১৭ অক্টোবর ২০১৭
সকাল ১১:৫৫, মঙ্গলবার

লক্ষ্যপূরণ থেকে অনেক পিছিয়ে ইসি

লক্ষ্যপূরণ থেকে অনেক পিছিয়ে ইসি 

5882

ঢাকা : দেশের নাগরিকদের উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ৭ বছর আগে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস (আইডিইএ)’ শীর্ষক এ প্রকল্প নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অধীন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয় স্মার্টকার্ড নামে পরিচিত উন্নতমানের এই জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ।

চলমান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। এ সময়ের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা। অথচ এ পর্যন্ত সোয়া কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই কোটির বেশি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। তারা বলছেন, দেশের সব ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যপূরণ থেকে ইসি অনেক পিছিয়ে। তাই নতুন আরেকটি প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ কাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকেও পাশে চায় ইসি।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি; দ্রুত লোকবল প্রস্তুত করছি। পারসোনালাইজেশন মেশিনও কাজ করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড বিতরণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর পরদিন অর্থাৎ ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা মহানগরীতে এ কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এ পর্যন্ত এ বিতরণকাজ চলেছে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে এবং বিলুপ্ত একটি ছিটমহলে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ৯ কোটির ভেতর ইতোমধ্যে মাত্র এক কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন (ব্যাংককার্ডের মধ্যে নাগরিক তথ্য সন্নিবেশকরণ) সম্পাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালে ফরাসি কোম্পানি অবার্থুর টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তি করে ইসি। চুক্তির আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড ফ্রান্স থেকে তৈরি করে এনে তাদের ব্যবস্থাপনায় ইসি সচিবালয়ের পারস্যু সেন্টারে পারসোনালাইজেশনের পর উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করার কথা ছিল। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও তা করতে না পারায় কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর নিজেদের উদ্যোগে এ কাজটি সম্পাদনের উদ্যোগ নেয় ইসি। গত ২৭ আগস্ট ইসির তত্ত্বাবধায়নে স্মার্টকার্ডের প্রিন্ট শুরু হয়। লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার কার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইসির পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে চিঠি দিয়ে বলা হয়, ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার কার্ড উৎপাদন এবং আইরিস ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে নাগরিকদের হাতে কার্ড তুলে দিতে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিসারকে আইডিইএ প্রকল্পে জরুরি ভিত্তিতে সংযুক্ত করা দরকার।

এদিকে ডিসেম্বরে আইডিইএ প্রকল্প শেষে প্রায় ১৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং জাতীয় পরিচিতি সেবা প্রদানে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক এক নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

ব্যয় কমছে ৫০ কোটি টাকা

স্মার্টকার্ড তৈরিতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কার্ডটির দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা ভেবে বর্তমানে উন্নতমানের লেমিনেটিং পেপার ব্যবহার হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবনায় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের পেপার ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে স্মার্টকার্ডের সঙ্গে একটি সুদৃশ্য খাম এবং খামের অভ্যন্তরে কার্ডটি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নির্দেশিকা রয়েছে। আগামীতে এগুলো বাদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি বিতরণকেন্দ্রে ২৫০টি কার্ডের জন্য আলাদা বক্স নম্বর দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়। এ জন্য জনবল এবং স্থান বেশি লাগে। আইডিইএ কর্তৃপক্ষের যুক্তিÑ অপরিহার্য নয়, এমন উপাদান স্মার্টকার্ড থেকে বাদ দেওয়া হলে কোনো ক্ষতি নেই। বরং এতে করে সময়, জনবল ও ব্যয় কমবে।

বর্তমানে ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা। জানুয়ারিতে যোগ হচ্ছে আরও ২৫ লক্ষাধিক নতুন ভোটার।

উল্লেখ্য, স্মার্টকার্ডের জন্য ২০১১ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রায় ২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩৭৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) ঋণ ১৩৬৫ কোটি টাকা। দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে পাওয়া এ ঋণ বাংলাদেশকে ৪০ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ বছর কোনো সুদ দিতে হবে না। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এ প্রকল্পের অধীনে ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে চলতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিসের সঙ্গে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি। ওই চুক্তির অধীনে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি কার্ড তৈরি ও বিতরণের কথা ছিল; কিন্তু দফায়-দফায় সময় পিছিয়ে সেই কার্ড বিতরণ শুরু হয় ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর। -আমাদের সময়

Share This:

Comments

comments

এই পেইজের আরও খবর