১৮ নভেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৫৫, শনিবার

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত 

0124

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের সন্তোষে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সন্তোষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং আলোচনা সভা।

সকাল সাড়ে ৭টায় মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও হল, মওলানা ভাসানীর পরিবার, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দেশী-বিদেশী অসংখ্য ভক্ত ও সর্বস্তরের মানুষ মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজধানীতে সকালে নয়াপল্টনের ভাসানী ভবন মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে বিকালে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাকির-মুমিনুলের ব্যাটে উড়ে গেল সিলেট 

08241

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : দাপটের সঙ্গে বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু করা সিলেট সিক্সার্স দ্রুতই নিজেদের হারিয়ে ফেলেছে। চলতি ঢাকা পর্বে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। শুক্রবার পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা রাজশাহী কিংসের কাছে স্রেফ উড়ে গেল নাসির হোসেনের দল। মুমিনুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর জাকির হাসানের বিস্ফোরক হাফ সেঞ্চুরিতে ১৫ বল এবং ৭ উইকেট হাতে রেখেই আজ শুক্রবারের প্রথম ম্যাচ জিতে নিল ড্যারেন স্যামির দল।

সিলেটের দেওয়া ১৪৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে রাজশাহী কিংস। মুমিনুল হক এবং রনি তালুকদার মিলে ৬৫ রানের উদ্বোধনী জুটি উপহার দেন। ২২ বলে ২৪ করা রনি নাসিরের বলে ক্যাচ দিলে ভাঙে এই জুটি। এরপর সামিট প্যাটেল মাত্র ১ রান করে নাবিল সামাদের শিকার হন। তবে অপর ওপেনার মুমিনুল দারুণ খেলছিলেন। আবুল হাসানের শিকার হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ৩৬ বলে ৪২। এতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি রাজশাহীর।

মুশফিকুর রহিম এবং জাকির হাসান দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ২৬ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন জাকির। আর ২০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ২৫ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৪৬ রান তোলে সিলেট সিক্সার্স। কিন্তু শুরুটা তাদের মসৃণ হয়নি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বড় ওপেনিং জুটি পেয়েছে সিলেট। তবে আজ দলীয় ১ রানেই মোহাম্মদ সামির বলে ফ্র্যাংকলিনের তালুবন্দি হন ফ্লেচার। অপর ওপেনার উপুল থারাঙ্গাও আজ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১৪ বলে ১‌০ রান করে তিনি মেহেদী মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে যান।

সিলেটের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে উইলিয়ামেসের বলে। ১১ বলে ১০ রান করে মেহেদী মিরাজের হাতে ধরা পড়েন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। অধিনায়ক নাসির হোসেনও আজ সুবিধা করতে পারেননি। ১১ বলে ৯ রান করে সামিট প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝে একাই লড়ছিলেন দানুশকা গুনাথিলাকা। ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ওভার বাউন্ডারিতে তার ৪০ রানের ইনিংসটি থামে ফ্র্যাংকলিনের বলে। ব্যর্থতার বোঝা টানতে টানতে আজ ঘুরে দাঁড়ান সাব্বির রহমান। ব্রেসনানের সঙ্গে জুটি বেঁধে শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে ১ বাউন্ডারি ৪ ওভার বাউন্ডারিতে ৪১ রান করেন। ব্রেসনান ১৭ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কাবুলে জমিয়াতে ইসলামীর বৈঠকে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৮ 

254

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : কাবুলের লাব-এ-জার স্কোয়ার এলাকায় জমিয়াতে ইসলামির এক বৈঠকে গাড়িবোমা হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে এক রেস্টুরেন্টের বাইরে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ট্রেন্ড।

এ ব্যাপারে নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, খায়র খানা নামক একটি রেস্টুরেন্টে আট পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়।   নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। সেখানে কয়েকজন জমিয়াতে ইসলামি দলের নেতাকর্মী এক বৈঠকে জড়ো হয়েছিলেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিনটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়  এবং পার্শ্ববর্তী কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রসঙ্গত, জমিয়তে ইসলামী আফগানিস্তানের প্রভাবশালী ইসলামী রাজনৈতিক দল। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির হাত ধরে ১৯৬৮ সাল থেকে এ দলটির যাত্রা। রাশিয়ান ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত আছে মুজাহিদিন এ দলটির।

এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, জুন মাসে কাবুলে এক জানাযায় তিনটি বিস্ফোরণে কম পক্ষে জমিয়তের সাত জন নিহত হয়েছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন ১১৯ জন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া 

654

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৭ নভেম্বর : ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া। কিং জং উনের দেশের অভিযোগ, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে অসম্মান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি মুখপত্রের এক প্রতিবেদনে কড়া ভাষায় এমনই বার্তা দিয়েছে কিম প্রশাসন।

সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ রডং সিনমুন নামে উত্তর কোরিয়ার শাসক দলের মুখপত্র। সম্প্রতি এশিয়া সফরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ায় দাঁড়িয়ে কিমের পরমাণু নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিমকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। এমনকী ট্রাম্প টুইটে লেখেন, ‘কিম আমাকে বুড়ো বলে অপমান করলেও আমি কখনোই তাঁকে মোটা এবং বেঁটে বলতে পারি না। ‘ এই শুনেই খেপেছেন কিম প্রশাসনের পদস্থ অফিসাররা।

কিমের শাসনকে সর্বোচ্চ সম্মান দেন উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা। তাই, কিমের বিরুদ্ধে কোনো কুরুচিকর মন্তব্য যে সেই দেশকে অপমান, তা ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়। দুই কোরিয়ার মধ্যে নো ম্যানস ল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার জন্য ওই সফর বাতিল করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, আবহাওয়াটা অজুহাত  সূত্র: জিনিউজ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি : ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশা আইনমন্ত্রীর 

11

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর : অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে যে মতপার্থক্য ছিল তা নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলেই গেজেট প্রকাশ করা হবে।

আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করতে আইনমন্ত্রী রাতে কাকরাইলের জাজেস কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়ার বাসভবনে যান। সেখানে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সবাই ছিলেন। এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিট পর তিনি বেরিয়ে আসেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় পাঁচজন বিচারপতিই উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যেটা যুক্তিসংগত মনে হয়েছে সেটা সব পক্ষই মেনে নিয়েছে। এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনি অনুমতি দিলেই গেজেট প্রকাশ করা হবে।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার চূড়ান্ত করতে কয়েক দফা সময় নেওয়ার পর গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ সময় মঞ্জুর করে ৫ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন রাখেন। গত ৮ অক্টোবর আদালত বলেছিলে, ‘এটা (বিধিমালা) হওয়া দরকার। এটা নিয়ে বসা দরকার। কোথায় কোথায় আপত্তি আছে তা দেখা দরকার।’

এর আগে গত ৩০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আহ্বান জানান। পরে ৩১ জুলাই আইনমন্ত্রী সরকার দলীয় আইনজীবীদের এক সমাবেশে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসবেন বলে জানান। তখন আইনমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় ওই বৈঠক হয়নি।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেন আপিল বিভাগ। ওই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে তা দাখিল করতে গত বছরের ২৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ দফায় দফায় সময় নিয়েছে। সবশেষ সংশোধিত খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে গত ২৭ জুলাই জমা দেয় আইন মন্ত্রণালয়, ওই খসড়া সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ অনুসারে হয়নি বলে জানায় আপিল বিভাগ। -প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরো দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল হবে : প্রধানমন্ত্রী 

28444

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়া শিল্পের আরো বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো পরিকল্পনা আছে-মূলত রাজশাহী বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে এ দুটি জায়গায় নতুন দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল আমরা গড়ে তুলবো। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ঢাকায় করলে হবে না এটিকে সমগ্র বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিন ব্যাপী ‘লেদার প্রডাক্ট শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়ার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৭’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‘থিংক অ্যাহেড, থিংক বাংলাদেশ’ শীর্ষক থিম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকরার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এলএফএমইএবি’র সভাপতি শফিউল ইসলাম ও বিশিষ্ট উদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে পূর্বে রেকর্ডকৃত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম এবং ভারপ্রাপ্ত এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিমের বক্তব্যও প্রচার করা হয়।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার সালমান এফ রহমান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কুটনিতিকবৃন্দ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ এবং চামড়া খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে অনুষ্ঠানে একটি অডিও ভিজুয়াল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ১৫টি দেশের চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই লেদার শোতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগ ও রফতানিতে চামড়া প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। এই খাতের উৎপাদনশীলতা এবং গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হবে এই অনুষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বৈশ্বিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারিদের রুলস অব অরিজিন সম্পর্কে আরো আকৃষ্ট করবে। ২০১৭ সালের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে আমরা ‘বর্ষপণ্য ২০১৭’ হিসেবে ঘোষণা করেছি (প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ২০১৭)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাত হতে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, সম্প্রতি অধিকাংশ ট্যানারি আমরা হাজারিবাগ থেকে সাভারে নিয়ে গেছি। সাভারে পরিবেশসম্মতভাবে এই শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে এবং একে ঘিরে যেন আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নেব।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাত সহযোগে একটি টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়কর রেয়াত ওয়েট ব্লু লেদার ছাড়া চামড়া খাতে এফওবি রফতানি মূল্যের ওপর একশ’ ভাগ এক্সপোর্ট পার্ফমেন্স লাইসেন্স সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে যাতে রফতানিটা আরো সহজ করা যায়। সেইসাথে ওয়েট ব্লু উৎপাদনকারি ট্যানারিসমূহকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগও প্রদান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প স্থানান্তরের প্রণোদনা হিসেবে সাভার ট্যানারি শিল্পাঞ্চল থেকে ফিনিশড চামড়া রফতানির ক্ষেত্রে শতকরা ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা রফতানির ক্ষেত্রে ১৫ ভাগ নগদ সহায়তা আমরা দিচ্ছি। চামড়া ক্ষেত্রে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় মেশিনারি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি উন্নয়ন তহবিল থেকে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও রফতানি নীতি ২০১৫ থেকে ২০১৮ তে এই খাতকে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লেদার খাত বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ড বাংলাদেশী উদ্যোক্তদের সাথে যৌথভাবে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য সোর্সিং করা হচ্ছে। চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটা পাবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, চামড়া খাতে অধিক সহায়তা প্রদানের পেছনে রয়েছে এর অমিত সম্ভাবনা। খাতটি একদিকে একটি অত্যন্ত শ্রমঘন শিল্প যা বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে সক্ষম অন্যদিকে এর শতভাগ কাঁচামাল আমাদের দেশেই বিদ্যমান রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক সহায়তা কাজে লাগানোর ফলেই খাতটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি আয় অর্জনকারি খাত হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, যথাযথভাবে এই খাতকে কার্যকর করা হলে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে স্থিরকৃত সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই খাত পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে প্রতিনিয়ত যে সব পশু জবাই হয় তার চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার এবং এই শিল্পের দিকে আরো বিশেষভাবে নজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, দেখা গেছে এসব জবাইকৃত পশুর চামড়া যথাযথভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণ করা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি এসব কাজে একটু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি তাহলে এই চামড়াকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুণগত মান সম্পন্ন চামড়া হিসেবে আমরা প্রস্তুত করতে পারি।

এই সচেতনতাটা এখনও যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি বলে অনেক চামড়া আমাদের কাজে লাগানো যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব গর্ব অনুভব করি যখন আমার দেশের তৈরি কোনো একটা জিনিস আমি ব্যবহার করতে পারি বা বিদেশে গেলে দেখাতে পারি এটা আমার দেশের তৈরি। কাজেই দেশীয় পণ্য আরো উন্নতমানের যেন হয় আন্তর্জাতিক মানের যেন হয় সেদিকে আরো বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এতে যেমন রফতানি বৃদ্ধি পাবে, বাজার বৃদ্ধি পাবে এবং এজন্য নতুন নতুন বাজারও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ব্যবসায়ীরা আরো উদ্যোগী হবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশটা আরো এগিয়ে যাক এবং বাংলাদেশে আরো বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবার আশা পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রেতাদের বাংলাদেশের চামড়া খাতে আরো অধিক পরিমানে বিনিয়োগ করতে এবং চামড়া খাতে অধিক পরিমানে সোর্সিং করার জন্য এ শিল্পে সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহবান জানান।

এ সময় বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান এবং এই অনুষ্ঠান দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাসস

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আবারও আর্জেন্টিনার কোচ হতে চান ম্যারাডোনা 

3221

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর : আবারও আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার ইচ্ছা দিয়েগো ম্যারাডোনার। গত পরশু রাশিয়ায় প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পর রাশিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যায় গতবারের রানার্সআপরা। প্রথমটিতে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিওনেল মেসিকে ছাড়া নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ৪-২ ব্যবধানে হারের লজ্জায় ডোবে। এ ম্যাচে বিশ্রাম নিয়ে আগেই বার্সেলোনায় ফিরে যান মেসি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে বিশ্বকাপে তোলেন মেসি। এরপর প্রথমবার প্রীতি ম্যাচ ট্যুর দিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া সফর করেন জর্জ সাম্পাওলির শিষ্যরা।

মেসির অনুপস্থিতিতে যেন বাছাইপর্বের বাজে অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাল দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা! প্রত্যাশিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয় লাতিন আমেরিকান পরাশক্তিরা। কোচ সাম্পাওলির ওপরও চাপটা বেড়ে গেল। উত্তরসূরিদের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে সাবেক কোচদের সফলতার চিত্র হিসেবে তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন ’৮৬-র বিশ্বকাপজয়ী।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭০ সালের পর থেকে কোচদের মধ্যে জয়ের হারের দক্ষতায় তার সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ছবির ক্যাপশনে ম্যারাডোনা লেখেন, ‘কে বেশি জিতেছে? আসুন আমাদের উপসংহার টানা যাক। খেলোয়াড়রা এর জন্য দায়ী নয়। আমি ফিরতে চাই !!!’

ম্যারাডোনার পোস্ট করা গ্রাফিক টেবিল অনুযায়ী, তার দক্ষতা সবার চেয়ে বেশি শতকরা ৭৫ ভাগ। ২০০৮-১০ পর্যন্ত কোচ থাকাকালে তার অধীনে ২৪ ম্যাচে ১৮টি জয় ও ছয় ম্যাচে হার মানে আর্জেন্টিনা। ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর তার জাতীয় দলের কোচিং অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন জেরার্ডো মার্টিনো, তার অর্জন ২৯ ম্যাচে ৭৪ ভাগ সাফল্য। এর পরে আছেন ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের রানার্সআপ আলেসান্দ্রো সাবেলা (৪১ ম্যাচে ৭১), আলফিও বাসিলে ও মার্সেলো বিয়েলসা। দু’জনই যথাক্রমে ৪৮ ও ৬৮ ম্যাচে সমান ৭০ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করেন। ওয়েবসাইট।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্রিসে আকস্মিক বন্যায় ৭ জনের প্রাণহানি 

247

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর : গ্রিসের তিনটি শহরে রাতভর বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বুধবার অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছে।

মান্দ্রা, নেয়া পেরামোস ও মেগারা শহর এবং এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, যেখানে বহু পণ্যাগার। বাড়ির ভেতরে আটকা পড়া এক ব্যক্তি বলেন আমরা আটকা পড়েছি। আমাদের বেড়োনোর জন্য প্রযুক্তি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বন্যায় নিহতদের জন্য গভীর শোক জানিয়েছেন। এএফপি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মুখোশেও ঢাকল না খুনি-চেহারা 

32

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর : আড়াই মিনিটের মিশন। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজের কাঁটায় কাঁটায় এতটুকু সময়ে বনানীর নিজ অফিসে জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী মুন্সী ছিদ্দিক হোসেনকে গুলি চালিয়ে খুনের পর বেরিয়ে যায় ঘাতকরা। দলে ছিল চারজন। ঢোকে দুজন দুজন করে। প্রত্যেকের মুখে মুখোশ। বয়স ২৫-৩০। বনানীর কবরস্থান সড়কে আসার পর কিলিং মিশন শেষে একজন মোবাইল ফোনে অপরপ্রান্তে গ্রিন সিগন্যাল দেয়। এর পর হেঁটে যায় কবরস্থানের সেই সড়ক ধরে। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুখোশ খুলে পড়ে এক ঘাতকের। মুখোশ খোলা ওই যুবকসহ বাকি তিনজনকে পুলিশ শনাক্ত করতে পেরেছে।

পুলিশ সূত্র বলছে- সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার থেকে শ্রম ভিসা এনে জনশক্তি রপ্তানি করতেন নিহত মুন্সী ছিদ্দিক হোসেন। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন মুন্সী ওভারসিজ সাব-কন্ট্রাক্টও দিত। সম্প্রতি তিনি সৌদি আরব থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ২০০ শ্রম ভিসার কাজ পান। একসঙ্গে এই পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানির অনুমতির বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব আছে কিনা তা গুরুত্ব পাচ্ছে তদন্তে। তবে সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে খুনিদের আচরণ-গতিবিধি দেখে পুলিশ নিশ্চিত, খুনিরা পেশাদার ও ভাড়াটে।

বনানী থানাপুলিশ সূত্র জানায়, ছিদ্দিক হোসেনের সঙ্গে কারো প্রকাশ্যে বড় ধরনের বিবাদ ছিল না। তার বাড়ি টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এজেন্টের মাধ্যমে লোক এনে বিদেশে পাঠাতেন। এ নিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছুদের সঙ্গে তার মাঝেমধ্যে ঝামেলা হলেও তা বেশি দূর যায়নি। তবে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের আব্দুস সালাম নামে এক এজেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে। আব্দুস সালাম বনানী থানায় মামলাও করেন ছিদ্দিক হোসেনের বিরুদ্ধে।

মামলায় সালাম উল্লেখ করেন, তিনি বিদেশে পাঠানোর জন্য এলাকা থেকে লোকজন এনে দেন। ওইসব লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছিদ্দিক হোসেন তাদের বিদেশে পাঠাতে গড়িমসি করেন। এমনকি টাকাও ফেরত দেননি। সালামের মামলার পর দুই মাস আগে ছিদ্দিক হোসেন রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাতে তার অভিযোগ ছিল, চুক্তি মতো সালামের লোকজন পাঠানোর পরও সালাম তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মোশতাক আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকা-টি পরিকল্পিত। দুর্বৃত্তরা অফিস থেকে বেশি কিছু নেয়নি। হত্যার স্পষ্ট কারণ খুঁজে না পেলেও কয়েকটি বিষয়ে ধারণা রেখে তদন্ত শুরু করেছি।

বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, ফুটেজে চার মুখোশধারীকে ওই প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে দেখা গেছে। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, ফুটেজে তাদের ছবি স্পষ্ট দেখা গেছে। তা ছাড়া তাদের সম্পর্কে তথ্যও পাওয়া গেছে। আশা করছি খুব শিগগির একটা ফল পাওয়া যাবে।

এদিকে বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুন্সী ওভারসিজের কর্মী আলী হোসেন বলেন, আমরা তখন অফিস বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। স্যারও বেরিয়ে যাবেন। ওই সময় চারজন যুবক অফিসে ঢুকে বলতে থাকে, ‘মালিক কে? মালিক কে?’ এ সময় কিছু একটা খারাপ লক্ষণ বুঝে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। মুখোশধারীরা তাদের গুলি করে। এতে তিনজন আহত হন।

আলী হোসেন মঙ্গলবার জানান, খুনিদের একজন অফিসের ড্রয়ার কোথায় তা তড়িঘড়ি জানতে চায়। এর মধ্যেই মালিক তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। তখনই অস্ত্রধারী একজন মালিককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী মোকাররম হোসেন টিপু বলেন, চারজন ঘাতকের তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। তারা একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে। ওই দৃশ্য দেখে তিনি ভেতরের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু বেশি শব্দ হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে বাজী নামক ভবনের দারোয়ান জানান, হঠাৎ করে ওই চারজন ভেতরে ঢুকে যায়। তাদের মুখে মুখোশ ছিল কিনা সেটি দেখেননি। তবে ভেতরে শব্দ শুনতে পান। লোহার দরজার পর কাঠের দরজা থাকায় শব্দ কম হয়েছে বলে জানান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে ম্যানেজার মোস্তাক পুলিশকে বলেন, ঘাতকরা অফিসের ড্রয়ার থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর বনানীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর বাড়িতে ঢুকে ছিদ্দিক হোসেনকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করে চারজন যুবক। এরপর অস্ত্র উঁচিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। ছিদ্দিক হোসেনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

একই ঘটনায় ওই অফিসে থাকা আরও তিনজনকে গুলি করা হয়। তারা হলেন মোস্তাক হোসেন মিরাজ, মোকলেসুর রহমান মোসলেহ উদ্দিন ও পারভেজ। মোসলেহ উদ্দিন ও পারভেজের অবস্থা গুরুতর। মোস্তাক হোসেন নিহতের ভাতিজা এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, মোসলেহ উদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানে জনশক্তি কর্মকর্তা এবং শফিকুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এদিকে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছিদ্দিক হোসেনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, গুলিতেই নিহত হয়েছেন ছিদ্দিক হোসেন।

তিনি জানান, ছিদ্দিক হোসেনকে দুটি গুলি করা হয়েছিল। একটি গুলি তার বাম হাতে লেগে বুকের ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি গুলি বুকের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে ডান পাশে গিয়ে আটকে ছিল, যা বের করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে নিহতের লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বনানীর জনশক্তিপাড়াখ্যাত ওই ভবনে ঢুকতে হয় একটি বড় স্টিলের গেট দিয়ে। ঘটনার সময় গেটের সামনেই দাঁড়ানো ছিলেন দারোয়ান বাজী। এর পর ৮-১০ ফুট খোলা জায়গা/গাড়ি পার্কিংয়ের পর মাঝপথ হয়ে উপরে উঠে গেছে সিঁড়ি। নিচতলার বাম পাশে ছিল ছিদ্দিক হোসেনের অফিস। একটি লোহার গেট দিয়ে অফিসের শুরু। ওই ভবন ও পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক মুসা গ্রুপ। এ গ্রুপও জনশক্তি রপ্তানি করে।

মুসা গ্রুপের জনশক্তি প্রতিষ্ঠান মুসা ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদ আল গালিব বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে পাশের ভবনে ভাড়া নিয়ে অফিস স্থাপন করেন ছিদ্দিক হোসেন। এর আগে ৮ বছরের মতো ছিলেন কাছের আরেকটি অফিসে। তার সঙ্গে কারো বড় ধরনের ঝামেলা আছে বলে জানা ছিল না গালিবের।

জানা গেছে, দুই দশক ধরে ছিদ্দিক হোসেন জনশক্তি রপ্তানি করছেন। তার প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি করে। বনানীর অফিসটি রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ওই সময় ধরে নিয়মিত অফিস করতেন। স্ত্রী জ্যোৎ¯œা বেগম ছাড়াও দুই মেয়ে সাবরিনা সুলতানা, সাবিহা ছিদ্দিক ও এক ছেলে মেহেদী হাসানকে নিয়ে তিনি উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি সাবরিনা সুলতানার স্বামী আবু হানিফও দেখাশোনা করতেন। মঙ্গলবার বিকালে অফিস থেকে বেরিয়ে টাঙ্গাইলের বাড়িতে যান আবু হানিফ। আবু হানিফ বলেন, হত্যা করতে পারে এমন কোনো শত্রু তার শ্বশুরের ছিল না। সূত্র: আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদ্যুতের বর্তমান স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট : প্রধানমন্ত্রী 

047

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদ অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০১৭ সালের অক্টোবর মোট ৯ হাজার ২৫৪ মেগাওয়াট (বিদ্যুৎ আমদানিসহ) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সুবিধা নিশ্চিত করতে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০০১ অক্টোবর থেকে ২০০৬ অক্টোবরে মোট ১ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযোজিত হয়েছে, যা মূলত ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগের ফসল। প্রকৃতপক্ষে ওই সময়ে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি বরং কমেছে।

তিনি বলেন, আগামীতে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ১২ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতায় ৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মোট ৭ হাজার ৩৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতায় ৪১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি বলেন, মোট ৯ হাজার ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক প্রস্তাব 

021

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ নভেম্বর : আগামী সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়ে এক নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এর প্রতিফলন দেখতে চান।

তাদের মতে, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু করতে দুই প্রস্তাবের বাইরে ইসিকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরাসরি ইসির এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দেরি করা সমীচীন হবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া সিদ্ধান্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভূমিকা রাখবে। দূরত্ব কমিয়ে বড় দুটি দলকে কাছাকাছি নিয়ে আসবে। সে অনুযায়ী ইসির নির্বাচনী ছক সাজানো উচিত।

নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্যকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনে করে একজন কমিশনার নয়, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই ইসি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই সেনা মোতায়েন করা দরকার। তবে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার দরকার নেই। ভোটের দিন সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কাজ করবে। প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে গুলিও করতে পারবে। তারা বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে। ভোট শেষে সেনাবাহিনী ফিরে গেছে। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে অসুবিধার দিকগুলো তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আধুনিক এ পদ্ধতির প্রতি মানুষের আস্থার সংকট আছে। এটা এখনও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ইভিএম ব্যবহারের ফলে পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ কমিশনারের মন্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্বাচনের বাকি প্রায় এক বছর। এখনই বিএনপির দুটি প্রস্তাব মেনে নেয়া হলে দলটির তৃণমূলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আগস্ট মাসে ইসির সঙ্গে ৪০টি রাজনৈতিক দলের সংলাপ হয়েছে। এর মধ্যে ভোটের দিন সেনাবাহিনী চেয়েছে বিএনপিসহ ২৪টি দল। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলেছিল, প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সেনাবাহিনী নামানো যেতে পারে। এছাড়া ভোটে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ১২টি রাজনৈতিক দল পক্ষে অবস্থান নেয়। বিপক্ষে কথা বলে বিএনপিসহ ১০টি দল। এরপর ১৩ নভেম্বর সোমবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনা মোতায়েন হবে আগামী নির্বাচনে। এখানে একটা কিন্তু আছে। সেনাবাহিনীকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাব, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিভাবে যুক্ত হবে, তা বলার সময় এখনও হয়নি। আমরা কমিশনাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের সবারই অনুভূতি হচ্ছে সেনা মোতায়েন হোক।’ ওই সময়ে তিনি ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে না। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নির্বাচন কমিশনারের এ বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর দুটি প্রস্তাবের বিষয়ে তার ইতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা এ বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চেয়েছেন।

ইসির বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, পত্রিকায় একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য (নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার) দেখলাম। এটা ভালো কথা। সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে। দেশের মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তবে সব কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার নেই, শুধু যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেসব কেন্দ্রে মোতায়েন করতে হবে।

সংলাপে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া যাবে না। তবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট রাখা যেতে পারে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী আইন লংঘনকারীকে গ্রেফতার করতে পারবে। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া কাউকে গুলি করতে পারবে না। সাবেক এ নির্বাচন কমিশনারও আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইভিএমের ওপর জনগণের আস্থার সংকট রয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর থেকে ইভিএমের ওপর মানুষের যেটুকু আস্থা ছিল তা আরও কমে গেছে। এছাড়া আইটি বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও গ্রুপিং রয়েছে। ইভিএম নিয়ে এক গ্রুপ কাজ করলে ভেতরে ভেতরে আরেক গ্রুপ এ মেশিনে কারসাজি করা যায়, তা মানুষের কাছে প্রমাণের চেষ্টা করবে। তাই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার নয়, নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য আসা উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সেখানে যেসব প্রস্তাব উঠে এসেছে, সেগুলোর সারসংক্ষেপ করে যে প্রস্তাবগুলো দুটি দলকে নির্বাচনে আনতে সহায়ক হবে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করাই ইসির কাজ হবে বলে আমি মনে করি।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু একটি বা দুটি প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালে চলবে না। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সবার সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত দিতে হবে। এমন পদক্ষেপ ইসির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। তারা মনে করেন, সংলাপে বেশিরভাগ দল যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে ইসির তা অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে যেসব প্রস্তাব সরাসরি ইসির এখতিয়ারের মধ্যে আছে সেগুলো অনুসরণ করা নির্বাচন কমিশনের অনেকটা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে বলেন, ১২ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশের দিন যানবাহন বন্ধ করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা কাম্য নয়। পুলিশ অনেকটা দলীয় কর্মীর মতো কাজ করেছে। তাই আগামী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। আরপিও সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় ‘সশস্ত্র বাহিনী’ শব্দটি যুক্ত করে গত নির্বাচনের মতো সেনা নামানো যেতে পারে। জনআস্থা না থাকায় আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

ইসির সঙ্গে সংলাপে প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সেনা মোতায়েন ও ইভিএমে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যে ওই প্রস্তাবের প্রতিফলন ঘটেনি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে আমরা অবাক বা অস্থির নই। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংলাপে অনেক দল নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কথা বলেছে। আমরাও (আওয়ামী লীগ) বলেছি, প্রয়োজন হলে ইসি সেনা মোতায়েন করতে পারে। আমাদের প্রস্তাবনার সঙ্গে অনেকের মতপার্থক্য থাকতে পারে, নির্বাচন কমিশনের নেয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গেও ডিফার হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমরা মনে করি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসি আলোচনা করবে। ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করার মতো প্রস্তুতি নেই। আমরা স্যাম্পল (নমুনা) হিসেবে যতদূর সম্ভব ইভিএম ব্যবহারের কথা বলেছি। কিন্তু সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিভাবে এর বিরোধিতা করলেন বুঝলাম না। ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নত করতে হলে সীমিত হলেও এখন থেকেই ইভিএম ব্যবহার শুরু করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যকে অন্যভাবে দেখছে বিএনপি। তারা মনে করছে, নির্বাচনের এক বছর আগেই তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণের ইঙ্গিত মিলেছে। তাদের প্রত্যাশা নির্বাচনের আগে যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করবে ইসি। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, একজন নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার না করা এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কথা বলেছেন। এটা ইতিবাচক। আমরা আশা করি, এটা শুধু একজন নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেবে। যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, যেখানে আমাদের দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে ঠিকমতো ভোট দিতে পারে না, সেখানে ইভিএমে নির্বাচন সম্ভব নয়। তাছাড়া যেসব দেশে ইভিএম চালু হয়েছিল, সেখানে কারচুপির কারণে তাদের অনেকেই এ পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছিল। সুষ্ঠু নির্বাচনে অতীতেও সেনা মোতায়েন হয়েছিল, আগামীতেও করতে হবে। বিএনপির অন্যান্য দাবি পূরণ করতে ইসিকে উদ্যোগ নিতে হবে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আলোচনায় নতুন প্রধান বিচারপতি 

211

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর : সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গতকাল এ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় এস কে সিনহার পদত্যাগসংক্রান্ত কাগজপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়সূত্র। পদত্যাগের গেজেট প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। যে কোনো সময় গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে আইন মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে।

সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির একক এখতিয়ার। নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবনের কোনো তৎপরতা নেই। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় কোনো তাড়াহুড়ায় যেতে চায় না বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। তবে সে পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা দায়িত্ব পালন করে যাবেন। উচ্চ পর্যায়ের সূত্রমতে, শেষ পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির প্রতিই আস্থা রাখতে পারেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে এক মাসের ছুটি নেন এস কে সিনহা।
পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মেয়ের কাছে চলে যান। ১১ নভেম্বর তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি কে হবেন— তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও একই কথা বলেছেন। বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : ‘(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।

সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন। ’ এ ছাড়া সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলীসাপেক্ষে কোনো বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। ’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন মোট নয়জন। এর মধ্যে গত ১ জানুয়ারি বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি আটজনের মধ্যে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ৭ ?জুলাই ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক ১৪ মার্চ অবসরে যান। আর এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। এখন আপিল বিভাগে রয়েছেন পাঁচজন বিচারপতি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা রয়েছে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন।

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ অশনি সংকেত —ড. মোশাররফ : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণকে ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নজিরবিহীনভাবে, ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নাকি পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেছেন। এটা অশনিসংকেত, জাতির জন্য কলঙ্কজনক। সর্বোচ্চ উচ্চ আদালতে যে নজিরবিহীন খারাপ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করেনি, করবেও না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি কৃষক দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান।

পদত্যাগে বাধ্য করেছে সরকার —রিজভী : কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করেছে সরকার। সরকার নিজেদের ইচ্ছা পূরণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য এখন আদালতকে ব্যবহার করছে। সরকার দেশকে কসাই খানায় পরিণত করছে। গতকাল দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের সরদার পাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ।-বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকার জয় 

2441

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর : ম্যাচের রং বদল হয়েছে ক্ষণে ক্ষণে। এক সময় খুলনা টাইটানসের দিকে জয়ের পাল্লাটা হেলে পড়লেও পরেক্ষণেই আবার ম্যাচে ফিরেছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় আজ দেখা গেল স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। এই লড়াইয়ে জিতে গেল সাকিব আল হাসানের দল। তবে ৪ উইকেটের এই জয়ের জন্য ২০ তম ওভারের পঞ্চম বলটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো তাদের। পোলার্ডের হাফ সেঞ্চুরির পর অপরাজিত ৪৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেলেন জহুরুল ইসলাম। তবে ঢাকার আসল নায়কের নাম পোলার্ড।

শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিল ঢাকা। ১৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৪ রানেই এভিন লুইসকে মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচে পরিণত করেন তরুণ পেসার আবু জায়েদ। ২ রানের ব্যবধানে আঘাত হানেন আরেক পেসার শফিউল ইসলাম। তার বলে ক্লিঙ্গারের তালুবন্দি হন শহিদ আফ্রিদি।

তার সংগ্রহ মাত্র ১ রান। এরপর আর্চারের বলে ২ রান করে ডেলপোর্ট বোল্ড হয়ে গেলে স্পষ্টতই চাপে পড়ে যায় ঢাকা।

ধনঞ্জয়ার বলে ৭ রান করে মাহমুদ উল্লাহর দুর্দান্ত ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সুনিল নারাইন। খুলনা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর বলে আউট হওয়ার আগে ঢাকা অধিনায়ক সাকিবের সংগ্রহ ১৭ বলে ২০ রান। ৪১ রানে ৫ উইকেট নেই ঢাকার! কিন্তু এরপরেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন কায়রন পোলার্ড। শফিউলের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৪ বলে ৩ চার ৬ ছক্কায় ৫৫ রান করে ভীতি ছড়ান তিনি।

পোলার্ড আউট হলেও অন্যপ্রান্তে লড়াই করছিলেন জহুরুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৯ বলে ৫ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৪৫ রন করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার সঙ্গী হিসেবে ১২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন। ১ বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিল সাকিব আল হাসানের দল।

এর আগে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান তোলে খুলনা টাইটানস। দলীয় ২২ রানেই ঢাকা অধিনায়ক সাকিবের ঘূর্ণিতে মাইকেল ক্লিঙ্গারের (১০) উইকেট হারায় রিয়াদের দল। ৭ রানের ব্যবধানে খুলনার দূর্গে দ্বিতীয় আঘাত হানেন রনি-সাকিব জুটি। এবার আবু হায়দার রনির বলে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ধীমান ঘোষের (২) ক্যাচ নেন সাকিব।

নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে বেশ আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছিল শুরু থেকেই। তবে ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত বড় হল না। ক্যারিবীয় ‘রহস্য’ স্পিনার সুনিল নারাইনের বলে ২৫ বলে ২৪ রান করে ফিরলেন এই তরুণ। খুলনার চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটনা পাকিস্তানি স্পিনার শহিদ আফ্রিদি। তার বলে খুলনার সবচেয়ে বড় উইকেট অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ (১৪) জহুরুলের তালুবন্দি হন।

রিয়াদকে হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে যায় খুলনা টাইটানস। একপ্রান্ত আগলে রাখছিলেন রুশো। আবু হায়দারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৩৪ রানে ফেরেন তিনি। কিন্তু খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। এই ক্যারিবিয়ান ৬ নম্বরে নেমে হাফ বিধ্বংসী হাফ সেঞ্চুরি কর খুলনা টাইটানসকে ভালো সংগ্রহ এনে দেন। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাথওয়েট। এই ঝড়ো ইনিংস খেলতে বাউন্ডারি মাত্র ৪টি মারলেও ছক্কা মেরেছেন ৬টি!

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আরো ২ লাখ রোহিঙ্গা আসছে 

235

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : নতুন করে আরো দুই লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে! এমনই আগাম পূর্বাভাস দিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ এলাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত বৈশ্বিক ওই সংস্থা বলছে, তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কনট্রে লা ফেইম (এসিএফ)-এর নেতৃত্বে সমপ্রতি  মানবিক সংস্থাগুলো রাখাইন থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ওপর একটি জরিপ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিয়েই মূলত জরিপটি হয়। সেই জরিপে রোহিঙ্গা শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা চরমে থাকা এবং তাদের অপুষ্টি যে সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে সেই তথ্য ওঠে এসেছে। আইআরসির কাছে থাকা তথ্য মতে, বাংলাদেশে এখন ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। নতুন করে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো ২ লাখ রোহিঙ্গা আগমনের ফলে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

তাদের মতে, রোহিঙ্গা আশ্রিত কক্সবাজার এলাকার মানবিক সংকট এখন কল্পনাতীত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। শনিবার আইআরসি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংস্থাটির নিজস্ব অনুসন্ধান, জরিপ, ধারণা ও জ্ঞানলব্ধ। কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বরাতে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে নতুন-পুরাতন মিলে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এরই মধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ২৫শে আগস্টের ক্রেকডাউনের পর থেকে গত আড়াই মাসেই এসেছে ৬ লাখ ১৩ হাজার। এখনও প্রতিদিন দল বেঁধে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বিভিন্ন উপায়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ এবং আক্রান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে ত্রাণকার্য পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিতে বিশ্ব নেতাদের আহ্বান সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। রাখাইন সংকট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পর চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে।

সেখানে রাখাইন নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হলেও এটি বন্ধে চীনের ভেটোর কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ। যদিও জাতিসংঘ আগেই বলেছে রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে রাখাইনে যা চলছে তা একটি জাতিকে জাতিগতভাবে নির্মূলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সুচি সরকার কঠোর সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য বৈশ্বিক ওই সমালোচনা থামাতে দেশটির কার্যকর নেতা, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি দাবি করেছেন ৫ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে মিলিটারি অপারেশন বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে কোনো সংঘাত নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এমনটাই জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। গত কয়েক দিনে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারে এসেছে তারাও একই কথা বলছেন। তাদের সরবরাহ করা তথ্যমতে, সহিংসতার মাত্রা কমলেও রাখাইনে থাকার মতো অবস্থা নেই। সেখানে চরম খাদ্য ও অর্থ সংকট বিরাজ করছে।

তাছাড়া নির্যাতনের ভয়ও তাদের তাড়া করছে। তাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। আগতরা বলছেন, তারা তাদের নিজেদের এবং প্রতিবেশীদের বাড়িঘর পুড়তে দেখেছেন। অনেককে চোখের সামনে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নারী ধর্ষিত হয়েছেন, মারাও গেছেন। এ অবস্থায় তাদের রাখাইন ছেড়ে আসা ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ নেই। এখনও যারা রাখাইনে রয়েছে তাদের জীবনরক্ষার ন্যূনতম সাপ্লাই নেই সেখানে। মিয়ানমার সরকার ২৫শে আগস্টের পর থেকে অনেক দিন রাখাইনে জাতিসংঘের অধীন সংস্থাগুলোকেও খাবার, পানি, ওষুধ পৌঁছানোর জন্যও ঢুকতে দেয়নি। অবশ্য অক্টোবরে এ বিধি নিষেধ কিছু শিথিল করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামকে সেখানে খাবার নিয়ে যেতে দিয়েছে।

কিন্তু সমালোচনা রয়েছে তারা যেখানে গেছে সেখান থেকে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের অবস্থান অনেক দূরে। ফলে তাদের অনেকের কাছেই খাবার পৌঁছানো যায়নি। রাখাইনে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রস বলছে, এখনও যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়েছেন তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। রেডক্রসের মিয়ানমার ডেলিগেশনের প্রধান ফাবরিজ্জিও কারবনির মতে, রাখাইনের ভূ-প্রকৃতিই এর জন্য প্রধান অন্তরায়। সেখানে উঁচু পাহাড় রয়েছে। আছে নদী, জলাভূমি। আর মানুষগুলো (অর্থাৎ ভয়ার্ত রোহিঙ্গারা) রয়েছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কারবনি শনিবার বেইজিংভিত্তিক একটি টেলিভিশন সিজিটিএনকে বলছিল, যখন তারা (ত্রাণকর্মীরা) একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে যান তখন তারা মানুষদের সমস্যাগুলো শুনতে পারেন। তার ভাষায় ‘আমি যা বুঝাতে চাই তা হলো এরা (রোহিঙ্গারা) অন্য সমপ্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন। তাছাড়া সেখানে সহিংসতার যে মানসিক প্রভাব তাও রয়েছে।’ রেডক্রস জোর দিয়ে বলেছে সেখানে তাদের মানবিক সহায়তা এখন খুবই জরুরি। কিন্তু তারা এটাও বলছে এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। কারবনি স্পষ্ট করেই বলেন, মানবিক সহায়তাই এ সংকটের সমাধান বিষয় নয়। এর একটি রাজনৈতিক সমাধান আসতে হবে। বাস্তুচ্যুত লোকজনকে তাদের ঘরে ফেরানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তার জন্য এটি জরুরি। সেখানে অবশ্যই সমপ্রদায়গুলোর মধ্যে রিকনসিলিয়েশন আনতে হবে। -মানবজমিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৪ বছরের শিশুও এখন মুক্তিযোদ্ধা 

345

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : মুক্তিযোদ্ধাবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আদালতের নির্দেশের কারণে ৪ বছরের শিশুকেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাখতে হচ্ছে। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এখনও অ-মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়েছে, ভাতাও পাচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে কাজী ফিরোজ রশিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।

তিনি বলেন, জাতির জন্য এটা খুবই লজ্জার ও বেদনাদায়ক। এখনও অ-মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়ে গেছে। আদালতের আদেশের কারণেই এ অবস্থা। তবে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, সংসদের মাধ্যমে আদালতের প্রতি আহ্বান, তারা যেন সেই আদেশ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার করেন।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আদালত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু আমরা বলছি যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কেবল তিনিই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার স্বীকৃতি পাওয়া। আদালতের আদেশের কারণে ১৯৭১ সালে যার বয়স চার বছর ছিল তাকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক।

তিন দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ওয়েবসাইটে
দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করতে সরকার কাজ করছে। অধিকাংশ উপজেলার তালিকা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২টি উপজেলার তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। আগামী তিন দিনের মধ্যে সব উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

মকবুল হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, এখনও যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়নি, তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর