১৮ আগস্ট ২০১৭
বিকাল ৪:৫৬, শুক্রবার

বাইরে কঠোর, ভেতরে রিভিউ-প্রস্তুতি

বাইরে কঠোর, ভেতরে রিভিউ-প্রস্তুতি 

5822

ঢাকা : ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় নিয়ে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে রাষ্ট্রের দুটি প্রধান স্তম্ভ নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে। প্রকাশ্যে বিচার বিভাগ ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। ইতোমধ্যে সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে রিভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এমনটিই নিশ্চিত করেছে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকবে কি থাকবে না; এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলেও এখন এটি বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কৌশলী পদক্ষেপে এগোতে চায় সরকার। কৌশলের অংশ হিসেবে রায়ের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে সরকার। রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হার্ডলাইনের প্রতিফলন বলেই ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে ভেতরে ভেতরে রিভিউয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এটিও সরকারের আরেকটি কৌশল।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা ধরেই নিয়েছিলেনÑ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে উচ্চ আদালতে করা মামলায় আপিল বিভাগের রায় সরকারি দলের বিপক্ষে যাবে না। এ ক্ষেত্রে রায় বিপক্ষে গেলেও এর পর্যবেক্ষণে যেসব রাজনৈতিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা সরকারি দলের নেতারা কখনো ভাবতেই পারেননি। সরকারের জন্য এ ধরনের আপত্তিকর, রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি উচ্চ আদালত সৃষ্টি করতে পারে তা কেউ কখনো ধারণাও করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা জানি এ রায়ের ড্রাফট কোথা থেকে এসেছে। একটি ইংলিশ পত্রিকার সম্পাদক ড্রাফট করে দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের সূত্র থেকে জানা যায়, এ রায়ের কিছু অংশ পেনড্রাইভে করে পৌঁছানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। রায়ের নেপথ্যে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর হাত রয়েছে বলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আইনজীবী নেতারা।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিজনক ও বিব্রতকর। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা ধীরগতিতে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে রায়ের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষের সামনে এখন একটিই রাস্তা, তা হলোÑ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ। রিভিউয়ে ইতিবাচক ফল পেতে সে জন্য দফায় দফায় বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই সরকারের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রথমে আওয়ামী লীগের তিন আইনজীবী নেতা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একান্ত বৈঠক করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে। পরে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে। ওই দিনই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আবার কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দফায় দফায় এ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এক মন্ত্রী নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রধান বিচারপতির প্রতি আমরা আর আস্থা রাখতে পারছি না। কারণ আমরা কখনো ভাবতেই পারিনি, এমন একটি রায় তিনি লিখতে পারেন! সে কারণে বিষয়টি নিয়ে শুরুতে দলের প্রথম সারির নেতারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা শুরু করলেও এখন সর্বোচ্চপর্যায়ে থেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমতো রিভিউয়ের জন্য ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করেছেন সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জরিহুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই তিনজনকেই রিভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে বলা হয়েছে ওই তিনজনকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে পারে। আবার রিভিউ আবেদনেই রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লিখিত ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বিষয়গুলো ‘এক্সপাঞ্জ’ করার আবেদনও করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া রিভিউয়ের দায়িত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমি এখনো জানি না। তবে আপাতত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়, যা প্রকাশিত হয়েছে সেটি পড়ছি।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমি এখন ব্যস্ত। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

অন্যদিকে কৌশলের অংশ হিসেবে রায়ের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে সরকার। রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক ‘হার্ডলাইনের প্রতিফলন’ বলেই ভাবা হচ্ছে। এ বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার এবং দলীয় অবস্থান রাষ্ট্রপতিকে জানানো সরকারপ্রধান ও দলীয়প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ব। তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন সরকারি দলের নেতারা। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রায়ের সমালোচনা করছেন। গতকালও রায় নিয়ে কথা বলার সময় প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এস কে সিনহা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই প্রধান বিচারপতির স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।

এ ছাড়া রায়ের প্রতিবাদে সারা দেশের সব আইনজীবী সমিতিতে টানা তিন দিন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। এ ফোরামের পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় কোনো কিছু জানাতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। আইন সম্পাদক বলেন, এখনো পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঠিক করা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে শিগগিরই। সূত্র : আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বন্যার কারণে দেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা 

5555

ঢাকা : বাংলাদেশে বন্যার কারণে কোনো খাদ্য সংকট হবে না বলে সরকার আশ্বস্ত করতে চাইলেও, চাল আমদানিতে ধীরগতির ফলে দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারকে প্রভাবিত করার মতো মজুদ সরকারের হাতে নেই। গত ছয় মাস ধরে আমরা শুনছি তারা আমদানি করবেন, কিন্তু আমদানি তারা এখন পর্যন্ত করেন নাই।

তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ হাজার টন চাল আমদানি করতে পেরেছে, আর মজুদ আছে ২ লাখ ১৫ হাজার টন। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় যদি ব্যাপকভাবে ত্রাণ দিতে হয়, তাহলে সরকার সেটা কোথা থেকে দেবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ড. আসাদুজ্জামান।

সরকারী তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, বুধবার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ২০টি জেলায় ত্রাণের জন্য তিন হাজার ১০০ টন চাল মজুদ রয়েছে। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সরকারের হাতে অর্থ আছে এবং চাল আমদানি করা হবে।

সেই প্রসঙ্গ টেনে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, চীনে এ বছর ফলন কম হয়েছে। তারা এরই মধ্যে চালের বিশ্ববাজারে ঢুকে পড়েছে। আমরা কি চীনের সাথে কম্পিট করে কিনতে পারব? সেটা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, এখন টেন্ডার ডেকে চাল আমদানি করতে গেলে তাতেও দুই থেকে আড়াই মাস লেগে যাবে।

বাংলাদেশে এক বছরে তিন দফা বন্যার ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং আরো অনেক ফসল নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি হিসেবে হাওর এলাকায় মাস তিনেক আগের বন্যাতেই বোরো উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। এবার উত্তরাঞ্চলের বন্যায় আমন ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু মাঠের ফসল নয়, অনেক কৃষকের মজুদ করা গোলার ধানও পচে গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে অনেককেই হয়তো ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

লালমনিরহাটের একজন কৃষক শুক্কুর উদ্দিন বলেন, তার চাষ করা ধানের ৯০ শতাংশই প্রায় সপ্তাহখানেক পানিতে ডুবে আছে। তার ধারণা, এই ধানের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে গোলার ধানও পচে গেছে।

ড. আসাদুজ্জামান বলছেন, পানি যদি দ্রুত সরে যায় এবং কৃষি অধিদপ্তর যদি চারা দিতে পারে, তাহলে হয়তো কৃষকরা আবার কিছুটা আমন চাষ করতে পারবেন।  -বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঝুঁকির মধ্যে ঢাকা রক্ষা বাঁধ, বন্যার আশঙ্কা 

81

ঢাকা : বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। গেলো ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি রাজবাড়ির গোয়ালন্দ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ভাগ্যকূল পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে দেশের অন্যতম প্রধান এ নদীর পানি।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ধারা আরো তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি বেড়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ।।

গত কয়েকদিনের মতো গতকাল বুধবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।রাজধানীতে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, বন্যার পানি ঢোকার আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনেরা ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজধানী ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বাঁধ নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তার অধিকাংশ জমিই এখনও বেদখলে রয়েছে। আবার সংস্কারের অভাবে বাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ধসে গেছে। ফলে এই বাঁধ রয়েছে ঝুঁকির মুখে।

অন্যদিকে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চল একেবারেই অরক্ষিত। ‘ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাইপাস’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে যেকোন সময় রাজধানী ঢাকা খুব সহজেই বন্যাকবলিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ১৯৮৮ সালের বন্যায় রাজধানী ঢাকা আক্রান্ত হয়। এরপর ঢাকা জেলা রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সেই উদ্যোগেই মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছন থেকে ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের নবাবগঞ্জ, হাজারিবাগ, গাবতলী, মিরপুর হয়ে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

ফলে ১৯৯৮, ১৯৯৮, ২০০৪ ও ২০০৭ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা হলেও রাজধানী ঢাকায় বন্যার পানি ঢুকতে পারেনি। তবে সংস্কারের অভাবে এ বাঁধের ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মাটি ধসে গেছে। এতে পুরো বাঁধ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘আপনি প্রশাসনের সঙ্গে আপস করছেন’ 

37955

ঢাকা : রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নির্বাচন করছেন একথা প্রধান বিচারপতির কানে পৌচেছে। এ খবরটি বহুল আলোচিত মোবাইল কোর্ট মামলার শুনানি কালে অ্যাটির্ন জেনারেলকে জানালেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য এ প্রসঙ্গে বলেন, আপনি নির্বান করবেন বলে শুনেছি। আপনি তো এলাকায় যান। আমি শুনেছি আপনি নির্বাচন করছেন। আপনি প্রশাসনের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করে চলছেন। আমরা তো ইলিশের গন্ধও পাই না।

প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে যখন এইসব কথা বলছিলেন তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাথা ঝাকাচ্ছিলেন এবং মিটি মিটি হাসছিলেন।

ইলিশ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার বাড়ি পদ্মা নদীর পাড়ে। এখনো কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ ধরা হয়।

বুধবার সকালে আপিল বিভাগে মোবাইল কোর্ট মামলার শুনানি কালে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হয়।

প্রধান বিচারপতি, আমরা আইনের বাইরে বিচার করব না, আইনের অধীনে বিচার করব। মোবাইল কোর্টের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন যত তাড়াতাড়ি করবেন তা সবার জন্য মঙ্গল।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে শান্ত হতে বলল চীন 

25555

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট সংকট নিরসনে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বাগাড়ম্বর থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

ওই দিন চলমান সংকট নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে  ফোনালাপ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আলাপকালে তিনি বলেন, কোরিয়া উপদ্বীপে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আগ্রহ আছে চীন, রাশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর।

দুই নেতার ফোনালাপের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, পরমাণু অস্ত্রের বিষয়, বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে  চীন।

চীনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আলাপকালে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

জুলাইয়ে দুটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস। পরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব জাতিসংঘেও পাস হয়। এ নিয়ে চটে যায় উত্তর কোরিয়া। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা গুয়ামে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হুমকি দেয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভিসা পেয়েছেন নিবন্ধিত সব হজযাত্রী 

8825

ঢাকা : হজ ভিসা নিয়ে জটিলতার নিরসন হলো, দূর হলো অনিশ্চয়তা, অস্বস্তি। চলতি বছর হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধিত আর কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর ভিসা বাকি নেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বছরের নিবন্ধিত ১ লাখ ১৮ হাজার ৯২৪ হজযাত্রীর সবার ভিসা দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো হজ ভিসার আবেদন সৌদি দূতাবাসে নেই। ঢাকার সৌদি দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ভিসা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করে।

এর আগে ভিসা জটিলতায় যাত্রী না পাওয়ায় একাধিক হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সৌদি দূতাবাস সব হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বস্তি হজ ফ্লাইটেও :এদিকে হজযাত্রা

নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার জট খুলতে শুরু করেছে। যথাসময়ে ছাড়ছে নির্ধারিত ফ্লাইট। কোনো হজ ফ্লাইট বাতিলও হচ্ছে না। এতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে আটকেপড়া হজযাত্রীদের মধ্যে।

মঙ্গলবার বিমানের কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি। পাঁচটি ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ফ্লাইট আগে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের আটকেপড়া হজযাত্রীদের পরিবহন করেছে।

যাত্রীর অভাবে বিমান বাংলাদেশ এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ২৭টি ফ্লাইট বাতিল হলেও এখন আর কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন হজ পরিচালক সাইফুল ইসলাম। মঙ্গলবার আশকোনা হজ অফিসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬৮ হাজার ১৫৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পেঁৗছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৩৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬০ হাজার ৮২০ জন রয়েছেন। হজ চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরব যাবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৭টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ১০৪টিসহ মোট ২০১টি ফ্লাইটে এসব হজযাত্রী সৌদি গেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রধান বিচারপতিকে কী বলেছেন ওবায়দুল কাদের? 

54111

ঢাকা : প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাথে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক নিয়ে রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে। তবে এ বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের তরফ থেকে কোনো কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। স্বয়ং আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকও এ বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত নন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ফলে প্রধান বিচারপতি ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের এ বৈঠক ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক নিয়ে ইতোমধ্যেই চরম উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা জানিয়েছে বিএনপি। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কেউ সরাসরি কোনো কথা না বললেও মূলত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির কাছে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থানই তুলে ধরেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে।

বৈঠকের কথা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বাসায় গিয়েছিলাম। তার সাথে আমার দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছিল। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে পর্যবেক্ষণ বা অবজারভেশন ছিল তা নিয়ে আমাদের পার্টির বক্তব্য জানিয়েছি। আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে দীর্ঘক্ষণ।’

তবে আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে কিছু জানাতে চাননি ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তার (প্রধান বিচারপতি) সাথে আলোচনা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ। আরো আলোচনা হবে। আলোচনা শেষ হয়নি। শেষ হওয়ার আগে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সময় হলে আপনারা সব কিছু জানতে পারবেন। আমিও বলব।’

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানায়, এ রায় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তবে রায়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক বা বিচার বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান হোক তা সরকার চায় না। তাই রায়ে থাকা অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগের দায়িত্ব আছে। সে জন্য প্রধান বিচারপতিকে এ দায়িত্ব নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন করতে অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের।

তবে প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো অবস্থান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে জানাননি। জানা গেছে, সাক্ষাতের অগ্রগতি শনিবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন ওবায়দুল কাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা আরো চলবে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে পরে রায় নিয়ে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করব।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩ জুলাই বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহালের পক্ষে মত দেন। এরপর ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় কয়েকটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণসহ প্রকাশ করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই সরকারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এ রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে সরকারের পদত্যাগ দাবি তুলেছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের এ রায় এবং পর্যবেক্ষণকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত ও চরম ক্ষুব্ধ হন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা।

বিশেষ করে কারো ‘একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি’ এবং ‘বর্তমান সংসদ অপরিপক্ব’ আদালতের এ পর্যবেক্ষণকে কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছেন না। সে জন্য এ রায় ঘোষণার পর কিছু দিন চুপ থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে দলটির নেতারা মুখ খোলা শুরু করেছেন। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন তারা। দল ও সরকারের শীর্ষ-পর্যায় থেকে শুরু করে মধ্যম সারির নেতামন্ত্রীরাও আদালতের রায় নিয়ে কথা বলছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে আক্রমণ করে অবিলম্বে প্রধান বিচারপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না হলে অপসারণও দাবি করেছেন। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামারও হুমকি দিচ্ছেন তারা। দাবি আদায়ে সারা দেশে তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছেন আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরাও।

অন্য দিকে এ রায়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে সিনিয়র আইনজীবী এবং বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিনন্দন জানিয়েছে। রায়ের কঠোর সমালোচনা, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ এবং আন্দোলন কর্মসূচিকে আদালতের চরম অবমাননা হিসেবে মনে করছেন তারা। একটি রায় ঘিরে সরকারের এমন আচরণকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিচারাঙ্গনের ওপর চরম চাপ বলেও মনে করছেন অনেকে।

তারা বলছেন, এর আগেও একাধিকবার বিচার বিভাগের ওপর চাপের এমন ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে গেছেন এমন গুজবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। একই শাসনামলে রাজধানীর বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে ড. কামাল হোসেনের করা একটি রিট পিটিশন আদালতের গেটে হাজারো বস্তিবাসীকে জড়ো করে বিচার বিভাগের ওপর চাপ তৈরি করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এবারো পরিস্থিতি সে রকম কিছুর দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে আওয়ামী লীগ বা সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণকেই তারা আপত্তিজনক হিসেবে মনে করছেন। কারণ পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলা হয়েছে। বর্তমান সংসদকে অপরিপক্ব বলে সমালোচনা সরকারবিরোধীদের দাবি সত্য বলে প্রমাণ করেছে। এ পর্যবেক্ষণ যদি বহালই থাকে তবে ভবিষ্যতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আওয়ামী লীগের ওপর। এমনকি এ পর্যবেক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। যার ফসল ঘরে তুলবেন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সমালোচকেরা। সে জন্য এ পর্যবেক্ষণকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জ করতে যা যা করার সবই করবে সরকার।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল বলেছেন, ‘পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। কেউ যদি বলে একজন একটা দেশ স্বাধীন করতে পারে নাই। একজন একটা দেশ গঠন করতে পারে না। এ উক্তি খুবই দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘রায় নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে যেসব কথা বলা হয়েছে তা দুঃখজনক। রায় নিয়ে নয়, রায়ের বাইরে আমাদের (সংসদ সদস্য) অপরিপক্ব বলা হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক কথা। আমরা লেখাপড়া জানা শিক্ষিত মানুষ।’

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে দেশের মানুষ জানে। বঙ্গবন্ধু যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তা চন্দ্র সূর্যের মতোই সত্যি। এটা নিয়ে রায়ে যা বলা হয়েছে তা জনগণ মেনে নেবে না, ক্ষমা করবে না। সুতরাং এ রায়ের পুনর্বিবেচনা জরুরি।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘এই রায়ে জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। সংবিধানে আছে সব কিছুর মালিক জনগণ। সুতরাং জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ক্ষমতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বলা যায়, রায় সংবিধানপরিপন্থী। আর ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে এতে করে স্বাধীনতাবিরোধীদের উসকানি দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে অমীমাংসিত অবস্থানে নিতে চাইছে। সুতরাং এ রায় প্রত্যাখ্যান করছি।’

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, রায় নিয়ে দল ও সরকারের অবস্থান প্রধান বিচারপতির কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রায় ও পর্যবেক্ষণ বহাল থাকলে সরকারের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সাথে একটা দূরত্ব তৈরি হবে বলেও আশঙ্কার কথা জানান প্রধান বিচারপতিকে। সে জন্য রায়ের পর্যবেক্ষণ কিভাবে একপাঞ্জ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগ বা সরকার সামনে পদক্ষেপ নেবে বলেও প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে দেন তিনি।

এ দিকে প্রধান বিচারপতির সাথে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠককে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীরা। বৈঠকের খবরে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) রাতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাসায় গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সেখানে তিনি নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারণ ইতোমধ্যে এরাই (আওয়ামী লীগ) প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে সন্ত্রাস ও সঙ্ঘাতের ভাষায় কথা বলেছেন।’

অন্য দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সাথে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকের বিষয়ে গতকাল এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সাথে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সাক্ষাৎ হয়েছে বলে আমি শুনেছি। এখনো সাক্ষাতের বিষয়বস্তু জানি না। তবে এটা ঠিক যে বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইন বিভাগের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলতে পারে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাবেন।’

আনিসুল হক আরো বলেন, ‘পথ চলতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। দেশের স্বার্থে আলাপ-আলোচনার পথ সব সময়ই খোলা। এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সঙ্কটের কোনো শঙ্কা নেই বলে আমরা মনে করি।’-নয়া দিগন্ত

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজ অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট 

8636

ঢাকা : হজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসা জটিলতা দূর করণে সৌদি সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে যোগাযোগের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া রিটে একটি তদন্ত কমিশন গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

হজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এই রিট আবেদনটি করেন।

বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে বেলা ২টায় শুনানির কথা রয়েছে।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।

তবে, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি হাজির হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানায়।

অবশ্য হজ অফিসের অভিযোগ, ভিসা জটিলতা নয় বিমান সংকটের কারণে হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিস্তায় রেড এলার্ট 

888

নীলফামারী : গত ৪ দিনের ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে তিস্তা নদী ফুলে ফেপে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানি। তিস্তার পানি শনিবার রাত ১০ টার দিকে বিপদসীমার ৪০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচেছ।

ভারতীয় একাধিক গনমাধ্যম ও বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ৫৪ টি স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। সুত্রমতে, গজলডোবায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে তারা সবকটি স্লুইচগেট খুলে দেয়।

গজলডোবা ব্যারেজর উজানে ভারতের দো-মোহিনী পয়েন্টে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বর্ষন হচ্ছিল। সেই সাথে পাহাড়ী ঢল। পানির চাপ সামলাতে গজলডোর সবকটি গেট খুলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গজলডোবার গেট খুলে দেয়ার কারনে তিস্তার বাংলাদেশ অংশে হুহু করে বাড়ছে পানি।

উজান হতে ঢল বাংলাদেশের তিস্তা নদীতে ধেয়ে আসছে। ভারী বর্ষন আর উজানের ঢলে কারনে তিস্তা ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে।

শনিবার রাত ১০টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরন পূর্বাভাস কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে রাত সাড়ে ৯টায় ভারত তাদের অংশের তিস্তা নদীতে রেড এলার্ট জারি করেছে। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের উজানের ভারত তিস্তা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় ও ভারতের দো-মোহনী থেকে বাংলাদেশ কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হয়েছে হলুদ সংকেত।

এদিকে উজান হতে ভয়াবহ ঢল আসছে খবরে তিস্তা অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতংক। অপরদিকে ভারতের গজলডোবার গেট খুলে দেয়ার খবরে বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকায় সর্তকতা জারি করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ এলাকার ফ্লাড বাইপাস হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় এটি বিধ্বস্থ হতে পারে। সেখানে অবস্থান করছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান।

তিনি জানান তিস্তায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার গ্রাম ও চর এলাকায় মাইকিং ও ঢোল শহরত করে মানুজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডিমলা খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাঁইশপুকুরের একটি সাইট বাধ বিধ্বস্থ হয়েছে। একই ইউনিয়নের ছোটখাতা ও বানপাড়া গ্রামের ঘর-বাড়ির টিনের চালের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার নির্দেশে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, নদীর পানি হু-হু করে শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উজানের ঢলের খবরে তিস্তা অববাহিকার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত গ্রাম ও চরের পরিবারগুলোকে নিরপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, ভারতের দো-মোহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশে। তাই সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সেই সাথে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ টি স্লুইচ গেট খুলে রেখে সর্তকদৃস্টি রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আইনাঙ্গনে তোলপাড় ও নানা প্রশ্ন 

9889

ঢাকা : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সম্পর্কে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হকের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্য নিয়ে আইনাঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তার কিছু মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ দেশের একাধিক শীর্ষ আইনজীবী। তারা বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকই দায়ী। প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় একটি পক্ষকে খুশি করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (ত্রয়োদশ সংশোধনী) বাতিল করেছেন। অথচ এ ব্যবস্থা ছিল দেশের সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফসল।

আশা-আকাক্সক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। অথচ একটি পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক আইনজীবী এসব কথা বলেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের রায় নিয়ে অতীতে কখনও মন্তব্য করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজটি করেছেন, যা দুঃখজনক।

বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক হয়তো বলবেন, তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটি তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে কথা বলার জন্য তিনিই যথার্থ এবং উপযুক্ত ব্যক্তি। আইন কমিশনের কাজই হচ্ছে আদালতের দেয়া রায় মূল্যায়ন করা, রায় পর্যালোচনা করা, রায়ের ভালো-মন্দ, ত্রুটি-বিচ্যুতি উভয় দিক দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে এবিএম খায়রুল হক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সঠিক কাজটিই করেছেন।’

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭  সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত। এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট গত বছর ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করলে ৩ জুলাই আপিলের রায়েও তা বহাল থাকে। ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জানা যায়, ৯৬ অনুচ্ছেদের ছয়টি ধারা পুনর্বহাল করার মধ্য দিয়ে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মোট ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনামূলক বেশ কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রথমদিকে এ ইস্যুতে কথা না বললেও রায়ের এক সপ্তাহ পর মুখ খোলেন সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগেই বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক।

ওই রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে এবিএম খায়রুল হকের কাছে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ মনে হয়েছে। এছাড়া শব্দচয়নে তিনি দেখতে পাচ্ছেন ‘অপরিপক্বতা’।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা এবিএম খায়রুল হক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু প্রজাতন্ত্র, সেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদের কাছে বিচারকদেরও জবাবদিহিতা থাকার কথা। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের ফলে তা আর থাকল না। তিনি বলেন, ‘আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’

বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের এ মন্তব্যের পরপরই শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। বিশেষ করে আইনাঙ্গনে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। আদালতের বিষয় তাই এ নিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে রাজনীতিবিদরা মতামত প্রকাশ করতে না চাইলেও একাধিক শীর্ষ আইনজীবী এবিএম খায়রুল হকের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘যে কোনো রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনা হবে। কিন্তু এ কাজটি আইন কমিশনের নয়। এটি আইন কমিশনের কাজের মধ্যে পড়েও না। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক হয়তো বলবেন, ব্যক্তি হিসেবে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটিও কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

তিনি রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের অবস্থান, আইন কমিশন এবং বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। যা সত্যিই দুঃখজনক। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে মানুষ এমনটা আশা করেন না।’
ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘রায় আগে থেকেই লিখে রাখা হয়েছে’, ‘বিচার বিভাগ অপরিপক্ব’- এ ধরনের কথাবার্তা তার (এবিএম খায়রুল হক) মুখ থেকে শোভা পায় না। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ ধরনের কথা কোনো অবস্থাতেই বলতে পারেন না। কারণ, তিনি নিজেও কর্মজীবনে অনেক রায় দিয়েছেন। কেউ যদি তার দেয়া সেসব রায় নিয়ে এখন প্রশ্ন উত্থাপন করেন- জবাবে কি বলবেন?’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য এবিএম খায়রুল হককে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ে তিনি (এবিএম খায়রুল হক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করেছেন। দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এ অস্থিতিশীলতার শেষ কোথায় আমরা কেউ জানি না।’ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশের মানুষের আশা-ভরসার জায়গা ছিল। এ ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দেশের গণতন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ খারাপ নজির স্থাপন করে গেছেন।’

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে এবিএম খায়রুল হক দেশকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এ ব্যবস্থা বাতিল করার পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও বড় কোনো পুরস্কারের আশায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তিনি মনগড়া কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে তিনি হয়তো আরও বড় ধরনের পুরস্কারের আশা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখেন, যা জিয়াউর রহমানের সময়েই করা। তখন তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখার পক্ষে মত দিলেন, এখন কেন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে তো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলই বহাল রাখা হয়েছে। এতে তার-ই তো খুশি হওয়ার কথা।’

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক একজন স্ববিরোধী মানুষ। আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতা নিয়েই প্রকারান্তরে প্রশ্ন উত্থাপন করলেন। বিচার বিভাগের সম্মান এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যা তিনি কোনোভাবেই করতে পারেন না। আদালতের রায় বিশ্লেষণ করার জন্য আইন কমিশনে তাকে বসানো হয়নি। তার কাজ আইন প্রণয়নে সহায়তা করা। কাউকে খুশি করে বক্তব্য দেয়া তার কাজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় যখন আদালতে প্রকাশ্যে পড়ে শোনান তখন তিনি বলেছিলেন আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অথচ এর ১৬ মাস পর যখন তিনি পূর্ণাঙ্গ রায় লিখিতভাবে প্রকাশ করলেন তাতে এ কথাটাই বাদ দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একটি পক্ষকে খুশি করতেই তিনি এ কাজটি করেছেন। পরে এর পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়ে।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে এবিএম খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক মুন সিনেমা হলের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলক পূর্বপরিকল্পিত অপ্রাসঙ্গিকভাবে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছেন। তিনি পঞ্চম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়কেও বিতর্কিত করেছেন। এ কারণে বিচারপতি খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলে পূর্ব পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছেন।’-যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রায়ে দ্বিমত থাকলেও আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল: আইনমন্ত্রী 

3699

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের প্রতি দ্বিমত থাকলেও আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তাতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। আমরা ধন্যবাদ জানাই চার বিচারপতিকে। তারা এ পর্যবেক্ষণে একমত হতে পারেননি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাক্ট ইন ইস্যুর বাইরে গিয়ে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধান পরিপন্থী আখ্যায়িত করে প্রধান বিচারপতি যে রায় দিয়েছেন, তা যুক্তি নির্ভর নয়। বরং আবেগ ও বিদ্বেষ তাড়িত।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রধান বিচারপতির রায়ে যেসব আপত্তি ও অসংগতি রয়েছে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগ নিব।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে নয়, আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো। রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। তবে রিভিউয়ের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্ব নেই। বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার জন্য সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বুধবার আইন কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অপরিপক্ক ও পূর্বপরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেছেন, ‘মামলার মূল ইস্যুর বাইরে গিয়ে রায় এবং পর্যবেক্ষণে অনেক অযাচিত মন্তব্য করা হয়েছে, যা বাঞ্ছনীয় নয়।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, ‘মূল সংবিধানে যেহেতু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না, সেহেতু এটা রাখা সংবিধান পরিপন্থী।’

প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত। এরপর সুপ্রিমকোর্টে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৬ সালে সংবিধানের ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন। গত ৩ জুন আপিল বিভাগে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি  ১ আগস্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে অগ্রগতি 

845

ঢাকা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। গত সোমবার ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে দেশটির আগ্রহ আছে বলে জানা গেছে।

নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর শরিফুল হক ডালিমকে স্পেন আর মোসলেম উদ্দিনকে জার্মানি থেকে ফেরত আনার ব্যাপারে দুই দেশের সঙ্গে সরকার যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যার রায় কার্যকরের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় খুনির অন্যতম নূর চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের কারণে ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে যাচ্ছে কানাডা। পলাতক অন্য দুই খুনি খন্দকার আবদুর রশীদ ও আবদুল মাজেদ কোথায় আছেন, সেটা বাংলাদেশ যে নিশ্চিতভাবে জানে না তা স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আছে। ২ আগস্ট দুপুরে আনিসুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ না। আর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে বলে তাঁকে তাঁর দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, এমন কোনো অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেই। আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু থেকেই রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার বিষয়টি তুলেছি। আজকে আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে লক্ষ্য, সেটা যাতে সফল হয়, সে কারণে আমি সব তথ্য দেব না। তবে এটুকু বলতে পারি, আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

অগ্রগতি কি শুধু রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে? নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় কী হলো—এসব প্রশ্নের উত্তরে এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফেরত আনার বিষয়ে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভাপতি আনিসুল হক বলেন, ‘আমি এক ক্ষেত্রের বিষয়ে (রাশেদ চৌধুরী) মিন করছি। কানাডার ক্ষেত্রে বলতে পারি, আলোচনা চলছে।’

পলাতক খুনিদের বিষয়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে টাস্কফোর্সের কোনো সভায় আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে আনিসুল হক নেতিবাচক জবাব দেন। অবশ্য টাস্কফোর্সের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সভায় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন সফরের সময় অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর তিন মাস পর, অর্থাৎ ২৭ মে মার্কিন আইনি পরামর্শক সংস্থা স্কাডেন এলএলপিকে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত আনার কাজে যুক্ত করা হয়। সংস্থাটির পক্ষে মামলার তদারক করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাবেক আইনি পরামর্শক গ্রেগরি ক্রেইগ। ইতিমধ্যে গ্রেগরি ক্রেইগ ও স্কাডেন এলএলপিতে তাঁর সহকর্মীরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, আইন দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জন স্টুয়ার্ট ব্রুসের সঙ্গে।

রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে গত বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী মার্কিন আইন দপ্তরে অনুরোধ জানান। মার্কিন আইন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্কাডেন এলএলপি ঢাকায় জানিয়েছে, রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত জুনে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিসা কার্টিসের সঙ্গে বৈঠকে রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে পুনরায় অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক দফা রাজনৈতিক আশ্রয় লাভে ব্যর্থ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের অন্যতম এ কে এম মহিউদ্দিনকে ২০০৭ সালের জুনে বাংলাদেশের অনুরোধে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বার্লিনের একটি কূটনৈতিক সূত্র গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে জানায়, মোসলেম উদ্দিনের জার্মানিতে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সম্প্রতি সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মোসলেম উদ্দিনকে ফেরানোর বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বার্লিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি শরিফুল হক ডালিম কখনো পাকিস্তানে, কখনো কেনিয়ায়, কখনো লিবিয়ায় আবার কখনো ইউরোপে—এমন নানা তথ্য সরকার পেলেও তা অসমর্থিত ছিল। সর্বশেষ স্পেনে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সরকার নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনৈক মিজানুর রহমানের সহায়তায় এখন স্পেনেই আছেন শরিফুল হক ডালিম। এরপর তাঁকে ফিরিয়ে আনতে স্পেনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

শরিফুল হকের অবস্থান স্পেনে অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল মাদ্রিদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানান।

কানাডার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্যরাষ্ট্র জার্মানি ও স্পেনে মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নূর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ২০০৭ সালে কানাডার উচ্চ আদালত খারিজ করে দিলেও তাঁর নিজের দেশে ফেরতের আগে ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া বা প্রি রিস্ক রিমুভাল অ্যাসেসমেন্ট (পিআরআরএ) এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই আইনি সংস্থা টরি এলএলপি বিষয়টি কানাডা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁকে ফেরত পাঠাতে একটি টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠনের বিষয়ে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল কানাডায় আলোচনা করেছে। আগামী ডিসেম্বরে এ নিয়ে আবার দুই পক্ষের আলোচনার কথা রয়েছে।

ইসলামাবাদের একটি সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রশীদ সর্বশেষ পাকিস্তানে আছেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে তথ্য পেয়ে গত ডিসেম্বরে তাঁর সম্পর্কে জানতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি পাকিস্তান। আর আবদুল মাজেদ সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থানের কথা শুনলেও এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ।

ফিরে দেখা

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তত্কালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার-প্রক্রিয়া।

দীর্ঘ ছয় বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেওয়া ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এ মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হলে দায়মুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা। পলাতক বাকি ছয়জন হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন। আসামিরা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

খুনিদের চাকরি হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের ৮ জুন প্রকাশিত এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সবাইকে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান ও খন্দকার আবদুর রশীদ ছাড়া বাকিরা চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

নূর চৌধুরী ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৯৭৬ সালে তিনি ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরে আলজেরিয়া ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং হংকংয়ের কনসুলেটে বদলি হন তিনি। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। ওই বছরই তিনি কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। কানাডার রাজধানী টরন্টোর ১৩ কিলোমিটার দূরে ইটোবিকোকে তিনি এখন অবস্থান করছেন।

রাশেদ চৌধুরী ১৯৭৬ সালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তিনি কেনিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান ও ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করেন। ১৯৯৬ সালের জুলাইয়ে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে ওই বছরের জুলাইয়ে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো চলে যান।

১৯৭৬ সালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব হিসেবে নিয়োগ পান শরিফুল হক। ১৯৮২ সালে হংকংয়ের কনসুলেটে বদলি হয়ে সেখানে তিনি ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। হংকং থেকে ওই বছরই তাঁকে কেনিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করা হয় এবং ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।-প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অনিশ্চয়তা বাড়ছেই হজ যাত্রীদের 

1502218040

ঢাকা : হজ যাত্রীদের ঊদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। ই-ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট বিপর্যয়, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা, মধ্যস্বত্বেভাগীর প্রতারণা এবং এক শ্রেণীর মুনাফালোভী হজ এজেন্টদের পাকচক্রে পড়ে হজ যাত্রীরা দু:সহ সময় পার করছেন। এই সংকট এবং ভোগান্তির জন্য হজ এজেন্সি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হজের মতো ধর্মীয় পবিত্রতা নিয়ে রাঘব-বোয়ালদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে বেপরোয়া। হজ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের অনুগত হজ এজেন্টদের কাছে নিবন্ধিত হজ যাত্রীরা আছেন কিছুটা স্বস্তিতে। অন্য হজ যাত্রীদের অবস্থা করুণ। এখনো ৪৮ হাজার হজ যাত্রীর ভিসা হয়নি। আর ৯ দিন পর সৌদি সরকার ভিসা দিবে না। গতকাল পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদনই জমা দেয়নি । হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ আগস্ট। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীর অভাবে বাতিল হচ্ছে শিডিঊল ফ্লাইট। ই-ভিসা জটিলতার কারণে টিকিট কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। ই-ভিসার প্রিন্ট নিতে গিয়ে সার্ভার ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা পড়ছেন যাত্রীরা। ইতোমধ্যে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত জটিলতা নিরসন না হলে কমপক্ষে ৪০ হাজার যাত্রীর হজ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। আর হজ এজেন্টদের সংগঠন হাব নেতারা কেউ কেউ বলছেন, ১০ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আগামী ১৭ দিনে ৮৪ হাজার হজযাত্রীকে পরিবহন করতে হবে বিমান ও সাউদিয়াকে। মাত্র ৯ দিনে এই সব যাত্রীর ই-ভিসা ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছে না। মাসের শেষে যদি সত্যিসত্যিই যাদের হজ করতে যাওয়ার কথা তারা সবাই না যেতে পারেন তাহলে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি আরব ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংকট তৈরি করছে। ছয় শতাধিক হজ এজেন্সির মধ্যে মাত্র শ’খানেক এজেন্সিকে বাংলাদেশ বিমান টিকিট দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩০টি এজেন্সির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি টিকিট পেয়েছে। যারা পরে অতিরিক্ত দামে ছোট এজেন্সিগুলোর কাছে সেগুলো বিক্রি করছে। টিকিট নিয়ে এজেন্সিগুলোর মধ্যে দরকষাকষির কারণেও অনেক যাত্রী বিমানের টিকিট পাচ্ছেন না। আশকোনা হজক্যাম্পে দিনের পর দিন বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। আর কোন কোন এজেন্সি অভিযোগ করছে, সিন্ডিকেট করেছে রাঘব বোয়ালরা।

গতকাল পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাতিল হওয়া হজ ফ্লাইটগুলোর বিপরীতে জেদ্দা বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া স্লট পাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ভিসা জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত বাতিল ২১টি ফ্লাইটের ৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে ক্রমশ। দ্রুত অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ না পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিমানের স্লট বরাদ্দ পাওয়া গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হজ নিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনা নেওয়ার পরও যাদের জন্য জটিলতা তৈরি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফি বাড়ানোর খবর রাখেনি সরকার

সৌদি সরকার নতুন ভিসা কাঠামো কার্যকর করে ২ অক্টোবর (১ মহররম)। নতুন নিয়মাবলিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পুনরায় হজে গেলে দুই হাজার রিয়াল ফি দিতে হবে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের জারি করা বিশাল হজ প্যাকেজের কোথাও এর উল্লেখ ছিল না। এরই পরিণতি ২৫ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে ৫ হাজারের বেশি হজ যাত্রীকে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনছে। হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের নেতারা বলছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণে আজ এই পরিস্থিতি। অতিরিক্ত ফির কথা হজ প্যাকেজে থাকলে ভোগান্তি হতো না।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানতাম না।

এদিকে সরকারি খরচে যাদের হজে পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেককে নিয়ে চরম সমালোচনা চলছে। সরকারী খরচায় হজে যাচ্ছেন মন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা । তালিকায় ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের ৩৫ জন লোক হজ চিকিত্সকদের সহায়তা দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যারা চিকিত্সক নন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ১৭১ জনের হজ চিকিত্সকদের সহায়তাকারী তালিকায় আছেন গাড়িচালক, নিরাপত্তা প্রহরী, গানম্যান ও মসজিদের ইমাম প্রমুখ। তালিকায় থাকা কারো কারো নামের পাশে আবার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই। এই টিমে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ২৫ জন গাড়িচালককে। মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, এমনকি টাইপিস্টও আছেন এই মেডিক্যাল সহায়ক দলে। দলে এমন সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নেওয়া হচ্ছে, যাদের অনেকেই এই কাজের উপযোগী নন। ওই দলে আরও আছেন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সহায়ক, পাম্প অপারেটর, টাইপিস্টসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কৃষিবিদ ও ফার্মাসিস্টরাও যাচ্ছেন এই দলের সদস্য হয়ে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে হজযাত্রীদের চিকিত্সা সহায়তা দিতে এই ১৭১ জন যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যাতায়াত ভাতা ও দৈনিক ভাতা ইত্যাদি মিলে জনপ্রতি  পদ অনুযায়ী পাবেন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে। এই অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি সমালোচনা হলেও কোন প্রতিকার হয়নি। ইতিমধ্যে এই কথিত সহায়ক টিমের অনেক সদস্য  সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন। এই প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ময়মনসিংহ থেকে যারা হজে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন তাদের নেয়া হয়েছে। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে যাদের সুপারিশ করা হয় তাদেরও নেয়া হয়েছে।

ভিসা জটিলতা : ২৮ হজ এজেন্সিকে মন্ত্রীর আল্টিমেটাম

চলতি বছর সময় মতো ভিসার আবেদন করতে পারেনি এমন ২৮টি হজ এজেন্সিকে ভিসার আবেদন করতে দুই দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আশকোনা হজক্যাম্পে হজের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। হজ ফ্লাইট বাতিলসহ ভিসা জটিলতার জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেন মন্ত্রী। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত পরিসখ্যান অনুযায়ী মোট ২৮টি এজেন্সি ৫ হাজার ১১৭ জন হজযাত্রীর ভিসার আবেদন জমা দেয়নি। নাম ও হজযাত্রীর কোটা অনুযায়ী প্রাপ্ত তালিকার বিভিন্ন এজেন্সিগুলো হলো রিয়েল ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), বদরপুর ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস (২৪১ জন), আজমল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (১৫৯ জন), ফারুক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৮৭), গোল্ডেন ট্রাভেলস্ অ্যান্ড কার্গো সার্ভিসেস (২৫১ জন), এআরএস ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), ঢাকা হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৮২ জন), ঢাকা ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৩ জন), গ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি (১৬৪ জন), হাবিব এয়ার ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (২২০ জন), হা-মিম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫৪ জন), ইহরাম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৭ জন), কাশেম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (২০২ জন), এমএএম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস (১৫০ জন), এম/এস এম নুর ই মদিনা হাজি ট্রাভেলস্ (২০৮ জন), মাবরুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (১৬৪ জন), মাহির হজ সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৭২ জন), মক্কা বাবে জান্নাত ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস ্ (১৫৮ জন), মেছফালা ট্রাভেলস (২২৫ জন), এমএইচএম ওভারসিজ (১৮০ জন), মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন (১৬৬ জন), পেনাং ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫১ জন), সিনেটর এয়ার ট্রাভেলস (১৯৪ জন), এম/এস মক্কা অ্যান্ড মদিনা ট্রাভেলস্ (২৬৫ জন), সাকের হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস্ (১৫৪ জন), মিম ট্রাভেলস্ ইন্টারন্যাশনাল (১৬৮ জন), তাওসিফ ট্রাভেলস্ অ্যান্ড ট্যুরস্ (১৫৫ জন) ও এম আলী ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস (২০৯ জন)। -ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঢাকায় যুক্ত হলো ৩৬টি নতুন ওয়ার্ড 

723

ঢাকা : ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৬টি ইউনিয়নে ৩৬টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। রবিবার এই ওয়ার্ড গঠন করে গেজেট জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এর আগে আদেশ জারি করা হয়। এ নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনে মোট ওয়ার্ড হলো ১২৯টি।

‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯’ কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তার সুপারিশ অনুযায়ী কর্পোরেশনের ইউনিয়নগুলোকে ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাঈদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গত ৯ মে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নতুন করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার মধ্য দিয়ে ঢাকার দুই সিটির আয়তন বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়। গত ২৮ জুন ঢাকা সিটির আয়তন বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নওয়াজের উত্থান-পতন 

955

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। এ যাবৎকালে দেশটিতে বেসামরিক কেউ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। কিন্তু নওয়াজই একমাত্র ব্যক্তি যিনি টানা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নওয়াজের জন্ম ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তারা বাবা একজন ধনাঢ্য শিল্পপতি ছিলেন। তিনি ইত্তেফাক এবং শরিফ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

জুলফিকার আলি ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন নওয়াজ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। এরপরই রাজনীতিতে প্রবেশের চিন্তা করেন তারা। নওয়াজ ব্যবসায়ে ভালো করতে পারবেন না এমন চিন্তা থেকেই তার বাবা তাকে রাজনীতিতে ঢোকার পরামর্শ দেন। এরপর ১৯৭৬ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগে যোগ দেন নওয়াজ।

জেনারেল জিয়াউল হকের সময়ে নওয়াজ প্রথম পাঞ্জাব ক্যাবিনেটের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৮১ সালে তিনি পাঞ্জাব উপদেষ্টা বোর্ডে যোগ দেন।

১৯৮৫ সালে নওয়াজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে সামরিক শাসন শেষে তিনি আবারও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন নওয়াজ শরীফ।

১৯৯৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন নওয়াজ শরিফ। এরপর বহু উত্থান পতনের পর ২০১৩ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন নওয়াজ শরিফ। কিন্তু তৃতীয়বারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন এই পাক প্রধানমন্ত্রী।

২০১৫ সালে পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নওয়াজের পরিবারের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরেই নওয়াজ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

তবে কোনো ধরনের দুর্নীতির কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন নওয়াজ শরিফ। কিন্তু শুক্রবার আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে পদত্যাগ করতে হলো।

সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার সর্বসম্মতিক্রমে নওয়াজের বিরুদ্ধে ওই রায় ঘোষণা করে।

নওয়াজের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন নওয়াজ শরিফ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর