২০ আগস্ট ২০১৭
সন্ধ্যা ৭:৩৪, রবিবার

দরিদ্রতার বিরুদ্ধে অংশীদারিত্ব : এএইচএম নোমান

দরিদ্রতার বিরুদ্ধে অংশীদারিত্ব : এএইচএম নোমান 

২০১৩ এর শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ওয়াশিংটন কেন্দ্রিক RESULT প্রকল্প আওতায় ‘দরিদ্রতার বিরুদ্ধে অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে মাইক্রো ক্রেডিট সামিট ক্যাম্পেইন’র Vulnerability 2013 অবস্থান রিপোর্ট পেশ করে। পরিচালক মিঃ Larry Reed ১.১৭৫ মিলিয়ন অতি দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছা এবং তন্মধ্যে ১০০ মিলিয়ন পরিবারকে দৈনিক ১.২৫ ইউএস ডলার (একশ’ টাকা) আয়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের অনুষ্ঠিতব্য সামিট প্রচার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে অতি দরিদ্রদের কাছে প্রধানত ১. Myopic Focus, ২. Better Measurement, ৩. Misaligned Incentives, ৪. Patchy Information, ৫. Herd Mentality এই ৫টি কারণে ঋণ কম পৌঁছে উল্লেখ করে।

প্রচার প্রকাশনার নির্বাহী সালে ১৯৯৭ সালে ১৩ মিলিয়নের কাছে ঋণ গেলেও বিপরীতে অতি গরীবের কাছে পৌঁছেছে ৮ মিলিয়ন। এভাবে বার চার্ট তথ্য দিয়ে জানান হয় ২০১০ সালে ২০৫ মিলিয়ন লোকের কাছে ক্ষুদ্র ঋণ পৌঁছলেও তন্মধ্যে ১৩৮ মিলিয়ন মাত্র অতি গরীব ছিল। অপরপক্ষে ২০১১ সালে ১৯৫ মিলিয়ন লোকের কাছে ঋণ পৌঁছে তন্মধ্যে ১২৫ মিলিয়ন অতি গরীব। দেখা যায় ক্রমান্বয় গোড়া থেকে শুরু করেই বছরে অতি গরীবের কাছে ঋণ তহবিল কম যাচ্ছে, এর মধ্যে ভারতে গরীবের কাছে সবচে’ কম যায়। সামষ্টিকতায় আনার জরুরি কাতারে, গাইডেন্স স্বাস্থ্য সেবা, সঞ্চয়, সম্পদ হস্তান্তর, খাদ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ উপকরণসমূহ ঋণ প্রাপ্তি ও Access’র সঙ্গে প্রয়োজনকে যুক্ত করে মক্কেলদের (?) জীবন মানোন্নয়নের সামগ্রিকতায় আনার কথা গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন। প্রকাশনায় দেখা যায়, প্লাটিনাম, সিলভার, ব্রনজ, সাপোর্টার, ফ্রেন্ড এবং কন্ট্রিবিউটর মোট ৬ লেভেলে ২৬টি প্রতিষ্ঠান এই অংশীদারিত্ব সামিট sponsor করে। বেশির ভাগই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সামিটে দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার ক্ষুদ্র ঋণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনসহ প্রায় সব দিনে মূল বক্তারা ও আলোচক ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পার্টনারশীপের কথাসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে কৃষি, মত্স্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি বাস্তবতায় বলে সরকার একা হবে না, ক্ষুদ্র ঋণ একা পারছে না, অন্যদের সহ সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে উল্লেখ করেন। সরকার শক্তিশালী খুঁটি/প্লাটফরম হয়ে বাজারসহ অবকাঠামো দিতে হবে। সামিটে পার্টনারশীপে ১. সেতুবন্ধন ২. জাতীয় প্রতিধ্বনি, ৩. ভারনাবেল লক্ষ্য গোষ্ঠীকে, ৪. ডিজিটাল, ৫. বাজার Inclusion সমপ্রসারণ ট্র্যাকে আনাসহ অংশীদারিত্বে জাতীয়, আঞ্চলিক নেটওয়াকির্ং ভূমিকা কেন কখন এবং কিভাবে তা আলোচানার উপশিরোনামে পরিব্যপ্ত ছিল।

ম্যানিলা সামিটে বিশেষ করে ধনী দেশের অংশগ্রহণ ও আলাপ পর্যালোচনা, উপস্থাপনা যেন সচেতন বা অসচেতনভাবে হিসাব-নিকাশের বেড়াজালে জানালা ও দরজার ছিদ্র দিয়ে ‘ব্যবসায়ী’ ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে মনে হলো। অংশগ্রহণের প্রায় অবস্থাতেই সুযোগ পেলেই সরকার-অসরকার-গরীব অংশীদারিত্বের কথা তথা Public Private Poor Partnership-PPPP কথা বলা হয়। শুধু সরকার-অসরকার অংশীদারিত্ব হলেই হবে না, বরং অবশ্যই যে গরীব, যাদেরকে নিয়ে আমরা কাজ করি তাদেরকে সকল কাজে অংশীদারী করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ মাতৃত্বকালীন ভাতা কেন্দ্রিক মা’কে নিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন, কর্মসংস্থান ও সঞ্চয়-ক্ষুদ্রঋণসহ সামষ্টিক ‘স্বপ্ন’ প্যাকেজ বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়। নতুবা ‘আমরা আর মামুরা অংশীদারিত্বের’ দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন ধাঁচে, ভিন্ন চরিত্রে বৈষম্যই সৃষ্টি করবে, সাম্যতা ও ন্যায্যতা আসবে না। বরং ‘বিভক্ত ও কর্তৃত্বের’ বাহন হয়ে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিশেষ করে মিডিয়ায় ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসাবে আমরা চিহ্নিত হয়েছি। সামষ্টিক অর্থনীতিতে চীন, ভারত, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে চমত্কার স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পেরেছি। সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ ‘দৈনিক’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধে একই সঙ্গে আরো লিখেছেন, ‘ বিশেষ ঋণদান সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই মনে করি। এজন্য যে, বিগত কয়েক বছরে এসব আন্তর্জাতিক ও লগ্নীকারী সংস্থার কোন প্রক্ষেপণ কিংবা পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হয়নি’।

মিঃ লেরী ও সামিট সম্পর্ক- সূত্র PKSF কর্তৃক ঢাকায় পর্যালোচনা সভার ৩.৪ এবং ৩.৫ ধারার চিন্তার পরিকল্পনার ধারা, এক ধারায় পৌঁছেছে হেতু তুলে দিলাম। ‘সামিট হতে এটা পরিষ্কার যে, দারিদ্র্যকে ফোকাস করে ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনা করার যে মূলধারা সেখান হতে অনেক ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বাংলাদেশের বাইরের অনেক প্রতিষ্ঠান সরে গিয়ে অনেকটা বাণিজ্যিক চিন্তা-ভাবনা থেকে দরিদ্র মানুষদের নিয়ে কাজ করছে আবার অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে এ সেক্টরকে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যে এখনও দারিদ্র্য নিরসনকে অভিনিবেশ করে কাজ করে যাচ্ছে সে বিষয়গুলো একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় আগামী সামিটের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে জানাতে পারলে বিশ্বের দরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য নিরসন প্রচেষ্টায় আমরা নেতৃত্বের আসনে বসতে পারবো’। আশা করি এ বছর পিকেএসএফ রজত জয়ন্তী উদযাপনে, এর প্রতিধ্বনি ঘটবে। আমরা এ সফলতার আসন ধরে রাখতে হবে। স্বনির্ভরতার পথে ড্রাইভিং সিটে বিশ্ব জয় অবশ্যম্ভাবী। শুধু দুর্নীতিকে ঠেকাতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ যেন বিশ্বায়ন বাণিজ্যে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য সকলেই সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, ডর্প ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি এওয়ার্ড ২০১৩ লরিয়েট

Share This:

পাঠকের মতামতঃ

comments

এই পেইজের আরও খবর

আপনার মন্তব্য কি