২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:২০, শনিবার

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স জট

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স জট 

888

ঢাকা, ২৪ জুন : হাইকোর্টে বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলার জট। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৮৫টি ডেথ রেফারেন্স মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এসব ডেথ রেফারেন্সের বিপরীতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিত জেল আপিলও রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়।

আইনজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টে অধস্তন বেঞ্চ ও দক্ষ বিচারপতি সংকটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ বিচারপতির সংখ্যা বড়ানো প্রয়োজন।

হাইকোর্টের তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করে থাকে। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসব মামলার শুনানির জন্য বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এসব বেঞ্চে ২০১০ সালে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলাও রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোনো জজ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। ফলে দায়রা আদালতে দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়।’ আইনের এই বিধানটিই ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালে মোট ডেথ রেফারেন্স মামলা ছিল ৪৩৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১০১টি। আর বিচারাধীন থাকে ৩৩৮টি। পরের বছর ২০০৫ সালে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৪৯টি; বিচারাধীন থাকে ৪৬৪টি। ২০০৬ সালে ৫৭৬টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৬৫টি; বিচারাধীন থাকে ৫১১টি।

২০০৭ সালে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৪৮টি; বিচারাধীন থাকে ৪৬৫টি। ২০০৮ সালে ৬০২টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় ১২৮টি। বিচারাধীন থাকে ৪৭৪টি। ২০০৯ সালে ৫৫৭টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় ৪৮টি; বিচারাধীন থাকে ৫০৯টি। ২০১০ সালে ৫৮৫টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৩টি; বিচারাধীন থাকে ৫৪২টি।

২০১১ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৭৪টি; বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। ২০১২ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৫টি। নিষ্পত্তি হয় ১৪৫টি; বিচারাধীন থাকে ৪৫০টি। ২০১৩ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৩টি। নিষ্পত্তি হয় ১১১টি; বিচারাধীন থাকে ৪০২টি। ২০১৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৯৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৩৫টি; বিচারাধীন থাকে ৩৬৩টি।

২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৭৭টি। নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৫৮টি; বিচারাধীন থাকে ৪১৯টি। ২০১৬ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৫টি। বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৭টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২টি। বিচারাধীন আছে ৫৮৫টি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর যে সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দায়ের হয়েছে তার তিনগুণেরও বেশি। আর এ কারণে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন দোষী ব্যক্তির শাস্তি বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি দোষ প্রমাণ না হলে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাবরণ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হাইকোর্টে ডেথ  রেফারেন্সের শুনানিতে অনেক বিলম্ব হয়। অনেক সময় হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস পান আবার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনও দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিল করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। আবার আপিল মঞ্জুর হলে আপিলের নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আসামিকে ৮ থেকে ১০ বছর হয়তো কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে ঢালাওভাবে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। মামলা বৃদ্ধির এটিও একটি অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতি উত্তরণে হাইকোর্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ বিচারক নিয়োগের পক্ষে মত দেন তিনি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে শুধু বেঞ্চ বাড়ালে চলবে না, দক্ষ বিচারপতিরও প্রয়োজন। কারণ এখানে মানুষের জীবন-মরণের বিষয় জড়িত। তিনি আমেরিকার উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের দেশে মামলা নিষ্পত্তিতে ৫-৭ বছর সময় লাগে আর আমেরিকায় একটা মামলা নিষ্পত্তি করতে আরও বেশি সময় লেগে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ যথানিয়মেই কাজ করে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বিগত দিনে চাঞ্চল্যকর ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানিতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। আর এ কারণে ডেথ রেফারেন্স মামলাজটের অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। এসব মামলা নিষ্পত্তি করতে হলে দক্ষ বিচারপতিদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা জরুরি। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুখবর আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে 

92

স্পোর্টস ডেস্ক, ২৪ জুন : বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু এসময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে হাতে গোনা কয়েকটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে খেলেছে পাঁচটি টেস্ট, ২০১৬ সালে মাত্র দুটি।

তবে এদুর্দিন হয়তো ঘুচে যাবে শিগগিরই। টেস্ট ও ওয়ানডেতে লীগ পদ্ধিতি চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-আইসিসি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন শুক্রবার জানিয়েছেন, আইসিসির আগামী বোর্ড সভায় লীগ চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বোর্ড সভায় লীগ পদ্ধতি অনুমোদন হলে বাংলাদেশের তাতে টেস্ট খেলার আক্ষেপ ঘুচে যাবে।

লীগের জন্য একটা সূচিও ঠিক করা হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পরপরই টেস্ট লীগ শুরু হতে পারে। এতে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা ৯ দল হোম ও অ্যাওয়ের ভিত্তিতে চার বছরে কমপক্ষে ১২টি টেস্ট সিরিজ খেলবে। প্রতিটি সিরিজে কমপক্ষে দুটি করে ম্যাচ থাকবে। ছয়টি হবে দেশে বাকি ছয়টি বিদেশে।

এই পদ্ধতি চালু হলে শীর্ষে থাকা বাকি আট দলের সমানই টেস্ট খেলতে পারবে বাংলাদেশও।

এই পদ্ধতিতে অবশ্য বিপদে পড়ে যাবে জিম্বাবুয়ে। তারা টেস্ট খেলবে আয়রল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। তবে চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ যদি র‌্যাংকিংয়ে দশে নেমে যায় তাহলে বিপদে পড়বে টাইগাররা। নতুন প্রস্তাবে শীর্ষ ১৩ দলকে নিয়ে ওয়ানডে লীগের কথাও বলা হয়েছে। দুই বছরব্যাপী এই লীগ শুরু হবে ২০২০ সাল থেকে।

জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান নিজেদের মধ্যে টেস্ট সিরিজ আয়োজন করতে পারবে। শীর্ষ ৯ দলের শিডিউল ফাঁকা থাকলে তাদের বিপক্ষেও তারা খেলতে পারবে। নতুন টেস্ট লীগ বিশ্বকাপের পর শুরু হলে চলবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

এই লীগ চালু হলে বাংলাদেশের জন্য যেমন ভালো তেমন খারাপও হতে পারে। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে নয়ের মধ্যে থাকলে সমস্যা নেই। তাতে লীগের অংশ হতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু দশে নেমে গেলেই বিপদ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ 

93

ঢাকা, ২৪ জুন : প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এখানে প্রায় এক লাখ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাঁচ হাজার নারী মুসল্লির নামাজ পড়ার পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এখন শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ চলছে। রবিারের মধ্যে ময়দান নামাজ পড়ার জন্য পুরো প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া খুব বেশি প্রতিকূল না হলে সকাল সাড়ে ৮টায় এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্র্রপতি মো. আবদুল হামিদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই জামাতে অংশ নেবেন।

১৩ রমজান থেকে ঈদগাহ সাজানোর কাজ শুরু হয়। ২২০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। শুক্রবার ঈদগাহ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্যান্ডেলের কাজ প্রায় শেষ। ফ্যান লাগানো হয়েছে। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে শামিয়ানার ওপর পানি নিরোধক ত্রিপল লাগানো হয়েছে। মাঠের সীমানা ও আশপাশের গাছে রঙ করা হয়েছে। সামনের সড়ক বিভাজকও রঙ করা হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধক নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। মাঠের ঘাস কাটা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসির কর্মকর্তা মিল্লাতুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে জানান, তাদের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। রোববারের মধ্যে ময়দান পুরো প্রস্তুত হয়ে যাবে। শেষ দিন সন্ধ্যায় জায়নামাজ বিছানো হবে। অজুর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঁচটি অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব। এ ছাড়া সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াড থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা পরিদর্শন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ সময় তিনি ঈদের জামাতে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে না আনার পরামর্শ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নিষেধ করা হচ্ছে না তবে পানির বোতলও না আনলে ভালো হয়। নিরাপত্তার জন্য অনেক ডিভাইস মোতায়েন করা হবে। ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো হুমকি নেই বলে জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সোমবার ঈদের সম্ভাবনা 

889

ঢাকা, ২৪ জুন : বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে আগামীকাল রবিবারই চাঁদ দেখা যেতে পারে। সেটি হলে এবার রোজা হবে ২৯টি।

আর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে আগামী ২৬ জুন সোমবার।

এদিকে আজ ২৪ জুন শনিবার সৌদি আরবের আকাশে ঈদের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা। এটি হলে আগামীকাল রবিবার সৌদিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আলজাজিরার খবরে বলা হচ্ছে যে পেরু, ইকুয়েডর ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে আজ ২৪ জুন ঈদের চাঁদ দেখা যাবে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে ঈদ উদ্‌যাপনের এক দিন পরই বাংলাদেশে ঈদ হয়। তবে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কেউ কেউ ওই দিনই ঈদ উদ্‌যাপন করে।

তবে দেশে ঈদ কবে হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। এর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখা ও ঈদ উদ্‌যাপনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রহমান অনেকটা নিশ্চিত করে জানান, ২৫ জুন রবিবার দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যাবে। ফলে নিশ্চিতভাবে ২৬ জুন সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ&যাপিত হবে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন না থাকলে নিশ্চিতভাবে চাঁদ দেখা যাবে।

মূলত তিনটি বিষয় পর্যালোচনা করে আবদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান। প্রথমত, দিগন্ত থেকে আলটিচিউড ১০ ডিগ্রি হলেই চাঁদ দেখা যায়। হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, ওই দিন আলটিচিউড ১৪ ডিগ্রির ওপরে থাকবে। এ হিসাবে চাঁদ দেখা যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। দ্বিতীয়ত, ২৪ জুন (শনিবার) সকাল ৮টায় নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সূর্যের আলোয় চাঁদ দেখা যায় না বলে ২৫ জুন সন্ধ্যায় চাঁদের বয়স হবে ৩৪ ঘণ্টা। ফলে চাঁদ দেখা না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তৃতীয়ত, গোধূলির পর আকাশে চাঁদ মাত্র ২০ মিনিট অপেক্ষা করলেই তা দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, ওই দিন গোধূলির পর ৪৮ মিনিট অবস্থান করবে চাঁদ। দৈবাৎ কিছু না ঘটলে ২৫ জুন চাঁদ ওঠা ও ২৬ জুন সোমবার ঈদ উদ্‌যাপিত হওয়া শতভাগ নিশ্চিত বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক।

গতকাল বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৫ জুন রবিবার সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ&যাপিত হবে এবং ওই দিন থেকেই ১৪৩৮ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের গণনা শুরু হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আজ ২৪ জুন শনিবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে বর্তমান চাঁদের অমাবস্যা কলা পূর্ণ করে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। এটি ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে সূর্যাসে্তর সময় দিগন্ত রেখা থেকে ২ ডিগ্রি ওপরে ২৯০ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং ১৩ মিনিট আকাশে থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে অস্ত যাবে। এই সন্ধ্যায় চাঁদের কোনো অংশ আলোকিত থাকবে না এবং বাংলাদেশের আকাশেও চাঁদ দেখা যাবে না। এটি পরদিন ২৫ জুন রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় দিগন্ত রেখা থেকে ১৫ ডিগ্রি ওপরে ২৮৪ ডিগ্রি দিগংশে অবস্থান করবে এবং প্রায় এক ঘণ্টা ১৩ মিনিট দেশের আকাশে অবস্থান শেষে রাত ৮টা ২ মিনিটে ২৯১ ডিগ্রি দিগংশে অস্ত যাবে। ওই সময় চাঁদের ৩ শতাংশ আলোকিত থাকবে এবং বাংলাদেশের আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে একে ভালোভাবে দেখা যাবে। ওই সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর আকাশে ওঠা চাঁদের বয়স হবে ৩৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট এবং সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মহাসড়কে গাড়ির গতি ধীর 

477

ঢাকা, ২৪ জুন : ঈদের ছুটি রবিবার থেকে শুরু হলেও আগের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কার্যত আজ থেকেই যেন ছুটি শুরু। তাই গতকাল নগরের বিভিন্ন বাসস্টেশনে ঈদযাত্রীদের ভিড় ছিল বেশ। তবে মহাসড়কগুলোর কোথাও ব্যাপক যানজটের খবর পাওয়া না গেলেও ছিল টুকরো টুকরো যানজট। গাড়ি চলেছে ধীরগতিতে।

গাবতলী : রাজধানী অন্যতম বাসস্ট্যান্ড গাবতলী। সকাল সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বাস টার্মিনালে থেকে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ শুক্রবার সকালে এখানকার দৃশ্যপট ভিন্ন। গতকাল বাস সময়মতো আসছিল। যাত্রীরাও ঠিকঠাক গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। আজ পরিস্থিতি আলাদা। সকালবেলা কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, বিরক্তমুখে বসে আছেন যাত্রীরা। বেশির ভাগ বাসই সময়মতো আসছে না। গাবতলী থেকে উত্তর ও দক্ষিণের রুটের বাসগুলো ছাড়ে। কাউন্টারে রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তর দিকের যাত্রীদের ভিড়ই বেশি। অবশ্য বরিশাল, খুলনা, যশোর, ফরিদপুরসহ দক্ষিণের দিকের যাত্রীও কম নয়।

আমিনবাজার : সকাল আটটার দিকে গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো প্রথমেই থমকে যায় এ জায়গাটিতে। তবে এরপর সেখানে যানজট হালকা হয়ে যায়। সারা দিন ধরতে গেলে ফাঁকাই ছিল।

নবীনগর : বেলা ১১টায় দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীনগর পর্যন্ত যানবাহন চলেছে ধীরগতিতে। সাভার ট্রাফিকের পরিদর্শক আবুল হোসেন বলেন, সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিশমাইল, সাভার সেনানিবাস এলাকায় তিনটি যানবাহন বিকল হয়। এ কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নবীনগরের মোড়ে বেশ কটি বাসের টিকিট কাউন্টার। এখানে তাই এসব বাস থামে। সে কারণে এখানে যানজট সৃষ্টি হয়। গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের সব গাড়ি এবং আরিচা ও পাটুরিয়াগামী গাড়িগুলোকে এ পথ দিয়েই যেতে হয়। বড় এলাকায় তাই জট সৃষ্টি হয়।

বাইপাইল : মহাখালী থেকে আবদুল্লাহপুর হয়ে টাঙ্গাইল বা উত্তরবঙ্গগামী গাড়িগুলো জামগড়া, জিরাব পার হয়ে বাইপাইল আসে। আবার নবীনগর থেকে গাড়িগুলোও এ পথে যায়। আজ সকাল থেকে এখানে এসে অনেক গাড়িই শ্লথ হয়ে গেছে।

চন্দ্রা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রার চন্দ্রা ও আশপাশের বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ভোর থেকে শত শত যাত্রী যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে বাসগুলো ভর্তি হয়ে আসায় ছাদেও তিলধারণের জায়গা নেই। কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকারের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবারের মতো আজ সকালেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। কোনাবাড়ী, চন্দ্রার পর কিছু এলাকায় ধীরগতিতে যান চলছে। গাড়ির বেশি চাপের কারণে এমনটা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঘরমুখী মানুষ নির্বিঘ্নে যেতে পারবে। বিকেলের দিকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়বে।

রাজাগোড়াই : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের যেখানে যানজটের আশঙ্কা বেশি সেখানে আজ তেমন ছিল না। এর কারণ এই শিল্প এলাকায় তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানাগুলোর সব কটিতে এখনো ছুটি হয়নি। তবে যেগুলো ছুটি হয়েছে, সেসব কারখানার কর্মীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে বাসের অপেক্ষায়। তবে ধেরুয়াতে যখন ট্রেন চলে তখন মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। আর এর ফলে সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। দিনে ২৬ বার এমনটা হয়। আজ গাড়ির চাপ বাড়লে এটি হতে পারে যানজটের একটি বড় এলাকা।

টঙ্গী : ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ মহাসড়কে আবদুল্লাপুর পার হয়ে টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগড়া পর্যন্ত যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। তবে কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই।

সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এলাকার যাত্রীরা ভিড় জমান সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী টার্মিনালে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সায়েদাবাদে তেমন ভিড় ছিল না। বাসের জন্য গতকালের মতো খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি্। যাত্রবাড়ীতে ছিল মাওয়া ঘাটের যাত্রীদের ভিড়। এখানে বাসের যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পুরো টার্মিনালে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে্। যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। তাই সেখান থেকে যাত্রী ওঠানোর জন্য বাস থামানো এবং এর ফলে যানজটের চিরাচরিত চিত্রটি আজ নেই।

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে রাজারহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে আজ শুক্রবার সকাল থেকে। বেলা তিনটার পর কমতে থাকে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে যানজট শুরু হয়ে ধীরে ধীরে মহাসড়কের রাজারহাট এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ঢল 

989

ঢাকা, ২৩ জুন : পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিনেও ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় হাসিমুখেই ঢাকা ছাড়ছেন রেলপথের যাত্রীরা। যারা আগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারা নির্বিঘ্নে যাত্রা শুরু করছেন। আর যারা টিকিট কাটেনি তারা তাদের টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটছেন।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে নিরাপদেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ। যাত্রীরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, এ জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দল টার্মিনালগুলোতে রয়েছে।

বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সচেতনতার জন্য দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নাটিকা। এসব নাটিকায় যাত্রীদের নিরাপদে ভ্রমণ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হচ্ছে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কীভাবে অপরিচিত লোক ক্ষতি করতে পারে, এ ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জনসচেতনতার জন্য বিভিন্ন পোস্টারে অজ্ঞান ও মলম পার্টির বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রিজার্ভে নতুন মাইলফলক 

699

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ২৩ জুন : বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) প্রথমবারের মতো ৩৩ বিলিয়ন ডলার (তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলার) অতিক্রম করেছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতি মাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সময়োপযোগী বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ ব্যবস্থাপনার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম কম থাকায় আমদানি ব্যয় কমে গেছে। ফলে রিজার্ভ থেকে কম ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছে। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ নতুন এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ করতে হয়।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ১২৭ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। জুনে তা ১৫০ কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভিড় কমছে রাজধানীতে 

882

ঢাকা, ২৩ জুন : ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ফলে জনবহুল এই শহর এখন অনেকটাই ফাঁকা। এবার ঈদের সরকারি ছুটি ২৫ থেকে ২৭ জুন অর্থাৎ রবিবার থেকে মঙ্গলবার। তার আগে দুদিন শুক্র আর শনিবার থাকায় কার্যত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। ঘরে ফেরা চলছে শুক্রবারও। চলবে আরো কয়েক দিন।

অবশ্য কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কয়েক দিন আগেই ছুটি দিয়েছে। সাধারণত শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় সড়কে মানুষের চলাচল কম থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রধান প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। ঘরমুখী মানুষদের ভিড় বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে। তাই মূল সড়কে এখন আর চাপ নেই।

মতিঝিল মগবাজার, মিরপুর সড়ক, রামপুরা, গুলশান, ফার্মগেটে মানুষের তেমন ভিড় ছিল না। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ছিল অনেক কম। কিছু বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে।

এদিকে, ঈদের আগে বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় বিকালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে রাজধানীর বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে। শুক্রবার সকাল থেকেও রাজধানীর তিনটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট নেই। তবে যানবাহন চলছে ধীর গতিতে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঘরমুখী যাত্রীরা যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ওসি হোসেন সরকারের ভাষ্য, বৃহস্পতিবারের মতো আজ সকালেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক। কোনাবাড়ি, চন্দ্রার পর কিছু এলাকায় ধীর গতিতে যান চলছে। গাড়ির বেশি চাপের কারণে এমনটা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঘরমুখী মানুষ নির্বিঘ্নে যেতে পারবে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়বে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাতারে দৈনিক ১১০০ টন খাদ্য পাঠাচ্ছে ইরান 

454

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৩ জুন : প্রতিবেশী দেশগুলোর অবরোধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতারে প্রতিদিন ১১শ’ টন খাদ্য পাঠাচ্ছে ইরান। এসব খাদ্যের মধ্যে বেশিরভাগই থাকছে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোহাম্মাদ মেহেদি বোনচারি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, দায়ের, বোলখেইর ও জেনাভে বন্দরের মাধ্যমে এসব খাদ্য কাতারে রপ্তানি করা হচ্ছে। মেহেদি বোনচারি জানান, কাতারের সঙ্গে বুশেহর প্রদেশের ঐতিহাসিক বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল; সেই সম্পর্ককে ব্যবহার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধের দিনগুলোতে কাতারে খাদ্য পাঠানো হচ্ছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ছাড়াও আরো কয়েকটি দেশ ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার’ অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং পরে দেশটির ওপর স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের অবরোধ আরোপ করে।

এ অবস্থায় খাদ্য সংকটে পড়ে কাতার। কারণ দেশটি খাদ্য আমদানির ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। সৌদি আরব থেকেই এতদিন কাতারের মোট খাদ্যসামগ্রীর ৪০ শতাংশ আমদানি করা হত। অবরোধের কারণে তা বন্ধ হয়ে গেলে সাহায্যের হাত বাড়ি দেয় ইরান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আওয়ামী লীগের ৬৮তম আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী 

33

ঢাকা, ২৩ জুন : আজ ২৩ জুন। ১৭৫৭ সালের এই দিনে ভাগীরথী নদীর তীরে অস্তমিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। ১৯২ বছর পর একই দিনে বাংলার মানুষের মুক্তি আর অধিকার আদায়ের জন্য গঠিত হয় উপ-মহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এই দলটির ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ।

৪৭-এর দেশ বিভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬২র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬র ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন— সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের। আর এসবের অধিকাংশ আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগের। এই ভূখণ্ডের কোটি কোটি মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের যে কালজয়ী কৃতিত্ব শত শত বছর ধরে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে তা হলো আমাদের মহান স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু এক অবিভাজ্য সত্তা।

গৌরব ও ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে আজ ৬৯ বছরে পা দিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু। এই বছরের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তত্কালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রথম কাউন্সিলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন।

পরবর্তীতে ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনা এবং মো. জিল্লুর রহমান যথাক্রমে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের বিশেষ কাউন্সিলে একই কমিটি বহাল থাকে। ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং আব্দুল জলিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী

আওয়ামী লীগের জন্মদিনে সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে।

কর্মসূচি

আজ শুক্রবার আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল সাড়ে ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় টুঙ্গীপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন। প্রতিবছর শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা হলেও এবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে জামাতুল বিদা ও পবিত্র লাইলাতুল কদর পড়ায় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল জেলা, উপজেলাসহ সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্রেনের সূচি এলোমেলো; মহাসড়কেও যানজট 

8822

ঢাকা, ২২ জুন : ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই ট্রেনের সিডিউলে গড়বড় হয়েছে। বুধবার ভোরের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যয় শুরু হয়। যথাসময়ে যাত্রা করতে পারেনি পাঁচটি ট্রেন। এক থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে এসব ট্রেন। মহাসড়কেও ছিল যানজট। থেমে থেমে গাড়ি চলায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। গন্তব্যে পৌছতেও লাগে অতিরিক্ত সময়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার। ধারণা করা হচ্ছে, এদিন  থেকেই ঈদযাত্রার চিরচেনা ভিড় শুরু হবে। লাখো মানুষ নাড়ির টানে বাড়িতে ছুটবেন। মহাসড়কে থাকবে গাড়ির তীব্র চাপ। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ভাঙাচোরা মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা মনে ভয় জাগাচ্ছে।

প্রতিবারের মতো এবারও ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু হয় একদিন আগেই। যারা ২১ জুনের আগাম টিকিট নিয়েছিলেন, তারা বুধবার ঢাকা ছাড়েন। গত মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেশনে সংকেত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে ২৩টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা ছাড়ে। গন্তব্যে পৌছাতেও দেরি হয়। সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে বুধবার ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়। সকালটা ভালো কাটলেও বিপত্তি শুরু হয় বেলা ১২টার পর।

রেলের কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বগিতে সমস্যা হওয়ায় ও ঢাকায় ফিরতে দেরি করায় সময়সূচিতে গড়বড় হয়েছে।’

সিলেটের উদ্দেশে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ বেলা ১২টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। বগিতে সমস্যার কারণে ট্রেনটি ছেড়ে যায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ‘রাজশাহী এক্সপ্রেসের’ কমলাপুর ছাড়ার কথা ছিল বেলা ১২টা ২০ মিনিটে। ছেড়ে যায় দুপুর ২টায়। ময়মনসিংহের উদ্দেশে ‘ঈশা খাঁ এক্সপ্রেসের’ সকাল সাড়ে ১১টায় রওনা করার কথা ছিল। ট্রেনটি ৪৫ মিনিট বিলম্বে ছাড়ে। ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ বিলম্ব করে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা ছিল ‘রংপুর এক্সপ্রেসের’, ছেড়ে যায় ১০টায়। অন্যান্য ট্রেনগুলোও ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে।

রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ জানায়, গত মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেশন থেকে অধিকাংশ ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ায় বুধবার ঢাকায় ফিরতেও বিলম্ব হয়। তাই সময়সূচি রক্ষা করা যায়নি। বিশেষ করে লালমনি, নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ দূরবর্তী অঞ্চলের ট্রেনে প্রতি ঈদেই সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার কমলাপুরে ইন্টারলকিং বিকল হয়ে পড়েছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (হাতে সংকেত ঠিক করা) চালাতে গিয়ে ২৩টি ট্রেন সময়মতো পৌছাতে ও ছেড়ে যেতে পারেনি।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হয়েছিল। তবে বুধবার সংকেতে ত্রুটি ছিল না।

এদিকে, ঈদযাত্রার চাপ শুরুর আগেই বুধবার মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে এদিনও রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাস টার্মিনাল গাবতলীতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের তেমন চাপ দেখা যায়নি, টিকিটও সহজে পাওয়া যায়। এদিন ঢাকা থেকে যাত্রার শুরু নির্বিঘ্নে হলেও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে ও উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোথাও যানজটে পড়েন। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট পথেও ছিল যানজট। ঢাকা থেকে সিলেটের পথে যেতে কাঁচপুর পেরিয়ে যাওয়ার পর গাড়িগুলোকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায়, সেখানে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলছে। ওই স্থানে খানাখন্দ ভরা সড়কের কারণে যাত্রীদের ধকল পোহাতে হয়। একই অবস্থা নরসিংদীর ঘোড়াশালে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বুধবারও যানজট ছিল।

সকালে কুমিল্লার পদুয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে যানজট শুরু হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা ১২টার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু এর প্রভাবে সারাদিনই ওই মহাসড়কে থেমে থেমে গাড়ি চলে। মহাসড়কের পদুয়াবাজারে রেলওভার নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণকাজের কারণে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো ইট-বালি দিয়ে ভরাট করা হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশেও ছিল যানজট। আগের রাতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বুধবার ভোর থেকে দিনভর থেমে থেমে গাড়ি চলে।

মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে ঈদযাত্রায় বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিকল্প সড়কেও দুর্ভোগ কমছে না যাত্রীদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভুলতার দুর্ভোগ এড়াতে যারা পাঁচদোনা সড়ক ব্যবহার করছেন, তারা ভাঙা সড়কের ভোগান্তিতে পড়ছেন। সড়কটি সরু ও খানাখন্দে ভরা।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ধসে চাপা পড়েছে ঈদের খুশিও 

88525

রাঙামাটি , ২২ জুন : সাত বছরের মীম আর ১৭ মাস বয়সী তার ছোট বোন সুমাইয়া মা-বাবাকে খুঁজে ফিরছে সারাক্ষণ। কান্নাকাটি করছে। কিন্তু ওদের এখনো বোঝার বয়স হয়নি যে পাহাড়ধস ওদের মা-বাবাকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে। তাঁরা আর কোনো দিন ফিরবেন না। আর কোনো ঈদে তাদের জন্য বাজার থেকে নতুন জামাকাপড় কিনে আনবেন না।

মীম আর সুমাইয়ার মা রহিমা বেগম ও বাবা সালাউদ্দিন গত ১৩ জুন রাঙামাটি শহরের রূপনগর এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন। এরপর এতিম দুই বোনের ঠাঁই হয়েছে স্বজনদের কোলে।

শুধু মীম বা সুমাইয়া নয়, পাহাড়ধসে স্বজন হারানো এমন অসংখ্য মানুষের এবারের ঈদ কাটবে আশ্রয়কেন্দ্রেই। প্রিয়জনের সঙ্গে ধস তাদের অনেকের বাড়িঘরও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। বাকিদের বাড়িঘর করে তুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ। রাঙামাটি শহরের ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে স্বজন ও ঘর হারানো এসব মানুষ।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায়ও মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের বাড়িঘরের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি তারা অনেকেই দিনের বেলায় বাড়িতে ফিরে গিয়ে বসতঘর মেরামতের কাজ গুছিয়ে আনছে। রাতে আবার ফিরছে আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে যারা বসতবাড়ি ও স্বজন হারিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না সহজেই। কবে ফিরবে বাড়ি কিংবা আদৌ পুরনো ঠিকানায় ফেরা হবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে তারা।

রাঙামাটি সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া কাউসার ও সুফিয়া দম্পতি বলেন, ‘ভাই ও ভাবি মারা গেছেন। তাঁদের দুই এতিম সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রেই ঈদ করব। ঈদের নামাজটাই পড়া হবে হয়তো, আর কিছু করা হয়তো সম্ভব হবে না। ’

তবে আশার কথা শোনালেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ থেকে এরা কেউই বঞ্চিত হবে না। আমরা সবাই এবার ঈদ করব আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সঙ্গে। এটা তো ঠিক, নিজ বাড়িতে থেকে ঈদের যে আনন্দ তারা উপভোগ করত, তা আশ্রয়কেন্দ্রে সম্ভব না। তবে আমরা চেষ্টা করব তাদের পাশে থেকে ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করতে। ঈদের দিন প্রতিটি কেন্দ্রেই সেমাইসহ অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ’

জেলা প্রশাসন ছাড়াও রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্টের তরুণ সদস্যরাও এবার তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা চারটি আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুদের সঙ্গে ঈদ কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুব রেড ক্রিসেন্টের দলনেতা সাইফুলউদ্দীন বলেন, ‘এবার আমরা ঈদ করব আমাদের দায়িত্বে থাকা চারটি আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষগুলোর সঙ্গে। পাশে থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও তাদের আনন্দে রাখতে চেষ্টা করব। ’

পাহাড়ধসের ঘটনায় রাঙামাটির ঈদ বাজারও জমেনি। শোকেবিহ্বল পুরো শহরের কোথাও নেই ঈদের কেনাকাটার ন্যূনতম উচ্ছ্বাস। শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিন বাজার তবলছড়ি, বনরূপা ও রিজার্ভবাজারে গিয়েও দেখা মিলল না কোনো ক্রেতা।

বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, একদিকে পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যু, অন্যদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়াসহ নানা সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। আগামী তিন মাসেও ব্যবসার এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না সন্দেহ। ঈদের বাজার তো মাটি হয়ে গেছে। শেষ দু-চার দিন হয়তো কিছু কেনাকাটা হতে পারে।

৯ দিন পর খুলল রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক : ৯ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল বুধবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক। হালকা যান চলাচলের জন্য দুপুরে সড়কটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এন সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ওমর ফারুক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান।

গত ১৩ জুন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের শালবাগান এলাকায় ১৫০ মিটার সড়ক ধসে পড়ে। এর পর থেকে রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। পরে বিকল্প সড়ক তৈরির কাজ শুরু করে সওজ ও সেনাবাহিনী। অবশেষে গতকাল দুপুরে সড়কটি হালকা যান চলাচলের উপযোগী করে খুলে দেওয়া হয়।

এক মাসের মধ্যে সড়কটি সব ধরনের যান চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং সেনাবাহিনীর জিওসি।-কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পবিত্র শবে কদর আজ 

887

ঢাকা, ২২ জুন : আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন।

পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে মহাপবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহ’র প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বৃহস্পতিবার সারা রাত এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন।

এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঈদের পর শুরু নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ 

52

ঢাকা, ২২ জুন : ঈদের পরপরই শুরু হচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাকর্মযজ্ঞ। আইন সংস্কার ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সংলাপ জুলাইয়ে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। পাশাপাশি ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। এবারের নির্বাচনে ‘অটো সিল’ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইসি। এ ছাড়া নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণ হতে পারে। সে পরিকল্পনা নিয়েই ইসি কাজ করছে। প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। সাংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে চার নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে পৃথক চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজ এবং যুগোপযোগী করতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার, অভিজ্ঞ সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। এজন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সংলাপের সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এবারের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচনী আইন সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইন সংস্কারের বিষয়ে প্রস্তাব নিয়েছে ইসি সচিবালয়। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে এসব আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এজন্য সংলাপ বিষয়ে প্রযোজনীয় কাগজপত্র তৈরি করছে ইসি সচিবালয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণবিষয়ক সময়সীমা নির্ধারণ করেছে ইসি। এ বছরের আগস্টের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করবে ইসি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র প্রস্তুতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত। ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য নতুন করে ভোটার হালনাগাদ করা হবে নির্বাচনের আগেই। এজন্য ২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর ৩০০ আসনের জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ করা হবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে। ইসি সচিব মো. আবদুল্লাহ নির্বাচন ভবনে গতকাল এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে ২০ আগস্ট থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি। তিনি আরও জানান, যারা এরই মধ্যে ঠিকানা স্থানান্তর করেছেন, তাদের নতুন ঠিকানায় ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ফরম-১২ পূরণ করতে হবে এবং যে এলাকায় ভোটার হতে চান সে এলাকায় থানা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হবে। দেশে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১০ কেটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখানে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ হয় জনসংখ্যার ঘনত্বের ভিত্তিতে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় যদি ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণ করতে হয়, তাহলে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর আসন বেড়ে যাবে। গ্রামাঞ্চলে কমে যাবে। এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা নয়, ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে কিছু আইনগত সমস্যা সমাধান করা হবে। ’

সংসদ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নির্বাচনী রোডম্যাপে। এজন্য চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন চাইবে ইসি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে নিবন্ধন প্রদান এবং এপ্রিলের মধ্যে রাজনৈতিক দলের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া আগামী বছরের জুলাই থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে ইভিএম বিষয়ে মতামত দিয়ে তা ব্যবহারের বিষয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা ব্যবহারের বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে প্রচার শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থাও করবে ইসি। অটো সিল ব্যবহার : আগামী সংসদ নির্বাচনে অটো সিল ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এতে কালি ব্যবহার করতে হবে না। এ ছাড়া স্মার্ট গোপন ভোটকক্ষ, স্মার্ট অমোচনীয় কালিও ব্যবহার করা হবে। এসব জিনিসপত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করবে ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমরা তাদের (ইউএনডিপি) কারিগরি সহযোগিতা চাই। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ভোটার, প্রার্থী ও ইসি কার কী দায়িত্ব তা নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে তারা প্রচার উপকরণ প্রস্তুতের ব্যাপারে সহায়তা করবে।’-বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ডলার: প্রধানমন্ত্রী 

02

ঢাকা, ২২ জুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, ২০৪১ সালে স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। আর দেশের অর্থনীতির আকার হবে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সংসদে তার নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সাংসদ দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৭০তম জয়ন্তী উদ্‌যাপন করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অনুসৃত উন্মুক্ত অর্থনীতি উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উইন-উইন অবস্থান তৈরি করে সাফল্যের নতুন দিক উন্মোচন করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সে লক্ষ্যে শিল্প বিকাশ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বর্তমান সরকার বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পে বিভিন্ন পরিষেবা, ভূমির নিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানসহ বিনিয়োগবান্ধব আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত চারটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে মেঘনা ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ; আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ; আমান ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কোনাবাড়ী, গাজীপুর। -প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর