২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:৩০, শনিবার

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী

গ্রামের তুলনায় শহরে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী 

2

স্বাস্থ্য ডেস্ক : গ্রামের তুলনায় শহরে ক্রমশ বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। এক সময় যক্ষ্মা গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের রোগ বলে মনে করা হলেও পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে।

বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরের সব শ্রেণির পরিবারের সদস্যরা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. শায়লা বেগম।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ  কথা বলেন। শুক্রবার (২৪ মার্চ) বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হবে।

গত বছর দেশে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার নির্ণয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামের তুলনায় শহরে যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলেও শহরে নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি এ রোগের সুচিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে গ্রামের সবাই কম বেশি সচেতন।

ডা.শায়লা জানান, শহরে হাজার হাজার যক্ষ্মা রোগী এখনও শনাক্ত না হওয়ায় ওই নিখোঁজ লোকদের মাধ্যমে সংক্রামক এ রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। নিখোঁজ যক্ষ্মা রোগীদের খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এমডিআর (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স) রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

শহরে যক্ষ্মা রোগী কম শনাক্ত হচ্ছে কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজেজ কন্ট্রোল (এমবিডিসি) ও লাইন ডিরেক্টর টিভি/লেপ্রোসি ডা. রুসেলি হক জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর মাধ্যমে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তাদের প্রশিক্ষিত জনবল তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রচার প্রচারণা কম।

তিনি বলেন, সরকার বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা দেয়ায় ধনীদের মধ্যে এ চিকিৎসায় আগ্রহ কম বলে জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেশে নতুন যক্ষ্মা রোগীর হার বছরে প্রতি লাখে ২২৫ জন। বছরে প্রতি লাখে মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। নতুন যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রান্স (এমডিআর) টিবিতে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ। পূর্বে চিকিৎসাকৃত রোগীদের মধ্যে এমডিআর টিবির শতকরা হার ২৯ ভাগ।

Share This:

পাঠকের মতামতঃ

comments

এই পেইজের আরও খবর