২০ নভেম্বর ২০১৭
সকাল ১০:০৩, সোমবার

পাকিস্তান লিগে কত টাকা পাচ্ছেন সাকিব-তামিমরা?

পাকিস্তান লিগে কত টাকা পাচ্ছেন সাকিব-তামিমরা? 

6555

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর : পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) তৃতীয় আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সেই লক্ষ্যে দল গুছাতে শুরু করেছে দলগুলো। রোববার ৫০১ জন দেশি-বিদেশি প্লেয়ারের নিলাম হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশী ক্রিকেটার আছেন ১৬ জন।

সর্বনিম্ন ৭০ হাজার ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫৯ লাখ টাকা) ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান এবং ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। দল পেয়েছেন দু’জনেই। মোস্তাফিজ গেলেন লাহোর কালান্দার্সে এবং তামিম গেলেন পুরোনো দল পেশোয়ার জালমিতে।

মোস্তাফিজুর রহমান, যাকে নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। দলও পেয়েছিলেন। অবশ্য ইনজুরির ঝুঁকি এড়াতে তাকে পিএসএলে খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর দ্বিতীয় পিএসএলের আগে মোস্তাফিজ ছিলেন সদ্য ইনজুরি থেকে ফেরা। ফিট হয়ে পুরোদমে মাঠে ফেরা ডায়মন্ড ক্যাটাগরির মোস্তাফিজ এবার ছিল বাড়তি আগ্রহ। খেলতে না পারলেও গত আসরে লাহোরে ছিলেন তিনি। এবার তাকে ছেড়ে দিলেও নিলামে সুযোগ আসার সাথে সাথে তাকে লুফে নেয় লাহোর। সবকিছু ঠিক থাকলে তৃতীয় পিএসএলে ঠিকই দেখা যাবে বাংলাদেশের এ বাঁহাতি পেসারকে।

বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে নিয়েছে পেশোয়ার জালমি। আগের আসরে তামিম পেশোয়ারে খেললেও এবার তাকে ছেড়ে দিয়েছিল দলটি। অবশ্য নিলামের শুরুতেই তামিমের ডাক এলে তাকে দলে ফিরিয়ে নেয় পেশোয়ার। সাকিব আল হাসানকে রেখে তামিমকে ছেড়ে দিয়েছিল দলটি।

এবারের পিএসএলের নিলামে ৫০১ জন ক্রিকেটার উঠেছেন যার ৩০৮ জনই বিদেশী। এর আগে পিএসএলে খেলেছেন বাংলাদেশের সাকিব, তামিম, মুশফিকুর রহিম। গত আসরে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও।

এবার গোল্ড ক্যাটাগরিতে আছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। সর্বনিম্ন ২২ হাজার ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ) সিলভার ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের নাসির হোসেন, সৌম্য সরকার, সাইফউদ্দিন, সাব্বির রহমান, শাহরিয়ার নাফিস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হাসান শান্ত, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদি মিরাজ, ইমরুল কায়েস, আফিফ হোসেন এবং জুবায়ের হোসেন লিখন।

বিপিএলে নতুন তারা

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন থেকেই নামটা বেশ উচ্চারিত হচ্ছে! আবু জায়েদ রাহী। যে ক’জন পেস বোলার বের হয়ে আসছেন, তাদের মধ্যে তিনিও একজন। নিজেকেও গুছিয়ে ফেলছেন তিনি একটু একটু করে। কাল নিজের ক্লাসের আরো একবার প্রমাণ দিলেন। মিরপুরে চিটাগাং ভাইকিংসের ইনিংস এক অর্থে গুটিয়ে দেন এ ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার। ১৭০ করে খুলনার ম্যাচ বাঁচানোর গ্যারান্টি ছিল না। চিটাগাংয়ের যথেষ্ট শক্ত ব্যাটিং লাইন। এরপরও সে ব্যাটিং লাইন ১৫২ রানে আটকে দেয়া সম্ভবপর হয়েছে রাহীর দুর্দান্ত বোলিংয়েই।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৬ ম্যাচে ১৭১ উইকেট নেয়া বোলার চিটাগাংয়ের চার ব্যাটিং স্তম্ভকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ড্যাশিং ব্যাটসম্যান লুক রঞ্চি, সৌম্য সরকার, শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাওয়েরা ও পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান মিসবাহউল হক। এর আগেও যাদের ব্যাটে ভর করে চিটাগাং সফল্য পেয়েছিল তাদেরকে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে রাহীর বোলিংয়ে। সূচনাতেই দুই ওপেনার রঞ্চি ও সৌম্যকে বিদায় করেন তার করা প্রথম ওভারে। দলের রান ছিল তখন ২। এরপর দিলশান মুনাওয়েরকে যখন আউট করেছেন তখন ভাইকিংসের রান ২১/৩। দলীয় ৯৭ রানে নিয়েছিলেন তিনি মিসবাহউল হকের উইকেট। এরপর যে রানটা করেছে ভাইকিংস সেটা আসলে পরাজয়ের ব্যাবধান কমানোর জন্যই।

ম্যাচ শেষে টাইটানসের এ ক্রিকেটার বলেন, আসলে আমি আমার লাইন ও লেন্থটা ঠিক রেখে বোলিং করেছি। আমি খুবই খুশি যে দলের জয়ে অবদান রাখার জন্য। ম্যাচের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসলে বিপিএলের মতো শর্টার ভার্সনের ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করা খুবই টাফ। তা ছাড়া উইকেটও বেশ স্লো। ফলে আমি স্লোয়ারের দিকেই বেশি নজর দিয়েছি। ২৪ বছর বয়সের এ ক্রিকেটার নিজের পারফরম্যান্সে আরো একটি কারণে খুশি। কারণ এমন প্লাটফর্মে সাফল্য পাওয়ার অর্থ সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন ওঠা। এটা তিনি বেশ এনজয় করেন বলেই জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,‘আমি চেষ্টা করব যে পারফরম্যান্সটা করেছি সেটা পরের ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখার জন্য। এ ম্যাচে ৩৫ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন চার উইকেট। আগের ম্যাচে দল জিতলেও তার পারফরম্যান্স অতটা কাজে লাগেনি। সিলেটে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৪০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ঢাকার বিপক্ষে যে ম্যাচে তার দল বড় ব্যবধানে হেরেছিল, সে ম্যাচে তিনি অবশ্য দুই উইকেট নিয়েছিলেন। রাহী কাল বলেন, এ ম্যাচের পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা পরের ম্যাচগুলোতে আরো ভালো করতে চাই।

রাহীর বোলিংয়ের প্রশংসা করেন তার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। তিনি বলেছেন, আসলে মিরপুরের উইকেটে প্রথম ব্যাটিং করাটাই ভালো। উইকেটের ধরনটা আগ থেকে অনুমান করা মুশকিল। আমরা ম্যাচের প্রেসার বেশ ভালোমতোই হ্যান্ডেল করেছি। তবে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই রাহীকে। সে খুবই ভালো বোলিং করেছে, এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে যে বোলিংটা প্রয়োজন সেটাই তিনি করতে পেরেছেন। চিটাগাংয়ের অধিনায়ক মিসবাহউল হক অবশ্য তার দলের বোলারদের দোষারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, বোলাররা শেষের কিছু ওভারে একটু বেশি রানই দিয়ে ফেলেছেন। তার খেসারত গুণতে হয়েছে। তা ছাড়া যে টার্গেট আমাদের ছিল সেটাও কাভার করা সম্ভব ছিল, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা পারেননি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে।-নয়া দিগন্ত

Share This:

Comments

comments

এই পেইজের আরও খবর