২৪ অক্টোবর ২০১৭
রাত ২:৫১, মঙ্গলবার

১০ লাখ টন চাল আমদানি চুক্তি স্বাক্ষরিত

১০ লাখ টন চাল আমদানি চুক্তি স্বাক্ষরিত 

91

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১১ আগস্ট : ১০ লাখ টন চাল আমদানির জন্য থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ মেয়াদী এ চুক্তির আওতায় দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি পর্যায়ে (জি টু জি) চাল আমদানি করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি তানট্রাপর্ন এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

গত বুধবার থেকে সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের (জেটিসি) বৈঠক শুরু হয়েছে।

জেটিসির সচিব পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু এবং থাইল্যান্ডের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড নেগোসিয়েশনের মহাপরিচালক বুনায়ারিত কালায়েনামিত নেতৃত্ব দেন। এতে দু’দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া থাইল্যান্ডের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি দল অংশ নেয়। সভায় দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। চতুর্থ জেটিসির এ বৈঠক আজ শেষ। শেষ দিনে মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় দু’দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী নেতৃত্ব দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩৬ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির প্রতিনিধিরা তার দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এদিকে ২০১৫ সালে ২৫ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে দেশটি বিভিন্ন দেশকে কয়েক হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও তখন বাংলাদেশ মাত্র ১০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এখন বাকি ১৫টিসহ মোট ৩৬ পণ্যে নতুন করে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন দেশে পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে থাইল্যান্ড সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে থাইল্যান্ড। এ বিষয়ে আলোচনায় উভয় দেশ এফটিএ করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও এসএমই খাতে উভয় দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি আদান-প্রদান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে অকালবন্যায় ফসলের ক্ষতি ও সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসায় গত মাসে ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় আড়াই লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন দরপত্র ছাড়াই সরকারি পর্যায়ে এ চাল আমদানির অনুমতি দেয়। ভিয়েতনাম থেকে ইতিমধ্যে দুটি চালানে ৪৭ লাখ টন চাল দেশে এসেছে। তৃতীয় চালানের চাল চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষা আছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি মজুত বাড়াতে প্রাথমিকভাবে পাঁচ দেশ থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোট ১২ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে তিনটি দেশের সঙ্গে আমদানির আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে আড়াই লাখ টনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্রে আরও ২ লাখ টন আমদানি করার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শিগগিরই ওই চাল দেশে আসবে।

এ ছাড়া গত ২ আগস্ট কম্বোডিয়ার সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদে ১০ লাখ টন চাল আমদানি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল চালের দাম ও আমদানির সময় ঠিক করতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। দলটি সরকারি পর্যায়ে আমদানি হওয়া পণ্যের দাম নির্ধারণ বিষয়ক সরকারি ক্রয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করবে।

Share This:

Comments

comments

এই পেইজের আরও খবর