জানিয়ে আজ শহরের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের অপর অংশ এবং সমঅধিকার আন্দোলন। একই স্থানে দুটি সংগঠনের সমাবেশ আহবানের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কাউকেই অনুমতি দেয়নি।

বাঙালিদের পৃথক তিনটি সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সৌদি-আমেরিকার মধ্যে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তি 

44

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১ মে : সৌদি আরব ও আমেরিকার মধ্যে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তি হয়েছে। গতকাল সৌদি আরব সফরে দুই দেশ মধ্যে মোট ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন বাদশাহ সালমান। এরপর তিনি ট্রাম্পের সাথে একই গাড়িতে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় তার সাথেই কাটান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি অস্ত্র চুক্তি, যাকে হোয়াইট হাউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অস্ত্র চুক্তি।

অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে সৌদিরা তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ইরানের হুমকি মোকাবেলা করতে পারে। তার ভাষায়, ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা সৌদি আরব এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে, বিশেষ করে ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে এবং ইরান সম্পর্কিত যে হুমকি সৌদি আরবের সীমান্তের চারিদিকে অবস্থান করছে সেই বিষয়ে। ’

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব ইসলামী দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

সৌদি আরব সফর শেষে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনী এলাকা, ব্রাসেলস, ভ্যাটিকান এবং সিসিলি সফর করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

উত্তরাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু 

03

ঢাকা, ২১ মে : ৪৮ ঘণ্টার জন্য উত্তরাঞ্চলের সব জেলায় পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আজ রবিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট পালন করা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরবঙ্গ ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অধিকার আদায় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ এ ঘোষণা দেন।

সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল এবং হুক খোলার সরকারি আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ওজন যন্ত্রের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, চলতি মাসের মধ্যে যদি এই সাত দফা দাবি মেনে নেয়া না হয় তাহলে ঈদুল ফিতরের পরে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক রাতে 

02

ঢাকা, ২১ মে : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে খালেদা জিয়া নিজেই সভাপতিত্ব করবেন।

দলের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান এ খবর জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে হঠাৎ পুলিশি তল্লাশির প্রেক্ষিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ডিবি পরিচয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা 

01

ঢাকা, ২১ মে : পুলিশের সোর্সের মতো সোর্স। রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। সেই বাহিনীতে রয়েছে ডিবির ডিসি, এডিসি, এসি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সব পদমর্যাদার সদস্য। আছে অস্ত্র, ওয়াকিটকি, ডিবি জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফসহ নিজস্ব গাড়ি। এ এক ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে জিম্মি করে তারা। পরে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থসহ মালামাল।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান। এ সময় বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর ছবি যারা প্রকাশ করেছে এবং প্রকাশ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা ভুয়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা খোলাবাজার ও অন্যদের মাধ্যমে ডিবির ব্যবহƒত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে ছিনতাই এবং ডাকাতি করে আসছিল। তিনি বলেন, যেসব দোকানে এসব সরঞ্জাম বিক্রি হয় সেসব স্থানে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। তা আরও বাড়ানো হবে। যারা প্রকৃত ডিবি পুলিশ তারা আইনানুগভাবেই অভিযান চালায়, এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর ছবি যারা প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আব্দুল বাতেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সাইবার ক্রাইম বিভাগকে অবহিত করা হবে। অন্যতম অভিযুক্ত নাঈমের রিমান্ড চলছে। সাফাত ও সাকিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, সামনে রোজা ও ঈদ আসছে। এ সময়টাতে প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়ে। তাই বেশি পরিমাণ টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবায় পুলিশের মানি স্কট টিম সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। কাফরুলের ডিবি পুলিশের একটি অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত চক্রের ১৬ সদস্য হলেন- জুয়েল রানা, ইয়াসিন, বাদল, মোমেন আলী, শহিদুল ইসলাম, ফিরোজ, সৈয়দ মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, সবুজ, লিটন খান, বাবলু মিয়া ওরফে আকাশ, মনির হোসেন-১, ছাইদুর রহমান, মনির হোসেন-২, মাহমুদুল হাসান ওরফে মুন্না ও আফজাল হোসেন ওরফে শাহীন। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি খেলনা পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি, চারটি ছুরি, দুটি ওয়াকিটকি, তিনটি ডিবির জ্যাকেট, দুটি হ্যান্ডকাফ, দুটি বেতের লাঠি, একটি ব্যাগ, দুটি ডিবির স্টিকার, দুটি কার ও দুটি মাইক্রোবাস, ১৭টি অব্যবহৃত প্রিপেইড মোবাইল সিম, সাতটি মোবাইল সেট, একটি আর্মির জ্যাকেট, স্টিলের স্টিক, এক জোড়া বুট, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি কার্ডরিডার, স্টিলের নেমপ্লে­ট এবং পুলিশের মনোগ্রাম সংবলিত একটি খালি আইডি কার্ডের কভার উদ্ধার করা হয়। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নতুন আতঙ্কে বনানী ধর্ষণের ভুক্তভোগীরা 

231

ঢাকা, ২০ মে : নতুন আতঙ্কে বনানী ধর্ষণের ভুক্তভোগীরা। অপপ্রচার পিছু ছাড়ছে না ধর্ষণের শিকার দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর মন্তব্যসহ তাদের ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি চক্র। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পারিবারিক সূত্র বলছে, ভিডিওর কথা জানার পর তা মুছে ফেলার জন্য সৌরভ ও পাপ্পু নামে দুইজনকে সাফাত, সাদমান ও নাঈমের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগী এক তরুণীর ছবিও আপলোড করা হয়েছে। ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে কিনা সেই আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার দু’টি।

এ বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বেশকিছু ভুয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছেন। এ ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এছাড়া বনানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের মোবাইল ফোন থেকেই ওই ভিডিও চিত্র পাওয়া গেছে।

এদিকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ে আতঙ্কে আছে ভুক্তভোগীদের পরিবার। ধর্ষণের ভিডিও অন্য কোথাও সংরক্ষিত আছে কিনা বা সেখান থেকে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কিনা তা নিয়ে উদ্বিঘ্ন পরিবার দু’টি। এ নিয়ে এক ভুক্তভোগীর পরিবারের বক্তব্য- ‘ওই ভিডিওতে আসলে কী আছে তা জানি না। যেহেতু আসামিরা দেরিতে গ্রেফতার হয়েছে, তারা এগুলোর কপি অন্য কারও কাছে জমা রাখতে পারে। না হলে আসামিরা পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে কারা? এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ”

এ ঘটনায় সাফাতের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইসিটি অ্যাক্টে একটি মামলা দায়ের করবেন দুই অভিযোগকারীর একজন। ভিডিও ফুটেজে ধর্ষণের দৃশ্য আছে কিনা-এ ব্যাপারে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই মুখ খোলেননি। তবে সাফাতের মোবাইল ফোন থেকে দুই অভিযোগকারীর সঙ্গে তোলা অনেকগুলো সেলফি উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি উদ্ধারের বিষয়টি আইসিটি অ্যাক্টে মামলা দায়েরের পর পুলিশ গণমাধ্যম জানাবে।

এদিকে শুক্রবার রিমান্ডের প্রথম দিনেই নাঈম এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। গত শনিবার রাতে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুখোমুখি করা হয় বিল্লাল ও সাফাতের দেহরক্ষী আজাদকে। তিনজনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই শিক্ষার্থীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সেন্ট্রাল হাসপাতাল পরিচালকের জামিন 

36

ঢাকা, ২০ মে : রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. এমএ কাশেম জামিন পেয়েছেন।

ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ৯ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ঢাবি ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী। ওই দিন রাতেই পুলিশ পরিচালক ডা. এমএ কাশেমকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ গতকাল বিকালে এক হাজার টাকা বন্ডে এবং স্থানীয় দুজন জামিনদারের জিম্মায় ডা. এমএ কাশেমকে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

গতকাল ডা. এমএ কাশেমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

এ দিকে এমএ কাশেম তার আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরুর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। জামিন শুনানিতে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু আদালতকে বলেন, গ্রেফতারকৃত ডা. এমএ কাশেমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ আসামি নির্দোষ ও নিরীহ। তার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। তাই আসামির জামিন মঞ্জুর করার আবেদন করছি।

এ দিকে চৈতী যার অধীনে চিকিত্সাধীন ছিলেন, সেই অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, পরীক্ষা করেই তারা লিউকোমিয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন। তাকে যখন আনা হয়েছিল তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিত্সা পুরোপুরি শুরু করার আগেই তার মৃত্যু হয়। চিকিত্সায় কোনো ভুল হয়নি।

ধানমন্ডি থানার ওসি জানান, ঘটনার পর দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে মামলা হওয়ায়  ডা. এমএ কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়। আটক অপরজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহিল কাফী জানান, স্বজনরা ময়না তদন্ত করাতে চাননি। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাতেই চৈতীর লাশ তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানো হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লিবিয়ার বিমানবন্দরে সরকারি বাহিনীর অভিযানে নিহত ১৪০ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ মে : লিবিয়ার বার্ক আল-শাতি বিমানবন্দরে সরকারী বাহিনীর এক অভিযানে বেসামরিক লোকসহ অন্তত ১৪০ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা- বিবিসি এক প্রতিবেদনে এখবর জানাচ্ছে।

এর আগে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারের সহযোগী মিলিশিয়া বাহিনী বার্ক আল-শাতি বিমানবন্দরের দখল নিতে গেলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে সেসময় ৬০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

জানা গেছে, এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্তের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মিলিশিয়া কমান্ডার উভয়েই। এছাড়া এ অভিযানের কোনো আদেশ দেয়া হয়নি বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

তবে এক মিলিশিয়া মুখপাত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিমানবন্দরটিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া সকল বিদ্রোহী বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’

শহরের মেয়র বলেন, বিমান থেকে গোলা ছোড়া হয়েছে। নিহতদের সবাই বিদ্রোহী গোষ্ঠী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সদস্য। গত ডিসেম্বর থেকেই তারা বিমানবন্দরটি দখল করে রেখেছিল। বিবিসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১৪ মাস পরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা 

365

কুমিল্লা, ২০ মে : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ১৪ মাস অতিক্রান্ত হলো আজ শনিবার। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে তনুর ঘাতকরা শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। এভাবে যতই দিন যাচ্ছে, সুষ্ঠু তদন্ত আর বিচার পাওয়া নিয়ে তনুর বাবা-মা ও স্বজনদের মাঝে বাড়ছে সংশয়। এদিকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও সাংবাদিকদের নিকট কোনো মুখ খুলছেন না মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতবছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ও কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর গতবছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-কুমিল্লা। ওই বছরের মে মাসে তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে সিআইডি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তনুর স্বজনরা জানান, ‘ঘটনার পর ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন, গণজাগরণ মঞ্চ ও মানবাধিকার সংগঠনসহ প্রতিবাদী মহল দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। কিন্তু প্রতিবাদের পাশাপাশি মামলার তদন্তের গতিও ধীরে ধীরে যেন থেমে গেছে।’ মামলার অগ্রগতির বিষয় জানতে চেয়ে গত ২০ মার্চ সিআইডিকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের বরাবর স্মারকলিপি দাখিল করেছিল গণজাগরণ মঞ্চ-কুমিল্লার নেতৃবৃন্দ। এই মামলার অগ্রগতি জিজ্ঞাসাবাদে আটকে আছে। তনুর লাশের দুই দফা ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

এদিকে তনুর মৃত্যুদিবস উপলক্ষে আজ শনিবার জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘সিআইডি আজ পর্যন্ত মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আমরা তাদের তদন্ত কার্যক্রমে হতাশ হয়ে পড়েছি। মেয়ের শোকে কেঁদে কেঁদে এখন চোখের পানিও যেন শুকিয়ে গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালালউদ্দীন আহমেদ বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই একথা বলা যাবে না, তবে তদন্তাধীন এ মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভারতে আগাম সংসদ নির্বাচন চাইছেন মোদি 

19

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ মে : ভারতে আগাম সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৮ সালের শেষে লোকসভা ভেঙে দিয়ে ভোট এগিয়ে আনতে চাইছেন তিনি। কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তার এ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। মোদি তাদের বলেছেন, দেশে আইন করে লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট করারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। নির্বাচন কমিশন ও নীতি আয়োগের (পরিকল্পনা কমিশনের বদলে তৈরি থিঙ্ক ট্যাংক) সঙ্গে কিছু দিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

সম্প্রতি নীতি আয়োগ জানিয়েছে,  ২০২৪ সালের মধ্যে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব। মোদি ওই মুখ্যমন্ত্রীদের বলেছেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে বিজেপি রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে। এর পর যদি লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ ব্যাপারে আইন পাস করানো সম্ভব হয়, তা হলে ওই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষে শীতকালে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা প্রকাশ্যে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন না। তবে মমতা ব্যানার্জির মতো বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রী এর সমালোচনা করছেন। মমতার বক্তব্য, যে রাজ্যগুলোতে সবে জিতে এসেছে কোনো দল, তারা কেন তাড়াহুড়ো করে ভোটে যাবে?

এ বিষয়ে অবশ্য পাল্টা প্রস্তাব রেখেছেন মোদি। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্র শেখর রাওকে তিনি বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ কিংবা পাঞ্জাবের মতো যে রাজ্যগুলোতে সদ্য ভোট হয়েছে, তাদের এক বছর ‘গ্রেস’ দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সেখানে এক বছর পরে বিধানসভার ভোট হতে পারে। কিন্তু আসামের নেতাদের বক্তব্য, ‘গ্রেস’ বা অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে কীসের ভিত্তিতে? মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে মোদি যুক্তি দিয়েছেন, যে কোনো নতুন প্রস্তাব নিয়ে এগোতে গেলেই মতপার্থক্য হয়। শুরুতে ভয়, জড়তা থাকে। বাধা আসে। কিন্তু ভোট করাতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা থেকে দেশকে বাঁচাতেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট করা উচিত। খরচ বাঁচাতে একসঙ্গে ভোট করার প্রস্তাব নিয়ে ভারতে অনেক দিন থেকেই আলোচনা চলছে। লালকৃষ্ণ আদভানী যখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন তিনিই প্রথম এ প্রস্তাব দেন। আর প্রধানমন্ত্রী হয়েই মোদি একে বাস্তবায়িত করতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন।

দেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যা এখন অনেক। কিন্তু মোদি জানেন, এক-দুটি রাজ্যের বিরোধিতায় জিএসটির মতো আইন কার্যকর করতে কত জটিলতা হচ্ছে। ফলে লোকসভা-বিধানসভাগুলোর ভোট একসঙ্গে করাও যে সহজ ব্যাপার নয়, প্রধানমন্ত্রী তা ভালোভাবেই বুঝছেন। লোকসভা ভোট নির্ধারিত ২০১৯-এ। বিজেপি সূত্র বলছে, উত্তরপ্রদেশে বিরাট জয়ের পর এ মুহূর্তে মোদির যে জনপ্রিয়তা, পরে হয়তো তা ধরে রাখা যাবে না। সরকারবিরোধী অসন্তোষ বেড়ে যাওয়ার আগেই ভোটে গেলে সুবিধা রয়েছে।

বিরোধীরাও ক্রমশ একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের যত কম সময় দেয়া যায়, ততই ভালো। আর লোকসভার লড়াই বিজেপিকে প্রস্তুত রাখতে অমিত শাহও ‘ভারত যাত্রা’র কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর