২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ১০:০৬, সোমবার

সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ কি আসন্ন?

সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ কি আসন্ন? 

2385

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১২ নভেম্বর : ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে যদি যুদ্ধ বাধে, সেটা হবে একটা বিরাট বিপর্যয়। কেউই আসলে মনে করে না, এই দুই দেশের মধ্যে এরকম যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দিনে দিনে বাড়ছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন দেশে ইরান আর সৌদি আরব কার্যত এক ‘প্রক্সি’ বা ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা আর প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব আর ইরানের দ্ব›দ্ব চলছে গত প্রায় চলি­শ বছর ধরে।

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটি স্থান, মক্কা এবং মদিনা হচ্ছে সৌদি আরবে। কাজেই সৌদি আরব মনে করে তারা ইসলামী বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা। কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে এক ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেন আয়াতুল­াহ খোমেনি। এটি সৌদি আরবকে খুবই শঙ্কিত করে তুলল। হঠাৎ তারা দেখল, ইসলামী বিশ্বে তাদের প্রতিদ্ব›দ্বী এক রাষ্ট্রের উত্থান ঘটছে।

গত ৪০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিরাট অংশ জুড়ে ইরানের প্রভাব-প্রতিপত্তি দিনে দিনে বেড়েছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ওমান, ইয়েমেন- এসব দেশ যেভাবে ইরানের প্রভাব বলয়ে চলে গেছে বা যাচ্ছে, তাতে সৌদিরা রীতিমতো আতঙ্কিত। এর সঙ্গে ইসলামের বহু পুরনো দ্বন্দ্ব ‘শিয়া-সুন্নি বিরোধ’‌‌‌ তো আছেই। সৌদি আরব সুন্নি আর ইরান শিয়া ইসলামের পৃষ্ঠপোষক। কাজেই সৌদি-ইরান ভ‚-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটা ধর্মীয় মাত্রাও আছে। ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ।

সৌদি আরব লড়েছে এক পক্ষে, ইরান হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন করছে ইরান। সেখানে তারা সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। অন্যদিকে সৌদি আরব সমর্থন জোগাচ্ছে বিদ্রোহীদের। তারা অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ সবই দিচ্ছে বিদ্রোহীদের। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরানের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। সৌদি আরবও সম্প্রতি ইরাকে তাদের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে।

এখন লেবাননকে ঘিরেও শুরু হয়েছে তীব্র ইরান-সৌদি দ্ব›দ্ব। লেবানন এমনিতেই খুব জটিল রাষ্ট্র। সেখানে শিয়া, সুন্নি এবং খ্রিস্টানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ইরান বহু বছর ধরে লেবাননের শিয়া দল হিজবুল­াহ এবং তাদের মিলিশিয়াকে নানাভাবে সমর্থন জুগিয়ে চলেছে। হিজবুল­াহ লেবাননের সরকারের অংশ। কিন্তু একই সঙ্গে তারা সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকে লড়াই করছে। যেভাবে ইরান এবং হিজবুল­াহর প্রভাব বলয় বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব রীতিমতো আতঙ্কিত।

সন্দেহ করা হচ্ছে, সৌদি আরব আসলে লেবাননের হিজবুল­াহর সঙ্গে আগ বাড়িয়ে একটা যুদ্ধ বাধাতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য লেবাননে হিজবুল­াহকে দুর্বল করা এবং ইরানের প্রভাব খর্ব করা। যদি এটাই সত্যি হয়, এটি খুবই বিপজ্জনক এক খেলা। সৌদি আরব আর ইরানের চলমান য়ুযুদ্ধে এক নতুন বিপজ্জনক লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে লেবাননকে ঘিরে।

Share This:

Comments

comments

এই পেইজের আরও খবর